সহিহ বুখারী > পরাজয়ের সময় সঙ্গীদের সারিবদ্ধ করা, নিজের সওয়ারী থেকে নামা ও আল্লাহ্‌র সাহায্য প্রার্থনা করা।

সহিহ বুখারী ২৯৩০

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي أُوَيْسٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ عُقْبَةَ، عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ ـ رضى الله عنه ـ أَنَّ رِجَالاً، مِنَ الأَنْصَارِ اسْتَأْذَنُوا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا يَا رَسُولَ اللَّهِ ائْذَنْ فَلْنَتْرُكْ لاِبْنِ أُخْتِنَا عَبَّاسٍ فِدَاءَهُ‏.‏ فَقَالَ ‏ ‏ لاَ تَدَعُونَ مِنْهَا دِرْهَمًا ‏" ‏‏‏

বারা’ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তাকে এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, হে আবূ উমারা! হুনায়নের দিন আপনারা কি পলায়ন করেছিলেন? তিনি বললেন, না, আল্লাহ্‌র কসম, আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পলায়ন করেননি। বরং তাঁর কিছু সংখ্যক নওজোয়ান সাহাবী হাতিয়ার ছাড়াই অগ্রসর হয়ে গিয়েছিলেন। তারা বনূ হাওয়াযিন ও বনূ নাসর গোত্রের সুদক্ষ তীরন্দাজদের সম্মুখীন হন। তাদের কোন তীরই লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়নি। তারা এদের প্রতি এমনভাবে তীর বর্ষণ করল যে, তাদের কোন তীরই ব্যর্থ হয়নি। সেখান থেকে তারা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে উপস্থিত হলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তখন তাঁর সাদা খচ্ছরটির পিঠে ছিলেন এবং তাঁর চাচাতো ভাই আবূ সুফিয়ান ইব্‌নু হারিস ইব্‌নু ‘আবদুল মুত্তালিব তাঁর লাগাম ধরে ছিলেন। তখন তিনি নামেন এবং আল্লাহ্‌র সাহায্য প্রার্থনা করেন। অতঃপর তিনি বলেন, আমি নবী, এ কথা মিথ্যা নয়। আমি ‘আবদুল মুত্তালিবের পুত্র। অতঃপর তিনি সাহাবীদের সারিবদ্ধ করেন।


সহিহ বুখারী > মুশরিকদের পরাজিত ও প্রকম্পিত করার দু‘আ।

সহিহ বুখারী ২৯৩১

وَقَالَ إِبْرَاهِيمُ عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ بْنِ صُهَيْبٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ أُتِيَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِمَالٍ مِنَ الْبَحْرَيْنِ، فَجَاءَهُ الْعَبَّاسُ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَعْطِنِي فَإِنِّي فَادَيْتُ نَفْسِي، وَفَادَيْتُ عَقِيلاً‏.‏ فَقَالَ ‏ ‏ خُذْ ‏" ‏‏‏ فَأَعْطَاهُ فِي ثَوْبِهِ‏‏

‘আলী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আহযাব যুদ্ধের দিন আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দু‘আ করেন, ‘আল্লাহ্‌ তাদের (মুশরিকদের) ঘর ও কবর আগুনে পূর্ণ করুন। কেননা তারা মধ্যম সালাত (তথা ‘আসরের সালাত) থেকে আমাদেরকে ব্যস্ত করে রেখেছে, এমনকি সূর্য অস্তমিত হয়ে যায়।’


সহিহ বুখারী ২৯৩২

حَدَّثَنِي مَحْمُودٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنْ أَبِيهِ ـ وَكَانَ جَاءَ فِي أُسَارَى بَدْرٍ ـ قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَقْرَأُ فِي الْمَغْرِبِ بِالطُّورِ‏.‏

আবূ হুরায়রা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কুনূতে নাযিলায় এই দু‘আ করতেন, ‘হে আল্লাহ্‌! আপনি সালামা ইব্‌নু হিশামকে নাজাত দিন। হে আল্লাহ্‌! ওয়ালিদ ইব্‌নু ওয়ালীদকে নাজাত দিন। হে আল্লাহ্‌! আয়্যাশ ইব্‌নু আবী বারী‘আ-কে নাজাত দিন। হে আল্লাহ্‌! দুর্বল মুমিনদের নাজাত দিন। হে আল্লাহ্‌! মুযার গোত্রকে সমূলে উৎপাটিত করুন। হে আল্লাহ্‌! কাফিরদের উপর ইউসুফ (‘আঃ)-এর সময়ের দুর্ভিক্ষের মত দুর্ভিক্ষ নাযিল করুন।’


সহিহ বুখারী ২৯৩৩

حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، حَدَّثَنَا أَبُو الْعُمَيْسِ، عَنْ إِيَاسِ بْنِ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ أَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَيْنٌ مِنَ الْمُشْرِكِينَ وَهْوَ فِي سَفَرٍ، فَجَلَسَ عِنْدَ أَصْحَابِهِ يَتَحَدَّثُ ثُمَّ انْفَتَلَ، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏ ‏ اطْلُبُوهُ وَاقْتُلُوهُ ‏" ‏‏‏ فَقَتَلَهُ فَنَفَّلَهُ سَلَبَهُ‏‏

‘আবদুল্লাহ ইব্‌নু আওফা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আহযাবের দিনে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এই বলে মুশরিকদের বিরুদ্ধে দু‘আ করেছিলেন যে, হে কিতাব নাযিলকারী, সত্বর হিসাব গ্রহণকারী আল্লাহ্‌! হে আল্লাহ্‌! তাদের সকল দলকে পরাজিত করুন। হে আল্লাহ্‌! আপনি তাদের পর্যুদস্ত ও প্রকম্পিত করুন।’


সহিহ বুখারী ২৯৩৪

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ حُصَيْنٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ، عَنْ عُمَرَ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ وَأُوصِيهِ بِذِمَّةِ اللَّهِ وَذِمَّةِ رَسُولِهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُوفَى لَهُمْ بِعَهْدِهِمْ، وَأَنْ يُقَاتَلَ مِنْ وَرَائِهِمْ، وَلاَ يُكَلَّفُوا إِلاَّ طَاقَتَهُمْ‏.‏

‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কা’বার ছায়ায় সালাত আদায় করছিলেন। তখন আবূ জাহল ও কুরায়েশদের কিছু ব্যক্তি পরামর্শ করে। সেই সময় মক্কার বাইরে একটি উট যব্‌হ হয়েছিল। কুরায়শরা একজন পাঠিয়ে সেখান থেকে এর ভুঁড়ি নিয়ে এলো এবং তারা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পিঠে ঢেলে দিল। অতঃপর ফাতিমা (রাঃ) এসে এটি তাঁর থেকে সরিয়ে দিলেন। এই সময় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের বিরুদ্ধে দু‘আ করেন, হে আল্লাহ্‌! আপনি কুরায়শদের ধ্বংস করুন। হে আল্লাহ্‌! আপনি কুরায়শদের ধ্বংস করুন। হে আল্লাহ্‌! আপনি কুরায়শদের ধ্বংস করুন। অর্থাৎ আবূ জাহ্‌ল, ইব্‌নু হিশাম, উতবা ইব্‌নু রবী‘আহ, শায়বা ইব্‌নু রবীআহ’, ওয়ালীদ ইব্‌নু উতবাহ, ‘উবাই ইব্‌নু খালফ এবং ‘উকবা ইব্‌নু আবী মু’আইত। ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, অতঃপর আমি তাদের সকলকে বদরের একটি পরিত্যক্ত কূয়ায় নিহত দেখেছি। আবূ ইসহাক (রহঃ) বলেন, আমি সপ্তম ব্যক্তির নাম ভুলে গিয়েছি। আবূ ‘আবদুল্লাহ (রহঃ) বলেন, ইউসুফ ইব্‌নু “ইসহাক (রহঃ) আবূ ইসহাক (রহঃ) সূত্রে উমাইয়া ইব্‌নু খালফ বলেছেন। শু‘বাহ (রহঃ) বলেন, উমাইয়া অথবা ‘উবাই। তবে সঠিক হলো উমাইয়াহ।


সহিহ বুখারী ২৯৩৫

حَدَّثَنَا قَبِيصَةُ، حَدَّثَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ سُلَيْمَانَ الأَحْوَلِ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما ـ أَنَّهُ قَالَ يَوْمُ الْخَمِيسِ، وَمَا يَوْمُ الْخَمِيسِ ثُمَّ بَكَى حَتَّى خَضَبَ دَمْعُهُ الْحَصْبَاءَ فَقَالَ اشْتَدَّ بِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَجَعُهُ يَوْمَ الْخَمِيسِ فَقَالَ ‏‏ ائْتُونِي بِكِتَابٍ أَكْتُبْ لَكُمْ كِتَابًا لَنْ تَضِلُّوا بَعْدَهُ أَبَدًا ‏"‏‏.‏ فَتَنَازَعُوا وَلاَ يَنْبَغِي عِنْدَ نَبِيٍّ تَنَازُعٌ فَقَالُوا هَجَرَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم‏.‏ قَالَ ‏"‏ دَعُونِي فَالَّذِي أَنَا فِيهِ خَيْرٌ مِمَّا تَدْعُونِي إِلَيْهِ ‏"‏‏.‏ وَأَوْصَى عِنْدَ مَوْتِهِ بِثَلاَثٍ ‏"‏ أَخْرِجُوا الْمُشْرِكِينَ مِنْ جَزِيرَةِ الْعَرَبِ، وَأَجِيزُوا الْوَفْدَ بِنَحْوِ مَا كُنْتُ أُجِيزُهُمْ ‏"‏‏.‏ وَنَسِيتُ الثَّالِثَةَ‏.‏ وَقَالَ يَعْقُوبُ بْنُ مُحَمَّدٍ سَأَلْتُ الْمُغِيرَةَ بْنَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ عَنْ جَزِيرَةِ الْعَرَبِ‏.‏ فَقَالَ مَكَّةُ وَالْمَدِينَةُ وَالْيَمَامَةُ وَالْيَمَنُ‏.‏ وَقَالَ يَعْقُوبُ وَالْعَرْجُ أَوَّلُ تِهَامَةَ‏.‏"

‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

একদা কয়েকজন ইয়াহূদী আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট আসল এবং বলল, তোমার মরণ হোক। ‘আয়িশা (রাঃ) তাদের অভিশাপ দিলেন। তাতে আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কী হলো? ‘আয়িশা (রাঃ) বললেন, তারা কী বলেছে, আপনি কি তা শুনেননি? আল্লাহ্‌র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমি বলেছি ‘তোমাদের উপর’ তা কি তুমি শোননি?


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية