সহিহ বুখারী > রোগীর সামনে কী বলতে হবে এবং তাকে কী জবাব দিতে হবে।

সহিহ বুখারী ৫৬৬১

حَدَّثَنَا آدَمُ بْنُ أَبِي إِيَاسٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ لَمَّا أَرَادَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَكْتُبَ إِلَى الرُّومِ قِيلَ لَهُ إِنَّهُمْ لَنْ يَقْرَءُوا كِتَابَكَ إِذَا لَمْ يَكُنْ مَخْتُومًا‏.‏ فَاتَّخَذَ خَاتَمًا مِنْ فِضَّةٍ، وَنَقْشُهُ مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ‏.‏ فَكَأَنَّمَا أَنْظُرُ إِلَى بَيَاضِهِ فِي يَدِهِ‏.‏

আবদুল্লাহ ইবনু মাস’ঊদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর অসুস্থতার সময় তাঁর কাছে এলাম। এরপর তাঁর শরীরে হাত বুলিয়ে দিলাম। এ সময় তিনি ভীষণ জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন। আমি বললামঃ আপনি ভীষণ জ্বরে আক্রান্ত এবং এটা এজন্য যে, আপনার জন্য আছে দ্বিগুণ সাওয়াব। তিনি বললেনঃ হাঁ! কোন মুসলিমের উপর কোন কষ্ট আপতিত হলে তাত্থেকে গুনাহ্‌গুলো এমনভাবে ঝরে যায়, যেভাবে গাছ হতে পাতা ঝরে যায়।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৫০, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৪৬)


সহিহ বুখারী ৫৬৬২

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا جُوَيْرِيَةُ، عَنْ نَافِعٍ، أَنَّ عَبْدَ اللَّهِ، حَدَّثَهُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم اصْطَنَعَ خَاتَمًا مِنْ ذَهَبٍ، جَعَلَ فَصَّهُ فِي بَطْنِ كَفِّهِ إِذَا لَبِسَهُ، فَاصْطَنَعَ النَّاسُ خَوَاتِيمَ مِنْ ذَهَبٍ، فَرَقِيَ الْمِنْبَرَ، فَحَمِدَ اللَّهَ وَأَثْنَى عَلَيْهِ فَقَالَ ‏ ‏ إِنِّي كُنْتُ اصْطَنَعْتُهُ، وَإِنِّي لاَ أَلْبَسُهُ ‏" ‏‏‏ فَنَبَذَهُ فَنَبَذَ النَّاسُ‏‏ قَالَ جُوَيْرِيَةُ وَلاَ أَحْسِبُهُ إِلاَّ قَالَ فِي يَدِهِ الْيُمْنَى‏‏

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক রোগীকে দেখার জন্য তার কাছে প্রবেশ করলেন। তখন তিনি বলেনঃ কোন ক্ষতি নেই, ইন্‌শাআল্লাহ গুনাহ থেকে তুমি পবিত্রতা লাভ করবে। রোগী বলে উঠলঃ কক্ষনো না বরং এটি এমন জ্বর, যা এক অতি বৃদ্ধের শরীরে টগবগ করে ফুটছে এন তাকে কবরে পৌঁছাবে। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ হাঁ, তবে তাই।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৫১, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৪৭)


সহিহ বুখারী > রোগীর দেখাশুনা করা, আরোহী অবস্থায়, পায়ে চলা অবস্থায় এবং গাধার পিঠে সাওয়ারীর পিছনে বসে।

সহিহ বুখারী ৫৬৬৩

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ ـ رضى الله عنه ـ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم اتَّخَذَ خَاتَمًا مِنْ فِضَّةٍ، وَنَقَشَ فِيهِ، مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ‏.‏ وَقَالَ ‏ ‏ إِنِّي اتَّخَذْتُ خَاتَمًا مِنْ وَرِقٍ، وَنَقَشْتُ فِيهِ، مُحَمَّدٌ رَسُولُ اللَّهِ‏.‏ فَلاَ يَنْقُشَنَّ أَحَدٌ عَلَى نَقْشِهِ ‏" ‏‏‏

উসামাহ ইবনু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটি গাধার পিঠে আরোহণ করলেন। গাধাটির পিঠে ছিল ‘ফাদক’ এলাকায় তৈরী চাদর মোড়ানো একটি গদি। তিনি নিজের পেছনে উসামাহ (রাঃ) -কে বসিয়ে অসুস্থ সা’দ ইবনু ‘উবাদাহ (রাঃ) -কে দেখতে গিয়েছিলেন। এটা বদ্‌র যুদ্ধের পূর্বেকার ঘটনা। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) চলতে চলতে এক পর্যায়ে এক মজলিসের পার্শ্ব অতিক্রম করতে লাগলেন। সেখানে ছিল ‘আবদুল্লাহ ইবনু উবাই ইবনু সালূল। এ ঘটনা ছিল ‘আবদুল্লাহর ইসলাম গ্রহণের আগের। মজলিসটির মধ্যে মুসলিম, মুশরিক, মূর্তিপূজক ও ইয়াহূদী সম্প্রদায়ের লোকও ছিল। ‘আবদুল্লাহ ইবনু রাওয়াহা (রাঃ) -ও সে মজলিসে উপস্থিত ছিলেন। সাওয়ারী জানোয়ারটির পায়ের ধূলা-বালু যখন মজলিসের লোকদের মাঝে উড়তে লাগল, তখন ‘আবদুল্লাহ ইবনু উবাই তার চাদর দিয়ে নিজের নাক চেপে ধরল এবং বললঃ আমাদের উপর ধূলাবালু উড়াবেন না। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাম দিলেন এবং নীচে অবতরণ করে তাদের আল্লাহ্‌র প্রতি আহ্বান জানালেন। এরপর তিনি তাদের সামনে কুরআন পাঠ করলেন। তখন ‘আবদুল্লাহ ইবনু উবাই তাঁকে বললঃ জনাব, আপনি যা বলেছেন আমার কাছে তা পছন্দনীয় নয়। যদি এসব কথা সত্য হয়, তাহলে আপনি এ মজলিসে আমাদের কষ্ট দিবেন না। বরং আপনি নিজের বাড়ীতে চলে যান এবং সেখানে যে আপনার কাছে যাবে, তার কাছে এসব বিবরণ প্রকাশ করবেন। ইবনু রাওয়াহা বলে উঠলেনঃ অবশ্য, হে আল্লাহ্‌র রসূল! এসব কথাবার্তা নিয়ে আমাদের মজলিসে আসবেন। আমরা এগুলো পছন্দ করি। এরপর মুসলিম, মুশরিক ও ইয়াহূদীদের মধ্যে বাকবিতন্ডা শুরু হয়ে গেল, এমনকি তারা পরস্পর মারামারি করতে উদ্যত হলো। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের শান্ত ও নীরব করার জন্য চেষ্টা করতে থাকেন। অবশেষে সবাই শান্ত হলে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সাওয়ারীর উপর আরোহন করেন এবং সা’দ ইবনু ‘উবাদাহ (রাঃ) -এর বাড়ীতে প্রবেশ করেন। এরপর তিনি তাঁকে অর্থাৎ সা’দ (রাঃ) -কে বললেনঃ তুমি কি শুনতে পাওনি আবূ হুবাব অর্থাৎ ‘আবদুল্লাহ ইবনু উবাই কী উক্তি করেছে? সা’দ (রাঃ) উত্তর দিলেনঃ হে আল্লাহ্‌র রসূল! তাকে ক্ষমা করুন এবং উপেক্ষা করুন। আল্লাহ আপনাকে যে মর্যাদা দান করার ইচ্ছে করেছেন তা দান করেছেন। আমাদের এ উপ-দ্বীপ এলাকার লোকজন একমত হয়েছিল তাকে রাজমুকুট পরিয়ে দেয়ার জন্য এবং তাকে নেতৃত্ব দান করার জন্য। এরপর যখন আপনাকে আল্লাহ যে হক ও সত্য দান করেছেন তখন এর দ্বারা তার ইচ্ছে বরবাদ হয়ে গেল। এতে সে ভীষণ মনোক্ষুণ্ন হল। আর আপনি তার যে ব্যবহার দেখলেন, এটিই তার কারণ।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৫২, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৪৮)


সহিহ বুখারী ৫৬৬৪

حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ الأَنْصَارِيُّ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ ثُمَامَةَ، عَنْ أَنَسٍ، أَنَّ أَبَا بَكْرٍ ـ رضى الله عنه ـ لَمَّا اسْتُخْلِفَ كَتَبَ لَهُ، وَكَانَ نَقْشُ الْخَاتَمِ ثَلاَثَةَ أَسْطُرٍ‏.‏ مُحَمَّدٌ سَطْرٌ، وَرَسُولُ سَطْرٌ، وَاللَّهِ سَطْرٌ‏.‏

জাবির (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার অসুস্থতা দেখার জন্য আমার কাছে এসেছিলেন। এ সময় তিনি গাধার পিঠে আরোহী ছিলেন না, ঘোড়ার পিঠেও ছিলেন না।(আধুনিক প্রকাশনী- ৫২৫৩, ইসলামিক ফাউন্ডেশন- ৫১৪৯)


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية