সহিহ বুখারী > জুহাইনাহ গোত্রের শাখা 'হুরুকাত' [৬৫] উপগোত্রের বিরুদ্ধে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কর্তৃক ইবনু যায়িদ (রাঃ)-কে প্রেরণের বর্ণনা
সহিহ বুখারী ৪২৭০
قتيبة بن سعيد حدثنا حاتم عن يزيد بن أبي عبيد قال سمعت سلمة بن الأكوع يقول غزوت مع النبي صلى الله عليه وسلم سبع غزوات وخرجت فيما يبعث من البعوث تسع غزوات مرة علينا أبو بكر ومرة علينا أسامة.
সালামাহ ইবনু আকওয়া' (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে সাতটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। আর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যেসব অভিযান প্রেরণ করেছেন তন্মধ্যে নয়টি অভিযানে আমি অংশ নিয়েছি। এসব অভিযানে একবার আবূ বকর (রাঃ) আমাদের অধিনায়ক থাকতেন, আরেকবার উসামাহ (রাঃ) আমাদের অধিনায়ক থাকতেন। [৪২৭১-৪২৭৩] (আ.প্র. ৩৯৩৭, ই.ফা. ৩৯৪১)
সালামাহ ইবনু আকওয়া' (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে সাতটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি। আর তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যেসব অভিযান প্রেরণ করেছেন তন্মধ্যে নয়টি অভিযানে আমি অংশ নিয়েছি। এসব অভিযানে একবার আবূ বকর (রাঃ) আমাদের অধিনায়ক থাকতেন, আরেকবার উসামাহ (রাঃ) আমাদের অধিনায়ক থাকতেন। [৪২৭১-৪২৭৩] (আ.প্র. ৩৯৩৭, ই.ফা. ৩৯৪১)
قتيبة بن سعيد حدثنا حاتم عن يزيد بن أبي عبيد قال سمعت سلمة بن الأكوع يقول غزوت مع النبي صلى الله عليه وسلم سبع غزوات وخرجت فيما يبعث من البعوث تسع غزوات مرة علينا أبو بكر ومرة علينا أسامة.
সহিহ বুখারী ৪২৭১
وقال عمر بن حفص بن غياث حدثنا أبي عن يزيد بن أبي عبيد قال سمعت سلمة يقول غزوت مع النبي صلى الله عليه وسلم سبع غزوات وخرجت فيما يبعث من البعث تسع غزوات علينا مرة أبو بكر ومرة أسامة.
উমার ইবনু হাফ্স ইবনু গিয়াস (রহঃ) তাঁর পিতা হাফস্ থেকে বর্নিতঃ
ইয়াযীদ ইবনু আবী 'উবাইদাহ (রাঃ)-এর মাধ্যমে সালামাহ ইবনুল আকওয়া' (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে সাতটি যুদ্ধে অংশ নিয়েছি। আর তিনি যেসব সেনাভিযান পাঠিয়েছিলেন এর নয়টি সেনাভিযানে অংশ নিয়েছি। এ সব সেনাভিযানে একবার আবূ বকর (রাঃ) আমাদের অধিনায়ক থাকতেন। আরেকবার উসামাহ (রাঃ) আমাদের অধিনায়ক থাকতেন। [৪২৭০; মুসলিম ৩২/৪৯, হাঃ ১৮১৫] (আ.প্র. ৩৯৩৭, ই.ফা.৩৯৪১)
উমার ইবনু হাফ্স ইবনু গিয়াস (রহঃ) তাঁর পিতা হাফস্ থেকে বর্নিতঃ
ইয়াযীদ ইবনু আবী 'উবাইদাহ (রাঃ)-এর মাধ্যমে সালামাহ ইবনুল আকওয়া' (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে সাতটি যুদ্ধে অংশ নিয়েছি। আর তিনি যেসব সেনাভিযান পাঠিয়েছিলেন এর নয়টি সেনাভিযানে অংশ নিয়েছি। এ সব সেনাভিযানে একবার আবূ বকর (রাঃ) আমাদের অধিনায়ক থাকতেন। আরেকবার উসামাহ (রাঃ) আমাদের অধিনায়ক থাকতেন। [৪২৭০; মুসলিম ৩২/৪৯, হাঃ ১৮১৫] (আ.প্র. ৩৯৩৭, ই.ফা.৩৯৪১)
وقال عمر بن حفص بن غياث حدثنا أبي عن يزيد بن أبي عبيد قال سمعت سلمة يقول غزوت مع النبي صلى الله عليه وسلم سبع غزوات وخرجت فيما يبعث من البعث تسع غزوات علينا مرة أبو بكر ومرة أسامة.
সহিহ বুখারী ৪২৭২
أبو عاصم الضحاك بن مخلد حدثنا يزيد بن أبي عبيد عن سلمة بن الأكوع رضي الله عنه قال غزوت مع النبي صلى الله عليه وسلم سبع غزوات وغزوت مع ابن حارثة استعمله علينا.
সালামাহ ইবনু আকওয়া' (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে সাতটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি এবং যায়দ ইবনু হারিসাহ্ (রাঃ)-এর সঙ্গেও যুদ্ধে অংশ নিয়েছি। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে (যায়দকে) আমাদের সেনাধ্যক্ষ নিয়োগ করেছিলেন। [৪২৭০] (আ.প্র. ৩৯৩৮, ই.ফা. ৩৯৪২)
সালামাহ ইবনু আকওয়া' (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে সাতটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছি এবং যায়দ ইবনু হারিসাহ্ (রাঃ)-এর সঙ্গেও যুদ্ধে অংশ নিয়েছি। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে (যায়দকে) আমাদের সেনাধ্যক্ষ নিয়োগ করেছিলেন। [৪২৭০] (আ.প্র. ৩৯৩৮, ই.ফা. ৩৯৪২)
أبو عاصم الضحاك بن مخلد حدثنا يزيد بن أبي عبيد عن سلمة بن الأكوع رضي الله عنه قال غزوت مع النبي صلى الله عليه وسلم سبع غزوات وغزوت مع ابن حارثة استعمله علينا.
সহিহ বুখারী ৪২৬৯
عمرو بن محمد حدثنا هشيم أخبرنا حصين أخبرنا أبو ظبيان قال سمعت أسامة بن زيد رضي الله عنهما يقول بعثنا رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى الحرقة فصبحنا القوم فهزمناهم ولحقت أنا ورجل من الأنصار رجلا منهم فلما غشيناه قال لا إله إلا الله فكف الأنصاري فطعنته برمحي حتى قتلته فلما قدمنا بلغ النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا أسامة أقتلته بعد ما قال لا إله إلا الله قلت كان متعوذا فما زال يكررها حتى تمنيت أني لم أكن أسلمت قبل ذلك اليوم.
উসামাহ ইবনু যায়িদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে হুরকা গোত্রের বিরুদ্ধে পাঠিয়েছিলেন। আমরা প্রত্যুষে গোত্রটির উপর আক্রমণ করি এবং তাদেরকে পরাজিত করি। এ সময়ে আনসারদের এক ব্যক্তি ও আমি তাদের (হুরকাদের) একজনের পিছু ধাওয়া করলাম। আমরা যখন তাকে ঘিরে ফেললাম তখন সে বলে উঠল 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'। এ বাক্য শুনে আনসারী তার অস্ত্র সামনে নিলেন। কিন্তু আমি তাকে আমার বর্শা দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে ফেললাম। আমরা মদিনায় ফিরার পর এ সংবাদ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর্যন্ত পৌঁছালে তিনি বললেন, হে উসামাহ! 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলার পরেও তুমি তাকে হত্যা করেছ? আমি বললাম, সে তো জান বাঁচানোর জন্য কালিমা পড়েছিল। এর পরেও তিনি এ কথাটি 'হে উসামাহ! 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলার পরেও তুমি তাকে হত্যা করেছ' বারবার বলতে থাকলেন। এতে আমার মন চাছিল যে, হায়, যদি সেই দিনটির পূর্বে আমি ইসলামই গ্রহণ না করতাম! [৬৬] [৬৮৭২; মুসলিম ১/৪১, হাঃ ৯৬, আহমাদ ২১৮০৪] (আ.প্র. ৩৯৩৬, ই.ফা. ৩৯৪০)
উসামাহ ইবনু যায়িদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদেরকে হুরকা গোত্রের বিরুদ্ধে পাঠিয়েছিলেন। আমরা প্রত্যুষে গোত্রটির উপর আক্রমণ করি এবং তাদেরকে পরাজিত করি। এ সময়ে আনসারদের এক ব্যক্তি ও আমি তাদের (হুরকাদের) একজনের পিছু ধাওয়া করলাম। আমরা যখন তাকে ঘিরে ফেললাম তখন সে বলে উঠল 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ'। এ বাক্য শুনে আনসারী তার অস্ত্র সামনে নিলেন। কিন্তু আমি তাকে আমার বর্শা দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে ফেললাম। আমরা মদিনায় ফিরার পর এ সংবাদ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর্যন্ত পৌঁছালে তিনি বললেন, হে উসামাহ! 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' বলার পরেও তুমি তাকে হত্যা করেছ? আমি বললাম, সে তো জান বাঁচানোর জন্য কালিমা পড়েছিল। এর পরেও তিনি এ কথাটি 'হে উসামাহ! 'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলার পরেও তুমি তাকে হত্যা করেছ' বারবার বলতে থাকলেন। এতে আমার মন চাছিল যে, হায়, যদি সেই দিনটির পূর্বে আমি ইসলামই গ্রহণ না করতাম! [৬৬] [৬৮৭২; মুসলিম ১/৪১, হাঃ ৯৬, আহমাদ ২১৮০৪] (আ.প্র. ৩৯৩৬, ই.ফা. ৩৯৪০)
عمرو بن محمد حدثنا هشيم أخبرنا حصين أخبرنا أبو ظبيان قال سمعت أسامة بن زيد رضي الله عنهما يقول بعثنا رسول الله صلى الله عليه وسلم إلى الحرقة فصبحنا القوم فهزمناهم ولحقت أنا ورجل من الأنصار رجلا منهم فلما غشيناه قال لا إله إلا الله فكف الأنصاري فطعنته برمحي حتى قتلته فلما قدمنا بلغ النبي صلى الله عليه وسلم فقال يا أسامة أقتلته بعد ما قال لا إله إلا الله قلت كان متعوذا فما زال يكررها حتى تمنيت أني لم أكن أسلمت قبل ذلك اليوم.
সহিহ বুখারী ৪২৭৩
محمد بن عبد الله حدثنا حماد بن مسعدة عن يزيد بن أبي عبيد عن سلمة بن الأكوع قال غزوت مع النبي صلى الله عليه وسلم سبع غزوات فذكر خيبر والحديبية ويوم حنين ويوم القرد قال يزيد ونسيت بقيتهم.
সালামাহ ইবনু আকওয়া' (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে সাতটি যুদ্ধে অংশ নিয়েছি। এতে তিনি খাইবার, হুদাইবিয়াহ, হুনায়ন ও যি-কারাদের যুদ্ধের কথা উল্লেখ করেছেন। বর্ণনাকারী ইয়াযীদ (রহঃ) বলেন, অবশিষ্ট যুদ্ধগুলোর নাম আমি ভুলে গেছি। [৪২৭০] (আ.প্র. ৩৯৩৯, ই.ফা. ৩৯৪৩)
সালামাহ ইবনু আকওয়া' (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে সাতটি যুদ্ধে অংশ নিয়েছি। এতে তিনি খাইবার, হুদাইবিয়াহ, হুনায়ন ও যি-কারাদের যুদ্ধের কথা উল্লেখ করেছেন। বর্ণনাকারী ইয়াযীদ (রহঃ) বলেন, অবশিষ্ট যুদ্ধগুলোর নাম আমি ভুলে গেছি। [৪২৭০] (আ.প্র. ৩৯৩৯, ই.ফা. ৩৯৪৩)
محمد بن عبد الله حدثنا حماد بن مسعدة عن يزيد بن أبي عبيد عن سلمة بن الأكوع قال غزوت مع النبي صلى الله عليه وسلم سبع غزوات فذكر خيبر والحديبية ويوم حنين ويوم القرد قال يزيد ونسيت بقيتهم.
সহিহ বুখারী > মাক্কাহ্য় বিজয়াভিযান
সহিহ বুখারী ৪২৭৪
قتيبة بن سعيد حدثنا سفيان عن عمرو بن دينار قال أخبرني الحسن بن محمد أنه سمع عبيد الله بن أبي رافع يقول سمعت عليا رضي الله عنه يقول بعثني رسول الله أنا والزبير والمقداد فقال انطلقوا حتى تأتوا روضة خاخ فإن بها ظعينة معها كتاب فخذوا منها قال فانطلقنا تعادى بنا خيلنا حتى أتينا الروضة فإذا نحن بالظعينة قلنا لها أخرجي الكتاب قالت ما معي كتاب فقلنا لتخرجن الكتاب أو لنلقين الثياب قال فأخرجته من عقاصها فأتينا به رسول الله صلى الله عليه وسلم فإذا فيه من حاطب بن أبي بلتعة إلى ناس بمكة من المشركين يخبرهم ببعض أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم يا حاطب ما هذا قال يا رسول الله لا تعجل علي إني كنت امرا ملصقا في قريش يقول كنت حليفا ولم أكن من أنفسها وكان من معك من المهاجرين من لهم قرابات يحمون أهليهم وأموالهم فأحببت إذ فاتني ذلك من النسب فيهم أن أتخذ عندهم يدا يحمون قرابتي ولم أفعله ارتدادا عن ديني ولا رضا بالكفر بعد الإسلام فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم أما إنه قد صدقكم فقال عمر يا رسول الله دعني أضرب عنق هذا المنافق فقال إنه قد شهد بدرا وما يدريك لعل الله اطلع على من شهد بدرا فقال اعملوا ما شئتم فقد غفرت لكم فأنزل الله السورة {يٰأيها الذين اٰمنوا لا تتخذوا عدوي وعدوكم أولياء تلقون إليهم بالمودة وقد كفروا بما جاءكم من الحق} إلى قوله {فقد ضل سواء السبيل}.
আলী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমাকে এবং যুবায়র ও মিকদাদ (রাঃ)-কে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ কথা বলে পাঠালেন যে, তোমরা রওয়ানা হয়ে রাওযায়ে খাখ পর্যন্ত চলে যাও, সেখানে সাওয়ারীর পৃষ্ঠে হাওদায় উপবিষ্টা জনৈকা মহিলার নিকট একখানা পত্র আছে। তোমরা ঐ পত্রটি তার থেকে নিয়ে আসবে। 'আলী (রাঃ) বলেন, আমরা রওয়ানা দিলাম। আর আমাদের অশ্বগুলো আমাদের নিয়ে খুব দ্রুত ছুটে চলল। শেষ পর্যন্ত আমরা রাওযায়ে খাখ-এ পৌঁছে গেলাম। গিয়েই আমরা হাওদায় আরোহিণী মহিলাটিকে পেয়ে গেলাম। আমরা বললাম, পত্রটি বের কর। সে বললঃ আমার কাছে কোন পত্র নেই। আমরা বললাম, তুমি অবশ্যই পত্রটি বের করবে, অন্যথায় আমরা তোমার কাপড়-চোপড় খুলে তালাশ করব। রাবী বলেন, মহিলাটি তখন তার চুলের খোপা থেকে পত্রটি বের করল। আমরা পত্রটি নিয়ে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে আসলাম। দেখা গেল এটি হাতিব ইবনু আবূ বালতা'আ (রাঃ)-এর পক্ষ থেকে মক্কার কতিপয় মুশরিকের কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি এতে মক্কার কাফিরদের বিরুদ্ধে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কিছু তৎপরতার সংবাদ দিয়েছেন। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হে হাতিব! এ কী কাজ করেছ? তিনি বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল! (দয়া করে) আমার ব্যাপারে তাড়াতাড়ি কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন না। আমি কুরাইশদের সঙ্গে স্বগোত্রীয় কেউ ছিলাম না বরং তাদের বন্ধু অর্থাৎ তাদের মিত্র গোত্রের একজন ছিলাম। আপনার সঙ্গে যেসব মুহাজির আছেন কুরায়শ গোত্রে তাঁদের অনেক আত্মীয়-স্বজন রয়েছেন। যারা এদের পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদের হিফাযাত করছে। আর কুরাইশ গোত্রে যেহেতু আমার বংশগত কোন সম্পর্ক নেই, তাই আমি ভাবলাম, যদি আমি তাদের কোন উপকার করে দেই তাহলে তারা আমার পরিবার-পরিজনের হিফাযাতে এগিয়ে আসবে। কখনো আমি আমার দ্বীন পরিত্যাগ করা কিংবা ইসলাম গ্রহনের পর কুফরকে গ্রহণ করার জন্য এ কাজ করিনি। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন বললেন, সে (হাতিব) তোমাদের কাছে সত্য কথাই বলেছে। 'উমার (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল! আমাকে অনুমতি দিন, আমি এ মুনাফিকের গর্দান উড়িয়ে দেব। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, দেখ সে বদর যুদ্ধে যোগদান করেছে। তুমি তো জান না, হয়তো আল্লাহ তা'আলা বাদ্রে যোগদানকারীদের উপর সন্তুষ্ট হয়ে বলে দিয়েছেন, তোমরা যা খুশী করতে থাক, আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছি। তখন আল্লাহ তা'আলা এ সূরাহ অবতীর্ণ করেনঃ “ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমরা আমার শত্রু ও তোমাদের শত্রুকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তোমারা তো তাদের প্রতি বন্ধুত্বের বার্তা পাঠাও, অথচ তারা তোমাদের কাছে যে সত্য এসেছে তা প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা রসূলকে এবং তোমাদেরকে মাক্কাহ থেকে নির্বাসিত করেছে এ কারণে যে, তোমরা তোমাদের রব আল্লাহ্র প্রতি ঈমান রাখ। যদি তোমরা বের হয়ে থাক আমার পথে জিহাদ করার উদ্দেশে এবং আমার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য, তবে কেন গোপনে তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চাও? আর তোমরা যা গোপন কর এবং যা প্রকাশ কর তা আমি ভাল জানি। তোমরদের যে কেউ এরূপ করে, সে তো সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়”-(সূরাহ আল-মুমতাহিনাহ ৬০/১)। [৩০০৭] (আ.প্র. ৩৯৪০, ই.ফা. ৩৯৪৪)
আলী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমাকে এবং যুবায়র ও মিকদাদ (রাঃ)-কে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ কথা বলে পাঠালেন যে, তোমরা রওয়ানা হয়ে রাওযায়ে খাখ পর্যন্ত চলে যাও, সেখানে সাওয়ারীর পৃষ্ঠে হাওদায় উপবিষ্টা জনৈকা মহিলার নিকট একখানা পত্র আছে। তোমরা ঐ পত্রটি তার থেকে নিয়ে আসবে। 'আলী (রাঃ) বলেন, আমরা রওয়ানা দিলাম। আর আমাদের অশ্বগুলো আমাদের নিয়ে খুব দ্রুত ছুটে চলল। শেষ পর্যন্ত আমরা রাওযায়ে খাখ-এ পৌঁছে গেলাম। গিয়েই আমরা হাওদায় আরোহিণী মহিলাটিকে পেয়ে গেলাম। আমরা বললাম, পত্রটি বের কর। সে বললঃ আমার কাছে কোন পত্র নেই। আমরা বললাম, তুমি অবশ্যই পত্রটি বের করবে, অন্যথায় আমরা তোমার কাপড়-চোপড় খুলে তালাশ করব। রাবী বলেন, মহিলাটি তখন তার চুলের খোপা থেকে পত্রটি বের করল। আমরা পত্রটি নিয়ে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে আসলাম। দেখা গেল এটি হাতিব ইবনু আবূ বালতা'আ (রাঃ)-এর পক্ষ থেকে মক্কার কতিপয় মুশরিকের কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি এতে মক্কার কাফিরদের বিরুদ্ধে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কিছু তৎপরতার সংবাদ দিয়েছেন। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, হে হাতিব! এ কী কাজ করেছ? তিনি বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল! (দয়া করে) আমার ব্যাপারে তাড়াতাড়ি কোন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন না। আমি কুরাইশদের সঙ্গে স্বগোত্রীয় কেউ ছিলাম না বরং তাদের বন্ধু অর্থাৎ তাদের মিত্র গোত্রের একজন ছিলাম। আপনার সঙ্গে যেসব মুহাজির আছেন কুরায়শ গোত্রে তাঁদের অনেক আত্মীয়-স্বজন রয়েছেন। যারা এদের পরিবার-পরিজন, ধন-সম্পদের হিফাযাত করছে। আর কুরাইশ গোত্রে যেহেতু আমার বংশগত কোন সম্পর্ক নেই, তাই আমি ভাবলাম, যদি আমি তাদের কোন উপকার করে দেই তাহলে তারা আমার পরিবার-পরিজনের হিফাযাতে এগিয়ে আসবে। কখনো আমি আমার দ্বীন পরিত্যাগ করা কিংবা ইসলাম গ্রহনের পর কুফরকে গ্রহণ করার জন্য এ কাজ করিনি। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন বললেন, সে (হাতিব) তোমাদের কাছে সত্য কথাই বলেছে। 'উমার (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল! আমাকে অনুমতি দিন, আমি এ মুনাফিকের গর্দান উড়িয়ে দেব। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, দেখ সে বদর যুদ্ধে যোগদান করেছে। তুমি তো জান না, হয়তো আল্লাহ তা'আলা বাদ্রে যোগদানকারীদের উপর সন্তুষ্ট হয়ে বলে দিয়েছেন, তোমরা যা খুশী করতে থাক, আমি তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিয়েছি। তখন আল্লাহ তা'আলা এ সূরাহ অবতীর্ণ করেনঃ “ওহে যারা ঈমান এনেছ! তোমরা আমার শত্রু ও তোমাদের শত্রুকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করো না। তোমারা তো তাদের প্রতি বন্ধুত্বের বার্তা পাঠাও, অথচ তারা তোমাদের কাছে যে সত্য এসেছে তা প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা রসূলকে এবং তোমাদেরকে মাক্কাহ থেকে নির্বাসিত করেছে এ কারণে যে, তোমরা তোমাদের রব আল্লাহ্র প্রতি ঈমান রাখ। যদি তোমরা বের হয়ে থাক আমার পথে জিহাদ করার উদ্দেশে এবং আমার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য, তবে কেন গোপনে তাদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করতে চাও? আর তোমরা যা গোপন কর এবং যা প্রকাশ কর তা আমি ভাল জানি। তোমরদের যে কেউ এরূপ করে, সে তো সরল পথ থেকে বিচ্যুত হয়ে যায়”-(সূরাহ আল-মুমতাহিনাহ ৬০/১)। [৩০০৭] (আ.প্র. ৩৯৪০, ই.ফা. ৩৯৪৪)
قتيبة بن سعيد حدثنا سفيان عن عمرو بن دينار قال أخبرني الحسن بن محمد أنه سمع عبيد الله بن أبي رافع يقول سمعت عليا رضي الله عنه يقول بعثني رسول الله أنا والزبير والمقداد فقال انطلقوا حتى تأتوا روضة خاخ فإن بها ظعينة معها كتاب فخذوا منها قال فانطلقنا تعادى بنا خيلنا حتى أتينا الروضة فإذا نحن بالظعينة قلنا لها أخرجي الكتاب قالت ما معي كتاب فقلنا لتخرجن الكتاب أو لنلقين الثياب قال فأخرجته من عقاصها فأتينا به رسول الله صلى الله عليه وسلم فإذا فيه من حاطب بن أبي بلتعة إلى ناس بمكة من المشركين يخبرهم ببعض أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم يا حاطب ما هذا قال يا رسول الله لا تعجل علي إني كنت امرا ملصقا في قريش يقول كنت حليفا ولم أكن من أنفسها وكان من معك من المهاجرين من لهم قرابات يحمون أهليهم وأموالهم فأحببت إذ فاتني ذلك من النسب فيهم أن أتخذ عندهم يدا يحمون قرابتي ولم أفعله ارتدادا عن ديني ولا رضا بالكفر بعد الإسلام فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم أما إنه قد صدقكم فقال عمر يا رسول الله دعني أضرب عنق هذا المنافق فقال إنه قد شهد بدرا وما يدريك لعل الله اطلع على من شهد بدرا فقال اعملوا ما شئتم فقد غفرت لكم فأنزل الله السورة {يٰأيها الذين اٰمنوا لا تتخذوا عدوي وعدوكم أولياء تلقون إليهم بالمودة وقد كفروا بما جاءكم من الحق} إلى قوله {فقد ضل سواء السبيل}.
সহিহ বুখারী > রমযান মাসে সংঘটিত মাক্কাহ বিজয়ের যুদ্ধ
সহিহ বুখারী ৪২৭৭
عياش بن الوليد حدثنا عبد الأعلى حدثنا خالد عن عكرمة عن ابن عباس قال خرج النبي صلى الله عليه وسلم في رمضان إلى حنين والناس مختلفون فصائم ومفطر فلما استوى على راحلته دعا بإناء من لبن أو ماء فوضعه على راحته أو على راحلته ثم نظر إلى الناس فقال المفطرون للصوام أفطروا.
ইবনু 'আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমাযান মাসে হুনাইনের দিকে রওয়ানা হয়েছিলেন। সঙ্গী মুসলিমদের অবস্থা ছিল ভিন্ন ভিন্ন। কেউ ছিলেন সওমরত। কেউ ছিলেন সওমহীন। তাই তিনি যখন সওয়ারীর উপর বসলেন তখন তিনি একপাত্র দুধ কিংবা পানি আনতে বললেন। তারপর তিনি পাত্রটি হাতের উপর কিংবা সওয়ারীর উপর রেখে লোকজনের দিকে তাকালেন। এ অবস্থা দেখে সওমবিহীন লোকেরা সওমরত লোকদেরকে ডেকে বললেনঃ তোমরা সওম ভেঙ্গে ফেল। [১৯৪৪] (আ.প্র. ৩৯৪৩, ই.ফা. ৩৯৪৭)
ইবনু 'আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমাযান মাসে হুনাইনের দিকে রওয়ানা হয়েছিলেন। সঙ্গী মুসলিমদের অবস্থা ছিল ভিন্ন ভিন্ন। কেউ ছিলেন সওমরত। কেউ ছিলেন সওমহীন। তাই তিনি যখন সওয়ারীর উপর বসলেন তখন তিনি একপাত্র দুধ কিংবা পানি আনতে বললেন। তারপর তিনি পাত্রটি হাতের উপর কিংবা সওয়ারীর উপর রেখে লোকজনের দিকে তাকালেন। এ অবস্থা দেখে সওমবিহীন লোকেরা সওমরত লোকদেরকে ডেকে বললেনঃ তোমরা সওম ভেঙ্গে ফেল। [১৯৪৪] (আ.প্র. ৩৯৪৩, ই.ফা. ৩৯৪৭)
عياش بن الوليد حدثنا عبد الأعلى حدثنا خالد عن عكرمة عن ابن عباس قال خرج النبي صلى الله عليه وسلم في رمضان إلى حنين والناس مختلفون فصائم ومفطر فلما استوى على راحلته دعا بإناء من لبن أو ماء فوضعه على راحته أو على راحلته ثم نظر إلى الناس فقال المفطرون للصوام أفطروا.
সহিহ বুখারী ৪২৭৫
ইবনু 'আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি জানিয়েছেন যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমাযান মাসে মাক্কাহ বিজয়ের যুদ্ধ করেছেন। বর্ণনাকারী যুহরী (রাঃ) বলেন, আমি সা'ঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ)-কেও একই রকম বর্ণনা করতে শুনেছি। আরেকটি সূত্র দিয়ে তিনি 'উবাইদুল্লাহ ইবনু 'আবব্দুল্লাহ (রহঃ)-এর মাধ্যমে ইবনু 'আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, 'আবব্দুল্লাহ ইবনু 'আব্বাস বলেছেন, (মাক্কাহ অভিমুখে রওয়ানা হয়ে) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সওম পালন করছিলেন। অবশেষে তিনি যখন কুদাইদ এবং উস্ফান নামক স্থানদ্বয়ের মাঝে কাদীদ নামক জায়গায় ঝরণার কাছে পৌঁছেন তখন তিনি ইফতার করেন। এরপর রমাযান মাস শেষ হওয়া পর্যন্ত তিনি সওম পালন করেননি। [১৯৪৪] (আ.প্র. ৩৯৪১, ই.ফা. ৩৯৪৫)
ইবনু 'আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি জানিয়েছেন যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমাযান মাসে মাক্কাহ বিজয়ের যুদ্ধ করেছেন। বর্ণনাকারী যুহরী (রাঃ) বলেন, আমি সা'ঈদ ইবনুল মুসাইয়্যাব (রহঃ)-কেও একই রকম বর্ণনা করতে শুনেছি। আরেকটি সূত্র দিয়ে তিনি 'উবাইদুল্লাহ ইবনু 'আবব্দুল্লাহ (রহঃ)-এর মাধ্যমে ইবনু 'আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, 'আবব্দুল্লাহ ইবনু 'আব্বাস বলেছেন, (মাক্কাহ অভিমুখে রওয়ানা হয়ে) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সওম পালন করছিলেন। অবশেষে তিনি যখন কুদাইদ এবং উস্ফান নামক স্থানদ্বয়ের মাঝে কাদীদ নামক জায়গায় ঝরণার কাছে পৌঁছেন তখন তিনি ইফতার করেন। এরপর রমাযান মাস শেষ হওয়া পর্যন্ত তিনি সওম পালন করেননি। [১৯৪৪] (আ.প্র. ৩৯৪১, ই.ফা. ৩৯৪৫)
সহিহ বুখারী ৪২৭৬
محمود أخبرنا عبد الرزاق أخبرنا معمر قال أخبرني الزهري عن عبيد الله بن عبد الله عن ابن عباس رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم خرج في رمضان من المدينة ومعه عشرة آلاف وذلك على رأس ثمان سنين ونصف من مقدمه المدينة فسار هو ومن معه من المسلمين إلى مكة يصوم ويصومون حتى بلغ الكديد وهو ماء بين عسفان وقديد أفطر وأفطروا قال الزهري وإنما يؤخذ من أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم الآخر فالآخر.
ইবনু 'আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমাযান মাসে মাদীনাহ থেকে (মাক্কাহ অভিযানে) রওয়ানা হন। তাঁর সঙ্গে ছিল দশ হাজার সহাবী। তখন হিজরাত করে চলে আসার সাড়ে আট বছর পার হয়ে গিয়েছিল। তিনি ও তাঁর সঙ্গী মুসলিমগণ সওম অবস্থায়ই মাক্কাহ অভিমুখে রওয়ানা হন। অবশেষে তিনি যখন উস্ফান এবং কুদাইদ স্থানদ্বয়ের মধ্যবর্তী কাদীদ নামক জায়গায় ঝরণার নিকট পৌঁছলেন তখন তিনি ও সঙ্গী মুসলিমগণ ইফতার করলেন। যুহরী (রহঃ) বলেছেনঃ উম্মতের জীবনযাত্রায় গ্রহণ করার ব্যাপারে রসূল্ললাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাজকর্মের শেষোক্ত 'আমালটিকেই চূড়ান্ত দলীল হিসাবে গণ্য করা হয়। [৬৭] [১৯৪৪] (আ.প্র. ৩৯৪২, ই.ফা. ৩৯৪৬)
ইবনু 'আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমাযান মাসে মাদীনাহ থেকে (মাক্কাহ অভিযানে) রওয়ানা হন। তাঁর সঙ্গে ছিল দশ হাজার সহাবী। তখন হিজরাত করে চলে আসার সাড়ে আট বছর পার হয়ে গিয়েছিল। তিনি ও তাঁর সঙ্গী মুসলিমগণ সওম অবস্থায়ই মাক্কাহ অভিমুখে রওয়ানা হন। অবশেষে তিনি যখন উস্ফান এবং কুদাইদ স্থানদ্বয়ের মধ্যবর্তী কাদীদ নামক জায়গায় ঝরণার নিকট পৌঁছলেন তখন তিনি ও সঙ্গী মুসলিমগণ ইফতার করলেন। যুহরী (রহঃ) বলেছেনঃ উম্মতের জীবনযাত্রায় গ্রহণ করার ব্যাপারে রসূল্ললাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাজকর্মের শেষোক্ত 'আমালটিকেই চূড়ান্ত দলীল হিসাবে গণ্য করা হয়। [৬৭] [১৯৪৪] (আ.প্র. ৩৯৪২, ই.ফা. ৩৯৪৬)
محمود أخبرنا عبد الرزاق أخبرنا معمر قال أخبرني الزهري عن عبيد الله بن عبد الله عن ابن عباس رضي الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم خرج في رمضان من المدينة ومعه عشرة آلاف وذلك على رأس ثمان سنين ونصف من مقدمه المدينة فسار هو ومن معه من المسلمين إلى مكة يصوم ويصومون حتى بلغ الكديد وهو ماء بين عسفان وقديد أفطر وأفطروا قال الزهري وإنما يؤخذ من أمر رسول الله صلى الله عليه وسلم الآخر فالآخر.
সহিহ বুখারী ৪২৭৯
علي بن عبد الله حدثنا جرير عن منصور عن مجاهد عن طاوس عن ابن عباس قال سافر رسول الله صلى الله عليه وسلم في رمضان فصام حتى بلغ عسفان ثم دعا بإناء من ماء فشرب نهارا ليريه الناس فأفطر حتى قدم مكة قال وكان ابن عباس يقول صام رسول الله صلى الله عليه وسلم في السفر وأفطر فمن شاء صام ومن شاء أفطر.
ইবনু 'আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমাযান মাসে সওয়মরত অবস্থায় (মাক্কাহ আভিমুখে) সফর করেছেন। অবশেষে তিনি উস্ফান নামক স্থানে পৌঁছলে একপাত্র পানি দিতে বললেন। তারপর দিনের বেলাতেই সে পানি পান করলেন যেন তিনি লোকজনকে তাঁর সওমবিহীন অবস্থা দেখাতে পারেন। এরপর মাক্কাহ পৌঁছা পর্যন্ত তিনি আর সওম পালন করেননি। বর্ণনাকারী বলেছেন, পরবর্তীকালে ইবনু 'আব্বাস (রাঃ) বলতেন সফরে কোন সময় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সওম পালন করতেন আবার কোন সময় তিনি সওমবিহীন আবস্থায়ও ছিলেন। তাই সফরে যার ইচ্ছা সওম পালন করবে যার ইচ্ছে সওমবিহীন অবস্থায় থাকবে। (সফর শেষে বাসস্থানে তা আদায় করে নিতে হবে)। [১৯৪৪] (আ.প্র. ৩৯৪৪, ই.ফা. ৩৯৪৮)
ইবনু 'আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রমাযান মাসে সওয়মরত অবস্থায় (মাক্কাহ আভিমুখে) সফর করেছেন। অবশেষে তিনি উস্ফান নামক স্থানে পৌঁছলে একপাত্র পানি দিতে বললেন। তারপর দিনের বেলাতেই সে পানি পান করলেন যেন তিনি লোকজনকে তাঁর সওমবিহীন অবস্থা দেখাতে পারেন। এরপর মাক্কাহ পৌঁছা পর্যন্ত তিনি আর সওম পালন করেননি। বর্ণনাকারী বলেছেন, পরবর্তীকালে ইবনু 'আব্বাস (রাঃ) বলতেন সফরে কোন সময় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সওম পালন করতেন আবার কোন সময় তিনি সওমবিহীন আবস্থায়ও ছিলেন। তাই সফরে যার ইচ্ছা সওম পালন করবে যার ইচ্ছে সওমবিহীন অবস্থায় থাকবে। (সফর শেষে বাসস্থানে তা আদায় করে নিতে হবে)। [১৯৪৪] (আ.প্র. ৩৯৪৪, ই.ফা. ৩৯৪৮)
علي بن عبد الله حدثنا جرير عن منصور عن مجاهد عن طاوس عن ابن عباس قال سافر رسول الله صلى الله عليه وسلم في رمضان فصام حتى بلغ عسفان ثم دعا بإناء من ماء فشرب نهارا ليريه الناس فأفطر حتى قدم مكة قال وكان ابن عباس يقول صام رسول الله صلى الله عليه وسلم في السفر وأفطر فمن شاء صام ومن شاء أفطر.
সহিহ বুখারী ৪২৭৮
وقال عبد الرزاق أخبرنا معمر عن أيوب عن عكرمة عن ابن عباس رضي الله عنهما خرج النبي صلى الله عليه وسلم عام الفتح وقال حماد بن زيد عن أيوب عن عكرمة عن ابن عباس عن النبي صلى الله عليه وسلم .
ইবনু ‘আববাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
‘আবদুর রায্যাক, মা‘মার, আইয়ুব, ‘ইকরিমা (রহ.) সূত্রে ইবনু ‘আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, মক্কা বিজয়ের বছর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ অভিযানে বের হয়েছিলেন। এভাবে হাম্মাদ ইবনু যায়িদ আইয়ূব, ‘ইকরিমাহ (রহ.) ইবনু ‘আববাস (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকেও বিষয়টি বর্ণনা করেছেন। [১৯৪৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৪৩, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৪৭)
ইবনু ‘আববাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
‘আবদুর রায্যাক, মা‘মার, আইয়ুব, ‘ইকরিমা (রহ.) সূত্রে ইবনু ‘আববাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, মক্কা বিজয়ের বছর নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এ অভিযানে বের হয়েছিলেন। এভাবে হাম্মাদ ইবনু যায়িদ আইয়ূব, ‘ইকরিমাহ (রহ.) ইবনু ‘আববাস (রাঃ) সূত্রে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকেও বিষয়টি বর্ণনা করেছেন। [১৯৪৪] (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৩৯৪৩, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৩৯৪৭)
وقال عبد الرزاق أخبرنا معمر عن أيوب عن عكرمة عن ابن عباس رضي الله عنهما خرج النبي صلى الله عليه وسلم عام الفتح وقال حماد بن زيد عن أيوب عن عكرمة عن ابن عباس عن النبي صلى الله عليه وسلم .
সহিহ বুখারী > মাক্কাহ বিজয়ের দিনে নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোথায় ঝাণ্ডা স্থাপন করেছিলেন
সহিহ বুখারী ৪২৮২
سليمان بن عبد الرحمن حدثنا سعدان بن يحيى حدثنا محمد بن أبي حفصة عن الزهري عن علي بن حسين عن عمرو بن عثمان عن أسامة بن زيد أنه قال زمن الفتح يا رسول الله أين تنزل غدا قال النبي صلى الله عليه وسلم وهل ترك لنا عقيل من منزل؟
উসামাহ ইবনু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি মাক্কাহ বিজয়ের কালে বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আগামীকাল আপনি কোথায় অবস্থান করবেন? নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আকীল কি আমাদের জন্য কোন বাড়ি অবশিষ্ট রেখে গেছে? [১৫৮৮] (আ.প্র. ৩৯৪৭, ই.ফা. ৩৯৫১)
উসামাহ ইবনু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি মাক্কাহ বিজয়ের কালে বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! আগামীকাল আপনি কোথায় অবস্থান করবেন? নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আকীল কি আমাদের জন্য কোন বাড়ি অবশিষ্ট রেখে গেছে? [১৫৮৮] (আ.প্র. ৩৯৪৭, ই.ফা. ৩৯৫১)
سليمان بن عبد الرحمن حدثنا سعدان بن يحيى حدثنا محمد بن أبي حفصة عن الزهري عن علي بن حسين عن عمرو بن عثمان عن أسامة بن زيد أنه قال زمن الفتح يا رسول الله أين تنزل غدا قال النبي صلى الله عليه وسلم وهل ترك لنا عقيل من منزل؟
সহিহ বুখারী ৪২৮৫
موسى بن إسماعيل حدثنا إبراهيم بن سعد أخبرنا ابن شهاب عن أبي سلمة عن أبي هريرة رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم حين أراد حنينا منزلنا غدا إن شاء الله بخيف بني كنانة حيث تقاسموا على الكفر.
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূল্লুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হুনাইনের উদ্দেশে রওয়ানা হয়ে বললেন, বানী কিনানার খায়ফ নামক স্থানই হবে আমাদের আগামীকালের আবস্থানস্থল, যেখানে কাফিররা কুফরের উপর পরস্পরের শপথ গ্রহণ করেছিল। [১৫৮৯] (আ.প্র. ৩৯৪৯, ই.ফা. ৩৯৫৩)
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূল্লুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হুনাইনের উদ্দেশে রওয়ানা হয়ে বললেন, বানী কিনানার খায়ফ নামক স্থানই হবে আমাদের আগামীকালের আবস্থানস্থল, যেখানে কাফিররা কুফরের উপর পরস্পরের শপথ গ্রহণ করেছিল। [১৫৮৯] (আ.প্র. ৩৯৪৯, ই.ফা. ৩৯৫৩)
موسى بن إسماعيل حدثنا إبراهيم بن سعد أخبرنا ابن شهاب عن أبي سلمة عن أبي هريرة رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم حين أراد حنينا منزلنا غدا إن شاء الله بخيف بني كنانة حيث تقاسموا على الكفر.
সহিহ বুখারী ৪২৮৪
أبو اليمان حدثنا شعيب حدثنا أبو الزناد عن عبد الرحمن عن أبي هريرة رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم منزلنا إن شاء الله إذا فتح الله الخيف حيث تقاسموا على الكفر.
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, (মাক্কাহ বিজয়ের পূর্বে) রসূল্লুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহ আমাদেরকে বিজয় দান করলে ইনশাআল্লাহ 'খাইফ' হবে আমাদের অবস্থানস্থল, যেখানে কাফিররা কুফরীর উপর পরস্পরের শপথ গ্রহণ করেছিল। [৬৯] [১৫৮৯] (আ.প্র. ৩৯৪৮, ই.ফা. ৩৯৫২)
আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, (মাক্কাহ বিজয়ের পূর্বে) রসূল্লুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আল্লাহ আমাদেরকে বিজয় দান করলে ইনশাআল্লাহ 'খাইফ' হবে আমাদের অবস্থানস্থল, যেখানে কাফিররা কুফরীর উপর পরস্পরের শপথ গ্রহণ করেছিল। [৬৯] [১৫৮৯] (আ.প্র. ৩৯৪৮, ই.ফা. ৩৯৫২)
أبو اليمان حدثنا شعيب حدثنا أبو الزناد عن عبد الرحمن عن أبي هريرة رضي الله عنه قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم منزلنا إن شاء الله إذا فتح الله الخيف حيث تقاسموا على الكفر.
সহিহ বুখারী ৪২৮১
أبو الوليد حدثنا شعبة عن معاوية بن قرة قال سمعت عبد الله بن مغفل يقول رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم فتح مكة على ناقته وهو يقرأ سورة الفتح يرجع وقال لولا أن يجتمع الناس حولي لرجعت كما رجع.
আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফ্ফাল (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, মাক্কাহ বিজয়ের দিন আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাঁর উটনীর উপর দেখেছি, তিনি 'তারজী' অর্থাৎ পূর্ণ তাজভীদ সহকারে সূরাহ আল-ফাত্হ তিলাওয়াত করছেন। বর্ণনাকারী মু'আবিয়াহ ইবনু কুররাহ (রহঃ) বলেন, যদি আমার চারপাশে লোকজন জমায়েত হওয়ার আশঙ্কা না থাকত, তা হলে 'উবাইদুল্লাহ ইবনু মুগাফ্ফাল (রাঃ) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর তিলাওয়াত বর্ণনা করতে যেভাবে তারজী করেছিলেন আমিও ঠিক সে রকমে তারজী করে তিলওয়াত করতাম। [৪৮৩৫, ৫০৩৪, ৫০৪৭, ৭৫৪০] (আ.প্র. ৩৯৪৬, ই.ফা. ৩৯৫০)
আবদুল্লাহ ইবনু মুগাফ্ফাল (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, মাক্কাহ বিজয়ের দিন আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে তাঁর উটনীর উপর দেখেছি, তিনি 'তারজী' অর্থাৎ পূর্ণ তাজভীদ সহকারে সূরাহ আল-ফাত্হ তিলাওয়াত করছেন। বর্ণনাকারী মু'আবিয়াহ ইবনু কুররাহ (রহঃ) বলেন, যদি আমার চারপাশে লোকজন জমায়েত হওয়ার আশঙ্কা না থাকত, তা হলে 'উবাইদুল্লাহ ইবনু মুগাফ্ফাল (রাঃ) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর তিলাওয়াত বর্ণনা করতে যেভাবে তারজী করেছিলেন আমিও ঠিক সে রকমে তারজী করে তিলওয়াত করতাম। [৪৮৩৫, ৫০৩৪, ৫০৪৭, ৭৫৪০] (আ.প্র. ৩৯৪৬, ই.ফা. ৩৯৫০)
أبو الوليد حدثنا شعبة عن معاوية بن قرة قال سمعت عبد الله بن مغفل يقول رأيت رسول الله صلى الله عليه وسلم يوم فتح مكة على ناقته وهو يقرأ سورة الفتح يرجع وقال لولا أن يجتمع الناس حولي لرجعت كما رجع.
সহিহ বুখারী ৪২৮৭
صدقة بن الفضل أخبرنا ابن عيينة عن ابن أبي نجيح عن مجاهد عن أبي معمر عن عبد الله رضي الله عنه قال دخل النبي صلى الله عليه وسلم مكة يوم الفتح وحول البيت ستون وثلاث مائة نصب فجعل يطعنها بعود في يده ويقول جاء الحق وزهق الباطل جاء الحق وما يبدئ الباطل وما يعيد.
আবদুল্লাহ [ইবনু মাস'ঊদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, মাক্কাহ বিজয়ের দিন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কায় প্রবেশ করলেন, তখন বাইতুল্লাহর চারপাশ ঘিরে তিনশত ষাটটি প্রতিমা স্থাপিত ছিল। তিনি হাতে একটি লাঠি নিয়ে প্রতিমাগুলোকে আঘাত করতে থাকলেন আর বলতে থাকলেন, হাক এসেছে, বাতিল অপসৃত হয়েছে। হাক এসেছে, বাতিলের উদ্ভব বা পুনরুত্থান আর ঘটবে না। [২৪৭৮] (আ.প্র. ৩৯৫১, ই.ফা. ৩৯৫৫)
আবদুল্লাহ [ইবনু মাস'ঊদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, মাক্কাহ বিজয়ের দিন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কায় প্রবেশ করলেন, তখন বাইতুল্লাহর চারপাশ ঘিরে তিনশত ষাটটি প্রতিমা স্থাপিত ছিল। তিনি হাতে একটি লাঠি নিয়ে প্রতিমাগুলোকে আঘাত করতে থাকলেন আর বলতে থাকলেন, হাক এসেছে, বাতিল অপসৃত হয়েছে। হাক এসেছে, বাতিলের উদ্ভব বা পুনরুত্থান আর ঘটবে না। [২৪৭৮] (আ.প্র. ৩৯৫১, ই.ফা. ৩৯৫৫)
صدقة بن الفضل أخبرنا ابن عيينة عن ابن أبي نجيح عن مجاهد عن أبي معمر عن عبد الله رضي الله عنه قال دخل النبي صلى الله عليه وسلم مكة يوم الفتح وحول البيت ستون وثلاث مائة نصب فجعل يطعنها بعود في يده ويقول جاء الحق وزهق الباطل جاء الحق وما يبدئ الباطل وما يعيد.
সহিহ বুখারী ৪২৮০
عبيد بن إسماعيل حدثنا أبو أسامة عن هشام عن أبيه قال لما سار رسول الله عام الفتح فبلغ ذلك قريشا خرج أبو سفيان بن حرب وحكيم بن حزام وبديل بن ورقاء يلتمسون الخبر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم فأقبلوا يسيرون حتى أتوا مر الظهران فإذا هم بنيران كأنها نيران عرفة فقال أبو سفيان ما هذه لكأنها نيران عرفة فقال بديل بن ورقاء نيران بني عمرو فقال أبو سفيان عمرو أقل من ذلك فرآهم ناس من حرس رسول الله صلى الله عليه وسلم فأدركوهم فأخذوهم فأتوا بهم رسول الله صلى الله عليه وسلم فأسلم أبو سفيان فلما سار قال للعباس احبس أبا سفيان عند حطم الخيل حتى ينظر إلى المسلمين فحبسه العباس فجعلت القبائل تمر مع النبي صلى الله عليه وسلم تمر كتيبة كتيبة على أبي سفيان فمرت كتيبة قال يا عباس من هذه قال هذه غفار قال ما لي ولغفار ثم مرت جهينة قال مثل ذلك ثم مرت سعد بن هذيم فقال مثل ذلك ومرت سليم فقال مثل ذلك حتى أقبلت كتيبة لم ير مثلها قال من هذه قال هؤلاء الأنصار عليهم سعد بن عبادة معه الراية فقال سعد بن عبادة يا أبا سفيان اليوم يوم الملحمة اليوم تستحل الكعبة فقال أبو سفيان يا عباس حبذا يوم الذمار ثم جاءت كتيبة وهي أقل الكتائب فيهم رسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه وراية النبي صلى الله عليه وسلم مع الزبير بن العوام فلما مر رسول الله صلى الله عليه وسلم بأبي سفيان قال ألم تعلم ما قال سعد بن عبادة قال ما قال قال كذا وكذا فقال كذب سعد ولكن هذا يوم يعظم الله فيه الكعبة ويوم تكسى فيه الكعبة قال وأمر رسول الله صلى الله عليه وسلم أن تركز رايته بالحجون قال عروة وأخبرني نافع بن جبير بن مطعم قال سمعت العباس يقول للزبير بن العوام يا أبا عبد الله ها هنا أمرك رسول الله صلى الله عليه وسلم أن تركز الراية قال وأمر رسول الله صلى الله عليه وسلم يومئذ خالد بن الوليد أن يدخل من أعلى مكة من كداء ودخل النبي صلى الله عليه وسلم من كدا فقتل من خيل خالد بن الوليد رضي الله عنه يومئذ رجلان حبيش بن الأشعر وكرز بن جابر الفهري.
হিশামের পিতা ['উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রাঃ)] থেকে বর্নিতঃ
মাক্কাহ বিজয়ের বছর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (মাক্কাহ অভিমুখে) রওয়ানা করেছেন। এ সংবাদ কুরাইশদের কাছে পৌঁছালে আবূ সুফ্ইয়ান ইবনু হার্ব, হাকীম ইবনু হিযাম এবং বুদাইল ইবনু ওয়ারকা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সংবাদ জানার জন্য রাতের বেলা সামনের দিকে অগ্রসর হয়ে (মক্কার অদূরে) মাররুয জাহ্রান নামক স্থান পর্যন্ত এসে পৌঁছালে তারা আরাফার ময়দানে প্রজ্জ্বলিত আলোর মতো অসংখ্য আগুন দেখতে পেল। আবূ সুফ্ইয়ান বলে উঠল, ঠিক আরাফাহ্র ময়দানে প্রজ্জ্বলিত আলোর মতো এ সব কিসের আলো? বুদাইল ইবনু ওয়ারকা উত্তর করল, এগুলো 'আমর গোত্রের (চুলার) আলো। আবূ সুফ্ইয়ান বলল, 'আমর গোত্রের লোক সংখ্যা এর চেয়ে অনেক কম। এমতাবস্থায় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কয়েকজন প্রহরী তাদেরকে দেখে ফেলল এবং কাছে গিয়ে তাদেরকে পাকড়াও করে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে নিয়ে এল। এ সময় আবূ সুফ্ইয়ান ইসলাম গ্রহণ করল। এরপর তিনি [রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)] যখন (সেনাবাহিনী সহ) রওয়ানা হলেন তখন 'আব্বাস (রাঃ)-কে বললেন, আবূ সুফ্ইয়ানকে পথের একটি সংকীর্ণ জায়গায় দাঁড় করাবে, যেন সে মুসলিমদের পুরো সেনাদলটি দেখতে পায়। তাই 'আব্বাস (রাঃ) তাকে যথাস্থানে থামিয়ে রাখলেন। আর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে আগমনকারী বিভিন্ন গোত্রের লোকজন আলাদা আলাদাভাবে খণ্ড দলে আবূ সুফইয়ানের স্মমুখ দিয়ে অতিক্রম করতে লাগল। (প্রথমে) একটি দল অতিক্রম করে গেল। আবূ সুফ্ইয়ান বললেন, হে 'আব্বাস (রাঃ) এরা কারা? 'আব্বাস (রাঃ) বললেন, এরা গিফার গোত্রের লোক। আবূ সুফ্ইয়ান বললেন, আমার এবং গিফার গোত্রের মধ্যে কোন যুদ্ধ-বিগ্রহ ছিল না। এরপর জুহাইনা গোত্রের লোকেরা অতিক্রম করে গেলেন, আবূ সুফ্ইয়ান অনুরূপ বললেন। তারপর সা'দ ইবনু হুযাইম গোত্র অতিক্রম করল, তখনো আবূ সুফ্ইয়ান অনুরূপ বললেন। তারপর সুলাইম গোত্র অতিক্রম করলেও আবূ সুফ্ইয়ান অনুরূপ বললেন। অবশেষে একটি বিরাট বাহিনী তার সামনে এল যে, এত বিরাট বাহিনী এ সময় তিনি আর দেখেননি। তাই জিজ্ঞেস করলেন, এরা কারা? 'আব্বাস (রাঃ) উত্তর দিলেন, এরাই আনসারবৃন্দ। সা'দ ইবনু 'উবাদাহ (রাঃ) তাঁদের দলপতি। তাঁর হাতেই রয়েছে তাঁদের পতাকা। সা'দ ইবনু 'উবাদাহ (রাঃ) বললেন, হে আবূ সুফইয়ান! আজকের দিন রক্তপাতের দিন, আজকের দিন কা'বার অভ্যন্তরে রাক্তপাত হালাল হওয়ার দিন। আবূ সুফ্ইয়ান বললেন, হে 'আব্বাস! আজ হারাম ও তার অধিবাসীদের প্রতি তোমাদের করুণা প্রদর্শনেরও কত উত্তম দিন। তারপর আরেকটি দল আসল। এটি ছিল সবচেয়ে ছোট দল। আর এদের মধ্যেই ছিলেন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণ। যুবায়র ইবনুল আওয়াম (রাঃ)-এর হাতে ছিল নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পতাকা। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন আবূ সুফ্ইয়ানের সামনে দিয়ে অতিক্রম করছিলেন, তখন আবূ সুফ্ইয়ান বললেন, সা'দ ইবনু 'উবাদাহ কী বলছে আপনি তা কি জানেন? রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, সে কী বলেছে? আবূ সুফ্ইয়ান বললেন, সে এ রকম বলেছে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, সা'দ ঠিক বলেনি বরং আজ এমন একটি দিন যে দিন আল্লাহ কা'বাকে মর্যাদায় সমুন্নত করবেন। আজকের দিনে কা'বাকে গিলাফে আচ্ছাদিত করা হবে। বর্ণনাকারী বলেন, (মক্কায়) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাজুন নামক স্থানে তাঁর পতাকা স্থাপনের নির্দেশ দেন। বর্ণনাকারী উরওয়া নাফি' ইবনু যুবায়র ইবনু মুত্ঈম 'আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি যুবায়র ইবনু আওয়াম (রাঃ)-কে (মাক্কাহ বিজয়ের পর একদা) বললেন, হে আবূ 'আবদুল্লাহ! রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনাকে এ জায়গায়ই পতাকা স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। 'উরওয়াহ (রাঃ) আরো বলেন, সে দিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খালিদ ইবনু ওয়ালীদকে মক্কার উঁচু এলাকা কাদার দিক থেকে প্রবেশ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। আর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কুদার দিক দিয়ে প্রবেশ করেছিলেন। সেদিন খালিদ ইবনু ওয়ালীদের অশ্বারোহী সৈন্যদের মধ্য থেকে হুবায়শ ইবনুল আশআর এবং কুরয ইবনু জাবির ফিহ্রী (রাঃ)-এ দু'জন শহীদ হয়েছিলেন। [২৯৭৬] (আ.প্র. ৩৯৪৫, ই.ফা. ৩৯৪৯)
হিশামের পিতা ['উরওয়াহ ইবনু যুবায়র (রাঃ)] থেকে বর্নিতঃ
মাক্কাহ বিজয়ের বছর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (মাক্কাহ অভিমুখে) রওয়ানা করেছেন। এ সংবাদ কুরাইশদের কাছে পৌঁছালে আবূ সুফ্ইয়ান ইবনু হার্ব, হাকীম ইবনু হিযাম এবং বুদাইল ইবনু ওয়ারকা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সংবাদ জানার জন্য রাতের বেলা সামনের দিকে অগ্রসর হয়ে (মক্কার অদূরে) মাররুয জাহ্রান নামক স্থান পর্যন্ত এসে পৌঁছালে তারা আরাফার ময়দানে প্রজ্জ্বলিত আলোর মতো অসংখ্য আগুন দেখতে পেল। আবূ সুফ্ইয়ান বলে উঠল, ঠিক আরাফাহ্র ময়দানে প্রজ্জ্বলিত আলোর মতো এ সব কিসের আলো? বুদাইল ইবনু ওয়ারকা উত্তর করল, এগুলো 'আমর গোত্রের (চুলার) আলো। আবূ সুফ্ইয়ান বলল, 'আমর গোত্রের লোক সংখ্যা এর চেয়ে অনেক কম। এমতাবস্থায় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কয়েকজন প্রহরী তাদেরকে দেখে ফেলল এবং কাছে গিয়ে তাদেরকে পাকড়াও করে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে নিয়ে এল। এ সময় আবূ সুফ্ইয়ান ইসলাম গ্রহণ করল। এরপর তিনি [রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)] যখন (সেনাবাহিনী সহ) রওয়ানা হলেন তখন 'আব্বাস (রাঃ)-কে বললেন, আবূ সুফ্ইয়ানকে পথের একটি সংকীর্ণ জায়গায় দাঁড় করাবে, যেন সে মুসলিমদের পুরো সেনাদলটি দেখতে পায়। তাই 'আব্বাস (রাঃ) তাকে যথাস্থানে থামিয়ে রাখলেন। আর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে আগমনকারী বিভিন্ন গোত্রের লোকজন আলাদা আলাদাভাবে খণ্ড দলে আবূ সুফইয়ানের স্মমুখ দিয়ে অতিক্রম করতে লাগল। (প্রথমে) একটি দল অতিক্রম করে গেল। আবূ সুফ্ইয়ান বললেন, হে 'আব্বাস (রাঃ) এরা কারা? 'আব্বাস (রাঃ) বললেন, এরা গিফার গোত্রের লোক। আবূ সুফ্ইয়ান বললেন, আমার এবং গিফার গোত্রের মধ্যে কোন যুদ্ধ-বিগ্রহ ছিল না। এরপর জুহাইনা গোত্রের লোকেরা অতিক্রম করে গেলেন, আবূ সুফ্ইয়ান অনুরূপ বললেন। তারপর সা'দ ইবনু হুযাইম গোত্র অতিক্রম করল, তখনো আবূ সুফ্ইয়ান অনুরূপ বললেন। তারপর সুলাইম গোত্র অতিক্রম করলেও আবূ সুফ্ইয়ান অনুরূপ বললেন। অবশেষে একটি বিরাট বাহিনী তার সামনে এল যে, এত বিরাট বাহিনী এ সময় তিনি আর দেখেননি। তাই জিজ্ঞেস করলেন, এরা কারা? 'আব্বাস (রাঃ) উত্তর দিলেন, এরাই আনসারবৃন্দ। সা'দ ইবনু 'উবাদাহ (রাঃ) তাঁদের দলপতি। তাঁর হাতেই রয়েছে তাঁদের পতাকা। সা'দ ইবনু 'উবাদাহ (রাঃ) বললেন, হে আবূ সুফইয়ান! আজকের দিন রক্তপাতের দিন, আজকের দিন কা'বার অভ্যন্তরে রাক্তপাত হালাল হওয়ার দিন। আবূ সুফ্ইয়ান বললেন, হে 'আব্বাস! আজ হারাম ও তার অধিবাসীদের প্রতি তোমাদের করুণা প্রদর্শনেরও কত উত্তম দিন। তারপর আরেকটি দল আসল। এটি ছিল সবচেয়ে ছোট দল। আর এদের মধ্যেই ছিলেন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণ। যুবায়র ইবনুল আওয়াম (রাঃ)-এর হাতে ছিল নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পতাকা। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন আবূ সুফ্ইয়ানের সামনে দিয়ে অতিক্রম করছিলেন, তখন আবূ সুফ্ইয়ান বললেন, সা'দ ইবনু 'উবাদাহ কী বলছে আপনি তা কি জানেন? রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, সে কী বলেছে? আবূ সুফ্ইয়ান বললেন, সে এ রকম বলেছে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, সা'দ ঠিক বলেনি বরং আজ এমন একটি দিন যে দিন আল্লাহ কা'বাকে মর্যাদায় সমুন্নত করবেন। আজকের দিনে কা'বাকে গিলাফে আচ্ছাদিত করা হবে। বর্ণনাকারী বলেন, (মক্কায়) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হাজুন নামক স্থানে তাঁর পতাকা স্থাপনের নির্দেশ দেন। বর্ণনাকারী উরওয়া নাফি' ইবনু যুবায়র ইবনু মুত্ঈম 'আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি যুবায়র ইবনু আওয়াম (রাঃ)-কে (মাক্কাহ বিজয়ের পর একদা) বললেন, হে আবূ 'আবদুল্লাহ! রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনাকে এ জায়গায়ই পতাকা স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। 'উরওয়াহ (রাঃ) আরো বলেন, সে দিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খালিদ ইবনু ওয়ালীদকে মক্কার উঁচু এলাকা কাদার দিক থেকে প্রবেশ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। আর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কুদার দিক দিয়ে প্রবেশ করেছিলেন। সেদিন খালিদ ইবনু ওয়ালীদের অশ্বারোহী সৈন্যদের মধ্য থেকে হুবায়শ ইবনুল আশআর এবং কুরয ইবনু জাবির ফিহ্রী (রাঃ)-এ দু'জন শহীদ হয়েছিলেন। [২৯৭৬] (আ.প্র. ৩৯৪৫, ই.ফা. ৩৯৪৯)
عبيد بن إسماعيل حدثنا أبو أسامة عن هشام عن أبيه قال لما سار رسول الله عام الفتح فبلغ ذلك قريشا خرج أبو سفيان بن حرب وحكيم بن حزام وبديل بن ورقاء يلتمسون الخبر عن رسول الله صلى الله عليه وسلم فأقبلوا يسيرون حتى أتوا مر الظهران فإذا هم بنيران كأنها نيران عرفة فقال أبو سفيان ما هذه لكأنها نيران عرفة فقال بديل بن ورقاء نيران بني عمرو فقال أبو سفيان عمرو أقل من ذلك فرآهم ناس من حرس رسول الله صلى الله عليه وسلم فأدركوهم فأخذوهم فأتوا بهم رسول الله صلى الله عليه وسلم فأسلم أبو سفيان فلما سار قال للعباس احبس أبا سفيان عند حطم الخيل حتى ينظر إلى المسلمين فحبسه العباس فجعلت القبائل تمر مع النبي صلى الله عليه وسلم تمر كتيبة كتيبة على أبي سفيان فمرت كتيبة قال يا عباس من هذه قال هذه غفار قال ما لي ولغفار ثم مرت جهينة قال مثل ذلك ثم مرت سعد بن هذيم فقال مثل ذلك ومرت سليم فقال مثل ذلك حتى أقبلت كتيبة لم ير مثلها قال من هذه قال هؤلاء الأنصار عليهم سعد بن عبادة معه الراية فقال سعد بن عبادة يا أبا سفيان اليوم يوم الملحمة اليوم تستحل الكعبة فقال أبو سفيان يا عباس حبذا يوم الذمار ثم جاءت كتيبة وهي أقل الكتائب فيهم رسول الله صلى الله عليه وسلم وأصحابه وراية النبي صلى الله عليه وسلم مع الزبير بن العوام فلما مر رسول الله صلى الله عليه وسلم بأبي سفيان قال ألم تعلم ما قال سعد بن عبادة قال ما قال قال كذا وكذا فقال كذب سعد ولكن هذا يوم يعظم الله فيه الكعبة ويوم تكسى فيه الكعبة قال وأمر رسول الله صلى الله عليه وسلم أن تركز رايته بالحجون قال عروة وأخبرني نافع بن جبير بن مطعم قال سمعت العباس يقول للزبير بن العوام يا أبا عبد الله ها هنا أمرك رسول الله صلى الله عليه وسلم أن تركز الراية قال وأمر رسول الله صلى الله عليه وسلم يومئذ خالد بن الوليد أن يدخل من أعلى مكة من كداء ودخل النبي صلى الله عليه وسلم من كدا فقتل من خيل خالد بن الوليد رضي الله عنه يومئذ رجلان حبيش بن الأشعر وكرز بن جابر الفهري.
সহিহ বুখারী ৪২৮৬
يحيى بن قزعة حدثنا مالك عن ابن شهاب عن أنس بن مالك رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم دخل مكة يوم الفتح وعلى رأسه المغفر فلما نزعه جاء رجل فقال ابن خطل متعلق بأستار الكعبة فقال اقتله قال مالك ولم يكن النبي صلى الله عليه وسلم فيما نرى والله أعلم يومئذ محرما.
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
মাক্কাহ বিজয়ের দিন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাথায় লোহার টুপি পরিহিত অবস্থায় মক্কায় প্রবেশ করেছেন। তিনি সবেমাত্র টুপি খুলেছেন এ সময় এক ব্যক্তি এসে বলল, ইবনু খাতাল কা'বার গিলাফ ধরে দাঁড়িয়ে আছে। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তাকে হত্যা কর। [৭০] ইমাম মালিক (রহঃ) বলেছেন, আমাদের ধারণামতে সেদিন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইহ্রাম অবস্থায় ছিলেন না। তবে আল্লাহ আমাদের চেয়ে ভাল জানেন। [১৮৪৬] (আ.প্র. ৩৯৫০, ই.ফা. ৩৯৫৪)
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
মাক্কাহ বিজয়ের দিন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাথায় লোহার টুপি পরিহিত অবস্থায় মক্কায় প্রবেশ করেছেন। তিনি সবেমাত্র টুপি খুলেছেন এ সময় এক ব্যক্তি এসে বলল, ইবনু খাতাল কা'বার গিলাফ ধরে দাঁড়িয়ে আছে। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তাকে হত্যা কর। [৭০] ইমাম মালিক (রহঃ) বলেছেন, আমাদের ধারণামতে সেদিন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইহ্রাম অবস্থায় ছিলেন না। তবে আল্লাহ আমাদের চেয়ে ভাল জানেন। [১৮৪৬] (আ.প্র. ৩৯৫০, ই.ফা. ৩৯৫৪)
يحيى بن قزعة حدثنا مالك عن ابن شهاب عن أنس بن مالك رضي الله عنه أن النبي صلى الله عليه وسلم دخل مكة يوم الفتح وعلى رأسه المغفر فلما نزعه جاء رجل فقال ابن خطل متعلق بأستار الكعبة فقال اقتله قال مالك ولم يكن النبي صلى الله عليه وسلم فيما نرى والله أعلم يومئذ محرما.
সহিহ বুখারী ৪২৮৮
إسحاق حدثنا عبد الصمد قال حدثني أبي حدثنا أيوب عن عكرمة عن ابن عباس رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لما قدم مكة أبى أن يدخل البيت وفيه الآلهة فأمر بها فأخرجت فأخرج صورة إبراهيم وإسماعيل في أيديهما من الأزلام فقال النبي صلى الله عليه وسلم قاتلهم الله لقد علموا ما استقسما بها قط ثم دخل البيت فكبر في نواحي البيت وخرج ولم يصل فيه تابعه معمر عن أيوب وقال وهيب حدثنا أيوب عن عكرمة عن النبي صلى الله عليه وسلم .
ইবনু 'আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কায় আগমন করার পর তৎক্ষনাৎ বাইতুল্লাহ্র ভিতরে প্রবেশ করা থেকে বিরত রইলেন, কেননা সে সময় বাইতুল্লাহর ভিতরে অনেক প্রতিমা স্থাপিত ছিল। প্রতিমাগুলো বের করে ফেলা হল। তখন ইব্রাহীম ও ইসমাঈল (আঃ)-এর মূর্তিও বেরিয়ে আসল। তাদের উভয়ের হাতে ছিল মুশরিকদের ভাগ্য নির্ণয়ের কয়েকটি তীর। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আল্লাহ তাদেরকে ধ্বংস করুন। তারা অবশ্যই জানত যে, ইব্রাহীম (আঃ) ও ইসমাঈল (আঃ) কক্ষনো তীর দিয়ে ভাগ্য নির্ণয় করেননি। এরপর তিনি বাইতুল্লাহ্র ভিতরে প্রবেশ করলেন। আর প্রত্যেক কোণায় কোণায় গিয়ে আল্লাহু আকবার ধ্বনি দিলেন এবং বেরিয়ে আসলেন। আর সেখানে সলাত আদায় করেননি। মা'মার (রহঃ) আইয়ুব (রহঃ) সূত্রে এবং ওয়াহায়ব (রহঃ) আইয়ুব (রহঃ)-এর মাধ্যমে 'ইকরামাহ (রাঃ) সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। [৩৯৮] (আ.প্র. ৩৯৫২, ই.ফা. ৩৯৫৬)
ইবনু 'আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কায় আগমন করার পর তৎক্ষনাৎ বাইতুল্লাহ্র ভিতরে প্রবেশ করা থেকে বিরত রইলেন, কেননা সে সময় বাইতুল্লাহর ভিতরে অনেক প্রতিমা স্থাপিত ছিল। প্রতিমাগুলো বের করে ফেলা হল। তখন ইব্রাহীম ও ইসমাঈল (আঃ)-এর মূর্তিও বেরিয়ে আসল। তাদের উভয়ের হাতে ছিল মুশরিকদের ভাগ্য নির্ণয়ের কয়েকটি তীর। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন, আল্লাহ তাদেরকে ধ্বংস করুন। তারা অবশ্যই জানত যে, ইব্রাহীম (আঃ) ও ইসমাঈল (আঃ) কক্ষনো তীর দিয়ে ভাগ্য নির্ণয় করেননি। এরপর তিনি বাইতুল্লাহ্র ভিতরে প্রবেশ করলেন। আর প্রত্যেক কোণায় কোণায় গিয়ে আল্লাহু আকবার ধ্বনি দিলেন এবং বেরিয়ে আসলেন। আর সেখানে সলাত আদায় করেননি। মা'মার (রহঃ) আইয়ুব (রহঃ) সূত্রে এবং ওয়াহায়ব (রহঃ) আইয়ুব (রহঃ)-এর মাধ্যমে 'ইকরামাহ (রাঃ) সূত্রে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। [৩৯৮] (আ.প্র. ৩৯৫২, ই.ফা. ৩৯৫৬)
إسحاق حدثنا عبد الصمد قال حدثني أبي حدثنا أيوب عن عكرمة عن ابن عباس رضي الله عنهما أن رسول الله صلى الله عليه وسلم لما قدم مكة أبى أن يدخل البيت وفيه الآلهة فأمر بها فأخرجت فأخرج صورة إبراهيم وإسماعيل في أيديهما من الأزلام فقال النبي صلى الله عليه وسلم قاتلهم الله لقد علموا ما استقسما بها قط ثم دخل البيت فكبر في نواحي البيت وخرج ولم يصل فيه تابعه معمر عن أيوب وقال وهيب حدثنا أيوب عن عكرمة عن النبي صلى الله عليه وسلم .