সহিহ মুসলিম > প্রতিবেশী ও মেহমানকে সম্মান প্রদর্শন করতে উৎসাহিত করা, কল্যাণ সাধন ব্যতীত নিরবতা অবলম্বন করা এবং এগুলো ঈমানের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার বর্ণনা
সহিহ মুসলিম ৭৭
وَحَدَّثَنِي حَجَّاجُ بْنُ الشَّاعِرِ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، - يَعْنِي ابْنَ يُونُسَ - حَدَّثَنَا زَائِدَةُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، أَنَّ الْحَارِثَ، قَالَ تَعَلَّمْتُ الْقُرْآنَ فِي ثَلاَثِ سِنِينَ وَالْوَحْىَ فِي سَنَتَيْنِ - أَوْ قَالَ الْوَحْىَ فِي ثَلاَثِ سِنِينَ وَالْقُرْآنَ فِي سَنَتَيْنِ .
আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের উপর ঈমান রাখে সে যেন ভালো কথা বলে, নতুবা চুপ থাকে। যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের উপর ঈমান রাখে, সে যেন প্রতিবেশীর সাথে সদ্ধ্যবহার করে। যে ব্যক্তি আল্লাহর আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে, সে যেন মেহমানদের সমাদর করে। (ই.ফা. ৭৯; ই.সে. ৮১)
সহিহ মুসলিম ৭৮
وَحَدَّثَنِي حَجَّاجُ بْنُ الشَّاعِرِ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، - يَعْنِي ابْنَ يُونُسَ - حَدَّثَنَا زَائِدَةُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، أَنَّ الْحَارِثَ، قَالَ تَعَلَّمْتُ الْقُرْآنَ فِي ثَلاَثِ سِنِينَ وَالْوَحْىَ فِي سَنَتَيْنِ - أَوْ قَالَ الْوَحْىَ فِي ثَلاَثِ سِنِينَ وَالْقُرْآنَ فِي سَنَتَيْنِ .
আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ও আখিরাতের উপর বিশ্বাস রাখে সে যেন তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয় এবং যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ও আখিরাতের উপর ঈমান রাখে সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর প্রতি ও আখিরাতের উপর বিশ্বাস রাখে সে যেন ভালো কথা বলে নতুবা চুপ থাকে। (ই.ফা. ৮০; ই.সে. ৮২)
সহিহ মুসলিম ৭৯
وَحَدَّثَنِي حَجَّاجُ بْنُ الشَّاعِرِ، حَدَّثَنَا أَحْمَدُ، - يَعْنِي ابْنَ يُونُسَ - حَدَّثَنَا زَائِدَةُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، أَنَّ الْحَارِثَ، قَالَ تَعَلَّمْتُ الْقُرْآنَ فِي ثَلاَثِ سِنِينَ وَالْوَحْىَ فِي سَنَتَيْنِ - أَوْ قَالَ الْوَحْىَ فِي ثَلاَثِ سِنِينَ وَالْقُرْآنَ فِي سَنَتَيْنِ .
আবূ হুরায়রাহ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ পরবর্তী অংশ রাবী আবূ হাসীনের অনুরূপ। তবে এতে রয়েছে “তার প্রতিবেশীর প্রতি যেন ভালো ব্যবহার করে।” (ই.ফা. ৮১; ই.সে. ৮৩)
সহিহ মুসলিম ৮০
وَحَدَّثَنِي حَجَّاجٌ، قَالَ حَدَّثَنِي أَحْمَدُ، - وَهُوَ ابْنُ يُونُسَ - حَدَّثَنَا زَائِدَةُ، عَنْ مَنْصُورٍ، وَالْمُغِيرَةِ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، أَنَّ الْحَارِثَ، اتُّهِمَ .
আবূ শুরায়হ্ আল খুযা‘ঈ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে সে যেন তার মেহমানকে সম্মান করে। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও আখিরাতের প্রতি ঈমান রাখে সে যেন ভালো কথা বলে, নতুবা নিরবতা অবলম্বন করে। (ই.ফা. ৮২; ই.সে. ৮৪)
সহিহ মুসলিম > মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করা ঈমানের অঙ্গ। ঈমান হ্রাস ও বৃদ্ধি হয়। ভালো কাজের আদেশ করা ও মন্দ কাজের নিষেধ করা ওয়াজিব
সহিহ মুসলিম ৮১
وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ حَمْزَةَ الزَّيَّاتِ، قَالَ سَمِعَ مُرَّةُ الْهَمْدَانِيُّ، مِنَ الْحَارِثِ شَيْئًا فَقَالَ لَهُ اقْعُدْ بِالْبَابِ . قَالَ فَدَخَلَ مُرَّةُ وَأَخَذَ سَيْفَهُ - قَالَ - وَأَحَسَّ الْحَارِثُ بِالشَّرِّ فَذَهَبَ .
তারিক ইবনু শিহাব (আবূ বাক্র ইবনু আবী শাইবার হাদীসে) থেকে বর্নিতঃ
মারওয়ান ঈদের দিন সলাতের পূর্বে খুত্বাহ্ দেয়ার (বিদ‘আতী) প্রথা প্রচলন করে। এ সময় এক ব্যক্তি দাঁড়িয়ে বলল, ‘‘খুতবার আগে সলাত’’ (সম্পন্ন করুন)। মারওয়ান বললেন, এখন থেকে সে নিয়ম পরিত্যাগ করা হলো। সাথে সাথে আবূ সা‘ঈদ আল খুদরী (রাঃ) উঠে বললেন, ঐ ব্যক্তি তার কর্তব্য পালন করেছে। আমি রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলতে শুনেছি, তোমাদের কেউ গর্হিত কাজ হতে দেখলে সে যেন স্বহস্তে (শক্তি প্রয়োগে) পরিবর্তন করে দেয়, যদি তার সে ক্ষমতা না থাকে, তবে মুখ (বাক্য) দ্বারা এর পরিবর্তন করবে। আর যদি সে সাধ্যও না থাকে, তখন অন্তর দ্বারা করবে, তবে এটা ঈমানের দুর্বলতম পরিচায়ক। (ই.ফা. ৮৩; ই.সে. ৮৫)
সহিহ মুসলিম ৮২
وَحَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ حَمْزَةَ الزَّيَّاتِ، قَالَ سَمِعَ مُرَّةُ الْهَمْدَانِيُّ، مِنَ الْحَارِثِ شَيْئًا فَقَالَ لَهُ اقْعُدْ بِالْبَابِ . قَالَ فَدَخَلَ مُرَّةُ وَأَخَذَ سَيْفَهُ - قَالَ - وَأَحَسَّ الْحَارِثُ بِالشَّرِّ فَذَهَبَ .
আবূ সা‘ঈদ আল খুদরী (রাঃ)-এর সূত্রে থেকে বর্নিতঃ
মারওয়ানের ঘটনা বর্ণনা করেছেন। আর এ হাদীসটি শু‘বাহ্ ও সুফ্ইয়ানের বর্ণিত হাদীসের মতোই। (ই.ফা. ৮৪; ই.সে. ৮৬)
সহিহ মুসলিম ৮৩
وَحَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، - يَعْنِي ابْنَ مَهْدِيٍّ - حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، قَالَ قَالَ لَنَا إِبْرَاهِيمُ إِيَّاكُمْ وَالْمُغِيرَةَ بْنَ سَعِيدٍ وَأَبَا عَبْدِ الرَّحِيمِ فَإِنَّهُمَا كَذَّابَانِ .
‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ আমার পূর্বে আল্লাহ তা‘আলা যে নবীকেই কোন উম্মাতের মধ্যে পাঠিয়েছেন, তাদের মধ্যে তাঁর জন্য একদল অনুসারী ও সহাবা ছিল। তারা তাঁর সুন্নাতকে সমুন্নত রাখত এবং তাঁর নির্দেশের অনুসরণ করত। অতঃপর তাদের অবর্তমানে কতগুলো মন্দ লোক স্থলাভিষিক্ত হয়। তারা মুখে যা বলে নিজেরা তা করে না। আর যা করে তার জন্য তাদেরকে নির্দেশ করা হয়নি। অতএব যে ব্যক্তি তাদের হাত (শক্তি) দ্বারা মুকাবিলা করবে, সে মু’মিন। এরপর আর সরিষার দানা পরিমাণও ঈমানের স্তর নেই। আবূ নাফি’ বলেন, আমি এ হাদীসটি ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ)-কে বললাম। তিনি আমার সামনে এটা অস্বীকার করলেন। পরে এক সময় ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) ‘কানাত’ (মাদীনার কাছাকাছি একটি) নামক স্থানে আসলেন। ‘আবদুল্লাহ ইবনু ‘উমার (রাঃ) অসুস্থ ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদকে দেখার জন্য আমাকে সঙ্গে নিয়ে গেলেন। আমি তাঁর সাথে গেলাম। যখন আমরা বসে পড়লাম, তখন আমি ‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদকে এ হাদীস সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি আমাকে অবিকল সেরূপ-ই বর্ণনা করলেন, যেরূপ আমি ইবনু ‘উমার (রাঃ)-কে বর্ণনা করেছিলাম। সালিহ বলেন, আবূরাফি’ থেকে হুবহু এরূপই বর্ণিত হয়েছে। (ই.ফা. ৮৫; ই.সে. ৮৭)
সহিহ মুসলিম ৮৪
وَحَدَّثَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ سَعِيدٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ، - يَعْنِي ابْنَ مَهْدِيٍّ - حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنِ ابْنِ عَوْنٍ، قَالَ قَالَ لَنَا إِبْرَاهِيمُ إِيَّاكُمْ وَالْمُغِيرَةَ بْنَ سَعِيدٍ وَأَبَا عَبْدِ الرَّحِيمِ فَإِنَّهُمَا كَذَّابَانِ .
‘আবদুল্লাহ ইবনু মাস‘ঊদ (রাঃ) থেকে বর্নিতঃ
রসূলুল্লাহ্ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ ‘‘যে কোন নবীর জন্য এমন কিছু সংখ্যক নিবেদিত প্রাণ সহচর জুটেছিল, যারা তাঁর নির্দেশিত পথে জীবন যাপন করেছেন এবং তাঁর সুন্নাতকে সমুন্নত রেখেছেন।” হাদীসের অবশিষ্টাংশ হুবহু সালিহ-এর হাদীসের অনুরূপ। তবে এ বর্ণনায় ইবনু মাস‘ঊদের আগমন ও তাঁর সাথে ইবনু ‘উমারের একত্রিত হওয়ার কথা উল্লেখ নেই। (ই.ফা. ৮৬; ই.সে. ৮৮)