সহিহ বুখারী > আল্লাহ্ তা‘আলার বাণীঃ ইউসুফ ও তার ভাইদের কাহিনীতে অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে জিজ্ঞাসুদের জন্য। (সূরাহ ইউসুফ ১২/৭)
সহিহ বুখারী ৪৬৮৯
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ لَعَنَ اللَّهُ الْوَاشِمَاتِ وَالْمُوتَشِمَاتِ وَالْمُتَنَمِّصَاتِ وَالْمُتَفَلِّجَاتِ لِلْحُسْنِ الْمُغَيِّرَاتِ خَلْقَ اللَّهِ. فَبَلَغَ ذَلِكَ امْرَأَةً مِنْ بَنِي أَسَدٍ يُقَالُ لَهَا أُمُّ يَعْقُوبَ، فَجَاءَتْ فَقَالَتْ إِنَّهُ بَلَغَنِي أَنَّكَ لَعَنْتَ كَيْتَ وَكَيْتَ. فَقَالَ وَمَا لِي لاَ أَلْعَنُ مَنْ لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَمَنْ هُوَ فِي كِتَابِ اللَّهِ فَقَالَتْ لَقَدْ قَرَأْتُ مَا بَيْنَ اللَّوْحَيْنِ فَمَا وَجَدْتُ فِيهِ مَا تَقُولُ. قَالَ لَئِنْ كُنْتِ قَرَأْتِيهِ لَقَدْ وَجَدْتِيهِ، أَمَا قَرَأْتِ {وَمَا آتَاكُمُ الرَّسُولُ فَخُذُوهُ وَمَا نَهَاكُمْ عَنْهُ فَانْتَهُوا}. قَالَتْ بَلَى. قَالَ فَإِنَّهُ قَدْ نَهَى عَنْهُ. قَالَتْ فَإِنِّي أَرَى أَهْلَكَ يَفْعَلُونَهُ. قَالَ فَاذْهَبِي فَانْظُرِي. فَذَهَبَتْ فَنَظَرَتْ فَلَمْ تَرَ مِنْ حَاجَتِهَا شَيْئًا، فَقَالَ لَوْ كَانَتْ كَذَلِكَ مَا جَامَعْتُها.
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-কে জিজ্ঞেস করা হল, কোন্ ব্যক্তি বেশি সম্মানিত? তিনি বললেন, তাদের মধ্যে সে-ই আল্লাহ্র নিকট অধিক সম্মানিত, যে তাদের মধ্যে সবচাইতে অধিক আল্লাহ্ভীরু। লোকেরা বলল, আমরা এ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করিনি। তিনি বললেন, সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তি হলেন আল্লাহ্র নাবী ইউসুফ (‘আ.)। তিনি নাবীর পুত্র, (তাঁর পিতাও) নাবীর পুত্র এবং (তাঁর পিতার পিতা) খালীলুল্লাহ্ (‘আ.)-এর পুত্র। লোকেরা বলল, আপনাকে আমরা এ ব্যাপারে প্রশ্ন করিনি। তিনি বললেন, সম্ভবত তোমরা আরব বংশ সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞেস করেছ। তারা বলল, হ্যাঁ। রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, যারা জাহিলিয়্যাতে তোমাদের মাঝে উত্তম ছিল, ইসলামেও তারা উত্তম যদি তারা দ্বীন সম্পর্কে জ্ঞানের অধিকারী হয়। আবূ উসামাহ (রাঃ) ‘উবাইদুল্লাহ্র সূত্রে অনুরূপ বর্ণনা করেন। [৩৩৫৩] (আ.প্র. ৪৩২৮, ই.ফা. ৪৩২৮)
সহিহ বুখারী > আল্লাহ তা‘আলার বাণীঃ (না, ইউসুফকে বাঘে খায়নি) বরং তোমরা নিজেদের মন থেকে একটি কাহিনী সাজিয়ে নিয়েছ। ধৈর্য ধারণ করাই উত্তম।’’ (সূরাহ ইউসুফ ১২/১৮)
সহিহ বুখারী ৪৬৯০
حَدَّثَنَا عَلِيٌّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، عَنْ سُفْيَانَ، قَالَ ذَكَرْتُ لِعَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ عَابِسٍ حَدِيثَ مَنْصُورٍ عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنْ عَلْقَمَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ لَعَنَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْوَاصِلَةَ فَقَالَ سَمِعْتُهُ مِنِ امْرَأَةٍ يُقَالُ لَهَا أُمُّ يَعْقُوبَ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ مِثْلَ حَدِيثِ مَنْصُورٍ.
যুহ্রী (রহ.) থেকে বর্নিতঃ
‘উরওয়াহ ইবনু যুবায়র, সা‘ঈদ ইবনু মুসাইয়্যিব, ‘আলক্বামাহ ইবনু ওয়াক্কাস এবং ‘উবাইদুল্লাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ (রাঃ) “ইফ্ক সম্পর্কে أَهْلُ الإِفْكِ যা বলেছেন, তা শুনেছি। অতঃপর আল্লাহ তাকে সবকিছু থেকে নির্দোষ ঘোষণা করেছেন। (বর্ণনাকারীদের) একদল থেকে আমি হাদীসটির কিছু অংশ শুনেছি। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) [‘আয়িশাহ (রাঃ)-কে] বললেন, যদি তুমি নির্দোষ হয়ে থাক তবে অতিশীঘ্র আল্লাহ্ তোমার নির্দোষিতা প্রকাশ করে দিবেন; আর যদি তোমার দ্বারা এ গুনাহ্ সংঘটিত হয়ে থাকে, তবে আল্লাহ্র নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর এবং তাওবাহ কর। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, আল্লাহ্র কসম! এ সময় আমি ইউসুফ (‘আ.)-এর পিতা [ইয়াকুব (‘আ.)]-এর উদাহরণ ব্যতীত আর কিছুই জবাব দেয়ার মতো খুঁজে পাচ্ছি না। (আমিও তাঁর মত বলছি) ঃ সুতরাং পূর্ণ ধৈর্যই শ্রেয়, তোমরা যা বলছ সে বিষয়ে একমাত্র আল্লাহ্ই আমার সাহায্যস্থল। অবশেষে আল্লাহ্ তা‘আলা (আমার নির্দোষিতা ঘোষণা করে) إِنَّ الَّذِينَ جَاءُوا بِالإِفْكِ সহ দশটি আয়াত অবতীর্ণ করেছেন। [২৫৯৩] (আ.প্র. ৪৩২৯, ই.ফা. ৪৩২৯)
সহিহ বুখারী ৪৬৯১
حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرٍ، عَنْ حُصَيْنٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ، قَالَ قَالَ عُمَرُ رضى الله عنه أُوصِي الْخَلِيفَةَ بِالْمُهَاجِرِينَ الأَوَّلِينَ أَنْ يَعْرِفَ لَهُمْ حَقَّهُمْ، وَأُوصِي الْخَلِيفَةَ بِالأَنْصَارِ الَّذِينَ تَبَوَّءُوا الدَّارَ وَالإِيمَانَ مِنْ قَبْلِ أَنْ يُهَاجِرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم أَنْ يَقْبَلَ مِنْ مُحْسِنِهِمْ وَيَعْفُوَ عَنْ مُسِيئِهِمْ.
‘আয়িশাহ (রাঃ)-এর মাতা উম্মু রূমান (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, (অপবাদ রটনার সময়) ‘আয়িশাহ (রাঃ) আমাদের ঘরে জ্বরে আক্রান্ত ছিল। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, সম্ভবত এ অপবাদের কারণে জ্বর হয়েছে। ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেন, হ্যাঁ। তিনি উঠে বসলেন এবং বললেন, আমার এবং আপনাদের দৃষ্টান্ত হল ইয়াকুব (‘আ.) এবং তাঁর পুত্র ইউসুফ (‘আ.)-এর ন্যায়। [ইয়াকুব (‘আ.) তাঁর ছেলেদেরকে বললেন] বরং তোমরা এক মনগড়া কাহিনী সাজিয়ে নিয়ে এসেছ কাজেই “ধৈর্যই শ্রেয়। তোমরা যা বলছ, সে বিষয়ে একমাত্র আল্লাহ্ই আমার সাহায্যস্থল।” [৩৩৮৮] (আ.প্র. ৪৩৩০, ইা.ফা. ৪৩৩০)