অন্যের কাছে হাত পাতার প্রতি নিষেধাজ্ঞা - সহিহ মুসলিম | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

সহিহ মুসলিম > অন্যের কাছে হাত পাতার প্রতি নিষেধাজ্ঞা

সহিহ মুসলিম ২২৭৯

وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، ح قَالَ وَحَدَّثَنَا ابْنُ رُمْحٍ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّهُ قَالَ صَلَّى مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ الأَنْصَارِيُّ لأَصْحَابِهِ الْعِشَاءَ فَطَوَّلَ عَلَيْهِمْ فَانْصَرَفَ رَجُلٌ مِنَّا فَصَلَّى فَأُخْبِرَ مُعَاذٌ عَنْهُ فَقَالَ إِنَّهُ مُنَافِقٌ ‏.‏ فَلَمَّا بَلَغَ ذَلِكَ الرَّجُلَ دَخَلَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَهُ مَا قَالَ مُعَاذٌ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏ ‏ أَتُرِيدُ أَنْ تَكُونَ فَتَّانًا يَا مُعَاذُ إِذَا أَمَمْتَ النَّاسَ فَاقْرَأْ بِالشَّمْسِ وَضُحَاهَا ‏.‏ وَسَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى ‏.‏ وَاقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ ‏.‏ وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى ‏" ‏ ‏‏

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমির আল ইয়াহ্‌সাবী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, মু’আবিয়াহ্‌ (রাঃ) বলেন, তোমরা হাদীস বর্ণনা করার ব্যাপারে সতর্ক থাকো। কেবলমাত্র সে সকল হাদীস বর্ণনা করতে পারো যা ‘উমার (রাঃ)-এর সময় ছিল। কেননা ‘উমার (রাঃ) লোকদের মনে আল্লাহ্‌র ভয় বদ্ধমূল করার প্রয়াস পেতেন। আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিঃ “আল্লাহ্‌ তা’আলা যার কল্যাণ চান তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান ও প্রজ্ঞা দান করেন।” মু’আবিয়াহ্‌ (রাঃ) বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে আরো বলতে শুনেছিঃ “আমি তো শুধুমাত্র জনৈক খাজাঞ্চি। যাকে আমি স্বতস্ফূর্তভাবে দান করি, তাতে তার বারাকাত হয়। আর যাকে আমি তার সনির্বন্ধ মিনতি ও উত্যক্ত করার করার পর দেই তার অবস্থা এমন ব্যক্তির মত যে খায় অথচ পরিতৃপ্ত হতে পারে না।” (ই.ফা. ২২৫৮, ই.সে. ২২৫৮)


সহিহ মুসলিম ২২৮০

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ، كَانَ يُصَلِّي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْعِشَاءَ الآخِرَةَ ثُمَّ يَرْجِعُ إِلَى قَوْمِهِ فَيُصَلِّي بِهِمْ تِلْكَ الصَّلاَةَ ‏.‏

মু’আবিয়াহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ তোমরা কোন কিছু পাওয়ার ব্যাপারে মাত্রাতিরিক্ত কাকুতি মিনতির আশ্রয় নিও না। কেননা, আল্লাহ্‌র শপথ! যে ব্যক্তি আমার কাছে কোন কিছু চায়, আর তার মিনতিপূর্ণ আকুল প্রার্থনাই আমাকে দানে বাধ্য করে অথচ আমি তা অপছন্দ করি, তাহলে এতে কী করে বারাকাত হবে? (ই.ফা. ২২৫৯, ই.সে. ২২৫৯)


সহিহ মুসলিম ২২৮১

حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا هُشَيْمٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، أَنَّ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ، كَانَ يُصَلِّي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْعِشَاءَ الآخِرَةَ ثُمَّ يَرْجِعُ إِلَى قَوْمِهِ فَيُصَلِّي بِهِمْ تِلْكَ الصَّلاَةَ ‏.‏

‘আমর ইবনু দীনার থেকে ওয়াহ্ব ইবনু মুনাব্বিহ সূত্র থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি সনা’আ নামক স্থানে তার বাড়িতে গিয়েছিলাম। তিনি আমাকে আখরোট দিয়ে আপ্যায়ণ করলেন। তাঁর (ওয়াহ্ব ইবনু মুনাব্বিহ) ভাই বর্ণনা করেন, আমি আবূ সুফ্ইয়ান (রাঃ) এর পুত্র মু’আবিয়াহ্ (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে বলতে শুনেছি ... পূর্বের হাদীসের অনুরূপ। (ই.ফা. ২২৬০, ই.সে. ২২৬০)


সহিহ মুসলিম ২২৮২

وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، ح قَالَ وَحَدَّثَنَا ابْنُ رُمْحٍ، أَخْبَرَنَا اللَّيْثُ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، أَنَّهُ قَالَ صَلَّى مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ الأَنْصَارِيُّ لأَصْحَابِهِ الْعِشَاءَ فَطَوَّلَ عَلَيْهِمْ فَانْصَرَفَ رَجُلٌ مِنَّا فَصَلَّى فَأُخْبِرَ مُعَاذٌ عَنْهُ فَقَالَ إِنَّهُ مُنَافِقٌ ‏.‏ فَلَمَّا بَلَغَ ذَلِكَ الرَّجُلَ دَخَلَ عَلَى رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخْبَرَهُ مَا قَالَ مُعَاذٌ فَقَالَ لَهُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏ ‏ أَتُرِيدُ أَنْ تَكُونَ فَتَّانًا يَا مُعَاذُ إِذَا أَمَمْتَ النَّاسَ فَاقْرَأْ بِالشَّمْسِ وَضُحَاهَا ‏.‏ وَسَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى ‏.‏ وَاقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ ‏.‏ وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى ‏" ‏ ‏‏

মু’আবিয়াহ্‌ ইবনু আবূ সুফ্‌ইয়ান (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি খুত্‌বাহ্‌ দেয়ার সময় বললেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছিঃ “আল্লাহ্‌ তা’আলা যার কল্যাণ চান তাকে দ্বীনের গভীর জ্ঞান দান করেন। আমি জনৈক বণ্টনকারী আর দান করার মালিক আল্লাহ্‌ এবং তিনিই দিয়ে থাকেন। (ই.ফা. ২২৬১, ই.সে. ২২৬১)


সহিহ মুসলিম > যে অভাবীর অভাব মানুষের নিকট প্রকাশের পূর্বে তাকে দান করা হয় তার প্রসঙ্গে

সহিহ মুসলিম ২২৮৩

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَأَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ، قَالَ أَبُو الرَّبِيعِ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كَانَ مُعَاذٌ يُصَلِّي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْعِشَاءَ ثُمَّ يَأْتِي مَسْجِدَ قَوْمِهِ فَيُصَلِّي بِهِمْ ‏.‏

আবূ হুরায়রাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ “যারা মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করে বেড়ায় এবং দু’ এক গ্রাস খাবার বা দু’ একটা খেজুর ভিক্ষা নিয়ে ফিরে যায় তারা (প্রকৃত) মিসকীন নয়। এ কথা শুনে সাহাবীগণ বললেন, হে আল্লাহ্‌র রসূল! তাহলে মিসকীন কে? (উত্তরে) তিনি (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, মানবীয় মৌলিক প্রয়োজন মিটানোর মত সামর্থ্য যার নেই আর সমাজের মানুষও তাকে অভাবী বলে জানে না যাতে তাকে দান করতে পারে এবং সে নিজেও (মুখ খুলে) কারো কাছে কিছু চায় না।” (এ ব্যক্তি হলো প্রকৃত মিসকীন অর্থাৎ আর্থিক অনটনভুক্ত গরীব ভদ্রলোক)। (ই.ফা. ২২৬২, ই.সে. ২২৬২)


সহিহ মুসলিম ২২৮৪

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَأَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ، قَالَ أَبُو الرَّبِيعِ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كَانَ مُعَاذٌ يُصَلِّي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْعِشَاءَ ثُمَّ يَأْتِي مَسْجِدَ قَوْمِهِ فَيُصَلِّي بِهِمْ ‏.‏

আবূ হুরায়রাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন, যে ব্যক্তি দু’ একটি খেজুর বা দু’ এক গ্রাস খাবার ভিক্ষা চেয়ে বেড়ায় এবং এ নিয়ে চলে যায় সে মিসকীন নয়। বরং প্রকৃত মিসকীন ঐ ব্যক্তি, যে মানুষের কাছে হাত পাতে না। প্রকৃত মিসকীনের স্বরূপ জানতে চাইলে এ আয়াত পাঠ করো- “তারা মানুষের কাছে কাকুতি মিনতির সাথে হাত পাতে না”- (সূরাহ্‌ আল-বাক্বারাহ্‌ ২:২৭৩)। (ই.ফা. ২২৬৩, ই.সে. ২২৬৩)


সহিহ মুসলিম ২২৮৫

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، وَأَبُو الرَّبِيعِ الزَّهْرَانِيُّ، قَالَ أَبُو الرَّبِيعِ حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، حَدَّثَنَا أَيُّوبُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ دِينَارٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ كَانَ مُعَاذٌ يُصَلِّي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْعِشَاءَ ثُمَّ يَأْتِي مَسْجِدَ قَوْمِهِ فَيُصَلِّي بِهِمْ ‏.‏

আবূ হুরায়রাহ্ (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে বর্নিতঃ

এ সূত্রেও ইসমা’ঈল বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। (ই.ফা. ২২৬৪, ই.সে. ২২৬৪)


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية