সহিহ মুসলিম > রাগের মুহুর্তে যে নিজেকে বশ করে তার মর্যাদা এবং কিসের সাহায্যে রাগ দূরীভূত হয়
সহিহ মুসলিম ৬৫৩৫
وَحَدَّثَنَاهُ يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ هِشَامٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . مِثْلَ حَدِيثِ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ إِنِّي رَجُلٌ أَسْرُدُ الصَّوْمَ .
‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস’উদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ তোমরা তোমাদের মাঝে কাউকে নিঃসন্তান বলে মনে করো? বর্ণনাকারী বলেন, আমরা বললাম, যার সন্তান জন্মায় না তাকেই নিঃসন্তান মনে করি। তিনি বললেন, সে ব্যক্তি মূলতঃ নিঃসন্তান নয়। বরং সে লোকই নিঃসন্তান, যে তার কোন সন্তানকে আগে পাঠায়নি (অর্থাৎ-যার জীবিতাবস্থায় তার সন্তান মৃত্যুবরণ করেনি)। তিনি বললেন, তোমরা তোমাদের মাঝে কাকে বীর বিক্রম বলে গণ্য করো? আমরা বললাম, যাকে মানুষেরা কুস্তিতে ঠকাতে পারে না। তিনি বললেন, মূলতঃ সে বীর বিক্রম নয়; বরং (প্রকৃত বীর সে-ই) যে রাগের মুহূর্তে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে।১ (ই.ফা. ৬৪০৩, ই.সে. ৬৪৫৪)
সহিহ মুসলিম ৬৫৩৬
وَحَدَّثَنَاهُ يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنْ هِشَامٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . مِثْلَ حَدِيثِ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ إِنِّي رَجُلٌ أَسْرُدُ الصَّوْمَ .
আ‘মাশ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
আ‘মাশ (রাঃ) হতে এ সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ৬৪০৪, ই.সে. ৬৪৫৫)
সহিহ মুসলিম ৬৫৩৭
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، وَقَالَ أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ سُلَيْمَانَ، كِلاَهُمَا عَنْ هِشَامٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ أَنَّ حَمْزَةَ، قَالَ إِنِّي رَجُلٌ أَصُومُ أَفَأَصُومُ فِي السَّفَرِ.
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: সে লোক প্রকৃত বীর বিক্রম নয়, যে কুস্তিতে জয়ী হয় বরং প্রকৃত বীর বিক্রম সে-ই; যে রাগের মুহূর্তে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। (ই.ফা.৬৪০৫, ই.সে.৬৪৫৬)(আরবী)
সহিহ মুসলিম ৬৫৩৮
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، وَقَالَ أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ سُلَيْمَانَ، كِلاَهُمَا عَنْ هِشَامٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ أَنَّ حَمْزَةَ، قَالَ إِنِّي رَجُلٌ أَصُومُ أَفَأَصُومُ فِي السَّفَرِ.
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, সে লোক প্রকৃত বীর বিক্রম নয়, যে কুস্তিতে সফল হয়। লোকেরা জানতে চাইল, হে আল্লাহর রসূল! তাহলে প্রকৃত বীর কে? তিনি বললেন, প্রকৃত সাহসী বীর সে-ই, যে রাগের মুহূর্তে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারে। (ই.ফা.৬৪০৬, ই.সে.৬৪৫৬ [ক])
সহিহ মুসলিম ৬৫৩৯
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، وَقَالَ أَبُو بَكْرٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحِيمِ بْنُ سُلَيْمَانَ، كِلاَهُمَا عَنْ هِشَامٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ أَنَّ حَمْزَةَ، قَالَ إِنِّي رَجُلٌ أَصُومُ أَفَأَصُومُ فِي السَّفَرِ.
আবূ হুরাইরাহ্ (রাঃ)-এর সানাদে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্নিতঃ
আবূ হুরায়রা্ (রাঃ)-এর সানাদে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হতে হুবহু হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা.৬৪০৭, ই.সে.৬৪৫৭)
সহিহ মুসলিম ৬৫৪০
وَحَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، وَهَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ الأَيْلِيُّ، - قَالَ هَارُونُ حَدَّثَنَا وَقَالَ أَبُو الطَّاهِرِ أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ أَبِي الأَسْوَدِ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ أَبِي مُرَاوِحٍ، عَنْ حَمْزَةَ بْنِ عَمْرٍو الأَسْلَمِيِّ، - رضى الله عنه - أَنَّهُ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَجِدُ بِي قُوَّةً عَلَى الصِّيَامِ فِي السَّفَرِ فَهَلْ عَلَىَّ جُنَاحٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هِيَ رُخْصَةٌ مِنَ اللَّهِ فَمَنْ أَخَذَ بِهَا فَحَسَنٌ وَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يَصُومَ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْهِ " . قَالَ هَارُونُ فِي حَدِيثِهِ " هِيَ رُخْصَةٌ " . وَلَمْ يَذْكُرْ مِنَ اللَّهِ ."
সুলাইমান ইবনু সুরাদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর নিকট এসে দু’ব্যক্তি কথা কাটাকাটিতে প্রবৃত্ত হলো এবং তাদের একজনের দু’ চোখ (রাগে) লাল হয়ে গেল এবং তার রগরেশা খাড়া হয়ে গেল। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমি এমন একটা কালিমাহ্ জানি, যা যে কেউ পাঠ করলে তার রাগ দূর হয়ে যায়। আর তা হচ্ছে (আরবী) (আমি বিতাড়িত শাইতানের থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই)। (এ কথা শুনে) সে ব্যক্তি বলল, আপনি কি আমাকে পাগল মনে করেছেন? ইবনুল ‘আলা (রহঃ) তার বর্ণনায় বলেন, তারপর তিনি বললেন, তুমি কি মনে করেছ? (আরবী) শব্দটি তিনি উল্লেখ করেননি। (ই.ফা.৬৪০৮, ই.সে.৬৪৫৮) (আরবী)
সহিহ মুসলিম ৬৫৪১
وَحَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، وَهَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ الأَيْلِيُّ، - قَالَ هَارُونُ حَدَّثَنَا وَقَالَ أَبُو الطَّاهِرِ أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ أَبِي الأَسْوَدِ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ أَبِي مُرَاوِحٍ، عَنْ حَمْزَةَ بْنِ عَمْرٍو الأَسْلَمِيِّ، - رضى الله عنه - أَنَّهُ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَجِدُ بِي قُوَّةً عَلَى الصِّيَامِ فِي السَّفَرِ فَهَلْ عَلَىَّ جُنَاحٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هِيَ رُخْصَةٌ مِنَ اللَّهِ فَمَنْ أَخَذَ بِهَا فَحَسَنٌ وَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يَصُومَ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْهِ " . قَالَ هَارُونُ فِي حَدِيثِهِ " هِيَ رُخْصَةٌ " . وَلَمْ يَذْكُرْ مِنَ اللَّهِ ."
সুলাইমান ইবনু সুরাদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর সামনে দু‘ব্যক্তি কথা কাটাকাটি করতে উদ্যত হলো। তাদের একজন কঠিন রাগান্বিত হলো এবং তার মুখমন্ডল রাগে লাল হয়ে গেল। তখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার প্রতি তাকিয়ে বললেন, আমি এমন একটা কালিমাহ্ জানি, সে তা পাঠ করে তার থেকে এ রাগ চলে যাবে। (আর তা হলো) আ‘ঊযু বিল্লাহি মিনাশ্ শাইত্ব-নির রজীম-… “আমি বিতাড়িত শাইতানের থেকে আল্লাহর নিকট আশ্রয় চাই”। সে সময় যারা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বাণী শুনেছেন, তাদের মধ্য হতে একজন সে লোকটির নিকট গিয়ে বললেন, তুমি কি জান, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একটু আগে কি বলেছেন? তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, অবশ্যই আমি এমন একটি কালিমাহ্ জানি, তা যদি সে পাঠ করত তাহলে তার হতে তা (রাগ) চলে যেত। (আর তা হলো) এ- (আরবী) তারপর সে ব্যক্তি তাকে বলল, তুমি কি আমাকে পাগল মনে করেছ? (ই.ফা.৬৪০৯, ই.সে.৬৪৫৯)(আরবী)
সহিহ মুসলিম ৬৫৪২
وَحَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، وَهَارُونُ بْنُ سَعِيدٍ الأَيْلِيُّ، - قَالَ هَارُونُ حَدَّثَنَا وَقَالَ أَبُو الطَّاهِرِ أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرُو بْنُ الْحَارِثِ، عَنْ أَبِي الأَسْوَدِ، عَنْ عُرْوَةَ بْنِ الزُّبَيْرِ، عَنْ أَبِي مُرَاوِحٍ، عَنْ حَمْزَةَ بْنِ عَمْرٍو الأَسْلَمِيِّ، - رضى الله عنه - أَنَّهُ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَجِدُ بِي قُوَّةً عَلَى الصِّيَامِ فِي السَّفَرِ فَهَلْ عَلَىَّ جُنَاحٌ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم هِيَ رُخْصَةٌ مِنَ اللَّهِ فَمَنْ أَخَذَ بِهَا فَحَسَنٌ وَمَنْ أَحَبَّ أَنْ يَصُومَ فَلاَ جُنَاحَ عَلَيْهِ " . قَالَ هَارُونُ فِي حَدِيثِهِ " هِيَ رُخْصَةٌ " . وَلَمْ يَذْكُرْ مِنَ اللَّهِ ."
আ‘মাশ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
এ সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা.৬৪১০, ই.সে.৬৪৬০)
সহিহ মুসলিম > সৃষ্টিগত ভাবে মানুষ নিজেকে আয়ত্তে রাখতে ক্ষমতা রাখে না
সহিহ মুসলিম ৬৫৪৩
حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ رُشَيْدٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ أُمِّ الدَّرْدَاءِ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، - رضى الله عنه - قَالَ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي شَهْرِ رَمَضَانَ فِي حَرٍّ شَدِيدٍ حَتَّى إِنْ كَانَ أَحَدُنَا لَيَضَعُ يَدَهُ عَلَى رَأْسِهِ مِنْ شِدَّةِ الْحَرِّ وَمَا فِينَا صَائِمٌ إِلاَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوَاحَةَ .
আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আল্লাহ তা‘আলা জান্নাতে যখন আদাম (‘আঃ)-এর আকৃতি সৃষ্টি করেন তখন আল্লাহ তা‘আলা তাকে নিজের ইচ্ছামত ফেলে রাখলেন। আর ইব্লীস তার চতুর্দিকে প্রদক্ষিণ করতো এবং দেখতে থাকতো যে, পদার্থটি কি? সে যখন দেখতে পেল তা খালী পাত্র তখন সে বুঝল যে, তাকে এমন এক স্বভাব দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে, যে নিজকে আয়ত্তে রাখতে পারে না। (ই.ফা.৬৪১১, ই.সে.৬৪৬১)
সহিহ মুসলিম ৬৫৪৪
حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ رُشَيْدٍ، حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ بْنُ مُسْلِمٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ، بْنِ عُبَيْدِ اللَّهِ عَنْ أُمِّ الدَّرْدَاءِ، عَنْ أَبِي الدَّرْدَاءِ، - رضى الله عنه - قَالَ خَرَجْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي شَهْرِ رَمَضَانَ فِي حَرٍّ شَدِيدٍ حَتَّى إِنْ كَانَ أَحَدُنَا لَيَضَعُ يَدَهُ عَلَى رَأْسِهِ مِنْ شِدَّةِ الْحَرِّ وَمَا فِينَا صَائِمٌ إِلاَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ رَوَاحَةَ .
হাম্মাদ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
হাম্মাদ (রহঃ) এ সূত্রে হুবহু বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা.৬৪১২, ই.সে.৬৪৬২)