সহিহ মুসলিম > শিরক ঘৃণ্যতম গুনাহ এবং শিরকের পরে সর্বাপেক্ষা বড় গুনাহ
সহিহ মুসলিম ১৫৮
وَحَدَّثَنِي الْفَضْلُ بْنُ سَهْلٍ، قَالَ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ، حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ شُرَحْبِيلَ بْنِ سَعْدٍ، وَكَانَ، مُتَّهَمًا .
‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
আমি রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর কাছে জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর নিকট সর্বাপেক্ষা বড় গুনাহ কোনটি? তিনি বললেন, আল্লাহর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বী স্থির করা অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। আমি বললাম, এটা তো বড় গুনাহ বটে। এরপর কোনটি? তিনি বললেন, আপন সন্তানকে এ আশঙ্কায় হত্যা করা যে, সে তোমার আহারের সঙ্গী হবে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে ব্যভিচারে লিপ্ত হওয়া। (ই.ফা. ১৫৯; ই.সে. ১৬৫)
সহিহ মুসলিম ১৫৯
وَحَدَّثَنِي الْفَضْلُ بْنُ سَهْلٍ، قَالَ حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ مَعِينٍ، حَدَّثَنَا حَجَّاجٌ، حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي ذِئْبٍ، عَنْ شُرَحْبِيلَ بْنِ سَعْدٍ، وَكَانَ، مُتَّهَمًا .
‘আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
এক ব্যক্তি বলল, ইয়া রসূলুল্লাহ। আল্লাহর কাছে সর্বাপেক্ষা বড় গুনাহ কোনটি? তিনি বললেন তুমি আল্লাহর জন্য প্রতিদ্বন্দ্বী সাব্যস্ত করবে অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। সে বলল, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, তুমি তোমার সন্তানকে এ আশঙ্কায় হত্যা করবে যে, সে তোমার আহারে ভাগ বসাবে। সে বলল, তারপর কোনটি? তিনি বললেন, তোমার প্রতিবেশীর স্ত্রীর সাথে ব্যভিচার লিপ্ত হবে। এ উক্তির সমর্থনে আল্লাহ তা’আলা নাযিল করেন, “আর তারা আল্লাহর সঙ্গে কোন ইলাহকে ডাকে না, আল্লাহ যার হত্যা নিষেধ করেছেন যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা করে না এবং ব্যভিচার করে না। যে ব্যক্তি এগুলো করে সে শাস্তি ভোগ করবে” (সূরা আল-ফোরকান ২৫ : ৬৮) (ই.ফা. ১৬০; ই.সে. ১৬৬)
সহিহ মুসলিম > কাবীরাহ গুনাহ এবং এর মধ্যে সর্বাপেক্ষা বড় গুনাহ
সহিহ মুসলিম ১৬০
وَحَدَّثَنِي مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ قُهْزَاذَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا إِسْحَاقَ الطَّالَقَانِيَّ، يَقُولُ سَمِعْتُ ابْنَ الْمُبَارَكِ، يَقُولُ لَوْ خُيِّرْتُ بَيْنَ أَنْ أَدْخُلَ الْجَنَّةَ وَبَيْنَ أَنْ أَلْقَى عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مُحَرَّرٍ لاَخْتَرْتُ أَنْ أَلْقَاهُ ثُمَّ أَدْخُلَ الْجَنَّةَ فَلَمَّا رَأَيْتُهُ كَانَتْ بَعْرَةٌ أَحَبَّ إِلَىَّ مِنْهُ .
আবূ বাকরাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
আমরা রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট উপস্থিত ছিলাম। তখন তিনি বললেন, আমি কি তোমাদের কাবীরাহ গুনাহ [৪০] সম্পর্কে বলব না? তিনি এ কথাটি তিনবার বললেন। (তারপর বললেন, সেগুলো হলো-(১) আল্লাহর সাথে শারীক করা; (২) পিতামাতার অবাধ্য হওয়া; (৩) মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া কিংবা কথা বলা। এ সময় রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) হেলান দিয়ে বসা ছিলেন। তিনি সোজা হয়ে বসলেন এবং (শেষোক্ত) কথাটি বারবার বলতে লাগলেন। এমন কি আমরা মনে মনে বলছিলাম, আহা তিনি যদি থামতেন। (ই.ফা. ১৬১; ই.সে. ১৬৭)
সহিহ মুসলিম ১৬১
وَحَدَّثَنِي الْفَضْلُ بْنُ سَهْلٍ، حَدَّثَنَا وَلِيدُ بْنُ صَالِحٍ، قَالَ قَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو قَالَ زَيْدٌ يَعْنِي ابْنَ أَبِي أُنَيْسَةَ لاَ تَأْخُذُوا عَنْ أَخِي، .
আনাস (রাঃ)-এর সূত্রে থেকে বর্নিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) থেকে কাবীরাহ গুনাহ সম্পর্কে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেনঃ তা হলো আল্লাহর সাথে শারীক করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া, কাউকে হত্যা করা এবং মিথ্যা কথা বলা। (ই.ফা. ১৬২; ই.সে. ১৬৮)
সহিহ মুসলিম ১৬২
وَحَدَّثَنِي الْفَضْلُ بْنُ سَهْلٍ، حَدَّثَنَا وَلِيدُ بْنُ صَالِحٍ، قَالَ قَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَمْرٍو قَالَ زَيْدٌ يَعْنِي ابْنَ أَبِي أُنَيْسَةَ لاَ تَأْخُذُوا عَنْ أَخِي، .
আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কাবীরাহ গুনাহের বর্ণনা করেন অথবা তাকে কাবীরাহ গুনাহের ব্যাপারে প্রশ্ন করা হয়। তখন তিনি, আল্লাহর সাথে শারীক করা, অন্যায়ভাবে কাউকে হত্যা করা, পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া অতঃপর তিনি বললেন, আমি কি তোমাদের সবচাইতে বড় গুনাহ সম্পর্কে অবহিত করব না? তিনি বললেন, মিথ্যা কথা বলা অথবা মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া। রাবী শু’বাহ বলেন, আমার প্রবল ধারণা যে, কথাটি হলো ..... .. ‘মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া’। (ই.ফা. ১৬৩; ই.সে. ১৬৯)
সহিহ মুসলিম ১৬৩
حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الدَّوْرَقِيُّ، قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ السَّلاَمِ الْوَابِصِيُّ، قَالَ حَدَّثَنِي عَبْدُ اللَّهِ بْنُ جَعْفَرٍ الرَّقِّيُّ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ كَانَ يَحْيَى بْنُ أَبِي أُنَيْسَةَ كَذَّابًا .
আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ধ্বংসকারী সাতটি কাজ থেকে তোমরা বেঁচে থেকো। প্রশ্ন করা হলো-হে আল্লাহর রসূল সে গুলো কি? তিনি বললেনঃ (১) আল্লাহর সাথে শারীক করা; (২) যাদু করা; (৩) আল্লাহ যার হত্যা নিষেধ করেছেন যথার্থ কারণ ছাড়া তাকে হত্যা; (৪) ইয়াতীমের মাল অন্যায়ভাবে আত্নসাৎ করা; (৫) সুদ খাওয়া; (৬) যুদ্ধক্ষেত্রে থেকে পলায়ন করা এবং (৭) সাধ্বী, সরলমনা ও ইমানদার নারীর প্রতি অপবাদ আরোপ করা। (ই.ফা. ১৬৪; ই.সে. ১৭০)
সহিহ মুসলিম ১৬৪
حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ، قَالَ ذُكِرَ فَرْقَدٌ عِنْدَ أَيُّوبَ فَقَالَ إِنَّ فَرْقَدًا لَيْسَ صَاحِبَ حَدِيثٍ .
‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘আমর ইবনুল ‘আস (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ পিতা-মাতাকে গালি দেয়া কাবীরাহ গুনাহ। সহাবা কিরাম প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রসূল! কেউ কি তার পিতা-মাতাকে গালি দিতে পারে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। কোন ব্যক্তি অন্যের পিতাকে গালি দেয় প্রত্যত্তরে সেও তার পিতাকে গালি দেয়। কেউ বা অন্যের মাকে গালি দেয় জবাবে সেও তার মাকে গালি দেয়। (ই.ফা. ১৬৫; ই.সে. ১৭১)
সহিহ মুসলিম ১৬৫
حَدَّثَنِي أَحْمَدُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنِي سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، عَنْ حَمَّادِ بْنِ زَيْدٍ، قَالَ ذُكِرَ فَرْقَدٌ عِنْدَ أَيُّوبَ فَقَالَ إِنَّ فَرْقَدًا لَيْسَ صَاحِبَ حَدِيثٍ .
সা’ঈদ ইবনু ইবরাহীম (রাঃ)-এর সূত্রে থেকে বর্নিতঃ
অনুরূপ হাদীস বর্ণনা করেছেন। (ই.ফা. ১৬৬; ই.সে. ১৭২)