সহিহ বুখারী > তান‘ঈম হতে ‘উমরা করা।
সহিহ বুখারী ১৭৮৪
حدثنا علي بن عبد الله، حدثنا سفيان، عن عمرو، سمع عمرو بن أوس، أن عبد الرحمن بن أبي بكر ـ رضى الله عنهما ـ أخبره أن النبي صلى الله عليه وسلم أمره أن يردف عائشة، ويعمرها من التنعيم. قال سفيان مرة سمعت عمرا، كم سمعته من عمرو.
‘আবদুর রহমান ইব্নু আবূ বক্র (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে তাঁর সওয়ারীর পিঠে ‘আয়িশা (রাঃ)-কে বসিয়ে তান’ঈম হতে ‘উমরা করানোর নির্দেশ দেন। রাবী সুফিয়ান (রহঃ) একদা বলেন, এ হাদীস আমি ‘আমরের কাছে বহুবার শুনেছি।
‘আবদুর রহমান ইব্নু আবূ বক্র (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁকে তাঁর সওয়ারীর পিঠে ‘আয়িশা (রাঃ)-কে বসিয়ে তান’ঈম হতে ‘উমরা করানোর নির্দেশ দেন। রাবী সুফিয়ান (রহঃ) একদা বলেন, এ হাদীস আমি ‘আমরের কাছে বহুবার শুনেছি।
حدثنا علي بن عبد الله، حدثنا سفيان، عن عمرو، سمع عمرو بن أوس، أن عبد الرحمن بن أبي بكر ـ رضى الله عنهما ـ أخبره أن النبي صلى الله عليه وسلم أمره أن يردف عائشة، ويعمرها من التنعيم. قال سفيان مرة سمعت عمرا، كم سمعته من عمرو.
সহিহ বুখারী ১৭৮৫
حدثنا محمد بن المثنى، حدثنا عبد الوهاب بن عبد المجيد، عن حبيب المعلم، عن عطاء، حدثني جابر بن عبد الله ـ رضى الله عنهما ـ أن النبي صلى الله عليه وسلم أهل وأصحابه بالحج وليس مع أحد منهم هدى، غير النبي صلى الله عليه وسلم وطلحة، وكان علي قدم من اليمن، ومعه الهدى فقال أهللت بما أهل به رسول الله صلى الله عليه وسلم. وإن النبي صلى الله عليه وسلم أذن لأصحابه أن يجعلوها عمرة، يطوفوا بالبيت، ثم يقصروا ويحلوا، إلا من معه الهدى، فقالوا ننطلق إلى منى وذكر أحدنا يقطر فبلغ النبي صلى الله عليه وسلم فقال " لو استقبلت من أمري ما استدبرت ما أهديت، ولولا أن معي الهدى لأحللت ". وأن عائشة حاضت فنسكت المناسك كلها، غير أنها لم تطف بالبيت قال فلما طهرت وطافت، قالت يا رسول الله أتنطلقون بعمرة وحجة، وأنطلق بالحج فأمر عبد الرحمن بن أبي بكر أن يخرج معها إلى التنعيم، فاعتمرت بعد الحج في ذي الحجة، وأن سراقة بن مالك بن جعشم لقي النبي صلى الله عليه وسلم وهو بالعقبة، وهو يرميها، فقال ألكم هذه خاصة، يا رسول الله قال " لا، بل للأبد ".
জাবির ইব্নু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণ হজ্জের ইহরাম বেঁধেছিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তালহা (রাঃ) ব্যতীত কারো সাথে কুরবানীর পশু ছিলনা। আর ‘আলী (রাঃ) ইয়ামান হতে এলেন এবং তাঁর সঙ্গে কুরবানীর পশু ছিল। তিনি বলেছিলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে বিষয়ে ইহরাম বেঁধেছেন, আমিও তার ইহ্রাম বাঁধলাম। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ ইহ্রামকে 'উমরায় পরিণত করতে এবং তাওয়াফ করে এরপরে মাথার চুল ছোট করে হালাল হয়ে যেতে নির্দেশ দিলেন। তবে যাদের সঙ্গে কুরবানীর জানোয়ার রয়েছে (তারা হালাল হবে না)। তাঁরা বললেন, আমরা মিনার দিকে রওয়ানা হবো এমতাবস্থায় আমাদের কেউ স্ত্রীর সাথে সহবাস করে এসেছে। এ সংবাদ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকটে পৌঁছলে তিনি বললেনঃ যদি আমি এ ব্যাপার পূর্বে জানতাম, যা পরে জানতে পারলাম, তাহলে কুরবানীর জানোয়ার সঙ্গে আনতাম না। আর যদি কুরবানীর পশু আমার সাথে না থাকত অবশ্যই আমি হালাল হয়ে যেতাম। আর ‘আয়িশা (রাঃ) -এর ঋতু দেখা দিল। তিনি বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ব্যতীত হজ্জের সব কাজই সম্পন্ন করে নিলেন। রাবী বলেন, এরপর যখন তিনি পাক হলেন এবং তাওয়াফ করলেন, তখন বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনারা তো হজ্জ এবং ‘উমরা ইভয়টি পালন করে ফিরছেন, আমি কি শুধু হজ্জ করেই ফিরব? তখন আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘আবদুর রহমান ইব্নু আবূ বকর (রাঃ) -কে নির্দেশ দিলেন তাকে সঙ্গে নিয়ে তান‘ঈম যেতে। অতঃপর যুলহজ্জ মাসেই হজ্জ আদায়ের পর ‘আয়িশা (রাঃ) ‘উমরা আদায় করলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন জামরাতুল ‘আকাবায় কঙ্কর মারছিলেন তখন সুরাকা ইব্নু মালিক ইব্নু জু‘শুম (রাঃ) -এর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এ হজ্জের মাসে ‘উমরা আদায় করা কি আপনাদের জন্য খাস? আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ না, এতো চিরদিনের (সকলের) জন্য।
জাবির ইব্নু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর সাহাবীগণ হজ্জের ইহরাম বেঁধেছিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তালহা (রাঃ) ব্যতীত কারো সাথে কুরবানীর পশু ছিলনা। আর ‘আলী (রাঃ) ইয়ামান হতে এলেন এবং তাঁর সঙ্গে কুরবানীর পশু ছিল। তিনি বলেছিলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে বিষয়ে ইহরাম বেঁধেছেন, আমিও তার ইহ্রাম বাঁধলাম। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ ইহ্রামকে 'উমরায় পরিণত করতে এবং তাওয়াফ করে এরপরে মাথার চুল ছোট করে হালাল হয়ে যেতে নির্দেশ দিলেন। তবে যাদের সঙ্গে কুরবানীর জানোয়ার রয়েছে (তারা হালাল হবে না)। তাঁরা বললেন, আমরা মিনার দিকে রওয়ানা হবো এমতাবস্থায় আমাদের কেউ স্ত্রীর সাথে সহবাস করে এসেছে। এ সংবাদ নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকটে পৌঁছলে তিনি বললেনঃ যদি আমি এ ব্যাপার পূর্বে জানতাম, যা পরে জানতে পারলাম, তাহলে কুরবানীর জানোয়ার সঙ্গে আনতাম না। আর যদি কুরবানীর পশু আমার সাথে না থাকত অবশ্যই আমি হালাল হয়ে যেতাম। আর ‘আয়িশা (রাঃ) -এর ঋতু দেখা দিল। তিনি বায়তুল্লাহর তাওয়াফ ব্যতীত হজ্জের সব কাজই সম্পন্ন করে নিলেন। রাবী বলেন, এরপর যখন তিনি পাক হলেন এবং তাওয়াফ করলেন, তখন বললেন, হে আল্লাহর রসূল! আপনারা তো হজ্জ এবং ‘উমরা ইভয়টি পালন করে ফিরছেন, আমি কি শুধু হজ্জ করেই ফিরব? তখন আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘আবদুর রহমান ইব্নু আবূ বকর (রাঃ) -কে নির্দেশ দিলেন তাকে সঙ্গে নিয়ে তান‘ঈম যেতে। অতঃপর যুলহজ্জ মাসেই হজ্জ আদায়ের পর ‘আয়িশা (রাঃ) ‘উমরা আদায় করলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন জামরাতুল ‘আকাবায় কঙ্কর মারছিলেন তখন সুরাকা ইব্নু মালিক ইব্নু জু‘শুম (রাঃ) -এর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়। তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! এ হজ্জের মাসে ‘উমরা আদায় করা কি আপনাদের জন্য খাস? আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ না, এতো চিরদিনের (সকলের) জন্য।
حدثنا محمد بن المثنى، حدثنا عبد الوهاب بن عبد المجيد، عن حبيب المعلم، عن عطاء، حدثني جابر بن عبد الله ـ رضى الله عنهما ـ أن النبي صلى الله عليه وسلم أهل وأصحابه بالحج وليس مع أحد منهم هدى، غير النبي صلى الله عليه وسلم وطلحة، وكان علي قدم من اليمن، ومعه الهدى فقال أهللت بما أهل به رسول الله صلى الله عليه وسلم. وإن النبي صلى الله عليه وسلم أذن لأصحابه أن يجعلوها عمرة، يطوفوا بالبيت، ثم يقصروا ويحلوا، إلا من معه الهدى، فقالوا ننطلق إلى منى وذكر أحدنا يقطر فبلغ النبي صلى الله عليه وسلم فقال " لو استقبلت من أمري ما استدبرت ما أهديت، ولولا أن معي الهدى لأحللت ". وأن عائشة حاضت فنسكت المناسك كلها، غير أنها لم تطف بالبيت قال فلما طهرت وطافت، قالت يا رسول الله أتنطلقون بعمرة وحجة، وأنطلق بالحج فأمر عبد الرحمن بن أبي بكر أن يخرج معها إلى التنعيم، فاعتمرت بعد الحج في ذي الحجة، وأن سراقة بن مالك بن جعشم لقي النبي صلى الله عليه وسلم وهو بالعقبة، وهو يرميها، فقال ألكم هذه خاصة، يا رسول الله قال " لا، بل للأبد ".
সহিহ বুখারী > হজ্জের পর কুরবানী ব্যতীত ‘উমরা আদায় করা।
সহিহ বুখারী ১৭৮৬
حدثنا محمد بن المثنى، حدثنا يحيى، حدثنا هشام، قال أخبرني أبي قال، أخبرتني عائشة ـ رضى الله عنها ـ قالت خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم موافين لهلال ذي الحجة، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " من أحب أن يهل بعمرة فليهل، ومن أحب أن يهل بحجة فليهل، ولولا أني أهديت لأهللت بعمرة ". فمنهم من أهل بعمرة، ومنهم من أهل بحجة، وكنت ممن أهل بعمرة، فحضت قبل أن أدخل مكة، فأدركني يوم عرفة، وأنا حائض، فشكوت إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال " دعي عمرتك، وانقضي رأسك وامتشطي، وأهلي بالحج ". ففعلت، فلما كانت ليلة الحصبة أرسل معي عبد الرحمن إلى التنعيم، فأردفها، فأهلت بعمرة مكان عمرتها، فقضى الله حجها وعمرتها، ولم يكن في شىء من ذلك هدى، ولا صدقة، ولا صوم.
‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, যখন যুলহজ্জ মাস আগত প্রায়, তখন আমরা আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সঙ্গে রওয়ানা দিলাম। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ যে ব্যক্তি ‘উমরা’র ইহ্রাম বাঁধতে চায়, সে যেন ‘উমরা’র ইহ্রাম বেঁধে নেয়। আর যে ব্যক্তি হজ্জের ইহ্রাম বাঁধতে চায় সে যেন হজ্জের ইহ্রাম বেঁধে নেয়। আমি যদি কুরবানীর জানোয়ার সঙ্গে না আনতাম তাহলে অবশ্যই ‘উমরা’র ইহ্রাম বাঁধতাম। তাই তাঁদের কেউ ‘উমরা’র ইহ্রাম বাঁধলেন আর কেউ হজ্জের ইহ্রাম বাঁধলেন। যারা ‘উমরা’র ইহ্রাম বেঁধেছিলেন, আমি তাদের মধ্যে একজন। এরপর মক্কা পৌঁছার আগেই আমার ঋতু দেখা দিল। ‘আরাফার দিবস চলে এল, আর আমি ঋতুবতী অবস্থায় ছিলাম। অতঃপর আমার এ অসুবিধার কথা আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকত বললাম। তিনি বললেনঃ ‘উমরা ছেড়ে দাও। আর বেণী খুলে মাথা আঁচড়িয়ে নাও। অতঃপর হজ্জের ইহ্রাম বেঁধে নাও। আমি তাই করলাম। মুহাস্সাবের রাতে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার সাথে আবদুর রহমানকে তান‘ঈম পাঠালেন। (রাবী বলেন) আবদুর রহমান (রাঃ) তাঁকে সাওয়ারীতে নিজের পিছনে বসিয়ে নিলেন। অতঃপর ‘আয়িশা (রাঃ) আগের ‘উমরা’র স্থলে নতুন ‘উমরা’র ইহ্রাম বাঁধলেন। এমনিভাবেই আল্লাহ তা’আলা তাঁর হজ্জ এবং ‘উমরা উভয়টিই পুরা করালেন। বর্ণনাকারী বলেন, এর কোন ক্ষেত্রেই (দম হিসেবে) কুরবানী বা সদাকাহ দিতে কিংবা সিয়াম পালন করতে হয়নি।
‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, যখন যুলহজ্জ মাস আগত প্রায়, তখন আমরা আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সঙ্গে রওয়ানা দিলাম। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ যে ব্যক্তি ‘উমরা’র ইহ্রাম বাঁধতে চায়, সে যেন ‘উমরা’র ইহ্রাম বেঁধে নেয়। আর যে ব্যক্তি হজ্জের ইহ্রাম বাঁধতে চায় সে যেন হজ্জের ইহ্রাম বেঁধে নেয়। আমি যদি কুরবানীর জানোয়ার সঙ্গে না আনতাম তাহলে অবশ্যই ‘উমরা’র ইহ্রাম বাঁধতাম। তাই তাঁদের কেউ ‘উমরা’র ইহ্রাম বাঁধলেন আর কেউ হজ্জের ইহ্রাম বাঁধলেন। যারা ‘উমরা’র ইহ্রাম বেঁধেছিলেন, আমি তাদের মধ্যে একজন। এরপর মক্কা পৌঁছার আগেই আমার ঋতু দেখা দিল। ‘আরাফার দিবস চলে এল, আর আমি ঋতুবতী অবস্থায় ছিলাম। অতঃপর আমার এ অসুবিধার কথা আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর নিকত বললাম। তিনি বললেনঃ ‘উমরা ছেড়ে দাও। আর বেণী খুলে মাথা আঁচড়িয়ে নাও। অতঃপর হজ্জের ইহ্রাম বেঁধে নাও। আমি তাই করলাম। মুহাস্সাবের রাতে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার সাথে আবদুর রহমানকে তান‘ঈম পাঠালেন। (রাবী বলেন) আবদুর রহমান (রাঃ) তাঁকে সাওয়ারীতে নিজের পিছনে বসিয়ে নিলেন। অতঃপর ‘আয়িশা (রাঃ) আগের ‘উমরা’র স্থলে নতুন ‘উমরা’র ইহ্রাম বাঁধলেন। এমনিভাবেই আল্লাহ তা’আলা তাঁর হজ্জ এবং ‘উমরা উভয়টিই পুরা করালেন। বর্ণনাকারী বলেন, এর কোন ক্ষেত্রেই (দম হিসেবে) কুরবানী বা সদাকাহ দিতে কিংবা সিয়াম পালন করতে হয়নি।
حدثنا محمد بن المثنى، حدثنا يحيى، حدثنا هشام، قال أخبرني أبي قال، أخبرتني عائشة ـ رضى الله عنها ـ قالت خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم موافين لهلال ذي الحجة، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " من أحب أن يهل بعمرة فليهل، ومن أحب أن يهل بحجة فليهل، ولولا أني أهديت لأهللت بعمرة ". فمنهم من أهل بعمرة، ومنهم من أهل بحجة، وكنت ممن أهل بعمرة، فحضت قبل أن أدخل مكة، فأدركني يوم عرفة، وأنا حائض، فشكوت إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال " دعي عمرتك، وانقضي رأسك وامتشطي، وأهلي بالحج ". ففعلت، فلما كانت ليلة الحصبة أرسل معي عبد الرحمن إلى التنعيم، فأردفها، فأهلت بعمرة مكان عمرتها، فقضى الله حجها وعمرتها، ولم يكن في شىء من ذلك هدى، ولا صدقة، ولا صوم.
সহিহ বুখারী > কষ্ট অনুপাতে ‘উমরা’র আজর (নেকী)।
সহিহ বুখারী ১৭৮৭
حدثنا مسدد، حدثنا يزيد بن زريع، حدثنا ابن عون، عن القاسم بن محمد، وعن ابن عون، عن إبراهيم، عن الأسود، قالا قالت عائشة ـ رضى الله عنها ـ يا رسول الله يصدر الناس بنسكين وأصدر بنسك فقيل لها " انتظري، فإذا طهرت فاخرجي إلى التنعيم، فأهلي ثم ائتينا بمكان كذا، ولكنها على قدر نفقتك، أو نصبك ".
আসওয়াদ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
‘আয়িশা (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল! সাহাবীগণ ফিরছেন দু’টি নুসূক (অর্থাৎ হজ্জ এবং উমরাহ্) পালন করে আর আমি ফিরছি একটি নুসূক (শুধু হজ্জ) আদায় করে। তাঁকে বলা হল, অপেক্ষা কর। পরে যখন তুমি পবিত্র হবে তখন তান‘ঈমে গিয়ে ইহ্রাম বাঁধবে এরপর অমুক স্থানে আমাদের কাছে আসবে। এ ‘উমরা (এর সওয়াব) হবে তোমার খরচ বা কষ্ট অনুপাতে।
আসওয়াদ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
‘আয়িশা (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহ্র রসূল! সাহাবীগণ ফিরছেন দু’টি নুসূক (অর্থাৎ হজ্জ এবং উমরাহ্) পালন করে আর আমি ফিরছি একটি নুসূক (শুধু হজ্জ) আদায় করে। তাঁকে বলা হল, অপেক্ষা কর। পরে যখন তুমি পবিত্র হবে তখন তান‘ঈমে গিয়ে ইহ্রাম বাঁধবে এরপর অমুক স্থানে আমাদের কাছে আসবে। এ ‘উমরা (এর সওয়াব) হবে তোমার খরচ বা কষ্ট অনুপাতে।
حدثنا مسدد، حدثنا يزيد بن زريع، حدثنا ابن عون، عن القاسم بن محمد، وعن ابن عون، عن إبراهيم، عن الأسود، قالا قالت عائشة ـ رضى الله عنها ـ يا رسول الله يصدر الناس بنسكين وأصدر بنسك فقيل لها " انتظري، فإذا طهرت فاخرجي إلى التنعيم، فأهلي ثم ائتينا بمكان كذا، ولكنها على قدر نفقتك، أو نصبك ".
সহিহ বুখারী > ‘উমরা আদায়কারী ‘উমরা’র তাওয়াফ করেই রওয়ানা হলে, তা কি তার জন্য বিদায়ী তাওয়াফের বদলে যথেষ্ট হবে?
সহিহ বুখারী ১৭৮৮
حدثنا أبو نعيم، حدثنا أفلح بن حميد، عن القاسم، عن عائشة ـ رضى الله عنها ـ قالت خرجنا مهلين بالحج في أشهر الحج، وحرم الحج، فنزلنا سرف، فقال النبي صلى الله عليه وسلم لأصحابه " من لم يكن معه هدى، فأحب أن يجعلها عمرة، فليفعل ومن كان معه هدى فلا ". وكان مع النبي صلى الله عليه وسلم ورجال من أصحابه ذوي قوة الهدى، فلم تكن لهم عمرة، فدخل على النبي صلى الله عليه وسلم وأنا أبكي فقال " ما يبكيك ". قلت سمعتك تقول لأصحابك ما قلت فمنعت العمرة. قال " وما شأنك ". قلت لا أصلي. قال " فلا يضرك أنت من بنات آدم، كتب عليك ما كتب عليهن، فكوني في حجتك عسى الله أن يرزقكها ". قالت فكنت حتى نفرنا من منى، فنزلنا المحصب فدعا عبد الرحمن، فقال " اخرج بأختك الحرم، فلتهل بعمرة، ثم افرغا من طوافكما، أنتظركما ها هنا ". فأتينا في جوف الليل. فقال " فرغتما ". قلت نعم. فنادى بالرحيل في أصحابه، فارتحل الناس، ومن طاف بالبيت، قبل صلاة الصبح، ثم خرج موجها إلى المدينة.
‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমরা আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সঙ্গে হজ্জের ইহ্রাম বেঁধে বের হলাম, হজ্জের মাসে এবং হজ্জের কার্যাদি পালনের উদ্দেশ্যে। যখন সারিফ নামক স্থানে অবতরণ করলাম, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাহাবাগণকে বললেনঃ যার সাথে কুরবানীর জানোয়ার নেই এবং সে এই ইহরামকে ‘উমরায় পরিণত করতে চায়, সে যেন তা করে নেয় (অর্থাৎ ‘উমরা করে হালাল হয়)। আর যার সাথে কুরবানীর জানোয়ার আছে সে এরূপ করবে না (অর্থাৎ হালাল হতে পারবে না)। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর কয়েকজন সমর্থ সাহাবীর নিকট কুরবানীর জানোয়ার ছিল তাঁদের হজ্জ ‘উমরায় পরিণত হল না। [‘আয়িশা (রাঃ) বললেন] আমি কাঁদছিলাম, এমতাবস্থায় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার নিকট এসে বললেনঃ তোমাকে কিসে কাঁদাচ্ছে? আমি বললাম, আপনি আপনার সাহাবীগণকে যা বলেছেন, আমি তা শুনেছি। আমি তো ‘উমরা হতে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে গেছি। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমার কী অবস্থা? আমি বললাম, আমি তো সালাত আদায় করছি না (ঋতুবতী অবস্থায়)। তিনি বললেনঃ এতে তোমার ক্ষতি হবে না। তুমি তো আদম কন্যাদেরই একজন। তাদের অদৃষ্টে যা লেখা ছিল তোমার জন্যেও তা লিখিত হয়েছে। সুতরাং তুমি তোমার হজ্জ আদায় কর। সম্ভবতঃ আল্লাহ্ তা’আলা তোমাকে ‘উমরাও দান করবেন। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি এ অবস্থায়ই থেকে গেলাম এবং পরে মিনা হতে প্রত্যাবর্তন করে মুহাস্সাবে অবতরণ করলাম। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘আবদুর রহমান [‘আয়িশা (রাঃ) -এর সহোদর ভাই] (রাঃ) -কে ডেকে বললেনঃ তুমি তোমার বোনকে হারামের বাইরে নিয়ে যাও। সেখান হতে যেন সে ‘উমরা’র ইহ্রাম বাঁধে। অতঃপর তোমরা তাওয়াফ করে নিবে। আমি তোমাদের জন্য এখানে অপেক্ষা করব। আমরা মধ্যরাতে এলাম। তিনি বললেনঃ তোমরা কি তাওয়াফ সমাধা করেছ? আমি বললাম, হাঁ। এ সময় তিনি সাহাবীগণকে রওয়ানা হওয়ার ঘোষণা দিলেন। তাই লোকজন এবং যাঁরা ফজরের পূর্বে তাওয়াফ করেছিলেন তাঁরা রওয়ানা হলেন। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাদীনাহ অভিমুখে রওয়ানা হলেন।
‘আয়িশা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমরা আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সঙ্গে হজ্জের ইহ্রাম বেঁধে বের হলাম, হজ্জের মাসে এবং হজ্জের কার্যাদি পালনের উদ্দেশ্যে। যখন সারিফ নামক স্থানে অবতরণ করলাম, তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর সাহাবাগণকে বললেনঃ যার সাথে কুরবানীর জানোয়ার নেই এবং সে এই ইহরামকে ‘উমরায় পরিণত করতে চায়, সে যেন তা করে নেয় (অর্থাৎ ‘উমরা করে হালাল হয়)। আর যার সাথে কুরবানীর জানোয়ার আছে সে এরূপ করবে না (অর্থাৎ হালাল হতে পারবে না)। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও তাঁর কয়েকজন সমর্থ সাহাবীর নিকট কুরবানীর জানোয়ার ছিল তাঁদের হজ্জ ‘উমরায় পরিণত হল না। [‘আয়িশা (রাঃ) বললেন] আমি কাঁদছিলাম, এমতাবস্থায় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার নিকট এসে বললেনঃ তোমাকে কিসে কাঁদাচ্ছে? আমি বললাম, আপনি আপনার সাহাবীগণকে যা বলেছেন, আমি তা শুনেছি। আমি তো ‘উমরা হতে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে গেছি। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমার কী অবস্থা? আমি বললাম, আমি তো সালাত আদায় করছি না (ঋতুবতী অবস্থায়)। তিনি বললেনঃ এতে তোমার ক্ষতি হবে না। তুমি তো আদম কন্যাদেরই একজন। তাদের অদৃষ্টে যা লেখা ছিল তোমার জন্যেও তা লিখিত হয়েছে। সুতরাং তুমি তোমার হজ্জ আদায় কর। সম্ভবতঃ আল্লাহ্ তা’আলা তোমাকে ‘উমরাও দান করবেন। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি এ অবস্থায়ই থেকে গেলাম এবং পরে মিনা হতে প্রত্যাবর্তন করে মুহাস্সাবে অবতরণ করলাম। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘আবদুর রহমান [‘আয়িশা (রাঃ) -এর সহোদর ভাই] (রাঃ) -কে ডেকে বললেনঃ তুমি তোমার বোনকে হারামের বাইরে নিয়ে যাও। সেখান হতে যেন সে ‘উমরা’র ইহ্রাম বাঁধে। অতঃপর তোমরা তাওয়াফ করে নিবে। আমি তোমাদের জন্য এখানে অপেক্ষা করব। আমরা মধ্যরাতে এলাম। তিনি বললেনঃ তোমরা কি তাওয়াফ সমাধা করেছ? আমি বললাম, হাঁ। এ সময় তিনি সাহাবীগণকে রওয়ানা হওয়ার ঘোষণা দিলেন। তাই লোকজন এবং যাঁরা ফজরের পূর্বে তাওয়াফ করেছিলেন তাঁরা রওয়ানা হলেন। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাদীনাহ অভিমুখে রওয়ানা হলেন।
حدثنا أبو نعيم، حدثنا أفلح بن حميد، عن القاسم، عن عائشة ـ رضى الله عنها ـ قالت خرجنا مهلين بالحج في أشهر الحج، وحرم الحج، فنزلنا سرف، فقال النبي صلى الله عليه وسلم لأصحابه " من لم يكن معه هدى، فأحب أن يجعلها عمرة، فليفعل ومن كان معه هدى فلا ". وكان مع النبي صلى الله عليه وسلم ورجال من أصحابه ذوي قوة الهدى، فلم تكن لهم عمرة، فدخل على النبي صلى الله عليه وسلم وأنا أبكي فقال " ما يبكيك ". قلت سمعتك تقول لأصحابك ما قلت فمنعت العمرة. قال " وما شأنك ". قلت لا أصلي. قال " فلا يضرك أنت من بنات آدم، كتب عليك ما كتب عليهن، فكوني في حجتك عسى الله أن يرزقكها ". قالت فكنت حتى نفرنا من منى، فنزلنا المحصب فدعا عبد الرحمن، فقال " اخرج بأختك الحرم، فلتهل بعمرة، ثم افرغا من طوافكما، أنتظركما ها هنا ". فأتينا في جوف الليل. فقال " فرغتما ". قلت نعم. فنادى بالرحيل في أصحابه، فارتحل الناس، ومن طاف بالبيت، قبل صلاة الصبح، ثم خرج موجها إلى المدينة.