‘ইশার সময় ও তাতে বিলম্ব করা - সহিহ মুসলিম | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

সহিহ মুসলিম > ‘ইশার সময় ও তাতে বিলম্ব করা

সহিহ মুসলিম ১৩২৯

وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا الثَّوْرِيُّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ قَيْسٍ الْمُلاَئِيِّ، عَنِ الْحَكَمِ بْنِ عُتَيْبَةَ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُخَيْمِرَةَ، عَنْ شُرَيْحِ بْنِ هَانِئٍ، قَالَ أَتَيْتُ عَائِشَةَ أَسْأَلُهَا عَنِ الْمَسْحِ، عَلَى الْخُفَّيْنِ فَقَالَتْ عَلَيْكَ بِابْنِ أَبِي طَالِبٍ فَسَلْهُ فَإِنَّهُ كَانَ يُسَافِرُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ فَسَأَلْنَاهُ فَقَالَ جَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ وَلَيَالِيَهُنَّ لِلْمُسَافِرِ وَيَوْمًا وَلَيْلَةً لِلْمُقِيمِ ‏.‏ قَالَ وَكَانَ سُفْيَانُ إِذَا ذَكَرَ عَمْرًا أَثْنَى عَلَيْهِ ‏.‏

নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এ র স্ত্রী আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, একরাতে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইশার সলাত- যাকে ‘আতামাহ্ বলা হত - আদায় করতে অনেক দেরী করলেন। অনেক রাত পর্যন্ত রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আসলেন না। এমন কি শেষ পর্যন্ত উমার ইবনুল খাত্তাব যেয়ে বললেন, মেয়ে ও শিশুরা ঘুমিয়ে পড়েছে। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আসলেন এবং এসে মসজিদের লোকদেরকে বললেনঃ এ সলাতের জন্য (এত রাতে) তোমরা ছাড়া এ পৃথিবীবাসীদের আর কেউ-ই অপেক্ষা করছে না। এ ঘটনাটি ছিল মানুষের মধ্যে ইসলাম বিস্তার লাভ করার পূর্বের। হারমালাহ্ তার বর্ণনায় এতটুকু উল্লেখ করেছেন যে, ইবনু শিহাব বলেছেনঃ আমার কাছে বলা হয়েছে যে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এসে বললেনঃ তোমাদের জন্য এটা ঠিক নয় যে, তোমরা আল্লাহর রসূলকে সলাতের জন্য তাকিদ করবে। ‘উমার ইবনুল খাত্তাব যখন উচ্চৈ স্বরে ডাকলেন তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এ কথাটা বললেন। (ই.ফা.১৩১৬, ই.সে.১৩২৮)


সহিহ মুসলিম ১৩৩০

وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا الثَّوْرِيُّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ قَيْسٍ الْمُلاَئِيِّ، عَنِ الْحَكَمِ بْنِ عُتَيْبَةَ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُخَيْمِرَةَ، عَنْ شُرَيْحِ بْنِ هَانِئٍ، قَالَ أَتَيْتُ عَائِشَةَ أَسْأَلُهَا عَنِ الْمَسْحِ، عَلَى الْخُفَّيْنِ فَقَالَتْ عَلَيْكَ بِابْنِ أَبِي طَالِبٍ فَسَلْهُ فَإِنَّهُ كَانَ يُسَافِرُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ فَسَأَلْنَاهُ فَقَالَ جَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ وَلَيَالِيَهُنَّ لِلْمُسَافِرِ وَيَوْمًا وَلَيْلَةً لِلْمُقِيمِ ‏.‏ قَالَ وَكَانَ سُفْيَانُ إِذَا ذَكَرَ عَمْرًا أَثْنَى عَلَيْهِ ‏.‏

ইবনু শিহাব (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

উক্ত সানাদে অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। তবে এ সানাদে বর্ণিত হাদীসে তিনি যুহরীর কথা (আরবী) থেকে শুরু করে পরবর্তী অংশটুকু উল্লেখ করেননি। (ই.ফা.১৩১৭, ই.সে.১৩২৯)


সহিহ মুসলিম ১৩৩১

وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا الثَّوْرِيُّ، عَنْ عَمْرِو بْنِ قَيْسٍ الْمُلاَئِيِّ، عَنِ الْحَكَمِ بْنِ عُتَيْبَةَ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُخَيْمِرَةَ، عَنْ شُرَيْحِ بْنِ هَانِئٍ، قَالَ أَتَيْتُ عَائِشَةَ أَسْأَلُهَا عَنِ الْمَسْحِ، عَلَى الْخُفَّيْنِ فَقَالَتْ عَلَيْكَ بِابْنِ أَبِي طَالِبٍ فَسَلْهُ فَإِنَّهُ كَانَ يُسَافِرُ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ فَسَأَلْنَاهُ فَقَالَ جَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ثَلاَثَةَ أَيَّامٍ وَلَيَالِيَهُنَّ لِلْمُسَافِرِ وَيَوْمًا وَلَيْلَةً لِلْمُقِيمِ ‏.‏ قَالَ وَكَانَ سُفْيَانُ إِذَا ذَكَرَ عَمْرًا أَثْنَى عَلَيْهِ ‏.‏

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, এক দিন নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইশার সলাত আদায় করতে অনেক রাত করলেন। এমনকি রাতের বড় একটা অংশ অতিবাহিত হয়ে গেল এবং মসজিদের লোকজনও ঘুমিয়ে পড়ল। এরপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আসলেন এবং সলাত আদায় করে বললেনঃ এটাই ইশার সলাতের উত্তম সময়। তারপর তিনি বললেনঃ যদি আমি আমার উম্মাতের জন্য কষ্টকর মনে না করতাম (তাহলে এ সময়কে ‘ইশার সলাতের সময় হিসেবে নির্দিষ্ট করতাম)। ‘আবদুর রাযযাক্ব বর্ণিত হাদীসে কিছুটা বর্ণনার তারতম্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ যদি আমার উম্মাতের জন্য কষ্টদায়ক হয়ে না দাঁড়াত। (ই.ফা.১৩১৮, ই.ফা.১৩৩০)


সহিহ মুসলিম ১৩৩২

وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، أَخْبَرَنَا زَكَرِيَّاءُ بْنُ عَدِيٍّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَبِي أُنَيْسَةَ، عَنِ الْحَكَمِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ مِثْلَهُ ‏.‏

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, একদিন রাতে ইশার সলাতে আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করলাম। রাতের একতৃতীয়াংশ অথবা তারও বেশী সময় অতিবাহিত হওয়ার পর তিনি আমাদের কাছে আসলেন। আমরা জানি না তিনি পারিবারিক কোন কাজে ব্যস্ত ছিলেন, না অন্য কোন কাজে ব্যস্ত ছিলেন। তিনি এসে আমাদেরকে বললেনঃ তোমরা এমন এক সলাতের জন্য অপেক্ষা করছ যার জন্য তোমরা ছাড়া অন্য কোন দ্বীনের লোকেরা অপেক্ষা করছেনা। (তারপর তিনি বললেন) আমার উম্মাতের জন্য যদি ভাল না হত তাহলে আমি তাদের সাথে প্রতিদিন এসময়েই (ইশার) সলাত আদায় করতাম। এরপর তিনি মুয়াযযিনকে আযান দিতে আদেশ করলেন। এরপর মুয়াযযিন ইক্বামত দিলে তিনি সলাত আদায় করলেন। (ই.ফা.১৩১৯, ই.সে.১৩৩১)


সহিহ মুসলিম ১৩৩৩

وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ، أَخْبَرَنَا زَكَرِيَّاءُ بْنُ عَدِيٍّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، عَنْ زَيْدِ بْنِ أَبِي أُنَيْسَةَ، عَنِ الْحَكَمِ، بِهَذَا الإِسْنَادِ مِثْلَهُ ‏.‏

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, এক রাতে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কোন কাজে ব্যস্ত হয়ে যাওয়ার কারণে ইশার সলাত আদায় করতে খুব দেরী করে ফেললেন। এমনকি আমরা সবাই মসজিদেই ঘুমিয়ে পড়লাম। তারপর জেগে উঠে আবার ঘুমিয়ে পড়লাম। এরপর আবার জেগে উঠলাম। তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাদের কাছে এসে বললেনঃ আজকের এ রাতে তোমরা ছাড়া পৃথিবীর আর কেউ-ই সলাতের জন্য অপেক্ষা করছে না। (ই.ফা.১৩২০, ই.সে.১৩৩২)


সহিহ মুসলিম ১৩৩৪

وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُخَيْمِرَةَ، عَنْ شُرَيْحِ بْنِ هَانِئٍ، قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ عَنِ الْمَسْحِ، عَلَى الْخُفَّيْنِ فَقَالَتِ ائْتِ عَلِيًّا فَإِنَّهُ أَعْلَمُ بِذَلِكَ مِنِّي فَأَتَيْتُ عَلِيًّا فَذَكَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِهِ ‏.‏

সাবিত (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, লোকেরা আনাসকে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর আংটি (বা সিল-মোহর) সম্পর্কে জানার জন্য জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেনঃ এক রাতে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইশার সলাত আদায় করতে দেরী করলেন। এত দেরী করলেন যে, রাতের অর্ধেক অতিবাহিত হয়ে গেল অথবা প্রায় অর্ধেক অতিবাহিত হওয়ার উপক্রম হল। তখন তিনি আসলেন এবং বললেনঃ অনেক লোক সলাত আদায় করে ঘুমিয়ে পড়েছে। (কিন্তু তোমরা সলাতের জন্য অপেক্ষা করছ) যে সময় থেকে তোমরা সলাতের জন্য অপেক্ষা করছ সে সময় থেকে তোমরা সলাতরত আছ। আনাস বলেছেন, আমি যেন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর রৌপ্য নির্মিত আংটির চাকচিক্য বা উজ্জ্বলতা এখনও দেখতে পাচ্ছি। এ কথা বলে আনাস তার বাঁ হাতের কনিষ্ঠ অঙ্গুলি উঠিয়ে ইশারা করলেন (অর্থাৎ- এর দ্বারা তিনি বুঝালেন যে, আংটিটি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর ঐ আঙ্গুলেই পরিহিত ছিল)। (ই.ফা.১৩২১, ই.সে.১৩৩৩)


সহিহ মুসলিম ১৩৩৫

وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُخَيْمِرَةَ، عَنْ شُرَيْحِ بْنِ هَانِئٍ، قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ عَنِ الْمَسْحِ، عَلَى الْخُفَّيْنِ فَقَالَتِ ائْتِ عَلِيًّا فَإِنَّهُ أَعْلَمُ بِذَلِكَ مِنِّي فَأَتَيْتُ عَلِيًّا فَذَكَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِهِ ‏.‏

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, এক রাতে (ইশার সলাত আদায় করতে) আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করলাম। এভাবে রাত প্রায় অর্ধেক হয়ে আসল। এরপর তিনি এসে সলাত আদায় করলেন এবং সলাত শেষে আমাদের দিকে ঘুরে বসলেন। আমি যেন এ মূহুর্তেও হাতের আঙ্গুলে পরিহিত আংটির উজ্জ্বলতা দেখতে পাচ্ছি। (ই.ফা.১৩২২, ই.সে.১৩৩৪)


সহিহ মুসলিম ১৩৩৬

وَحَدَّثَنِي زُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنِ الْحَكَمِ، عَنِ الْقَاسِمِ بْنِ مُخَيْمِرَةَ، عَنْ شُرَيْحِ بْنِ هَانِئٍ، قَالَ سَأَلْتُ عَائِشَةَ عَنِ الْمَسْحِ، عَلَى الْخُفَّيْنِ فَقَالَتِ ائْتِ عَلِيًّا فَإِنَّهُ أَعْلَمُ بِذَلِكَ مِنِّي فَأَتَيْتُ عَلِيًّا فَذَكَرَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِهِ ‏.‏

কুররাহ্ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

উক্ত সানাদে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।তবে তাঁর বর্ণনাতে ‘পরে তিনি আমাদের দিকে ঘুরালেন’ কথাটি উল্লেখ করেননি। (ই.ফা.১৩২৩, ই.সে.১৩৩৫)


সহিহ মুসলিম ১৩৩৭

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ نُمَيْرٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَلْقَمَةَ بْنِ مَرْثَدٍ، ح وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، - وَاللَّفْظُ لَهُ - حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ سُفْيَانَ، قَالَ حَدَّثَنِي عَلْقَمَةُ بْنُ مَرْثَدٍ، عَنْ سُلَيْمَانَ بْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى الصَّلَوَاتِ يَوْمَ الْفَتْحِ بِوُضُوءٍ وَاحِدٍ وَمَسَحَ عَلَى خُفَّيْهِ فَقَالَ لَهُ عُمَرُ لَقَدْ صَنَعْتَ الْيَوْمَ شَيْئًا لَمْ تَكُنْ تَصْنَعُهُ ‏.‏ قَالَ ‏ ‏ عَمْدًا صَنَعْتُهُ يَا عُمَرُ ‏" ‏ ‏‏

আবূ মূসা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি এবং আমার সাথে যে সব সঙ্গী-সাথী ও বন্ধু-বান্ধব জাহাজে চড়ে এসেছিল সবাই বাক্বী নামক একটি কঙ্করময় স্থানে অবস্থানরত ছিলাম। আর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মাদীনাতে অবস্থান করছিলেন। প্রতি দিন রাতে ‘ইশার সলাতের সময় পালা করে তাদের (আমার সাথে জাহাজে আগত বন্ধু-বান্ধব) একদল রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর কাছে (তাঁর সাথে ইশার সলাত আদায় করার জন্য) যেত। আবূ মূসা বলেন, একদিন (পালাক্রমে) আমি ও আমার সঙ্গী-সাথীরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর কাছে গেলাম। তিনি সেদিন কোন কাজে ব্যস্ত ছিলেন। তাই ‘ইশার সলাতের জন্য আসতে দেরী করলেন। সলাত শেষ হলে উপস্থিত সবাইকে লক্ষ্য করে তিনি বললেন, কিছুক্ষণ অপেক্ষা কর। আমি তোমাদেরকে কিছু অবহিত করছি। তোমরা সু-সংবাদ গ্রহণ কর। কারণ এটা তোমাদের প্রতি আল্লাহর নি’আমাত যে, এ মূহুর্তে তোমরা ছাড়া অন্য কোন মানুষই সলাত আদায় করছে না। অথবা (আবূ মূসা বলেন,) এ দু’টি কথার মধ্যে কোন কথাটি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছিলেন তা আমার মনে নেই। আবূ মূসা বর্ণনা করেন, আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর কাছে যা শুনলাম তাতে অত্যন্ত খুশী হয়ে ফিরে আসলাম। (ই.ফা.১৩২৪, ই.সে.১৩৩৬)


সহিহ মুসলিম ১৩৩৮

وَحَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ الْجَهْضَمِيُّ، وَحَامِدُ بْنُ عُمَرَ الْبَكْرَاوِيُّ، قَالاَ حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، عَنْ خَالِدٍ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ ‏ إِذَا اسْتَيْقَظَ أَحَدُكُمْ مِنْ نَوْمِهِ فَلاَ يَغْمِسْ يَدَهُ فِي الإِنَاءِ حَتَّى يَغْسِلَهَا ثَلاَثًا فَإِنَّهُ لاَ يَدْرِي أَيْنَ بَاتَتْ يَدُهُ ‏" ‏ ‏‏

ইবনু জুরায়জ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি ‘আত্বাকে জিজ্ঞেস করলাম, ইশার সলাত যাকে লোকে ‘আতামাহ্ বলে থাকে- পড়ার জন্য আপনার কাছে কোন সময়টা সবচেয়ে পছন্দনীয়? (তা জানতে পারলে) ইমাম হয়ে বা একাকী থেকে আমিও সে সময় ইশার সলাত আদায় করতাম। এ কথা শুনে আত্বা বললেন, আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাসকে বলতে শুনেছি - নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) একদিন ইশার সলাত আদায় করতে বেশ দেরী করে ফেললেন। এমনকি লোকজন (মসজিদে) ঘুমিয়ে পড়ল। পরে জেগে উঠে আবার ঘুমিয়ে পড়ল। এরপর তারা আবার জেগে উঠলে ‘উমার ইবনুল খাত্তাব উঠে গিয়ে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - কে বললেন, সলাতের সময় হয়েছে। আত্বা বলেন, ‘আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস বলেছেন - অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আসলেন। আমি যেন এ মূহুর্তেও দেখছি নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর চুল থেকে পানি টপকে পড়ছে। আর তিনি মাথার একপাশে হাত দিয়ে আছেন। তিনি বললেনঃ যদি আমি আমার উম্মাতের জন্য কষ্টকর হবে বলে মনে না করতাম তাহলে আমি তাদেরকে এ রকম সময়েই (ইশার) সলাত আদায় করার আদেশ করতাম। ইবনু জুরায়জ বলেন- নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর মাথার উপর কীভাবে হাত রাখার কথা ‘আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস তাকে বলেছেন আমি তা আত্বাকে দেখাতে বললাম। তখন ‘আত্বা তার আঙ্গুলগুলো কিছুটা ছড়ালেন এবং আঙ্গুলের পার্শ্বদেশ মাথার পার্শ্বভাগে রাখলেন। অতঃপর আঙ্গুলগুলো মাথার উপর দিয়ে টেনে নীচের দিকে নিয়ে আসলেন। এরূপ এমনভাবে করলেন যে, বৃদ্ধাঙ্গুলি মুখমন্ডলের দিকে কানের পার্শ্ব স্পর্শ করল। অতঃপর কপালের পার্শ্বদেশ ও দাড়ির প্রান্তভাগ পর্যন্ত টেনে নিলেন। এ সময় খুব জোরে চাপ দিচ্ছিলেন না আবার আঙ্গুলগুলো খুব শিথিলও করছিলেন না, শুধু আলতোভাবে টেনে নিচ্ছিলেন। ইবনু জুরায়জ বলেন, আমি আত্বাকে জিজ্ঞেস করলাম, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সে রাতে ইশার সলাত কত দেরী করেছিলেন বলে ‘আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস আপনার কাছে বর্ণনা করেছেন? তিনি বললেনঃ আমি জানি না। আত্বা বললেন, ইশার সলাত আমি ইমাম হিসেবে কিংবা একা আদায় করি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঐ রাতে যেভাবে দেরী করে আদায় করেছেন সেভাবে দেরী করে আদায় করাই আমার কাছে সর্বাপেক্ষা পছন্দনীয়। তবে লোকের সাথে জামা’আতের ইমাম হয়ে সলাত আদায়কালে কিংবা একাকী আদায়কালে এ সময়টা যদি তোমার জন্য কষ্টকর হয় তাহলে মাঝামাঝি সময়ে আদায় করো। বেশী আগেও আদায় করোনা কিংবা বেশী বিলম্বেও আদায় করোনা। (ই.ফা.১৩২৫, ই.সে.১৩৩৭)


সহিহ মুসলিম ১৩৩৯

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، وَأَبُو سَعِيدٍ الأَشَجُّ قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، كِلاَهُمَا عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي رَزِينٍ، وَأَبِي، صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، فِي حَدِيثِ أَبِي مُعَاوِيَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ وَفِي حَدِيثِ وَكِيعٍ قَالَ يَرْفَعُهُ بِمِثْلِهِ ‏.‏

জাবির ইবনু সামুরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইশার সলাত দেরী করে আদায় করতেন। (ই.ফা.১৩২৬, ই.সে.১৩৩৮)


সহিহ মুসলিম ১৩৪০

حَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، وَأَبُو سَعِيدٍ الأَشَجُّ قَالاَ حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، ح وَحَدَّثَنَا أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا أَبُو مُعَاوِيَةَ، كِلاَهُمَا عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي رَزِينٍ، وَأَبِي، صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، فِي حَدِيثِ أَبِي مُعَاوِيَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏.‏ وَفِي حَدِيثِ وَكِيعٍ قَالَ يَرْفَعُهُ بِمِثْلِهِ ‏.‏

জাবির ইবনু সামুরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তোমাদের মতো করেই সলাত আদায় করতেন। তবে তিনি ইশার সলাত তোমাদের চেয়ে একটু দেরী করে আদায় করতেন। আর তিনি সলাত হালকা করে আদায় করতেন। আবূ কামিল বর্ণিত হাদীসে (আরবী) শব্দটির স্থানে (আরবী) শব্দ উল্লেখ আছে। তবে উভয় শব্দের অর্থ একই। (ই.ফা.১৩২৭, ই.সে.১৩৩৯)


সহিহ মুসলিম ১৩৪১

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَمْرٌو النَّاقِدُ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، قَالُوا حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، ح وَحَدَّثَنِيهِ مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ ابْنِ الْمُسَيَّبِ، كِلاَهُمَا عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِهِ ‏.‏

‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেছেনঃ গেঁয়ো বেদুঈন লোকেরা যেন তোমাদের সলাতের নামকরণের ব্যাপারে প্রভাব বিস্তার না করে বসে। জেনে রাখো সলাতের নাম হলো ইশা। আর তারা উট দোহন করতে দেরী করে তাই এ সলাতকেও তারা ‘আতামাহ্’ [১] বলে। (ই.ফা.১৩২৮, ই.সে.১৩৪০)


সহিহ মুসলিম ১৩৪২

وَحَدَّثَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ أَبِي شَيْبَةَ، وَعَمْرٌو النَّاقِدُ، وَزُهَيْرُ بْنُ حَرْبٍ، قَالُوا حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، ح وَحَدَّثَنِيهِ مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، أَخْبَرَنَا مَعْمَرٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنِ ابْنِ الْمُسَيَّبِ، كِلاَهُمَا عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِمِثْلِهِ ‏.‏

‘আবদুল্লাহ ইবনু উমার (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ গেঁয়ো বেদুঈন লোকেরা যেন তোমাদেরকে ইশার সলাতের নামকরণের ব্যাপারে প্রভাবান্বিত না করে বসে। কেননা, আল্লাহর কিতাবে এ সলাতের নাম ‘ইশা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকৃত ব্যাপার হলো তারা (গ্রাম্য লোকেরা) উট দোহনে অনেক বিলম্ব করে থাকে। (ই.ফা.১৩২৯, ই.সে.১৩৪১)


সহিহ মুসলিম > ফজরের সলাত প্রত্যুষে প্রথম ওয়াক্তে আদায় করা মুস্তাহাব যে সময়কে ‘তাগলীস্’ বলা হয় এবং তাতে কিরাআতের পরিমাণ

সহিহ মুসলিম ১৩৪৩

وَحَدَّثَنِي سَلَمَةُ بْنُ شَبِيبٍ، قَالَ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَعْيَنَ، حَدَّثَنَا مَعْقِلٌ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ ‏ إِذَا اسْتَيْقَظَ أَحَدُكُمْ فَلْيُفْرِغْ عَلَى يَدِهِ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ قَبْلَ أَنْ يُدْخِلَ يَدَهُ فِي إِنَائِهِ فَإِنَّهُ لاَ يَدْرِي فِيمَ بَاتَتْ يَدُهُ ‏" ‏ ‏‏

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, মুমিন মহিলারা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সাথে ফজরের সলাত আদায় করতেন এবং তা সর্বাঙ্গে কাপড় জড়িয়ে ঘরে ফিরতেন। (তখনও এরূপ অন্ধকার থাকত যে,) তাদেরকে কেউ চিনতে পারত না। (ই.ফা.১৩৩০, ই.সে.১৩৪২)


সহিহ মুসলিম ১৩৪৪

وَحَدَّثَنِي سَلَمَةُ بْنُ شَبِيبٍ، قَالَ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَعْيَنَ، حَدَّثَنَا مَعْقِلٌ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ ‏ إِذَا اسْتَيْقَظَ أَحَدُكُمْ فَلْيُفْرِغْ عَلَى يَدِهِ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ قَبْلَ أَنْ يُدْخِلَ يَدَهُ فِي إِنَائِهِ فَإِنَّهُ لاَ يَدْرِي فِيمَ بَاتَتْ يَدُهُ ‏" ‏ ‏‏

নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, ঈমানদার স্ত্রী লোকেরা সর্বাঙ্গে চাদর জড়িয়ে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) - এর সাথে ফজরের সলাত আদায় করত। কিন্তু যেহেতু রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অন্ধকার থাকতেই ফজরের সলাত আদায় করতেন তাই সলাত শেষে যখন তারা ঘরে ফিরত তখনও তাদেরকে চেনা যেত না। (ই.ফা.১৩৩১, ই.সে.১৩৪৩)


সহিহ মুসলিম ১৩৪৫

وَحَدَّثَنِي سَلَمَةُ بْنُ شَبِيبٍ، قَالَ حَدَّثَنَا الْحَسَنُ بْنُ أَعْيَنَ، حَدَّثَنَا مَعْقِلٌ، عَنْ أَبِي الزُّبَيْرِ، عَنْ جَابِرٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ أَخْبَرَهُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ ‏ إِذَا اسْتَيْقَظَ أَحَدُكُمْ فَلْيُفْرِغْ عَلَى يَدِهِ ثَلاَثَ مَرَّاتٍ قَبْلَ أَنْ يُدْخِلَ يَدَهُ فِي إِنَائِهِ فَإِنَّهُ لاَ يَدْرِي فِيمَ بَاتَتْ يَدُهُ ‏" ‏ ‏‏

’আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এমন সময় ফজরের সলাত আাদয় করতেন যে, সলাত শেষে মেয়েরা শরীরে চাদর জড়িয়ে ঘরে ফিরত। কিন্তু তখনও এরূপ অন্ধকার থাকত যে, তাদের কাউকে চেনা যেত না। আনসারী তার বর্ণিত হাদীসে (আরবী) শব্দের স্থানে (আরবী) উল্লেখ করেছেন। (ই.ফা.১৩৩২,ই.সে.১৩৪৪)


সহিহ মুসলিম ১৩৪৬

وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا الْمُغِيرَةُ، - يَعْنِي الْحِزَامِيَّ - عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، ح وَحَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، ح وَحَدَّثَنِي أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، - يَعْنِي ابْنَ مَخْلَدٍ - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ، عَنِ الْعَلاَءِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، ح وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ، ح وَحَدَّثَنَا الْحُلْوَانِيُّ، وَابْنُ، رَافِعٍ قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالاَ جَمِيعًا أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي زِيَادٌ، أَنَّ ثَابِتًا، مَوْلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زَيْدٍ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، فِي رِوَايَتِهِمْ جَمِيعًا عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِهَذَا الْحَدِيثِ كُلُّهُمْ يَقُولُ حَتَّى يَغْسِلَهَا ‏.‏ وَلَمْ يَقُلْ وَاحِدٌ مِنْهُمْ ثَلاَثًا ‏.‏ إِلاَّ مَا قَدَّمْنَا مِنْ رِوَايَةِ جَابِرٍ وَابْنِ الْمُسَيَّبِ وَأَبِي سَلَمَةَ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ وَأَبِي صَالِحٍ وَأَبِي رَزِينٍ فَإِنَّ فِي حَدِيثِهِمْ ذِكْرَ الثَّلاَثِ ‏.‏

মুহাম্মদ ইবনু ‘আমর ইবনু হাসান ইবনু ‘আলী (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, হাজ্জাজ মাদীনাতে আসলে আমরা জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহকে সলাতের সময় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেনঃ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যুহরের সলাত বেলা গড়িয়ে যাওয়ার পর প্রচন্ড গরম থাকতে, ‘আসরের সলাত সূর্যের আলো উজ্জ্বল থাকতে, মাগরিবের সলাত সূর্য অস্তমিত হতে এবং ইশার সলাত কখনো দেরী করে এবং কখনো আগে ভাগেই আদায় করতেন। কিন্তু লোকজনের আসতে দেরী দেখলে তিনিও দেরী করে আদায় করতেন। আর ফাজরের সলাত বেশ অন্ধকার থাকতেই আদায় করতেন। (ই.ফা.১৩৩৩, ই.সে.১৩৪৫)


সহিহ মুসলিম ১৩৪৭

وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا الْمُغِيرَةُ، - يَعْنِي الْحِزَامِيَّ - عَنْ أَبِي الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، ح وَحَدَّثَنَا نَصْرُ بْنُ عَلِيٍّ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الأَعْلَى، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ مُحَمَّدٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، ح وَحَدَّثَنِي أَبُو كُرَيْبٍ، حَدَّثَنَا خَالِدٌ، - يَعْنِي ابْنَ مَخْلَدٍ - عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ جَعْفَرٍ، عَنِ الْعَلاَءِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ رَافِعٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، حَدَّثَنَا مَعْمَرٌ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، ح وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ حَاتِمٍ، حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَكْرٍ، ح وَحَدَّثَنَا الْحُلْوَانِيُّ، وَابْنُ، رَافِعٍ قَالاَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، قَالاَ جَمِيعًا أَخْبَرَنَا ابْنُ جُرَيْجٍ، أَخْبَرَنِي زِيَادٌ، أَنَّ ثَابِتًا، مَوْلَى عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ زَيْدٍ أَخْبَرَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، فِي رِوَايَتِهِمْ جَمِيعًا عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم بِهَذَا الْحَدِيثِ كُلُّهُمْ يَقُولُ حَتَّى يَغْسِلَهَا ‏.‏ وَلَمْ يَقُلْ وَاحِدٌ مِنْهُمْ ثَلاَثًا ‏.‏ إِلاَّ مَا قَدَّمْنَا مِنْ رِوَايَةِ جَابِرٍ وَابْنِ الْمُسَيَّبِ وَأَبِي سَلَمَةَ وَعَبْدِ اللَّهِ بْنِ شَقِيقٍ وَأَبِي صَالِحٍ وَأَبِي رَزِينٍ فَإِنَّ فِي حَدِيثِهِمْ ذِكْرَ الثَّلاَثِ ‏.‏

মুহাম্মদ ইবনু ‘আমর ইবনুল হাসান ইবনু ‘আলী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, হাজ্জাজ (ইবনু ইউসুফ) সলাত দেরী করে আদায় করতেন। তাই আমরা জাবির ইবনু ‘আবদুল্লাহকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলাম। (ই.ফা.১৩৩৪, ই.সে.১৩৪৬)


সহিহ মুসলিম ১৩৪৮

وَحَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ السَّعْدِيُّ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، أَخْبَرَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي رَزِينٍ، وَأَبِي، صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ ‏ إِذَا وَلَغَ الْكَلْبُ فِي إِنَاءِ أَحَدِكُمْ فَلْيُرِقْهُ ثُمَّ لْيَغْسِلْهُ سَبْعَ مِرَارٍ ‏" ‏ ‏‏

সাইয়্যার ইবনু সালামাহ্ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি শুনেছি আমার পিতা সালামাহ্ আবূ বারযাহ্-কে জিজ্ঞেস করলাম, তুমি নিজে কি জিজ্ঞেস করতে শুনেছ? এ কথা শুনে সাইয়্যার বললেনঃ হ্যাঁ। আমার মনে হচ্ছে যেন আমি এখনই জিজ্ঞেস করতে শুনছি। সাইয়্যার ইবনু সালামাহ্ বললেনঃ আমি শুনলাম আমার পিতা তাকে (আবূ বারযাহ্) রসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সলাত সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। জবাবে আবূ বারযাহ্ বললেন- ‘ইশার সলাত আদায় করতে রাত দ্বি-প্রহর পর্যন্ত দেরী করতে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মোটেই দ্বিধা করতেন না। তবে ইশার সলাত আদায় না করে ঘুমানো এবং ইশার সলাতের পরে কথাবার্তা বলা তিনি পছন্দ করতেন না। শু’বাহ্ বলেন, পরে এক সময়ে আবার আমি সাইয়্যার ইবনু সালামাহ্ এর সাথে সাক্ষাৎ করে তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, সূর্য মাথার উপর থেকে পশ্চিমে ঢলে পড়লেই যুহরের সলাত আদায় করতেন। আর আসরের সলাত এমন সময় আদায় করতেন যে, সলাত শেষ করে মাদীনার শহরতলীর দূরবর্তীস্থানে গিয়ে পৌছার পরও সূর্যের তেজ থাকত। এরপর সাইয়্যার ইবনু সালামাহ্ বললেনঃ মাগরিবের সলাত কোন সময় তিনি আদায় করার কথা তিনি বলে ছিলেন তা আমি মনে করতে পারছি না। সালামাহ্ বলেছেনঃ পরে আবার এক সময় আবূ বারযার সাথে সাক্ষাৎ করে আমি তাকে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সলাতের কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, তিনি ফাজরের সলাত এমন সময় আদায় করতেন যে, সলাত শেষে লোকজন তার পাশের পরিচিত লোকের দিকে তাকিয়ে তাকে চিনতে পারত না। আবূ বারযাহ্ আরো বলেছেন, ফাজরের সলাতে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ষাট থেকে একশ’ পর্যন্ত আয়াত তিলাওয়াত করতেন। (ই.ফা.১৩৩৫, ই.সে.১৩৪৭)


সহিহ মুসলিম ১৩৪৯

وَحَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ السَّعْدِيُّ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، أَخْبَرَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي رَزِينٍ، وَأَبِي، صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ ‏ إِذَا وَلَغَ الْكَلْبُ فِي إِنَاءِ أَحَدِكُمْ فَلْيُرِقْهُ ثُمَّ لْيَغْسِلْهُ سَبْعَ مِرَارٍ ‏" ‏ ‏‏

আবূ বারযাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইশার সলাত দেরী করে মধ্যরাতে আদায় করতে কোন দ্বিধা বা ভ্রূক্ষেপ করতেন না। হাদীসের বর্ণনাকারী শু’বাহ্ বলেছেন, পরবর্তী সময়ে আমি আবার আবূ বারযার সাথে সাক্ষাৎ করলে তিনি আগের কথার সাথে এ কথাটুকু যোগ করে বলেলনঃ অথবা রাতের এক তৃ্তীয়াংশ পর্যন্ত দেরী করে ‘ইশার সলাত আদায় করতে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ভ্রূক্ষেপ করতেন না। (ই.ফা.১৩৩৬, ই.সে.১৩৪৮)


সহিহ মুসলিম ১৩৫০

وَحَدَّثَنِي عَلِيُّ بْنُ حُجْرٍ السَّعْدِيُّ، حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، أَخْبَرَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ أَبِي رَزِينٍ، وَأَبِي، صَالِحٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ ‏ إِذَا وَلَغَ الْكَلْبُ فِي إِنَاءِ أَحَدِكُمْ فَلْيُرِقْهُ ثُمَّ لْيَغْسِلْهُ سَبْعَ مِرَارٍ ‏" ‏ ‏‏

আবূ বারযাহ্ আল আসলামী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ইশার সলাত রাতের এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত দেরী করে আদায় করতেন। তিনি ইশার সলাতের পূর্বে ঘুমানো এবং কথাবার্তা বলা অপছন্দ করতেন। আর ফাজরের সলাতে ষাট থেকে একশ’ আয়াত পর্যন্ত তিলাওয়াত করতেন এবং এমন সময় সলাত শেষ করতেন যখন আমরা পরস্পরকে মুখ দেখে চিনতে পারতাম না। (ই.ফা.১৩৩৭, ই.সে.১৩৪৯)


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية