পরিবার-পরিজন, স্বীয় জ্ঞানসম্পন্ন সন্তান-সন্ততি ও আপন সমস্ত অধীনস্থদেরকে আল্লাহর আনুগত্যের আদেশ দেওয়া, তাঁর অবাধ্যতা থেকে তাদেরকে নিষেধ করা, তাদেরকে আদব শেখানো এবং শর‘য়ী নিষিদ্ধ জিনিস থেকে তাদেরকে বিরত রাখা ওয়াজিব - রিয়াদুস সলেহিন | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

রিয়াদুস সলেহিন > পরিবার-পরিজন, স্বীয় জ্ঞানসম্পন্ন সন্তান-সন্ততি ও আপন সমস্ত অধীনস্থদেরকে আল্লাহর আনুগত্যের আদেশ দেওয়া, তাঁর অবাধ্যতা থেকে তাদেরকে নিষেধ করা, তাদেরকে আদব শেখানো এবং শর‘য়ী নিষিদ্ধ জিনিস থেকে তাদেরকে বিরত রাখা ওয়াজিব

রিয়াদুস সলেহিন ৩০৩

وعن ابن عمر وعائشة رضي الله عنهما قالا‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏ ‏ ما زال جبريل يوصيني بالجار حتى ظننت أنه سيورثه‏" ‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏‏‏

হাসান ইবনু আলী (রাঃ) সাদকার একটি খুরমা নিয়ে তাঁর মুখে রাখলেন। তা দেখে রাসূলুল্লাহ (রাঃ) বললেন, ‘‘ছিঃ ছিঃ! ফেলে দাও। তুমি কি জান না যে, আমরা সাদকাহ খাই না?’’ (বুখারী ও মুসলিম) [১]


রিয়াদুস সলেহিন ৩০৪

وعن أبي ذر رضي الله عنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏‏يا أبا ذر إذا طبخت مرقة، فأكثر ماءها، وتعاهد جيرانك‏"‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏.‏ وفي رواية له عن أبي ذر قال‏:‏ إن خليلي صلى الله عليه وسلم أوصاني‏:‏ ‏"‏ إذا طبخت مرقًا فأكثر ماءها، ثم انظر أهل بيت من جيرانك، فأصبهم منها بمعروف‏"‏‏.‏"

তিনি বলেন, ‘একদা আমি ছোট হিসাবে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কোলে ছিলাম। খাবার (সময়) বাসনে আমার হাত ঘুরছিল। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাকে বললেন, ‘‘ওহে কিশোর! ‘বিসমিল্লাহ’ বলে ডান হাতে আহার কর এবং তোমার কাছ থেকে খাও।’’ তারপর থেকে আমি সব সময় এ পদ্ধতিতেই আহার করে আসছি।’ (বুখারী ও মুসলিম) [১]


রিয়াদুস সলেহিন ৩০৫

وعن أبي هريرة رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏‏ والله لا يؤمن، والله لايؤمن، والله لا يؤمن‏!‏‏"‏ قيل‏:‏ من يا رسول الله‏؟‏ قال‏:‏ ‏"‏ الذي لا يأمن جاره بوائقه ‏!‏ ‏"‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏‏.‏ وفي رواية لمسلم‏:‏ ‏"‏ لايدخل الجنة من لا يأمن جاره بوائقه‏"‏‏.‏"

তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কে বলতে শুনেছি, ‘‘প্রতিটি মানুষই দায়িত্বশীল, সুতরাং প্রত্যেকে অবশ্যই তার অধীনস্থদের দায়িত্বশীলতা বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। দেশের শাসক জনগণের দায়িত্বশীল, সে তার দায়িত্বশীলতা ব্যাপারে জবাবদিহী করবে। পুরুষ তার পরিবারের দায়িত্বশীল, অতএব সে তার দায়িত্বশীলতা বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে। স্ত্রী তার স্বামীগৃহের দায়িত্বশীলা, কাজেই সে তার দায়িত্বশীলতা বিষয়ে জিজ্ঞাসিতা হবে। গোলাম তার মনিবের সম্পদের দায়িত্বশীল, সে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে। তোমরা প্রত্যেকেই দায়িত্বশীল। অতএব প্রত্যেকেই নিজ নিজ অধীনস্থের দায়িত্বশীলতা ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হবে।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [১]


রিয়াদুস সলেহিন ৩০৬

وعنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏ ‏ يا نساء المسلمات لا تحقرن جارة لجارتها ولو فرسن شاة‏" ‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏‏‏

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘তোমরা নিজেদের সন্তান-সন্ততিদেরকে নামাযের আদেশ দাও; যখন তারা সাত বছরের হবে। আর তারা যখন দশ বছরের সন্তান হবে, তখন তাদেরকে নামাযের জন্য প্রহার কর এবং তাদের বিছানা পৃথক করে দাও।’’ (আবূ দাউদ, হাসান সূত্রে)[১]


রিয়াদুস সলেহিন ৩০৭

وعنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏ ‏ لا يمنع جار جارة أن يغرز خشبة في جداره‏" ‏ ثم يقول أبو هريرة‏:‏ ما لي أراكم عنها معرضين‏!‏ والله لأرمين بها بين أكتافكم‏‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏‏‏

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘তোমরা শিশুকে সাত বছর বয়সে নামায শিক্ষা দাও এবং দশ বছর বয়সে তার জন্য তাকে মার।’’ (আবূ দাউদ, তিরমিযী) [১]


রিয়াদুস সলেহিন > প্রতিবেশীর অধিকার এবং তার সাথে সদ্ব্যবহার করার গুরুত্ব

রিয়াদুস সলেহিন ৩০৮

وعنه أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏ ‏ من كان يؤمن بالله واليوم الآخر، فلا يؤذِ جاره، ومن كان يؤمن بالله واليوم الآخر، فليكرم ضيفه، ومن كان يؤمن بالله واليوم الآخر، فليقل خيرًا أو ليسكت‏" ‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏‏‏

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘জিবরীল আমাকে সব সময় প্রতিবেশী সম্পর্কে অসিয়ত করে থাকেন। এমনকি আমার মনে হল যে, তিনি প্রতিবেশীকে ওয়ারেস বানিয়ে দেবেন।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [১]


রিয়াদুস সলেহিন ৩০৯

و عن أبي شريح الخزاعي رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏ ‏ من كان يؤمن بالله واليوم الآخر، فليكرم ضيفه، ومن كان يؤمن بالله واليوم الآخر، فليقل خيرًا أو ليسكت‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم بهذا اللفظ، وروى البخاري بعضه‏)‏‏)‏‏‏

একদা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘‘হে আবূ যার্র! যখন তুমি ঝোল (ওয়ালা তরকারি) রান্না করবে, তখন তাতে পানির পরিমাণ বেশী কর এবং তোমার প্রতিবেশীদের খেয়াল রাখ।’’ (মুসলিম) [১]


রিয়াদুস সলেহিন ৩১০

وعن عائشة رضي الله عنها قالت‏:‏ قلت‏:‏ يارسول الله إن لي جارين، فإلى أيهما أُهْدِي‏؟‏ قال‏:‏ ‏ ‏ إلى أقربهما منك بابًا‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه البخاري‏)‏‏)‏‏‏

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘আল্লাহর কসম! সে ব্যক্তি মু’মিন নয়। আল্লাহর কসম! সে ব্যক্তি মু’মিন নয়। আল্লাহর কসম! সে ব্যক্তি মু’মিন নয়।’’ জিজ্ঞেস করা হল, ‘কোন্ ব্যক্তি? হে আল্লাহর রাসূল!’ তিনি বললেন, ‘‘যে লোকের প্রতিবেশী তার অনিষ্ট থেকে নিরাপদে থাকে না।’’ (বুখারী ও মুসলিম) [১]


রিয়াদুস সলেহিন ৩১১

وعن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم‏:‏ ‏خير الأصحاب عند الله تعالى خيرهم لصاحبه، وخير الجيران عند الله تعالى خيرهم لجاره‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه الترمذي وقال‏:‏ حديث حسن‏)‏‏)‏‏‏

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হে মুসলিম মহিলাগণ! কোন প্রতিবেশিনী যেন তার অপর প্রতিবেশিনীর উপঢৌকনকে তুচ্ছ মনে না করে; যদিও তা ছাগলের পায়ের ক্ষুর হোক না কেন। (বুখারী, মুসলিম) [১]


রিয়াদুস সলেহিন ৩১২

عن أبي عبد الرحمن عبد الله بن مسعود رضي الله عنه قال‏:‏ سألت النبي صلى الله عليه وسلم ‏:‏ أي العمل أحب إلى الله تعالى‏؟‏ قال ‏‏ الصلاة على وقتها‏"‏ قلت‏:‏ ثم أي‏؟‏ قال‏:‏ ‏"‏ بر الوالدين‏"‏ قلت‏:‏ ثم أي‏؟‏ قال‏:‏ ‏"‏ الجهاد في سبيل الله‏"‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏‏.‏"

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোন প্রতিবেশী যেন তার প্রতিবেশীকে তার দেওয়ালে কাঠ (বাঁশ ইত্যাদি) গাড়তে নিষেধ না করে। অতঃপর আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বললেন, কী ব্যাপার আমি তোমাদেরকে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সুন্নাহ থেকে মুখ ফিরাতে দেখছি! আল্লাহর কসম! নিশ্চয় আমি এ (সুন্নাহ)কে তোমাদের ঘাড়ে নিক্ষেপ করব (অর্থাৎ এ কথা বলতে থাকব)। (বুখারী ও মুসলিম) [১]


রিয়াদুস সলেহিন ৩১৩

عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ رضي الله عنه، قَالَ: قَالَ رَسُولُ الله صلى الله عليه وسلم ‏ ‏لاَ يَجْزِي وَلَدٌ وَالِدًا إِلاَّ أَنْ يَجِدَهُ مَمْلُوكًا فَيَشْتَرِيَهُ فَيُعْتِقَهُ‏" ‏ ‏(‏‏(‏رواه مسلم‏)‏‏)‏‏‏

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার মেহেমানের খাতির করে। এবং যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভাল কথা বলে, নচেৎ চুপ থাকে।’’ (বুখারী-মুসলিম) [১]


রিয়াদুস সলেহিন ৩১৪

وعنه أيضاً أن رسول الله قَالَ : « مَنْ كَانَ يُؤْمِنُ باللهِ وَاليَومِ الآخِرِ ، فَلْيُكْرِمْ ضَيْفَهُ ، وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ باللهِ وَاليَومِ الآخِرِ ، فَلْيَصِلْ رَحِمَهُ ، وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللهِ وَاليَومِ الآخِرِ ، فَلْيَقُلْ خَيْراً أَوْ لِيَصْمُتْ » . مُتَّفَقٌ عَلَيهِ .

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন প্রতিবেশীর সাথে সদ্ব্যবহার করে। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন তার মেহেমানের খাতির করে। এবং যে ব্যক্তি আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি বিশ্বাস রাখে, সে যেন ভাল কথা বলে, অথবা নীরব থাকে।’’ (মুসলিম, কিছু শব্দ বুখারীর) [১]


রিয়াদুস সলেহিন ৩১৫

وعنه قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏‏ إن الله تعالى خلق الخلق حتى إذا فرغ منهم قامت الرحم، فقالت‏:‏ هذا مقام العائذ بك من القطيعة، قال‏:‏ نعم أما ترضين أن أصل من وصلك، وأقطع من قطعك‏؟‏ قالت‏:‏ بلى، قال‏:‏ فذلك لك، ثم قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏"‏ اقرءوا إن شئتم‏:‏ ‏(‏فهل عسيتم إن توليتم أن تفسدوا في الأرض وتقطعوا أرحامكم‏.‏ أولئك الذين لعنهم الله فأصمهم وأعمى أبصارهم‏)‏ ‏[‏محمد‏:‏ 22،32 ‏]‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏‏.‏ وفي رواية للبخاري‏:‏ فقال الله تعالى‏:‏ ‏"‏ من وصلك، وصلته، ومن قطعك، قطعته‏"‏‏.‏"

তিনি বলেন, আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রাসূল! আমার দু’জন প্রতিবেশী আছে। (যদি দু’জনকেই দেওয়া সম্ভব না হয় তাহলে) আমি তাদের মধ্যে কার নিকট হাদিয়া (উপঢৌকন) পাঠাব?’ তিনি বললেন, ‘‘যার দরজা তোমার বেশী নিকটবর্তী, তার কাছে (পাঠাও)।’’ (বুখারী) [১]


রিয়াদুস সলেহিন ৩১৬

وعنه رضي الله عنه قال‏:‏ جاء رجل إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال‏:‏ يا رسول الله من أحق الناس بحسن صحابتي‏؟‏ قال‏:‏ ‏‏ أمك‏"‏ قال‏:‏ ثم من‏؟‏ قال‏:‏ ‏"‏ أمك‏"‏ قال‏:‏ ثم من‏؟‏ قال‏:‏ ‏"‏أمك‏"‏ قال‏:‏ ثم من‏؟‏ قال‏:‏ ‏"‏ أبوك‏"‏ ‏(‏‏(‏متفق عليه‏)‏‏)‏‏.‏ وفي رواية‏:‏ يارسول الله من أحق بحسن الصحبة‏؟‏ قال‏:‏ ‏"‏ أمك، ثم أمك، ثم أمك، ثم أباك، ثم أدناك أدناك‏"‏‏.‏"

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘‘আল্লাহর নিকট সর্বোত্তম সঙ্গী সে, যে তার সঙ্গীর কাছে উত্তম। আল্লাহর নিকট সেই প্রতিবেশী সর্বোত্তম, যে তার প্রতিবেশীর দৃষ্টিতে সর্বাধিক উত্তম।’’(তিরমিযী-হাসান) [১]


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية