সহিহ বুখারী > আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ নিশ্চয় আল্লাহরই কাছে রয়েছে ক্বিয়ামাত সম্বন্ধীয় জ্ঞান (অর্থাৎ কখন ঘটবে)। (সূরাহ লুক্বমান ৩১/৩৪)

সহিহ বুখারী ৪৭৭৭

حَدَّثَنَا عُمَرُ بْنُ حَفْصٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، حَدَّثَنِي عَمْرُو بْنُ مُرَّةَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ أَبُو لَهَبٍ تَبًّا لَكَ أَلِهَذَا جَمَعْتَنَا فَنَزَلَتْ ‏{‏تَبَّتْ يَدَا أَبِي لَهَبٍ‏}‏‏.‏

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

একদিন রসূলূল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) লোকদের সঙ্গে উপবিষ্ট ছিলেন। এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এসে জিজ্ঞেস করল, ঈমান কী? তিনি বললেন, “আল্লাহ্তে ঈমান আনবে এবং তাঁর মালায়িকাহ, তাঁর নাবী-রসূলগণের প্রতি ঈমান আনবে এবং আল্লাহ্‌র দর্শন ও পুনরুত্থানের ওপর ঈমান আনবে।” লোকটি জিজ্ঞেস করল, ইসলাম কী? তিনি বললেন, ইসলাম (হল) আল্লাহ্‌র ‘ইবাদাত করবে ও তাঁর সঙ্গে অন্য কাউকে শরীক করবে না এবং সলাত কায়িম করবে, ফারয্ যাকাত দিবে ও রমাযানের সিয়াম পালন করবে। লোকটি জিজ্ঞেস করল, ইহ্সান কী? তিনি বললেন, ইহ্সান হচ্ছে আল্লাহ্‌র ‘ইবাদাত এমন নিষ্ঠার সঙ্গে করবে, যেন তুমি তাঁকে দেখছ। আর যদি তুমি তাঁকে দেখতে না পাও, তবে (জানবে) আল্লাহ্ তোমাকে দেখছেন। লোকটি আরও জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহ্‌র রসূল! কখন ক্বিয়ামাত ঘটবে? রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, এ ব্যাপারে প্রশ্নকারীর চেয়ে যাকে প্রশ্ন করা হয়েছে, সে অধিক জানে না। তবে আমি তোমার কাছে এর কতগুলো নিদর্শন বলছি। তা হল, যখন দাসী তার মনিবকে জন্ম দিবে, এটা তার একটি নিদর্শন। আর যখন দেখবে, নগ্নপদ ও নগ্নদেহ বিশিষ্ট লোকেরা মানুষের নেতা হবে, এও তার একটি নিদর্শন। এটি ঐ পাঁচটি বিষয়ের অন্তর্ভুক্ত, যা আল্লাহ্ ব্যতীত আর কেউ জানেন না ঃ (১) ক্বিয়ামাত সম্পর্কিত জ্ঞান কেবল আল্লাহ্‌র নিকটই রয়েছে। (২) তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন, (৩) তিনিই জানেন, মাতৃগর্ভে কী আছে। এরপরে সে লোকটি চলে গেল। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তাঁকে আমার নিকট ফিরিয়ে আন। সহাবীগণ তাঁকে ফিরিয়ে আনতে গেলেন, কিন্তু কিছুই দেখতে পেলেন না। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, তিনি হলেন জিব্রীল, লোকেদেরকে শিক্ষা দেয়ার জন্য এসেছিলেন। [৫০] (আ.প্র. ৪৪১৩, ই.ফা. ৪৪১৫)র


সহিহ বুখারী ৪৭৭৮

حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، حَدَّثَنَا شُعَيْبٌ، حَدَّثَنَا أَبُو الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ ‏ قَالَ اللَّهُ كَذَّبَنِي ابْنُ آدَمَ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ ذَلِكَ، وَشَتَمَنِي وَلَمْ يَكُنْ لَهُ ذَلِكَ، فَأَمَّا تَكْذِيبُهُ إِيَّاىَ فَقَوْلُهُ لَنْ يُعِيدَنِي كَمَا بَدَأَنِي، وَلَيْسَ أَوَّلُ الْخَلْقِ بِأَهْوَنَ عَلَىَّ مِنْ إِعَادَتِهِ، وَأَمَّا شَتْمُهُ إِيَّاىَ فَقَوْلُهُ اتَّخَذَ اللَّهُ وَلَدًا، وَأَنَا الأَحَدُ الصَّمَدُ لَمْ أَلِدْ وَلَمْ أُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لِي كُفْأً أَحَدٌ ‏" ‏‏‏

‘আবদুল্লাহ্ ইব্‌নু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলূল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, গায়বের চাবি পাঁচটি। এরপর তিনি এ আয়াত পাঠ করলেন ঃ ক্বিয়ামাত সম্পর্কিত জ্ঞান কেবল আল্লাহ্ তা‘আলারই আছে। [১০৩৯] (আ.প্র. ৪৪১৪, ই.ফা. ৪৪১৬)


সহিহ বুখারী > আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ কেউই জানে না তাদের জন্য নয়ন জুড়ানো কী কী সামগ্রী লুকিয়ে রাখা হয়েছে .....? (সূরাহ আস্-সাজদাহ ৩২/১৭)

সহিহ বুখারী ৪৭৭৯

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ مَنْصُورٍ، قَالَ وَحَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏‏ قَالَ اللَّهُ كَذَّبَنِي ابْنُ آدَمَ وَلَمْ يَكُنْ لَهُ ذَلِكَ، وَشَتَمَنِي وَلَمْ يَكُنْ لَهُ ذَلِكَ، أَمَّا تَكْذِيبُهُ إِيَّاىَ أَنْ يَقُولَ إِنِّي لَنْ أُعِيدَهُ كَمَا بَدَأْتُهُ، وَأَمَّا شَتْمُهُ إِيَّاىَ أَنْ يَقُولَ اتَّخَذَ اللَّهُ وَلَدًا، وَأَنَا الصَّمَدُ الَّذِي لَمْ أَلِدْ وَلَمْ أُولَدْ وَلَمْ يَكُنْ لِي كُفُؤًا أَحَدٌ ‏"‏‏.‏ ‏{‏لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ * وَلَمْ يَكُنْ لَهُ كُفُؤًا أَحَدٌ‏}‏ كُفُؤًا وَكَفِيئًا وَكِفَاءً وَاحِدٌ‏.‏"

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন, আমি আমার নেক বান্দাদের জন্য এমন সব বস্তু বানিয়ে রেখেছি, যা কোন চোখ দেখেনি, কোন কান শোনেনি এবং কোন অন্তঃকরণ চিন্তা করেনি। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেছেন, তোমরা চাইলে এ আয়াত তিলাওয়াত কর ঃ “কেউ জানে না তাদের জন্য চোখ জুড়ানো কোন্ বিষয় লুকিয়ে রাখা হয়েছে” (আস্-সাজদাহ ৩২/১৭)। (আ.প্র. ৪৪১৫) সুফ্ইয়ান (রহ.).....আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন, পরের অংশ আগের হাদীসের মত। আবূ সুফ্ইয়ান (রাঃ)-এর কাছে জিজ্ঞেস করা হল, আপনি কি এ হাদীস রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেন, তা ছাড়া আর কী? আবূ মু‘আবীয়াহ (রহ.).....আবূ সালিহ্ (রহ.) হতে বর্ণিত। আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) قُرَاتِ “আলিফ” এবং লম্বা ‘তা’ সহ) পড়েছিলেন। [৩২৪৪] (ই.ফা. ৪৪১৭)


সহিহ বুখারী ৪৭৮০

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَاصِمٍ، وَعَبْدَةَ، عَنْ زِرِّ بْنِ حُبَيْشٍ، قَالَ سَأَلْتُ أُبَىَّ بْنَ كَعْبٍ عَنِ الْمُعَوِّذَتَيْنِ، فَقَالَ سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ قِيلَ لِي فَقُلْتُ فَنَحْنُ نَقُولُ كَمَا قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم‏.‏

আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহ্ তা‘আলা বলেন, আমি আমার নেক বান্দাদের জন্য এমন সব বস্তুরাজি তৈরি করে রেখেছি, যা কোন চোখ দেখেনি, কোন কান শোনেনি এবং কোন ব্যক্তির মন কল্পনা করেনি। এসব ছাড়া যা কিছুই তোমরা দেখছ, তার কোন মূল্যই নেই। তারপর এ আয়াত পাঠ করলেন, কেউ জানে না তাদের জন্য নয়ন তৃপ্তিকর কী লুক্কায়িত রাখা হয়েছে, তাদের কৃতকর্মের পারিতোষিক হিসেবে। [৩২৪৪] (আ.প্র. ৪৪১৬, ই.ফা. ৪৪১৮)


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية