সুস্থ ও স্বাবলম্বী এবং সম্পদের প্রতি আকর্ষণ থাকা অবস্থায় দান-খয়রাত করার ফাযীলাত - সহিহ মুসলিম | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

সহিহ মুসলিম > সুস্থ ও স্বাবলম্বী এবং সম্পদের প্রতি আকর্ষণ থাকা অবস্থায় দান-খয়রাত করার ফাযীলাত

সহিহ মুসলিম ২২৭২

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، ح قَالَ وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، ح قَالَ وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، قَالاَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، كُلُّهُمْ عَنِ الزُّهْرِيِّ، بِهَذَا الإِسْنَادِ ‏.‏ مِثْلَهُ ‏.‏

আবূ হুরায়রাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে বলল, হে আল্লাহ্‌র রসূল! কোন্‌ ধরনের সদাক্বাহ্‌ বা দান সবচেয়ে উত্তম? তিনি বললেন, তুমি এমন অবস্থায় দান করবে, যখন তুমি সুস্থ-সবল, সম্পদের প্রতি আকর্ষণ প্রদর্শনকারী, দারিদ্র্যকে ভয়কারী ও এবং ঐশ্বর্যের আকাঙ্ক্ষাকারী। আর (সদাক্বাহ্‌ প্রদানে) বিলম্ব করবে না জীবনের অন্তিম মুহূর্ত পর্যন্ত বিলম্ব করে প্রাণ কন্ঠনালী পর্যন্ত এসে গেলে তুমি বলবে, এটা অমুকের ওটা অমুকের- এরূপ ঠিক নয়। তখন তো এগুলো অমুকের হয়েই যাচ্ছে। অর্থাৎ তোমার মরার সাথে সাথে উত্তরাধীকারগণ নিয়ে নিবে। (ই.ফা. ২২৫১, ই.সে. ২২৫২)


সহিহ মুসলিম ২২৭৩

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، ح قَالَ وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، ح قَالَ وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، قَالاَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، كُلُّهُمْ عَنِ الزُّهْرِيِّ، بِهَذَا الإِسْنَادِ ‏.‏ مِثْلَهُ ‏.‏

আবূ হুরায়রাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, এক ব্যক্তি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে এসে জিজ্ঞেস করল, হে আল্লাহ্‌র রসূল! কোন ধরনের দানে বিরাট সাওয়াবের অধিকারী হওয়া যায়? তিনি বললেনঃ জেনে রাখ, তোমার পিতার শপথ! (আমি অবশ্য তোমাকে জানাচ্ছি) তুমি সুস্থ, সবল, ও অনুরক্ত অবস্থায় দান করবে যে, তুমি দারিদ্রকে ভয় কর এবং ধনী হওয়ার বাসনা রাখ। আর দানের ব্যাপারে জীবন বায়ু কন্ঠনালী আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করো না যে, তখন বলতে থাকবে- অমুকের জন্য এটা, অমুকের জন্য ওটা। বরং তখন তো এসব অমুকের হয়েই যাবে। (অর্থাৎ তোমার আর দান করার প্রয়োজন হবে না বরং তোমার মৃত্যুর পর এ সব উত্তরাধিকারীগণ নিয়ে নিবে)। (ই.ফা. ২২৫২, ই.সে. ২২৫৩)


সহিহ মুসলিম ২২৭৪

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، قَالاَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، ح قَالَ وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي يُونُسُ، ح قَالَ وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، وَعَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، قَالاَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، كُلُّهُمْ عَنِ الزُّهْرِيِّ، بِهَذَا الإِسْنَادِ ‏.‏ مِثْلَهُ ‏.‏

‘উমারাহ্ ইবনুল ক্বা’ক্বা’ (রহঃ) থেকে এ সূত্র থেকে বর্নিতঃ

জারীর বর্ণিত হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে তিনি (আরবী) এর স্থলে (আরবী) বলেছেন। এ সূত্রে বলা হয়েছেঃ ‘কোন্ ধরনের দান-খয়রাত সর্বোত্তম? (ই.ফা. ২২৫৩, ই.সে. ২২৫৩[ক] )


সহিহ মুসলিম > নীচের হাতের চেয়ে উপরের হাত উত্তম। উপরের হাত অর্থে দানকারী এবং নীচের হাত অর্থে দান গ্রহণকারীকে বুঝানো হয়েছে

সহিহ মুসলিম ২২৭৫

حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مُعَاذٍ الْعَنْبَرِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَدِيٍّ، قَالَ سَمِعْتُ الْبَرَاءَ، يُحَدِّثُ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم أَنَّهُ كَانَ فِي سَفَرٍ فَصَلَّى الْعِشَاءَ الآخِرَةَ فَقَرَأَ فِي إِحْدَى الرَّكْعَتَيْنِ ‏{‏ وَالتِّينِ وَالزَّيْتُونِ‏}‏

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিম্বারে দাঁড়িয়ে নাসীহাত করলেন। তিনি বললেন, উপরের হাত নীচের হাতের চেয়ে উত্তম। উপরের হাত হল দানকারী। আর নীচের হাত হলো দান গ্রহণকারী। (ই.ফা. ২২৫৪, ই.সে. ২২৫৪)


সহিহ মুসলিম ২২৭৬

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنْ يَحْيَى، - وَهُوَ ابْنُ سَعِيدٍ - عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ، عَنِ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ، أَنَّهُ قَالَ صَلَّيْتُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْعِشَاءَ فَقَرَأَ بِالتِّينِ وَالزَّيْتُونِ ‏.‏

হাকীম ইবনু হিযাম (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ স্বচ্ছলতা বজায় রেখে যে দান করা হয় সেটাই উত্তম দান। উপরের হাত (বা দাতা) নীচের হাতের (বা ভিক্ষাকারীর) চেয়ে উত্তম। আর যাদেরকে লালন পালন করো তাদেরকে দিয়ে অর্থাৎ নিজের নিকটাত্মীয়দের দিয়ে দান-খয়রাত শুরু কর। (ই.ফা. ২২৫৫, ই.সে. ২২৫৫)


সহিহ মুসলিম ২২৭৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا مِسْعَرٌ، عَنْ عَدِيِّ بْنِ ثَابِتٍ، قَالَ سَمِعْتُ الْبَرَاءَ بْنَ عَازِبٍ، قَالَ سَمِعْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَرَأَ فِي الْعِشَاءِ بِالتِّينِ وَالزَّيْتُونِ ‏.‏ فَمَا سَمِعْتُ أَحَدًا أَحْسَنَ صَوْتًا مِنْهُ ‏.‏

হাকীম ইবনু হিযাম (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর কাছে আমাকে কিছু দেয়ার জন্য আবেদন করলাম। তিনি আমাকে দিলেন। আমি আবার আবেদন করলাম। তিনি আবারও দিলেন। আমি পুনরায় আবেদন করলে তিনি দিলেন এবং বললেনঃ ““এ সম্পদ টাটকা এবং মিষ্টি।”” সুতরাং যে ব্যক্তি না চেয়ে এবং দাতার স্বত:স্ফূর্ত অনুদান হিসেবে এ মাল লাভ করল তাকে এর মধ্যে বারাকাত দেয়া হবে। আর যে ব্যক্তি কাকুতি মিনতি করে নিজেকে হীন ও অপমানিত করে তা লাভ করল তাকে এ মালের মধ্যে বারাকাত দেয়া হয় না। তার অবস্থানটা ঐ ব্যক্তির মত যে খায় অথচ তুষ্ট হয় না। আর উপরের হাত (বা দাতা) নীচের হাতের (গ্রহণকারীর) চেয়ে উত্তম। (ই.ফা. ২২৫৬, ই.সে. ২২৫৬)


সহিহ মুসলিম ২২৭৮

حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبَّادٍ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرٍو، عَنْ جَابِرٍ، قَالَ كَانَ مُعَاذٌ يُصَلِّي مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم ثُمَّ يَأْتِي فَيَؤُمُّ قَوْمَهُ فَصَلَّى لَيْلَةً مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الْعِشَاءَ ثُمَّ أَتَى قَوْمَهُ فَأَمَّهُمْ فَافْتَتَحَ بِسُورَةِ الْبَقَرَةِ فَانْحَرَفَ رَجُلٌ فَسَلَّمَ ثُمَّ صَلَّى وَحْدَهُ وَانْصَرَفَ فَقَالُوا لَهُ أَنَافَقْتَ يَا فُلاَنُ قَالَ لاَ وَاللَّهِ وَلآتِيَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَلأُخْبِرَنَّهُ ‏.‏ فَأَتَى رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنَّا أَصْحَابُ نَوَاضِحَ نَعْمَلُ بِالنَّهَارِ وَإِنَّ مُعَاذًا صَلَّى مَعَكَ الْعِشَاءَ ثُمَّ أَتَى فَافْتَتَحَ بِسُورَةِ الْبَقَرَةِ ‏.‏ فَأَقْبَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى مُعَاذٍ فَقَالَ ‏‏ يَا مُعَاذُ أَفَتَّانٌ أَنْتَ اقْرَأْ بِكَذَا وَاقْرَأْ بِكَذَا ‏"‏ ‏.‏ قَالَ سُفْيَانُ فَقُلْتُ لِعَمْرٍو إِنَّ أَبَا الزُّبَيْرِ حَدَّثَنَا عَنْ جَابِرٍ أَنَّهُ قَالَ ‏"‏ اقْرَأْ وَالشَّمْسِ وَضُحَاهَا ‏.‏ وَالضُّحَى ‏.‏ وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى ‏.‏ وَسَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الأَعْلَى ‏"‏ ‏.‏ فَقَالَ عَمْرٌو نَحْوَ هَذَا ‏.‏"

আবূ উমামাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ “হে আদম সন্তান! তোমার কাছে প্রয়োজনের অতিরিক্ত যে মালামাল রয়েছে তা খরচ করতে থাক; এটা তোমার জন্য উত্তম। আর যদি তুমি তা দান না করে কুক্ষিগত করে রাখো তাহলে এটা তোমার জন্য অকল্যাণ বয়ে আনবে। তবে প্রয়োজন পরিমান রাখায় কোন দোষ নেই। এজন্য তোমাকে ভৎসনাও করা হবে না। যাদের প্রতিপালনের দায়িত্ব তোমার উপর রয়েছে তাদেরকে দিয়েই দান শুরু কর। উপরের হাত নীচের হাতের চেয়ে উত্তম। (ই.ফা. ২২৫৭, ই.সে. ২২৫৭)


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية