সহিহ মুসলিম > দুনিয়ার নশ্বরতা ও কিয়ামাতের বর্ণনা
সহিহ মুসলিম ৭০৮৯
وَحَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ الْقَوَارِيرِيُّ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، - يَعْنِي ابْنَ زَيْدٍ - عَنْ أَيُّوبَ، ح وَحَدَّثَنِي أَبُو الرَّبِيعِ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، قَالَ سَمِعْتُ مُجَاهِدًا، يُحَدِّثُ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، بْنِ أَبِي لَيْلَى عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ، - رضى الله عنه - قَالَ أَتَى عَلَىَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم زَمَنَ الْحُدَيْبِيَةِ وَأَنَا أُوقِدُ تَحْتَ - قَالَ الْقْوَارِيرِيُّ قِدْرٍ لِي . وَقَالَ أَبُو الرَّبِيعِ بُرْمَةٍ لِي - وَالْقَمْلُ يَتَنَاثَرُ عَلَى وَجْهِي فَقَالَ أَيُؤْذِيكَ هَوَامُّ رَأْسِكَ " . قَالَ قُلْتُ نَعَمْ . قَالَ " فَاحْلِقْ وَصُمْ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ أَوْ أَطْعِمْ سِتَّةَ مَسَاكِينَ أَوِ انْسُكْ نَسِيكَةً " . قَالَ أَيُّوبُ فَلاَ أَدْرِي بِأَىِّ ذَلِكَ بَدَأَ ."
বানূ ফিহ্র-এর ভাই মুসতাওরিদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ আল্লাহর শপথ! ইহকাল-পরকালের তুলনায় অতটুকুই, যেমন তোমাদের কেউ তার এ আঙ্গুলটি সমুদ্রে পানিতে ভিজিয়ে দেখলে যে, কতটুকু পরিমাণ এতে পানি লেগেছে। বর্ণনাকারী ইয়াহ্ইয়া এ সময় শাহাদাত আঙ্গুলের দ্বারা ইঙ্গিত করেছেন। ইয়াহ্ইয়া ছাড়া সকলের বর্ণনার মাঝেই আছে, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে এ কথা বলতে শুনেছি। আর আবূ উসামার বর্ণনাতেও (আরবি) শব্দ উল্লেখ রয়েছে। তাতে এ কথাও উল্লেখ আছে যে, ইসমা‘ঈল বৃদ্ধাঙ্গুলি দ্বারা ইঙ্গিত করেছেন। (ই.ফা. ৬৯৩৩, ই.সে. ৬৯৯১)
সহিহ মুসলিম ৭০৯০
حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ السَّعْدِيُّ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَيَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، جَمِيعًا عَنِ ابْنِ عُلَيَّةَ، عَنْ أَيُّوبَ، فِي هَذَا الإِسْنَادِ . بِمِثْلِهِ .
‘আয়িশাহ্ সিদ্দীকা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে, কিয়ামাতের মাঠে সকল মানুষকে একত্রিত করা হবে খালি পা, উলঙ্গ দেহ এবং খাত্নাবিহীন অবস্থায়। এ কথা শুনে আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! পুরুষ এবং মহিলা এক সঙ্গেই উত্থিত হবে আর তারা পরস্পর একে অপরের প্রতি তাকাবে? তিনি বললেন, হে ‘আয়িশাহ্! তখনকার প্রেক্ষাপট এতটা কঠিন ও ভয়ঙ্কর হবে যে, একে অপরের প্রতি তাকানোর কল্পনারও উদ্রেক হবে না। (ই.ফা. ৬৯৩৪, ই.সে. ৬৯৯২)
সহিহ মুসলিম ৭০৯১
حَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ السَّعْدِيُّ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَيَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، جَمِيعًا عَنِ ابْنِ عُلَيَّةَ، عَنْ أَيُّوبَ، فِي هَذَا الإِسْنَادِ . بِمِثْلِهِ .
হাতিম ইবনু আবূ সাগীরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
এ সূত্রে অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এতে (আরবি) “খাতনাবিহীন’ শব্দটি বর্ণনা নেই। (ই.ফা. ৬৯৩৫, ই.সে. ৬৯৯৩)
সহিহ মুসলিম ৭০৯২
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ، - رضى الله عنه - قَالَ فِيَّ أُنْزِلَتْ هَذِهِ الآيَةُ { فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَرِيضًا أَوْ بِهِ أَذًى مِنْ رَأْسِهِ فَفِدْيَةٌ مِنْ صِيَامٍ أَوْ صَدَقَةٍ أَوْ نُسُكٍ} قَالَ فَأَتَيْتُهُ فَقَالَ ادْنُهْ " . فَدَنَوْتُ فَقَالَ " ادْنُهْ " . فَدَنَوْتُ . فَقَالَ صلى الله عليه وسلم " أَيُؤْذِيكَ هَوَامُّكَ " . قَالَ ابْنُ عَوْنٍ وَأَظُنُّهُ قَالَ نَعَمْ . قَالَ فَأَمَرَنِي بِفِدْيَةٍ مِنْ صِيَامٍ أَوْ صَدَقَةٍ أَوْ نُسُكٍ مَا تَيَسَّرَ ."
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে খুতবারত অবস্থায় এ কথা বলতে শুনেছেন যে, অবশ্যই তোমরা খালি পায়ে হেঁটে হেঁটে, উলঙ্গদেহ ও খাতনাবিহীন অবস্থায় আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ করবে। তবে যুহায়র (রহঃ) তাঁর হাদীসে খুতবাহ্ প্রদানের শব্দটি বর্ণনা করেননি। (ই.ফা. ৬৯৩৬, ই.সে. ৬৯৯৪)
সহিহ মুসলিম ৭০৯৩
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ، - رضى الله عنه - قَالَ فِيَّ أُنْزِلَتْ هَذِهِ الآيَةُ { فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَرِيضًا أَوْ بِهِ أَذًى مِنْ رَأْسِهِ فَفِدْيَةٌ مِنْ صِيَامٍ أَوْ صَدَقَةٍ أَوْ نُسُكٍ} قَالَ فَأَتَيْتُهُ فَقَالَ ادْنُهْ " . فَدَنَوْتُ فَقَالَ " ادْنُهْ " . فَدَنَوْتُ . فَقَالَ صلى الله عليه وسلم " أَيُؤْذِيكَ هَوَامُّكَ " . قَالَ ابْنُ عَوْنٍ وَأَظُنُّهُ قَالَ نَعَمْ . قَالَ فَأَمَرَنِي بِفِدْيَةٍ مِنْ صِيَامٍ أَوْ صَدَقَةٍ أَوْ نُسُكٍ مَا تَيَسَّرَ ."
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, উপদেশ সম্বলিত ভাষণ প্রদানের উদ্দেশে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের মাঝে দাঁড়িয়ে বললেন, হে লোক সকল! তোমরা আল্লাহর সামনে খালি পা ও উলঙ্গদেহে এবং খাতনাবিহীন অবস্থায় উপস্থিত হবে। (আল্লাহর বাণী) “যেমন আমি প্রথম দিন সৃষ্টি শুরু করেছিলাম, তেমনি তার পুনরাবৃত্তি করব। এটা আমার একটা ওয়া‘দা, তা পালন করা আমার দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত। আমি তা পালনে বদ্ধপরিকর।” সাবধান! কিয়ামাতের দিন সৃষ্টির মাঝে সর্বপ্রথম ইব্রাহীম (‘আঃ)-কে পোশাক পরিধান করানো হবে, সেদিন আমার উম্মাতের মধ্য থেকে কিছু মানুষকে হাযির করা হবে, এদের মধ্যে যারা বামহাতে ‘আমালনামা প্রাপ্ত তাদের পাকড়াও করা হবে। তখন আমি বলব, হে আমার রব! এরা তো আমার উম্মাত। উত্তরে আমাকে বলা হবে, তুমি জানো না তোমার পরে এরা কি কার্যকলাপে জড়িত ছিল। আমি তখন আল্লাহর সৎ বান্দা [‘ঈসা (‘আঃ)]-এর ন্যায় বলব, “যতদিন আমি তাদের মাঝে ছিলাম ততদিন আমি ছিলাম তাদের কার্যকলাপের সাক্ষী; কিন্তু যখন তুমি আমাকে তুলে নিলে তখন তুমিই তো ছিলে তাদের কার্যকলাপের পর্যবেক্ষণকারী এবং তুমিই সর্ব বিষয়ে সাক্ষী, তুমি যদি তাদেরকে শাস্তি দাও তবে তারা তো তোমারই বান্দা, আর যদি তাদেরকে মাফ করো তবে তুমি তো পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।” তখন আমাকে বলা হবে, তুমি তাদের থেকে বিদায় গ্রহণের পর থেকে তারা সবসময় মুখ ফিরিয়ে কুফরির আশ্রয় নিয়েছিল। ওয়াকী‘ এবং মু‘আয-এর হাদীসের মধ্যে রয়েছে- (আরবি)- অতঃপর বলা হবে, আপনি অবশ্য জানেন না আপনার পরে তারা কোন্ নতুন ধর্মমত আবিষ্কার করেছে? (ই.ফা. ৬৯৩৭, ই.সে. ৬৯৯৫)
সহিহ মুসলিম ৭০৯৪
وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا سَيْفٌ، قَالَ سَمِعْتُ مُجَاهِدًا، يَقُولُ حَدَّثَنِي عَبْدُ، الرَّحْمَنِ بْنُ أَبِي لَيْلَى حَدَّثَنِي كَعْبُ بْنُ عُجْرَةَ، - رضى الله عنه - أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَقَفَ عَلَيْهِ وَرَأْسُهُ يَتَهَافَتُ قَمْلاً فَقَالَ أَيُؤْذِيكَ هَوَامُّكَ " . قُلْتُ نَعَمْ . قَالَ " فَاحْلِقْ رَأْسَكَ " . قَالَ فَفِيَّ نَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ { فَمَنْ كَانَ مِنْكُمْ مَرِيضًا أَوْ بِهِ أَذًى مِنْ رَأْسِهِ فَفِدْيَةٌ مِنْ صِيَامٍ أَوْ صَدَقَةٍ أَوْ نُسُكٍ} فَقَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم " صُمْ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ أَوْ تَصَدَّقْ بِفَرَقٍ بَيْنَ سِتَّةِ مَسَاكِينَ أَوِ انْسُكْ مَا تَيَسَّرَ " ."
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)-এর সূত্রে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, লোকদেরকে তিন শ্রেণীতে ভাগ করে সমবেত করা হবে। প্রথম দল আশা পোষণকারী এবং ভীত-সন্ত্রস্ত লোকদের দল। দ্বিতীয় দলে সেসব লোক যাদের দু’জন থাকবে এক উটের উপর, কোন উটের উপর তিনজন, কোনটির উপর চারজন, আর কোনটির উপরে আরোহিত হবে দশজন। অবশিষ্টরা হবে সে সকল লোক যাদেরকে আগুন তাড়িয়ে নিয়ে যাবে। তারা যেখানে রাত্রিযাপন করবে আগুনও তাদের সঙ্গে রাত কাটাবে। তারা যেখানে বিশ্রাম নিবে আগুনও সেখানে বিশ্রাম নিবে। তাদের যেখানে সকাল হবে আগুনও তাদের সঙ্গে থাকবে। আর যেখানে তাদের সন্ধ্যা হবে একই সঙ্গে আগুনও তাদের সাথে থাকবে। (ই.ফা. ৬৯৩৮, ই.সে. ৬৯৯৬)
সহিহ মুসলিম > কিয়ামাত দিবসের বর্ণনা, এ দিবসের ভীতিকর অবস্থাতে আল্লাহ আমাদেরকে সহযোগিতা করুন
সহিহ মুসলিম ৭০৯৫
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ، وَأَيُّوبَ، وَحُمَيْدٍ، وَعَبْدِ، الْكَرِيمِ عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ، - رضى الله عنه - أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَرَّ بِهِ وَهُوَ بِالْحُدَيْبِيَةِ قَبْلَ أَنْ يَدْخُلَ مَكَّةَ وَهُوَ مُحْرِمٌ وَهُوَ يُوقِدُ تَحْتَ قِدْرٍ وَالْقَمْلُ يَتَهَافَتُ عَلَى وَجْهِهِ فَقَالَ أَيُؤْذِيكَ هَوَامُّكَ هَذِهِ " . قَالَ نَعَمْ . قَالَ " فَاحْلِقْ رَأْسَكَ وَأَطْعِمْ فَرَقًا بَيْنَ سِتَّةِ مَسَاكِينَ - وَالْفَرَقُ ثَلاَثَةُ آصُعٍ - أَوْ صُمْ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ أَوِ انْسُكْ نَسِيكَةً " . قَالَ ابْنُ أَبِي نَجِيحٍ " أَوِ اذْبَحْ شَاةً " ."
ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
(আরবি) - এর ব্যাখ্যায় নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, সেদিন মানুষ অর্ধ কর্ণ পর্যন্ত ঘামে ডুবে দাঁড়িয়ে থাকবে। ইবনুল মুসান্নার বর্ণনাতে তিনি (আরবি) “যেখানে” শব্দটি উল্লেখ করা ছাড়া শুধু (আরবি) “লোকজন দাঁড়িয়ে থাকবে” উল্লেখ করেছেন। (ই.ফা. ৬৯৩৯, ই.সে. ৬৯৯৭)
সহিহ মুসলিম ৭০৯৬
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبِي عُمَرَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنِ ابْنِ أَبِي نَجِيحٍ، وَأَيُّوبَ، وَحُمَيْدٍ، وَعَبْدِ، الْكَرِيمِ عَنْ مُجَاهِدٍ، عَنِ ابْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ، - رضى الله عنه - أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم مَرَّ بِهِ وَهُوَ بِالْحُدَيْبِيَةِ قَبْلَ أَنْ يَدْخُلَ مَكَّةَ وَهُوَ مُحْرِمٌ وَهُوَ يُوقِدُ تَحْتَ قِدْرٍ وَالْقَمْلُ يَتَهَافَتُ عَلَى وَجْهِهِ فَقَالَ أَيُؤْذِيكَ هَوَامُّكَ هَذِهِ " . قَالَ نَعَمْ . قَالَ " فَاحْلِقْ رَأْسَكَ وَأَطْعِمْ فَرَقًا بَيْنَ سِتَّةِ مَسَاكِينَ - وَالْفَرَقُ ثَلاَثَةُ آصُعٍ - أَوْ صُمْ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ أَوِ انْسُكْ نَسِيكَةً " . قَالَ ابْنُ أَبِي نَجِيحٍ " أَوِ اذْبَحْ شَاةً " ."
ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর সূ্ত্রে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্নিতঃ
‘উবাইদুল্লাহর হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেছেন। তবে মূসা ইবনু ‘উকবাহ্ ও সালিহ (রহঃ)-এর হাদীসের মধ্যে রয়েছে যে, (আরবি) অর্থাৎ- তাদের মধ্যে কোন কোন ব্যক্তি স্বীয় ঘামে দুই কানের অর্ধেক অবধি ডুবে যাবে। (ই.ফা. ৬৯৪০, ই.সে. ৬৯৯৮)
সহিহ মুসলিম ৭০৯৭
وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا خَالِدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ خَالِدٍ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ أَبِي لَيْلَى، عَنْ كَعْبِ بْنِ عُجْرَةَ، رضى الله عنه أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَرَّ بِهِ زَمَنَ الْحُدَيْبِيَةِ فَقَالَ لَهُ آذَاكَ هَوَامُّ رَأْسِكَ " . قَالَ نَعَمْ . فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " احْلِقْ رَأْسَكَ ثُمَّ اذْبَحْ شَاةً نُسُكًا أَوْ صُمْ ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ أَوْ أَطْعِمْ ثَلاَثَةَ آصُعٍ مِنْ تَمْرٍ عَلَى سِتَّةِ مَسَاكِينَ " ."
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ কিয়ামাতের দিন ঘাম জমিনের উপর দিয়ে একশ’ চল্লিশ হাত পর্যন্ত উঁচু হয়ে বয়ে যাবে। আর তা মানুষের মুখমণ্ডল পর্যন্ত বা কান পর্যন্ত পৌছাবে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ দুয়ের মধ্যে কোন্টির কথা বলেছেন, বর্ণনাকারী সাওর এ বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। (ই.ফা. ৬৯৪১, ই.সে. ৬৯৯৯)
সহিহ মুসলিম ৭০৯৮
وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَابْنُ، بَشَّارٍ قَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الأَصْبَهَانِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مَعْقِلٍ، قَالَ قَعَدْتُ إِلَى كَعْبٍ - رضى الله عنه - وَهُوَ فِي الْمَسْجِدِ فَسَأَلْتُهُ عَنْ هَذِهِ الآيَةِ { فَفِدْيَةٌ مِنْ صِيَامٍ أَوْ صَدَقَةٍ أَوْ نُسُكٍ} فَقَالَ كَعْبٌ رضى الله عنه نَزَلَتْ فِيَّ كَانَ بِي أَذًى مِنْ رَأْسِي فَحُمِلْتُ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَالْقَمْلُ يَتَنَاثَرُ عَلَى وَجْهِي فَقَالَ مَا كُنْتُ أُرَى أَنَّ الْجَهْدَ بَلَغَ مِنْكَ مَا أَرَى أَتَجِدُ شَاةً " . فَقُلْتُ لاَ فَنَزَلَتْ هَذِهِ الآيَةُ { فَفِدْيَةٌ مِنْ صِيَامٍ أَوْ صَدَقَةٍ أَوْ نُسُكٍ} قَالَ صَوْمُ ثَلاَثَةِ أَيَّامٍ أَوْ إِطْعَامُ سِتَّةِ مَسَاكِينَ نِصْفَ صَاعٍ طَعَامًا لِكُلِّ مِسْكِينٍ - قَالَ - فَنَزَلَتْ فِيَّ خَاصَّةً وَهْىَ لَكُمْ عَامَّةً ."
মিকদাদ ইবনুল আস্ওয়াদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে, কিয়ামাতের দিন সূর্যকে মানুষের সন্নিকটবর্তী করে দেয়া হবে। অবশেষে তা মানুষের এক মাইলের দূরত্বের মাঝে চলে আসবে। বর্ণনাকারী সুলায়ম ইবনু ‘আমির (রহঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ! আমি জানি না, (আরবি) শব্দ দ্বারা কি বুঝানো হয়েছে, জমিদের দূরত্ব, না ঐ শলাকা যা চোখে সুরমা দেয়া কাজে ব্যবহৃত হয়। মানুষ তাদের ‘আমাল অনুসারে ঘর্মের মাঝে ডুবে থাকবে। তাদের কারো ঘাম পায়ের গোড়ালি পর্যন্ত হবে, কেউ হাঁটু পর্যন্ত ঘামের মধ্যে থাকবে, কেউ কোমর পর্যন্ত আর কারো মুখ পর্যন্ত ঘামে ডুবে থাকবে। বর্ণনাকারী বলেন, এ সময় রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজ মুখের প্রতি ইঙ্গিত করলেন। (ই.ফা. ৬৯৪২, ই.সে. ৭০০০)