সদাক্বাহ্‌ যদি কোন ফাসিক্ব বা অনুরূপ কোন অসৎ ব্যক্তির হাতে পড়ে তাহলেও দাতা এর সাওয়াব পাবে - সহিহ মুসলিম | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

সহিহ মুসলিম > সদাক্বাহ্‌ যদি কোন ফাসিক্ব বা অনুরূপ কোন অসৎ ব্যক্তির হাতে পড়ে তাহলেও দাতা এর সাওয়াব পাবে

সহিহ মুসলিম ২২৫২

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ زِيَادِ بْنِ عِلاَقَةَ، عَنْ عَمِّهِ، أَنَّهُ صَلَّى مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الصُّبْحَ فَقَرَأَ فِي أَوَّلِ رَكْعَةٍ ‏{‏ وَالنَّخْلَ بَاسِقَاتٍ لَهَا طَلْعٌ نَضِيدٌ‏}‏ وَرُبَّمَا قَالَ ‏{‏ ق‏}‏ ‏.‏

আবূ হুরায়রাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ এক ব্যক্তি বলল, আমি আজ রাতে কিছু দান-খয়রাত করব। অতঃপর সে সদাক্বাহ্ নিয়ে বের হয়ে এক যিনাকারীকে তা অর্পণ করল। ভোরে লোকেরা বলাবলি করতে লাগল যে, আজ রাতে এক ব্যক্তি যিনাকারীকে দান-খয়রাত করেছে। অতঃপর সে ব্যক্তি বলল, হে আল্লাহ্‌! সকল প্রশংসা তোমার জন্য। আমার প্রদত্ত সদাক্বাহ্ তো যিনাকারীর হাতে গিয়ে পড়েছে। এরপর সে (আবার) বলল, আজ আমি আরো কিছু সদাক্বাহ্ করব। অতঃপর সে তা নিয়ে বের হয়ে এক ধনী লোকের হাতে অর্পণ করল। লোকজন ভোরে আলাপ করতে লাগল যে, আজ রাতে কে যেন এক ধনী লোককে সদাক্বাহ্ দিয়ে গেছে। সে বলল, হে আল্লাহ! সকল প্রশংসা তোমার জন্য। আমার সদাক্বাহ্ তো ধনীর হাতে গিয়ে পড়েছে। তারপর সে পুনরায় বলল, আমি আজ রাতে কিছু সদাক্বাহ্ দিব। সদাক্বাহ্ নিয়ে বের হয়ে সে এক চোরের হাতে অর্পণ করল। অতঃপর সকালে লোকজন বলাবলি করতে লাগল আজ রাতে কে যেন চোরকে সদাক্বাহ্ দিয়েছে। সে বলল, হে আল্লাহ! সকল প্রশংসা তোমারাই। আমার প্রদত্ত সদাক্বাহ্ যিনাকারী, ধনী ও চোরের হাতে পড়ে গেছে। অতঃপর এক ব্যক্তি (মালাক বা সে যুগের কোন নাবী) এসে তাকে বলল, তোমার প্রদত্ত সকল সদাক্বাহ্ই কবুল হয়েছে। যিনাকারীকে দেয়া সদাক্বাহ্ কবুল হওয়ার কারণ হলো- সম্ভবতঃ সে ঐ রাতে যিনা থেকে বিরত ছিল (কেননা সে পেটের জ্বালায় এ কাজ করত)। ধনী ব্যক্তিকে যে সদাক্বাহ্ দেয়া হয়েছিল তা কবূল হওয়ার কারণ হলো ধনী ব্যক্তি এতে লজ্জিত হয়ে হয়ত নাসীহাত গ্রহণ করেছে এবং আল্লাহর দেয়া সম্পদ থেকে সেও দান করবে বলে সঙ্কল্প করেছে। আর চোরকে দেয়া সদাক্বাহ্ কবূল হওয়ার কারণ হলো সম্ভবতঃ সে ঐ রাতে চুরি থেকে বিরত ছিল। কেননা সেও পেটের তাগিদে চুরি করত। (ই.ফা. ২২৩১, ই.সে.২২৩২)


সহিহ মুসলিম > আমানাতদার কোষাধ্যক্ষ ও স্ত্রী লোকের সদাক্বায় সাওয়াব হওয়া সম্পর্কে, স্ত্রী স্বামীর প্রকাশ্য অনুমতি সাপেক্ষে অথবা প্রচলিত প্রথামত স্বামীর সম্পদ থেকে দান করলে সে তার সাওয়াব পাবে

সহিহ মুসলিম ২২৫৩

حَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، حَدَّثَنَا حُسَيْنُ بْنُ عَلِيٍّ، عَنْ زَائِدَةَ، حَدَّثَنَا سِمَاكُ بْنُ حَرْبٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ إِنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقْرَأُ فِي الْفَجْرِ بِـ ‏{‏ ق وَالْقُرْآنِ الْمَجِيدِ‏}‏ وَكَانَ صَلاَتُهُ بَعْدُ تَخْفِيفًا ‏.‏

আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ যে মুসলিম আমানাতদার কোষাধ্যক্ষ নির্দেশ মুতাবিক যথাযথভাবে হুকুম পালন করে বা দান করে এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবে প্রাপককে পূর্ণমাত্রায় দান করে, সেও জনৈক দাতা হিসেবে গণ্য, অর্থাৎ সেও মূল মালিকের সমপরিমাণ সাওয়াব লাভ করবে। (ই.ফা. ২২৩২, ই.সে.২২৩৩)


সহিহ মুসলিম ২২৫৪

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ رَافِعٍ - قَالاَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، عَنْ سِمَاكٍ، قَالَ سَأَلْتُ جَابِرَ بْنَ سَمُرَةَ عَنْ صَلاَةِ النَّبِيِّ، صلى الله عليه وسلم فَقَالَ كَانَ يُخَفِّفُ الصَّلاَةَ وَلاَ يُصَلِّي صَلاَةَ هَؤُلاَءِ ‏.‏ قَالَ وَأَنْبَأَنِي أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقْرَأُ فِي الْفَجْرِ بـ ‏{‏ ق وَالْقُرْآنِ‏}‏ وَنَحْوِهَا ‏.‏

’আয়িশাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যখন কোন স্ত্রীলোক ক্ষতির মনোভাব না নিয়ে স্বামীর ঘরের খাদ্যদ্রব্য দান করে, সে তার দানের সাওয়াব পাবে এবং তার স্বামীও তার উপার্জনের সাওয়াব পাবে। অনুরূপভাবে এ সম্পদের রক্ষণাবেক্ষণকারীও মালিকের সমপরিমাণ সাওয়াব পাবে। এতে একজনের দ্বারা অপরজনের প্রাপ্য সাওয়াব মোটেও কমবে না। (ই.ফা. ২২৩৩, ই.সে.২২৩৪)


সহিহ মুসলিম ২২৫৫

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ رَافِعٍ - قَالاَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، عَنْ سِمَاكٍ، قَالَ سَأَلْتُ جَابِرَ بْنَ سَمُرَةَ عَنْ صَلاَةِ النَّبِيِّ، صلى الله عليه وسلم فَقَالَ كَانَ يُخَفِّفُ الصَّلاَةَ وَلاَ يُصَلِّي صَلاَةَ هَؤُلاَءِ ‏.‏ قَالَ وَأَنْبَأَنِي أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقْرَأُ فِي الْفَجْرِ بـ ‏{‏ ق وَالْقُرْآنِ‏}‏ وَنَحْوِهَا ‏.‏

মানসূর (রহঃ)-এর সূত্র থেকে বর্নিতঃ

উপরের হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে এ সূত্রে “তার ঘরে খাদ্যশস্যের” পরিবর্তে তার “স্বামীর খাদ্যশস্যের” কথা উল্লেখ আছে। (ই.ফা. ২২৩৪, ই.সে.২২৩৫)


সহিহ মুসলিম ২২৫৬

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ رَافِعٍ - قَالاَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، عَنْ سِمَاكٍ، قَالَ سَأَلْتُ جَابِرَ بْنَ سَمُرَةَ عَنْ صَلاَةِ النَّبِيِّ، صلى الله عليه وسلم فَقَالَ كَانَ يُخَفِّفُ الصَّلاَةَ وَلاَ يُصَلِّي صَلاَةَ هَؤُلاَءِ ‏.‏ قَالَ وَأَنْبَأَنِي أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقْرَأُ فِي الْفَجْرِ بـ ‏{‏ ق وَالْقُرْآنِ‏}‏ وَنَحْوِهَا ‏.‏

‘আয়িশাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ কোনরূপ ক্ষতির মনোভাব ছাড়া স্ত্রী যখন তার স্বামীর ঘর থেকে খরচ করে, স্বামী স্ত্রী উভয়েই এর সমান সাওয়াব লাভ করে। স্বামী সাওয়াব পায় তার উপার্জনের জন্য এবং স্ত্রী সাওয়াব পায় তার দানের জন্য। অনুরূপভাবে কোষাধ্যক্ষও সাওয়াব পাবে। তবে এদের সাওয়াব লাভের কারণে পরস্পরের সাওয়াবের কোন কমতি হবে না। (ই.ফা. ২২৩৫, ই.সে. ২২৩৬)


সহিহ মুসলিম ২২৫৭

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، - وَاللَّفْظُ لاِبْنِ رَافِعٍ - قَالاَ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ آدَمَ، حَدَّثَنَا زُهَيْرٌ، عَنْ سِمَاكٍ، قَالَ سَأَلْتُ جَابِرَ بْنَ سَمُرَةَ عَنْ صَلاَةِ النَّبِيِّ، صلى الله عليه وسلم فَقَالَ كَانَ يُخَفِّفُ الصَّلاَةَ وَلاَ يُصَلِّي صَلاَةَ هَؤُلاَءِ ‏.‏ قَالَ وَأَنْبَأَنِي أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَقْرَأُ فِي الْفَجْرِ بـ ‏{‏ ق وَالْقُرْآنِ‏}‏ وَنَحْوِهَا ‏.‏

আ’মাশ (রহঃ)-এর সূত্র থেকে বর্নিতঃ

উপরের হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। (ই.ফা. ২২৩৬, ই.সে.২২৩৭)


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية