সহিহ মুসলিম > উওয়াইস আল কারানী (রাঃ)-এর ফযিলত
সহিহ মুসলিম ৬৩৮৪
وَحَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ الشَّيْبَانِيُّ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ، اللَّهِ بْنَ أَبِي أَوْفَى - رضى الله عنه - يَقُولُ سِرْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ صَائِمٌ فَلَمَّا غَرَبَتِ الشَّمْسُ قَالَ يَا فُلاَنُ انْزِلْ فَاجْدَحْ لَنَا " مِثْلَ حَدِيثِ ابْنِ مُسْهِرٍ وَعَبَّادِ بْنِ الْعَوَّامِ
উসায়র ইবনু জাবির (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
কূফার একটি প্রতিনিধি দল ‘উমার (রাঃ)-এর কাছে আগমন করলো। তাঁদের মধ্যে এমন এক ব্যক্তিও ছিল, যে উওয়াইস (রাঃ)-কে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করত। তখন ‘উমার (রাঃ) বললেন, এখানে কারানী গোষ্ঠীর কোন ব্যক্তি আছে কি? তখন সে লোকটি আসলো। এরপর ‘উমার (রাঃ) বললেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমাদের নিকট ইয়ামান থেকে এক ব্যক্তি আগমন করবে, যে ‘উওয়াইস’ নামে খ্যাত। ইয়ামানে তাঁর মা ছাড়া আর কেউ থাকবে না। তার কুষ্ঠরোগ হয়েছিল। সে আল্লাহর নিকট দু’আ করার পরিবর্তে আল্লাহ তাকে কুষ্ঠরোগ দূর করে দেন। কিন্তু কেবল মাত্র এক দীনার কিংবা এক দিরহাম পরিমাণ জায়গা অবশিষ্ট থাকে। তোমাদের মাঝখান থেকে কেউ যদি তাঁর দেখা পায় সে যেন নিজের জন্য তাঁর নিকট মাগফিরাতের দু’আ প্রার্থনা করে। (ই.ফা. ৬২৫৯, ই.সে. ৬৩০৮)
সহিহ মুসলিম ৬৩৮৫
وَحَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ الشَّيْبَانِيُّ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ، اللَّهِ بْنَ أَبِي أَوْفَى - رضى الله عنه - يَقُولُ سِرْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ صَائِمٌ فَلَمَّا غَرَبَتِ الشَّمْسُ قَالَ يَا فُلاَنُ انْزِلْ فَاجْدَحْ لَنَا " مِثْلَ حَدِيثِ ابْنِ مُسْهِرٍ وَعَبَّادِ بْنِ الْعَوَّامِ
উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে, অবশ্যই তাবি’ঈনদের মধ্যে সে লোক শ্রেষ্ঠ যে ‘উওয়াইস’ নামে খ্যাত। তাঁর একমাত্র মা আছেন এবং তাঁর কুষ্ঠরোগ হয়েছিল। তোমরা তাঁর নিকট অনুরোধ করবে যেন সে তোমাদের মাগফিরাতের জন্য দু’আ কামনা করবে। (ই.ফা. ৬২৬০, ই.সে. ৬৩০৯)
সহিহ মুসলিম ৬৩৮৬
وَحَدَّثَنَا أَبُو كَامِلٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ الشَّيْبَانِيُّ، قَالَ سَمِعْتُ عَبْدَ، اللَّهِ بْنَ أَبِي أَوْفَى - رضى الله عنه - يَقُولُ سِرْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهُوَ صَائِمٌ فَلَمَّا غَرَبَتِ الشَّمْسُ قَالَ يَا فُلاَنُ انْزِلْ فَاجْدَحْ لَنَا " مِثْلَ حَدِيثِ ابْنِ مُسْهِرٍ وَعَبَّادِ بْنِ الْعَوَّامِ
উসায়র ইবনু জাবির (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)-এর অভ্যাস ছিল, যখন ইয়ামানের কোন সাহায্যকারী ফৌজ তাঁর নিকট আসত তখন তিনি তাঁদের প্রশ্ন করতেন, তোমাদের মাঝে কি উওয়াইস ইবনু আমির রয়েছে? পরিশেষে তিনি উওয়াইসকে পান। তখন তিনি বললেন, তুমি কি উওয়াইস ইবনু ‘আমির? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তিনি প্রশ্ন করলেন, মুরাদ গোষ্ঠীর কারান কাওমের? তিনি বললেন, হ্যাঁ। জানতে চাইলেন, তোমার কি কুষ্ঠরোগ হয়েছিল এবং তা নিরাময় হয়েছে, শুধুমাত্র এক দিরহাম জায়গা ছাড়া? তিনি বললেন, হ্যাঁ। প্রশ্ন করলেন, তোমার মা আছেন কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তখন ‘উমার (রাঃ) বললেন, আমি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেনঃ “তোমাদের নিকট মুরাদ গোষ্ঠীর কারান বংশের উওয়াইস ইবনু ‘আমির ইয়ামানের সাহায্যকারী দলের সাথে আসবে। তাঁর কুষ্ঠরোগ ছিল। পরে তিনি সুস্থ হয়ে গেছেন। কেবলমাত্র এক দিরহাম ব্যতীত। তাঁর মা রয়েছেন। সে তাঁর প্রতি অতি সেবাপরায়ণ। এমন লোক আল্লাহর উপর শপথ করে নিলে আল্লাহ তা পূর্ণ করে দেন। সুতরাং তুমি যদি তোমার জন্য তাঁর নিকট মাফফিরাতের দু’আ প্রার্থনার সুযোগ পাও তাহলে তা করবে।” কাজেই আপনি আমার জন্য মাগফিরাতের দু’আ কামনা করুন। তখন উওয়াইস (রাঃ) তাঁর মাগফিরাতের জন্য দু’আ প্রার্থনা করলেন। তারপর ‘উমার (রাঃ) তাকে বললেন, তুমি কোথায় যেতে চাও? তিনি বললেন, কুফাহ্ অঞ্চলে। ‘উমার (রাঃ) বললেন, আমি কি তোমার জন্য কূফার প্রশাসকের নিকট চিঠি লিখে দিব? তিনি বললেন, আমি বিনীত ও দারিদ্র-পীড়িত লোকদের মধ্যে অবস্থান করাই পছন্দ করি। রাবী বলেন, পরবর্তী বছরে তাঁদের অভিজাত লোকেদের মাঝে এক লোক হাজ্জ করতে আসলো এবং ‘উমার (রাঃ)-এর সাথে তাঁর দেখা হলো। তখন তিনি তাকে উওয়াইস কারানী (রাঃ)-এর অবস্থা সম্বন্ধে প্রশ্ন করলেন। সে বলল, আমি তাঁকে নিঃস্ব দরিদ্র অবস্থায় রেখে এসেছি। তিনি বললেন, আমি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি যে, তিনি বলেছেনঃ তোমাদের নিকট কারান বংশের মুরাদ গোত্রের উওয়াইস ইবনু ‘আমির (রাঃ) ইয়ামানের একদল সাহায্যকারীদের সাথে আসবে। তাঁর ছিল কুষ্ঠরোগ। সে তা থেকে নিরাময় লাভ করে, এক দিরহাম জায়গা ছাড়া। তাঁর মা আছেন, সে তাঁর প্রতি অতি সেবাপরায়ণ। সে যদি আল্লাহর নামে শপথ করে তাহলে আল্লাহ তা’আলা তা পূরণ করে দেন। তোমরা নিজের জন্য তাঁর নিকট মাগফিরাত-এর দু’আ কামনা করুন। তিনি বললেন, আপনি তো নেক সফর থেকে সবেমাত্র এসেছেন। কাজেই আপনি আমার জন্য মাগফিরাতের দু’আ প্রার্থনা করুন। সে লোক বলল, আপনি আমার জন্য মাগফিরাতের দু’আ কামনা করুন। উওয়াইস (রাঃ) বললেন, আপনি সদ্য নেক সফর থেকে এসেছেন, আপনি আমার মাগফিরাতের জন্য দু’আ করুন। অতঃপর তিনি প্রশ্ন করলেন, আপনি কি ‘উমার (রাঃ)-এর দেখা পেয়েছেন? সে বলল, হ্যাঁ। তখন তিনি তাঁর জন্য মাগফিরাতের দু’আ কামনা করলেন। তখন লোকেরা তাঁর মর্যাদা সম্বন্ধে অবগত হলেন। এরপর তিনি তাঁর সামনে চললেন। উসায়র বলেন, আমি তাঁকে একটি ডোরাদার চাদর পরিয়ে দিলাম। অতঃপর কোন লোক যখন তাঁকে দেখতো তখন জানতে চাইতো, উওয়াইসের নিকট এ চাদরটি কোত্থেকে আসলো? (ই.ফা.৬২৬১, ই.সে. ৬৩১০)
সহিহ মুসলিম > মিসরবাসীদের জন্য নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর ওয়াসীয়াত
সহিহ মুসলিম ৬৩৮৭
وَحَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، ح وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، أَخْبَرَنَا جَرِيرٌ، كِلاَهُمَا عَنِ الشَّيْبَانِيِّ، عَنِ ابْنِ أَبِي أَوْفَى، ح . وَحَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي ح، وَحَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ، جَعْفَرٍ قَالاَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الشَّيْبَانِيِّ، عَنِ ابْنِ أَبِي أَوْفَى، - رضى الله عنه - عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَى حَدِيثِ ابْنِ مُسْهِرٍ وَعَبَّادٍ وَعَبْدِ الْوَاحِدِ وَلَيْسَ فِي حَدِيثِ أَحَدٍ مِنْهُمْ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ وَلاَ قَوْلُهُ وَجَاءَ اللَّيْلُ مِنْ هَا هُنَا " إِلاَّ فِي رِوَايَةِ هُشَيْمٍ وَحْدَهُ
আবূ যার গিফারী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ শীঘ্রই তোমরা এমন একটি ভূখণ্ড বিজয় লাভ করবে, সেখানে কীরাতের (দিরহাম বা দীনারের অংশবিশেষ) প্রচলন আছে। তোমরা সেখানকার অধিবাসীদের সঙ্গে সদাচরণ করবে। কেননা তোমাদের উপর তাদের প্রতি আছে যিম্মাদারী এবং আত্মীয়তা। তোমরা যদি সেখানে দু’ লোককে একটি ইটের জায়গার ব্যাপারে বিবাদ করতে দেখো তাহলে সেখান থেকে চলে আসবে। রাবী বলেন, তারপর সুরাহ্বীল ইবনু হাসানার পুত্রদ্বয় রাবী’আহ্ ও ‘আবদুর রহ্মানের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় একটি ইটের স্থান নিয়ে বিবাদ করতে দেখলেন। তিনি তখন সেখান থেকে চলে আসলেন। (ই.ফা. ৬২৬২, ই.সে. ৬৩১১)
সহিহ মুসলিম ৬৩৮৮
وَحَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عُمَرَ، أَخْبَرَنَا سُفْيَانُ، ح وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، أَخْبَرَنَا جَرِيرٌ، كِلاَهُمَا عَنِ الشَّيْبَانِيِّ، عَنِ ابْنِ أَبِي أَوْفَى، ح . وَحَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ، حَدَّثَنَا أَبِي ح، وَحَدَّثَنَا ابْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ، جَعْفَرٍ قَالاَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الشَّيْبَانِيِّ، عَنِ ابْنِ أَبِي أَوْفَى، - رضى الله عنه - عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمَعْنَى حَدِيثِ ابْنِ مُسْهِرٍ وَعَبَّادٍ وَعَبْدِ الْوَاحِدِ وَلَيْسَ فِي حَدِيثِ أَحَدٍ مِنْهُمْ فِي شَهْرِ رَمَضَانَ وَلاَ قَوْلُهُ وَجَاءَ اللَّيْلُ مِنْ هَا هُنَا " إِلاَّ فِي رِوَايَةِ هُشَيْمٍ وَحْدَهُ
আবূ যার গিফারী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ শীঘ্রই তোমরা মিশর বিজয় লাভ করবে। সেটা এমন একটি দেশ, যেখানে ‘কীরাত’ নামে মুদ্রা খ্যাত। তোমরা যখন সে দেশ বিজয় লাভ করবে তখন সেখানকার অধিবাসীদের সাথে উত্তম ব্যবহার করবে। কারণ তাদের জন্য দায়িত্ব ও আত্মীয়তার সম্পর্ক বিদ্যমান রয়েছে। কিংবা তিনি বলেছেনঃ যিম্মাদারী ও বৈবাহিক সম্পর্ক রয়েছে। তোমরা যখন সেখানে দু’ লোককে একটি ইটের স্থান নিয়ে বিবাদ করতে দেখবে তখন সেখান থেকে চলে আসবে। আবূ যার (রাঃ) বলেন, তারপর আমি যখন ‘আবদুর রহ্মান ইবনু শুরাহ্বীল ইবনু হাসান ও তাঁর ভাই রাবী’আকে একটি ইটের স্থান নিয়ে ঝগড়া-বিবাদ করতে দেখলাম তখন আমি সেখান থেকে চলে আসলাম। (ই.ফা. ৬২৬৩, ই.সে. ৬৩১২)