সহিহ মুসলিম > কা’বাহ্ ঘর ভেঙ্গে পুনর্নির্মাণ
সহিহ মুসলিম ৩১৩১
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي عَبْدَةُ بْنُ أَبِي لُبَابَةَ، أَنَّ وَرَّادًا، مَوْلَى الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ قَالَ كَتَبَ الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ إِلَى مُعَاوِيَةَ - كَتَبَ ذَلِكَ الْكِتَابَ لَهُ وَرَّادٌ - إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ حِينَ سَلَّمَ . بِمِثْلِ حَدِيثِهِمَا . إِلاَّ قَوْلَهُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ " فَإِنَّهُ لَمْ يَذْكُرْ
‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেনঃ তোমার জাতির লোকদের কুফরি পরিত্যাগের যুগটি নিকটবর্তী না হলে আমি কা’বাহ্ ঘর ভেঙ্গে তা ইব্রাহীম (আঃ)-এর ভিত্তির উপর পুনর্নির্মাণ করতাম। কারণ কুরায়শগণ কা’বাহ্ ঘর নির্মাণের সময় এর আয়তন ছোট করে দিয়েছে। আর তার পেছনে একটি দরজা স্থাপণ করতাম। (ই.ফা. ৩১০৬, ই.সে. ৩১০৩)
সহিহ মুসলিম ৩১৩২
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي عَبْدَةُ بْنُ أَبِي لُبَابَةَ، أَنَّ وَرَّادًا، مَوْلَى الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ قَالَ كَتَبَ الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ إِلَى مُعَاوِيَةَ - كَتَبَ ذَلِكَ الْكِتَابَ لَهُ وَرَّادٌ - إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ حِينَ سَلَّمَ . بِمِثْلِ حَدِيثِهِمَا . إِلاَّ قَوْلَهُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ " فَإِنَّهُ لَمْ يَذْكُرْ
হিশাম (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
এ সানাদে বর্ণিত। (ই.ফা. ৩১০৭, ই.সে. ৩১০৪)
সহিহ মুসলিম ৩১৩৩
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي عَبْدَةُ بْنُ أَبِي لُبَابَةَ، أَنَّ وَرَّادًا، مَوْلَى الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ قَالَ كَتَبَ الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ إِلَى مُعَاوِيَةَ - كَتَبَ ذَلِكَ الْكِتَابَ لَهُ وَرَّادٌ - إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ حِينَ سَلَّمَ . بِمِثْلِ حَدِيثِهِمَا . إِلاَّ قَوْلَهُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ " فَإِنَّهُ لَمْ يَذْكُرْ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, তুমি কি দেখনি যে, তোমার গোত্রের লোকেরা কা’বাহ্ ঘর নির্মাণের সময় তা ইব্রাহীম (‘আঃ)-এর ভিত্গুলোর চেয়ে ছোট করে দেয়? ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহ্র রাসূল! আপনি কি তা ইব্রাহীম (‘আঃ)-এর ভিতের উপর পুনর্নির্মাণ করতে চান? রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমাদের কওমের কুফরী পরিত্যাগের যুগটি যদি নিকটতর না হতো। (তবে তাই করতাম)। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) বলেন, যদিও বা ‘আয়িশা (রাঃ) তা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মুখে শুনে থাকবেন। কিন্তু হাজারের নিকটবর্তী উভয় রুকনের স্পর্শ ত্যাগ করতে দেখিনি। তবে বায়তুল্লাহ ইব্রাহীম (‘আঃ)–এর গোটা ভিতের উপর পুনর্নির্মিত হয়নি। (ই.ফা. ৩১০৮, ই.সে.৩১০৫)
সহিহ মুসলিম ৩১৩৪
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي عَبْدَةُ بْنُ أَبِي لُبَابَةَ، أَنَّ وَرَّادًا، مَوْلَى الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ قَالَ كَتَبَ الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ إِلَى مُعَاوِيَةَ - كَتَبَ ذَلِكَ الْكِتَابَ لَهُ وَرَّادٌ - إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ حِينَ سَلَّمَ . بِمِثْلِ حَدِيثِهِمَا . إِلاَّ قَوْلَهُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ " فَإِنَّهُ لَمْ يَذْكُرْ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সহধর্মিণী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিঃ তোমার সম্প্রদায়ের লোকেরা যদি জাহিলী যুগের কাছাকাছি না হতো অথবা নিকট অতীতে কুফরি ত্যাগ না করত, তবে আমি অবশ্যই কা’বায় পুঞ্জীভূত সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় খরচ করতাম, এর দরজা ভূমির সমতলে স্থাপন করতাম এবং হাতীমকে কা’বার অন্তর্ভুক্ত করে দিতাম। (ই.ফা. ৩১০৯, ই.সে. ৩১০৬)
সহিহ মুসলিম ৩১৩৫
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي عَبْدَةُ بْنُ أَبِي لُبَابَةَ، أَنَّ وَرَّادًا، مَوْلَى الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ قَالَ كَتَبَ الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ إِلَى مُعَاوِيَةَ - كَتَبَ ذَلِكَ الْكِتَابَ لَهُ وَرَّادٌ - إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ حِينَ سَلَّمَ . بِمِثْلِ حَدِيثِهِمَا . إِلاَّ قَوْلَهُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ " فَإِنَّهُ لَمْ يَذْكُرْ
সা’ঈদ ইবনু মীনা (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ)-কে বলতে শুনেছিঃ আমার খালা ‘আয়িশা (রাঃ) আমাকে বলেছেন যে, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ হে ‘আয়িশাহ্! তোমার সম্প্রদায়ের লোকেরা নিকট অতীতে শির্ক পরিত্যাগ না করলে আমি কা’বাহ্ ঘর ভেঙ্গে এর ভিত ভূমির সমতলে স্থাপন করতাম। এর দু’টি দরজা করতাম-একটি পূর্বদিকে, অপরটি পশ্চিমদিকে এবং আল হাজার (হাতীম)-এর ছয় গজ স্থান কা’বার অন্তর্ভুক্ত করতাম। কেননা কুরায়শরা কা’বাহ্ ঘর নির্মাণকালে এর ভিত ছোট করে দেয়। (ই.ফা. ৩১১০, ই.সে ৩১০৭)
সহিহ মুসলিম ৩১৩৬
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي عَبْدَةُ بْنُ أَبِي لُبَابَةَ، أَنَّ وَرَّادًا، مَوْلَى الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ قَالَ كَتَبَ الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ إِلَى مُعَاوِيَةَ - كَتَبَ ذَلِكَ الْكِتَابَ لَهُ وَرَّادٌ - إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ حِينَ سَلَّمَ . بِمِثْلِ حَدِيثِهِمَا . إِلاَّ قَوْلَهُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ " فَإِنَّهُ لَمْ يَذْكُرْ
‘আত্বা (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, ইয়াযীদ ইবনু মু’আবিয়ার সময় কা’বাহ্ ঘর দগ্ধীভূত হয়েছিল- যখন সিরীয় বাহিনী মাক্কায় যুদ্ধে লিপ্ত ছিল (৬৩ হিজরী) এবং কা’বার যা হবার তাই হ’ল। হাজ্জের মৌসুমে লোকদের আগমনের সময় ‘আবদুল্লাহ ইবনু যুবায়র (রাঃ) কা’বাকে এ অবস্থায় রেখে দিলেন। তার উদ্দেশ্য ছিল লোকদেরকে উদ্দীপ্ত করা অথবা তাদের মধ্যে সিরীয়দের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়ার মনোবল সৃষ্টি করা। লোকেরা সমবেত হলে তিনি বললেন, হে জনগণ! আমাকে কা’বাহ্ ঘর সম্পর্কে পরামর্শ দিন। আমি কি তা ভেঙ্গে ফেলে সম্পূর্ণ নতুনভাবে গড়ে তুলব, নাকি শুধু এর ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করব? ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, আমার মনে একটি মতের উদয় হয়েছে, আমি মনে করি যে, শুধু ক্ষতিগ্রস্ত অংশ তুমি মেরামত করবে এবং লোকদের ইসলাম গ্রহণ ও নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নুবূওয়াত লাভকালীন সময়ে কা’বাহ্ ঘর ও পাথরসমূহ যে অবস্থায় ছিল, তা সে অবস্থায় রেখে দিবে। ইবনু যুবায়র (রাঃ) বললেন, আপনাদের কারো ঘর অগ্নিদগ্ধ হলে তা সংস্কার না করা পর্যন্ত তিনি স্বস্তি লাভ করতে পারেন না। অতএব আপনাদের প্রতিপালকের ঘর কী করে এরূপ জীর্ণ অবস্থায় রাখা যেতে পারে? আমি আমার রব-এর কাছে তিনদিন ইস্তিখারা করব (অভিপ্রায় অবগত হবার জন্য) অতঃপর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব। তিনদিন পর তিনি কা’বাহ্ ঘর ভেঙ্গে পুনর্নির্মাণের দৃঢ় সিদ্ধান্তে উপনিত হলেন। লোকেরা আশংকা করল যে, সর্বপ্রথম যে ব্যক্তি কা’বার ছাদে উঠবে, সে হয়ত কোন আসমানী গযবে নিপতিত হবে। শেষ পর্যন্ত এক ব্যক্তি (ছাদ ভাঙ্গার জন্য) কা’বার ছাদে উঠল এবং তার একটি পাথর নীচে ফেলল। লোকেরা যখন দেখল সে কোন বিপদে পড়েনি, তখন তারাও তাকে অনুসরণ করল এবং কা’বাহ্ ঘর ভেঙ্গে জমিনের সাথে মিশিয়ে দিল। অতঃপর ইবনু যুবায়র (রাঃ) কতগুলো থাম স্থাপন করে এগুলোর সাথে পর্দা ঝুলিয়ে দিলেন। অবশেষে কা’বার দেয়ালের গাঁথুনি উচ্চ হল। ইবনু যুবায়র (রাঃ) বললেন, অবশ্যই আমি ‘আয়িশা (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “লোকেরা যদি নিকট অতীতে কুফরি ত্যাগ না করত এবং আমার নিকটও কা’বাকে পুনর্নির্মাণ করার মত অর্থ-সামর্থ্যও নেই- তাহলে আমি অবশ্যই আল-হাজার (হাতীম)-এর পাঁচ গজ স্থান কা’বাহ্ ঘরের অন্তর্ভুক্ত করতাম এবং লোকদের প্রবেশের জন্য ও বের হবার জন্য এর দু’টি দরজা বানাতাম।” ইবনু যুবায়র (রাঃ) বলেন, বর্তমানে আমার হাতে তা নির্মাণের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ আছে এবং লোকদের তরফ থেকেও কোন প্রতিবাদের আশংকা নেই। রাবী বলেন, এরপর তিনি হাতীমের পাঁচ গজ এলাকা কা’বার অন্তর্ভুক্ত করলেন। ফলে তা (পুরাতন) ভিতের উপর গড়ে উঠল। [যার উপর ইব্রাহীম (‘আঃ) তা গড়েছিলেন]। এবং লোকেরা তা অবলোকন করল। এ ভিতের উপর দেয়াল গড়ে তোলা হল। কা’বার দৈর্ঘ্য ছিল আঠার গজ। তা যখন (প্রস্থে) বাড়ানো হল, তখন (স্বাভাবিকভাবেই দৈর্ঘ্য) তা ছোট হওয়ায় দৈর্ঘ্যে তা আরও দশ গজ বৃদ্ধি করা হল এবং এর দু’টি দরজা নির্মাণ করা হল, একটি প্রবেশের জন্য এবং অপরটি প্রস্থানের জন্য। ইবনু যুবায়র (রাঃ) শহীদ হলে হাজ্জাজ (ইবনু ইউসুফ) ‘আবদুল মালিক ইবনু মারওয়ানকে তা লিখে জানাল। সে আরও জানাল যে, ইবনু যুবায়র (কা’বাহ্ ঘর) সে ভিতের উপর নির্মাণ করেছে। [যা ছিল ইব্রাহীম (‘আঃ)-এর ভিত] এবং মাক্কার বিশ্বস্ত লোকেরা তা যাচাই করে দেখেছে। ‘আবদুল মালিক তাকে লিখে পাঠালেন যে, কোন বিষয়ে ইবনু যুবায়রকে অভিযুক্ত করার প্রয়োজন আমাদের নেই। সে দৈর্ঘ্যে যতটুকু বর্ধিত করেছে, তা বহাল রাখ এবং হাতীমের দিকে যতটুকু বর্ধিত করেছে, তা ভেঙ্গে পূর্বাবস্থায় নিয়ে আসো। আর সে যে (নতুন) দরজা খুলেছে তা বন্ধ করে দাও। এরপর হাজ্জাজ তা ভেঙ্গে পূর্বের ভিতের উপর পুনর্নির্মাণ করে। [৩২] (ই.ফা ৩১১১, ই.সে.৩১০৮)
সহিহ মুসলিম ৩১৩৭
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي عَبْدَةُ بْنُ أَبِي لُبَابَةَ، أَنَّ وَرَّادًا، مَوْلَى الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ قَالَ كَتَبَ الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ إِلَى مُعَاوِيَةَ - كَتَبَ ذَلِكَ الْكِتَابَ لَهُ وَرَّادٌ - إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ حِينَ سَلَّمَ . بِمِثْلِ حَدِيثِهِمَا . إِلاَّ قَوْلَهُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ " فَإِنَّهُ لَمْ يَذْكُرْ
হারিস ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ রবী’আহ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উবায়দ বলেন, হারিস ইবনু ‘আবদুল্লাহ প্রতিনিধি হিসেবে ‘আবদুল মালিক ইবনু মারওয়ানের রাজত্বকালে তার নিকট গিয়েছিলেন। ‘আবদুল মালিক বললেন, আমি মনে করি না যে, আবূ যুবায়র অর্থাৎ ইবনু যুবায়র (রাঃ) ‘আয়িশা (রাঃ)-এর নিকট এমন কিছু শুনেছেন যার দাবি তিনি করে থাকেন। [অর্থাৎ ইব্রাহীম (‘আঃ)-এর ভিতের উপর কা’বাহ ঘরের পুণর্নিমাণের ব্যাপারে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অভিপ্রায় সম্পর্কিত কোন হাদীস তিনি ‘আয়িশা (রাঃ)-এর নিকট শুনেননি]। হারিস বলেন, হ্যাঁ, আমি নিজেই তার নিকট এ হাদীস শুনেছি। ‘আবদুল মালিক বললেন, আপনি তাকে কী বলতে শুনেছেন? হারিস বলেন, ‘আয়িশা (রাঃ) বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ “তোমার ক্বওমের লোকেরা কা’বাহ্ ঘরের ভিত (আয়তনে) ছোট করে ফেলেছে। অতীতে তারা শির্ক পরিত্যাগ না করলে আমি তাদের পরিত্যক্ত অংশটুকু কা’বার অন্তর্ভুক্ত করে দিতাম। তোমার সম্প্রদায়ের লোকেরা যদি আমার পরে তা পুণর্নিমাণের পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তবে এসো, আমি তোমাকে তাদের পরিত্যক্ত অংশটুকু দেখিয়ে দিই”- অতএব রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ‘আয়িশাহ-কে (হাতীম সংলগ্ন) প্রায় সাত গজ স্থান দেখিয়ে দিলেন। এ হাদীস ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উবায়দ কর্তৃক বর্ণিত। ওয়ালীদ ইবনু ‘আত্বা ও বর্ণনার উপর আরো বৃদ্ধি করেছেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “আমি জমিনের সমতলে দু’টি দরজাও নির্মাণ করতাম- একটি পূর্বদিকে এবং অপরটি পশ্চিম দিকে। তুমি কি জান তোমার গোত্রের লোকেরা কা’বার দরজা (ভূমি থেকে) উঁচুতে স্থাপন করেছে কেন?” ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, না। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ “গর্ব ও অহংকারের বশবর্তী হয়ে (তারা এটা করেছে) যাকে কেবল সে ব্যক্তিই কা’বার অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে পারে- যাকে তারা অনুমতি দিবে। যখন কোন ব্যক্তি কা’বার অভ্যন্তরে প্রবেশের ইচ্ছা করত, তারা তাকে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠতে দিত। এমনকি সে যখন তাতে প্রবেশ করত, তখন তারা তাকে টেনে নিচে ফেলে দিত”। ‘আবদুল মালিক হারিসকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি ‘আয়িশা (রাঃ)-কে এ কথা বলতে শুনেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ। রাবী বলেন, কিছুক্ষণ তিনি হাতের ছড়ি দিয়ে মাটি খুঁড়তে লাগলেন, এরপর বললেনঃ আমি তার (ইবনু যুবায়র) কাজ স্ব অবস্থায় বহাল রাখার আকাঙক্ষা করছি। (ই.ফা. ৩১১২, ই.সে. ৩১০৯)
সহিহ মুসলিম ৩১৩৮
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي عَبْدَةُ بْنُ أَبِي لُبَابَةَ، أَنَّ وَرَّادًا، مَوْلَى الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ قَالَ كَتَبَ الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ إِلَى مُعَاوِيَةَ - كَتَبَ ذَلِكَ الْكِتَابَ لَهُ وَرَّادٌ - إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ حِينَ سَلَّمَ . بِمِثْلِ حَدِيثِهِمَا . إِلاَّ قَوْلَهُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ " فَإِنَّهُ لَمْ يَذْكُرْ
ইবনু জুরায়জ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
এ সানাদে ইবনু বাকর-এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। (ই.ফা. ৩১১৩, ই.সে. ৩১১০)
সহিহ মুসলিম ৩১৩৯
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي عَبْدَةُ بْنُ أَبِي لُبَابَةَ، أَنَّ وَرَّادًا، مَوْلَى الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ قَالَ كَتَبَ الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ إِلَى مُعَاوِيَةَ - كَتَبَ ذَلِكَ الْكِتَابَ لَهُ وَرَّادٌ - إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ حِينَ سَلَّمَ . بِمِثْلِ حَدِيثِهِمَا . إِلاَّ قَوْلَهُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ " فَإِنَّهُ لَمْ يَذْكُرْ
আবূ ক্বাযা’আহ্ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
‘আবদুল মালিক ইবনু মারওয়ান বায়তুল্লাহ ত্বওয়াফকালে বলে উঠলেন, আল্লাহ ইবনু যুবায়রকে ধ্বংস করুন- যেহেতু সে উম্মুল মু’মিনীন [‘আয়িশা (রাঃ)]-এর উপর মিথ্যারোপ করেছেন যে, সে তাকে নাকি বলতে শুনেছে, “রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ হে ‘আয়িশাহ্! তোমার সম্প্রদায় যদি অতীতে কুফরি পরিত্যাগকারী না হতো তবে আমি কা’বাহ্ ঘর বেঙ্গে তাতে হাতীমের অংশ যুক্ত করে দিতাম। কারণ তোমার সম্প্রদায় কা’বার আয়তন ছোট করে দিয়েছে”। (আবদুল মালিকের এ কথার উপর) হারিস ইবনু ‘আবদুল্লাহ ইবনু আবূ রবী’আহ্ বলল, হে আমীরুল মু’মিনীন! এ কথা আর বলবেন না। কারণ আমি নিজে উম্মুল মু’মিনীন [‘আয়িশা (রাঃ)]-কে এ কথা বলতে শুনেছি। অতঃপর ‘আবদুল মালিক বললেন, কা’বাহ্ ঘর ভাঙ্গার পূর্বে যদি আমি তা শুনতে পেতাম, তাহলে ইবনু যুবায়রের ভিতের উপরই তা অটুট রাখতাম। (ই.ফা. ৩১১৪, ই.সে. ৩১১১)
সহিহ মুসলিম > কা’বার দেয়াল ও দরজার অবস্থান
সহিহ মুসলিম ৩১৪০
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي عَبْدَةُ بْنُ أَبِي لُبَابَةَ، أَنَّ وَرَّادًا، مَوْلَى الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ قَالَ كَتَبَ الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ إِلَى مُعَاوِيَةَ - كَتَبَ ذَلِكَ الْكِتَابَ لَهُ وَرَّادٌ - إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ حِينَ سَلَّمَ . بِمِثْلِ حَدِيثِهِمَا . إِلاَّ قَوْلَهُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ " فَإِنَّهُ لَمْ يَذْكُرْ
‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট জিজ্ঞেস করলাম, হাতীমের দেয়াল কি বায়তুল্লাহ্র অন্তর্ভুক্ত? তিনি বললেন, হ্যাঁ। আমি পুনরায় জিজ্ঞেস করলাম, তবে তার কেন এটাকে বায়তুল্লাহর অন্তর্ভুক্ত করেনি? তিনি বললেন, তোমার সম্প্রদায়ের নিকট পর্যপ্ত অর্থ ছিল না। আমি আবার জিজ্ঞেস করলাম, এর দরজা উঁচুতে স্থাপিত হবার কারণ কী? তিনি বললেন, তাও তোমার সম্প্রদায়ের কাণ্ড- যাতে তাদের কাঙ্খিত ব্যক্তি তাতে প্রবেশাধিকার পায় এবং অবাঞ্ছিত ব্যক্তি প্রবেশ করতে না পারে। তোমার ক্বওমের জাহিলিয়্যাত পরিত্যাগের যুগ নিকটতম না হলে এবং আমার যদি এ আশংকা না হতো যে, তাদের অন্তর পরিবর্তিত হয়ে যেতে পারে- তা হলে আমি অবশ্যই (হাতীমের) দেয়াল বায়তুল্লাহর অন্তর্ভুক্ত করে দিতাম এবং কা’বার দরজা জমিনের সমতলে স্থাপন করার বিষয়ে বিবেচনা করতাম। (ই.ফা. ৩১১৫, ই.সে. ৩১১২)
সহিহ মুসলিম ৩১৪১
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ، أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي عَبْدَةُ بْنُ أَبِي لُبَابَةَ، أَنَّ وَرَّادًا، مَوْلَى الْمُغِيرَةِ بْنِ شُعْبَةَ قَالَ كَتَبَ الْمُغِيرَةُ بْنُ شُعْبَةَ إِلَى مُعَاوِيَةَ - كَتَبَ ذَلِكَ الْكِتَابَ لَهُ وَرَّادٌ - إِنِّي سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ حِينَ سَلَّمَ . بِمِثْلِ حَدِيثِهِمَا . إِلاَّ قَوْلَهُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ " فَإِنَّهُ لَمْ يَذْكُرْ
‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি আল্ হাজার (হাতীম) সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট জিজ্ঞেস করলাম। এরপর পূর্বোক্ত আবুল আহ্ওয়াস-এর হাদীসের অনুরূপ। এ বর্ণনায় আছে [‘আয়িশা (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেন], “এর দরজা উঁচুতে স্থাপিত হবার কারণ কী যে, সিঁড়ি ব্যতীত তাতে উঠা যায় না?” এতে আরো আছেঃ “তাদের অন্তর পরিবর্তিত হয়ে যাবার আশংকায়”। (ই.ফা. ৩১১৬, ই.সে. ৩১১৩)