📄 অনেক মানুষের কাছে সঠিক আকীদা ও তার দাবীসমূহ সুস্পষ্ট নয়
উপরোক্ত কথার মাধ্যমে বলতে চাই যে, আশায়েরা, মাতুরিদীয়া এবং জাহমীয়া আকীদার বিশ্বাসীতো দূরের কথা, যারা সালাফী আকীদায় বিশ্বাসী তাদের অনেকের কাছেও সঠিক আকীদার দাবী সুস্পষ্ট নয়। মাসআলাটি তেমন সহজ নয়, যেমন মনে করে থাকেন কুরআন-সুন্নাহর দিকে আহবানকারী আমাদের কতক দাঈ ভাইগণ। কারণ পূর্বেই বলা হয়েছে, তা হল জাহেলী যামানার মুশরেক এবং বর্তমানকালের অধিকাংশ মুসলমানের মধ্যে পার্থক্য। জাহেলী যামানার মুশরেকরা 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ'এর অর্থ বুঝার পরও তা মুখে উচ্চারণ করতে অস্বীকার করছে। আর বর্তমানকালের মুসলমানেরা তার সঠিক অর্থ না বুঝেই উচ্চারণ করছে। এই মূল পার্থক্যটিও বর্তমানে আল্লাহ আরশের উপরে বর্তমান থাকার মাসআলাতেও পাওয়া যাচ্ছে।
মাসআলাটি আরো বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা দরকার। আল্লাহর বাণী, “দয়াময় আল্লাহ আরশের উপরে" এবং রাসূল (ﷺ) এর বাণী,
(ارْحَمُوا مَنْ فِي الْأَرْضِ يَرْحَمُكُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ)
"তোমরা যমিনে যারা আছে তাদের প্রতি অনুগ্রহ কর তাহলে আকাশে যিনি আছেন তিনি তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করবেন"।' এখানে (ও) শব্দটি নির্দিষ্ট স্থান বুঝাতে ব্যবহার হয়নি। এটি আল্লাহর বাণী:
(أَأَمِنْتُمْ مَنْ فِي السَّمَاءِ أَنْ يَخْسِفَ بِكُمُ الْأَرْضَ)
“তোমরা কি ভাবনামুক্ত হয়ে গেছ যে, আকাশে যিনি আছেন, তিনি তোমাদেরকে ভূগর্ভে বিলীন করে দেবেন।” (সূরা মুলক: ১৬-১৭) এখানে )في( শব্দটি علی(( অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। একথার পক্ষে অনেক দলীল রয়েছে। যেমন পূর্বের প্রসিদ্ধ হাদীসটি। "তোমরা জমিনে যারা আছে তাদের প্রতি অনুগ্রহ কর, তাহলে আকাশে যিনি আছেন, তিনি তোমাদের প্রতি অনুগ্রহ করবেন” একথার মাধ্যমে যমিনের অভ্যন্তরে লুকায়িত কীটপতঙ্গ উদ্দেশ্য নয়; বরং যমিনের উপরে যত মানুষ ও জীব-জন্ত রয়েছে সবই উদ্দেশ্য। এটি রাসূল (ﷺ) এর বাণী “আকাশে যিনি আছেন তিনি তোমাদেরকে অনুগ্রহ করবেন”এর মতই। অর্থাৎ যিনি আকাশের উপরে আছেন। যারা হকের দাওয়াত দেন, তাদেরকে এধরণের ব্যাখ্যা অবশ্যই জানতে হবে।
ছাগলের রাখালনীর হাদীসটির অর্থ উপরোক্ত ব্যাখ্যার খুবই কাছাকাছি, যা সকলের নিকট অতি প্রসিদ্ধ। এখানে শুধু দলীল গ্রহণের স্থানটি উল্লেখ করব। তা এই যে, নবী (ﷺ) যখন তাকে জিজ্ঞাসা করলেন: আল্লাহ কোথায়? উত্তরে সে বলল: আকাশে।² আজকের দিনে আজহার বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় বড় শায়খদেরকে যদি আপনি জিজ্ঞাসা করেন: আল্লাহ কোথায়? তারা বলবে সকল স্থানেই আল্লাহ বিরাজমান। অথচ সাধারণ একজন দাসী উত্তর দিল যে আল্লাহ আকাশে। নবী (ﷺ) এ কথার স্বীকৃতি প্রদান করলেন। স্বীকৃতি দেয়ার কারণ হল, সে তার ফিতরাত তথা প্রকৃত স্বভাব থেকে উত্তর দিয়েছিল। সে আমাদের সালাফী সমাজের মত নির্ভেজাল পরিবেশে বসবাস করে রাসূল(ﷺ)এর মাদরাসায় শিক্ষাপ্রাপ্ত হয়েছিল। এই মাদরাসাটি বিশেষ কোন নারী-পুরুষের জন্য নির্দিষ্ট ছিলনা; বরং তা সকল নারী-পুরুষ তথা সমাজের সকল মানুষের জন্য উন্মুক্ত ছিল। এই জন্যই ছাগলের রাখালনী সঠিক আকীদা জানতে পেরেছিল। সে অন্য কোন খারাপ পরিবেশের মাধ্যমে কলুষিত না হয়ে কুরআন-সুন্নায় বর্ণিত সঠিক আকীদা শিক্ষা গ্রহণ করেছিল যা বর্তমানে কুরআন-সুন্নার জ্ঞানের দাবীদার অনেক মানুষই জানেনা। তারা জানেনা যে, তাদের প্রতিপালক কোথায় আছেন। অথচ তা আল্লাহর কিতাব এবং রাসূল (ﷺ) এর সুন্নাতে সুস্পষ্টভাবে বর্ণিত রয়েছে। আমি যে ব্যাখ্যা প্রদান করলাম, ছাগলের রাখাল তো দূরের কথা, যারা সমস্ত উম্মতের রাখালী করার দাবী করে তাদের কাছেও এ ব্যাখ্যা পাওয়া যাবেনা। তবে খুব অল্প সংখ্যক মানুষের মাঝে তা পাওয়া যেতে পারে।
টিকাঃ
1- (সহীহ) আবু দাউদ, হাদীছ নং- ৪৯৪১। তিরমিযী হাদীছ নং- ১৯২৫। সিলসিলায়ে সাহীহা: ৯২৫।
2 - মুসলিম, অধ্যায়: কিতাবুস্ সালাত।
📄 সঠিক আকীদার দাওয়াতের ক্ষেত্রে অবিরাম শ্রম ব্যয় করা দরকার
তাওহীদের দাওয়াত দেয়া এবং মানুষের অন্তরে উহা বদ্ধমূল করার জন্য আমাদের উচিত আমরা যেন প্রথম যুগের মানুষের মত আয়াতগুলো ব্যাখ্যা ব্যতীত শুধুমাত্র তিলাওয়াত করাই যথেষ্ঠ না মনে করি। কারণ তারা সহজেই আরবী ভাষার বাক্যসমূহ অনুধাবন করতে সক্ষম ছিলেন। দ্বিতীয়তঃ তাদের মাঝে আকীদার ক্ষেত্রে কোন বিভ্রান্তি, দর্শন কিংবা যুক্তি বিদ্যার প্রভাব ছিলনা। কাজেই সঠিক আকীদার পরিপন্থী কিছুই ছিলনা। আজকের অবস্থা প্রথম যুগের মুসলমানদের অবস্থার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। বর্তমানকালে দাওয়াতী কাজ করা প্রথম যুগের দাওয়াতী কাজের মত সহজ নয়। এ ব্যাপারে কারো দ্বিমত নেই। সেসময় সহজের কারণ হল, সাহাবীগণ নবী (ﷺ) এর কাছ থেকে সরাসরি হাদীস শুনতেন। এমনিভাবে তাবেয়ীগণ সরাসরি সাহাবীদের কাছ থেকে হাদীস শুনতেন। একই অবস্থা বিরাজমান ছিল সম্মানিত তিন যুগে। সে যুগে ইলমুল হাদীস নামে আলাদা কোন ইলম ছিলনা। ছিলনা ইলমুল জারহ্ ওয়াত্ তা'দীল তথা হাদীস যাচাই বাছাই করার জন্য স্বতন্ত্র কোন ইলম। কিন্তু বর্তমানে শিক্ষার্থীদের জন্য এদু'টি ইলম অত্যন্ত জরুরী; বরং তা ফরজে কেফায়ার পর্যায়ে। যাতে করে আলেমগণ হাদীসকে সহীহ কিংবা যঈফ হিসাবে জানতে পারেন। বর্তমানে বিষয়টি তেমন সহজ নয় যেমন সহজ ছিল সাহাবীদের যুগে। কেননা এক সাহাবী অন্য সাহাবীর নিকট থেকে শিক্ষা গ্রহণ করতেন। আর সাহাবীদেরকে স্বয়ং আল্লাহ তা'আলা পবিত্র বলে ঘোষণা করেছেন। সেদিন যা সহজ ছিল আজকে তা সহজ নয়। কারণ সে যুগে শিক্ষা ছিল নির্ভেজাল এবং পরিচ্ছন্ন এবং উস্তাদগণ ছিলেন বিশ্বস্ত। এজন্যই আজকে আমাদের সতর্ক হতে হবে। তাছাড়া আমাদেরকে ঘিরে আছে নানা ধরণের বিপদাপদ, যা পূর্বের মুসলমানদের ছিলনা। সঠিক আকীদা থেকে বিচ্ছিন্ন সম্প্রদায় সঠিক আকীদা সম্পর্কে নানা সন্দেহের জন্ম দেয়ায় সদা তৎপর। এখানে আমরা একটি সহীহ হাদীসের অংশ উল্লেখ করার প্রয়োজন অনুভব করছি। নবী (ﷺ) শেষ যামানায় ইসলামের করুণ অবস্থার উল্লেখ করতে গিয়ে বললেন: “তাদের একজনের জন্য পঞ্চাশ জনের ছাওয়াব রয়েছে। সাহাবীগণ বললেন: "আমাদের ভিতরকার পঞ্চাশ জনের? না তাদের পঞ্চাশ জনের?” উত্তরে তিনি বললেন: “তোমাদের ভিতরকার পঞ্চাশ জনের”।' এটি বর্তমানে ইসলামের দূরবস্থার ফলাফল, যা প্রথম যুগে ছিলনা। প্রথম যুগের সমস্যা ও দ্বন্দ ছিল প্রকাশ্য শির্ক এবং নির্ভেজাল তাওহীদের মধ্যে। কিন্তু বর্তমানের সমস্যা হল মুসলমানদের ভিতরেই। অধিকাংশের তাওহীদ বর্তমানে ভেজালে পরিপূর্ণ। তারা ঈমানের দাবী করে অথচ তাদের ভিতরে গাইরুল্লাহর ইবাদত রয়েছে। এ সমস্যাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা দরকার। এটা বলা কোন ক্রমেই ঠিক হবেনা যে, তাওহীদের পর্ব ছেড়ে দিয়ে আমাদেরকে অন্য একটি পর্বে যেতে হবে। আমি এটা বিশ্বাস করিনা যে, মুসলিম জাতির বিরাট একটি অংশ সঠিক ইসলামকে বুঝতে সক্ষম হয়েছে।
📄 শিক্ষা ও সংস্কারের মূল ভিত্তি
আমরা সব সময় বলি যে, শিক্ষা এবং সংস্কারই হল সামাজিক পরিবর্তনের মূলভিত্তি। দু'টি বিষয় এক সাথে থাকতে হবে। বর্তমান বিশ্বের মুসলিম দেশসমূহের মধ্যে দু'একটি দেশে বিশেষ করে সৌদি আরবে আকীদার ক্ষেত্রে সংস্কার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এটি একটি বিরাট কাজ। আর ইবাদতের ক্ষেত্রে কথা হল, আমাদেরকে মাযহাবী সংকীর্ণতা হতে বের হয়ে আসতে হবে এবং সহীহ সুন্নাতের দিকে ফিরে আসতে হবে। কোন কোন দেশে কতিপয় আলেম যদি ইসলামকে সঠিকভাবে বুঝতে পারে তবে এর অর্থ এই নয় যে তারা ইসলামের ভিতরে অনুপ্রবেশকারী সকল প্রকার দোষ-ত্রুটি থেকে তারা ইসলামকে পবিত্র করতে সক্ষম। চাই তা আকীদার ক্ষেত্রে হোক কিংবা ইবাদতে কিংবা আচার-ব্যবহারে। মোট কথা কতিপয় লোকের মাধ্যমে বর্তমানে সংস্কার সম্ভব নয়; বরং এর জন্য সকলকে সম্মিলিতভাবে প্রচেষ্টা চালাতে হবে। তাই যে কোন সমাজে আকীদার সংশোধন ব্যতীত রাজনৈতিক কর্মকান্ড শুরু করলে মন্দ ফলাফল বয়ে আনবে। যে দেশের শাসকগণ পরামর্শের মাধ্যমে ইসলামী শরীয়ত অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনা করে সেখানে রাজনৈতিক আন্দোলন না করে, নসীহত করাই যথেষ্ঠ। এতেই দায়িত্ব আদায় হয়ে যাবে।
মানুষকে উপকারী বিষয় যেমন, আকীদার সংশোধন, ইবাদত, উত্তম চরিত্র এবং ব্যবহারসমূহ শিক্ষা দেয়াও নসীহতের অন্তর্ভূক্ত।
কেউ কেউ ধারণা করতে পারে যে, আমরা একসাথে সমস্ত ইসলামী সমাজের সংস্কার করতে চাই। এ ধরণের চিন্তা আমরা কখনও করিনা। কারণ এটা বাস্তবায়ন করা অসম্ভব। আল্লাহ তা'আলা কুরআন মাযীদে বলেন:
(وَلَوْ شَاءَ رَبُّكَ لَجَعَلَ النَّاسَ أُمَّةً وَاحِدَةً وَلَا يَزَالُونَ مُخْتَلِفِينَ)
"আর আপনার প্রভু যদি চাইতেন, তবে সমস্ত মানুষকে একটি মাত্র জাতিতে পরিণত করে দিতেন। তারা সদা মতবিরোধে লিপ্ত রয়েছে”। (সূরা হুদ: ১১৮) এদের ব্যাপারে আল্লাহর বাণী বাস্তবায়িত হবেনা যতক্ষণ না তারা সঠিক ইসলামকে বুঝবে এবং নিজেদেরকে, পরিবারকে এবং পার্শ্ববর্তী সকলকে সঠিক ইসলামের শিক্ষায় শিক্ষিত করবে।
📄 কে রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হবে এবং কখন?
বর্তমানে রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হওয়াতে অনেক সমস্যা রয়েছে। তবে আমরা রাজনীতিতে জড়িত হওয়া অস্বীকার করিনা; বরং একই সময়ে সবগুলোতে অংশ গ্রহণ করাতে বিশ্বাস করি। প্রথমে আকীদা সংশোধনের মাধ্যমে শুরু করব তারপর ইবাদত অতঃপর আচার-ব্যবহার। পরবর্তীতে শরীয়ত সমর্থিত রাজনীতে যোগদান করব। কেননা রাজনীতির অর্থই হল জাতির সমস্ত কর্মকান্ড পরিচালনা করা। প্রশ্ন হল কে পরিচালনা করবে? যায়েদ? বকর? আমর না অন্যান্য পার্টি বা আন্দোলনের আমীরগণ? কখনোই নয়। এটি মুসলমানদের বায়আতের মাধ্যমে নির্বাচিত মুসলিম রাষ্ট্র প্রধানের কাজ। কাজেই রাষ্ট্রপ্রধানের উপর রাজনীতি জানা এবং পরিচালনা করা ওয়াজিব। মুসলমানেরা যেহেতু বর্তমানে আঞ্চলিকভাবে বিভক্ত হয়ে পড়েছে তাই প্রত্যেক অঞ্চলের দায়িত্বশীল সে অঞ্চলের কাজ-কর্ম পরিচালনা করতে পারে।
আমরা যদি প্রত্যেকেই রাজনীতি শুরু করি এই ভেবে যে, আমরা তা ভাল বুঝি তথাপিও এটা আমাদের কোন উপকারে আসবেনা। কেননা আমরা তা পরিচালনা করতে অক্ষম। আর আমরা সিদ্বান্ত গ্রহণ এবং তা কার্যকর করার মালিকও নই। কাজেই এ সমস্ত কাজে লিপ্ত হওয়ার অর্থই উপকারহীন কাজে লিপ্ত হওয়া। উদাহরণ স্বরূপ বলা যায় যে, অনেক ইসলামী দেশে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যে সমস্ত যুদ্ধ চলছে, সে ব্যাপারে মুসলমানদেরকে যুদ্ধের জন্য উৎসাহিত করাতে কোন লাভ নেই। কারণ শরীয়ত সম্মত দায়িত্বশীল এমন কোন ইমাম নেই, যার হাতে বায়আত করা হয়েছে। কাজেই উৎসাহিত করাতে কোন লাভ নেই। উৎসাহিত করা যে ওয়াজিব নয় তা বলছিনা; বরং বলছি যে, এখনও বলার সময় হয়নি। এ জন্যই আমাদের কর্তব্য হল নিজেদেরকে এবং অন্যদেরকে ইসলাম বুঝানোর কাজে ব্যস্ত রাখব। আবেগ প্রবন হয়ে জিহাদের জন্য উৎসাহিত করার কারণে সঠিক ইসলামের শিক্ষা অর্জন থেকে বিচ্যুত হয়ে যাওয়ার ভয় রয়েছে। অথচ ইসলামী আকীদা, ইবাদত ও আচরণ শিক্ষা করা সকলের উপর ফরজে আঈন। এতে ত্রুটি করা কারও পক্ষ হতে গ্রহণযোগ্য নয়। এ ছাড়া অন্যান্য বিষয় ফরজে কেফায়ার অন্তর্গত। যেমন রাজনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত হওয়া, যা নেতৃস্থানীয় এবং জ্ঞানীদের দায়িত্ব। তারা ভালভাবে রাজনৈতিক বিষয়গুলো শিক্ষা করে তা বাস্তবে রূপদান করবে। যাদের হাতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা নেই তাদের জন্য এটা শিক্ষা করা জরুরী নয়। তাদের উচিত মানুষকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শিক্ষা দান করা। তারা যদি রাজনৈতিক কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়ে যায় তাহলে তারা দ্বীনের সঠিক জ্ঞান অর্জন এবং তা শিক্ষা দেয়া থেকে বঞ্চিত হবে। বর্তমানে অনেক ইসলামী দলের কর্মপদ্ধতিতে আমরা এটাই লক্ষ করছি। তাতে যুবকদেরকে আকীদা, ইবাদত এবং উত্তম চরিত্র শিক্ষা দেয়ার কোন ব্যবস্থা নেই। এমনকি দলের নেতাগণ রাজনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত হয়ে যে কোনভাবে মানব রচিত পার্লামেন্টের সদস্য হওয়ার চেষ্টা করে। আর এটিই তাদেরকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাদ দিয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের দিকে ধাবিত করেছে।