সহিহ বুখারী > ইদ্‌রীস (‘আঃ)-এর বিবরণ।

সহিহ বুখারী ৩৩৪২

قال عبدان أخبرنا عبد الله، أخبرنا يونس، عن الزهري، ح حدثنا أحمد بن صالح، حدثنا عنبسة، حدثنا يونس، عن ابن شهاب، قال قال أنس كان أبو ذر ـ رضى الله عنه ـ يحدث أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ‏"‏ فرج سقف بيتي وأنا بمكة، فنزل جبريل، ففرج صدري، ثم غسله بماء زمزم، ثم جاء بطست من ذهب ممتلئ حكمة وإيمانا فأفرغها في صدري، ثم أطبقه ثم أخذ بيدي، فعرج بي إلى السماء، فلما جاء إلى السماء الدنيا، قال جبريل لخازن السماء افتح‏.‏ قال من هذا قال هذا جبريل‏.‏ قال معك أحد قال معي محمد‏.‏ قال أرسل إليه قال نعم، فافتح‏.‏ فلما علونا السماء إذا رجل عن يمينه أسودة، وعن يساره أسودة، فإذا نظر قبل يمينه ضحك، وإذا نظر قبل شماله بكى فقال مرحبا بالنبي الصالح والابن الصالح‏.‏ قلت من هذا يا جبريل قال هذا آدم، وهذه الأسودة عن يمينه، وعن شماله نسم بنيه، فأهل اليمين منهم أهل الجنة، والأسودة التي عن شماله أهل النار، فإذا نظر قبل يمينه ضحك، وإذا نظر قبل شماله بكى، ثم عرج بي جبريل، حتى أتى السماء الثانية، فقال لخازنها افتح‏.‏ فقال له خازنها مثل ما قال الأول، ففتح ‏"‏‏.‏ قال أنس فذكر أنه وجد في السموات إدريس وموسى وعيسى وإبراهيم، ولم يثبت لي كيف منازلهم، غير أنه قد ذكر أنه وجد آدم في السماء الدنيا، وإبراهيم في السادسة‏.‏ وقال أنس فلما مر جبريل بإدريس‏.‏ قال مرحبا بالنبي الصالح والأخ الصالح‏.‏ فقلت من هذا قال هذا إدريس، ثم مررت بموسى فقال مرحبا بالنبي الصالح والأخ الصالح‏.‏ قلت من هذا قال هذا موسى‏.‏ ثم مررت بعيسى، فقال مرحبا بالنبي الصالح والأخ الصالح‏.‏ قلت من هذا قال عيسى‏.‏ ثم مررت بإبراهيم، فقال مرحبا بالنبي الصالح والابن الصالح‏.‏ قلت من هذا قال هذا إبراهيم‏.‏ قال وأخبرني ابن حزم أن ابن عباس وأبا حبة الأنصاري كانا يقولان قال النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ ثم عرج بي حتى ظهرت لمستوى أسمع صريف الأقلام ‏"‏‏.‏ قال ابن حزم وأنس بن مالك ـ رضى الله عنهما ـ قال النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ ففرض الله على خمسين صلاة، فرجعت بذلك حتى أمر بموسى، فقال موسى ما الذي فرض على أمتك قلت فرض عليهم خمسين صلاة‏.‏ قال فراجع ربك، فإن أمتك لا تطيق ذلك‏.‏ فرجعت فراجعت ربي فوضع شطرها، فرجعت إلى موسى، فقال راجع ربك، فذكر مثله، فوضع شطرها، فرجعت إلى موسى، فأخبرته فقال راجع ربك، فإن أمتك لا تطيق ذلك، فرجعت فراجعت ربي فقال هي خمس، وهى خمسون، لا يبدل القول لدى‏.‏ فرجعت إلى موسى، فقال راجع ربك‏.‏ فقلت قد استحييت من ربي، ثم انطلق، حتى أتى السدرة المنتهى، فغشيها ألوان لا أدري ما هي، ثم أدخلت ‏{‏الجنة‏}‏ فإذا فيها جنابذ اللؤلؤ وإذا ترابها المسك ‏"‏‏.‏

আনাস ইব্‌নু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আবূ যার (রাঃ) হাদীস বর্ণনা করতেন যে, রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, (লাইলাতুল মি’রাজে) আমার ঘরের ছাদ উন্মুক্ত করা হয়েছিল। তখন আমি মক্কায় ছিলাম। অতঃপর জিব্‌রাঈল (‘আঃ) অবতরণ করলেন এবং আমার বক্ষ বিদীর্ণ করলেন। অতঃপর তিনি যমযমের পানি দ্বারা তা ধুলেন। এরপর হিক্‌মত ও ঈমান (জ্ঞান ও বিশ্বাস) দ্বারা পূর্ণ একখানা সোনার তশ্‌তরি নিয়ে আসেন এবং তা আমার বক্ষে ঢেলে দিলেন। অতঃপর আমার বক্ষকে আগের মত মিলিয়ে দিলেন। এরপর তিনি আমার হাত ধরলেন এবং আমাকে আকাশের দিকে উঠিয়ে নিলেন। অতঃপর যখন দুনিয়ার নিকটবর্তী আকাশে পৌঁছলেন, তখন জিবরাঈল (‘আঃ) আকাশের দ্বাররক্ষীকে বললেন, দরজা খুলুন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কে? জবাব দিলেন, আমি জিবরাঈল। দ্বাররক্ষী বললেন, আপনার সঙ্গে কি আর কেউ আছেন? তিনি বললেন, আমার সঙ্গে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আছেন। দ্বাররক্ষী জিজ্ঞেস করলেন, তাঁকে কি ডাকা হয়েছে? বললেন, হ্যাঁ। অতঃপর দরজা খোলা হল। যখন আমরা আকাশের উপরে আরোহণ করলাম, হঠাৎ দেখলাম এক ব্যক্তি যার ডানে একদল লোক আর তাঁর বামেও একদল লোক। যখন তিনি তাঁর ডান দিকে তাকান তখন হাসতে থাকেন আর যখন তাঁর বাম দিকে তাকান তখন কাঁদতে থাকেন। (তিনি আমাকে দেখে) বললেন, মারহাবা! নেক নবী‎ ও নেক সন্তান। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে জিবরাঈল! ইনি কে? তিনি জবাব দিলেন, ইনি আদম (‘আঃ) আর তাঁর ডানের ও বামের এ লোকগুলো হলো তাঁর সন্তান। এদের মধ্যে ডানদিকের লোকগুলো জান্নাতী আর বামদিকের লোকগুলো জাহান্নামী। অতএব যখন তিনি ডানদিকে তাকান তখন হাসেন আর যখন বামদিকে তাকান তখন কাঁদেন। অতঃপর আমাকে নিয়ে জিবরাঈল ( আঃ) আরো উপরে উঠলেন। এমনকি দ্বিতীয় আকাশের দ্বারে এসে গেলেন। তখন তিনি এ আকাশের দ্বাররক্ষীকে বললেন, দরজা খুলুন! দ্বাররক্ষী তাঁকে প্রথম আকাশের দ্বাররক্ষী যেরূপ বলেছিলেন, তেমনি বলল। অতঃপর তিনি দরজা খুলে দিলেন। আনাস (রাঃ) বলেন, অতঃপর আবূ যার (রাঃ) উল্লেখ করেছেন যে, নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আকাশসমূহে ইদ্‌রীস, মূসা, ‘ঈসা এবং ইবরাহীম (‘আঃ)-এর সাক্ষাৎ পেয়েছেন। তাঁদের কার অবস্থান কোন্‌ আকাশে তিনি আমার নিকট তা বর্ণনা করেননি। তবে তিনি এটা উল্লেখ করেছেন যে, তিনি নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুনিয়ার নিকটবর্তী আকাশে আদম (‘আঃ)-কে এবং যষ্ঠ আকাশে ইবরাহীম (‘আঃ)-কে দেখতে পেয়েছেন। আনাস (রাঃ) বলেন, জিবরাঈল (‘আঃ) যখন নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সহ ইদ্‌রীস (‘আঃ)-এর পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন, তখন তিনি [ইদ্‌রীস (‘আঃ)] বলেছিলেন, হে নেক নবী‎ এবং নেক ভাই! আপনাকে মারহাবা। [নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন] আমি জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে? তিনি (জিবরাঈল) জবাব দিলেন, ইনি ইদ্‌রীস (‘আঃ)! অতঃপর মূসা (‘আঃ)-এর নিকট দিয়ে অতিক্রম করলাম। তিনি বললেন, মারহাবা! হে নেক নবী‎ এবং নেক ভাই। তখন আমি জিজ্ঞেস করলাম ইনি কে? তিনি [জিবরাঈল (‘আঃ)] বললেন, ইনি মূসা (‘আঃ)। অতঃপর ‘ঈসা (‘আঃ)-এর পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম। তিনি বললেন, মারহাবা! হে নেক নবী‎ এবং নেক ভাই। তখন আমি জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে? তিনি [জিবরাঈল (‘আঃ)] বললেন, ইনি ‘ঈসা (‘আঃ)। অতঃপর ইবরাহীম (‘আঃ)-এর পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম। তিনি বললেন, মারহাবা। হে নেক নবী‎ এবং নেক সন্তান! আমি জানতে চাইলাম, ইনি কে? তিনি [জিবরাঈল (‘আঃ)] বললেন, ইনি ইবরাহীম (‘আঃ)। ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেন, আমাকে ইবনু হাযম (রহঃ) জানিয়েছেন যে, ইবনু ‘আব্বাস ও আবূ ইয়াহয়্যা আনসারী (রাঃ) বলতেন, নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, অতঃপর জিবরাঈল আমাকে ঊর্ধ্বে নিয়ে গেলেন। শেষ পর্যন্ত আমি একটি সমতল স্থানে গিয়ে পৌঁছালাম। সেখান হতে কলমসমূহের খসখস শব্দ শুনছিলাম। ইবনু হাযম (রহঃ) এবং আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বর্ণনা করেছেন। নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তখন আল্লাহ আমার উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফর্‌য‎ করেছেন। অতঃপর আমি এ নির্দেশ নিয়ে ফিরে আসলাম। যখন মূসা (‘আঃ)-এর পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলাম, তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আপনার রব আপনার উম্মত এর উপর কী ফর্‌য‎ করেছেন? আমি বললাম, তাদের উপর পঞ্চাশ উয়াক্ত সালাত ফর্‌য‎ করা হয়েছে। তিনি বললেন, পুনরায় আপনার রবের নিকট ফিরে যান। কেননা আপনার উম্মত তা পালন করার সামর্থ্য রাখে না। তখন ফিরে গেলাম এবং আমার রবের নিকট তা কমাবার জন্য আবেদন করলাম। তিনি তার অর্ধেক কমিয়ে দিলেন। আমি মূসা (‘আঃ)-এর নিকট ফিরে আসলাম। তিনি বললেন, আপনার রবের নিকট গিয়ে পুনরায় কমাবার আবেদন করুন এবং তিনি [নবী(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)] পূর্বের অনুরূপ কথা আবার উল্লেখ করলেন। এবার তিনি (আল্লাহ) তার অর্ধেক কমিয়ে দিলেন। আবার আমি মূসা (‘আঃ)-এর নিকট আসলাম এবং তিনি পূর্বের মত বললেন। আমি তা করলাম। তখন আল্লাহ তার এক অংশ মাফ করে দিলেন। আমি পুনরায় মূসা (‘আঃ)-এর নিকট আসলাম এবং তাঁকে জানালাম। তখন তিনি বললেন, আপনার রবের নিকট ফিরে আরো কমাবার আরয করুন। কেননা আপনার উম্মতের তা পালন করার সামর্থ্য থাকবে না। আমি আবার ফিরে গেলাম এবং আমার রবের নিকট তা কমাবার আবেদন করলাম। তিনি বললেন, এ পাঁচ ওয়াক্ত সালাত বাকী রইল। আর তা সাওয়াবের ক্ষেত্রে পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাতের সমান হবে। আমার কথার পরিবর্তন হয় না। অতঃপর আমি মূসা (‘আঃ)-এর নিকট ফিরে আসলাম। তিনি এবারও বললেন, আপনার রবের নিকট গিয়ে আবেদন করুন। আমি বললাম, এবার আমার রবের সম্মুখীন হতে আমি লজ্জাবোধ করছি। এবার জিবরাঈল (‘আঃ) চললেন এবং অবশেষে আমাকে সাথে নিয়ে সিদ্‌রাতুল মুন্‌তাহা পর্যন্ত নিয়ে গেলেন। দেখালাম তা এমন চমৎকার রঙে পরিপূর্ণ যা বর্ণনা করার ক্ষমতা আমার নেই। অতঃপর আমাকে জান্নাতে প্রবিষ্ট করানো হল। দেখলাম এর ইট মোতির তৈরী আর এর মাটি মিস্‌ক বা কস্তুরীর মত সুগন্ধময়।

আনাস ইব্‌নু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আবূ যার (রাঃ) হাদীস বর্ণনা করতেন যে, রসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, (লাইলাতুল মি’রাজে) আমার ঘরের ছাদ উন্মুক্ত করা হয়েছিল। তখন আমি মক্কায় ছিলাম। অতঃপর জিব্‌রাঈল (‘আঃ) অবতরণ করলেন এবং আমার বক্ষ বিদীর্ণ করলেন। অতঃপর তিনি যমযমের পানি দ্বারা তা ধুলেন। এরপর হিক্‌মত ও ঈমান (জ্ঞান ও বিশ্বাস) দ্বারা পূর্ণ একখানা সোনার তশ্‌তরি নিয়ে আসেন এবং তা আমার বক্ষে ঢেলে দিলেন। অতঃপর আমার বক্ষকে আগের মত মিলিয়ে দিলেন। এরপর তিনি আমার হাত ধরলেন এবং আমাকে আকাশের দিকে উঠিয়ে নিলেন। অতঃপর যখন দুনিয়ার নিকটবর্তী আকাশে পৌঁছলেন, তখন জিবরাঈল (‘আঃ) আকাশের দ্বাররক্ষীকে বললেন, দরজা খুলুন। তিনি জিজ্ঞেস করলেন, কে? জবাব দিলেন, আমি জিবরাঈল। দ্বাররক্ষী বললেন, আপনার সঙ্গে কি আর কেউ আছেন? তিনি বললেন, আমার সঙ্গে মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আছেন। দ্বাররক্ষী জিজ্ঞেস করলেন, তাঁকে কি ডাকা হয়েছে? বললেন, হ্যাঁ। অতঃপর দরজা খোলা হল। যখন আমরা আকাশের উপরে আরোহণ করলাম, হঠাৎ দেখলাম এক ব্যক্তি যার ডানে একদল লোক আর তাঁর বামেও একদল লোক। যখন তিনি তাঁর ডান দিকে তাকান তখন হাসতে থাকেন আর যখন তাঁর বাম দিকে তাকান তখন কাঁদতে থাকেন। (তিনি আমাকে দেখে) বললেন, মারহাবা! নেক নবী‎ ও নেক সন্তান। আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে জিবরাঈল! ইনি কে? তিনি জবাব দিলেন, ইনি আদম (‘আঃ) আর তাঁর ডানের ও বামের এ লোকগুলো হলো তাঁর সন্তান। এদের মধ্যে ডানদিকের লোকগুলো জান্নাতী আর বামদিকের লোকগুলো জাহান্নামী। অতএব যখন তিনি ডানদিকে তাকান তখন হাসেন আর যখন বামদিকে তাকান তখন কাঁদেন। অতঃপর আমাকে নিয়ে জিবরাঈল ( আঃ) আরো উপরে উঠলেন। এমনকি দ্বিতীয় আকাশের দ্বারে এসে গেলেন। তখন তিনি এ আকাশের দ্বাররক্ষীকে বললেন, দরজা খুলুন! দ্বাররক্ষী তাঁকে প্রথম আকাশের দ্বাররক্ষী যেরূপ বলেছিলেন, তেমনি বলল। অতঃপর তিনি দরজা খুলে দিলেন। আনাস (রাঃ) বলেন, অতঃপর আবূ যার (রাঃ) উল্লেখ করেছেন যে, নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আকাশসমূহে ইদ্‌রীস, মূসা, ‘ঈসা এবং ইবরাহীম (‘আঃ)-এর সাক্ষাৎ পেয়েছেন। তাঁদের কার অবস্থান কোন্‌ আকাশে তিনি আমার নিকট তা বর্ণনা করেননি। তবে তিনি এটা উল্লেখ করেছেন যে, তিনি নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দুনিয়ার নিকটবর্তী আকাশে আদম (‘আঃ)-কে এবং যষ্ঠ আকাশে ইবরাহীম (‘আঃ)-কে দেখতে পেয়েছেন। আনাস (রাঃ) বলেন, জিবরাঈল (‘আঃ) যখন নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সহ ইদ্‌রীস (‘আঃ)-এর পাশ দিয়ে অতিক্রম করলেন, তখন তিনি [ইদ্‌রীস (‘আঃ)] বলেছিলেন, হে নেক নবী‎ এবং নেক ভাই! আপনাকে মারহাবা। [নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন] আমি জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে? তিনি (জিবরাঈল) জবাব দিলেন, ইনি ইদ্‌রীস (‘আঃ)! অতঃপর মূসা (‘আঃ)-এর নিকট দিয়ে অতিক্রম করলাম। তিনি বললেন, মারহাবা! হে নেক নবী‎ এবং নেক ভাই। তখন আমি জিজ্ঞেস করলাম ইনি কে? তিনি [জিবরাঈল (‘আঃ)] বললেন, ইনি মূসা (‘আঃ)। অতঃপর ‘ঈসা (‘আঃ)-এর পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম। তিনি বললেন, মারহাবা! হে নেক নবী‎ এবং নেক ভাই। তখন আমি জিজ্ঞেস করলাম, ইনি কে? তিনি [জিবরাঈল (‘আঃ)] বললেন, ইনি ‘ঈসা (‘আঃ)। অতঃপর ইবরাহীম (‘আঃ)-এর পাশ দিয়ে অতিক্রম করলাম। তিনি বললেন, মারহাবা। হে নেক নবী‎ এবং নেক সন্তান! আমি জানতে চাইলাম, ইনি কে? তিনি [জিবরাঈল (‘আঃ)] বললেন, ইনি ইবরাহীম (‘আঃ)। ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেন, আমাকে ইবনু হাযম (রহঃ) জানিয়েছেন যে, ইবনু ‘আব্বাস ও আবূ ইয়াহয়্যা আনসারী (রাঃ) বলতেন, নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, অতঃপর জিবরাঈল আমাকে ঊর্ধ্বে নিয়ে গেলেন। শেষ পর্যন্ত আমি একটি সমতল স্থানে গিয়ে পৌঁছালাম। সেখান হতে কলমসমূহের খসখস শব্দ শুনছিলাম। ইবনু হাযম (রহঃ) এবং আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) বর্ণনা করেছেন। নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, তখন আল্লাহ আমার উপর পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাত ফর্‌য‎ করেছেন। অতঃপর আমি এ নির্দেশ নিয়ে ফিরে আসলাম। যখন মূসা (‘আঃ)-এর পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলাম, তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, আপনার রব আপনার উম্মত এর উপর কী ফর্‌য‎ করেছেন? আমি বললাম, তাদের উপর পঞ্চাশ উয়াক্ত সালাত ফর্‌য‎ করা হয়েছে। তিনি বললেন, পুনরায় আপনার রবের নিকট ফিরে যান। কেননা আপনার উম্মত তা পালন করার সামর্থ্য রাখে না। তখন ফিরে গেলাম এবং আমার রবের নিকট তা কমাবার জন্য আবেদন করলাম। তিনি তার অর্ধেক কমিয়ে দিলেন। আমি মূসা (‘আঃ)-এর নিকট ফিরে আসলাম। তিনি বললেন, আপনার রবের নিকট গিয়ে পুনরায় কমাবার আবেদন করুন এবং তিনি [নবী(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)] পূর্বের অনুরূপ কথা আবার উল্লেখ করলেন। এবার তিনি (আল্লাহ) তার অর্ধেক কমিয়ে দিলেন। আবার আমি মূসা (‘আঃ)-এর নিকট আসলাম এবং তিনি পূর্বের মত বললেন। আমি তা করলাম। তখন আল্লাহ তার এক অংশ মাফ করে দিলেন। আমি পুনরায় মূসা (‘আঃ)-এর নিকট আসলাম এবং তাঁকে জানালাম। তখন তিনি বললেন, আপনার রবের নিকট ফিরে আরো কমাবার আরয করুন। কেননা আপনার উম্মতের তা পালন করার সামর্থ্য থাকবে না। আমি আবার ফিরে গেলাম এবং আমার রবের নিকট তা কমাবার আবেদন করলাম। তিনি বললেন, এ পাঁচ ওয়াক্ত সালাত বাকী রইল। আর তা সাওয়াবের ক্ষেত্রে পঞ্চাশ ওয়াক্ত সালাতের সমান হবে। আমার কথার পরিবর্তন হয় না। অতঃপর আমি মূসা (‘আঃ)-এর নিকট ফিরে আসলাম। তিনি এবারও বললেন, আপনার রবের নিকট গিয়ে আবেদন করুন। আমি বললাম, এবার আমার রবের সম্মুখীন হতে আমি লজ্জাবোধ করছি। এবার জিবরাঈল (‘আঃ) চললেন এবং অবশেষে আমাকে সাথে নিয়ে সিদ্‌রাতুল মুন্‌তাহা পর্যন্ত নিয়ে গেলেন। দেখালাম তা এমন চমৎকার রঙে পরিপূর্ণ যা বর্ণনা করার ক্ষমতা আমার নেই। অতঃপর আমাকে জান্নাতে প্রবিষ্ট করানো হল। দেখলাম এর ইট মোতির তৈরী আর এর মাটি মিস্‌ক বা কস্তুরীর মত সুগন্ধময়।

قال عبدان أخبرنا عبد الله، أخبرنا يونس، عن الزهري، ح حدثنا أحمد بن صالح، حدثنا عنبسة، حدثنا يونس، عن ابن شهاب، قال قال أنس كان أبو ذر ـ رضى الله عنه ـ يحدث أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ‏"‏ فرج سقف بيتي وأنا بمكة، فنزل جبريل، ففرج صدري، ثم غسله بماء زمزم، ثم جاء بطست من ذهب ممتلئ حكمة وإيمانا فأفرغها في صدري، ثم أطبقه ثم أخذ بيدي، فعرج بي إلى السماء، فلما جاء إلى السماء الدنيا، قال جبريل لخازن السماء افتح‏.‏ قال من هذا قال هذا جبريل‏.‏ قال معك أحد قال معي محمد‏.‏ قال أرسل إليه قال نعم، فافتح‏.‏ فلما علونا السماء إذا رجل عن يمينه أسودة، وعن يساره أسودة، فإذا نظر قبل يمينه ضحك، وإذا نظر قبل شماله بكى فقال مرحبا بالنبي الصالح والابن الصالح‏.‏ قلت من هذا يا جبريل قال هذا آدم، وهذه الأسودة عن يمينه، وعن شماله نسم بنيه، فأهل اليمين منهم أهل الجنة، والأسودة التي عن شماله أهل النار، فإذا نظر قبل يمينه ضحك، وإذا نظر قبل شماله بكى، ثم عرج بي جبريل، حتى أتى السماء الثانية، فقال لخازنها افتح‏.‏ فقال له خازنها مثل ما قال الأول، ففتح ‏"‏‏.‏ قال أنس فذكر أنه وجد في السموات إدريس وموسى وعيسى وإبراهيم، ولم يثبت لي كيف منازلهم، غير أنه قد ذكر أنه وجد آدم في السماء الدنيا، وإبراهيم في السادسة‏.‏ وقال أنس فلما مر جبريل بإدريس‏.‏ قال مرحبا بالنبي الصالح والأخ الصالح‏.‏ فقلت من هذا قال هذا إدريس، ثم مررت بموسى فقال مرحبا بالنبي الصالح والأخ الصالح‏.‏ قلت من هذا قال هذا موسى‏.‏ ثم مررت بعيسى، فقال مرحبا بالنبي الصالح والأخ الصالح‏.‏ قلت من هذا قال عيسى‏.‏ ثم مررت بإبراهيم، فقال مرحبا بالنبي الصالح والابن الصالح‏.‏ قلت من هذا قال هذا إبراهيم‏.‏ قال وأخبرني ابن حزم أن ابن عباس وأبا حبة الأنصاري كانا يقولان قال النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ ثم عرج بي حتى ظهرت لمستوى أسمع صريف الأقلام ‏"‏‏.‏ قال ابن حزم وأنس بن مالك ـ رضى الله عنهما ـ قال النبي صلى الله عليه وسلم ‏"‏ ففرض الله على خمسين صلاة، فرجعت بذلك حتى أمر بموسى، فقال موسى ما الذي فرض على أمتك قلت فرض عليهم خمسين صلاة‏.‏ قال فراجع ربك، فإن أمتك لا تطيق ذلك‏.‏ فرجعت فراجعت ربي فوضع شطرها، فرجعت إلى موسى، فقال راجع ربك، فذكر مثله، فوضع شطرها، فرجعت إلى موسى، فأخبرته فقال راجع ربك، فإن أمتك لا تطيق ذلك، فرجعت فراجعت ربي فقال هي خمس، وهى خمسون، لا يبدل القول لدى‏.‏ فرجعت إلى موسى، فقال راجع ربك‏.‏ فقلت قد استحييت من ربي، ثم انطلق، حتى أتى السدرة المنتهى، فغشيها ألوان لا أدري ما هي، ثم أدخلت ‏{‏الجنة‏}‏ فإذا فيها جنابذ اللؤلؤ وإذا ترابها المسك ‏"‏‏.‏


সহিহ বুখারী > (মহান আল্লাহর বাণীঃ)

সহিহ বুখারী ৩৩৪৩

حدثني محمد بن عرعرة، حدثنا شعبة، عن الحكم، عن مجاهد، عن ابن عباس ـ رضى الله عنهما ـ عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ‏ "‏ نصرت بالصبا، وأهلكت عاد بالدبور ‏"‏‏.‏

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, আমাকে ভোরের বায়ু দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে আর আদ জাতিকে দাবুর বা পশ্চিমের বায়ু দ্বারা ধ্বংস করা হয়েছে।

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, আমাকে ভোরের বায়ু দ্বারা সাহায্য করা হয়েছে আর আদ জাতিকে দাবুর বা পশ্চিমের বায়ু দ্বারা ধ্বংস করা হয়েছে।

حدثني محمد بن عرعرة، حدثنا شعبة، عن الحكم، عن مجاهد، عن ابن عباس ـ رضى الله عنهما ـ عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ‏ "‏ نصرت بالصبا، وأهلكت عاد بالدبور ‏"‏‏.‏


সহিহ বুখারী ৩৩৪৫

حدثنا خالد بن يزيد، حدثنا إسرائيل، عن أبي إسحاق، عن الأسود، قال سمعت عبد الله، قال سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقرأ ‏{‏فهل من مدكر ‏}‏‏.‏

‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে (আদ জাতির ঘটনা বর্ণনায়) ------------------------------ এ আয়াতটি পড়তে শুনেছি।

‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে (আদ জাতির ঘটনা বর্ণনায়) ------------------------------ এ আয়াতটি পড়তে শুনেছি।

حدثنا خالد بن يزيد، حدثنا إسرائيل، عن أبي إسحاق، عن الأسود، قال سمعت عبد الله، قال سمعت النبي صلى الله عليه وسلم يقرأ ‏{‏فهل من مدكر ‏}‏‏.‏


সহিহ বুখারী ৩৩৪৪

قال وقال ابن كثير عن سفيان، عن أبيه، عن ابن أبي نعم، عن أبي سعيد ـ رضى الله عنه ـ قال بعث علي ـ رضى الله عنه ـ إلى النبي صلى الله عليه وسلم بذهيبة فقسمها بين الأربعة الأقرع بن حابس الحنظلي ثم المجاشعي، وعيينة بن بدر الفزاري، وزيد الطائي ثم أحد بني نبهان، وعلقمة بن علاثة العامري ثم أحد بني كلاب، فغضبت قريش والأنصار، قالوا يعطي صناديد أهل نجد ويدعنا‏.‏ قال ‏"‏ إنما أتألفهم ‏"‏‏.‏ فأقبل رجل غائر العينين مشرف الوجنتين، ناتئ الجبين، كث اللحية، محلوق فقال اتق الله يا محمد‏.‏ فقال ‏"‏ من يطع الله إذا عصيت، أيأمنني الله على أهل الأرض فلا تأمنوني ‏"‏‏.‏ فسأله رجل قتله ـ أحسبه خالد بن الوليد ـ فمنعه، فلما ولى قال ‏"‏ إن من ضئضئ هذا ـ أو في عقب هذا ـ قوم يقرءون القرآن، لا يجاوز حناجرهم، يمرقون من الدين مروق السهم من الرمية، يقتلون أهل الإسلام، ويدعون أهل الأوثان، لئن أنا أدركتهم لأقتلنهم قتل عاد ‏"‏‏.‏

আবূ সা’ঈদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

‘আলী (রাঃ) নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট কিছু স্বর্ণের টুকরো পাঠালেন। তিনি তা চার ব্যাক্তির মাঝে বণ্টন করে দিলেন। (১) আল-আকরা ইবনু হান্‌যালী যিনি মাজাশেয়ী গোত্রের ছিলেন। (২) উআইনা ইবনু বদর ফাযারী। (৩) যায়দ ত্বায়ী, যিনি বনী নাবহান গোত্রের ছিলেন। (৪) ‘আলকামাহ ইবনু উলাসা আমেরী, যিনি বনী কিলাব গোত্রের ছিলেন। এতে কুরাইশ ও আনসারগণ অসন্তুষ্ট হলেন এবং বলতে লাগলেন, নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নাজদবাসী নেতৃবৃন্দকে দিচ্ছেন আর আমাদেরকে দিচ্ছেন না। নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমি তো তাদেরকে আকৃষ্ট করার জন্য এমন মনোরঞ্জন করছি। তখন এক ব্যক্তি সামনে এগিয়ে আসল, যার চোখ দু’টি কোটারাগত, গন্ডদ্বয় ঝুলে পড়া; কপাল উঁচু, ঘন দাড়ি এবং মাথা মোড়ানো ছিল। সে বলল, হে মুহাম্মাদ! আল্লাহকে ভয় করুন। তখন তিনি বললেন, আমিই যদি নাফারমানী করি তাহলে আল্লাহর আনুগত্য করবে কে? আল্লাহ আমাকে পৃথিবীবাসীর উপর আমানতদার বানিয়েছেন আর তোমরা আমাকে আমানতদার মনে করছ না। তখন এক ব্যক্তি তাঁর নিকট তাকে হত্যা করার অনুমতি চাইল। [আবূ সা’ঈদ (রাঃ) বলেন] আমি তাকে খালিদ ইবনু ওয়ালিদ (রাঃ) বলে ধারণা করছি। কিন্তু নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে নিষেধ করলেন। অতঃপর অভিযোগকারী লোকটি যখন ফিরে গেল, তখন নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এ ব্যাক্তির বংশ হতে বা এ ব্যক্তির পরে এমন কিছু সংখ্যক লোক হবে তারা কুরআন পড়বে কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। দ্বীন হতে তারা এমনভাবে বেরিয়ে পড়বে যেমনি ধনুক হতে তীর বেরিয়ে যায়। তারা ইসলামের অনুসারীদেরকে (মুসলিমদেরকে) হত্যা করবে আর মূর্তি পূজারীদেরকে হত্যা করা হতে বাদ দেবে। আমি যদি তাদের পেতাম তাহলে তাদেরকে আদ জাতির মত অবশ্যই হত্যা করতাম।

আবূ সা’ঈদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

‘আলী (রাঃ) নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট কিছু স্বর্ণের টুকরো পাঠালেন। তিনি তা চার ব্যাক্তির মাঝে বণ্টন করে দিলেন। (১) আল-আকরা ইবনু হান্‌যালী যিনি মাজাশেয়ী গোত্রের ছিলেন। (২) উআইনা ইবনু বদর ফাযারী। (৩) যায়দ ত্বায়ী, যিনি বনী নাবহান গোত্রের ছিলেন। (৪) ‘আলকামাহ ইবনু উলাসা আমেরী, যিনি বনী কিলাব গোত্রের ছিলেন। এতে কুরাইশ ও আনসারগণ অসন্তুষ্ট হলেন এবং বলতে লাগলেন, নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নাজদবাসী নেতৃবৃন্দকে দিচ্ছেন আর আমাদেরকে দিচ্ছেন না। নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমি তো তাদেরকে আকৃষ্ট করার জন্য এমন মনোরঞ্জন করছি। তখন এক ব্যক্তি সামনে এগিয়ে আসল, যার চোখ দু’টি কোটারাগত, গন্ডদ্বয় ঝুলে পড়া; কপাল উঁচু, ঘন দাড়ি এবং মাথা মোড়ানো ছিল। সে বলল, হে মুহাম্মাদ! আল্লাহকে ভয় করুন। তখন তিনি বললেন, আমিই যদি নাফারমানী করি তাহলে আল্লাহর আনুগত্য করবে কে? আল্লাহ আমাকে পৃথিবীবাসীর উপর আমানতদার বানিয়েছেন আর তোমরা আমাকে আমানতদার মনে করছ না। তখন এক ব্যক্তি তাঁর নিকট তাকে হত্যা করার অনুমতি চাইল। [আবূ সা’ঈদ (রাঃ) বলেন] আমি তাকে খালিদ ইবনু ওয়ালিদ (রাঃ) বলে ধারণা করছি। কিন্তু নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে নিষেধ করলেন। অতঃপর অভিযোগকারী লোকটি যখন ফিরে গেল, তখন নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, এ ব্যাক্তির বংশ হতে বা এ ব্যক্তির পরে এমন কিছু সংখ্যক লোক হবে তারা কুরআন পড়বে কিন্তু তা তাদের কণ্ঠনালী অতিক্রম করবে না। দ্বীন হতে তারা এমনভাবে বেরিয়ে পড়বে যেমনি ধনুক হতে তীর বেরিয়ে যায়। তারা ইসলামের অনুসারীদেরকে (মুসলিমদেরকে) হত্যা করবে আর মূর্তি পূজারীদেরকে হত্যা করা হতে বাদ দেবে। আমি যদি তাদের পেতাম তাহলে তাদেরকে আদ জাতির মত অবশ্যই হত্যা করতাম।

قال وقال ابن كثير عن سفيان، عن أبيه، عن ابن أبي نعم، عن أبي سعيد ـ رضى الله عنه ـ قال بعث علي ـ رضى الله عنه ـ إلى النبي صلى الله عليه وسلم بذهيبة فقسمها بين الأربعة الأقرع بن حابس الحنظلي ثم المجاشعي، وعيينة بن بدر الفزاري، وزيد الطائي ثم أحد بني نبهان، وعلقمة بن علاثة العامري ثم أحد بني كلاب، فغضبت قريش والأنصار، قالوا يعطي صناديد أهل نجد ويدعنا‏.‏ قال ‏"‏ إنما أتألفهم ‏"‏‏.‏ فأقبل رجل غائر العينين مشرف الوجنتين، ناتئ الجبين، كث اللحية، محلوق فقال اتق الله يا محمد‏.‏ فقال ‏"‏ من يطع الله إذا عصيت، أيأمنني الله على أهل الأرض فلا تأمنوني ‏"‏‏.‏ فسأله رجل قتله ـ أحسبه خالد بن الوليد ـ فمنعه، فلما ولى قال ‏"‏ إن من ضئضئ هذا ـ أو في عقب هذا ـ قوم يقرءون القرآن، لا يجاوز حناجرهم، يمرقون من الدين مروق السهم من الرمية، يقتلون أهل الإسلام، ويدعون أهل الأوثان، لئن أنا أدركتهم لأقتلنهم قتل عاد ‏"‏‏.‏


সহিহ বুখারী > ইয়াজুজ ও মাজুজের ঘটনা

সহিহ বুখারী ৩৩৪৭

حدثنا مسلم بن إبراهيم، حدثنا وهيب، حدثنا ابن طاوس، عن أبيه، عن أبي هريرة ـ رضى الله عنه ـ عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ‏ "‏ فتح الله من ردم يأجوج ومأجوج مثل هذا ‏"‏‏.‏ وعقد بيده تسعين‏.‏

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ইয়া’জূজ ও মা’জূজের প্রাচীরে আল্লাহ এ পরিমাণ ছিদ্র করে দিয়েছে। এই বলে, তিনি তাঁর হাতে নব্বই সংখ্যার আকৃতির মত করে দেখালেন।

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, ইয়া’জূজ ও মা’জূজের প্রাচীরে আল্লাহ এ পরিমাণ ছিদ্র করে দিয়েছে। এই বলে, তিনি তাঁর হাতে নব্বই সংখ্যার আকৃতির মত করে দেখালেন।

حدثنا مسلم بن إبراهيم، حدثنا وهيب، حدثنا ابن طاوس، عن أبيه، عن أبي هريرة ـ رضى الله عنه ـ عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ‏ "‏ فتح الله من ردم يأجوج ومأجوج مثل هذا ‏"‏‏.‏ وعقد بيده تسعين‏.‏


সহিহ বুখারী ৩৩৪৬

حدثنا يحيى بن بكير، حدثنا الليث، عن عقيل، عن ابن شهاب، عن عروة بن الزبير، أن زينب ابنة أبي سلمة، حدثته عن أم حبيبة بنت أبي سفيان، عن زينب ابنة جحش ـ رضى الله عنهن أن النبي صلى الله عليه وسلم دخل عليها فزعا يقول ‏"‏ لا إله إلا الله، ويل للعرب من شر قد اقترب فتح اليوم من ردم يأجوج ومأجوج مثل هذه ‏"‏‏.‏ وحلق بإصبعه الإبهام والتي تليها‏.‏ قالت زينب ابنة جحش فقلت يا رسول الله أنهلك وفينا الصالحون قال ‏"‏ نعم، إذا كثر الخبث ‏"‏‏.‏

যায়নাব বিনতে জাহাশ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

একবার নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় তাঁর নিকট আসলেন এবং বলতে লাগলেন, লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ। আরবের লোকেদের জন্য সেই অনিষ্টের কারণে ধ্বংস অনিবার্য যা নিকটবর্তী হয়েছে। আজ ইয়াজুজ ও মাজুজের প্রাচীর এ পরিমাণ খুলে গেছে। এ কথা বলার সময় তিনি তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলির আগ্রভাগকে তার সঙ্গের শাহাদাত আঙ্গুলির অগ্রভাগের সঙ্গে মিলিয়ে গোলাকার করে ছিদ্রের পরিমাণ দেখান। যায়নাব বিনতে জাহাশ (রাঃ) বলেন, তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে পুণ্যবান লোকজন থাকা সত্ত্বেও কি আমরা ধ্বংস হয়ে যাব? তিনি বলেন, হ্যাঁ যখন পাপকাজ অতি মাত্রায় বেড়ে যাবে।

যায়নাব বিনতে জাহাশ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

একবার নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভীত সন্ত্রস্ত অবস্থায় তাঁর নিকট আসলেন এবং বলতে লাগলেন, লা- ইলাহা ইল্লাল্লাহ। আরবের লোকেদের জন্য সেই অনিষ্টের কারণে ধ্বংস অনিবার্য যা নিকটবর্তী হয়েছে। আজ ইয়াজুজ ও মাজুজের প্রাচীর এ পরিমাণ খুলে গেছে। এ কথা বলার সময় তিনি তাঁর বৃদ্ধাঙ্গুলির আগ্রভাগকে তার সঙ্গের শাহাদাত আঙ্গুলির অগ্রভাগের সঙ্গে মিলিয়ে গোলাকার করে ছিদ্রের পরিমাণ দেখান। যায়নাব বিনতে জাহাশ (রাঃ) বলেন, তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে পুণ্যবান লোকজন থাকা সত্ত্বেও কি আমরা ধ্বংস হয়ে যাব? তিনি বলেন, হ্যাঁ যখন পাপকাজ অতি মাত্রায় বেড়ে যাবে।

حدثنا يحيى بن بكير، حدثنا الليث، عن عقيل، عن ابن شهاب، عن عروة بن الزبير، أن زينب ابنة أبي سلمة، حدثته عن أم حبيبة بنت أبي سفيان، عن زينب ابنة جحش ـ رضى الله عنهن أن النبي صلى الله عليه وسلم دخل عليها فزعا يقول ‏"‏ لا إله إلا الله، ويل للعرب من شر قد اقترب فتح اليوم من ردم يأجوج ومأجوج مثل هذه ‏"‏‏.‏ وحلق بإصبعه الإبهام والتي تليها‏.‏ قالت زينب ابنة جحش فقلت يا رسول الله أنهلك وفينا الصالحون قال ‏"‏ نعم، إذا كثر الخبث ‏"‏‏.‏


সহিহ বুখারী ৩৩৪৮

حدثني إسحاق بن نصر، حدثنا أبو أسامة، عن الأعمش، حدثنا أبو صالح، عن أبي سعيد الخدري ـ رضى الله عنه ـ عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ‏"‏ يقول الله تعالى يا آدم‏.‏ فيقول لبيك وسعديك والخير في يديك‏.‏ فيقول أخرج بعث النار‏.‏ قال وما بعث النار قال من كل ألف تسعمائة وتسعة وتسعين، فعنده يشيب الصغير، وتضع كل ذات حمل حملها، وترى الناس سكارى، وما هم بسكارى، ولكن عذاب الله شديد ‏"‏‏.‏ قالوا يا رسول الله وأينا ذلك الواحد قال ‏"‏ أبشروا فإن منكم رجل، ومن يأجوج ومأجوج ألف ‏"‏‏.‏ ثم قال ‏"‏ والذي نفسي بيده، إني أرجو أن تكونوا ربع أهل الجنة ‏"‏‏.‏ فكبرنا‏.‏ فقال ‏"‏ أرجو أن تكونوا ثلث أهل الجنة ‏"‏‏.‏ فكبرنا‏.‏ فقال ‏"‏ أرجو أن تكونوا نصف أهل الجنة ‏"‏‏.‏ فكبرنا‏.‏ فقال ‏"‏ ما أنتم في الناس إلا كالشعرة السوداء في جلد ثور أبيض، أو كشعرة بيضاء في جلد ثور أسود ‏"‏‏.‏

আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, মহান আল্লাহ ডাকবেন, হে আদম (‘আঃ)! তখন তিনি জবাব দিবেন, আমি হাযির, আমি সৌভাগ্যবান এবং সকল কল্যাণ আপনার হতেই। তখন আল্লাহ বলবেন, জাহান্নামীদেরকে বের করে দাও। আদম (‘আঃ) বলবেন, জাহান্নামী কারা? আল্লাহ বলবেন, প্রতি হাজারে নয়শত নিরানব্বই জন। এ সময় ছোটরা বুড়ো হয়ে যাবে। প্রত্যেক গর্ভবতী তার গর্ভপাত করে ফেলবে। মানুষকে দেখাবে নেশাগ্রস্তের মত যদিও তারা নেশাগ্রস্ত নয়। বস্তুতঃ আল্লাহর শাস্তি কঠিন- (হাজ্জঃ ২)। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে সেই একজন কে? তিনি বললেন, তোমরা সুসংবাদ গ্রহন কর। কেননা তোমাদের মধ্যে হতে একজন আর এক হাজারের অবশিষ্ট ইয়াজুজ-মাজুজ হবে। অতঃপর তিনি বললেন, যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তাঁর কসম। আমি আশা করি, তোমরা সমস্ত জান্নাতবাসীর এক তৃতীয়াংশ হবে। [আবূ সা’ঈদ (রাঃ) বলেন] আমরা এ সংবাদ শুনে আবার আল্লাহু আকবার বলে তাকবীর দিলাম। তিনি আবার বললেন, আমি আশা করি তোমরা সমস্ত জান্নাতীদের অর্ধেক হবে। এ কথা শুনে আমরা আবারও আল্লাহু আকবার বলে তাকবীর দিলাম। তিনি বললেন, তোমরা তো অন্যান্য মানুষের তুলনায় এমন, যেমন সাদা ষাঁড়ের দেহে কয়েকটি কাল পশম অথবা কালো ষাঁড়ের শরীরে কয়েকটি সাদা পশম।

আবূ সা’ঈদ খুদরী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, মহান আল্লাহ ডাকবেন, হে আদম (‘আঃ)! তখন তিনি জবাব দিবেন, আমি হাযির, আমি সৌভাগ্যবান এবং সকল কল্যাণ আপনার হতেই। তখন আল্লাহ বলবেন, জাহান্নামীদেরকে বের করে দাও। আদম (‘আঃ) বলবেন, জাহান্নামী কারা? আল্লাহ বলবেন, প্রতি হাজারে নয়শত নিরানব্বই জন। এ সময় ছোটরা বুড়ো হয়ে যাবে। প্রত্যেক গর্ভবতী তার গর্ভপাত করে ফেলবে। মানুষকে দেখাবে নেশাগ্রস্তের মত যদিও তারা নেশাগ্রস্ত নয়। বস্তুতঃ আল্লাহর শাস্তি কঠিন- (হাজ্জঃ ২)। সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে সেই একজন কে? তিনি বললেন, তোমরা সুসংবাদ গ্রহন কর। কেননা তোমাদের মধ্যে হতে একজন আর এক হাজারের অবশিষ্ট ইয়াজুজ-মাজুজ হবে। অতঃপর তিনি বললেন, যাঁর হাতে আমার প্রাণ, তাঁর কসম। আমি আশা করি, তোমরা সমস্ত জান্নাতবাসীর এক তৃতীয়াংশ হবে। [আবূ সা’ঈদ (রাঃ) বলেন] আমরা এ সংবাদ শুনে আবার আল্লাহু আকবার বলে তাকবীর দিলাম। তিনি আবার বললেন, আমি আশা করি তোমরা সমস্ত জান্নাতীদের অর্ধেক হবে। এ কথা শুনে আমরা আবারও আল্লাহু আকবার বলে তাকবীর দিলাম। তিনি বললেন, তোমরা তো অন্যান্য মানুষের তুলনায় এমন, যেমন সাদা ষাঁড়ের দেহে কয়েকটি কাল পশম অথবা কালো ষাঁড়ের শরীরে কয়েকটি সাদা পশম।

حدثني إسحاق بن نصر، حدثنا أبو أسامة، عن الأعمش، حدثنا أبو صالح، عن أبي سعيد الخدري ـ رضى الله عنه ـ عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ‏"‏ يقول الله تعالى يا آدم‏.‏ فيقول لبيك وسعديك والخير في يديك‏.‏ فيقول أخرج بعث النار‏.‏ قال وما بعث النار قال من كل ألف تسعمائة وتسعة وتسعين، فعنده يشيب الصغير، وتضع كل ذات حمل حملها، وترى الناس سكارى، وما هم بسكارى، ولكن عذاب الله شديد ‏"‏‏.‏ قالوا يا رسول الله وأينا ذلك الواحد قال ‏"‏ أبشروا فإن منكم رجل، ومن يأجوج ومأجوج ألف ‏"‏‏.‏ ثم قال ‏"‏ والذي نفسي بيده، إني أرجو أن تكونوا ربع أهل الجنة ‏"‏‏.‏ فكبرنا‏.‏ فقال ‏"‏ أرجو أن تكونوا ثلث أهل الجنة ‏"‏‏.‏ فكبرنا‏.‏ فقال ‏"‏ أرجو أن تكونوا نصف أهل الجنة ‏"‏‏.‏ فكبرنا‏.‏ فقال ‏"‏ ما أنتم في الناس إلا كالشعرة السوداء في جلد ثور أبيض، أو كشعرة بيضاء في جلد ثور أسود ‏"‏‏.‏


সহিহ বুখারী > মহান আল্লাহর বাণীঃ আর আল্লাহ ইবরাহীম (‘আঃ)-কে বন্ধুরূপে গ্রহন করেছেন-- (আন্‌-নিসা ১২৫) ।

সহিহ বুখারী ৩৩৪৯

حدثنا محمد بن كثير، أخبرنا سفيان، حدثنا المغيرة بن النعمان، قال حدثني سعيد بن جبير، عن ابن عباس ـ رضى الله عنهما ـ عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ‏"‏ إنكم محشورون حفاة عراة غرلا ـ ثم قرأ – ‏{‏كما بدأنا أول خلق نعيده وعدا علينا إنا كنا فاعلين‏}‏ وأول من يكسى يوم القيامة إبراهيم، وإن أناسا من أصحابي يؤخذ بهم ذات الشمال فأقول أصحابي أصحابي‏.‏ فيقول، إنهم لم يزالوا مرتدين على أعقابهم منذ فارقتهم‏.‏ فأقول كما قال العبد الصالح ‏{‏وكنت عليهم شهيدا ما دمت فيهم‏}‏ إلى قوله ‏{‏الحكيم ‏}‏‏"‏

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, নিশ্চয় তোমাদেরকে হাশর ময়দানে খালি পা, বস্ত্রহীন এবং খাতনাবিহীন অবস্থায় উপস্থিত করা হবে। অতঃপর তিনি পবিত্র কুরআনের আয়াতটি তিলাওয়াত করলেনঃ যেভাবে আমি প্রথমে সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম, সেভাবে পুনরায় সৃষ্টি করব। এটি আমার প্রতিশ্রুতি। এর বাস্তবায়ন আমি করবই- (আম্বিয়াঃ ১০৪)। আর কেয়ামতের দিন সবার আগে যাকে কাপড় পরানো হবে তিনি হবেন ইবরাহীম (‘আঃ)। আর আমার অনুসারীদের মধ্যে হতে কয়েকজনকে পাকড়াও করে বাম দিকে অর্থাৎ জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। তখন আমি বলব, এরা তো আমার অনুসারী, এরা তো আমার অনুসারী। এ সময় আল্লাহ বললেন, যখন আপনি এদের নিকট হতে বিদায় নেন, তখন তারা পূর্ব ধর্মে ফিরে যায়। কাজেই তারা আপনার সাহাবী নয়। তখন আল্লাহর নেক বান্দা [ঈসা (‘আঃ)] যেমন বলেছিলেন; তেমন আমি বলব, হে আল্লাহ! আমি যতদিন তাদের মাঝে ছিলাম, ততদিন আমি ছিলাম তাদের অবস্থার পর্যবেক্ষক। আপনি ক্ষমতাধর হিকমতওয়ালা- (আল-মায়িদাহ ১১৭-১১৮)।

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, নিশ্চয় তোমাদেরকে হাশর ময়দানে খালি পা, বস্ত্রহীন এবং খাতনাবিহীন অবস্থায় উপস্থিত করা হবে। অতঃপর তিনি পবিত্র কুরআনের আয়াতটি তিলাওয়াত করলেনঃ যেভাবে আমি প্রথমে সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম, সেভাবে পুনরায় সৃষ্টি করব। এটি আমার প্রতিশ্রুতি। এর বাস্তবায়ন আমি করবই- (আম্বিয়াঃ ১০৪)। আর কেয়ামতের দিন সবার আগে যাকে কাপড় পরানো হবে তিনি হবেন ইবরাহীম (‘আঃ)। আর আমার অনুসারীদের মধ্যে হতে কয়েকজনকে পাকড়াও করে বাম দিকে অর্থাৎ জাহান্নামের দিকে নিয়ে যাওয়া হবে। তখন আমি বলব, এরা তো আমার অনুসারী, এরা তো আমার অনুসারী। এ সময় আল্লাহ বললেন, যখন আপনি এদের নিকট হতে বিদায় নেন, তখন তারা পূর্ব ধর্মে ফিরে যায়। কাজেই তারা আপনার সাহাবী নয়। তখন আল্লাহর নেক বান্দা [ঈসা (‘আঃ)] যেমন বলেছিলেন; তেমন আমি বলব, হে আল্লাহ! আমি যতদিন তাদের মাঝে ছিলাম, ততদিন আমি ছিলাম তাদের অবস্থার পর্যবেক্ষক। আপনি ক্ষমতাধর হিকমতওয়ালা- (আল-মায়িদাহ ১১৭-১১৮)।

حدثنا محمد بن كثير، أخبرنا سفيان، حدثنا المغيرة بن النعمان، قال حدثني سعيد بن جبير، عن ابن عباس ـ رضى الله عنهما ـ عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ‏"‏ إنكم محشورون حفاة عراة غرلا ـ ثم قرأ – ‏{‏كما بدأنا أول خلق نعيده وعدا علينا إنا كنا فاعلين‏}‏ وأول من يكسى يوم القيامة إبراهيم، وإن أناسا من أصحابي يؤخذ بهم ذات الشمال فأقول أصحابي أصحابي‏.‏ فيقول، إنهم لم يزالوا مرتدين على أعقابهم منذ فارقتهم‏.‏ فأقول كما قال العبد الصالح ‏{‏وكنت عليهم شهيدا ما دمت فيهم‏}‏ إلى قوله ‏{‏الحكيم ‏}‏‏"‏


সহিহ বুখারী ৩৩৫১

حدثنا يحيى بن سليمان، قال حدثني ابن وهب، قال أخبرني عمرو، أن بكيرا، حدثه عن كريب، مولى ابن عباس عن ابن عباس ـ رضى الله عنهما ـ قال دخل النبي صلى الله عليه وسلم البيت فوجد فيه صورة إبراهيم وصورة مريم فقال ‏ "‏ أما لهم، فقد سمعوا أن الملائكة لا تدخل بيتا فيه صورة، هذا إبراهيم مصور فما له يستقسم ‏"‏‏.‏

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একবার কা’বা ঘরে প্রবেশ করলেন। সেখানে তিনি ইবরাহীম (‘আঃ) ও মারইয়ামের ছবি দেখতে পেলেন। তখন তিনি বললেন, তাদের কী হল? অথচ তারা তো শুনতে পেয়েছে, যে ঘরে প্রাণীর ছবি থাকবে, সে ঘরে ফেরেশতামন্ডলী প্রবেশ করেন না। এ যে ইবরাহীমের ছবি বানানো হয়েছে, (ভাগ্য নির্ধারক অবস্থায়) তিনি কেন ভাগ্য নির্ধারক তীর নিক্ষেপ করবেন!

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একবার কা’বা ঘরে প্রবেশ করলেন। সেখানে তিনি ইবরাহীম (‘আঃ) ও মারইয়ামের ছবি দেখতে পেলেন। তখন তিনি বললেন, তাদের কী হল? অথচ তারা তো শুনতে পেয়েছে, যে ঘরে প্রাণীর ছবি থাকবে, সে ঘরে ফেরেশতামন্ডলী প্রবেশ করেন না। এ যে ইবরাহীমের ছবি বানানো হয়েছে, (ভাগ্য নির্ধারক অবস্থায়) তিনি কেন ভাগ্য নির্ধারক তীর নিক্ষেপ করবেন!

حدثنا يحيى بن سليمان، قال حدثني ابن وهب، قال أخبرني عمرو، أن بكيرا، حدثه عن كريب، مولى ابن عباس عن ابن عباس ـ رضى الله عنهما ـ قال دخل النبي صلى الله عليه وسلم البيت فوجد فيه صورة إبراهيم وصورة مريم فقال ‏ "‏ أما لهم، فقد سمعوا أن الملائكة لا تدخل بيتا فيه صورة، هذا إبراهيم مصور فما له يستقسم ‏"‏‏.‏


সহিহ বুখারী ৩৩৫০

حدثنا إسماعيل بن عبد الله، قال أخبرني أخي عبد الحميد، عن ابن أبي ذئب، عن سعيد المقبري، عن أبي هريرة ـ رضى الله عنه ـ عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ‏ "‏ يلقى إبراهيم أباه آزر يوم القيامة، وعلى وجه آزر قترة وغبرة، فيقول له إبراهيم ألم أقل لك لا تعصني فيقول أبوه فاليوم لا أعصيك‏.‏ فيقول إبراهيم يا رب، إنك وعدتني أن لا تخزيني يوم يبعثون، فأى خزى أخزى من أبي الأبعد فيقول الله تعالى إني حرمت الجنة على الكافرين، ثم يقال يا إبراهيم ما تحت رجليك فينظر فإذا هو بذيخ ملتطخ، فيؤخذ بقوائمه فيلقى في النار ‏"‏‏.‏

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, কেয়ামতের দিন ইবরাহীম (‘আঃ) তার পিতা আযরের দেখা পাবেন। আযরের মুখমন্ডলে কালি এবং ধূলাবালি থাকবে। তখন ইবরাহীম (‘আঃ) তাকে বলবেন, আমি পৃথিবীতে আপনাকে বলিনি যে, আমার অবাধ্যতা করবেন না? তখন তাঁর পিতা বলবে, আজ আর তোমার অবাধ্যতা করব না। অতঃপর ইবরাহীম (‘আঃ) আবেদন করবেন, হে আমার রব! আপনি আমার সঙ্গে ওয়াদা করেছিলেন যে, হাশরের দিন আপনি আমাকে লজ্জিত করবেন না। আমার পিতা রহম হতে বঞ্চিত হবার চেয়ে বেশী অপমান আমার জন্য আর কী হতে পারে? তখন আল্লাহ বলবেন, আমি কাফিরের জন্য জান্নাত হারাম করে দিয়েছি। পুনরায় বলা হবে, হে ইবরাহীম! তোমার পদতলে কী? তখন তিনি নিচের দিকে তাকাবেন। হঠাৎ দেখতে পাবেন তাঁর পিতার জায়গায় সর্বাঙ্গে রক্তমাখা একটি জানোয়ার পড়ে রয়েছে। এর চার পা বেঁধে জাহান্নামে ছুঁড়ে ফেলা হবে। [১]

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, কেয়ামতের দিন ইবরাহীম (‘আঃ) তার পিতা আযরের দেখা পাবেন। আযরের মুখমন্ডলে কালি এবং ধূলাবালি থাকবে। তখন ইবরাহীম (‘আঃ) তাকে বলবেন, আমি পৃথিবীতে আপনাকে বলিনি যে, আমার অবাধ্যতা করবেন না? তখন তাঁর পিতা বলবে, আজ আর তোমার অবাধ্যতা করব না। অতঃপর ইবরাহীম (‘আঃ) আবেদন করবেন, হে আমার রব! আপনি আমার সঙ্গে ওয়াদা করেছিলেন যে, হাশরের দিন আপনি আমাকে লজ্জিত করবেন না। আমার পিতা রহম হতে বঞ্চিত হবার চেয়ে বেশী অপমান আমার জন্য আর কী হতে পারে? তখন আল্লাহ বলবেন, আমি কাফিরের জন্য জান্নাত হারাম করে দিয়েছি। পুনরায় বলা হবে, হে ইবরাহীম! তোমার পদতলে কী? তখন তিনি নিচের দিকে তাকাবেন। হঠাৎ দেখতে পাবেন তাঁর পিতার জায়গায় সর্বাঙ্গে রক্তমাখা একটি জানোয়ার পড়ে রয়েছে। এর চার পা বেঁধে জাহান্নামে ছুঁড়ে ফেলা হবে। [১]

حدثنا إسماعيل بن عبد الله، قال أخبرني أخي عبد الحميد، عن ابن أبي ذئب، عن سعيد المقبري، عن أبي هريرة ـ رضى الله عنه ـ عن النبي صلى الله عليه وسلم قال ‏ "‏ يلقى إبراهيم أباه آزر يوم القيامة، وعلى وجه آزر قترة وغبرة، فيقول له إبراهيم ألم أقل لك لا تعصني فيقول أبوه فاليوم لا أعصيك‏.‏ فيقول إبراهيم يا رب، إنك وعدتني أن لا تخزيني يوم يبعثون، فأى خزى أخزى من أبي الأبعد فيقول الله تعالى إني حرمت الجنة على الكافرين، ثم يقال يا إبراهيم ما تحت رجليك فينظر فإذا هو بذيخ ملتطخ، فيؤخذ بقوائمه فيلقى في النار ‏"‏‏.‏


সহিহ বুখারী ৩৩৫২

حدثنا إبراهيم بن موسى، أخبرنا هشام، عن معمر، عن أيوب، عن عكرمة، عن ابن عباس ـ رضى الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم لما رأى الصور في البيت لم يدخل، حتى أمر بها فمحيت، ورأى إبراهيم وإسماعيل ـ عليهما السلام ـ بأيديهما الأزلام فقال ‏ "‏ قاتلهم الله، والله إن استقسما بالأزلام قط ‏"‏‏.‏

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন কা’বা ঘরে ছবিগুলো দেখতে পেলেন, তখন যে পর্যন্ত তাঁর নির্দেশে তা মিটিয়ে ফেলা না হলো, সে পর্যন্ত তিনি তাতে প্রবেশ করলেন না। আর তিনি দেখতে পেলেন, ইবরাহীম এবং ইসমাঈল (‘আঃ)-এর হাতে ভাগ্য নির্ধারণের তীর। তখন তিনি বললেন, আল্লাহ্‌ তাদের (কুরাইশদের) উপর লা’নত করুন। আল্লাহর কসম, এঁরা দু’জন কক্ষনোও ভাগ্য নির্ধারক তীর নিক্ষেপ করেননি।

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন কা’বা ঘরে ছবিগুলো দেখতে পেলেন, তখন যে পর্যন্ত তাঁর নির্দেশে তা মিটিয়ে ফেলা না হলো, সে পর্যন্ত তিনি তাতে প্রবেশ করলেন না। আর তিনি দেখতে পেলেন, ইবরাহীম এবং ইসমাঈল (‘আঃ)-এর হাতে ভাগ্য নির্ধারণের তীর। তখন তিনি বললেন, আল্লাহ্‌ তাদের (কুরাইশদের) উপর লা’নত করুন। আল্লাহর কসম, এঁরা দু’জন কক্ষনোও ভাগ্য নির্ধারক তীর নিক্ষেপ করেননি।

حدثنا إبراهيم بن موسى، أخبرنا هشام، عن معمر، عن أيوب، عن عكرمة، عن ابن عباس ـ رضى الله عنهما أن النبي صلى الله عليه وسلم لما رأى الصور في البيت لم يدخل، حتى أمر بها فمحيت، ورأى إبراهيم وإسماعيل ـ عليهما السلام ـ بأيديهما الأزلام فقال ‏ "‏ قاتلهم الله، والله إن استقسما بالأزلام قط ‏"‏‏.‏


সহিহ বুখারী ৩৩৫৩

حدثنا علي بن عبد الله، حدثنا يحيى بن سعيد، حدثنا عبيد الله، قال حدثني سعيد بن أبي سعيد، عن أبيه، عن أبي هريرة ـ رضى الله عنه قيل يا رسول الله، من أكرم الناس قال ‏"‏ أتقاهم ‏"‏‏.‏ فقالوا ليس عن هذا نسألك‏.‏ قال ‏"‏ فيوسف نبي الله ابن نبي الله ابن نبي الله ابن خليل الله ‏"‏‏.‏ قالوا ليس عن هذا نسألك‏.‏ قال ‏"‏ فعن معادن العرب تسألون خيارهم في الجاهلية خيارهم في الإسلام إذا فقهوا ‏"‏‏.‏ قال أبو أسامة ومعتمر عن عبيد الله عن سعيد عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم‏.‏

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! মানুষের মাঝে সবচেয়ে সন্মানিত ব্যক্তি কে? তিনি বললেন, তাদের মধ্যে যে সবচেয়ে অধিক মুত্তাকী। তখন তারা বলল, আমরা তো আপনাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করিনি। তিনি বললেন, তা হলে আল্লাহর নবী‎ ইউসূফ, যিনি আল্লাহর নবী‎’র পুত্র, আল্লাহর নবী‎’র পৌত্র এবং আল্লাহর খলীল-এর প্রপৌত্র। তারা বলল, আমরা আপনাকে এ ব্যাপারেও জিজ্ঞেস করিনি। তিনি বললেন, তা হলে কি তোমরা আরবের মূল্যবান গোত্রসমূহের সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করেছ? জাহিলী যুগে তাদের মধ্যে যারা সর্বোত্তম ব্যক্তি ছিলেন, ইসলামেও তাঁরা সর্বোত্তম ব্যক্তি যদি তাঁরা ইসলাম সম্পর্কিত জ্ঞানার্জন করেন। আবূ উসামা ও মু’তামির (রহঃ) ................. আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণিত।

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! মানুষের মাঝে সবচেয়ে সন্মানিত ব্যক্তি কে? তিনি বললেন, তাদের মধ্যে যে সবচেয়ে অধিক মুত্তাকী। তখন তারা বলল, আমরা তো আপনাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করিনি। তিনি বললেন, তা হলে আল্লাহর নবী‎ ইউসূফ, যিনি আল্লাহর নবী‎’র পুত্র, আল্লাহর নবী‎’র পৌত্র এবং আল্লাহর খলীল-এর প্রপৌত্র। তারা বলল, আমরা আপনাকে এ ব্যাপারেও জিজ্ঞেস করিনি। তিনি বললেন, তা হলে কি তোমরা আরবের মূল্যবান গোত্রসমূহের সম্বন্ধে জিজ্ঞেস করেছ? জাহিলী যুগে তাদের মধ্যে যারা সর্বোত্তম ব্যক্তি ছিলেন, ইসলামেও তাঁরা সর্বোত্তম ব্যক্তি যদি তাঁরা ইসলাম সম্পর্কিত জ্ঞানার্জন করেন। আবূ উসামা ও মু’তামির (রহঃ) ................. আবূ হুরায়রা (রাঃ) সূত্রে নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে বর্ণিত।

حدثنا علي بن عبد الله، حدثنا يحيى بن سعيد، حدثنا عبيد الله، قال حدثني سعيد بن أبي سعيد، عن أبيه، عن أبي هريرة ـ رضى الله عنه قيل يا رسول الله، من أكرم الناس قال ‏"‏ أتقاهم ‏"‏‏.‏ فقالوا ليس عن هذا نسألك‏.‏ قال ‏"‏ فيوسف نبي الله ابن نبي الله ابن نبي الله ابن خليل الله ‏"‏‏.‏ قالوا ليس عن هذا نسألك‏.‏ قال ‏"‏ فعن معادن العرب تسألون خيارهم في الجاهلية خيارهم في الإسلام إذا فقهوا ‏"‏‏.‏ قال أبو أسامة ومعتمر عن عبيد الله عن سعيد عن أبي هريرة عن النبي صلى الله عليه وسلم‏.‏


সহিহ বুখারী ৩৩৫৪

حدثنا مؤمل، حدثنا إسماعيل، حدثنا عوف، حدثنا أبو رجاء، حدثنا سمرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ أتاني الليلة آتيان، فأتينا على رجل طويل، لا أكاد أرى رأسه طولا، وإنه إبراهيم صلى الله عليه وسلم ‏"‏‏.‏

সামূরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আজ রাতে (স্বপ্নে) আমার নিকট দু’জন লোক আসলেন। অতঃপর আমরা দীর্ঘদেহ বিশিষ্ট লোকের নিকট আসলাম। তাঁর দেহ দীর্ঘ হবার দরুন আমি তাঁর মাথা দেখতে পাচ্ছিলাম না। আসলে তিনি হলেন ইবরাহীম (‘আঃ)।

সামূরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আজ রাতে (স্বপ্নে) আমার নিকট দু’জন লোক আসলেন। অতঃপর আমরা দীর্ঘদেহ বিশিষ্ট লোকের নিকট আসলাম। তাঁর দেহ দীর্ঘ হবার দরুন আমি তাঁর মাথা দেখতে পাচ্ছিলাম না। আসলে তিনি হলেন ইবরাহীম (‘আঃ)।

حدثنا مؤمل، حدثنا إسماعيل، حدثنا عوف، حدثنا أبو رجاء، حدثنا سمرة، قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ أتاني الليلة آتيان، فأتينا على رجل طويل، لا أكاد أرى رأسه طولا، وإنه إبراهيم صلى الله عليه وسلم ‏"‏‏.‏


সহিহ বুখারী ৩৩৫৭

حدثنا سعيد بن تليد الرعيني، أخبرنا ابن وهب، قال أخبرني جرير بن حازم، عن أيوب، عن محمد، عن أبي هريرة ـ رضى الله عنه ـ قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ لم يكذب إبراهيم إلا ثلاثا ‏"‏‏.‏

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বললেন, ইবরাহীম (‘আঃ) তিনবার ব্যতীত কখনও মিথ্যা বলেননি।

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বললেন, ইবরাহীম (‘আঃ) তিনবার ব্যতীত কখনও মিথ্যা বলেননি।

حدثنا سعيد بن تليد الرعيني، أخبرنا ابن وهب، قال أخبرني جرير بن حازم، عن أيوب، عن محمد، عن أبي هريرة ـ رضى الله عنه ـ قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ لم يكذب إبراهيم إلا ثلاثا ‏"‏‏.‏


সহিহ বুখারী ৩৩৫৬

حدثنا قتيبة بن سعيد، حدثنا مغيرة بن عبد الرحمن القرشي، عن أبي الزناد، عن الأعرج، عن أبي هريرة ـ رضى الله عنه ـ قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ اختتن إبراهيم ـ عليه السلام ـ وهو ابن ثمانين سنة بالقدوم ‏"‏‏.‏ حدثنا أبو اليمان أخبرنا شعيب حدثنا أبو الزناد ‏"‏ بالقدوم ‏"‏‏.‏ مخففة‏.‏ تابعه عبد الرحمن بن إسحاق عن أبي الزناد‏.‏ تابعه عجلان عن أبي هريرة‏.‏ ورواه محمد بن عمرو عن أبي سلمة‏.‏

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, নবী‎ ইবরাহীম (‘আঃ) সূত্রধরদের অস্ত্র দিয়ে নিজের খাত্‌না করেছিলেন যখন তার বয়স ছিল আশি বছর। আব্দুর রহমান ইবনু ইসহাক (রহঃ) আবূ যিনাদ (রহঃ) থেকে হাদীস বর্ণনায় মুগীরাহ ইবনু ‘আব্দুর রহমান (রহঃ)-এর অনুসরণ করেছেন। ‘আজলান (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে হাদীস বর্ণনায় আরজ (রহঃ)-এর অনুসরণ করেছেন। আর মুহাম্মাদ ইবনু ‘আম্‌র (রহঃ) আবূ সালামা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন।

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, নবী‎ ইবরাহীম (‘আঃ) সূত্রধরদের অস্ত্র দিয়ে নিজের খাত্‌না করেছিলেন যখন তার বয়স ছিল আশি বছর। আব্দুর রহমান ইবনু ইসহাক (রহঃ) আবূ যিনাদ (রহঃ) থেকে হাদীস বর্ণনায় মুগীরাহ ইবনু ‘আব্দুর রহমান (রহঃ)-এর অনুসরণ করেছেন। ‘আজলান (রহঃ) আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে হাদীস বর্ণনায় আরজ (রহঃ)-এর অনুসরণ করেছেন। আর মুহাম্মাদ ইবনু ‘আম্‌র (রহঃ) আবূ সালামা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন।

حدثنا قتيبة بن سعيد، حدثنا مغيرة بن عبد الرحمن القرشي، عن أبي الزناد، عن الأعرج، عن أبي هريرة ـ رضى الله عنه ـ قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ اختتن إبراهيم ـ عليه السلام ـ وهو ابن ثمانين سنة بالقدوم ‏"‏‏.‏ حدثنا أبو اليمان أخبرنا شعيب حدثنا أبو الزناد ‏"‏ بالقدوم ‏"‏‏.‏ مخففة‏.‏ تابعه عبد الرحمن بن إسحاق عن أبي الزناد‏.‏ تابعه عجلان عن أبي هريرة‏.‏ ورواه محمد بن عمرو عن أبي سلمة‏.‏


সহিহ বুখারী ৩৩৫৫

حدثني بيان بن عمرو، حدثنا النضر، أخبرنا ابن عون، عن مجاهد، أنه سمع ابن عباس ـ رضى الله عنهما ـ وذكروا له الدجال بين عينيه مكتوب كافر أو ك ف ر‏.‏ قال لم أسمعه ولكنه قال ‏ "‏ أما إبراهيم فانظروا إلى صاحبكم، وأما موسى فجعد آدم على جمل أحمر مخطوم بخلبة، كأني أنظر إليه انحدر في الوادي ‏"‏‏.‏

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

লোকজন তাঁর সামনে দাজ্জালের কথা উল্লেখ করেছেন। তার দু’ চোখের মাঝখানে অর্থাৎ কপালে লেখা থাকবে কাফির বা কাফ, ফা, রা। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, এটা নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট শুনেনি। বরং তিনি বলেছেন, যদি তোমরা ইবরাহীম (‘আঃ)-কে দেখতে চাও তবে তোমাদের সাথীর দিকে তাকাও। আর মূসা (‘আঃ) হলেন কোঁকড়ানো চুল, তামাটে রঙ-এর দেহ বিশিষ্ট। তিনি এমন একটি লাল উটের উপর বসে আছেন, যার নাকের দড়ি খেজুর গাছের ছাল দিয়ে তৈরী। আমি যেন তাকে দেখতে পাচ্ছি, তিনি আল্লাহু আকবার ধ্বনি দিতে দিতে উপত্যকায় নামছেন।

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

লোকজন তাঁর সামনে দাজ্জালের কথা উল্লেখ করেছেন। তার দু’ চোখের মাঝখানে অর্থাৎ কপালে লেখা থাকবে কাফির বা কাফ, ফা, রা। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলেন, এটা নবী‎ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট শুনেনি। বরং তিনি বলেছেন, যদি তোমরা ইবরাহীম (‘আঃ)-কে দেখতে চাও তবে তোমাদের সাথীর দিকে তাকাও। আর মূসা (‘আঃ) হলেন কোঁকড়ানো চুল, তামাটে রঙ-এর দেহ বিশিষ্ট। তিনি এমন একটি লাল উটের উপর বসে আছেন, যার নাকের দড়ি খেজুর গাছের ছাল দিয়ে তৈরী। আমি যেন তাকে দেখতে পাচ্ছি, তিনি আল্লাহু আকবার ধ্বনি দিতে দিতে উপত্যকায় নামছেন।

حدثني بيان بن عمرو، حدثنا النضر، أخبرنا ابن عون، عن مجاهد، أنه سمع ابن عباس ـ رضى الله عنهما ـ وذكروا له الدجال بين عينيه مكتوب كافر أو ك ف ر‏.‏ قال لم أسمعه ولكنه قال ‏ "‏ أما إبراهيم فانظروا إلى صاحبكم، وأما موسى فجعد آدم على جمل أحمر مخطوم بخلبة، كأني أنظر إليه انحدر في الوادي ‏"‏‏.‏


সহিহ বুখারী ৩৩৫৯

حدثنا عبيد الله بن موسى، أو ابن سلام عنه أخبرنا ابن جريج، عن عبد الحميد بن جبير، عن سعيد بن المسيب، عن أم شريك ـ رضى الله عنها أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أمر بقتل الوزغ وقال ‏ "‏ كان ينفخ على إبراهيم عليه السلام ‏"‏‏

উম্মু শারীক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গিরগিটি মেরে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তিনি বলেছেন, ওটা ইবরাহীম (‘আঃ) যে অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষিপ্ত হয়েছিলেন, তাতে এ গিরগিটি ফুঁ দিয়েছিল।

উম্মু শারীক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) গিরগিটি মেরে ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন এবং তিনি বলেছেন, ওটা ইবরাহীম (‘আঃ) যে অগ্নিকুণ্ডে নিক্ষিপ্ত হয়েছিলেন, তাতে এ গিরগিটি ফুঁ দিয়েছিল।

حدثنا عبيد الله بن موسى، أو ابن سلام عنه أخبرنا ابن جريج، عن عبد الحميد بن جبير، عن سعيد بن المسيب، عن أم شريك ـ رضى الله عنها أن رسول الله صلى الله عليه وسلم أمر بقتل الوزغ وقال ‏ "‏ كان ينفخ على إبراهيم عليه السلام ‏"‏‏


সহিহ বুখারী ৩৩৫৮

حدثنا محمد بن محبوب، حدثنا حماد بن زيد، عن أيوب، عن محمد، عن أبي هريرة ـ رضى الله عنه ـ قال لم يكذب إبراهيم ـ عليه السلام ـ إلا ثلاث كذبات ثنتين منهن في ذات الله عز وجل، قوله ‏{‏إني سقيم ‏}‏ وقوله ‏{‏بل فعله كبيرهم هذا‏}‏، وقال بينا هو ذات يوم وسارة إذ أتى على جبار من الجبابرة فقيل له إن ها هنا رجلا معه امرأة من أحسن الناس، فأرسل إليه، فسأله عنها‏.‏ فقال من هذه قال أختي، فأتى سارة قال يا سارة، ليس على وجه الأرض مؤمن غيري وغيرك، وإن هذا سألني، فأخبرته أنك أختي فلا تكذبيني‏.‏ فأرسل إليها، فلما دخلت عليه ذهب يتناولها بيده، فأخذ فقال ادعي الله لي ولا أضرك‏.‏ فدعت الله فأطلق، ثم تناولها الثانية، فأخذ مثلها أو أشد فقال ادعي الله لي ولا أضرك‏.‏ فدعت فأطلق‏.‏ فدعا بعض حجبته فقال إنكم لم تأتوني بإنسان، إنما أتيتموني بشيطان‏.‏ فأخدمها هاجر فأتته، وهو قائم يصلي، فأومأ بيده مهيا قالت رد الله كيد الكافر ـ أو الفاجر ـ في نحره، وأخدم هاجر‏.‏ قال أبو هريرة تلك أمكم يا بني ماء السماء‏.‏

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, ইবরাহীম (‘আঃ) তিনবার ছাড়া কখনও মিথ্যা বলেননি। তন্মধ্যে দু’বার ছিল আল্লাহ্‌র ব্যাপারে। তার উক্তি “আমি অসুস্থ”- (আস্‌সাফফাতঃ ৮৯) এবং তাঁর অন্য এক উক্তি “বরং এ কাজ করেছে, এই তো তাদের বড়টি-(আম্বিয়াঃ ৬৩)। বর্ণনাকারী বলেন, একদা তিনি [ইবরাহীম (‘আঃ)] এবং সারা অত্যাচারী শাসকগণের কোন এক শাসকের এলাকায় এসে পৌঁছলেন। তখন তাকে খবর দেয়া হল যে, এ এলাকায় জনৈক ব্যক্তি এসেছে। তার সঙ্গে একজন সবচেয়ে সুন্দরী মহিলা আছে। তখন সে তাঁর নিকট লোক পাঠাল। সে তাঁকে নারীটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল, এ নারীটি কে? তিনি উত্তর দিলেন, মহিলাটি আমার বোন। অতঃপর তিনি সারার নিকট আসলেন এবং বললেন, হে সারা! তুমি আর আমি ব্যতীত পৃথিবীর উপর আর কোন মু’মিন নেই। এ লোকটি আমাকে তোমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিল। তখন আমি তাকে জানিয়েছি যে, তুমি আমার বোন। কাজেই তুমি আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করো না। অতঃপর সারাকে আনার জন্য লোক পাঠালো। তিনি যখন তার নিকট প্রবেশ করলেন এবং রাজা তাঁর দিকে হাত বাড়ালো তখনই সে পাকড়াও হল। তখন অত্যাচারী রাজা সারাকে বলল, আমার জন্য আল্লাহর নিকট দু’আ কর, আমি তোমার কোন ক্ষতি করব না। তখন সারা আল্লাহর নিকট দু’আ করলেন। ফলে সে মুক্তি পেয়ে গেল। অতঃপর দ্বিতীয়বার তাঁকে ধরতে চাইল। এবার সে পূর্বের মত বা তার চেয়ে কঠিনভাবে পাকড়াও হলে। এবারও সে বলল, আল্লাহর নিকট আমার জন্য দু’আ কর। আমি তোমার কোন ক্ষতি করব না। আবারও তিনি দু’আ করলেন, ফলে সে মুক্তি পেয়ে গেল। অতঃপর রাজা তার এক দারোয়ানকে ডাকল। সে তাকে বলল, তুমি তো আমার নিকট কোন মানুষ আননি। বরং এনেছ এক শয়তান। অতঃপর রাজা সারার খিদমতের জন্য হাযেরাকে দান করল। অতঃপর তিনি (সারা) তাঁর (ইবরাহীম) নিকট আসলেন, তিনি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন। তখন তিনি হাত দ্বারা ইশারা করে সারাকে বললেন, কি ঘটেছে? তখন সারা বললেন, আল্লাহ কাফির বা ফাসিকের চক্রান্ত তারই বুকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। আর সে হাযেরাকে খিদমতের জন্য দান করেছে। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, হে আকাশের পানির ছেলেরা![১] হাযেরাই তোমাদের আদি মাতা।

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, ইবরাহীম (‘আঃ) তিনবার ছাড়া কখনও মিথ্যা বলেননি। তন্মধ্যে দু’বার ছিল আল্লাহ্‌র ব্যাপারে। তার উক্তি “আমি অসুস্থ”- (আস্‌সাফফাতঃ ৮৯) এবং তাঁর অন্য এক উক্তি “বরং এ কাজ করেছে, এই তো তাদের বড়টি-(আম্বিয়াঃ ৬৩)। বর্ণনাকারী বলেন, একদা তিনি [ইবরাহীম (‘আঃ)] এবং সারা অত্যাচারী শাসকগণের কোন এক শাসকের এলাকায় এসে পৌঁছলেন। তখন তাকে খবর দেয়া হল যে, এ এলাকায় জনৈক ব্যক্তি এসেছে। তার সঙ্গে একজন সবচেয়ে সুন্দরী মহিলা আছে। তখন সে তাঁর নিকট লোক পাঠাল। সে তাঁকে নারীটি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করল, এ নারীটি কে? তিনি উত্তর দিলেন, মহিলাটি আমার বোন। অতঃপর তিনি সারার নিকট আসলেন এবং বললেন, হে সারা! তুমি আর আমি ব্যতীত পৃথিবীর উপর আর কোন মু’মিন নেই। এ লোকটি আমাকে তোমার সম্পর্কে জিজ্ঞেস করেছিল। তখন আমি তাকে জানিয়েছি যে, তুমি আমার বোন। কাজেই তুমি আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করো না। অতঃপর সারাকে আনার জন্য লোক পাঠালো। তিনি যখন তার নিকট প্রবেশ করলেন এবং রাজা তাঁর দিকে হাত বাড়ালো তখনই সে পাকড়াও হল। তখন অত্যাচারী রাজা সারাকে বলল, আমার জন্য আল্লাহর নিকট দু’আ কর, আমি তোমার কোন ক্ষতি করব না। তখন সারা আল্লাহর নিকট দু’আ করলেন। ফলে সে মুক্তি পেয়ে গেল। অতঃপর দ্বিতীয়বার তাঁকে ধরতে চাইল। এবার সে পূর্বের মত বা তার চেয়ে কঠিনভাবে পাকড়াও হলে। এবারও সে বলল, আল্লাহর নিকট আমার জন্য দু’আ কর। আমি তোমার কোন ক্ষতি করব না। আবারও তিনি দু’আ করলেন, ফলে সে মুক্তি পেয়ে গেল। অতঃপর রাজা তার এক দারোয়ানকে ডাকল। সে তাকে বলল, তুমি তো আমার নিকট কোন মানুষ আননি। বরং এনেছ এক শয়তান। অতঃপর রাজা সারার খিদমতের জন্য হাযেরাকে দান করল। অতঃপর তিনি (সারা) তাঁর (ইবরাহীম) নিকট আসলেন, তিনি দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করছিলেন। তখন তিনি হাত দ্বারা ইশারা করে সারাকে বললেন, কি ঘটেছে? তখন সারা বললেন, আল্লাহ কাফির বা ফাসিকের চক্রান্ত তারই বুকে ফিরিয়ে দিয়েছেন। আর সে হাযেরাকে খিদমতের জন্য দান করেছে। আবূ হুরায়রা (রাঃ) বলেন, হে আকাশের পানির ছেলেরা![১] হাযেরাই তোমাদের আদি মাতা।

حدثنا محمد بن محبوب، حدثنا حماد بن زيد، عن أيوب، عن محمد، عن أبي هريرة ـ رضى الله عنه ـ قال لم يكذب إبراهيم ـ عليه السلام ـ إلا ثلاث كذبات ثنتين منهن في ذات الله عز وجل، قوله ‏{‏إني سقيم ‏}‏ وقوله ‏{‏بل فعله كبيرهم هذا‏}‏، وقال بينا هو ذات يوم وسارة إذ أتى على جبار من الجبابرة فقيل له إن ها هنا رجلا معه امرأة من أحسن الناس، فأرسل إليه، فسأله عنها‏.‏ فقال من هذه قال أختي، فأتى سارة قال يا سارة، ليس على وجه الأرض مؤمن غيري وغيرك، وإن هذا سألني، فأخبرته أنك أختي فلا تكذبيني‏.‏ فأرسل إليها، فلما دخلت عليه ذهب يتناولها بيده، فأخذ فقال ادعي الله لي ولا أضرك‏.‏ فدعت الله فأطلق، ثم تناولها الثانية، فأخذ مثلها أو أشد فقال ادعي الله لي ولا أضرك‏.‏ فدعت فأطلق‏.‏ فدعا بعض حجبته فقال إنكم لم تأتوني بإنسان، إنما أتيتموني بشيطان‏.‏ فأخدمها هاجر فأتته، وهو قائم يصلي، فأومأ بيده مهيا قالت رد الله كيد الكافر ـ أو الفاجر ـ في نحره، وأخدم هاجر‏.‏ قال أبو هريرة تلك أمكم يا بني ماء السماء‏.‏


সহিহ বুখারী ৩৩৬০

حدثنا عمر بن حفص بن غياث، حدثنا أبي، حدثنا الأعمش، قال حدثني إبراهيم، عن علقمة، عن عبد الله ـ رضى الله عنه ـ قال لما نزلت ‏{‏الذين آمنوا ولم يلبسوا إيمانهم بظلم‏}‏ قلنا يا رسول الله أينا لا يظلم نفسه قال ‏"‏ ليس كما تقولون ‏{‏لم يلبسوا إيمانهم بظلم‏}‏ بشرك، أولم تسمعوا إلى قول لقمان لابنه ‏{‏يا بنى لا تشرك بالله إن الشرك لظلم عظيم ‏}‏‏"‏‏.‏

‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ যারা ঈমান এনেছে এবং তারা তাদের ঈমানকে যুলুম দ্বারা কলুষিত করেনি- (আল-আন্‌’আম ৮২)। তখন আমরা বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমাদের মধ্যে কে এমন আছে, যে নিজের উপর যুল্‌ম করেনি? তিনি বললেন, তোমরা যা বলছ ব্যাপারটি তা নয়। বরং তাদের ঈমানকে ‘যুল্‌ম’ অর্থাৎ শির্‌ক দ্বারা কলূষিত করেনি। তোমরা কি লুকমানের কথা শুননি? তিনি তাঁর পুত্রকে বলেছিলেন, “হে বৎস! আল্লাহ্‌র সঙ্গে কোন রকম শির্‌ক করো না। নিশ্চয় শির্‌ক একটা বিরাট যুল্‌ম”। (লুকমানঃ ১৩)

‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, যখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়ঃ যারা ঈমান এনেছে এবং তারা তাদের ঈমানকে যুলুম দ্বারা কলুষিত করেনি- (আল-আন্‌’আম ৮২)। তখন আমরা বললাম, হে আল্লাহ্‌র রাসূল! আমাদের মধ্যে কে এমন আছে, যে নিজের উপর যুল্‌ম করেনি? তিনি বললেন, তোমরা যা বলছ ব্যাপারটি তা নয়। বরং তাদের ঈমানকে ‘যুল্‌ম’ অর্থাৎ শির্‌ক দ্বারা কলূষিত করেনি। তোমরা কি লুকমানের কথা শুননি? তিনি তাঁর পুত্রকে বলেছিলেন, “হে বৎস! আল্লাহ্‌র সঙ্গে কোন রকম শির্‌ক করো না। নিশ্চয় শির্‌ক একটা বিরাট যুল্‌ম”। (লুকমানঃ ১৩)

حدثنا عمر بن حفص بن غياث، حدثنا أبي، حدثنا الأعمش، قال حدثني إبراهيم، عن علقمة، عن عبد الله ـ رضى الله عنه ـ قال لما نزلت ‏{‏الذين آمنوا ولم يلبسوا إيمانهم بظلم‏}‏ قلنا يا رسول الله أينا لا يظلم نفسه قال ‏"‏ ليس كما تقولون ‏{‏لم يلبسوا إيمانهم بظلم‏}‏ بشرك، أولم تسمعوا إلى قول لقمان لابنه ‏{‏يا بنى لا تشرك بالله إن الشرك لظلم عظيم ‏}‏‏"‏‏.‏


🔄 লোড হচ্ছে...
লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00