প্রকৃতপক্ষে মুক্তিদাতা পাবে মুক্তদাসের ওয়ালা পরিত্যক্ত সম্পদ - সহিহ মুসলিম | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

সহিহ মুসলিম > প্রকৃতপক্ষে মুক্তিদাতা পাবে মুক্তদাসের ওয়ালা পরিত্যক্ত সম্পদ

সহিহ মুসলিম ৩৬৬৮

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِنَحْوِ هَذَا ‏.‏

'আয়িশাহ্‌ (রাযিঃ) থেকে বর্নিতঃ

বর্ণিত। তিনি একবার একটি ক্রীতদাসী ক্রয় করে তাকে মুক্ত করে দিবেন বলে ইচ্ছা পোষণ করেছিলেন। তখন সে ক্রীতদাসীর মনিবেরা তাকে জানালেন যে, আমরা আপনার এ শর্তে ক্রীতদাসটি বিক্রয় করতে পারি যে, আমরাই হব তার ওয়ালা’র [৬] অধিকারী। তিনি বলেনঃ এরপর বিষয়টি আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর কাছে উপস্থিত করলাম। তিনি বললেনঃ এ শর্ত তোমাকে ‘ওয়ালা’ থেকে বঞ্চিত করবে না। কেননা প্রকৃতপক্ষে মুক্তিদাতার জন্যই ‘ওয়ালার হক্ব’ নির্ধারিত। (ই.ফা. ৩৬৩৪, ই.সে. ৩৬৩৪)


সহিহ মুসলিম ৩৬৬৯

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِنَحْوِ هَذَا ‏.‏

'আয়িশাহ (রাযিঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, বারীরাহ্‌ (রাঃ) তার লিখিত মুক্তিপণ পরিশোধের ব্যাপারে সাহায্যের জন্যে ‘আয়িশা (রাঃ)- এর কাছে এল। সে তার লিখিত মুক্তিপণের কিছুই আদায় করেনি। তখন ‘আয়িশা (রাঃ) তাকে বললেনঃ তুমি তোমার মুনিবের কাছে ফিরে যাও। যদি তারা এ শর্তে রাজি হয় যে, আমি তোমার লিখিত মুক্তিপণের যাবতীয় পাওনা আদায় করলে তোমার ওয়ালা আমার প্রাপ্য হবে, তবে তা আমি করতে পারি। বারীরা তার মনিবের কাছে বিষয়টি উত্থাপন করল। কিন্তু তারা সে প্রস্তাব মেনে নিল না এবং বলে দিল, যদি তিনি সাওয়াবের আশায় তোমার লিখিত মুক্তিপণ আদায়ের দায়িত্ব নেন তাহলে নিতে পারেন, তবে তোমার ‘ওয়ালা” আমাদের জন্যই থাকবে। এরপর তিনি ['আয়িশাহ (রাঃ)] বিষয়টি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর কাছে উঠালেন। তখন তিনি তাকে বললেনঃ তাকে খরিদ করে মুক্ত করে দিতে পার, কেননা ‘ওয়ালা’ মুক্তিদাতারই প্রাপ্য। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) দাঁড়িয়ে গেলেন এবং বললেনঃ লোকদের কী হয়েছে তারা এমন কিছু শর্তারোপ করে যা আল্লাহর কিতাবে নেই। যে ব্যক্তি এমন শর্তারোপ করবে যা আল্লাহর কিতাবে নেই- সে শর্তের কোন মূল্য নেই যদিও সে একশো বার শর্তারোপ করে। আল্লাহর শর্তই কেবল সঠিক ও নির্ভরযোগ্য। (ই.ফা. ৩৬৩৫, ই.সে. ৩৬৩৫)


সহিহ মুসলিম ৩৬৭০

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِنَحْوِ هَذَا ‏.‏

‘আয়িশাহ্ (রাযিঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেনঃ বারীরা (রাঃ) আমার কাছে এল। এরপর সে বলল, হে ‘আয়িশাহ্! আমি আমার মুনিবের কাছে লিখিত চুক্তি করেছি যে, বছরে এক ঊকিয়া (চল্লিশ দিরহামে এক উকিয়া) করে নয় বছরে সর্বমোট নয় উকিয়া পরিশোধ করব। এরপর লায়স (রহঃ) বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ। তবে এ বর্ণনায় এতটুকু বেশি উল্লেখ আছেঃ “তিনি (রসূলুল্লাহ সাঃ) বললেন, তাদের এ শর্ত করা তোমাকে ‘ওয়ালা’ প্রাপ্তি হতে বাধা দিবে না। তুমি তাকে খরিদ করে মুক্ত করে দিতে পার। ‘উরওয়াহ্‌ ইবনু যুবায়র (রহঃ) এ হাদীসে উল্লেখ করেন, তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লোকদের সামনে দাঁড়িয়ে যান এবং আল্লাহর প্রশংসা ও তার মহিমা বর্ণনা করেন। (ই.সে. ৩৬৩৬,ই.সে ৩৬৩৬)


সহিহ মুসলিম ৩৬৭১

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِنَحْوِ هَذَا ‏.‏

‘আয়িশাহ্‌ (রাযিঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, একদিন বারীরা (রাঃ) আমার কাছে এল। এরপর সে বলল, আমার মনিব আমাকে প্রতি বছর একটি করে নয় বছরে নয়টি ঊকীয়্যাহ্‌ (চল্লিশ দিরহামে এক ঊকীয়্যাহ্‌) আদায় করার শর্তে আমাকে মুক্তি দানের ব্যাপারে লিখিত চুক্তি করেছে। আপনি আমাকে সাহায্য করুন। আমি ['আয়িশাহ্‌ (রাঃ)] তাকে বললাম, তোমার মনিব যদি এ শর্তে রাজী হয় যে তোমার মুক্তিপণ এক সঙ্গে আদায় করে দিলে তোমার ‘ওয়ালা’ আমি পাব তাহলে আমি তোমাকে মুক্তির ব্যাপারে সাহায্য করতে চাই। তখন বারীরাহ্‌ (রাঃ) এ বিষয়টি তার মুনিবের কাছে উঠালে তাদের জন্য ‘ওয়ালা’ ব্যতিরেকে তারা তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল। এরপর সে আমার ['আয়িশাহ্‌ (রাঃ)-এর] কাছে এসে তাদের কথা বলল। তিনি বলেন, আমি তাকে ধমক দিয়ে বললামঃ তাহলে আল্লাহর কসম ! আমি রাজী নই। 'আয়িশাহ্‌ (রাঃ) বলেনঃ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বিষয়টি শুনলেন এবং আমাকে জিজ্ঞেস করলেন। তাঁর কাছে সমস্ত ঘটনা খুলে বললাম। এরপর তিনি বললেনঃ হে 'আয়িশাহ্‌! তুমি তাকে খরিদ করে মুক্ত করে দাও এবং তাদের জন্যে ওয়ালা’র শর্ত করে দাও। তবে নিশ্চয়ই ‘ওয়ালা’ সে পাবে যে মুক্তি দান করে। আমি ('আয়িশাহ্‌) তাই করলাম। রাবী বলেনঃ এরপর সন্ধ্যা বেলা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভাষণ দিলেন। তিনি আল্লাহর যথাযথ প্রশংসা ও তাঁর মহিমা ঘোষণা করলেন। এরপর বললেনঃ লোকের অবস্থা কেমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে, তারা এমন সব শর্ত দেয় যা আল্লাহর কিতাবে নেই। স্মরণ রাখ, যে শর্ত আল্লাহর কিতাবে নেই, তা বাতিল বলে গণ্য, যদিও একশতবার শর্তারোপ করা হয়। আল্লাহর কিতাবের শর্তই যথার্থ সঠিক, আল্লাহর শর্তই সর্বাধিক সুদৃঢ়। তোমাদের মধ্যে কতক লোকের কী হয়েছে যে, তারা অপরকে বলে অমুককে মুক্ত করে দাও আর ‘ওয়ালা’ গ্রহন করব আমরা? অথচ ‘ওয়ালা’ তো আসলে তারই পাওনা যে মুক্ত করে। (ই.ফা. ৩৬৩৭ , ই.সে. ৩৬৩৭)


সহিহ মুসলিম ৩৬৭২

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِنَحْوِ هَذَا ‏.‏

হিশাম ইবনু ‘উরওয়াহ্ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

অনুরূপ একই সনাদে বর্ণিত আছে। তবে জারীর বর্ণিত হাদীসে উল্লেখ আছে- "তিনি বলেন, তার (বারীরার) স্বামী ছিল ক্রীতদাস। সে কারণে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে ইচ্ছার স্বাধীনতা দান করেছিলেন। (যখন সে মুক্ত হবে তখন ক্রীতদাস স্বামীর সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক বহাল রাখতে কিংবা তা নাকচ করে দিতে পারবে- এ ইখ্তিয়ার তাকে দেয়া হয়েছিল)। সে নিজের স্বার্থটাকেই সমর্থন করল (ক্রীতদাস স্বামীকে পছন্দ করল না)। যদি সে স্বাধীন হত তাহলে তিনি (রসূলুল্লাহ সাঃ) তাকে (বারীরাকে) ইখতিয়ার দিতেন না।” আর তাদের বর্ণিত হাদীসে (আরবি) (অতঃপর) শব্দটির উল্লেখ নেই। (ই.ফা ৩৬৩৮, ই.সে. ৩৬৩৮)


সহিহ মুসলিম ৩৬৭৩

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِنَحْوِ هَذَا ‏.‏

'আয়িশাহ্‌ (রাযিঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, বারীরার কল্যাণে তিনটি শরী’আতী বিধান পাওয়া গিয়েছিল- ১.তার মুনিবেরা তাকে বিক্রি করতে চেয়েছিল এবং তার ‘ওয়ালা’র উপর তাদের অধিকার লাভের শর্তারোপ করেছিল। আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর কাছে বিষয়টি উঠালাম। তিনি আমাকে বললেন, তাকে ক্রয় করে মুক্ত করে দাও। কেননা ‘ওয়ালা’- সেই পাবে যে আযাদ করে। ২.যখন তাকে (বারীরাকে) মুক্ত করে দেয়া হল তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে (তার ক্রীতদাস স্বামীকে রাখা, না রাখার) ইখ্‌তিয়ার দিয়েছিলেন। এরপর সে নিজের স্বার্থটাকেই সমর্থন করল। (তাঁর ক্রীতদাস স্বামীকে প্রত্যাখ্যান করল।) ৩.তিনি (‘'আয়িশাহ্‌ (রাঃ)) বলেন, লোকেরা বারীরাকে সদাকাহ্‌ খয়রাত করত এবং সে তা (সদাকাহ্‌কৃত জিনিস) থেকে আমাদেরকে কিছু হাদিয়া হিসেবে দিত। এরপর আমি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর কাছে বিষয়টি পেশ করলাম। তিনি বললেন, “তা তাঁর জন্য সদাকাহ্ এবং তোমাদের জন্য হাদিয়া। সুতরাং তোমরা তা খাও।” (ই.ফা. ৩৬৩৯, ই.সে. ৩৬৩৯)


সহিহ মুসলিম ৩৬৭৪

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِنَحْوِ هَذَا ‏.‏

'আয়িশাহ্‌ (রাযিঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি কিছু সংখ্যক আনসার মনিবদের কাছে থেকে বারীরাকে খরিদ করলেন। তবে তারা (সে সময়) ‘ওয়ালা’র শর্ত দিয়েছিল। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ প্রকৃত পক্ষে ‘ওয়ালা’ তারই প্রাপ্য যে নি’আমাতের অধিকারী (মুক্তিদাতা)। আর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে ইখ্‌তিয়ার প্রদান করেছিলেন। তাঁর স্বামী ছিল ক্রীতদাস। একবার সে (বারীরাহ্‌) ‘আয়িশা (রাঃ)- এর কাছে কিছু পরিমান গোশ্‌ত হাদিয়া পাঠাল। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমরা যদি এই গোশ্‌ত থেকে আমার জন্যে কিছুটা রান্না করে আনতে......। তখন ‘আয়িশাহ (রাঃ) বললেনঃ এতো বারীরার জন্যে সদাকাহ্‌ হিসেবে এসেছে (আর আপনার জন্য সদাকাহ্‌ হারাম)। তিনি বললেনঃ তা তার জন্য সদাকাহ্‌ এবং আমার জন্যে হাদিয়া। (ই.ফা. ৩৬৪০, ই.সে. ৩৬৪০)


সহিহ মুসলিম ৩৬৭৫

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِنَحْوِ هَذَا ‏.‏

‘'আয়িশাহ্‌ (রাযিঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি মুক্ত করে দেয়ার উদ্দেশে বারীরাকে খরিদ করার ইচ্ছা করলেন। কিন্তু তারা (বারীরার মুনিবেরা) তার ‘ওয়ালা’ পাওয়ার শর্তারোপ করে বসল। তখন তিনি বিষয়টি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর কাছে উঠালেন। তিনি বললেনঃ তুমি তাকে খরিদ করে মুক্ত করে দাও। মূলত ‘ওয়ালা’ সে পাবে যে মুক্ত করে দেয়। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর জন্য কিছু গোশ্‌ত হাদিয়া রূপে পেশ করা হল। তখন তারা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- কে বললেনঃ এ গোশ্‌ত বারীরাকে সদাকাহ্‌ হিসেবে দেয়া হয়েছে। তিনি বললেনঃ এতো তার জন্য সদাকাহ্‌ এবং আমাদের জন্যে হাদিয়া। তাকে (বারীরাকে) তার (ক্রীতদাস) স্বামীর বিষয়ে স্বাধীনতা দেয়া হয়েছিল। আবদুর রহমান বললেন, তার স্বামী স্বাধীন ছিল। শু’বাহ্‌ (রহঃ) বলেনঃ আমি পুনরায় তাকে (‘আবদুর রহমানকে) তার (বারীরাহ) স্বামী সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন, আমার জানা নেই ( ই.ফা. ৩৬৪১, ই.সে. ৩৬৪১)


সহিহ মুসলিম ৩৬৭৬

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِنَحْوِ هَذَا ‏.‏

শু’বাহ (রহঃ)- এর সূত্র থেকে বর্নিতঃ

শু’বাহ (রহঃ)- এর সূত্রে এ সানাদে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা ৩৬৪২, ই.সে ৩৬৪২)


সহিহ মুসলিম ৩৬৭৭

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِنَحْوِ هَذَا ‏.‏

‘আয়িশাহ্‌ (রাযিঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন যে, বারীরার স্বামী ক্রীতদাস ছিল। (ই.ফা. ৩৬৪৩, ই.সে. ৩৬৪৩)


সহিহ মুসলিম ৩৬৭৮

وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِنَحْوِ هَذَا ‏.‏

‘আয়িশাহ্‌ (রাযিঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেনঃ বারীরার ঘটনায় তিনটি বিধান জারী হয়েছেঃ ১. যখন সে মুক্তি লাভ করেছিল তখন স্বামীর (বৈবাহিক সূত্র বহাল রাখা, না রাখার ) ব্যাপারে তাকে ইখ্‌তিয়ার প্রদান করা হয়েছিল। ২. তাকে গোশ্‌ত সদাকাহ্‌ করা হয়েছিল। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের (‘আয়িশাহ্‌র) কাছে এলেন। তখন গোশতের হাঁড়ি চুলার উপর টগবগ করছিল। তিনি খাবার চাইলেন। তখন তাঁর সামনে রুটি এবং ঘর থেকে তরকারী পরিবেশন করা হল। তিনি বললেনঃ আমি কি লক্ষ্য করিনি যে, চুলার উপর হাঁড়ি আছে যার মধ্যে গোশ্‌ত রয়েছে। তারা বললেনঃ জ্বি হ্যাঁ, আল্লাহ্‌র রসূল! ওটা তো বারীরাকে সদাকাহ্‌ দেয়া গোশ্‌ত। আমরা তা থেকে আপনাকে খাওয়ানো পছন্দ করিনা। তখন তিনি বললেনঃ এতো তার জন্য সদাকাহ্‌ এবং তার পক্ষ থেকে তা আমাদের জন্য হাদিয়া। ৩. নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তার (বারীরার) মুক্তির ব্যাপারে বললেনঃ আসলে ‘ওয়ালা’ সে-ই পাবে যে আযাদ করে। (ই.ফা. ৩৬৪৪, ই.সে. ৩৬৪৪)


সহিহ মুসলিম ৩৬৭৯

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ بَرَّادٍ الأَشْعَرِيُّ، وَأَبُو كُرَيْبٍ قَالاَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ بُرَيْدٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏‏ إِنَّ أَعْظَمَ النَّاسِ أَجْرًا فِي الصَّلاَةِ أَبْعَدُهُمْ إِلَيْهَا مَمْشًى فَأَبْعَدُهُمْ وَالَّذِي يَنْتَظِرُ الصَّلاَةَ حَتَّى يُصَلِّيَهَا مَعَ الإِمَامِ أَعْظَمُ أَجْرًا مِنَ الَّذِي يُصَلِّيهَا ثُمَّ يَنَامُ ‏"‏ ‏.‏ وَفِي رِوَايَةِ أَبِي كُرَيْبٍ ‏"‏ حَتَّى يُصَلِّيَهَا مَعَ الإِمَامِ فِي جَمَاعَةٍ ‏"‏ ‏.‏"

আবূ হুরাইরাহ্‌ (রাযিঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, একবার ‘আয়িশা (রাঃ) একটি ক্রীতদাসী খরিদ করে আযাদ করে দেয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন। তার মুনিবেরা তাদের জন্য তার ‘ওয়ালা’ ব্যতিরেকে প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করল। তিনি এ বিষয়টি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)- এর কাছে উঠালেন। তখন তিনি বললেনঃ তুমি তাকে খরিদ করে মুক্তি দিয়ে দাও। তার (মুক্তি দেয়া) তোমাকে ‘ওয়ালা’ থেকে বাধাপ্রাপ্ত করবে না। কেননা ‘ওয়ালা’ তারই প্রাপ্য যে মুক্তি দান করে। (ই.ফা. ৩৬৪৫, ই.সে. ৩৬৪৫)


সহিহ মুসলিম > ওয়ালা (আযাদ করা দাসের স্বত্বাধিকার) বিক্রি কিংবা হেবা করা নিষিদ্ধ

সহিহ মুসলিম ৩৬৮০

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا عَبْثَرٌ، عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ، قَالَ كَانَ رَجُلٌ لاَ أَعْلَمُ رَجُلاً أَبْعَدَ مِنَ الْمَسْجِدِ مِنْهُ وَكَانَ لاَ تُخْطِئُهُ صَلاَةٌ - قَالَ - فَقِيلَ لَهُ أَوْ قُلْتُ لَهُ لَوِ اشْتَرَيْتَ حِمَارًا تَرْكَبُهُ فِي الظَّلْمَاءِ وَفِي الرَّمْضَاءِ ‏.‏ قَالَ مَا يَسُرُّنِي أَنَّ مَنْزِلِي إِلَى جَنْبِ الْمَسْجِدِ إِنِّي أُرِيدُ أَنْ يُكْتَبَ لِي مَمْشَاىَ إِلَى الْمَسْجِدِ وَرُجُوعِي إِذَا رَجَعْتُ إِلَى أَهْلِي ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ ‏ قَدْ جَمَعَ اللَّهُ لَكَ ذَلِكَ كُلَّهُ ‏" ‏ ‏‏

ইবনু ‘উমার (রাযিঃ) থেকে বর্নিতঃ

যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘ওয়ালা’ বিক্রি করা এবং তা হেবা (দান বা will) করা নিষিদ্ধ করেছেন। ইব্‌রাহীম (রহঃ) বলেছেন, আমি মুসলিম ইবনুল হাজ্জাজ (রহঃ)- কে বলতে শুনেছি যে, এ হাদীসের ব্যাপারে সকল মানুষ ‘আবদুল্লাহ ইবনু দীনারের পৌষ্য।” (ই.ফা. ৩৬৪৬, ই.সে. ৩৬৪৬)


সহিহ মুসলিম ৩৬৮১

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا عَبْثَرٌ، عَنْ سُلَيْمَانَ التَّيْمِيِّ، عَنْ أَبِي عُثْمَانَ النَّهْدِيِّ، عَنْ أُبَىِّ بْنِ كَعْبٍ، قَالَ كَانَ رَجُلٌ لاَ أَعْلَمُ رَجُلاً أَبْعَدَ مِنَ الْمَسْجِدِ مِنْهُ وَكَانَ لاَ تُخْطِئُهُ صَلاَةٌ - قَالَ - فَقِيلَ لَهُ أَوْ قُلْتُ لَهُ لَوِ اشْتَرَيْتَ حِمَارًا تَرْكَبُهُ فِي الظَّلْمَاءِ وَفِي الرَّمْضَاءِ ‏.‏ قَالَ مَا يَسُرُّنِي أَنَّ مَنْزِلِي إِلَى جَنْبِ الْمَسْجِدِ إِنِّي أُرِيدُ أَنْ يُكْتَبَ لِي مَمْشَاىَ إِلَى الْمَسْجِدِ وَرُجُوعِي إِذَا رَجَعْتُ إِلَى أَهْلِي ‏.‏ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ ‏ قَدْ جَمَعَ اللَّهُ لَكَ ذَلِكَ كُلَّهُ ‏" ‏ ‏‏

ইবনু ‘উমার (রাযিঃ)- এর সূত্রে নাবী (সাঃ) থেকে বর্নিতঃ

অনুরূপ বর্ণিত আছে। তবে সাকাফী (রহঃ) বর্ণিত হাদীসে ‘উবাইদুল্লাহ সূত্রে উল্লেখ নেই। এ বর্ণনায় বিক্রির কথা রয়েছে। তবে তিনি হেবার কথা উল্লেখ করেননি। (ই.ফা. ৩৬৪৭, ই.সে. ৩৬৪৭)


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية