সহিহ মুসলিম > খাইবার যুদ্ধ
সহিহ মুসলিম ৪৫৫৭
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، وَعَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، وَعَنِ الأَعْرَجِ، حَدَّثُوهُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِنَ الصُّبْحِ قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ فَقَدْ أَدْرَكَ الصُّبْحَ وَمَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِنَ الْعَصْرِ قَبْلَ أَنْ تَغْرُبَ الشَّمْسُ فَقَدْ أَدْرَكَ الْعَصْرَ "
আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খাইবারের যুদ্ধে যাত্রা করেন। আমরা সেদিন তাঁর সঙ্গে সকালের সলাত (ফাজ্র) অন্ধকারে আদায় করি। তারপর আল্লাহর -নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর বাহনে আরোহণ করলেন এবং আবূ তালহাহ্ (রাঃ)–ও তাঁর সওয়ারীতে আরোহণ করলেন। আর আমি (আরোহী) ছিলাম আবূ তালহার পশ্চাতে। আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খাইবারের গলিপথে চললেন। (আমরা এত পাশাপাশি পথ চলছিলাম যে) আমার হাঁটু আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উরু স্পর্শ করেছিল। এমন সময় আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর লুঙ্গি তাঁর উরুদেশ থেকে সরে গেল। আর আমি আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর উরুর শুভ্রতা দেখতে পেলাম। তিনি যখন খাইবারের জনপদে প্রবেশ করলেন, তখন বললেনঃআল্লাহু আকবার, খাইবার ধ্বংস হলো। আমরা যখন কোন কাওমের আঙ্গিনায় পৌঁছি, তখন যাদের সতর্ক করা হয়েছে, তাদের প্রভাত অশুভ হয়ে যায়। তিনি এ কথা তিনবার বললেন। রাবী বলেন, লোকজন তাদের কাজ- কর্মে বেরিয়ে গেল। তারা বলে উঠলো, “মুহাম্মাদ (এসে পড়েছেন দেখছি)”। রাবী ‘আবদুল ‘আযীয বলেন, আমাদের কোন কোন সঙ্গী বললেন, আর তাঁর পঞ্চভুজবিশিষ্ট বাহিনীও। রাবী বলেন, আমরা প্রভাব বিস্তার করে তা জয় করে নিলাম। (ই.ফা. ৪৫১৪, ই.সে. ৪৫১৬)
সহিহ মুসলিম ৪৫৫৮
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، وَعَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، وَعَنِ الأَعْرَجِ، حَدَّثُوهُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِنَ الصُّبْحِ قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ فَقَدْ أَدْرَكَ الصُّبْحَ وَمَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِنَ الْعَصْرِ قَبْلَ أَنْ تَغْرُبَ الشَّمْسُ فَقَدْ أَدْرَكَ الْعَصْرَ "
আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন,খাইবারের যুদ্ধের দিন আমি আবূ তালহার পিছনে (একই ঘোড়ার পিঠে সওয়ার) ছিলাম। আমার দু’পা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর পদদ্বয়কে স্পর্শ করছিল। রাবী বলেন, সূর্যোদয়ের সময়ে আমরা সেখানে এলাম। তখন লোকজন তাদের পশুগুলো সবেমাত্র ঘর থেকে বের করেছে এবং তারা তাদের কোদাল কুড়াল, রশি –জাম্বিল নিয়ে (কাজের জন্য) বেরিয়ে পড়েছে। তখন তারা (সবিষ্ময়ে) বলল, “মুহাম্মাদ এবং পঞ্চভুজবিশিষ্ট বাহিনী!” রাবী বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃখাইবার ধ্বংস হলো। আমরা যখন কোন কাওমের আঙ্গিনায় অবতরণ করি তখন সতর্ককৃতদের প্রভাত অশুভ হয়ে যায়। রাবী বলেন, মহান আল্লাহ তা‘আলা তাদের ধ্বংস করে দিলেন। (ই.ফা. ৪৫১৫, ই.সে. ৪৫১৭)
সহিহ মুসলিম ৪৫৫৯
حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، قَالَ قَرَأْتُ عَلَى مَالِكٍ عَنْ زَيْدِ بْنِ أَسْلَمَ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ، وَعَنْ بُسْرِ بْنِ سَعِيدٍ، وَعَنِ الأَعْرَجِ، حَدَّثُوهُ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ مَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِنَ الصُّبْحِ قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ الشَّمْسُ فَقَدْ أَدْرَكَ الصُّبْحَ وَمَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِنَ الْعَصْرِ قَبْلَ أَنْ تَغْرُبَ الشَّمْسُ فَقَدْ أَدْرَكَ الْعَصْرَ "
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন খাইবারে এলেন, তখন বললেন, আমরা যখন কোন কাওমের আঙ্গিনায় পৌঁছি, তখন সতর্ককৃতদের প্রভাত অশুভ হয়ে যায়। (ই.ফা. ৪৫১৬, ই.সে. ৪৫১৮)
সহিহ মুসলিম ৪৫৬০
وَحَدَّثَنَاهُ زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، ح وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ، إِبْرَاهِيمَ أَخْبَرَنَا أَبُو النَّضْرِ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَمِّهِ، الْمَاجِشُونِ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ عَنِ الأَعْرَجِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَقَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا اسْتَفْتَحَ الصَّلاَةَ كَبَّرَ ثُمَّ قَالَ وَجَّهْتُ وَجْهِي " . وَقَالَ " وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ " . وَقَالَ وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ قَالَ " سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ " . وَقَالَ " وَصَوَّرَهُ فَأَحْسَنَ صُوَرَهُ " . وَقَالَ وَإِذَا سَلَّمَ قَالَ " اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ " . إِلَى آخِرِ الْحَدِيثِ وَلَمْ يَقُلْ بَيْنَ التَّشَهُّدِ وَالتَّسْلِيمِ ."
সালামাহ্ ইবনু আকওয়া (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে খাইবার অভিযানে বের হলাম। আমরা রাতের বেলা (এ অভিযানে) বেরিয়েছিলাম। তখন এক ব্যক্তি (আমার ভাই) ‘আমির ইবনু আকওয়া (রাঃ)-কে বললোঃ “ওহে! তুমি কি তোমার রণ সঙ্গীত থেকে আমাদেরকে কিছু শুনাবে না?” ‘আমির (রাঃ) ছিলেন একজন কবি। তখন তিনি সওয়ারী থেকে অবতরণ করে সকলকে শুনিয়ে শুনিয়ে তাঁর হুদী সঙ্গীত আবৃত্তি করতে করতে লোকদেরকে হাঁকিয়ে নিয়ে চললেন: “ইয়া আল্লাহ! আপনি না হলে আমরা হিদায়াত পেতাম না, আমরা সদাকাহ্ ও সলাত আদায় করতাম না। আপনার জন্য আমাদের জান কুরবান, আমাদের পিছনের সকল অপরাধ আপনি ক্ষমা করে দিন, যতদিন আমরা আপনার আনুগত্য করব। শক্রুর সম্মুখীন হলে আমাদের পা অটল রাখুন। আমাদের উপর শান্তি বর্ষণ করুন। যখন আমাদের ডাকা হয় আমরা উপস্হিত হই। এবং তারাই চীৎকার দিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে লোক জমা করে।” তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, “এ চালকটি কে?” সাহাবীগণ বললেন, ‘আমির’। তিনি বললেন, ‘আল্লাহ তার প্রতি রহমাত করুন।’ তখন গোত্রের এক ব্যক্তি বলল, “তাঁর জন্য তো শাহাদাত অবধারিত হয়ে গেছে, হে আল্লাহ্র রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)। আমাদের যদি তাঁর দ্বারা আরো উপকৃত করতেন, (তবে ভাল হত)। রাবী বলেন, তারপর আমরা খাইবারে এসে তাদের ঘেরাও করলাম। (অবরোধ দীর্ঘ হল) এমনকি আমাদের দারুন খাদ্যভাব দেখা দিল। তারপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃনিঃসন্দেহে আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে তাদের বিজয় দান করেছেন। তারপর বিজয়ের দিন যখন লোকদের সন্ধ্যা হলো তখন তারা বহু স্থানে আগুন জ্বালালো। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ এ আগুন কিসের? কিসের উপর (কী রান্না করার জন্যে) লোকজন এ আগুন জ্বালাচ্ছে? তারা বললেন, গোশ্ত। তিনি জিজ্ঞেস করলেন: কিসের গোশ্ত? তারা বললেন, গৃহপালিত গাধার গোশ্ত। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃএগুলো ফেলে দাও আর রান্নাপাত্রগুলো ভেঙ্গে ফেল। এক ব্যক্তি বলল, তারা কি এগুলো ফেলে দেবে এবং রান্নার পাত্রগুলো ধুয়ে ফেলবে? তিনি বললেনঃতা হতে পারে। রাবী বলেন, এরপর যখন লোকজন (যুদ্ধের জন্য) সারিবদ্ধ হল, ‘আমিরের তরবারিখানা ছিল খাটো। তিনি জনৈক ইয়াহূদীর পায়ের নলা লক্ষ্য করে যে আঘাত করলেন সে আঘাত ফিরে এসে ‘আমিরের হাটুতে লাগে, এতে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তারপর যখন লোকজন (খাইবার থেকে) ফিরে এলো, তখন সালামাহ্ আমার হাত ধরে বললেন, (রাবী বললেন) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন আমাকে নির্বাক অবস্থায় দেখতে পেলেন, তখন তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তোমার কী হয়েছে? আমি বললাম, “আমার পিতামাতা আপনার জন্য কুরবান হোক! লোকজনের ধারণা ‘আমির (আত্মহত্যা) করে তাঁর (সারা জীবনের) ‘আমাল বরবাদ করে দিয়েছেন।” তিনি জিজ্ঞেস করলেন, তা কে বলেছে? আমি বললাম, অমুক অমুক এবং উসায়দ ইবনু হুযায়র আনসারী। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃযে এরূপ বলেছে, সে মিথ্যা বলেছে। অবশ্যই তার (‘আমিরের) জন্য দ্বিগুণ পুরস্কার রয়েছে। তখন তিনি তাঁর দু’টি আঙ্গুল একত্রিত করলেন (এবং বললেন), সে (আল্লাহর রাস্তায়) সত্যিকার যোদ্ধা ও মুজাহিদ। খুব কম আরবই তাঁর মতো চলেছে (বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করেছে)। কুতাইবাহ্ এ হাদীস বর্ণনায় মুহাম্মাদের সাথে দু’টি শব্দে দ্বিমত করেছেন। ইবনু ‘আব্বাদ (রহঃ)-এর রিওয়ায়াতে আছে (আরবি)। (ই.ফা. ৪৫১৭, ই.সে. ৪৫১৯)
সহিহ মুসলিম ৪৫৬১
وَحَدَّثَنَاهُ زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، ح وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ، إِبْرَاهِيمَ أَخْبَرَنَا أَبُو النَّضْرِ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ عَمِّهِ، الْمَاجِشُونِ بْنِ أَبِي سَلَمَةَ عَنِ الأَعْرَجِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ وَقَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا اسْتَفْتَحَ الصَّلاَةَ كَبَّرَ ثُمَّ قَالَ وَجَّهْتُ وَجْهِي " . وَقَالَ " وَأَنَا أَوَّلُ الْمُسْلِمِينَ " . وَقَالَ وَإِذَا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرُّكُوعِ قَالَ " سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ " . وَقَالَ " وَصَوَّرَهُ فَأَحْسَنَ صُوَرَهُ " . وَقَالَ وَإِذَا سَلَّمَ قَالَ " اللَّهُمَّ اغْفِرْ لِي مَا قَدَّمْتُ " . إِلَى آخِرِ الْحَدِيثِ وَلَمْ يَقُلْ بَيْنَ التَّشَهُّدِ وَالتَّسْلِيمِ ."
সালামাহ্ ইবনু আক্ওয়া‘ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, খাইবারের যুদ্ধের দিন আমার ভাই রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর সঙ্গে থেকে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করেন। তাঁর তরবারি ফিরে এসে স্বয়ং তাঁকেই নিহত করে। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)–এর সাহাবীগণ তাঁর ব্যাপারে নানা মন্তব্য করতে থাকেন এবং তাঁর শাহাদাতের ব্যাপারে সন্দেহ করেন। তাঁরা বলাবলি করেন যে, সে এমন লোক যে তার নিজ অস্ত্রের আঘাতে মারা গেছে। আর তাঁরা তাঁর কোন কোন ব্যাপারেও সন্দেহ করেন। সালামাহ্ বলেন, তারপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খাইবার থেকে ফিরলে আমি বললাম, “হে আল্লাহর রসূল! আপনি আমাকে অনুমতি দিন, আমি তাঁর কবিতার কয়েকটি পংক্তি আবৃতি করি।” রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে অনুমতি দিলেন। ‘উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ) তখন বলে উঠলেন, আমি জানি, তুমি কী বলবে। রাবী বলেন, তারপর আমি আবৃত্তি করলাম: “হে আল্লাহ! আপনি না করলে, আমরা হিদায়াত পেতাম না, আমরা সদাকাহ্ দিতাম না এবং সলাত আদায় করতাম না।” তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃতুমি যর্থাথই বলেছো। তখন আমি আবৃত্তি করে চললাম:“আমাদের প্রশান্তি দান করুন এবং শক্রুর সম্মুখীন হলে আমাদের পা অটল রাখুন। মুশরিকরা আমাদের প্রতি বিদ্রোহী হল।” যখন আমি আমার কবিতা আবৃত্তি শেষ করলাম, তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃএ কবিতাটি কে রচনা করেছে? আমি বললাম, আমার ভাই। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃআল্লাহ তাঁর প্রতি সদয় হোন। তখন আমি বললাম, “হে আল্লাহর রসূল! কিছু লোক তাঁর প্রতি আল্লাহর রহমাত বর্ষণে দ্বিধাগ্রস্ত! তাঁরা বলেন, সে এমন লোক যে তার নিজ অস্ত্রের আঘাতে মারা গেছে। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃসে জিহাদ করতে করতে মুজাহিদের মত মরেছে। রাবী ইবনু শিহাব (রহঃ) বলেন, তারপর আমি সালামার এক পুত্রকে প্রশ্ন করলে তিনি আমাকে তাঁর পিতার সূত্রে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেন। তবে ব্যতিক্রম এতটুকু যে, তিনি বলেন, আমি যখন বললাম, কিছু কিছু লোক তাঁর প্রতি দু‘আ করতে দ্বিধাগ্রস্ত, তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃতারা মিথ্যা বলেছে। সে জিহাদ করতে করতে মুজাহিদের মত মারা গেছে। তার দু’টি পুরস্কার এজন্যে নির্ধারিত রয়েছে। এবং তিনি তখন তাঁর দু’টি অঙ্গুলি দ্বারা ইশারা করলেন। (ই.ফা. ৪৫১৮, ই.সে. ৪৫২০)
সহিহ মুসলিম > আহযাব বা খন্দকের যুদ্ধ
সহিহ মুসলিম ৪৫৬২
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، وَأَبُو مُعَاوِيَةَ ح وَحَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، جَمِيعًا عَنْ جَرِيرٍ، كُلُّهُمْ عَنِ الأَعْمَشِ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ، نُمَيْرٍ - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ، عَنِ الْمُسْتَوْرِدِ بْنِ الأَحْنَفِ، عَنْ صِلَةَ بْنِ زُفَرَ، عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ لَيْلَةٍ فَافْتَتَحَ الْبَقَرَةَ فَقُلْتُ يَرْكَعُ عِنْدَ الْمِائَةِ . ثُمَّ مَضَى فَقُلْتُ يُصَلِّي بِهَا فِي رَكْعَةٍ فَمَضَى فَقُلْتُ يَرْكَعُ بِهَا . ثُمَّ افْتَتَحَ النِّسَاءَ فَقَرَأَهَا ثُمَّ افْتَتَحَ آلَ عِمْرَانَ فَقَرَأَهَا يَقْرَأُ مُتَرَسِّلاً إِذَا مَرَّ بِآيَةٍ فِيهَا تَسْبِيحٌ سَبَّحَ وَإِذَا مَرَّ بِسُؤَالٍ سَأَلَ وَإِذَا مَرَّ بِتَعَوُّذٍ تَعَوَّذَ ثُمَّ رَكَعَ فَجَعَلَ يَقُولُ سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ " . فَكَانَ رُكُوعُهُ نَحْوًا مِنْ قِيَامِهِ ثُمَّ قَالَ " سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ " . ثُمَّ قَامَ طَوِيلاً قَرِيبًا مِمَّا رَكَعَ ثُمَّ سَجَدَ فَقَالَ " سُبْحَانَ رَبِّيَ الأَعْلَى " . فَكَانَ سُجُودُهُ قَرِيبًا مِنْ قِيَامِهِ . قَالَ وَفِي حَدِيثِ جَرِيرٍ مِنَ الزِّيَادَةِ فَقَالَ " سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ" ."
বারা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) খন্দকের যুদ্ধের দিন আমাদের সঙ্গে একত্রে মাটি বহন করেন। মাটি তাঁর পেটের শুভ্রতাকে আচ্ছন্ন করে ফেলে। আর তখন তিনি আবৃত্তি করছিলেন: “আল্লাহর কসম! আপনি না করলে আমরা হিদায়াত পেতাম না, সদাকাহ্ দিতাম না এবং সলাতও আদায় করতাম না। আমাদের প্রতি প্রশান্তি দান করুন, আর তারাতো (মাক্কাবাসীরা) আমাদেরকে মেনে নিলো না।” আবার কখনোও কখনোও বলছিলেন: “সে দলটি আমাদের মানতে অস্বীকার করল, তারা যখন ফিতনা (শিরক ও কুফরী) চাইল, তখন আমরা অস্বীকার করলাম।” আর তা উচ্চারণের সময় তিনি তাঁর স্বর উচ্চ করছিলেন। (ই.ফা. ৪৫১৯, ই.সে. ৪৫২১)
সহিহ মুসলিম ৪৫৬৩
وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، وَأَبُو مُعَاوِيَةَ ح وَحَدَّثَنَا زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، جَمِيعًا عَنْ جَرِيرٍ، كُلُّهُمْ عَنِ الأَعْمَشِ، ح وَحَدَّثَنَا ابْنُ، نُمَيْرٍ - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ سَعْدِ بْنِ عُبَيْدَةَ، عَنِ الْمُسْتَوْرِدِ بْنِ الأَحْنَفِ، عَنْ صِلَةَ بْنِ زُفَرَ، عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ذَاتَ لَيْلَةٍ فَافْتَتَحَ الْبَقَرَةَ فَقُلْتُ يَرْكَعُ عِنْدَ الْمِائَةِ . ثُمَّ مَضَى فَقُلْتُ يُصَلِّي بِهَا فِي رَكْعَةٍ فَمَضَى فَقُلْتُ يَرْكَعُ بِهَا . ثُمَّ افْتَتَحَ النِّسَاءَ فَقَرَأَهَا ثُمَّ افْتَتَحَ آلَ عِمْرَانَ فَقَرَأَهَا يَقْرَأُ مُتَرَسِّلاً إِذَا مَرَّ بِآيَةٍ فِيهَا تَسْبِيحٌ سَبَّحَ وَإِذَا مَرَّ بِسُؤَالٍ سَأَلَ وَإِذَا مَرَّ بِتَعَوُّذٍ تَعَوَّذَ ثُمَّ رَكَعَ فَجَعَلَ يَقُولُ سُبْحَانَ رَبِّيَ الْعَظِيمِ " . فَكَانَ رُكُوعُهُ نَحْوًا مِنْ قِيَامِهِ ثُمَّ قَالَ " سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ " . ثُمَّ قَامَ طَوِيلاً قَرِيبًا مِمَّا رَكَعَ ثُمَّ سَجَدَ فَقَالَ " سُبْحَانَ رَبِّيَ الأَعْلَى " . فَكَانَ سُجُودُهُ قَرِيبًا مِنْ قِيَامِهِ . قَالَ وَفِي حَدِيثِ جَرِيرٍ مِنَ الزِّيَادَةِ فَقَالَ " سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ" ."
আবূ ইসহাক্ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি বারা (রাঃ)-কে অনুরূপ বলতে শুনেছি। তবে তিনি বলেন যে, সর্দারেরা আমাদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করল। (ই.ফা. ৪৫২০, ই.সে. ৪৫২২)
সহিহ মুসলিম ৪৫৬৪
وَحَدَّثَنَا عُثْمَانُ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَإِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، كِلاَهُمَا عَنْ جَرِيرٍ، - قَالَ عُثْمَانُ حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، - عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، قَالَ قَالَ عَبْدُ اللَّهِ صَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَطَالَ حَتَّى هَمَمْتُ بِأَمْرِ سَوْءٍ قَالَ قِيلَ وَمَا هَمَمْتَ بِهِ قَالَ هَمَمْتُ أَنْ أَجْلِسَ وَأَدَعَهُ .
সাহল ইবনু সা’দ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের কাছে এলেন, আমরা তখন পরিখা (খন্দক) খনন করছিলাম এবং কাঁধে করে মাটি একস্হান থেকে অন্যস্হানে ফেলছিলাম। তিনি বললেন, “হে আল্লাহ! আখিরাতের সূখ ছাড়া সূখ নেই, মুহাজির ও আনসারদেরকে ক্ষমা করুন।” (ই.ফা. ৪৫২১, ই.সে. ৪৫২৩)
সহিহ মুসলিম ৪৫৬৫
وَحَدَّثَنَاهُ إِسْمَاعِيلُ بْنُ الْخَلِيلِ، وَسُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ مُسْهِرٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . مِثْلَهُ .
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছিলেন, “হে আল্লাহ! আখিরাতের সূখ ছাড়া সূখ নেই। আপনি ক্ষমা করে দিন আনসার মুহাজিদেরকে”। (ই.ফা. ৪৫২২, ই.সে. ৪৫২৪)
সহিহ মুসলিম ৪৫৬৬
وَحَدَّثَنَاهُ إِسْمَاعِيلُ بْنُ الْخَلِيلِ، وَسُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ مُسْهِرٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . مِثْلَهُ .
আনাস (রাঃ) -এর অন্য রিওয়ায়াত থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলছিলেন: “হে আল্লাহ! সুখতো (কেবল) আখিরাতের সূখই। শু’বাহ (রাঃ) বলেন, অথবা তিনি বলেছেন: ইয়া আল্লাহ! আখিরাতের সুখ ছাড়া কোন সুখ নেই। আনসার ও মুহাজিরদেরকে সম্মানিত করুন”। (ই.ফা. ৪৫২৩, ই.সে. ৪৫২৫)
সহিহ মুসলিম ৪৫৬৭
وَحَدَّثَنَاهُ إِسْمَاعِيلُ بْنُ الْخَلِيلِ، وَسُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ مُسْهِرٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . مِثْلَهُ .
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, তাঁরা (সেদিন) সমবেত সুরে গাইতে ছিলেন এবং তাঁদের সঙ্গে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ছিলেন। তাঁরা বলছিলেন : “হে আল্লাহ! প্রকৃত কল্যাণ তো আখিরাতে। আনসার ও মুহাজিরদের সাহায্য করুন। আর শাইবানের হাদীস (আরবি) এর পরিবর্তে (আরবি) শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে।” ( ই.ফা. ৪৫২৪, ই.সে. ৪৫২৬)
সহিহ মুসলিম ৪৫৬৮
وَحَدَّثَنَاهُ إِسْمَاعِيلُ بْنُ الْخَلِيلِ، وَسُوَيْدُ بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ مُسْهِرٍ، عَنِ الأَعْمَشِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ . مِثْلَهُ .
আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর সাহাবীগণ খন্দকের দিন বলেছিলেন : আমরা সে লোক যারা মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর নিকট বাই’আত হয়েছি। আর ইসলামের উপরই আছি। রাবি মুহাম্মাদ (রহঃ) সন্দেহ করে বলেন, অথবা বলেছিল : জিহাদের উপরই আছি সর্বদা। আর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলছিলেন : “ হে আল্লাহ! আসল তো আখিরাতের কল্যাণ। আনসারদের এবং মুহাজিরদের ক্ষমা করুন।” (ই.ফা. ৪৫২৫, ই.সে. ৪৫২৭)