আদাবুল মুফরাদ > অনুচ্ছেদঃ আত্মীয়তার বন্ধন।
আদাবুল মুফরাদ ৪৯
حدثنا أبو نعيم قال: حدثنا عمرو بن عثمان بن عبد الله بن موهب قال: سمعت موسى بن طلحة يذكر، عن أبي أيوب الأنصاري، أن أعرابيا عرض على النبي صلى الله عليه وسلم في مسيره، فقال: أخبرني ما يقربني من الجنة، ويباعدني من النار؟ قال: «تعبد الله ولا تشرك به شيئا، وتقيم الصلاة، وتؤتي الزكاة، وتصل الرحم»
এক বেদুইন নবী (সাঃ)-এর এক সফরে তার সাথে সাক্ষাত করে বললো, যা আমাকে বেহেশতের নিকটবর্তী এবং দোযখের দূরবর্তী করবে তা আমাকে অবহিত করুন। তিনি বলেনঃ তুমি আল্লাহর ইবাদত করো, তার সাথে কিছু শরীক করো নাসাঈ, নামায কায়েম করো, যাকাতা দাও এবং আত্মীয়তার বন্ধন অক্ষুন্ন রাখো। (বুখারী, মুসলিম, নাসাঈ)।
আদাবুল মুফরাদ ৫০
حدثنا إسماعيل بن أبي أويس قال: حدثني سليمان بن بلال، عن معاوية بن أبي مزرد، عن سعيد بن يسار، عن أبي هريرة، أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: " خلق الله عز وجل الخلق، فلما فرغ منه قامت الرحم، فقال: مه، قالت: هذا مقام العائذ بك من القطيعة، قال: ألا ترضين أن أصل من وصلك، وأقطع من قطعك؟ قالت: بلى يا رب، قال: فذلك لك " ثم قال أبو هريرة: اقرؤوا إن شئتم: {فهل عسيتم إن توليتم أن تفسدوا في الأرض وتقطعوا أرحامكم} [محمد: 22]
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ যখন মহামহিম আল্লাহ যাবতীয় মাখলুকের সৃষ্টি সম্পন্ন করলেন তখন “রেহেম” (আত্মীয়তার বন্ধন) উঠে দাড়ালো। তিনি বলেন, কি ব্যাপার! সে বললো, এ হচ্ছে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা থেকে আশ্রয় প্রার্থনাকারীর স্থান। তিনি বলেন, তুমি কি এতে সন্তুষ্ট নও যে, যে তোমাকে যুক্ত রাখবে আমিও তাকে যুক্ত রাখবো এবং যে তোমাকে ছিন্ন করবে আমিও তাকে ছিন্ন করবো? রেহেম বললো, হে প্ৰভু! তিনি বলেন, এটাই তোমার প্রাপ্য। অতঃপর আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, তোমরা চাইলে পড়তে পারোঃ “তোমরা আধিপত্য লাভ করলে হয়তো পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং তোমাদের আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে” (৪৭ : ২২)।
আদাবুল মুফরাদ ৫১
حدثنا الحميدي قال: حدثنا سفيان، عن أبي سعد، عن محمد بن أبي موسى، عن ابن عباس قال: {وآت ذا القربى حقه والمسكين وابن السبيل. . .} [الإسراء: 26] ، قال: بدأ فأمره بأوجب الحقوق، ودله على أفضل الأعمال إذا كان عنده شيء فقال: {وآت ذا القربى حقه والمسكين وابن السبيل} [الإسراء: 26] ، وعلمه إذا لم يكن عنده شيء كيف يقول، فقال: {وإما تعرضن عنهم ابتغاء رحمة من ربك ترجوها فقل لهم قولا ميسورا} [الإسراء: 28] عدة حسنة كأنه قد كان، ولعله أن يكون إن شاء الله، {ولا تجعل يدك مغلولة إلى عنقك} [الإسراء: 29] لا تعطي شيئا، {ولا تبسطها كل البسط} [الإسراء: 29] تعطي ما عندك، {فتقعد ملوما} [الإسراء: 29] يلومك من يأتيك بعد، ولا يجد عندك شيئا {محسورا} [الإسراء: 29] ، قال: قد حسرك من قد أعطيته
তিনি বলেন, আল্লাহর বাণীঃ “আত্মীয়-স্বজনকে তাদের প্রাপ্য দিয়ে দাও এবং অভাবগ্রস্ত ও মুসাফিরকেও” (১৭ : ২৬)। যদি কারো কিছু অর্থ-সম্পদ থাকে, তবে প্রথমেই তার সবেত্তিম কর্তব্য কি তা আল্লাহ বলে দিলেন। “নিকটাত্মীয়দেরকে তাদের প্রাপ্য প্রদান করে এবং দরিদ্র ও পথিকজনকেও” (১৭ : ২৬)। যদি তার কাছে কিছু না থাকে তবে সে কি করবে তা তিনি এভাবে শিক্ষা দিলেনঃ “তুমি তোমার প্রভুর কাঙ্খিত রহমাতের আশায় থাকাকালে তাদেরকে বঞ্চিত করতে হলে, তখন তাদের সাথে নম্রভাবে কথা বলো” (১৭ : ২৮)। অর্থাৎ উত্তম প্রতিশ্রুতি দাও, যেন তা নিশ্চিত এবং আল্লাহর মর্জি তা অচিরেই হয়ে যাবে। “এবং তুমি ব্যয়কুণ্ঠ হয়ো না” (১৭ : ২৯) অর্থাৎ দান করা থেকে তুমি একেবারে বিরত থেকো না। “এবং একেবারে মুক্তহস্তও হয়ো না”(১৭ : ২৯) অর্থাৎ যা আছে তা সবই দান করো নাসাঈ, “তাহলে তুমি তিরস্কৃত হবে” (১৭ : ২৯) অর্থাৎ পরে যারা আসবে তারা যেন তোমাদেরকে রিক্তহস্ত দেখে তিরস্কার না করে। এবং “রিক্তহস্ত”(১৭ : ২৯) অর্থাৎ যা দান করেছো তার জন্য পরে যেন আক্ষেপ করতে না হয় (তারীখুল কাবীর)।
আদাবুল মুফরাদ > অনুচ্ছেদঃ আত্মীয় সম্পর্ক অটুট রাখার ফযীলাত।
আদাবুল মুফরাদ ৫২
حدثنا محمد بن عبيد الله قال: حدثنا ابن أبي حازم، عن العلاء، عن أبيه، عن أبي هريرة قال: أتى رجل النبي صلى الله عليه وسلم فقال: يا رسول الله، إن لي قرابة أصلهم ويقطعون، وأحسن إليهم ويسيئون إلي، ويجهلون علي وأحلم عنهم، قال: «لئن كان كما تقول كأنما تسفهم المل، ولا يزال معك من الله ظهير عليهم ما دمت على ذلك»
এক ব্যক্তি নবী (সাঃ)-এর নিকট এসে বললো, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমার ঘনিষ্ঠ আত্মীয় আছে। আমি তাদের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখি, কিন্তু তারা সম্পর্ক ছিন্ন করে। আমি তাদের উপকার করি, কিন্তু তারা আমার ক্ষতি করে। তারা আমার সাথে মূর্খের আচরণ করে, কিন্তু আমি তা সহ্য করি। তিনি বলেনঃ যদি তোমার বক্তব্য সঠিক হয়, তবে তুমি যেন তাদের মুখে উত্তপ্ত ছাই পুরে দিচ্ছে। তোমার কারণে তাদের দুর্ভোগ আছে। যতক্ষণ পর্যন্ত তুমি এরূপ করতে থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন সাহায্যকারী তাদের মোকাবিলায় তোমার সাথে থাকবেন (মুসলিম, আবু দাউদ, ইবনে হিব্বান, মুসনাদ আবু আওয়া নাসাঈ)।
আদাবুল মুফরাদ ৫৩
حدثنا إسماعيل بن أبي أويس قال: حدثني أخي، عن سليمان بن بلال، عن محمد بن أبي عتيق، عن ابن شهاب، عن أبي سلمة بن عبد الرحمن، أن أبا الرداد الليثي أخبره، عن عبد الرحمن بن عوف، أنه سمع رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: " قال الله عز وجل: أنا الرحمن، وأنا خلقت الرحم، واشتققت لها من اسمي، فمن وصلها وصلته، ومن قطعها بتته "
আবদুর রহমান ইবনে আওফ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে বলতে শুনেছেনঃ মহামহিম আল্লাহ বলেন, আমার নাম রহমান, দয়াময়। আমি রেহেম (জরায়ু, আত্মীয় সম্পর্ক)-কে সৃষ্টি করেছি এবং আমার নাম থেকে তার নাম নির্গত করেছি। সুতরাং যে তাকে যুক্ত রাখবে আমিও তাকে আমার সাথে যুক্ত রাখবো এবং যে তাকে ছিন্ন করবে আমিও তাকে আমার থেকে ছিন্ন করবো (দারিমী, তিরমিযী, আবু দাউদ, হাকিম)।
আদাবুল মুফরাদ ৫৪
حدثنا موسى بن إسماعيل قال: حدثنا أبو عوانة، عن عثمان بن المغيرة، عن أبي العنبس قال: دخلت على عبد الله بن عمرو في الوهط - يعني أرضا له بالطائف - فقال: عطف لنا النبي صلى الله عليه وسلم إصبعه فقال: «الرحم شجنة من الرحمن، من يصلها يصله، ومن يقطعها يقطعه، لها لسان طلق ذلق يوم القيامة»
আমি আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ)-র সাথে তায়েফে তার খামার বাড়ি ওয়াহত-এ গেলাম। তখন তিনি বলেন, নবী (সাঃ) তাঁর আঙ্গুলসমূহ একত্র করলেন এবং বললেনঃ রেহেম হলো রহমানের অংশ। যে তাকে যুক্ত রাখবে, আল্লাহও তাকে যুক্ত রাখবেন এবং যে তাকে ছিন্ন করবে, আল্লাহও তাকে ছিন্ন করবেন। কিয়ামতের দিন তা সাবলীল বাগ্মীভাষী হবে (তিরমিযী, হাকিম)।
আদাবুল মুফরাদ ৫৫
حدثنا إسماعيل قال: حدثني سليمان، عن معاوية بن أبي مزرد، عن يزيد بن رومان، عن عروة بن الزبير، عن عائشة رضي الله عنها، أن النبي صلى الله عليه وسلم قال: «الرحم شجنة من الله، من وصلها وصله الله، ومن قطعها قطعه الله»
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেনঃ রেহেম হলো আল্লাহর একটি শাখা। যে তাকে যুক্ত রাখবে, আল্লাহও তাকে যুক্ত রাখবেন এবং যে তাকে ছিন্ন করবে, আল্লাহও তাকে ছিন্ন করবেন (বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, আবু দাউদ)।