সহিহ মুসলিম > জান্নাতীদের অধিকাংশই দুঃস্থ-গরীব এবং জাহান্নামীদের অধিকাংশই মহিলা আর মহিলা জাতির ফিতনাহ্ প্রসঙ্গে
সহিহ মুসলিম ৬৮৩০
حَدَّثَنِي قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا أَبُو عَوَانَةَ، عَنْ أَبِي بِشْرٍ، عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، الْحِمْيَرِيِّ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، - رضى الله عنه - قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَفْضَلُ الصِّيَامِ بَعْدَ رَمَضَانَ شَهْرُ اللَّهِ الْمُحَرَّمُ وَأَفْضَلُ الصَّلاَةِ بَعْدَ الْفَرِيضَةِ صَلاَةُ اللَّيْلِ "
‘উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ (মি‘রাজের রাতে) আমি জান্নাতের প্রবেশদ্বারে দাঁড়ালাম। প্রত্যক্ষ করলাম, যারা জান্নাতে প্রবেশ করছে তাদের অধিকাংশই দরিদ্র শ্রেণী, মিস্কীন আর ধনীদেরকে দেখলাম বন্দী অবস্থায়। যারা জাহান্নামবাসী হিসেবে পরিগণিত হয়েছে তাদেরকে জাহান্নামে নিয়ে যাওয়ার আদেশ করা হয়েছে। আর আমি জাহান্নামের প্রবেশদ্বারে দাঁড়িয়ে দেখলাম যে, যারা জাহান্নামে প্রবেশ করেছে তাদের অধিকাংশই মহিলা জাতি। (ই.ফা. ৬৬৮৬, ই.সে. ৬৭৪১)
সহিহ মুসলিম ৬৮৩১
وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ، الْمُنْتَشِرِ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، - رضى الله عنه - يَرْفَعُهُ قَالَ سُئِلَ أَىُّ الصَّلاَةِ أَفْضَلُ بَعْدَ الْمَكْتُوبَةِ وَأَىُّ الصِّيَامِ أَفْضَلُ بَعْدَ شَهْرِ رَمَضَانَ فَقَالَ أَفْضَلُ الصَّلاَةِ بَعْدَ الصَّلاَةِ الْمَكْتُوبَةِ الصَّلاَةُ فِي جَوْفِ اللَّيْلِ وَأَفْضَلُ الصِّيَامِ بَعْدَ شَهْرِ رَمَضَانَ صِيَامُ شَهْرِ اللَّهِ الْمُحَرَّمِ "
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, আমি জান্নাতের দিকে উঁকি দিলাম, আর দেখতে পেলাম, তার অধিকাংশই দুঃস্থ গরীব লোক। তারপর জাহান্নামের দিকে উঁকি দিলাম, আর দেখতে পেলাম জাহান্নামবাসীদের অধিকাংশই মহিলা জাতি। (ই.ফা. ৬৬৮৭, ই.সে. ৬৭৪২)
সহিহ মুসলিম ৬৮৩২
وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ، الْمُنْتَشِرِ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، - رضى الله عنه - يَرْفَعُهُ قَالَ سُئِلَ أَىُّ الصَّلاَةِ أَفْضَلُ بَعْدَ الْمَكْتُوبَةِ وَأَىُّ الصِّيَامِ أَفْضَلُ بَعْدَ شَهْرِ رَمَضَانَ فَقَالَ أَفْضَلُ الصَّلاَةِ بَعْدَ الصَّلاَةِ الْمَكْتُوبَةِ الصَّلاَةُ فِي جَوْفِ اللَّيْلِ وَأَفْضَلُ الصِّيَامِ بَعْدَ شَهْرِ رَمَضَانَ صِيَامُ شَهْرِ اللَّهِ الْمُحَرَّمِ "
ইসহাক্ ইবনু ইব্রাহীম (রহঃ) এ সূত্র থেকে বর্নিতঃ
অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ৬৬৮৮, ই.সে. ৬৭৪৩)
সহিহ মুসলিম ৬৮৩৩
وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ، الْمُنْتَشِرِ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، - رضى الله عنه - يَرْفَعُهُ قَالَ سُئِلَ أَىُّ الصَّلاَةِ أَفْضَلُ بَعْدَ الْمَكْتُوبَةِ وَأَىُّ الصِّيَامِ أَفْضَلُ بَعْدَ شَهْرِ رَمَضَانَ فَقَالَ أَفْضَلُ الصَّلاَةِ بَعْدَ الصَّلاَةِ الْمَكْتُوبَةِ الصَّلاَةُ فِي جَوْفِ اللَّيْلِ وَأَفْضَلُ الصِّيَامِ بَعْدَ شَهْرِ رَمَضَانَ صِيَامُ شَهْرِ اللَّهِ الْمُحَرَّمِ "
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) জাহান্নামের দিকে উঁকি দিলেন। অতঃপর আবুল আশহাব আইয়ূব-এর বর্ণিত হাদীসের অবিকল বর্ণনা করেন। (ই.ফা. ৬৬৮৯, ই.সে. ৬৭৪৩)
সহিহ মুসলিম ৬৮৩৪
وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ بْنِ عُمَيْرٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ، الْمُنْتَشِرِ عَنْ حُمَيْدِ بْنِ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، - رضى الله عنه - يَرْفَعُهُ قَالَ سُئِلَ أَىُّ الصَّلاَةِ أَفْضَلُ بَعْدَ الْمَكْتُوبَةِ وَأَىُّ الصِّيَامِ أَفْضَلُ بَعْدَ شَهْرِ رَمَضَانَ فَقَالَ أَفْضَلُ الصَّلاَةِ بَعْدَ الصَّلاَةِ الْمَكْتُوبَةِ الصَّلاَةُ فِي جَوْفِ اللَّيْلِ وَأَفْضَلُ الصِّيَامِ بَعْدَ شَهْرِ رَمَضَانَ صِيَامُ شَهْرِ اللَّهِ الْمُحَرَّمِ "
ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ...... এরপর সা‘ঈদ (রহঃ) তার হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ৬৬৯০, ই.সে. ৬৭৪৪)
সহিহ মুসলিম ৬৮৩৫
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ زَائِدَةَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ، بْنِ عُمَيْرٍ بِهَذَا الإِسْنَادِ فِي ذِكْرِ الصِّيَامِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . بِمِثْلِهِ .
আবূ তাইয়্যাহ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, মুতার্রিফ ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রহঃ)-এর দু’ স্ত্রী ছিল। তিনি একবার তাদের একজনের নিকট হতে আসলেন। তখন অপরজন বলল, আপনি তো অমুকের কাছ হতে আসছেন। তিনি বললেন, আমি ‘ইমরান ইবনু হুসায়ন (রাঃ)-এর নিকট হতে এসেছি। তিনি আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করলেন যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ জান্নাতে মহিলা জাতি সবচেয়ে কম। (ই.ফা. ৬৬৯১, ই.সে. ৬৭৪৫)
সহিহ মুসলিম ৬৮৩৬
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ زَائِدَةَ، عَنْ عَبْدِ الْمَلِكِ، بْنِ عُمَيْرٍ بِهَذَا الإِسْنَادِ فِي ذِكْرِ الصِّيَامِ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم . بِمِثْلِهِ .
আবূ তাইয়্যাহ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি মুতার্রিফকে হাদীস বর্ণনা করতে শুনেছি যে, “সত্যিই তার দু’জন স্ত্রী ছিল”। মু‘আয-এর হাদীসের মর্মে অবিকল হাদীস। (ই.ফা. ৬৬৯২, ই.সে. ৬৭৪৬)
সহিহ মুসলিম ৬৮৩৭
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ أَيُّوبَ، وَقُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَعَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ، جَمِيعًا عَنْ إِسْمَاعِيلَ، - قَالَ ابْنُ أَيُّوبَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، - أَخْبَرَنِي سَعْدُ بْنُ سَعِيدِ بْنِ قَيْسٍ، عَنْ عُمَرَ، بْنِ ثَابِتِ بْنِ الْحَارِثِ الْخَزْرَجِيِّ عَنْ أَبِي أَيُّوبَ الأَنْصَارِيِّ، - رضى الله عنه - أَنَّهُ حَدَّثَهُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَنْ صَامَ رَمَضَانَ ثُمَّ أَتْبَعَهُ سِتًّا مِنْ شَوَّالٍ كَانَ كَصِيَامِ الدَّهْرِ "
‘আবদুল ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর দু‘আর মধ্যে একটি ছিল এই যে, “আল্ল-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযুবিকা মিন যাওয়া-লি নি‘মাতিকা ওয়াতা হাও্উলি ‘আ-ফিয়াতিকা ওয়া ফুজা-য়াতি নিক্মাতিকা ওয়া জামী’ই সাখাতিকা” অর্থাৎ- “হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকট আশ্রয় চাই নি‘আমাত দূর হয়ে যাওয়া হতে, তোমা রদেয়া সুস্থতা পরিবর্তন হয়ে যাওয়া থেকে, তোমার অকস্মাৎ শাস্তি আসা হতে এবং তোমার সকল প্রকার অসন্তুষ্টি থেকে।” (ই.ফা. ৬৬৯৩, ই.সে. ৬৭৪৭)
সহিহ মুসলিম ৬৮৩৮
وَحَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا سَعْدُ بْنُ سَعِيدٍ، أَخُو يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ أَخْبَرَنَا عُمَرُ بْنُ ثَابِتٍ، أَخْبَرَنَا أَبُو أَيُّوبَ الأَنْصَارِيُّ، - رضى الله عنه - قَالَ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ . بِمِثْلِهِ .
উসামাহ্ ইবনু যায়দ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমি আমার (ইন্তিকালের) পরে পুরুষদের জন্য মহিলাদের ফিতনার চেয়ে অধিকতর কোন ফিতনাহ্ রেখে যাইনি। (ই.ফা. ৬৬৯৪, ই.সে. ৬৭৪৮)
সহিহ মুসলিম ৬৮৩৯
وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ سَعْدِ بْنِ سَعِيدٍ، قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ ثَابِتٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا أَيُّوبَ، - رضى الله عنه - يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِهِ .
সা‘ঈদ ইবনু যায়দ ইবনু ‘আম্র ইবনু নুফায়ল (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেছেন, আমি আমার (ইন্তিকালের) পরে মানুষদের মধ্যে পুরুষদের জন্য নারীদের তুলনায় অধিকতর ক্ষতিকর কোন ফিতনাহ্ ছেড়ে যাইনি। (ই.ফা. ৬৬৯৫, ই.সে. ৬৭৪৯)
সহিহ মুসলিম ৬৮৪০
وَحَدَّثَنَاهُ أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ الْمُبَارَكِ، عَنْ سَعْدِ بْنِ سَعِيدٍ، قَالَ سَمِعْتُ عُمَرَ بْنَ ثَابِتٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا أَيُّوبَ، - رضى الله عنه - يَقُولُ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِهِ .
সুলাইমান আত্ তাইমী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
এ সূত্রে তার অবিকল হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ৬৬৯৬, ই.সে. ৬৭৫০)
সহিহ মুসলিম ৬৮৪১
وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، - رضى الله عنهما - أَنَّ رِجَالاً، مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أُرُوا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي الْمَنَامِ فِي السَّبْعِ الأَوَاخِرِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَرَى رُؤْيَاكُمْ قَدْ تَوَاطَأَتْ فِي السَّبْعِ الأَوَاخِرِ فَمَنْ كَانَ مُتَحَرِّيَهَا فَلْيَتَحَرَّهَا فِي السَّبْعِ الأَوَاخِرِ "
আবূ সা‘ঈদ আল খুদরী (রাঃ)-এর সানাদে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, অবশ্যই দুনিয়াটা চাকচিক্যময় মিষ্টি ফলের মতো আকর্ষণীয়। আল্লাহ তা‘আলা সেখানে তোমাদেরকে প্রতিনিধি নিযুক্ত করেছেন। তিনি লক্ষ্য করতেছেন যে, তোমরা কিভাবে কাজ করো? তোমরা দুনিয়া ও নারী জাতি থেকে সতর্ক থেকো। কেননা বানী ইসরাঈলের মাঝে প্রথম ফিতনাহ্ নারীকেন্দ্রিক ছিল। ইবনু বাশ্শার (রহঃ)-এর বর্ণিত হাদীসে (আরবী)-এর স্থানে (আরবী) কথাটি আছে। (ই.ফা. ৬৬৯৭, ই.সে. ৬৭৫১)
সহিহ মুসলিম > তিন গর্তবাসীর ঘটনা এবং সৎকর্মকে ওয়াসীলা করা সংক্রান্ত
সহিহ মুসলিম ৬৮৪২
وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ، عُمَرَ - رضى الله عنهما - عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ تَحَرَّوْا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي السَّبْعِ الأَوَاخِرِ "
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর সূত্রে রসূলুলাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেছেন, এক সময় তিন লোক পথে হেঁটে চলতে চলতে ঝড়-বৃষ্টি নেমে গেল। তখন তারা একটি পাহাড়ের গর্তে আশ্রয় নিল। ইতোমধ্যে পাহাড় হতে একটি পাথর খণ্ড খসে পরে তাদের গর্তে মুখ ঢেকে দিল। ফলে গর্তে মুখ বন্ধ হয়ে গেল। সে মুহুর্তে তারা পরস্পরকে বলতে লাগল, নিজ নিজ সৎ ‘আমালের প্রতি খেয়াল করো যা তোমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য করেছ এবং সে সৎকর্মের ওয়াসীলার মাধ্যমে আল্লাহর নিকট দু‘আ করতে থাকো। এমন হতে পারে, আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের এ মহাবিপদ (পাথরটি সরিয়ে) হতে নিষ্কৃতি দিবেন। তখন তাদের একজন বলল, হে আল্লাহ! আমার পিতা-মাতা ছিলেন বয়োবৃদ্ধ। আমার একজন স্ত্রী ও ছোট ছোট সন্তান-সন্ততি ছিল। আমি তাদের (জীবিকার) জন্য মেষ-বকরী মাঠে চরাতাম। (সন্ধ্যায়) ঘরে ফিরে এসে তাদের জন্য আমি সেগুলোকে দুধ দোহন করতাম এবং আমি আমার সন্তানদের পূর্বে প্রথমেই আমার পিতা-মাতাকে দুধ পান করাতাম। একদিন একটি গাছের সন্ধানে অনেক দূরে যেতে হলো, ফলে আমার ঘরে ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে গেলো। (ফিরে এসে) আমি তাদের (পিতা-মাতা) দু’জনকে ঘুমন্ত অবস্থায় পেলাম। তারপর আমি আগের মতই দুধ দোহন করলাম। তারপর আমি দুধ নিয়ে আমার পিতা-মাতার মাথার নিকট দাঁড়িয়ে থাকলাম এবং তাদের ঘুম ভাঙ্গানো ঠিক মনে করলাম না এবং তাদের পূর্বে সন্তানদেরকে দুধ পান করানোও পছন্দ করলাম না। সে মুহুর্তে (আমার) সন্তানরা ক্ষুধার তাড়নায় আমার দু’পায়ের কাছে কাতরাচ্ছিল। তাদের ও আমার এ অবস্থা চলতে থাকলো। এ অবস্থায় শেষে ভোর হয়ে গেলো। যদি তুমি মনে কর যে, আমি এ কাজ তোমার সন্তুষ্টি লাভের জন্য করেছি, তাহলে আমাদের জন্য কিছুটা ফাঁকা করে দাও, যাদ্বারা আমরা আকাশ দেখতে পাই। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাতে একটু ফাঁকা করে দিলেন। তা দিয়ে তারা আকাশ দেখতে পেলেন। অপর জন বলল, হে আল্লাহ! আমার ঘটনা এই যে, আমার এক চাচাতো বোন ছিল কোন পুরুষ কোন নারীকে ভালবাসার মতই আমি তাকে অত্যধিক ভালবাসতাম এবং আমি তাকে একান্ত কাছে পেতে চাইলাম (যৌন আবেদন করলাম)। সে তা প্রত্যাখ্যান করল এবং (অবশেষে) একশ’ দীনার বিনিময় চাইল। অতঃপর আমি কষ্ট করে একশ’ দীনার জমা করলাম। তারপর সেগুলো নিয়ে তার নিকট আসলাম। যখন আমি তার দু’পায়ের মধ্যখানে বসলাম, সে সময় তিনি বললেন, হে আল্লাহর বান্দা! আল্লাহকে ভয় করো। বিবাহ ব্যাতীত সতিত্ব নষ্ট করো না। এ কথা শুনে আমি তৎক্ষণাৎ উঠে দাঁড়ালাম। তুমি যদি মনে কর যে, শুধুমাত্র তোমার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যই আমি এ কাজ করেছি তবে আমাদের জন্য একটু ফাঁকা করে দাও। তখন তিনি তাদের জন্য আরেকটু ফাঁকা করে দিলেন। অন্য লোকটি বলল, হে আল্লাহ! আমি এক ‘ফারাক’ (প্রায় সাত কিলোগ্রাম) শস্যের বিনিময়ে একজন মজদুর নিযুক্ত করেছিলাম। সে তার কর্ম শেষ করলো এবং বলল, আমাকে আমার প্রাপ্য দিয়ে দিন। আমি এক ফারাক (শস্য) তার সামনে পেশ করলাম। কিন্তু সে তা না নিয়ে চলে গেল। আমি সে শস্য জমিনে চাষ করতে থাকলাম। শেষ অবধি তা দিয়ে গরু-বকরী ও রাখাল সংগ্রহ করলাম। পরে সে আমার নিকট আসলো এবং বলল, আল্লাহকে ভয় করো। আর আমার পাওনা আদায় করতে আমার উপর অবিচার করো না। আমি বললাম, তুমি এ (সমস্ত) গরু ও রাখাল নিয়ে যাও। সে বলল, আল্লাহকে ভয় করো, আমার সাথে উপহাস করো না। আমি বললাম, সত্যিই আমি তোমার সাথে উপহাস করছি না। এ গরু ও রাখাল নিয়ে যাও। অতঃপর সে তা নিয়ে চলে গেল। যদি তুমি জান যে, আমি এ কর্মটি তোমার সন্তুষ্টি লাভের জন্য করেছি তাহলে অবশিষ্টাংশ ফাঁকা করে দাও। তখন আল্লাহ তা‘আলা গুহার মুখের বাকী অংশটুকু ফাঁকা করে দিলেন। (ই.ফা. ৬৬৯৮, ই.সে. ৬৭৫২)
সহিহ মুসলিম ৬৮৪৩
وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ، عُمَرَ - رضى الله عنهما - عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ تَحَرَّوْا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي السَّبْعِ الأَوَاخِرِ "
ইসহাক্ ইবনু মানসূর ও ‘আবদ ইবনু হুমায়দ, সুওয়াইদ ইবনু সা‘ঈদ, আবূ কুরায়ব ও মুহাম্মাদ ইবনু তারীফ আল বাজালী, যুহায়র ইবনু হার্ব, হাসান আল হুলওয়ানী, ‘আবদ ইবনু হুমায়দ (রহঃ)- এরা সকলেই ইবনু ‘উমার (রাঃ)-এর সানাদে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্নিতঃ
মূসা ইবনু ‘উক্বাহ্ (রহঃ)-এর সানাদে আবূ যামরাহ্ (রহঃ)-এর হাদীসের মর্ম অনুযায়ী হাদীস বর্ণনা করেছেন। তাঁরা তাঁদের হাদীসে বর্ধিত বর্ণনা করেছেন, (আরবী) ‘তারা পায়ে হেঁটে বের হয়েছিল’। সালিহ্ (রহঃ)-এর হাদীসে (আরবী) ‘তারা পায়ে হেঁটে চলছিল’ বর্ণনা রয়েছে। ‘উবাইদুল্লাহ তার হাদীসে (আরবী) “তারা বের হলো” বর্ণনা করেছেন। এরপর তিনি কোন বিষয় বর্ণনা করেননি। (ই.ফা. ৬৬৯৯, ই.সে. ৬৭৫৩)
সহিহ মুসলিম ৬৮৪৪
وَحَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ دِينَارٍ، عَنِ ابْنِ، عُمَرَ - رضى الله عنهما - عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ تَحَرَّوْا لَيْلَةَ الْقَدْرِ فِي السَّبْعِ الأَوَاخِرِ "
ইমাম যুহরী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, সালিম ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) আমাকে অবহিত করেছেন যে, ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেছেনঃ আমি রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, আগেকার উম্মাতের মাঝে তিনজন লোক একদিকে যাত্রা শুরু করেন, অবশেষে সন্ধ্যাবেলায় এক পাহাড়ের গুহায় আশ্রয় নিলেন।... তারপর নাফি‘ বর্ণিত হাদীসের একই অর্থবোধক হাদীস বর্ণনা করেন। তবে ইবনু ‘উমার বলেন, তাদের মধ্য থেকে একজন বলেন, আমার দুই বৃদ্ধ মাতা-পিতা ছিল। আমি কক্ষনও তাঁদের পূর্বে পরিজনকে সন্ধ্যায় খাবার খাওয়াতাম না এবং তিনি (ইবনু ‘উমার) বলেন, (চাচাতো বোনটি) আমার প্রস্তাবে রাজী হলো না। পরিশেষে সে অভাব-অনটনে আপতিত হলে আমার কাছে আসল। তখন আমি তাকে একশ’ বিশটি দিনার দিলাম। আর তিনি বলেন, আমি তার পাওনাটা বৃদ্ধি করার চেষ্টা করলাম। ফলে অনেক ধন-সম্পদ হয়ে গেল, এরপর ক্রমশ বৃদ্ধি পেতে থাকল এবং তিনি বলেন, অতঃপর তারা গুহা হতে বের হয়ে চলতে লাগল। (ই.ফা. নেই, ই.সে. ৬৭৫৪)