সহিহ বুখারী > রাগের হালতে বিচারক বিচার করতে এবং মুফ্তী ফাত্ওয়া দিতে পারবেন কি?
সহিহ বুখারী ৭১৫৮
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ يَحْيَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم النَّاسُ يَصْعَقُونَ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَإِذَا أَنَا بِمُوسَى آخِذٌ بِقَائِمَةٍ مِنْ قَوَائِمِ الْعَرْشِ ". وَقَالَ الْمَاجِشُونُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الْفَضْلِ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ " فَأَكُونُ أَوَّلَ مَنْ بُعِثَ فَإِذَا مُوسَى آخِذٌ بِالْعَرْشِ "."
আবদুর রাহমান ইব্নু আবূ বাক্রাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন যে, আবূ বকরাহ (রাঃ) তাঁর ছেলেকে লিখে পাঠালেন- সে সময় তিনি সিজিস্তানে অবস্থান করছিলেন- যে তুমি রাগের হালতে বিবদমান দু’লোকের মাঝে ফায়সালা করো না। কেননা, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে বলতে শুনেছি যে, কোন বিচারক রাগের হালতে দু’জনের মধ্যে বিচার করবে না। [মুসলিম ৩০/৭, হাঃ ১৭১৭, আহমাদ ২০৪০১] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৫৯, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৭২)
সহিহ বুখারী ৭১৫৯
حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، حَدَّثَنِي مَالِكٌ، عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ يَتَعَاقَبُونَ فِيكُمْ مَلاَئِكَةٌ بِاللَّيْلِ وَمَلاَئِكَةٌ بِالنَّهَارِ، وَيَجْتَمِعُونَ فِي صَلاَةِ الْعَصْرِ وَصَلاَةِ الْفَجْرِ، ثُمَّ يَعْرُجُ الَّذِينَ بَاتُوا فِيكُمْ فَيَسْأَلُهُمْ وَهْوَ أَعْلَمُ بِكُمْ فَيَقُولُ كَيْفَ تَرَكْتُمْ عِبَادِي فَيَقُولُونَ تَرَكْنَاهُمْ وَهُمْ يُصَلُّونَ وَأَتَيْنَاهُمْ وَهُمْ يُصَلُّونَ "
আবূ মাস‘ঊদ আনসারী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহ্র রসূল! আল্লাহ্র শপথ! আমি অমুক ব্যক্তির কারণে ফজরের জামা‘আতে হাজির হই না। কেননা, তিনি আমাদেরকে নিয়ে দীর্ঘ সালাত আদায় করেন। আবূ মাস‘ঊদ (রাঃ) বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে কোন ওয়াজে সে দিনের মত বেশি রাগান্বিত হতে আর দেখিনি। এরপর তিনি বললেনঃ হে লোক সকল! তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ বিতৃষ্ণার সৃষ্টিকারী রয়েছে। অতএব তোমাদের মধ্যে যে কেউ লোকদেরকে নিয়ে সালাত আদায় করবে, সে যেন সংক্ষিপ্ত করে। কারণ, তাদের মাঝে আছে বয়স্ক, দুর্বল ও কর্মব্যস্ত মানুষ।[৯০; মুসলিম ৪/৩৭, হাঃ ৪৬৬, আহমাদ ২২৪০৭] (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৬০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৭৩)
সহিহ বুখারী ৭১৬০
وَقَالَ خَالِدُ بْنُ مَخْلَدٍ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ، حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دِينَارٍ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَنْ تَصَدَّقَ بِعَدْلِ تَمْرَةٍ مِنْ كَسْبٍ طَيِّبٍ، وَلاَ يَصْعَدُ إِلَى اللَّهِ إِلاَّ الطَّيِّبُ، فَإِنَّ اللَّهَ يَتَقَبَّلُهَا بِيَمِينِهِ، ثُمَّ يُرَبِّيهَا لِصَاحِبِهِ كَمَا يُرَبِّي أَحَدُكُمْ فَلُوَّهُ، حَتَّى تَكُونَ مِثْلَ الْجَبَلِ ". وَرَوَاهُ وَرْقَاءُ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ عَنْ سَعِيدِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم " وَلاَ يَصْعَدُ إِلَى اللَّهِ إِلاَّ الطَّيِّبُ "."
আবদুল্লাহ্ ইব্নু ‘উমর (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি স্বীয় স্ত্রীকে ঋতুবতী অবস্থায় ত্বালাক দিয়েছিলেন। ‘উমর (রাঃ) এ ঘটনা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে বর্ণনা করেন। এতে রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রাগান্বিত হন। এরপর তিনি বলেনঃ সে যেন তার স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনে এবং তাকে ধরে রাখে, যতক্ষণ পর্যন্ত সে পবিত্র হয়ে আবার ঋতুবতী না হয় এবং পুনরায় পবিত্র না হয়। এরপরও যদি সে তালাক দিতে চায়, তাহলে যেন তখন (পবিত্রাবস্থায়) ত্বলাক দেয়। আবূ ‘আবদুল্লাহ্ (বুখারী) (রহঃ) বলেন, যুহ্রী-ই মুহাম্মাদ। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৬১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৭৪)
সহিহ বুখারী > যে লোক মনে করে যে, বিচারকের নিজ জ্ঞান অনুযায়ী লোকদের ব্যাপারে বিচার ফায়সালা করার অধিকার রয়েছে।
সহিহ বুখারী ৭১৬১
حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى بْنُ حَمَّادٍ، حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ زُرَيْعٍ، حَدَّثَنَا سَعِيدٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَدْعُو بِهِنَّ عِنْدَ الْكَرْبِ لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ الْعَظِيمُ الْحَلِيمُ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ رَبُّ الْعَرْشِ الْعَظِيمِ، لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ رَبُّ السَّمَوَاتِ وَرَبُّ الْعَرْشِ الْكَرِيمِ "
আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, একদা হিন্দা বিন্ত উত্বা (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল, হে আল্লাহ্র রসূল! আল্লাহ্র কসম! যমীনের বুকে এমন কোন পরিবার ছিল না, আপনার পরিবারের চেয়ে যার লাঞ্ছনা ও অবমাননা আমার নিকট অধিক প্রিয় ও পছন্দনীয় ছিল। কিন্তু আজ আমার কাছে এমন হয়েছে যে, এমন কোন পরিবার যমীনের বুকে নেই, যে পরিবার আপনার পরিবারের চেয়ে অধিক উত্তম ও সম্মানিত। তারপর হিন্দা (রাঃ) বলল, আবূ সুফ্ইয়ান (রাঃ) একজন অত্যন্ত কৃপণ লোক। কাজেই আমি আমাদের সন্তানদেরকে তার ধনমাল থেকে খাওয়াই, আমার জন্য এটা দোষের হবে কি? নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন বললেনঃ না, তোমার জন্য তাদেরকে খাওয়ানো কোন দোষের হবে না, যদি তা ন্যায়সঙ্গত হয়। (আধুনিক প্রকাশনী- ৬৬৬২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৬৬৭৫)