সহিহ বুখারী > আবদুল কায়েস গোত্রের প্রতিনিধি দলকে ঈমান ও ‘ইলমের রক্ষণাবেক্ষণ এবং পরবর্তীদেরকে তা জানিয়ে দেয়ার ব্যাপারে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উদ্বুদ্ধুকরণ।
সহিহ বুখারী ৮৭
حدثنا محمد بن بشار، قال حدثنا غندر، قال حدثنا شعبة، عن أبي جمرة، قال كنت أترجم بين ابن عباس وبين الناس فقال إن وفد عبد القيس أتوا النبي صلى الله عليه وسلم فقال " من الوفد ـ أو من القوم ". قالوا ربيعة. فقال " مرحبا بالقوم ـ أو بالوفد ـ غير خزايا ولا ندامى ". قالوا إنا نأتيك من شقة بعيدة، وبيننا وبينك هذا الحى من كفار مضر، ولا نستطيع أن نأتيك إلا في شهر حرام فمرنا بأمر نخبر به من وراءنا، ندخل به الجنة. فأمرهم بأربع، ونهاهم عن أربع أمرهم بالإيمان بالله عز وجل وحده. قال " هل تدرون ما الإيمان بالله وحده ". قالوا الله ورسوله أعلم. قال " شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله، وإقام الصلاة، وإيتاء الزكاة، وصوم رمضان، وتعطوا الخمس من المغنم ". ونهاهم عن الدباء والحنتم والمزفت. قال شعبة ربما قال النقير، وربما قال المقير. قال " احفظوه وأخبروه من وراءكم
আবূ জামরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) ও লোকদের মধ্যে ভাষান্তরের কাজ করতাম। একদা ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন , ‘আবদুল কায়স গোত্রের প্রতিনিধি দল নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর নিকট আসলে তিনি বললেনঃ তোমরা কোন প্রতিনিধি দল? অথবা বললেন তোমরা কোন গোত্রের? তাঁরা বললো রাবী‘আহ গোত্রের। তিনি বললেনঃ ‘স্বাগতম। এ গোত্রের প্রতি অথবা এ প্রতিনিধি দলের প্রতি, এরা কোনরূপ অপদস্থ ও লাঞ্ছিত না হয়েই এসেছে। তারা বলল, ‘আমরা বহু দূর হতে আপনার নিকট এসেছি। আর আমাদের ও আপনার মধ্যে রয়েছে কাফিরদের এই ‘মুযার’ গোত্রের বাস। আমরা নিষিদ্ধ মাস ব্যতীত আপনার নিকট আসতে সক্ষম নই। সুতরাং আমাদের এমন কিছু নির্দেশ দিন, যা আমাদের পশ্চাতে যারা রয়েছে তাদের নিকট পৌঁছাতে এবং তাঁর ওয়াসীলায় আমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারি।’ তখন তিনি তাদের চারটি কাজের নির্দেশ দিলেন এবং চারটি কাজ থেকে নিষেধ করলেন। তাদের এক আল্লাহর উপর বিশ্বাস স্থাপনের আদেশ করলেন। তিনি বললেনঃ এক আল্লাহর উপর বিশ্বাস স্থাপন কীরূপে হয় জান? তাঁরা বললঃ ‘আল্লাহ ও তাঁর রসূলই ভাল জানেন।’ তিনি বললেনঃ ‘তা হল এ সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর রসূল, সালাত প্রতিষ্ঠা করা , যাকাত আদায় করা এবং রমযান-এর সিয়াম পালন করা আর তোমরা গনীমতের মাল থেকে এক-পঞ্চমাংশ দান করবে।’ আর তাদের নিষেধ করলেন শুকনো কদুর খোল, সবুজ কলস এবং আলকাতরা দ্বারা রঙ করা পাত্র ব্যবহার করতে। শু‘বা বলেন, কখনও (আবূ জামরা) খেজুর গাছ থেকে তৈরি পাত্রের কথাও বলেছেন আবার তিনি কখনও النَّقي -এর স্থলে المُقَيَّر বলেছেন। রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমরা এগুলো মনোযোগ সহকারে স্মরণ রাখ এবং তোমাদের পশ্চাতে যারা রয়েছে তাদের নিকট পৌঁছে দাও। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮৭, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৮৭)
আবূ জামরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) ও লোকদের মধ্যে ভাষান্তরের কাজ করতাম। একদা ইব্নু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন , ‘আবদুল কায়স গোত্রের প্রতিনিধি দল নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর নিকট আসলে তিনি বললেনঃ তোমরা কোন প্রতিনিধি দল? অথবা বললেন তোমরা কোন গোত্রের? তাঁরা বললো রাবী‘আহ গোত্রের। তিনি বললেনঃ ‘স্বাগতম। এ গোত্রের প্রতি অথবা এ প্রতিনিধি দলের প্রতি, এরা কোনরূপ অপদস্থ ও লাঞ্ছিত না হয়েই এসেছে। তারা বলল, ‘আমরা বহু দূর হতে আপনার নিকট এসেছি। আর আমাদের ও আপনার মধ্যে রয়েছে কাফিরদের এই ‘মুযার’ গোত্রের বাস। আমরা নিষিদ্ধ মাস ব্যতীত আপনার নিকট আসতে সক্ষম নই। সুতরাং আমাদের এমন কিছু নির্দেশ দিন, যা আমাদের পশ্চাতে যারা রয়েছে তাদের নিকট পৌঁছাতে এবং তাঁর ওয়াসীলায় আমরা জান্নাতে প্রবেশ করতে পারি।’ তখন তিনি তাদের চারটি কাজের নির্দেশ দিলেন এবং চারটি কাজ থেকে নিষেধ করলেন। তাদের এক আল্লাহর উপর বিশ্বাস স্থাপনের আদেশ করলেন। তিনি বললেনঃ এক আল্লাহর উপর বিশ্বাস স্থাপন কীরূপে হয় জান? তাঁরা বললঃ ‘আল্লাহ ও তাঁর রসূলই ভাল জানেন।’ তিনি বললেনঃ ‘তা হল এ সাক্ষ্য দেয়া যে, আল্লাহ ব্যতীত প্রকৃত কোন উপাস্য নেই এবং মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আল্লাহর রসূল, সালাত প্রতিষ্ঠা করা , যাকাত আদায় করা এবং রমযান-এর সিয়াম পালন করা আর তোমরা গনীমতের মাল থেকে এক-পঞ্চমাংশ দান করবে।’ আর তাদের নিষেধ করলেন শুকনো কদুর খোল, সবুজ কলস এবং আলকাতরা দ্বারা রঙ করা পাত্র ব্যবহার করতে। শু‘বা বলেন, কখনও (আবূ জামরা) খেজুর গাছ থেকে তৈরি পাত্রের কথাও বলেছেন আবার তিনি কখনও النَّقي -এর স্থলে المُقَيَّر বলেছেন। রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমরা এগুলো মনোযোগ সহকারে স্মরণ রাখ এবং তোমাদের পশ্চাতে যারা রয়েছে তাদের নিকট পৌঁছে দাও। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮৭, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৮৭)
حدثنا محمد بن بشار، قال حدثنا غندر، قال حدثنا شعبة، عن أبي جمرة، قال كنت أترجم بين ابن عباس وبين الناس فقال إن وفد عبد القيس أتوا النبي صلى الله عليه وسلم فقال " من الوفد ـ أو من القوم ". قالوا ربيعة. فقال " مرحبا بالقوم ـ أو بالوفد ـ غير خزايا ولا ندامى ". قالوا إنا نأتيك من شقة بعيدة، وبيننا وبينك هذا الحى من كفار مضر، ولا نستطيع أن نأتيك إلا في شهر حرام فمرنا بأمر نخبر به من وراءنا، ندخل به الجنة. فأمرهم بأربع، ونهاهم عن أربع أمرهم بالإيمان بالله عز وجل وحده. قال " هل تدرون ما الإيمان بالله وحده ". قالوا الله ورسوله أعلم. قال " شهادة أن لا إله إلا الله وأن محمدا رسول الله، وإقام الصلاة، وإيتاء الزكاة، وصوم رمضان، وتعطوا الخمس من المغنم ". ونهاهم عن الدباء والحنتم والمزفت. قال شعبة ربما قال النقير، وربما قال المقير. قال " احفظوه وأخبروه من وراءكم
সহিহ বুখারী > উদ্ভূত মাসআলার উদ্দেশে সফর করা এবং নিজের পরিজনদের শিক্ষা প্রদান।
সহিহ বুখারী ৮৮
حدثنا محمد بن مقاتل أبو الحسن، قال أخبرنا عبد الله، قال أخبرنا عمر بن سعيد بن أبي حسين، قال حدثني عبد الله بن أبي مليكة، عن عقبة بن الحارث، أنه تزوج ابنة لأبي إهاب بن عزيز، فأتته امرأة فقالت إني قد أرضعت عقبة والتي تزوج بها. فقال لها عقبة ما أعلم أنك أرضعتني ولا أخبرتني. فركب إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم بالمدينة فسأله، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " كيف وقد قيل ". ففارقها عقبة، ونكحت زوجا غيره.
‘উকবাহ ইব্নুল হারিস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি আবূ ইহাব ইব্নু ‘আযীয (রাঃ) –এর কন্যাকে বিয়ে করলে তাঁর নিকট জনৈকা স্ত্রীলোক এসে বলল, আমি ‘ঊকবাহ (রাঃ) –কে এবং সে যাকে বিয়ে করেছে তাকে (আবূ ইহাবের কন্যাকে) দুধ পান করিয়েছি। ‘উকবাহ তাকে বললেন আমি জানি না তুমি আমাকে দুধ পান করিয়েছ, আর (ইতোপূর্বে) তুমি আমাকে একথা জানাও নি। অতঃপর তিনি মদীনায় আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট গেলেন এবং তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এ কথার পর তুমি কীভাবে তাঁর সঙ্গে সংসার করবে? অতঃপর ‘উকবাহ তাঁর স্ত্রীকে আলাদা করে দিলেন এবং মহিলা অন্য স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হল। (২০৫২, ২৬৪০, ২৬৫৯, ২৬৬০, ৫১০৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮৮, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৮৮)
‘উকবাহ ইব্নুল হারিস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি আবূ ইহাব ইব্নু ‘আযীয (রাঃ) –এর কন্যাকে বিয়ে করলে তাঁর নিকট জনৈকা স্ত্রীলোক এসে বলল, আমি ‘ঊকবাহ (রাঃ) –কে এবং সে যাকে বিয়ে করেছে তাকে (আবূ ইহাবের কন্যাকে) দুধ পান করিয়েছি। ‘উকবাহ তাকে বললেন আমি জানি না তুমি আমাকে দুধ পান করিয়েছ, আর (ইতোপূর্বে) তুমি আমাকে একথা জানাও নি। অতঃপর তিনি মদীনায় আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট গেলেন এবং তাঁকে জিজ্ঞেস করলেন। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এ কথার পর তুমি কীভাবে তাঁর সঙ্গে সংসার করবে? অতঃপর ‘উকবাহ তাঁর স্ত্রীকে আলাদা করে দিলেন এবং মহিলা অন্য স্বামীর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হল। (২০৫২, ২৬৪০, ২৬৫৯, ২৬৬০, ৫১০৪) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮৮, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৮৮)
حدثنا محمد بن مقاتل أبو الحسن، قال أخبرنا عبد الله، قال أخبرنا عمر بن سعيد بن أبي حسين، قال حدثني عبد الله بن أبي مليكة، عن عقبة بن الحارث، أنه تزوج ابنة لأبي إهاب بن عزيز، فأتته امرأة فقالت إني قد أرضعت عقبة والتي تزوج بها. فقال لها عقبة ما أعلم أنك أرضعتني ولا أخبرتني. فركب إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم بالمدينة فسأله، فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم " كيف وقد قيل ". ففارقها عقبة، ونكحت زوجا غيره.
সহিহ বুখারী > পালাক্রমে ইলম শিক্ষা করা।
সহিহ বুখারী ৮৯
حدثنا أبو اليمان، أخبرنا شعيب، عن الزهري، ح قال أبو عبد الله وقال ابن وهب أخبرنا يونس، عن ابن شهاب، عن عبيد الله بن عبد الله بن أبي ثور، عن عبد الله بن عباس، عن عمر، قال كنت أنا وجار، لي من الأنصار في بني أمية بن زيد، وهى من عوالي المدينة، وكنا نتناوب النزول على رسول الله صلى الله عليه وسلم ينزل يوما وأنزل يوما، فإذا نزلت جئته بخبر ذلك اليوم من الوحى وغيره، وإذا نزل فعل مثل ذلك، فنزل صاحبي الأنصاري يوم نوبته، فضرب بابي ضربا شديدا. فقال أثم هو ففزعت فخرجت إليه فقال قد حدث أمر عظيم. قال فدخلت على حفصة فإذا هي تبكي فقلت طلقكن رسول الله صلى الله عليه وسلم قالت لا أدري. ثم دخلت على النبي صلى الله عليه وسلم فقلت وأنا قائم أطلقت نساءك قال " لا ". فقلت الله أكبر.
উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেনঃ আমি ও আমার এক আনসারী প্রতিবেশী বনী উমাইয়া ইব্নু যায়দের মহল্লায় বাস করতাম। এ মহল্লাটি ছিল মদীনার উঁচু এলাকায় অবস্থিত। আমরা দু’জনে পালাক্রমে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত হতাম। তিনি একদিন আসতেন আর আমি একদিন আসতাম। আমি যেদিন আসতাম, সেদিনের ওয়াহী প্রভৃতির খবর নিয়ে তাঁকে পৌঁছে দিতাম। আর তিনি যেদিন আসতেন সেদিন তিনিও তাই করতেন। অতঃপর একদা আমার আনসারী সাথী তাঁর পালার দিন আসলেন এবং (সেখান থেকে ফিরে) আমার দরজায় খুব জোরে জোরে আঘাত করতে লাগলেন। (আমার নাম নিয়ে) বলতে লাগলেন, তিনি কি এখানে আছেন? আমি ঘাবড়ে গিয়ে তাঁর দিকে গেলাম। তিনি বললেন, এক বিরাট ঘটনা ঘটে গেছে [আল্লাহর রসূল(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর স্ত্রীগণকে তালাক দিয়েছেন]। আমি তখনি (আমার কন্যা) হাফসা (রাঃ) এর নিকট গেলাম। তিনি তখন কাঁদছিলেন। আমি বললাম, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি তোমাদের তালাক দিয়ে দিয়েছেন? তিনি বললেন, ‘আমি জানি না।’ অতঃপর আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিকট গেলাম এবং দাঁড়িয়ে থেকেই বললামঃ আপনি কি আপনার স্ত্রীদের তালাক দিয়েছেন? জবাবে তিনি বললেনঃ ‘না।’ আমি তখন বললাম ‘আল্লাহ আকবর’। (২৪৬৮, ৪৯১৩, ৪৯১৫, ৫১৯১, ৫২১৮, ৫৮৪৩, ৭২৫৬, ৭২৬৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮৯, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৮৯)
উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেনঃ আমি ও আমার এক আনসারী প্রতিবেশী বনী উমাইয়া ইব্নু যায়দের মহল্লায় বাস করতাম। এ মহল্লাটি ছিল মদীনার উঁচু এলাকায় অবস্থিত। আমরা দু’জনে পালাক্রমে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত হতাম। তিনি একদিন আসতেন আর আমি একদিন আসতাম। আমি যেদিন আসতাম, সেদিনের ওয়াহী প্রভৃতির খবর নিয়ে তাঁকে পৌঁছে দিতাম। আর তিনি যেদিন আসতেন সেদিন তিনিও তাই করতেন। অতঃপর একদা আমার আনসারী সাথী তাঁর পালার দিন আসলেন এবং (সেখান থেকে ফিরে) আমার দরজায় খুব জোরে জোরে আঘাত করতে লাগলেন। (আমার নাম নিয়ে) বলতে লাগলেন, তিনি কি এখানে আছেন? আমি ঘাবড়ে গিয়ে তাঁর দিকে গেলাম। তিনি বললেন, এক বিরাট ঘটনা ঘটে গেছে [আল্লাহর রসূল(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর স্ত্রীগণকে তালাক দিয়েছেন]। আমি তখনি (আমার কন্যা) হাফসা (রাঃ) এর নিকট গেলাম। তিনি তখন কাঁদছিলেন। আমি বললাম, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি তোমাদের তালাক দিয়ে দিয়েছেন? তিনি বললেন, ‘আমি জানি না।’ অতঃপর আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিকট গেলাম এবং দাঁড়িয়ে থেকেই বললামঃ আপনি কি আপনার স্ত্রীদের তালাক দিয়েছেন? জবাবে তিনি বললেনঃ ‘না।’ আমি তখন বললাম ‘আল্লাহ আকবর’। (২৪৬৮, ৪৯১৩, ৪৯১৫, ৫১৯১, ৫২১৮, ৫৮৪৩, ৭২৫৬, ৭২৬৩) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৮৯, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৮৯)
حدثنا أبو اليمان، أخبرنا شعيب، عن الزهري، ح قال أبو عبد الله وقال ابن وهب أخبرنا يونس، عن ابن شهاب، عن عبيد الله بن عبد الله بن أبي ثور، عن عبد الله بن عباس، عن عمر، قال كنت أنا وجار، لي من الأنصار في بني أمية بن زيد، وهى من عوالي المدينة، وكنا نتناوب النزول على رسول الله صلى الله عليه وسلم ينزل يوما وأنزل يوما، فإذا نزلت جئته بخبر ذلك اليوم من الوحى وغيره، وإذا نزل فعل مثل ذلك، فنزل صاحبي الأنصاري يوم نوبته، فضرب بابي ضربا شديدا. فقال أثم هو ففزعت فخرجت إليه فقال قد حدث أمر عظيم. قال فدخلت على حفصة فإذا هي تبكي فقلت طلقكن رسول الله صلى الله عليه وسلم قالت لا أدري. ثم دخلت على النبي صلى الله عليه وسلم فقلت وأنا قائم أطلقت نساءك قال " لا ". فقلت الله أكبر.
সহিহ বুখারী > অপছন্দনীয় কিছু দেখলে ওয়ায-নাসীহাত বা শিক্ষাপ্রদানের সময় রাগ করা।
সহিহ বুখারী ৯০
حدثنا محمد بن كثير، قال أخبرنا سفيان، عن ابن أبي خالد، عن قيس بن أبي حازم، عن أبي مسعود الأنصاري، قال قال رجل يا رسول الله، لا أكاد أدرك الصلاة مما يطول بنا فلان، فما رأيت النبي صلى الله عليه وسلم في موعظة أشد غضبا من يومئذ فقال " أيها الناس، إنكم منفرون، فمن صلى بالناس فليخفف، فإن فيهم المريض والضعيف وذا الحاجة
আবূ মাস’উদ আনসারী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, একদা জনৈক ব্যাক্তি বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল ! আমি সালাতে (জামা’আতে) শামিল হতে পারি না। কারণ অমুক ব্যাক্তি আমাদের নিয়ে খুব দীর্ঘ সালাত আদায় করেন। [আবূ মাস’উদ (রাঃ) বলেন,] আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কোন নাসীহাতের মজলিসে সেদিনের তুলনায় অধিক রাগান্বিত হতে দেখিনি। (রাগত স্বরে) তিনি বললেনঃ হে লোক সকল ! তোমরা মানুষের মধ্যে বিরক্তির সৃষ্টি কর। অতএব যে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করবে সে যেন সংক্ষেপ করে। কারণ তাঁদের মধ্যে রোগী , দুর্বল ও কর্মব্যস্ত লোকও থাকে। (৭০২, ৭০৪, ৬১১০, ৭১৫৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯০, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৯০)
আবূ মাস’উদ আনসারী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, একদা জনৈক ব্যাক্তি বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল ! আমি সালাতে (জামা’আতে) শামিল হতে পারি না। কারণ অমুক ব্যাক্তি আমাদের নিয়ে খুব দীর্ঘ সালাত আদায় করেন। [আবূ মাস’উদ (রাঃ) বলেন,] আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কোন নাসীহাতের মজলিসে সেদিনের তুলনায় অধিক রাগান্বিত হতে দেখিনি। (রাগত স্বরে) তিনি বললেনঃ হে লোক সকল ! তোমরা মানুষের মধ্যে বিরক্তির সৃষ্টি কর। অতএব যে লোকদের নিয়ে সালাত আদায় করবে সে যেন সংক্ষেপ করে। কারণ তাঁদের মধ্যে রোগী , দুর্বল ও কর্মব্যস্ত লোকও থাকে। (৭০২, ৭০৪, ৬১১০, ৭১৫৯) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯০, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৯০)
حدثنا محمد بن كثير، قال أخبرنا سفيان، عن ابن أبي خالد، عن قيس بن أبي حازم، عن أبي مسعود الأنصاري، قال قال رجل يا رسول الله، لا أكاد أدرك الصلاة مما يطول بنا فلان، فما رأيت النبي صلى الله عليه وسلم في موعظة أشد غضبا من يومئذ فقال " أيها الناس، إنكم منفرون، فمن صلى بالناس فليخفف، فإن فيهم المريض والضعيف وذا الحاجة
সহিহ বুখারী ৯১
حدثنا عبد الله بن محمد، قال حدثنا أبو عامر، قال حدثنا سليمان بن بلال المديني، عن ربيعة بن أبي عبد الرحمن، عن يزيد، مولى المنبعث عن زيد بن خالد الجهني، أن النبي صلى الله عليه وسلم سأله رجل عن اللقطة فقال " اعرف وكاءها ـ أو قال وعاءها ـ وعفاصها، ثم عرفها سنة، ثم استمتع بها، فإن جاء ربها فأدها إليه ". قال فضالة الإبل فغضب حتى احمرت وجنتاه ـ أو قال احمر وجهه ـ فقال " وما لك ولها معها سقاؤها وحذاؤها، ترد الماء، وترعى الشجر، فذرها حتى يلقاها ربها ". قال فضالة الغنم قال " لك أو لأخيك أو للذئب
যায়দ ইব্নু খালিদ আল-জুহানী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
জনৈক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- কে কুড়িয়ে পাওয়া জিনিস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ তাঁর বাঁধনের রশি অথবা বললেন, থলে-ঝুলি ভাল করে চিনে রাখ। অতঃপর এক বছর পর্যন্ত তার ঘোষণা দিতে থাক। তারপর (মালিক পাওয়া না গেলে) তুমি তা ব্যবহার কর। অতঃপর যদি এর প্রাপক আসে তবে তাকে তা দিয়ে দেবে। সে বলল , ‘হারানো উটের ব্যাপারে কী করতে হবে?’ এ কথা শুনে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমন রাগ করলেন যে, তাঁর গাল দু’টো লাল হয়ে গেল। অথবা বর্ণণাকারী বলেন, তাঁর মুখমন্ডল লাল হয়ে গেল। তিনি বললেনঃ ‘উট নিয়ে তোমার কী হয়েছে? তার তো আছে পানির মশক ও শক্ত পা। পানির নিকট যেতে পারে এবং গাছ খেতে পারে। কাজেই তাকে ছেড়ে দাও এমন সময়ের মধ্যে তার মালিক তাকে পেয়ে যাবে।’ সে বলল, ‘হারানো ছাগল পাওয়া গেলে?’ তিনি বললেন, ‘সেটি তোমার হবে, নাহলে তোমার ভাইয়ের, না হলে বাঘের।’ (২৩৭২, ২৪২৭, ২৪২৮, ২৪২৯, ২৪৩৬, ২৪৩৮, ৫২৯২, ৬১১২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯১, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৯১)
যায়দ ইব্নু খালিদ আল-জুহানী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
জনৈক ব্যক্তি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- কে কুড়িয়ে পাওয়া জিনিস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ তাঁর বাঁধনের রশি অথবা বললেন, থলে-ঝুলি ভাল করে চিনে রাখ। অতঃপর এক বছর পর্যন্ত তার ঘোষণা দিতে থাক। তারপর (মালিক পাওয়া না গেলে) তুমি তা ব্যবহার কর। অতঃপর যদি এর প্রাপক আসে তবে তাকে তা দিয়ে দেবে। সে বলল , ‘হারানো উটের ব্যাপারে কী করতে হবে?’ এ কথা শুনে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমন রাগ করলেন যে, তাঁর গাল দু’টো লাল হয়ে গেল। অথবা বর্ণণাকারী বলেন, তাঁর মুখমন্ডল লাল হয়ে গেল। তিনি বললেনঃ ‘উট নিয়ে তোমার কী হয়েছে? তার তো আছে পানির মশক ও শক্ত পা। পানির নিকট যেতে পারে এবং গাছ খেতে পারে। কাজেই তাকে ছেড়ে দাও এমন সময়ের মধ্যে তার মালিক তাকে পেয়ে যাবে।’ সে বলল, ‘হারানো ছাগল পাওয়া গেলে?’ তিনি বললেন, ‘সেটি তোমার হবে, নাহলে তোমার ভাইয়ের, না হলে বাঘের।’ (২৩৭২, ২৪২৭, ২৪২৮, ২৪২৯, ২৪৩৬, ২৪৩৮, ৫২৯২, ৬১১২) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯১, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৯১)
حدثنا عبد الله بن محمد، قال حدثنا أبو عامر، قال حدثنا سليمان بن بلال المديني، عن ربيعة بن أبي عبد الرحمن، عن يزيد، مولى المنبعث عن زيد بن خالد الجهني، أن النبي صلى الله عليه وسلم سأله رجل عن اللقطة فقال " اعرف وكاءها ـ أو قال وعاءها ـ وعفاصها، ثم عرفها سنة، ثم استمتع بها، فإن جاء ربها فأدها إليه ". قال فضالة الإبل فغضب حتى احمرت وجنتاه ـ أو قال احمر وجهه ـ فقال " وما لك ولها معها سقاؤها وحذاؤها، ترد الماء، وترعى الشجر، فذرها حتى يلقاها ربها ". قال فضالة الغنم قال " لك أو لأخيك أو للذئب
সহিহ বুখারী ৯২
حدثنا محمد بن العلاء، قال حدثنا أبو أسامة، عن بريد، عن أبي بردة، عن أبي موسى، قال سئل النبي صلى الله عليه وسلم عن أشياء كرهها، فلما أكثر عليه غضب، ثم قال للناس " سلوني عما شئتم ". قال رجل من أبي قال " أبوك حذافة ". فقام آخر فقال من أبي يا رسول الله فقال " أبوك سالم مولى شيبة ". فلما رأى عمر ما في وجهه قال يا رسول الله، إنا نتوب إلى الله عز وجل.
আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন , একদা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কয়েকটি অপছন্দনীয় বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। প্রশ্নের সংখ্যা অধিক হয়ে যাওয়ায় তখন তিনি রেগে গিয়ে লোকদেরকে বললেনঃ ‘তোমরা আমার নিকট যা ইচ্ছা প্রশ্ন কর।’ জনৈক ব্যাক্তি বলল, ‘আমার পিতা কে?’ তিনি বললেনঃ ‘তোমার পিতা হুযাফাহ।’ আর এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল ! ‘আমার পিতা কে?’ তিনি বললেনঃ ‘তোমার পিতা হল শায়বার দাস সালিম।’ তখন ‘উমার (রাঃ) আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর চেহারার অবস্থা দেখে বললেনঃ ‘হে আল্লাহর রসূল ! আমরা মহিমান্বিত আল্লাহর নিকট তাওবাহ করছি।’ ৭২৯১; মুসলিম ৪৩/৩৭ হাঃ ২৩৬০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯২, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৯২)
আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন , একদা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কয়েকটি অপছন্দনীয় বিষয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হল। প্রশ্নের সংখ্যা অধিক হয়ে যাওয়ায় তখন তিনি রেগে গিয়ে লোকদেরকে বললেনঃ ‘তোমরা আমার নিকট যা ইচ্ছা প্রশ্ন কর।’ জনৈক ব্যাক্তি বলল, ‘আমার পিতা কে?’ তিনি বললেনঃ ‘তোমার পিতা হুযাফাহ।’ আর এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল ! ‘আমার পিতা কে?’ তিনি বললেনঃ ‘তোমার পিতা হল শায়বার দাস সালিম।’ তখন ‘উমার (রাঃ) আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর চেহারার অবস্থা দেখে বললেনঃ ‘হে আল্লাহর রসূল ! আমরা মহিমান্বিত আল্লাহর নিকট তাওবাহ করছি।’ ৭২৯১; মুসলিম ৪৩/৩৭ হাঃ ২৩৬০) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৯২, ইসলামী ফাউন্ডেশনঃ ৯২)
حدثنا محمد بن العلاء، قال حدثنا أبو أسامة، عن بريد، عن أبي بردة، عن أبي موسى، قال سئل النبي صلى الله عليه وسلم عن أشياء كرهها، فلما أكثر عليه غضب، ثم قال للناس " سلوني عما شئتم ". قال رجل من أبي قال " أبوك حذافة ". فقام آخر فقال من أبي يا رسول الله فقال " أبوك سالم مولى شيبة ". فلما رأى عمر ما في وجهه قال يا رسول الله، إنا نتوب إلى الله عز وجل.