সহিহ মুসলিম > ফজরের সলাত প্রত্যুষে প্রথম ওয়াক্তে আদায় করা মুস্তাহাব যে সময়কে ‘তাগলীস্’ বলা হয় এবং তাতে কিরাআতের পরিমাণ
সহিহ মুসলিম ১৩৪৩
وَحَدَّثَنِي سَلَمَةُ بْنُ شَبِيبٍ، قَالَ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَعْيَنَ، حَدَّثَنَا مَعْقِلٌ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِذَا اسْتَيْقَظَ أَحَدُكُمْ فَلْيُفْرِغْ عَلَى يَدِهِ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ قَبْلَ أَنْ يُدْخِلَ يَدَهُ فِي إِنَائِهِ فَإِنَّهُ لاَ يَدْرِي فِيمَ بَاتَتْ يَدُهُ "
‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, মুমিন মহিলারা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সাথে ফজরের সলাত আদায় করতেন এবং তা সর্বাঙ্গে কাপড় জড়িয়ে ঘরে ফিরতেন। (তখনও এরূপ অন্ধকার থাকত যে,) তাদেরকে কেউ চিনতে পারত না। (ই.ফা.১৩৩০, ই.সে.১৩৪২)
সহিহ মুসলিম ১৩৪৪
وَحَدَّثَنِي سَلَمَةُ بْنُ شَبِيبٍ، قَالَ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَعْيَنَ، حَدَّثَنَا مَعْقِلٌ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِذَا اسْتَيْقَظَ أَحَدُكُمْ فَلْيُفْرِغْ عَلَى يَدِهِ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ قَبْلَ أَنْ يُدْخِلَ يَدَهُ فِي إِنَائِهِ فَإِنَّهُ لاَ يَدْرِي فِيمَ بَاتَتْ يَدُهُ "
নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, ঈমানদার স্ত্রী লোকেরা সর্বাঙ্গে চাদর জড়িয়ে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর সাথে ফজরের সলাত আদায় করত। কিন্তু যেহেতু রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অন্ধকার থাকতেই ফজরের সলাত আদায় করতেন তাই সলাত শেষে যখন তারা ঘরে ফিরত তখনও তাদেরকে চেনা যেত না। (ই.ফা.১৩৩১, ই.সে.১৩৪৩)
সহিহ মুসলিম ১৩৪৫
وَحَدَّثَنِي سَلَمَةُ بْنُ شَبِيبٍ، قَالَ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَعْيَنَ، حَدَّثَنَا مَعْقِلٌ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ إِذَا اسْتَيْقَظَ أَحَدُكُمْ فَلْيُفْرِغْ عَلَى يَدِهِ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ قَبْلَ أَنْ يُدْخِلَ يَدَهُ فِي إِنَائِهِ فَإِنَّهُ لاَ يَدْرِي فِيمَ بَاتَتْ يَدُهُ "
’আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমন সময় ফজরের সলাত আাদয় করতেন যে, সলাত শেষে মেয়েরা শরীরে চাদর জড়িয়ে ঘরে ফিরত। কিন্তু তখনও এরূপ অন্ধকার থাকত যে, তাদের কাউকে চেনা যেত না। আনসারী তার বর্ণিত হাদীসে (আরবী) শব্দের স্থানে (আরবী) উল্লেখ করেছেন। (ই.ফা.১৩৩২,ই.সে.১৩৪৪)
সহিহ মুসলিম ১৩৪৬
وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا الْمُغِيرَةُ، - يَعْنِي الْحِزَامِيَّ - عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، ح وَحَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، ح وَحَدَّثَنِي أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، - يَعْنِي ابْنَ مَخْلَدٍ - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ، عَنِ الْعَلاَءِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، ح وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ، ح وَحَدَّثَنَا الْحُلْوَانِيُّ، وَابْنُ، رَافِعٍ قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالاَ جَمِيعًا أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي زِيَادٌ، أَنَّ ثَابِتًا، مَوْلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زَيْدٍ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، فِي رِوَايَتِهِمْ جَمِيعًا عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِهَذَا الْحَدِيثِ كُلُّهُمْ يَقُولُ حَتَّى يَغْسِلَهَا . وَلَمْ يَقُلْ وَاحِدٌ مِنْهُمْ ثَلاَثًا . إِلاَّ مَا قَدَّمْنَا مِنْ رِوَايَةِ جَابِرٍ وَابْنِ الْمُسَيَّبِ وَأَبِي سَلَمَةَ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ وَأَبِي صَالِحٍ وَأَبِي رَزِينٍ فَإِنَّ فِي حَدِيثِهِمْ ذِكْرَ الثَّلاَثِ .
মুহাম্মদ ইবনু ‘আমর ইবনু হাসান ইবনু ‘আলী (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, হাজ্জাজ মাদীনাতে আসলে আমরা জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহকে সলাতের সময় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যুহরের সলাত বেলা গড়িয়ে যাওয়ার পর প্রচন্ড গরম থাকতে, ‘আসরের সলাত সূর্যের আলো উজ্জ্বল থাকতে, মাগরিবের সলাত সূর্য অস্তমিত হতে এবং ইশার সলাত কখনো দেরী করে এবং কখনো আগে ভাগেই আদায় করতেন। কিন্তু লোকজনের আসতে দেরী দেখলে তিনিও দেরী করে আদায় করতেন। আর ফাজরের সলাত বেশ অন্ধকার থাকতেই আদায় করতেন। (ই.ফা.১৩৩৩, ই.সে.১৩৪৫)
সহিহ মুসলিম ১৩৪৭
وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا الْمُغِيرَةُ، - يَعْنِي الْحِزَامِيَّ - عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، ح وَحَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، ح وَحَدَّثَنِي أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، - يَعْنِي ابْنَ مَخْلَدٍ - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ، عَنِ الْعَلاَءِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، ح وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ، ح وَحَدَّثَنَا الْحُلْوَانِيُّ، وَابْنُ، رَافِعٍ قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالاَ جَمِيعًا أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي زِيَادٌ، أَنَّ ثَابِتًا، مَوْلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زَيْدٍ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، فِي رِوَايَتِهِمْ جَمِيعًا عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِهَذَا الْحَدِيثِ كُلُّهُمْ يَقُولُ حَتَّى يَغْسِلَهَا . وَلَمْ يَقُلْ وَاحِدٌ مِنْهُمْ ثَلاَثًا . إِلاَّ مَا قَدَّمْنَا مِنْ رِوَايَةِ جَابِرٍ وَابْنِ الْمُسَيَّبِ وَأَبِي سَلَمَةَ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ وَأَبِي صَالِحٍ وَأَبِي رَزِينٍ فَإِنَّ فِي حَدِيثِهِمْ ذِكْرَ الثَّلاَثِ .
মুহাম্মদ ইবনু ‘আমর ইবনুল হাসান ইবনু ‘আলী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, হাজ্জাজ (ইবনু ইউসুফ) সলাত দেরী করে আদায় করতেন। তাই আমরা জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলাম। (ই.ফা.১৩৩৪, ই.সে.১৩৪৬)
সহিহ মুসলিম ১৩৪৮
وَحَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ السَّعْدِيُّ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، أَخْبَرَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي رَزِينٍ، وَأَبِي، صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا وَلَغَ الْكَلْبُ فِي إِنَاءِ أَحَدِكُمْ فَلْيُرِقْهُ ثُمَّ لْيَغْسِلْهُ سَبْعَ مِرَارٍ "
সাইয়্যার ইবনু সালামাহ্ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমি শুনেছি আমার পিতা সালামাহ্ আবূ বারযাহ্-কে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি নিজে কি জিজ্ঞেস করতে শুনেছ? এ কথা শুনে সাইয়্যার বললেনঃ হ্যাঁ। আমার মনে হচ্ছে যেন আমি এখনই জিজ্ঞেস করতে শুনছি। সাইয়্যার ইবনু সালামাহ্ বললেনঃ আমি শুনলাম আমার পিতা তাকে (আবূ বারযাহ্) রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সলাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। জবাবে আবূ বারযাহ্ বললেন- ‘ইশার সলাত আদায় করতে রাত দ্বি-প্রহর পর্যন্ত দেরী করতে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মোটেই দ্বিধা করতেন না। তবে ইশার সলাত আদায় না করে ঘুমানো এবং ইশার সলাতের পরে কথাবার্তা বলা তিনি পছন্দ করতেন না। শু’বাহ্ বলেন, পরে এক সময়ে আবার আমি সাইয়্যার ইবনু সালামাহ্ এর সাথে সাক্ষাৎ করে তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, সূর্য মাথার উপর থেকে পশ্চিমে ঢলে পড়লেই যুহরের সলাত আদায় করতেন। আর আসরের সলাত এমন সময় আদায় করতেন যে, সলাত শেষ করে মাদীনার শহরতলীর দূরবর্তীস্থানে গিয়ে পৌছার পরও সূর্যের তেজ থাকত। এরপর সাইয়্যার ইবনু সালামাহ্ বললেনঃ মাগরিবের সলাত কোন সময় তিনি আদায় করার কথা তিনি বলে ছিলেন তা আমি মনে করতে পারছি না। সালামাহ্ বলেছেনঃ পরে আবার এক সময় আবূ বারযার সাথে সাক্ষাৎ করে আমি তাকে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সলাতের কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, তিনি ফাজরের সলাত এমন সময় আদায় করতেন যে, সলাত শেষে লোকজন তার পাশের পরিচিত লোকের দিকে তাকিয়ে তাকে চিনতে পারত না। আবূ বারযাহ্ আরো বলেছেন, ফাজরের সলাতে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ষাট থেকে একশ’ পর্যন্ত আয়াত তিলাওয়াত করতেন। (ই.ফা.১৩৩৫, ই.সে.১৩৪৭)
সহিহ মুসলিম ১৩৪৯
وَحَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ السَّعْدِيُّ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، أَخْبَرَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي رَزِينٍ، وَأَبِي، صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا وَلَغَ الْكَلْبُ فِي إِنَاءِ أَحَدِكُمْ فَلْيُرِقْهُ ثُمَّ لْيَغْسِلْهُ سَبْعَ مِرَارٍ "
আবূ বারযাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইশার সলাত দেরী করে মধ্যরাতে আদায় করতে কোন দ্বিধা বা ভ্রূক্ষেপ করতেন না। হাদীসের বর্ণনাকারী শু’বাহ্ বলেছেন, পরবর্তী সময়ে আমি আবার আবূ বারযার সাথে সাক্ষাৎ করলে তিনি আগের কথার সাথে এ কথাটুকু যোগ করে বলেলনঃ অথবা রাতের এক তৃ্তীয়াংশ পর্যন্ত দেরী করে ‘ইশার সলাত আদায় করতে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভ্রূক্ষেপ করতেন না। (ই.ফা.১৩৩৬, ই.সে.১৩৪৮)
সহিহ মুসলিম ১৩৫০
وَحَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ السَّعْدِيُّ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، أَخْبَرَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي رَزِينٍ، وَأَبِي، صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا وَلَغَ الْكَلْبُ فِي إِنَاءِ أَحَدِكُمْ فَلْيُرِقْهُ ثُمَّ لْيَغْسِلْهُ سَبْعَ مِرَارٍ "
আবূ বারযাহ্ আল আসলামী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইশার সলাত রাতের এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত দেরী করে আদায় করতেন। তিনি ইশার সলাতের পূর্বে ঘুমানো এবং কথাবার্তা বলা অপছন্দ করতেন। আর ফাজরের সলাতে ষাট থেকে একশ’ আয়াত পর্যন্ত তিলাওয়াত করতেন এবং এমন সময় সলাত শেষ করতেন যখন আমরা পরস্পরকে মুখ দেখে চিনতে পারতাম না। (ই.ফা.১৩৩৭, ই.সে.১৩৪৯)
সহিহ মুসলিম > নির্ধারিত সময় থেকে বিলম্বে সলাত আদায় করা মাকরূহ আর ইমাম বিলম্ব করলে মুক্তাদী কি করবে?
সহিহ মুসলিম ১৩৫১
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ زَكَرِيَّاءَ، عَنِ الأَعْمَشِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ مِثْلَهُ وَلَمْ يَقُلْ فَلْيُرِقْهُ .
আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেনঃ তুমি যদি এমন ইমামের অধীনস্থ হয়ে পড় যে উত্তম সময়ে সলাত আদায় না করে দেরী করে আদায় করবে তাহলে কী করবে? আবূ যার বলেন - এ কথা শুনে আমি জিজ্ঞেস করলাম (হে আল্লাহর রসূল!) , এরূপ অবস্থায় পতিত হলে আপনি আমাকে কী করতে আদেশ করছেন? রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তুমি উত্তম সময়ে সলাত আদায় করে নিবে। তারপরে যদি তাদের সাথে অর্থাৎ- ইমামের সাথে জামাআতে সলাত পাও তাহলে তাদের সাথেও আদায় করবে। এটা তোমার জন্য নাফল হিসেবে গণ্য হবে। তবে বর্ণনাকারী খালাফ তার বর্ণনায় (আরবী) কথাটা উল্লেখ করেননি। (ই.ফা.১৩৩৮, ই.সে.১৩৫০)
সহিহ মুসলিম ১৩৫২
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ زَكَرِيَّاءَ، عَنِ الأَعْمَشِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ مِثْلَهُ وَلَمْ يَقُلْ فَلْيُرِقْهُ .
আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমাকে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃহে আবূ যার! আমার পরে অচিরেই এমন আমীর বা শাসকদের আবির্ভাব ঘটবে যারা একেবারে শেষ ওয়াক্তে সলাত আদায় করবে। এরূপ হলে তুমি কিন্তু সময় মতো (সলাতের উত্তম সময়ে) সলাত আদায় করে নিবে। পরে যদি তুমি তাদের সাথে সলাত আদায় করো তাহলে তা তোমার জন্য নাফল হিসেবে গণ্য হবে। আর যদি তা না হয় তাহলে তুমি অন্তত তোমার সলাত রক্ষা করতে সক্ষম হলে। (ই.ফা.১৩৩৯, ই.সে.১৩৫১)
সহিহ মুসলিম ১৩৫৩
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ زَكَرِيَّاءَ، عَنِ الأَعْمَشِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ مِثْلَهُ وَلَمْ يَقُلْ فَلْيُرِقْهُ .
আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আমার বন্ধু রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে আমীরের বা নেতার আদেশ শুনতে ও মানতে আদেশ করেছেন যদিও সে একজন হাত-পা কাটা ক্রীতদাস হয়। আর আমি যেন সময় মতো (প্রথম ওয়াক্তে) সলাত আদায় করি। এরপরে তুমি দেখ যে, লোকজন (জামা‘আতে) সলাত আদায় করে নিয়েছে তাহলে তুমি তো আগেই তোমার সলাত হিফাযাত করেছ। অন্যথায় (অর্থাৎ- তাদের সাথে জামা‘আতের সলাত পেলে) তা তোমার জন্য নাফল হিসেবে গণ্য হবে। (ই.ফা.১৩৪০, ই.সে.১৩৫২)
সহিহ মুসলিম ১৩৫৪
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ زَكَرِيَّاءَ، عَنِ الأَعْمَشِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ مِثْلَهُ وَلَمْ يَقُلْ فَلْيُرِقْهُ .
আবূ যার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমার উরুর উপর সজোরে হাত মেরে বললেনঃ যারা সময় মতো সলাত আদায় না করে দেরী করে আদায় করে, তোমাকে যদি এমন লোকদের মাঝে থাকতে হয় তাহলে কী করবে? বর্ণনাকারী ‘আবদুল্লাহ ইবনুস সাবিত বলেন - আবূ যার জিজ্ঞেস করলেন, তাহলে আপনি আমাকে কী আদেশ করছেন? রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তুমি সময় মতো (প্রথম ওয়াক্তে) সলাত আদায় করে নাও এবং নিজের কাজে চলে যাও। তারপর যখন সলাত আদায় করা হবে তখন যদি তুমি মসজিদে উপস্থিত থাক তাহলে (তাদের সাথে জামা‘আতে) সলাত আদায় করে নাও। (ই.ফা.১৩৪১, ই.সে.১৩৫৩)
সহিহ মুসলিম ১৩৫৫
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ زَكَرِيَّاءَ، عَنِ الأَعْمَشِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ مِثْلَهُ وَلَمْ يَقُلْ فَلْيُرِقْهُ .
আবুল ‘আলিয়াহ্ আল বাররা (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, (একদিন) ‘আবদুল্লাহ ইবনু যিয়াদ সলাত আদায় করতে দেরী করল। এরপরেই ‘আবদুল্লাহ ইবনুস্ সামিত আমার কাছে আসলেন। আমি তাকে একখানা চেয়ার পেতে দিলে তিনি বসলেন। তখন আমি তার কাছে আবদুল্লাহ ইবনু যিয়াদ - এর কৃতকর্মের কথা উল্লেখ করলাম। তখন তিনি ঠোঁট কামড়িয়ে সজোরে আমার উরুর উপর হাত মেরে বললেন - আমিও এ ব্যাপারে আবূ যারকে জিজ্ঞেস করে ছিলাম, তুমি যেমন আমাকে জিজ্ঞেস করলে। আর আমি যেভাবে তোমার উরুর উপরে সজোরে হাত মারলাম তেমনি তিনিও আমার উরুর উপর হাত মেরে বললেন, তুমি যেমন আমাকে জিজ্ঞেস করলে ঠিক তেমনি আমিও রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করেছিলাম। আর আমি যেমন তোমার উরুর উপর সজোরে আঘাত করলাম ঠিক তেমনি তিনিও আমার উরুর উপর হাত মেরে বললেনঃ তুমি সময় মতো (প্রথম ওয়াক্তে) সলাত আদায় করে নিবে। তবে সবার সাথে জামা‘আতে যদি সলাত আদায় করার সুযোগ হয় তাহলে তাদের সাথেও সলাত আদায় করে নিবে - এক্ষেত্রে বলবে না যে, আমি সলাত আদায় করে নিয়েছি তাই এখন আমি সলাত আদায় করব না। (ই.ফা.১৩৪২, ই.সে.১৩৫৪)
সহিহ মুসলিম ১৩৫৬
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ زَكَرِيَّاءَ، عَنِ الأَعْمَشِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ مِثْلَهُ وَلَمْ يَقُلْ فَلْيُرِقْهُ .
‘আবদুল্লাহ ইবনুস সামিত (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, আবূ যার তাকে বললেন - তোমরা অথবা বললেন (বর্ণনাকারীর সন্দেহ) তুমি যদি এমন লোকদের মধ্যে অবস্থান করো যারা সময় মতো সলাত আদায় না করে দেরী করে পড়ে তাহলে কী করবে? এরপর আবার নিজেই বললেন, তুমি সময়মত (প্রথম ওয়াক্তে) সলাত আদায় করে নিবে। তারপর জামা‘আতে সলাত হলে তাদের সাথেও সলাত আদায় করে নিবে। কারণ এটি তোমার জন্য বাড়তি সওয়াবের কাজ হিসেবে গণ্য হবে। (ই.ফা.১৩৪৩, ই.সে.১৩৫৫)
সহিহ মুসলিম ১৩৫৭
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الصَّبَّاحِ، حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ زَكَرِيَّاءَ، عَنِ الأَعْمَشِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ مِثْلَهُ وَلَمْ يَقُلْ فَلْيُرِقْهُ .
আবুল ‘আলিয়াহ্ আল বাররা (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ
তিনি বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনুস সামিতকে বললাম, আমি এমন সব আমীর বা নেতার পিছনে জুমু‘আর সলাত আদায় করি যারা দেরী করে সলাত আদায় করে থাকে। মাত্বার বলেনঃ এ কথা শুনে আবুল ‘আলিয়াহ্ আল বাররা আমার উরুর উপরে সজোরে এমনভাবে হাত দিয়ে চাপড়ালেন যে, আমি ব্যথাই পেলাম। এবার তিনি বললেন- এ বিষয়ে আমি আবূ যারকে জিজ্ঞেস করেছিলাম। তিনিও আমার উরুর উপরে সজোরে হাত দিয়ে চাপড়িয়ে বললেন - আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ এমতাবস্থায় তোমরা সময়মত (প্রথম ওয়াক্তে) সলাত আদায় করে নিবে। আর তাদের সাথে জামা‘আতের সলাতকে নাফল হিসেবে আদায় করবে। আবুল ‘আলিয়াহ্ আল বাররা আরো বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনুস্ সামিত বলেছেন, আমি জানতে পেরেছি যে, (এ কথা বলার সময়) আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ও আবূ যার - এর উরুর উপর সজোরে চাপড় দিয়েছিলেন। (ই.ফা.১৩৪৪, ই.সে.১৩৫৬)