ইমাম অসুস্থ হয়ে পড়লে বা সফরে গেলে, অথবা অন্য কোন ওজর থাকলে তিনি তার প্রতিনিধি নিয়োগ করবেন, কোন কারনে ইমাম যদি বসে সলাত আদায় করেন-সেক্ষেত্রে মুক্তাদীদের কোন অসুবিধা না থাকলে তারা দাঁড়িয়ে সলাত আদায় করবে, কারন সক্ষম মুক্তাদীর বসে সলাত আদায় করার নির্দেশ (মানসুখ) রহিত হয়ে গেছে। - সহিহ মুসলিম | হাদীস | কুরআন ও সুন্নাহ

সহিহ মুসলিম > ইমাম অসুস্থ হয়ে পড়লে বা সফরে গেলে, অথবা অন্য কোন ওজর থাকলে তিনি তার প্রতিনিধি নিয়োগ করবেন, কোন কারনে ইমাম যদি বসে সলাত আদায় করেন-সেক্ষেত্রে মুক্তাদীদের কোন অসুবিধা না থাকলে তারা দাঁড়িয়ে সলাত আদায় করবে, কারন সক্ষম মুক্তাদীর বসে সলাত আদায় করার নির্দেশ (মানসুখ) রহিত হয়ে গেছে।

সহিহ মুসলিম ৮২২

وَحَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنَا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، حَدَّثَنَا ابْنُ عَمِّ، نَبِيِّكُمْ صلى الله عليه وسلم ابْنُ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ ‏ مَرَرْتُ لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِي عَلَى مُوسَى بْنِ عِمْرَانَ - عَلَيْهِ السَّلاَمُ - رَجُلٌ آدَمُ طُوَالٌ جَعْدٌ كَأَنَّهُ مِنْ رِجَالِ شَنُوءَةَ وَرَأَيْتُ عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ مَرْبُوعَ الْخَلْقِ إِلَى الْحُمْرَةِ وَالْبَيَاضِ سَبِطَ الرَّأْسِ ‏" ‏ ‏‏ وَأُرِيَ مَالِكًا خَازِنَ النَّارِ وَالدَّجَّالَ ‏‏ فِي آيَاتٍ أَرَاهُنَّ اللَّهُ إِيَّاهُ فَلاَ تَكُنْ فِي مِرْيَةٍ مِنْ لِقَائِهِ ‏‏ قَالَ كَانَ قَتَادَةُ يُفَسِّرُهَا أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ لَقِيَ مُوسَى عَلَيْهِ السَّلاَمُ ‏‏

’উবাইদুল্লাহ ইবনু ‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, আমি ‘আয়িশা (রাঃ)-এর কাছে উপস্থিত হয়ে তাকে বললাম , আপনি আমার কাছে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর (মৃত্যুকালীন) রোগের অবস্থার বর্ণনা করবেন কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। নাবী(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অসুস্থতা বেড়ে গেল। তিনি জিজ্ঞেস করলেন লোকেরা সলাত আদায় করেছে কি? আমরা বললাম , না, আল্লাহর রাসুল! তারা আপনার অপেক্ষা করছে। তিনি বললেন, আমার জন্যে পাত্রে পানি রাখো। আমরা তাই করলাম। তিনি ওযূ করলেন, অতঃপর উঠতে গিয়ে বেহুঁশ হয়ে পড়লেন। জ্ঞান ফিরে আসলে তিনি বললেন, লোকেরা কি সলাত আদায় করেছে? আমরা বললাম , না তারা আপনার জন্য অপেক্ষা করছে ,হে আল্লাহর রাসুল! তিনি(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, আমার জন্যে পাত্রে পানি রাখো। আমরা তাই করলাম। তিনি ওযূ করলেন। অতঃপর উঠতে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়লেন। জ্ঞান ফিরে আসলে তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ লোকেরা কি সলাত আদায় করেছে? আমরা বললাম, ইয়া রসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! তারা আপনার অপেক্ষা করছে। তিনি বললেনঃ আমার জন্যে পাত্রে পানি রাখো। আমরা তাই করলাম। তিনি ওযূ করে উঠতে গিয়ে অজ্ঞান হয়ে পরলেন। অতঃপর জ্ঞান ফিরে আসলে তিনি জিজ্ঞেস করলেনঃ লোকেরা কি সলাত আদায় করেছে? আমরা বললাম, হে আল্লাহর রাসুল(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)! তারা আপনার অপেক্ষায় আছে। ‘আয়িশাহ্(রাঃ) বলেন, লোকেরা ‘ইশার সলাত আদায়ের জন্য মাসজিদে রসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অপেক্ষায় বসেছিল। ‘আয়িশাহ্(রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবূ বাকরের কাছে লোক পাঠালেন। সংবাদ বাহক ( আবূ বাকরের কাছে) এসে বলল, রসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আপনাকে লোকেদের নিয়ে সলাত আদায় করার নির্দেশ দিয়েছেন। আবূ বাক্‌র(রাঃ) ছিলেন খুবই কোমল হৃদয়ের লোক। তিনি বললেন, হে ‘উমার! লোকদের নিয়ে সলাত আদায় করো। ‘উমার (রাঃ) বললেন, এজন্য আপনিই অধিক উপযুক্ত। ‘আয়িশাহ্(রাঃ) বলেন, এ কয়দিন আবূ বাক্‌র(রাঃ)সলাত আদায় করালেন। অতঃপর রসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিছুটা সুস্থ হলেন। তিনি দু’জন লোকের কাঁধে ভর দিয়ে যুহরের সলাত আদায় করতে বের হলেন। তাদের একজন ছিলেন ‘আব্বাস (রাঃ)। ইতিমধ্যে আবূ বাক্‌র(রাঃ) লোকদের নিয়ে সলাত আদায় শুরু করে দিয়েছিলেন, আবূ বকর (রাঃ) তাঁকে দেখে পিছে সরে আসতে উদ্যত হলেন। নাবী(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে ইশারায় বললেনঃ পিছনে হটে এসো না। তিনি তাদের উভয় কে বললেন, আমাকে তার পাশে বসিয়ে দাও। তারা তাঁকে আবূ বাক্‌র(রাঃ)-এর পাশে বসিয়ে দিলেন। আবূ বাক্‌র(রাঃ) দাঁড়িয়ে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর অনুকরনে সলাত আদায় করলেন এবং লোকেরা আবূ বাক্‌র(রাঃ)-এর অনুকরনে সলাত আদায় করল। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বসেই সলাত আদায় করলেন। ‘উবাইদুল্লাহ বলেন, অতঃপর আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর কাছে গিয়ে বললাম, নাবী(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অসুখ সম্পর্কে ‘আয়িশাহ্(রাঃ) যা বলেছেন, আমি কি তা আপনার সামনে পেশ করবো না? তিনি বললেন, হ্যাঁ, বলো। আমি তার কাছে ‘আয়িশাহ্(রাঃ) এর দেয়া বিবরন তুলে ধরলাম। তিনি সামান্যতমও দ্বিমত করলেন না। শুধু বললেন, ‘আব্বাস (রাঃ) এর সাথে যে অপর ব্যক্তি ছিলো, তিনি কি তোমাকে তার নাম বলেছেন? আমি বললাম , না। তিনি বললেন, তিনি হচ্ছেন ‘আলী। (ই.ফা.৮১৯, ই.সে.৮৩১)


সহিহ মুসলিম ৮২৩

وَحَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنَا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، حَدَّثَنَا ابْنُ عَمِّ، نَبِيِّكُمْ صلى الله عليه وسلم ابْنُ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ ‏ مَرَرْتُ لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِي عَلَى مُوسَى بْنِ عِمْرَانَ - عَلَيْهِ السَّلاَمُ - رَجُلٌ آدَمُ طُوَالٌ جَعْدٌ كَأَنَّهُ مِنْ رِجَالِ شَنُوءَةَ وَرَأَيْتُ عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ مَرْبُوعَ الْخَلْقِ إِلَى الْحُمْرَةِ وَالْبَيَاضِ سَبِطَ الرَّأْسِ ‏" ‏ ‏‏ وَأُرِيَ مَالِكًا خَازِنَ النَّارِ وَالدَّجَّالَ ‏‏ فِي آيَاتٍ أَرَاهُنَّ اللَّهُ إِيَّاهُ فَلاَ تَكُنْ فِي مِرْيَةٍ مِنْ لِقَائِهِ ‏‏ قَالَ كَانَ قَتَادَةُ يُفَسِّرُهَا أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ لَقِيَ مُوسَى عَلَيْهِ السَّلاَمُ ‏‏

‘আয়িশাহ্(রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেছেন, রসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সর্বপ্রথম মাইমুনাহ্ (রাঃ)–এর ঘরে রোগাক্রান্ত হন। তিনি সেবা-শুশ্রূষার জন্য তার [‘আয়িশাহ্(রাঃ)–এর] ঘরে যাওয়ার ব্যাপারে নিজের স্ত্রীদের অনুমতি চাইলেন। তারা তাঁকে অনুমতি দিলেন। ‘আয়িশাহ্(রাঃ) বলেনঃ তিনি এক হাত ফাযল ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)–এর কাঁধের উপর রেখে এবং অপর হাত অন্য এক ব্যাক্তির কাঁধের উপর রেখে সামনের পা হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে (সলাত আদায়ের জন্য মাসজিদে) গেলেন। ‘উবাইদুল্লাহ বলেন, আমি ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) –এর কাছে এ কথা বর্ণনা করলাম। তিনি বললেন, তুমি কি জানো, ‘আয়িশাহ্(রাঃ) যার নাম বলেননি তিনি কে? তিনি হলেন ‘আলী (রাঃ)। (ই.ফা.৮২০, ই.সে.৮৩২)


সহিহ মুসলিম ৮২৪

وَحَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنَا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، حَدَّثَنَا ابْنُ عَمِّ، نَبِيِّكُمْ صلى الله عليه وسلم ابْنُ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ ‏ مَرَرْتُ لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِي عَلَى مُوسَى بْنِ عِمْرَانَ - عَلَيْهِ السَّلاَمُ - رَجُلٌ آدَمُ طُوَالٌ جَعْدٌ كَأَنَّهُ مِنْ رِجَالِ شَنُوءَةَ وَرَأَيْتُ عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ مَرْبُوعَ الْخَلْقِ إِلَى الْحُمْرَةِ وَالْبَيَاضِ سَبِطَ الرَّأْسِ ‏" ‏ ‏‏ وَأُرِيَ مَالِكًا خَازِنَ النَّارِ وَالدَّجَّالَ ‏‏ فِي آيَاتٍ أَرَاهُنَّ اللَّهُ إِيَّاهُ فَلاَ تَكُنْ فِي مِرْيَةٍ مِنْ لِقَائِهِ ‏‏ قَالَ كَانَ قَتَادَةُ يُفَسِّرُهَا أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ لَقِيَ مُوسَى عَلَيْهِ السَّلاَمُ ‏‏

নাবী(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ্(রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন রোগাক্রান্ত হয়ে পড়লেন এবং উত্তরোত্তর তা বাড়তে থাকল, তিনি তাঁর স্ত্রীদের কাছে সেবা শুশ্রূষার জন্য আমার ঘরে আসার এবং থাকার অনুমতি চাইলেন। তারা তাঁকে অনুমতি দিলেন। তিনি ‘আব্বাস ইবনু ‘আবদুল মুত্তালিব (রাঃ) এবং অপর এক ব্যক্তি কাঁধে ভর দিয়ে মাটিতে পা হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে (মাসজিদে সলাত আদায় করতে) গেলেন। ‘উবাইদুল্লাহ (রাঃ) বলেন, আমি ‘আয়িশা(রাঃ)-এর বর্ণনা ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ)-এর নিকট পেশ করলাম। ইবনু ‘আব্বাস (রাঃ) আমাকে বললেন, ‘আয়িশাহ্(রাঃ) যে (দ্বিতীয়) ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেননি- তুমি তাকে চিনতে পেরেছ কি? ‘উবাইদুল্লাহ বলেন, আমি বললাম, না। ইবনু ‘আব্বাস (রাযি:) বললেন, তিনি হলেন ‘আলী (রাঃ)। (ই.ফা.৮২১.ই.সে.৮৩৩)


সহিহ মুসলিম ৮২৫

وَحَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنَا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، حَدَّثَنَا ابْنُ عَمِّ، نَبِيِّكُمْ صلى الله عليه وسلم ابْنُ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ ‏ مَرَرْتُ لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِي عَلَى مُوسَى بْنِ عِمْرَانَ - عَلَيْهِ السَّلاَمُ - رَجُلٌ آدَمُ طُوَالٌ جَعْدٌ كَأَنَّهُ مِنْ رِجَالِ شَنُوءَةَ وَرَأَيْتُ عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ مَرْبُوعَ الْخَلْقِ إِلَى الْحُمْرَةِ وَالْبَيَاضِ سَبِطَ الرَّأْسِ ‏" ‏ ‏‏ وَأُرِيَ مَالِكًا خَازِنَ النَّارِ وَالدَّجَّالَ ‏‏ فِي آيَاتٍ أَرَاهُنَّ اللَّهُ إِيَّاهُ فَلاَ تَكُنْ فِي مِرْيَةٍ مِنْ لِقَائِهِ ‏‏ قَالَ كَانَ قَتَادَةُ يُفَسِّرُهَا أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ لَقِيَ مُوسَى عَلَيْهِ السَّلاَمُ ‏‏

নাবী(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) –এর স্ত্রী ‘আয়িশাহ্(রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, [রসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর অসুস্থকালীন অনুপস্থিতিতে আবূ বাক্‌র(রাঃ) –কে ইমাম নিযুক্ত করার ব্যাপারে] আমি রসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাথে বারবার কথা কাটাকাটি করেছি। কোন লোক অধিকাংশ সময় তাঁর স্থলাভিষিক্ত হোক এ উদ্দেশে আমি কথা কাটাকাটি করিনি। আমার ধারণা ছিল যে, যে ব্যক্তি তাঁর স্থলাভিষিক্ত হবে তাকে লোকেরা ভালবাসবে না এবং তাকে তারা অশুভ কুলক্ষণ বলে মনে করবে। সুতরাং আমি চেয়েছিলাম যে, রসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আবূ বাক্‌র(রাঃ) –কে তাঁর স্থলাভিষিক্ত করা থেকে যেন বিরত থাকেন। (ই.ফা.৮২২, ই.সে.৮৩৪)


সহিহ মুসলিম ৮২৬

وَحَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنَا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، حَدَّثَنَا ابْنُ عَمِّ، نَبِيِّكُمْ صلى الله عليه وسلم ابْنُ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ ‏ مَرَرْتُ لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِي عَلَى مُوسَى بْنِ عِمْرَانَ - عَلَيْهِ السَّلاَمُ - رَجُلٌ آدَمُ طُوَالٌ جَعْدٌ كَأَنَّهُ مِنْ رِجَالِ شَنُوءَةَ وَرَأَيْتُ عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ مَرْبُوعَ الْخَلْقِ إِلَى الْحُمْرَةِ وَالْبَيَاضِ سَبِطَ الرَّأْسِ ‏" ‏ ‏‏ وَأُرِيَ مَالِكًا خَازِنَ النَّارِ وَالدَّجَّالَ ‏‏ فِي آيَاتٍ أَرَاهُنَّ اللَّهُ إِيَّاهُ فَلاَ تَكُنْ فِي مِرْيَةٍ مِنْ لِقَائِهِ ‏‏ قَالَ كَانَ قَتَادَةُ يُفَسِّرُهَا أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ لَقِيَ مُوسَى عَلَيْهِ السَّلاَمُ ‏‏

‘আয়িশাহ্(রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ(সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) অসুস্থ অবস্থায় আমার ঘরে এসে বললেনঃ আবূ বাক্‌রকে লোকেদের নিয়ে সলাত আদায় করতে বলো। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল ! আবূ বাক্‌র(রাঃ) হলেন কোমল হৃদয়ের লোক। কুরআন পাঠ করার সময় তিনি অশ্রু সংবরণ করতে পারবেন না। আপনি যদি আবূ বাক্‌র(রাঃ) –কে বাদ দিয়ে অন্য কাউকে নির্দেশ দিতেন ! ‘আয়িশাহ্(রাঃ) বলেন, আল্লাহর শপথ ! আমার অন্য কোন উদ্দেশ্য ছিল না। আমার আশঙ্কা ছিল, লোকেরা কুলক্ষণ মনে করবে যে, এ সে ব্যক্তি যিনি সর্বপ্রথম রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। ‘আয়িশাহ্(রাঃ) বলেন, আমি দু’-তিনবার আমার কথার পুনরাবৃত্তি বললাম। কিন্তু তিনি আগের মতই বললেন ; আবূ বাক্‌র লোকদের নিয়ে সলাত আদায় করুক। তোমরা তো ইউসুফ (আঃ)-এর ঘটনার মহিলাদের মতো। (ই.ফা.৮২৩।,ই.সে.৮৩৫)


সহিহ মুসলিম ৮২৭

وَحَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنَا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، حَدَّثَنَا ابْنُ عَمِّ، نَبِيِّكُمْ صلى الله عليه وسلم ابْنُ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ ‏ مَرَرْتُ لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِي عَلَى مُوسَى بْنِ عِمْرَانَ - عَلَيْهِ السَّلاَمُ - رَجُلٌ آدَمُ طُوَالٌ جَعْدٌ كَأَنَّهُ مِنْ رِجَالِ شَنُوءَةَ وَرَأَيْتُ عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ مَرْبُوعَ الْخَلْقِ إِلَى الْحُمْرَةِ وَالْبَيَاضِ سَبِطَ الرَّأْسِ ‏" ‏ ‏‏ وَأُرِيَ مَالِكًا خَازِنَ النَّارِ وَالدَّجَّالَ ‏‏ فِي آيَاتٍ أَرَاهُنَّ اللَّهُ إِيَّاهُ فَلاَ تَكُنْ فِي مِرْيَةٍ مِنْ لِقَائِهِ ‏‏ قَالَ كَانَ قَتَادَةُ يُفَسِّرُهَا أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ لَقِيَ مُوسَى عَلَيْهِ السَّلاَمُ ‏‏

‘আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন অসুস্থ হয়ে পড়লেন, বিলাল (রাঃ) এসে তাঁকে সলাতের কথা জানালেন। তিনি বললেনঃ আবূ বকর (রাঃ) -কে লোকদের নিয়ে সলাত আদায় করতে বলো। বর্ণনাকারী [‘আয়িশা (রাঃ) ] বলেন, আমি বললাম হে আল্লাহর রাসুল! আবূ বকর (রাঃ) কোমলমনা লোক। তিনি যখন আপনার স্থানে দাঁড়াবে লোকেদের (কিরাআত) শুনাতে পারবেন না, আপনি যদি উমার (রাঃ) -কে নির্দেশ দিতেন। বর্ণনাকারী [‘আয়িশা (রাঃ) ] বলেন, আমি হাফসাহ্ (রাঃ) -কে বললাম- তুমিও তাঁকে বলো। হাফসাহ্ তা্ঁকে বলল, 'আবূ বাক্‌র কোমলমনা লোক। তিনি যখন আপনার স্থলে দাঁড়াবেন, লোকদের কিরাআত শুনাতে সক্ষম হবেন না। আপনি যদি উমার (রাঃ) - কে নির্দেশ দিতেন! তখন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তোমরা তো দেখছি ইউসুফের সাথী মহিলাদের মতই। আবূ বাক্‌রকে লোকদের নিয়ে সলাত শুরু করতে বললেন,রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিছুটা সুস্থতাবোধ করলেন। বর্ণনাকারী [‘আয়িশা (রাঃ) ] বলেন, তিনি দাঁড়িয়ে দু'ব্যক্তির কাঁধে ভর দিয়ে (মাসজিদে) রওয়ানা হলেন। তাঁর দু'পা হেঁচড়াতে হেঁচড়াতে মাটিতে দাগ কেটে যাচ্ছিল। ‘আয়িশা (রাঃ) বলেন, তিনি যখন মাসজিদে ঢুকলেন আবূ বাকর (রাঃ) তাঁর আগমন অনুভব করে পিছে সরে আসতে প্রস্তুত হলেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে ইশারায় বললেনঃ নিজের স্থানে দাঁড়িয়ে থাকো। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এসে আবূ বাকরের বাম পাশে বসলেন।রাবী বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বসে বসে লোকদের সলাত আদায় করালেন এবং আবূ বক্‌র দাঁড়িয়ে সলাত আদায় করলেন। আবূ বকর (রাঃ) নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সলাতের সাথে অনুসরণ করলেন আর লোকেরা আবূ বাকরের সলাতের অনুসরণ করল। (ই.ফা. ৮২৪, ই.সে ৮৩৬)


সহিহ মুসলিম ৮২৮

وَحَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنَا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، حَدَّثَنَا ابْنُ عَمِّ، نَبِيِّكُمْ صلى الله عليه وسلم ابْنُ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ ‏ مَرَرْتُ لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِي عَلَى مُوسَى بْنِ عِمْرَانَ - عَلَيْهِ السَّلاَمُ - رَجُلٌ آدَمُ طُوَالٌ جَعْدٌ كَأَنَّهُ مِنْ رِجَالِ شَنُوءَةَ وَرَأَيْتُ عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ مَرْبُوعَ الْخَلْقِ إِلَى الْحُمْرَةِ وَالْبَيَاضِ سَبِطَ الرَّأْسِ ‏" ‏ ‏‏ وَأُرِيَ مَالِكًا خَازِنَ النَّارِ وَالدَّجَّالَ ‏‏ فِي آيَاتٍ أَرَاهُنَّ اللَّهُ إِيَّاهُ فَلاَ تَكُنْ فِي مِرْيَةٍ مِنْ لِقَائِهِ ‏‏ قَالَ كَانَ قَتَادَةُ يُفَسِّرُهَا أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ لَقِيَ مُوسَى عَلَيْهِ السَّلاَمُ ‏‏

আ'মাশ (রহঃ) থেকে বর্নিতঃ

এ সানাদে উপরের হাদীসের অনুরুপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। ইসহাক্ ও মিনজাবের বর্ণনায় আছেঃ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যখন মৃত্যু রোগে আক্রান্ত হলেন। "ইবনু মুসহিরের বর্ণনায় আছেঃ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে নিয়ে আসা হলো এবং তাঁর (আবূ বাকরের) পাশে বসিয়ে দেয়া হলো। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) লোকদের সলাত আদায় করালেন এবং আবূ বাকর তাদেরকে তাকবীর শুনালেন। ‘ঈসার বর্ণনায় আছে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বসলেন এবং লোকদের সলাত আদায় করালেন। আবূ বাক্‌র তাঁর পাশেই ছিলেন। আবূ বাক্‌র লোকদের মুকাব্বির হলেন। (ই.ফা. ৮২৫ ,ই.সে. ৮৩৭ )


সহিহ মুসলিম ৮২৯

وَحَدَّثَنَا عَبْدُ بْنُ حُمَيْدٍ، أَخْبَرَنَا يُونُسُ بْنُ مُحَمَّدٍ، حَدَّثَنَا شَيْبَانُ بْنُ عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، حَدَّثَنَا ابْنُ عَمِّ، نَبِيِّكُمْ صلى الله عليه وسلم ابْنُ عَبَّاسٍ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ ‏ مَرَرْتُ لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِي عَلَى مُوسَى بْنِ عِمْرَانَ - عَلَيْهِ السَّلاَمُ - رَجُلٌ آدَمُ طُوَالٌ جَعْدٌ كَأَنَّهُ مِنْ رِجَالِ شَنُوءَةَ وَرَأَيْتُ عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ مَرْبُوعَ الْخَلْقِ إِلَى الْحُمْرَةِ وَالْبَيَاضِ سَبِطَ الرَّأْسِ ‏" ‏ ‏‏ وَأُرِيَ مَالِكًا خَازِنَ النَّارِ وَالدَّجَّالَ ‏‏ فِي آيَاتٍ أَرَاهُنَّ اللَّهُ إِيَّاهُ فَلاَ تَكُنْ فِي مِرْيَةٍ مِنْ لِقَائِهِ ‏‏ قَالَ كَانَ قَتَادَةُ يُفَسِّرُهَا أَنَّ نَبِيَّ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَدْ لَقِيَ مُوسَى عَلَيْهِ السَّلاَمُ ‏‏

’আয়িশাহ্ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর অসুস্থাবস্থায় আবূ বাক্‌রকে লোকদের সলাতের ইমামতি করার নির্দেশ দিলেন। এ সময় তিনি তাদের সলাত আদায় করাতেন। ‘উরওয়াহ্ (রহঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কিছুটা সুস্থতাবোধ করলেন। তিনি সলাত আদায় করার জন্য বের হলেন। তখন আবূ বকর (রাঃ) লোকদের ইমামতি করছিলেন। আবূ বকর (রাঃ) তাঁর আগমন বুঝতে পেরে পিছু হটতে চাইলেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে ইশারায় বললেনঃ যেভাবে আছ সেই ভাবে থাকো। অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সোজাসোজি আবূ বাকরের পাশে বসে গেলেন। সলাতের মধ্যে আবূ বকর (রাঃ) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর অনুসরণ করলেন এবং লোকেরা আবূ বাকরের অনুসরণ করল। (ই.ফা. ৮২৬, ই.সে ৮৩৮)


সহিহ মুসলিম ৮৩০

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، وَسُرَيْجُ بْنُ يُونُسَ، قَالاَ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا دَاوُدُ بْنُ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَرَّ بِوَادِي الأَزْرَقِ فَقَالَ ‏‏ أَىُّ وَادٍ هَذَا ‏"‏ ‏.‏ فَقَالُوا هَذَا وَادِي الأَزْرَقِ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى مُوسَى - عَلَيْهِ السَّلاَمُ - هَابِطًا مِنَ الثَّنِيَّةِ وَلَهُ جُؤَارٌ إِلَى اللَّهِ بِالتَّلْبِيَةِ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ أَتَى عَلَى ثَنِيَّةِ هَرْشَى ‏.‏ فَقَالَ ‏"‏ أَىُّ ثَنِيَّةٍ هَذِهِ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا ثَنِيَّةُ هَرْشَى قَالَ ‏"‏ كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى يُونُسَ بْنِ مَتَّى - عَلَيْهِ السَّلاَمُ - عَلَى نَاقَةٍ حَمْرَاءَ جَعْدَةٍ عَلَيْهِ جُبَّةٌ مِنْ صُوفٍ خِطَامُ نَاقَتِهِ خُلْبَةٌ وَهُوَ يُلَبِّي ‏"‏ ‏.‏ قَالَ ابْنُ حَنْبَلٍ فِي حَدِيثِهِ قَالَ هُشَيْمٌ يَعْنِي لِيفًا ‏.‏"

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) যে রোগে ইন্তিকাল করেন তাতে রোগাক্রান্ত হওয়াকালীন সময়ে আবূ বাকর (রাঃ) তাদের সলাতের ইমামতি করতেন। সোমবার দিন যখন লোকেরা সলাতের লাইনে দাঁড়ানো ছিল, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর ঘরের পর্দা সরিয়ে দিলেন। তিনি দাঁড়িয়ে আমাদের দিকে তাকালেন। তাঁর মুখমন্ডল মুসহাফ তথা কুরআনের পাতার মতো জ্বলজ্বল করছিল। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মুচকি হাসলেন। আমরা সলাতের মধ্যে থেকেই নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর আগমন অনুভব করে খুশিতে আত্নহারা হয়ে গেলাম। আবূ বকর (রাঃ) অনুমান করলেন,রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সলাতের জন্য বের হচ্ছেন। তাই তিনি লাইনে মিলিত হওয়ার জন্য পিছনে সরে আসছিলেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাদের দিকে হাত দিয়ে ইশারা করে বললেনঃ তোমরা তোমাদের সলাত পূর্ণ করো। বর্ণনাকারী বলেন,অতঃপর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) (নিজের হুজরায়) প্রবেশ করে পর্দা ছেড়ে দিলেন। বর্ণনাকারী বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঠিক এ দিন ইন্তিকাল করেন। (ই.ফা ৮২৭, ই.সে ৮৩৯)


সহিহ মুসলিম ৮৩১

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، وَسُرَيْجُ بْنُ يُونُسَ، قَالاَ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا دَاوُدُ بْنُ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَرَّ بِوَادِي الأَزْرَقِ فَقَالَ ‏‏ أَىُّ وَادٍ هَذَا ‏"‏ ‏.‏ فَقَالُوا هَذَا وَادِي الأَزْرَقِ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى مُوسَى - عَلَيْهِ السَّلاَمُ - هَابِطًا مِنَ الثَّنِيَّةِ وَلَهُ جُؤَارٌ إِلَى اللَّهِ بِالتَّلْبِيَةِ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ أَتَى عَلَى ثَنِيَّةِ هَرْشَى ‏.‏ فَقَالَ ‏"‏ أَىُّ ثَنِيَّةٍ هَذِهِ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا ثَنِيَّةُ هَرْشَى قَالَ ‏"‏ كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى يُونُسَ بْنِ مَتَّى - عَلَيْهِ السَّلاَمُ - عَلَى نَاقَةٍ حَمْرَاءَ جَعْدَةٍ عَلَيْهِ جُبَّةٌ مِنْ صُوفٍ خِطَامُ نَاقَتِهِ خُلْبَةٌ وَهُوَ يُلَبِّي ‏"‏ ‏.‏ قَالَ ابْنُ حَنْبَلٍ فِي حَدِيثِهِ قَالَ هُشَيْمٌ يَعْنِي لِيفًا ‏.‏"

আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন,আমি সোমবার দিন রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কে শেষবারের মতো দেখেছি, যখন তিনি (জানালার) পর্দা সরিয়ে ছিলেন। এ মর্মে সালিহ-এর হাদীস অধিক পূর্ণাঙ্গ। (ই.ফা. ৮২৭, ই.সে. ৮৪০)


সহিহ মুসলিম ৮৩২

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، وَسُرَيْجُ بْنُ يُونُسَ، قَالاَ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا دَاوُدُ بْنُ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَرَّ بِوَادِي الأَزْرَقِ فَقَالَ ‏‏ أَىُّ وَادٍ هَذَا ‏"‏ ‏.‏ فَقَالُوا هَذَا وَادِي الأَزْرَقِ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى مُوسَى - عَلَيْهِ السَّلاَمُ - هَابِطًا مِنَ الثَّنِيَّةِ وَلَهُ جُؤَارٌ إِلَى اللَّهِ بِالتَّلْبِيَةِ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ أَتَى عَلَى ثَنِيَّةِ هَرْشَى ‏.‏ فَقَالَ ‏"‏ أَىُّ ثَنِيَّةٍ هَذِهِ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا ثَنِيَّةُ هَرْشَى قَالَ ‏"‏ كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى يُونُسَ بْنِ مَتَّى - عَلَيْهِ السَّلاَمُ - عَلَى نَاقَةٍ حَمْرَاءَ جَعْدَةٍ عَلَيْهِ جُبَّةٌ مِنْ صُوفٍ خِطَامُ نَاقَتِهِ خُلْبَةٌ وَهُوَ يُلَبِّي ‏"‏ ‏.‏ قَالَ ابْنُ حَنْبَلٍ فِي حَدِيثِهِ قَالَ هُشَيْمٌ يَعْنِي لِيفًا ‏.‏"

আনাস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, যখন সোমবার দিন হলো,......... পূর্বের হাদীসের অনুরুপ বর্ণনা করেন। (ই.ফা. ৮২৮, ই.সে. ৮৪১)


সহিহ মুসলিম ৮৩৩

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ حَنْبَلٍ، وَسُرَيْجُ بْنُ يُونُسَ، قَالاَ حَدَّثَنَا هُشَيْمٌ، أَخْبَرَنَا دَاوُدُ بْنُ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَرَّ بِوَادِي الأَزْرَقِ فَقَالَ ‏‏ أَىُّ وَادٍ هَذَا ‏"‏ ‏.‏ فَقَالُوا هَذَا وَادِي الأَزْرَقِ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى مُوسَى - عَلَيْهِ السَّلاَمُ - هَابِطًا مِنَ الثَّنِيَّةِ وَلَهُ جُؤَارٌ إِلَى اللَّهِ بِالتَّلْبِيَةِ ‏"‏ ‏.‏ ثُمَّ أَتَى عَلَى ثَنِيَّةِ هَرْشَى ‏.‏ فَقَالَ ‏"‏ أَىُّ ثَنِيَّةٍ هَذِهِ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا ثَنِيَّةُ هَرْشَى قَالَ ‏"‏ كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى يُونُسَ بْنِ مَتَّى - عَلَيْهِ السَّلاَمُ - عَلَى نَاقَةٍ حَمْرَاءَ جَعْدَةٍ عَلَيْهِ جُبَّةٌ مِنْ صُوفٍ خِطَامُ نَاقَتِهِ خُلْبَةٌ وَهُوَ يُلَبِّي ‏"‏ ‏.‏ قَالَ ابْنُ حَنْبَلٍ فِي حَدِيثِهِ قَالَ هُشَيْمٌ يَعْنِي لِيفًا ‏.‏"

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তিন দিন যাবৎ আমাদের কাছে আসতে পারেননি। সলাতের জন্য ইকামাত দেয়া হলো। আবূ বকর (রাঃ) সামনে এগুতে যাচ্ছিলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজের হুজরার পর্দা উঠাতে বলে তিনি নিজেই তা উঠিয়ে ফেললেন। আমাদের সামনে নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর চেহেরা দেখা গেল। তিনি যখন আমাদের জন্য দেখা দিলেন, তাঁর চেহারা এত সুন্দর দেখাচ্ছিল যে, আমরা ইতোপূর্বে কখনো এমন দৃশ্য দেখিনি। রাবী (আনাস) বলেন, নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) নিজের হাতের ইশারায় আবূ বাক্‌রকে সামনে এগিয়ে যেয়ে সলাত পড়াতে বললেন। অতঃপর আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর্দা টেনে দিলেন। মৃত্যুর আগে পর্যন্ত তিনি আর বাইরে বের হতে পারেননি। (ই.ফা. ৮২৯, ই.সে. ৮৪২)


সহিহ মুসলিম ৮৩৪

وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنْ دَاوُدَ، عَنْ أَبِي الْعَالِيَةِ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ سِرْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْنَ مَكَّةَ وَالْمَدِينَةِ فَمَرَرْنَا بِوَادٍ فَقَالَ ‏‏ أَىُّ وَادٍ هَذَا ‏"‏ ‏.‏ فَقَالُوا وَادِي الأَزْرَقِ ‏.‏ فَقَالَ ‏"‏ كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى مُوسَى صلى الله عليه وسلم فَذَكَرَ مِنْ لَوْنِهِ وَشَعْرِهِ شَيْئًا لَمْ يَحْفَظْهُ دَاوُدُ وَاضِعًا إِصْبَعَيْهِ فِي أُذُنَيْهِ لَهُ جُؤَارٌ إِلَى اللَّهِ بِالتَّلْبِيَةِ مَارًّا بِهَذَا الْوَادِي ‏"‏ ‏.‏ قَالَ ‏"‏ ثُمَّ سِرْنَا حَتَّى أَتَيْنَا عَلَى ثَنِيَّةٍ فَقَالَ ‏"‏ أَىُّ ثَنِيَّةٍ هَذِهِ ‏"‏ ‏.‏ قَالُوا هَرْشَى أَوْ لِفْتٌ ‏.‏ فَقَالَ ‏"‏ كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَى يُونُسَ عَلَى نَاقَةٍ حَمْرَاءَ عَلَيْهِ جُبَّةُ صُوفٍ خِطَامُ نَاقَتِهِ لِيفٌ خُلْبَةٌ مَارًّا بِهَذَا الْوَادِي مُلَبِّيًا ‏"‏ ‏.‏"

আবূ মুসা (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি বলেন,রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) রোগাক্রান্ত হয়ে পড়লেন এবং তা দিন দিন বাড়তে লাগল। তিনি বললেনঃ আবূ বকর (রাঃ) -কে লোকদের সলাতের ইমামতি করতে বলো। ‘আয়িশা (রাঃ) বললেন, হে আল্লাহর রসুল! আবূ বাকর (রাঃ) নরম হৃদয়ের মানুষ। আপনার জায়গায় দাঁড়িয়ে লোকেদের সলাত পড়ানোর শক্তি তার নেই। তিনি বললেন আবূ বাক্‌রকে নির্দেশ দাও, সে যেন লোকেদের নিয়ে সলাত আদায় করে নেয়। তোমরা তো ইউসুফের ঘটনা সংক্রান্ত মহিলাদের মতই। রাবী বলেন, অতঃপর আবূ বকর (রাঃ) রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর জীবিত থাকাবস্থায় তাদের সলাতে ইমামতি করলেন। (ই.ফা. ৮৩০, ই.সে. ৮৪৩)


সহিহ মুসলিম > ইমাম আসতে যদি দেরী হয় এবং কোন ফিতনাহ-ফ্যাসাদের সম্ভাবনাও না থাকে, তবে এ পরিস্থিতিতে অন্য কাউকে ইমাম করে সলাত আদায় করে নেয়া

সহিহ মুসলিম ৮৩৫

حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، قَالَ كُنَّا عِنْدَ ابْنِ عَبَّاسٍ فَذَكَرُوا الدَّجَّالَ فَقَالَ إِنَّهُ مَكْتُوبٌ بَيْنَ عَيْنَيْهِ كَافِرٌ ‏.‏ قَالَ فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ لَمْ أَسْمَعْهُ ‏.‏ قَالَ ذَاكَ وَلَكِنَّهُ قَالَ ‏ ‏ أَمَّا إِبْرَاهِيمُ فَانْظُرُوا إِلَى صَاحِبِكُمْ وَأَمَّا مُوسَى فَرَجُلٌ آدَمُ جَعْدٌ عَلَى جَمَلٍ أَحْمَرَ مَخْطُومٍ بِخُلْبَةٍ كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَيْهِ إِذَا انْحَدَرَ فِي الْوَادِي يُلَبِّي ‏" ‏ ‏‏

সাহল ইবনু সা'দ আস্ সা'ইদী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বনী 'আমর ইবনু ‘আওফ গোত্রের মধ্যে (তাদের অভ্যন্ত্ররীণ ঝগড়া) মীমাংসা করে দেয়ার জন্য চলে গেলেন। সলাতের সময় হয়ে আসলো। মুয়াযযিন এসে আবূ বাক্‌র (রাঃ ) -কে বলল, আপনি কি লোকদের সলাত আদায় করিয়ে দিবেন? তাহলে আমি ইকামাত দেই। তিনি বললেন হ্যাঁ। রাবী বলেন, আবূ বকর (রাঃ) সলাত আরম্ভ করলেন। এমতাবস্থায় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এসে গেলেন। তখন লোকেরা সলাত আদায় করছিল। তিনি পিছন দিক থেকে কাতারে শামিল হয়ে গেলেন। লোকেরা হাততালি দিয়ে সংকেত দিল। কিন্তু আবূ বাকর (রাঃ) সলাত রত অবস্থায় এদিকে ভ্রুক্ষেপ করলেন না। অতঃপর লোকেরা যখন বেশি তালি বাজাতে লাগলো, তিনি এদিকে ফিরে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -কে দেখতে পেলেন। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাকে ইশারা করে বললেনঃ নিজের জায়গায় স্থির থাকো। আবূ বাকর (রাঃ) তাঁর দু'হাত উপরে তুলে মহান আল্লাহর প্রশংসা করে রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর এ নির্দেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেন। অতঃপর আবূ বকর (রাঃ) পিছনে সরে এসে লাইনে শামিল হয়ে গেলেন এবং নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সামনে অগ্রসর হয়ে সলাত আদায় করালেন। সলাত সমাপ্ত করে তিনি বললেন, হে আবূ বাক্‌র! আমার নির্দেশের পরও নিজ স্থানে স্থির থাকতে তোমাকে কিসে বাধা দিল? আবূ বকর (রাঃ) বললেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর উপস্থিতিতে আবূ কুহাফার পুত্রের জন্য সলাতে ইমামতি করা কক্ষনো মানায় না। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ আমি তোমাদের বেশি তালি বাজাতে দেখলাম কেন? তোমাদের কারো সলাতে কোন কিছু ঘটলে সে 'সুবহানাল্লাহ' বলবে। সে যখন 'সুবহানাল্লাহ' বলল তখনই ইমামের কিছু আকষর্ণ করা হলো।মহিলারাই কেবল 'তাসফীহ' (হাততালি) দিবে। (ই.ফা. ৮৩১, ই.সে. ৮৪৪)


সহিহ মুসলিম ৮৩৬

حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، قَالَ كُنَّا عِنْدَ ابْنِ عَبَّاسٍ فَذَكَرُوا الدَّجَّالَ فَقَالَ إِنَّهُ مَكْتُوبٌ بَيْنَ عَيْنَيْهِ كَافِرٌ ‏.‏ قَالَ فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ لَمْ أَسْمَعْهُ ‏.‏ قَالَ ذَاكَ وَلَكِنَّهُ قَالَ ‏ ‏ أَمَّا إِبْرَاهِيمُ فَانْظُرُوا إِلَى صَاحِبِكُمْ وَأَمَّا مُوسَى فَرَجُلٌ آدَمُ جَعْدٌ عَلَى جَمَلٍ أَحْمَرَ مَخْطُومٍ بِخُلْبَةٍ كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَيْهِ إِذَا انْحَدَرَ فِي الْوَادِي يُلَبِّي ‏" ‏ ‏‏

সাহল ইবনু সা'দ (রাঃ) হতে মালিক-এর সূত্রে থেকে বর্নিতঃ

উপরের হাদীসের অনুরূপ হাদীস বর্ণিত হয়েছে। তবে এ সূত্রের শেষের বর্ণনাটুকু হচ্ছেঃ আবূ বকর (রাঃ) উভয় হাত উত্তোলন করে আল্লাহর প্রশংসা করলেন, অতঃপর উল্টো হয়ে পিছে চলে আসলেন এবং লাইনে শামিল হলেন। (ই.ফা. ৮৩২, ই.সে. ৮৪৫)


সহিহ মুসলিম ৮৩৭

حَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، عَنْ مُجَاهِدٍ، قَالَ كُنَّا عِنْدَ ابْنِ عَبَّاسٍ فَذَكَرُوا الدَّجَّالَ فَقَالَ إِنَّهُ مَكْتُوبٌ بَيْنَ عَيْنَيْهِ كَافِرٌ ‏.‏ قَالَ فَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ لَمْ أَسْمَعْهُ ‏.‏ قَالَ ذَاكَ وَلَكِنَّهُ قَالَ ‏ ‏ أَمَّا إِبْرَاهِيمُ فَانْظُرُوا إِلَى صَاحِبِكُمْ وَأَمَّا مُوسَى فَرَجُلٌ آدَمُ جَعْدٌ عَلَى جَمَلٍ أَحْمَرَ مَخْطُومٍ بِخُلْبَةٍ كَأَنِّي أَنْظُرُ إِلَيْهِ إِذَا انْحَدَرَ فِي الْوَادِي يُلَبِّي ‏" ‏ ‏‏

সাহ্‌ল ইবনু সা'দ আস্‌ সা'ইদী (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

উপরোক্ত হাদীসের ন্যায় বর্ণনা করেন, আল্লাহর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বনী 'আম্‌র ইবনু 'আওফ গোত্রের অভ্যন্তরীণ বিবাদ মীমাংসা করতে গেলেন। ... পরবর্তী বর্ণনা উপরের হাদীসের অনুরূপ। এ বর্ণনায় আরও আছেঃ রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পিছনের লাইন ভেঙ্গে সামনের লাইনে আসলেন। আর আবূ বকর (রাঃ) উল্টো পিঠে পিছনে চলে আসলেন। (ই.ফা. ৮৩৩, ই.সে. ৮৪৬)


সহিহ মুসলিম ৮৩৮

وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ حَدَّثَنِي عَطَاءُ بْنُ يَزِيدَ اللَّيْثِيُّ، ثُمَّ الْجُنْدَعِيُّ أَنَّ عُبَيْدَ، اللَّهِ بْنَ عَدِيِّ بْنِ الْخِيَارِ أَخْبَرَهُ أَنَّ الْمِقْدَادَ بْنَ عَمْرِو بْنِ الأَسْوَدِ الْكِنْدِيَّ - وَكَانَ حَلِيفًا لِبَنِي زُهْرَةَ وَكَانَ مِمَّنْ شَهِدَ بَدْرًا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - أَنَّهُ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ إِنْ لَقِيتُ رَجُلاً مِنَ الْكُفَّارِ ثُمَّ ذَكَرَ بِمِثْلِ حَدِيثِ اللَّيْثِ ‏.‏

মুগীরাহ্‌ ইবনু শু'বাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

তিনি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) -এর সাথে তাবূকের যুদ্ধে অংশগ্রহন করেন। মুগীরাহ্‌ (রাঃ) বলেন, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ফাজরের সলাতের আগে পায়খানায় গেলেন এবং আমি তার সাথে পানির পাত্র নিয়ে গেলাম, তিনি যখন পায়খানা থেকে ফিরে আমার কাছে আসলেন, আমি তাঁর উভয় হাতে পাত্র থেকে পানি ঢালতে লাগলাম। তিনি তাঁর উভয় হাত তিনবার ধুলেন। অতঃপর তিনি মুখমণ্ডল ধুলেন। অতঃপর জুব্বার হাতা উপরের দিকে উঠিয়ে তার মধ্য থেকে হাত বের করতে চাইলেন। কিন্তু জুব্বার হাতা অপ্রশস্ত থাকায় তা সম্ভব হলো না। তিনি নিজের উভয় হাত জুব্বার ভিতরে টেনে নিয়ে তা জুব্বার নীচের দিক দিয়ে বাইরে বের করলেন। অতঃপর উভয় হাত কনুই পর্যন্ত ধুলেন। অতঃপর মোজার উপর মাসাহ করলেন। অতঃপর তিনি রওনা হলেন। মুগীরাহ (রাঃ) বলেন, আমিও তার সাথে সাথে অগ্রসর হলাম। আমরা পৌছে দেখলাম, লোকেরা 'আবদুর রহমান ইবনু 'আওফকে সামনে দিয়ে (তাকে ইমাম বানিয়ে ) সলাত আদায় করছে। রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এক রাক'আত পেলেন। তা তিনি তাদের সাথে জাম'আতে আদায় করলেন। 'আবদুর রহ্‌মান ইবনু 'আওফ (রাঃ) সালাম ফিরানোর পর রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর অবশিষ্ট সলাত পূর্ণ করার জন্য দাঁড়িয়ে গেলেন। এতে মুসলিমরা ভয় পেয়ে গেলেন। তারা অত্যাধিক পরিমাণে তাসবীহ্‌ পাঠ করতে লাগলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সালাম শেষ করে তাদের দিকে মুখ করে বললেনঃ তোমরা সঠিক কাজ করেছ। তিনি খুশীর সাথে বললেনঃ তোমরা নির্ধারিত সময়ে সলাত আদায় করো। (ই.ফা. ৮৩৪, ই.সে. ৮৪৭)


সহিহ মুসলিম ৮৩৯

وَحَدَّثَنِي حَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ حَدَّثَنِي عَطَاءُ بْنُ يَزِيدَ اللَّيْثِيُّ، ثُمَّ الْجُنْدَعِيُّ أَنَّ عُبَيْدَ، اللَّهِ بْنَ عَدِيِّ بْنِ الْخِيَارِ أَخْبَرَهُ أَنَّ الْمِقْدَادَ بْنَ عَمْرِو بْنِ الأَسْوَدِ الْكِنْدِيَّ - وَكَانَ حَلِيفًا لِبَنِي زُهْرَةَ وَكَانَ مِمَّنْ شَهِدَ بَدْرًا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم - أَنَّهُ قَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ أَرَأَيْتَ إِنْ لَقِيتُ رَجُلاً مِنَ الْكُفَّارِ ثُمَّ ذَكَرَ بِمِثْلِ حَدِيثِ اللَّيْثِ ‏.‏

হামযাহ্‌ ইবনু মুগীরাহ্‌ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ

আব্বাদ (রাঃ) -এর হাদীসের অনুরূপ বর্ণিত হয়েছে। মুগীরাহ্‌ (রাঃ) বলেন, আমি 'আবদুর রহমান ইবনু ‘আওফকে পিছনে সরিয়ে আনার ইচ্ছা করলাম। কিন্তু নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেনঃ তাকে নিজ অবস্থায় ছেড়ে দাও। (ই.ফা. ৮৩৫, ই.সে. ৮৪৮)


🔄 লোড হচ্ছে...
ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية