ইহরাম বাঁধার সময় কুরবানীর পশুর কুঁজের কিছু অংশ ফেঁড়ে দেয়া এবং গলায় মালা পরানো - সহিহ মুসলিম | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

সহিহ মুসলিম > ইহরাম বাঁধার সময় কুরবানীর পশুর কুঁজের কিছু অংশ ফেঁড়ে দেয়া এবং গলায় মালা পরানো

সহিহ মুসলিম ২৯০৬

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، ح قَالَ وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ ‏ مَنْ أَكَلَ مِنْ هَذِهِ الْبَقْلَةِ فَلاَ يَقْرَبَنَّ مَسَاجِدَنَا حَتَّى يَذْهَبَ رِيحُهَا ‏" ‏ ‏‏ يَعْنِي الثُّومَ ‏‏

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যুল হুলায়ফাহ্ নামক স্থানে যুহরের সলাত আদায় করলেন। অতঃপর নিজের (কুরবানীর) উষ্ট্রী নিয়ে আসতে বললেন এবং কুঁজের ডান দিক দিয়ে ফেড়ে দিলেন। ফলে রক্ত প্রবাহিত হ’ল। অতঃপর তিনি এর গলায় দু’টি পাদুকার মালা পরিয়ে দিলেন। এরপর নিজের বাহনে আরোহণ করলেন। অতঃপর তা যখন তাঁকে নিয়ে আল বায়দায় পৌঁছল, তখন তিনি হাজ্জের তালবিয়াহ্ পাঠ করলেন। (ই.ফা. ২৮৮২, ই.সে. ২৮৮১)


সহিহ মুসলিম ২৯০৭

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا ابْنُ نُمَيْرٍ، ح قَالَ وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا أَبِي قَالَ، حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ ‏ مَنْ أَكَلَ مِنْ هَذِهِ الْبَقْلَةِ فَلاَ يَقْرَبَنَّ مَسَاجِدَنَا حَتَّى يَذْهَبَ رِيحُهَا ‏" ‏ ‏‏ يَعْنِي الثُّومَ ‏‏

ক্বাতাদাহ্‌ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

এ সূত্রে শু’বাহ্‌ (রহঃ)-এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে, অবশ্য তিনি এখানে বলেছেন, যখন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যুল হুলায়ফাহ্‌ এলেন”- তবে “যুহরের সলাত আদায় করেছেন” এ কথা উল্লেখ করেননি। (ই.ফা. ২৮৮৩, ই.সে. ২৮৮২)


সহিহ মুসলিম ২৯০৮

وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - يَعْنِي ابْنَ عُلَيَّةَ - عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ، - وَهُوَ ابْنُ صُهَيْبٍ - قَالَ سُئِلَ أَنَسٌ عَنِ الثُّومِ، فَقَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ ‏ مَنْ أَكَلَ مِنْ هَذِهِ الشَّجَرَةِ فَلاَ يَقْرَبَنَّا وَلاَ يُصَلِّي مَعَنَا ‏" ‏ ‏‏

ক্বাতাদাহ্ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি আবূ হাস্সান আ’রাজ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, আল হুযায়ম গোত্রের এক ব্যক্তি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে বলল, আপনি এ কী ফাতাওয়া দিচ্ছেন যা নিয়ে লোকেরা জটিলতায় পড়েছে? (তা এই) যে ব্যক্তি বায়তুল্লাহ-এর ত্বওয়াফ করবে, সে ইহরামমুক্ত হতে পারবে। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, এটা তোমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাত, তা তোমাদের মনঃপুত হোক বা না হোক। (ই.ফা. ২৮৮৪, ই.সে. ২৮৮৩)


সহিহ মুসলিম ২৯০৯

وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، - يَعْنِي ابْنَ عُلَيَّةَ - عَنْ عَبْدِ الْعَزِيزِ، - وَهُوَ ابْنُ صُهَيْبٍ - قَالَ سُئِلَ أَنَسٌ عَنِ الثُّومِ، فَقَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ ‏ مَنْ أَكَلَ مِنْ هَذِهِ الشَّجَرَةِ فَلاَ يَقْرَبَنَّا وَلاَ يُصَلِّي مَعَنَا ‏" ‏ ‏‏

আবূ হাস্সান (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-কে বলা হ’ল, এ ব্যাপারটি লোকদের মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যে, যে ব্যক্তি বায়তুল্লাহ-এর ত্বওয়াফ করে, সে হালাল হয়ে যায় এবং তার ইহরাম ‘উমরায় পরিণত হয় (যদিও হাজ্জের ইহরাম হয়ে থাকে)। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বললেন, এটা তোমাদের নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সুন্নাত যদিও তোমাদের নাক ধূলিমলিন হয়। (ই.ফা. ২৮৮৫, ই.সে. ২৮৮৪)


সহিহ মুসলিম ২৯১০

وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، قَالَ عَبْدٌ أَخْبَرَنَا وَقَالَ ابْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ ابْنِ الْمُسَيَّبِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ ‏ مَنْ أَكَلَ مِنْ هَذِهِ الشَّجَرَةِ فَلاَ يَقْرَبَنَّ مَسْجِدَنَا وَلاَ يُؤْذِيَنَّا بِرِيحِ الثُّومِ ‏" ‏ ‏‏

‘আত্বা (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলতেন, যে ব্যক্তি (মাক্কায় পৌঁছে) বায়তুল্লাহ-এর ত্বওয়াফ করল, সে ইহরামমুক্ত হয়ে গেল- সে হাজ্জ পালনকারী হোক অথবা অন্য কিছু (‘উমরাহ্‌) পালনকারী। আমি (ইবনু জুরায়জ) ‘আত্বাকে জিজ্ঞেস করলাম, তিনি কিসের ভিত্তিতে এ কথা বলেন? তিনি বললেন, আল্লাহর কালামের ভিত্তিতে : “অতঃপর এগুলো কুরবানীর স্থান মর্যাদাবান ঘরের নিকট” – (সূরাহ্‌ হাজ্জ ২২ : ৩৩)। আমি বললাম, তা তো ‘আরাফাহ্‌ থেকে ফেরার পর। তিনি বললেন, ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) বলতেন, (কুরবানীর স্থান সম্মানিত ঘরের নিকট) তা ‘আরাফায় উকূফের পর হোক অথবা পূর্বে। তিনি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কার্যক্রম থেকে প্রমাণ গ্রহণ করেছেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) স্বয়ং বিদায় হাজ্জের সময়ে ইহরাম খোলার নির্দেশ দেন। (ই.ফা. ২৮৮৬, ই.সে. ২৮৮৫)


সহিহ মুসলিম > উমরায় চুল খাটো করা

সহিহ মুসলিম ২৯১১

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ هِشَامٍ، عَنْ هِشَامٍ الدَّسْتَوَائِيِّ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ أَكْلِ الْبَصَلِ وَالْكُرَّاثِ ‏.‏ فَغَلَبَتْنَا الْحَاجَةُ فَأَكَلْنَا مِنْهَا فَقَالَ ‏ ‏ مَنْ أَكَلَ مِنْ هَذِهِ الشَّجَرَةِ الْمُنْتِنَةِ فَلاَ يَقْرَبَنَّ مَسْجِدَنَا فَإِنَّ الْمَلاَئِكَةَ تَأَذَّى مِمَّا يَتَأَذَّى مِنْهُ الإِنْسُ ‏" ‏ ‏‏

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

মু’আবিয়াহ (রাঃ) আমাকে বললেন, তুমি কি জান আমি কাঁচি দিয়ে মারওয়াহ্‌ পাহাড়ের নিকট রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মাথার চুল ছেঁটে দিয়েছি? আমি তাঁকে বললাম, এটা আপনার বিরুদ্ধে দলীল। (ই.ফা. ২৮৮৭, ই.সে. ২৮৮৬)


সহিহ মুসলিম ২৯১২

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا كَثِيرُ بْنُ هِشَامٍ، عَنْ هِشَامٍ الدَّسْتَوَائِيِّ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ أَكْلِ الْبَصَلِ وَالْكُرَّاثِ ‏.‏ فَغَلَبَتْنَا الْحَاجَةُ فَأَكَلْنَا مِنْهَا فَقَالَ ‏ ‏ مَنْ أَكَلَ مِنْ هَذِهِ الشَّجَرَةِ الْمُنْتِنَةِ فَلاَ يَقْرَبَنَّ مَسْجِدَنَا فَإِنَّ الْمَلاَئِكَةَ تَأَذَّى مِمَّا يَتَأَذَّى مِنْهُ الإِنْسُ ‏" ‏ ‏‏

ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

মু’আবিয়াহ ইবনু আবূ সুফ্ইয়ান (রাঃ) তাকে অবহিত করে বলেছেন, আমি মারওয়াহ্ পাহাড়ে একটি কাঁচির সাহায্যে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর মাথার চুল ছেঁটে দিয়েছি। অথবা আমি (অধঃস্তন রাবীর সন্দেহ) মারওয়াহ্ পাহাড়ের উপর কাঁচির সাহায্যে তাঁর মাথার চুল ছাঁটতে দেখেছি। (ই.ফা. ২৮৮৮, ই.সে. ২৮৮৭)


সহিহ মুসলিম ২৯১৩

حدثني عبيد الله بن عمر القواريري، حدثنا عبد الأعلى بن عبد الأعلى، حدثنا داود، عن أبي نضرة، عن أبي سعيد، قال خرجنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم نصرخ بالحج صراخا فلما قدمنا مكة أمرنا أن نجعلها عمرة إلا من ساق الهدى فلما كان يوم التروية ورحنا إلى منى أهللنا بالحج ‏.

আবূ সা’ঈদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমরা উচ্চৈঃস্বরে হাজ্জের তালবিয়াহ্ পাঠ করতে করতে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে রওনা হলাম। আমরা মাক্কায় পৌঁছলে তিনি আমাদের তা ‘উমরায় পরিণত করার নির্দেশ দিলেন। তালবিয়ার দিন এলে আমরা হাজ্জের ইহরাম বেঁধে মিনার দিকে রওনা হলাম। (ই.ফা. ২৮৮৯, ই.সে. ২৮৮৮)


সহিহ মুসলিম ২৯১৪

وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنِ ابْنِ جُرَيْجٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عَطَاءٌ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ ‏ مَنْ أَكَلَ مِنْ هَذِهِ الْبَقْلَةِ الثُّومِ - وَقَالَ مَرَّةً مَنْ أَكَلَ الْبَصَلَ وَالثُّومَ وَالْكُرَّاثَ - فَلاَ يَقْرَبَنَّ مَسْجِدَنَا فَإِنَّ الْمَلاَئِكَةَ تَتَأَذَّى مِمَّا يَتَأَذَّى مِنْهُ بَنُو آدَمَ ‏" ‏ ‏‏

জাবির (রাঃ) ও আবূ সা’ঈদ আল খুদরী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তারা বলেন, আমরা উচ্চৈঃস্বরে হাজ্জের তালবিয়াহ্ পাঠ করতে করতে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে মাক্কায় উপনীত হলাম। (ই.ফা. ২৮৯০, ই.সে. ২৮৮৯)


সহিহ মুসলিম ২৯১৫

وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ، ح قَالَ وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالاَ جَمِيعًا أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، بِهَذَا الإِسْنَادِ ‏ ‏ مَنْ أَكَلَ مِنْ هَذِهِ الشَّجَرَةِ - يُرِيدُ الثُّومَ - فَلاَ يَغْشَنَا فِي مَسْجِدِنَا ‏" ‏ ‏‏ وَلَمْ يَذْكُرِ الْبَصَلَ وَالْكُرَّاثَ ‏‏

আবূ নায্রাহ্ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। এ সময় এক ব্যক্তি তার নিকট উপস্থিত হয়ে বলল, (তামাত্তু’ হাজ্জ ও মুত্’আহ্ বিবাহ) সম্পর্কে ইবনু ‘আব্বাস ও ইবনু যুবায়র (রাঃ)-এর মধ্যে মতবিরোধ চলছে। জাবির (রাঃ) বললেন, আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর যুগে তা করেছি। এরপর ‘উমার (রাঃ) আমাদের তা করতে নিষেধ করেন। অতএব আমরা আর কখনও তা করিনি। (ই.ফা. ২৮৯১, ই.সে. ২৮৯০)


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية