📄 সর্বপ্রথম তিনি যা করেছেন
হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা.) সর্বপ্রথম ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি সর্বপ্রথম কুরআন জমা করেছেন এবং কুরআনকে মাসহাফ নাম দিয়েছিলেন। তাঁকে সর্বপ্রথম খলীফা বলা হয়েছে।
আহমদ আবু বকর বিন আবু মালিকা থেকে বর্ণনা করেন, হযরত আবু বকরকে আল্লাহর খলীফা বলা হলে তিনি বলেন, আমি আল্লাহর রাসূলের খলীফা। আমি এতেই সন্তুষ্ট এবং এই আমার অহংকার। তিনি সর্বপ্রথম খলিফা যিনি তাঁর পিতার জীবদ্দশায় খলীফা হন। তিনিই সর্বপ্রথম খলীফা যাঁর প্রজারা তাঁর জন্য ভাতা নির্ধারণ করেছিল।
বুখারী শরীফে হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, আমার সম্প্রদায় অবগত যে, আমার উপার্জন আমার পরিবারের খরচ যোগাতে সমর্থ নয়। আবার আমি খিলাফতের কাজ নিয়ে ব্যস্ত, ফলে আমার কোনো উপার্জন নেই। সুতরাং আমার পরিবারকে আমি বাইতুল মাল থেকে খাদ্য দিব।
ইবনে সাদ আতা বিন সায়েব থেকে বর্ণনা করেন, হযরত আবু বকর (রা.) বাইআতের দ্বিতীয় দিবসে কিছু চাদর নিয়ে বাজারে যাচ্ছিলেন। হযরত উমর (রা.) আরয করলেন, কোথায় চলেছেন? তিনি বললেন, বাজারে। হযরত উমর (রা.) বললেন, আপনি এগুলোর (ব্যবসা) ছেড়ে দিন। আপনি জনগণের খলীফা। তিনি বললেন, আমার পরিবার কি খাবে? হযরত উমর (রা.) বললেন, আপনি চলুন, আপনার জন্য আবু উবায়দা (ভাতা) নির্ধারণ করবেন। তাঁরা হযরত আবু উবায়দার নিকট গমন করে বললেন, আমরা আপনার নিকট হযরত আবু বকর (রা.) ও তাঁর পরিবার-পরিজনের জন্যে একজন মধ্যম মানের মুহাজিরের খোরাকী নির্ধারণ করে নিত্যদিনের খোরাকী এবং শীত ও গ্রীষ্মকালীন পোশাক নির্ধারণ করুন। কিন্তু যখন এগুলো পুরাতন হয়ে যাবে তখন এগুলোর পরিবর্তে নতুন কাপড় নিয়ে নিবে। তিনি হযরত আবু বকরের জন্য প্রতিদিনকার খাবার হিসেবে অর্ধেক ছাগলের গোস্ত শরীর ঢাকা উপযোগী কাপড় এবং পেট ভর্তি রুটি নির্ধারণ করলেন।
ইবনে সাদ মাইমুন থেকে রেওয়ায়েত করেন, হযরত আবু বকর খলীফা নির্বাচিত হওয়ার সময় তাঁর জন্য বার্ষিক দু'হাজার দিরহাম ভাতা নির্ধারণ করা হয়। ফলে তিনি বলেন, আমার পারিবারিক পরিসর বৃহৎ। এতে আমার চলবে না। তোমাদের প্রদত্ত খিলাফতের দায়িত্ব আমাকে ব্যবসা করতে বাধা দিচ্ছে- কিছু বাড়িয়ে দাও। ফলে পাঁচশ দিরহাম বৃদ্ধি করা হলো।
তাবারানী স্বরচিত মুসনাদ গ্রন্থে হাসান বিন আলী বিন আবু তালিব (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, হযরত আবু বকর মৃত্যুর সময় আয়েশা সিদ্দীকাকে বলেন, যতক্ষণ মুসলমানদের কাজ করব যে উটনীর দুধ আমি পান করি, যে পেয়ালা এবং চাদর আমি ব্যবহার করি তা আমার জন্য বৈধ। আমার মৃত্যুর পর সেগুলো উমরকে দিয়ে দিবে। কারণ সেগুলো বাইতুল মাল থেকে নেয়া হয়েছে। তার মৃত্যুর সময় সেগুলো হযরত আয়েশা (রা.) হযরত উমরের নিকট পাঠিয়ে দেন। হযরত উমর (রা.) বলেন, আল্লাহ তা'আলা হযরত আবু বকরের প্রতি রহম করুন। তিনি তাঁর এ সকল কষ্ট আমার কারণে সহ্য করেছেন।
ইবনে আবিদ দুনিয়ার আবু বিন হাফস থেকে বর্ণনা করেন, মৃত্যুর সময় হযরত আবু বকর (রা.) আয়েশা সিদ্দীকাকে বলেন, হে আমার কন্যা! যদিও আমি মুসলমানদের খলীফা ছিলাম, কিন্তু আমি কখনই অর্থ-সম্পদ অর্জন করিনি। খুব সাধারণভাবে খানা-পিনা করেছি। হাবশী গোলাম, উটনী এবং পুরাতন চাদর ছাড়া বাইতুল মাল থেকে আমি আর কিছু গ্রহণ করিনি। আমার মৃত্যুর পর এগুলো উমরের নিকট পাঠিয়ে দিও।
তিনি সর্বপ্রথম বাইতুল মাল প্রতিষ্ঠিত করেন। ইবনে সাদ সহল বিন আবী খাইছামা থেকে বর্ণনা করেন, সিদ্দীকে আকবরের যুগে বাইতুল মালে কোনো পাহারাদার ছিল না। লোকেরা বলল, আপনি বাইতুল মালে কেন পাহারাদার নিয়োগ করেননি? তিনি বলনে, তালা লাগিয়ে রাখার পরও পাহারাদারের প্রয়োজন কি? বস্তুত বাইতুল মালে কিছু এলেই তা মুসলমানদের মধ্যে বণ্টন করে দেয়া হতো এবং বাইতুল মাল শূন্য হয়ে থাকত। এক বছর পর বাইতুল মাল হযরত আবু বকর তার বাড়িতে স্থানান্তরিত করে নিয়ে যান। যখনই মাল আসত তিনি তা গরীবদের মধ্যে বিলিয়ে দিতেন এবং কখনও উট, ঘোড়া, অস্ত্র কিনে আল্লাহর রাস্তায় দিয়ে দিতেন। একবার তিনি চাদর কিনে মদীনায় বিধবাদের মধ্যে বিতরণ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর তাঁকে সমাহিত করে হযরত উমর কয়েকজন সম্মানিত সাহাবী যাঁদের মধ্যে আব্দুর রহমান বিন আউফ এবং উসমান বিন আফফান ছিলেন। তাঁদের নিয়ে হিসাব পরীক্ষা করার জন্য বাইতুল মালে গিয়ে দেখেন আল্লাহর নাম ছাড়া সেখানে আর কিছু নেই।
গ্রন্থকার বলেন, উক্ত রেওয়ায়েত দ্বারা রাওয়েলে আসকারীদের মতামত খণ্ডিত হয়েছে। তাদের মতে বাইতুল মালের প্রতিষ্ঠাতা হযরত উমর (রা.) তাদের এ অভিমতটি আমি তাদের এক গ্রন্থে দেখেছি। তাদের আরেক রচনায় আমি এও দেখেছি যে, হযরত আবু বকরের বাইতুল মালের সর্বপ্রথম রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করেন হযরত আবু উবায়দা। হাকেম বলেন, হযরত আবু বকর ইসলামের প্রাথমিক যুগে আতীক উপাধিতে প্রসিদ্ধ ছিলেন।
ষষ্ঠ পরিচ্ছেদ
বুখারী এবং মুসলিম শরীফে জাবের (রা.) বর্ণিত, নবী (সা.) ইরশাদ করেন, যদি বাহরাইন থেকে মালে গনীমত আসে তবে আমি তোমাকে এই এই দিব। তাঁর ইন্তেকালের পর বাহরাইন থেকে মালে গনীমত এলে সিদ্দীকে আকবর ঘোষণা দিলেন যে, এমন কেউ আছ যে নবীজীর কাছে কিছু পাবে, অথবা তিনি তোমাদের কাউকে কিছু দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন? আমি উপস্থিত হলাম। তিনি বললেন, এখান থেকে গ্রহণ করো। আমি গ্রহণ করলাম, যা গণনা করে পাঁচশত মুদ্রা হলো, কিন্তু তিনি আমাকে দেড় হাজার মুদ্রা দিলেন।
📄 দয়া ও নম্রতা
ইবনে আসাকির উনাইসা থেকে রেওয়ায়েত করেন। তিনি বলেন, হযরত আবু বকর খিলাফতের পূর্বে তিন বছর এবং খিলাফতের পর এক বছর আমার সঙ্গে ছিলেন। যখন পাড়ার মেয়েরা ছাগল নিয়ে আসতেন তখন তিনি দুধ দোহন করে দিতেন।
হযরত মাইমুনা (রা.) বলেন, হযরত আবু বকরের নিকট জনৈক ব্যক্তি এসে বলল, হে আল্লাহর রসূলের খলীফা, আপনার প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। তিনি বললেন, সকল মুসলমানের প্রতিও। (আহমদ)
ইবনে আসাকির আবু সালিম গিফারী থেকে বর্ণনা করেন, হযরত উমর (রা.) জনৈক পঙ্গু ও অন্ধ বৃদ্ধার সেবা করতেন। সে মদীনার পার্শ্বে বসবাস করত। তিনি তাঁকে খাওয়াতেন। একদা তিনি তাঁর কাছে গেলে বৃদ্ধা বলল, আপনি আসার পূর্বে কে যেন এসে প্রতিদিন আমার সেবা করে যান। তিনি আশ্চর্য হন। ইত্যবসরে হযরত আবু বকর বেরিয়ে আসেন। সে সময় তিনি খলীফা। তাঁকে দেখে হযরত উমর বললেন, আল্লাহর কসম, আপনি ছাড়া সেই ব্যক্তি কেউ হতে পারেন না।
আবু নুয়াঈম প্রমুখ আব্দুর রহমান আসবাহানী থেকে বর্ণনা করেন, একদা হযরত আবু বকর মিম্বরে আরোহণ করেছিলেন। ইত্যবসরে ইমাম হাসান বিন আলী এসে পড়লেন। সে সময় তিনি কিশোর। বললেন, এ মিম্বর আমার বাবার, আপনি নেমে যান। তিনি বললেন, তুমি সত্য বলেছ, এ মিম্বর তোমার বাবার। এই বলে তিনি তাঁকে কোলে তুলে নিলেন এবং ডুকরে কেঁদে উঠলেন। হযরত আলী (রা.) বলেন, আল্লাহর কসম, আমি এ সম্বন্ধে তাকে কিছুই বলিনি। তিনি বললেন, তুমি সত্যই বলেছ, আমি তোমাকে সন্দেহ করছি না।
সপ্তম পরিচ্ছেদ
ইবনে সাদ ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, ইসলামে সর্বপ্রথম যে হজ্জ অনুষ্ঠিত হয় নবী করীম (সা.) সেখানে হযরত আবু বকরকে পাঠিয়েছিলেন। এরপরের বছর নবী করীম (সা.) হজ্জ করেন। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর ইন্তেকালের পর হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রা.) খলীফা হলে তিনি সর্বপ্রথম হযরত উমরকে হজ্জ করার জন্য প্রেরণ করেন। অতঃপর তিনি হজ্জ করেন। তাঁর মৃত্যুর পর হযরত উমর (রা.) খলীফা হলে তিনি সর্বপ্রথম আব্দুর রহমান বিন আউফকে হজ্জের জন্য প্রেরণ করেন। আর হযরত উমর (রা.) পরের বছর থেকে মৃত্যু অবধি প্রতিবার হজ্জ করেছেন। হযরত উসমান খলীফা হয়েও তিনি সর্বপ্রথম আব্দুর রহমান বিন আউফকেই হজ্জ করার জন্য পাঠান।
📄 অসুস্থতা, মৃত্যু, উপদেশ এবং উমরকে খলীফা নির্ধারণ
সাঈফ এবং হাকেম (রহ.) ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) এবং সিদ্দীকে আকবরের মৃত্যুর কারণ ছিল এক ও অভিন্ন। তাঁর জীবন বিপন্ন হয় এবং সর্বদা দুর্বল হতে থাকেন। অবশেষে তিনি পরপারে যাত্রা করেন। ইবনে সাদ (রহ.) এবং হাকেম (রহ.) ইবনে শিহাব থেকে বিশুদ্ধ সূত্রে লিখেছেন, একদা হযরত আবু বকর সিদ্দীকের নিকট হাদিয়ার গোশত আসে। তিনি হারেছ বিন কিলদাহর সাথে তা আহার করেন। হঠাৎ হারেছ বললেন, হে আল্লাহর রাসূলের খলীফা! আপনি আহার করবেন না। আল্লাহর কসম, আমার মনে হয় এতে বিষ মিশানো আছে। আপনি দেখে নিবেন আমরা উভয়ে একই বছর একই দিনে ইন্তেকাল করব। হযরত আবু বকর খানা থেকে হাত সংকুচিত করলেন। সেদিন থেকে তারা দু'জনই অসুস্থ হয়ে পড়েন। অবশেষে এক বছর পর উভয়ে এক দিনেই পরলোক গমন করেন।
শা'বী বলেন, এ দুনিয়ায় আমরা আর কি আশা করতে পারি যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) এবং হযরত আবু বকর উভয়েকে বিষ খাওয়ানো হয়। ওকেদী এবং হাকেম (রহ.) হযরত আয়েশা সিদ্দীকা থেকে বর্ণনা করেন, হযরত আবু বকরের অসুস্থতা এভাবে শুরু হয়েছিল যে, তিনি জমাদিউল আখের মাসের ৭ তারিখ সোমবারে গোসল করেন। সেদিন ঠাণ্ডা পড়েছিল। তিনি জ্বরে আক্রান্ত হন। পনেরো দিন অসুস্থ থাকার কারণে তিনি বাইরে এসে নামায পড়তে পারেননি। অবশেষে ১৩ হিজরীর জমাউদিউল আখের মাসের ২২ তারিখ মঙ্গলবার রাতে ৬৩ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন।
ইবনে সাদ এবং ইবনে আবিদ দুনিয়া আবুস সফর থেকে বর্ণনা করেন, সাহাবাগণ হযরত আবু বকরের খেদমতে উপস্থিত হয়ে বললেন, আপনি অনুমতি দিলে আমরা কোন ডাক্তার দেখাই! তিনি বললেন, আমাকে ডাক্তার দেখেছে। তারা বললেন, ডাক্তার কি বলেছেন? তিনি বললেন, বলেছেন 'ইন্নি ফায়্যালুল লিমা উরিদুল' (অর্থাৎ, আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেছেন, আমি যা চাই তাই করি)।
ওকেদী ভিন্ন পদ্ধতিতে বর্ণনা করেছেন, হযরত আবু বকরের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তিনি আব্দুর রহমান বিন আউফকে ডেকে বললেন, তুমি উমর ফারুককে কেমন মনে করো? আব্দুর রহমান বিন আউফ (রা.) বললেন, তিনি আমার চেয়ে জ্ঞানী। তিনি বললেন, এরপরও তোমার কোনো মতামত থাকলে বল। আব্দুর রহমান বিন আউফ (রা.) বললেন, আমার মতে এরচেয়েও তিনি বেশি উত্তম। অতঃপর তিনি হযরত উসমানকে ডেকে একই প্রশ্ন করলেন এবং জবাবে হযরত উসমান (রা.) বললেন, তিনি আমার চেয়ে বড় জ্ঞানী। তিনি বললেন, তবুও তোমার মতামত পেশ করো। হযরত উসমান (রা.) বললেন, তাঁর আভ্যন্তরীণ রূপ বাহ্যিক রূপের চেয়ে অনেক বেশি সমৃদ্ধশালী। আমাদের মধ্যে তাঁর মত আর কেউ নেই। তিনি সাঈদ বিন যায়েদ (রা.) এবং উসাইদ বিন হুযায়ের (রা.)-এর সাথেও এ নিয়ে পরামর্শ করেন। উসাইদ (রা.) বললেন, আল্লাহ তা'আলা অবগত আছেন যে, আপনার পর হযরত ওমরই সে ব্যক্তি যিনি আল্লাহর সন্তুষ্টিকে স্বীয় সন্তুষ্টি মনে করেন এবং আল্লাহ যে কাজে অসন্তুষ্ট তিনিও সে কাজে অসন্তুষ্ট হন। তাঁর ভেতরটা বাইরের চেয়েও উত্তম। এ কাজের জন্য তাঁর চেয়ে দক্ষ ও প্রতাপান্বিত আর কেউ নেই। তারপর অন্যান্য সাহাবাগণ এলেন। তাদের মধ্যে থেকে একজন বললেন, আপনি আল্লাহর প্রতি আনুগত্যশীল কঠোর মেযাজের এক ব্যক্তিকে আমাদের উপর চাপিয়ে দিলেন। আল্লাহর দরবারে এর কি জবাব দিবেন? তিনি বললেন, আল্লাহর কসম, তোমরা আমকে ভীতগ্রস্ত করে ফেললে। তবে আমাকে প্রশ্ন করলে বলব, হে আল্লাহ! আমি মুসলমানদের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তিকে খলীফা নির্বাচন করেছি। আমি যা বলছি তিনি তাঁর চেয়ে অনেক বেশি শ্রেষ্ঠ।
এরপর তিনি হযরত উসমানকে ডেকে বললেন, লিখ বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম। এ ওসীয়তনামা আবু বকর বিন আবু কুহাফা দুনিয়ার অন্তিম মুহূর্তে এবং পরপারে যাত্রার প্রাক্কালে লিপিবদ্ধ করায়েছেন, যখন অবিশ্বাসীগণ বিশ্বাস স্থাপন, দুশ্চরিত্রগণ চরিত্রবান এবং মিথ্যুকরা সত্যবাদী হয়ে যেতে চায়। হে জনতা! আমি তোমাদের জন্য আমার পর উমরকে খলীফা নির্বাচন করলাম। তাঁর কথা শুনবে এবং তাঁর আনুগত্য করবে। আমি আল্লাহতাআলা, তাঁর রাসূল, দ্বীন ইসলাম, নিজের এবং তোমাদের সেবায় ত্রুটি করিনি। আমার বিশ্বাস উমর ইনসাফ করবে। যদি এমন হয় তবে আমার অভিব্যক্তি এ অভিমত উপযুক্ত বলে গৃহীত হবে। আর যদি তিনি পরিবর্তন হয়ে যান তাহলে প্রত্যেক লোকের জন্য তাঁকে জবাবদিহি করতে হবে। আমি তোমাদের নিকট থেকে মঙ্গলময় কাজের আশাবাদী। আমি অদৃশ্যের বার্তা বাহক নই। অত্যাচারী অচিরেই জেনে যাবে যে, সে কোথায় শায়িত হয়েছে। আস্সালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।
এরপর ওসীয়তনামা ভাঁজ করে হযরত উসমানকে দিলেন। তিনি তা নিয়ে চলে এলেন। লোকেরা স্বেচ্ছায় হযরত উমরের নিকট বাইআত করলেন। এরপর হযরত আবু বকর হযরত উমরকে নির্জনে ডেকে যা বলার তা বললেন। হযরত উমর চলে আসার পর হযরত আবু বকর আল্লাহর দরবারে হাত উঠিয়ে দু'আ করলেন, হে আল্লাহ, আমি মুসলমানদের কল্যাণের জন্য এ কাজ করেছি। আমি ফিতনাকে ভয় পেয়ে যা কিছু করলাম তুমি সে ব্যাপারে অবগত। আমি এ সম্বন্ধে ইজতেহাদ (গবেষণা) করেছি এবং আমার মতে, মুসলমানদের জন্য এমন খলীফা নির্বাচন করেছি যিনি তাদের মধ্যে সর্বোত্তম, প্রতাবশালী এবং সৎ কাজ প্রত্যাশী। আমি তোমার হুকুমে নশ্বর পৃথিবী ছেড়ে তোমরই সান্নিধ্যে উপস্থিত হচ্ছি। হে আল্লাহ! আপনিই স্বীয় বান্দাদের মালিক। বাগডোর আপনারই হাতে। হে আল্লাহ! মুসলিম শাসকদের যোগ্যতা দাও, উমরকে খোলাফায়ে রাশেদার অন্তর্ভুক্ত করো এবং প্রজা সাধারণের উত্তম জীবনযাপন করার তাওফিক দাও।
ইবনে সাদ এবং হাকেম (রহ.) ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, বুদ্ধি মানদের মধ্যে তিনজন অধিক বুদ্ধিমান। প্রথমজন হযরত আবু বকর সিদ্দীক। তিনি হযরত উমরকে খলীফা নির্বাচন করেছেন। দ্বিতীয়জন মুসা (আ.)-এর স্ত্রী। তিনি বলেছিলেন - তাকে ভৃত্য বানিয়ে নাও। তৃতীয় জন আযীযে মিসর। তিনি ইউসুফ (আ.)-এর অনুকূলে অভিমত পেশ করে তার স্ত্রীকে বলেছিলেন - তাকে সুন্দর ভালো স্থানে রাখ।
ইবনে আসাকির ইয়াসার বিন হামযা (রহ.) থেকে বর্ণনা করেন, হযরত আবু বকরের অসুস্থতা বৃদ্ধি পেলে তিনি জানালায় দাঁড়িয়ে বললেন, হে জনতা! আমি তোমাদের জন্য একজনকে খলীফা মনোনীত করেছি, এতে কি তোমরা রাজি আছ? জনতার দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে বলল, হে আল্লাহর রাসূলের খলীফা! আমরা সম্পূর্ণভাবে রাজি। কিন্তু তাদের মধ্য থেকে হযরত আলী বললেন, যদি সেই ব্যক্তি উমর হন তবে আমরা রাজি আছি। তিনি বললেন, না তিনি উমর-ই।
আহমদ হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, হযরত আবু বকর (রা.) মৃত্যুর সময় জিজ্ঞেস করেন, আজ কি বার? লোকেরা বলল মঙ্গলবার। তিনি বললেন, যদি আজ রাতে আমার মৃত্যু হয় তবে সমাহিত করতে কালকের অপেক্ষা করবে না। নবী (সা.)-এর কাছে যত তাড়াতাড়ি পৌঁছতে পারি ততই মঙ্গল।
ইমাম মালেক (রহ.) আয়েশা সিদ্দীকা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, বাগানের বিশ ওস্ক (এক উটের বোঝা সমপরিমাণ এক ওস্ক) খেজুর দিয়ে তিনি মৃত্যুর সময় বললেন, মা! আল্লাহর কসম, আমি সর্ব অবস্থায় তোমাকে খুশী দেখতে চাই। তোমার চেয়ে বেশি ধনী আমি কাউকে পছন্দ করি না। তোমার দুস্থতা আমাকে ভীষণ পীড়া দেয়। স্বাচ্ছন্দ্যের জন্য আমি তোমাকে যে খেজুর দিলাম তা যদি গ্রহণ করো তবে ভালো। অন্যথায় আমার মৃত্যুর পর তা পরিত্যক্ত হয়ে যাবে। তোমার অপর দু'বোন এবং ভাই রয়েছে। তাদেরকে কুরআনের বণ্টন নীতি অনুযায়ী ভাগ দিবে। আমি বলাম, বাবা, তাই হবে। যদি এর চেয়েও বেশি সম্পদ তার নিকট থাকত তিনি আমাদের দিয়ে যেতেন। আসমা নামে আমার এক বোন ছিল, কিন্তু তিনি দু'বোনের কথা বলেছিলেন। তিনি বললেন, তোমার সৎ মা হাবীবা বিনতে খারিজা গর্ভবতী, আমার মনে হয় তার পেটে কন্যা সন্তান রয়েছে।
এ রেওয়ায়েতটি ইবনে সাদও বর্ণনা করেছেন। তবে তিনি তাতে এতটুকু বৃদ্ধি করেন যে, হযরত আবু বকর হযরত আয়েশাকে বলেন, খারিজার কন্যা গর্ভবতী। আমার ধারণা তার গর্ভে কন্যা সন্তান রয়েছে। আমি তার ব্যাপারেও তোমাকে ওসীয়ত করছি। তাঁর ইন্তেকালের পর উম্মে হাবীবা বিনতে খরিজার গর্ভ থেকে উম্মে কুলসুম জন্মগ্রহণ করেন।
ইবনে সাদ এটাও বর্ণনা করেন যে, হযরত আবু বকর সিদ্দীক তার সম্পদ পাঁচ ভাগে ভাগ করেছিলেন, যেভাবে মুসলমানদের সম্পদ এক পঞ্চামাংশ আল্লাহর রাস্তায় ব্যয় করা হয়।
ইবনে সাদ বর্ণনা করেন, সিদ্দীকে আকবর বলেন, এক পঞ্চমাংশের চেয়ে আমার নিকট পছন্দনীয় হলো এক চতুর্থাংশ, যা এক তৃতীয়াংশের চেয়ে উত্তম। সাঈদ বিন মানসুর স্বরচিত সুনান গ্রন্থে যাহহাক থেকে বর্ণনা করেন, হযরত আবু বকর এবং হযরত আলী এক পঞ্চমাংশের ওসীয়ত করেছিলেন।
আব্দুল্লাহ বিন আহমদ যাওয়ায়িদুয যুহদ গ্রন্থে আয়েশা সিদ্দীকার বেওয়ায়েত বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, কসম, তিনি এক দেরহামও রেখে যাননি। সবকিছু আল্লাহর পথে ব্যয় করে দিয়েছেন।
ইবনে সাদ প্রমুখ লিখেছেন, হযরত আয়েশা সিদ্দীকা (রা.) বলেন, সিদ্দীকে আকবরের যন্ত্রণা তীব্র হলে আমি এ কবিতাটি আবৃত্তি করলাম, (অর্থ) আপনার বয়সের শপথ, মৃত্যুর হেচকি যখন এসে গেছে এবং অন্তর সংকুচিত হয়ে গেছে তখনও কোনো সম্পদ দিয়ে গেলেন না। তিনি চাদর থেকে মুখ সরিয়ে বললেন, এ কথা বলো না; বরং বলো- 'ওয়া জাআত সাকারাতুল মাওতি বিল হাক্কি যালিকা মা কুনতা মিনহু তাহিদ'। দেখ আমার এ দু'টি কাপড় ধুয়ে আমাকে কাফন পরাবে। কারণ নতুন কাপড় মৃত ব্যক্তির চেয়ে জীবিত ব্যক্তির বেশি প্রয়োজন।
আবু ইয়ালা হযরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, অন্তিম মুহূর্তে আমি হযরত আবু বকরের নিকট গিয়ে এ কবিতা আবৃত্তি করলাম, (অর্থ) যার অশ্রু সর্বদা প্রবাহিত হয় তার অশ্রু যখন থেমে যায় না। তিনি বললেন, এ কথা বলো না; বরং বলো : 'ওয়া জাআত সাকারাতুল মাওতি যালিকা মা কুনতা মিনহু তাহিদ'। বললেন, মনে হয় আমি এ রাতেই ইন্তেকাল করব। তিনি মঙ্গলবার রাতে ইন্তেকাল করেন এবং সকাল হওয়ার আগেই তাঁকে দাফন করা হয়।
আব্দুল্লাহ বিন আহমদ যাওয়ায়িদুল যুহাদ গ্রন্থে বাকার বিন আব্দুল্লাহ মাযানী থেকে বর্ণনা করেন, হযরত আবু বকরের ইন্তেকালের সময় হযরত আয়েশা (রা.) তাঁর শিয়রে বসে এ কবিতা পড়েন, (অর্থ) প্রত্যেক আরোহীর একটি মঞ্জিল রয়েছে, আর প্রত্যেক কাপড় পরিধানকারীর একটি করে হলেও কাপড় রয়েছে। তিনি বিষয়টিও বুঝতে পেরে বললেন, এভাবে নয় মা! বরং আল্লাহ তা'আলা 'ওয়া জাআত সাকারাতুল মাওতি বিল হাক্কি যালিকা মা কুনতা মিনহু তাহিদ'।
আহমদ হযরত আয়েশা থেকে বর্ণনা করেন, তিনি এ কবিতা পাঠ করেন, (অর্থ) সেই শ্বেত অবয়বে মেঘের বর্ষণ শুরু হয়েছে। তিনি ছিলেন এতিমদের আশ্রয় এবং বিধবাদের সহায়। তিনি এ কবিতা শুনে বললেন, এ পঙক্তি তো রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর জন্য।
আব্দুল্লাহ বিন আহমদ যাওয়ারিদুয যুহাদ গ্রন্থে উবাদা বিন কায়েস থেকে রেওয়ায়েত করেন, হযরত আবু বকর মৃত্যুর সময় বলেন, হে আয়েশা! আমার ব্যবহৃত দু'টি কাপড় পরিষ্কার করে আমার কাফন পরাবে। আমি তোমার বাবা। তোমাকে বলে যাচ্ছি যে, যদি আমাকে নতুন কাপড়ে কাফন দেয়া হয় তবে নিষেধ করবে।
ইবনে আবিদ দুনিয়া ইবনে আবু মালীকাহ থেকে বর্ণনা করেন, হযরত আবু বকর ওসীয়ত করেন যে, তাঁর স্ত্রী আসমা বিনতে আমীস তাকে গোসল দিবেন এবং আব্দুর রহমান বিন আবু বকর গোসলের কাজে মাকে সাহায্য করবেন।
ইবনে সাদ ইবনে সাঈদ বিন মুসায়্যাব থেকে বর্ণনা করেন, হযরত উমর ফারুক (রা.) এবং রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কবেরর মধ্যবর্তী স্থানে হযরত আবু বকরের জানাযা পড়ান এবং তিনি চার তাকবীল বলেন।
উরওয়া এবং কাসিম বিন মুহাম্মদ বর্ণনা করেন, হযরত আবু বকর সিদ্দীকের কবর যেন নবী (সা.)-এর কবরের বরাবর হয় এজন্য তিনি হযরত আয়েশাকে ওসীয়ত করেন। ইন্তেকালের পর তাঁর কবর এমনভাবে খনন করা হয় যে, তাঁর মস্তক রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর কাঁধের বরাবর ছিল। আর উভয়ের কবর ছিল একই বরাবর।
হযরত ইবনে উমর কর্তৃক বর্ণিত, হযরত উমর, হযরত তালহা, হযরত উসমান, হযরত আব্দুর রহমান বিন আবু বকর হযরত সিদ্দীকে আকবরকে কবরে নামান। এ রেওয়ায়েতটি কয়েক পদ্ধতিতে বর্ণিত হয়েছে যে, হযরত আবু বকরকে রাতেই সমাহিত করা হয়। ইবনে মুসায়্যাব বর্ণনা করেন, হযরত আবু বকরের ইস্তেকালে মক্কায় কান্নার রোল পড়লে তাঁর পিতা আবু কুহাফা জিজ্ঞেস করলেন, কি হয়েছে? লোকেরা বলল, আপনার ছেলের ইন্তেকাল হয়েছে। তিনি বললেন, হে আল্লাহ! এটা কি ধরনের কষ্ট? অতঃপর বললেন, তার স্থলাভিষিক্ত কে হয়েছেন? বলা হলো, হযরত উমর। তিনি বললেন, মরহুমের সহচর অতি উত্তম।
মুজাহিদ বর্ণনা করেন, হযরত আবু কুহাফা শরীয়তের ফারায়েজ সূত্রে হযরত আবু বকরের যে পরিত্যক্ত সম্পদ পান তা তিনি নাতিদের নিকট ফিরিয়ে দেন। তিনি হযরত আবু বকরের ছয় মাস কয়েকদিন পর ১৪ হিজরীর মুহাররম মাসে ৯৭ বছর বয়সে পরলোক গমন করেন।
ওলামায়ে কেরামের অভিমত হলো, পিতার জীবদ্দশায় আবু বকর ছাড়া কেউ খিলাফত পরিচালনা করেন নি। আর কোনো খলীফার পিতা আবু কুহাফা ছাড়া খলীফার পরিত্যক্ত সম্পদ পাননি।
হাকেম ইবনে উমর (রা.) থেকে বর্ণনা করেন, তিনি দু'বছর সাত মাস খিলাফতের দায়িত্ব পালন করেন। তারীখে ইবনে আসাকির গ্রন্থে আসমাআয়ী সূত্রে বর্ণিত, খাফফাফ বিন মাযবাহ আসলামী হযরত আবু বকরের মৃত্যুতে এ শোক গাঁথা রচনা করেন, (অর্থ) কোন জীবন্ত প্রাণী অমর নয়। পৃথিবী ধ্বংসশীল। মানুষ এ বিশ্বচরাচরের তিমিরে আচ্ছন্ন। মানুষ চেষ্টা করলে মুক্তি পাবে। যদিও তারা সংগ্রাম করে, কিন্তু তারা শয়তানের ষড়যন্ত্রে আক্রান্ত। চোখের প্লাবন থেমে গেছে। প্রাণিকূল আজ বিপন্ন, বয়সের কারণে মৃত্যু, আকস্মিক নিহত অথবা অসুস্থতার কারণে মৃত্যু- সব মৃত্যুই মানুষকে পীড়া দেয়। তিনি ছিলেন প্রশান্তির মেঘমালা, তিনি সর্বদা শুষ্ক প্রান্তরে বৃষ্টি হয়ে ঝড়ে পরতেন। কসম আল্লাহর, আবাল বৃদ্ধবণিতা সবাই তার যুগে সুখ ভোগ করেছে।
📄 সিদ্দীকে আকবর কর্তৃক যে সকল হাদীস বর্ণিত হয়েছে
ইমাম নূদী তাহযীব গ্রন্থে লিখেছেন, হযরত সিদ্দীকে আকবর রসূলে আকরাম (সা.) থেকে ১৪২ খানা হাদীস বর্ণনা করেছেন। এত কম সংখ্যক হাদীস রেওয়ায়েত করার কারণ হলো, তিনি রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর পর অল্প ক'দিন জীবিত ছিলেন এবং সে যুগে হাদীসের ব্যাপক চর্চা ছিল না। হাদীস শ্রবণ, সংরক্ষণ এবং হিফজ করার প্রক্রিয়া তাঁদের পরবর্তী তাবেঈ যুগে ব্যাপকভাবে শুরু হয়।
আমি (গ্রন্থকার) পূর্বেই হযরত উমরের বরাত দিয়ে উল্লেখ করেছি যে, বাইআতের সময় উমর ফারুক (রা.) বলেছেন, হযরত আবু বকর আনসারদের সম্বন্ধে রাসূলুল্লাহ (সা.) এবং আল্লাহ তা'আলা যা বলেছেন তা সম্পূর্ণ বর্ণনা করেন। এ হাদীসটি এ বিষয়ের প্রকাশ্য দলিল যে, কুরআন এবং হাদীসের জ্ঞানে তিনিই সবচেয়ে বড় জ্ঞানী এবং পণ্ডিত।
হযরত আবু বকর থেকে যে সকল সাহাবী (২৮ জন) হাদীস বর্ণনা করেছেন, তাঁরা হলেন, উমর, উসমান, আলী, ইবনে আউফ, ইবনে মাসউদ, হুযায়ফা, ইবনে উমর, ইবনে যুবাইর, ইবনে আমর, ইবনে আব্বাস, আনাস, যায়েদ বিন সাবেত, বারা বিন আযেব, আবু হুরায়রা, উকবা বিন হারেস, আব্দুর রহমান বিন আবু বকর, যায়েদ বিন আরকাম, আব্দুল্লাহ বিন মুগাফফাল, উকবা বিন আমের জুহানী, ইমরান বিন হাসীন, আবু বারযা আসলামী, আবু সাঈদ খুদরী, আবু মুসা আশআরী, আবু তোফায়েল লাইছী, জাবের বিন আব্দুল্লাহ, বিলাল, আয়েশা সিদ্দীকা এবং আসমা বিনতে আবু বকর রাদিআল্লাহু আনহুম। আর আসলাম এবং ওয়াসেত আল বাজালীসহ তাবেঈনের একটি বিরাট জামাত তাঁর থেকেই হাদীস বর্ণনা করেছেন।
সূত্রসহ আমি হযরত আবু বকর কর্তৃক হাদীসগুলো নিম্নে তুলে ধরলাম:
১। হিজরত সংক্রান্ত হাদীস। (বুখারী, মুসলিম)
২। পানি সংক্রান্ত হাদীস অর্থাৎ, সমুদ্রের পানি পবিত্র এবং জলপ্রাণী মৃত ভক্ষণ জায়েয। (দারা কুতনী)
৩। মিসওয়াক মুখকে পরিষ্কার করে এবং তা ব্যবহার করা আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের মাধ্যমে। (আহমদ)
৪। রাসূলুল্লাহ (সা.) ছাগলের ঝুটি খেয়ে নামায পড়েছেন এবং অযু করেননি। (বায্যার, আবু ইআলা)
৫। কেউ যেন হালাল খাদ্য খেয়ে অযূ না করে। (বায্যার)
৬। নবী (সা.) নামাযরত অবস্থায় আঘাত করতে নিষেধ করেছেন। (আবু ইয়ালা, বায়্যার)
৭। যিনি আমার পরে নামায পড়াবেন তিনি একই কাপড় পরিধান করবেন। (আবু ইয়ালা)
৮। যে ব্যক্তি কুরআন যেভাবে নাযিল হয়েছে সেভাবে কুরআন তিলাওয়াত করতে চায়, সে যেন আব্দুল্লাহ ইবেন মাসউদের কেরাতের অনুসরণ করে। (আহমদ)
৯। আমি রাসূলুল্লাহ (সা.) কে বললাম, আপনি আমাকে এমন একটি দু'আ শিক্ষা দিন যা আমি নামাযে পড়ব। তিনি বললেন, পড়বে- আল্লাহুম্মা ইন্নি জালামতু নাফসি জুলমান কাসিরাও ওয়ালা ইয়াগফিরুজ জুনুবা ইল্লা আনতা ফাগফিরলি মাগফিরাতাম মিন ইনদিকা ওয়ারহামনি ইন্নাকা আনতাল গাফুরুর রাহীম। (বুখারী, মুসলিম)
১০। যিনি সকালের নামায পড়বেন আল্লাহ তা'আলা তাকে আশ্রয় দিবেন। তোমরা আল্লাহর প্রতিশ্রুতিতে অনুমান করো না। যে অনুমানের ভিত্তিতে সে নামাযীকে হত্যা করবে আল্লাহ তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন। (ইবনে মাজা)
১১। উম্মতের পেছনে নামায না পড়া পর্যন্ত আল্লাহ তা'আলা কোনো নবীকে মৃত্যু দেন না। (বায্যার)
১২। যে ব্যক্তি গুনাহ করার পর ভালোভাবে অযু করে দু'রাকাত নামায পড়ে ক্ষমা প্রার্থনা করবে আল্লাহ তা'আলা তাকে ক্ষমা করবেন। (আহমদ, আসহাবে সুনানে আরবাআ, ইবনে হিব্বান)
১৩। মৃত্যুর স্থানেই প্রত্যেক নবীকে সমাহিত করা হয়। (তিরমিযী)।
১৪। ইহুদী এবং খ্রিস্টানদের প্রতি আল্লাহর অভিশাপ। কারণ তারা নবীদের কবরগুলোকে উপাসনালয়ে পরিণত করেছে। (আবু ইয়ালা)
১৫। মৃত ব্যক্তির জন্য কান্নাকাটি করলে মৃত ব্যক্তির আযাব হয়। (আবু ইয়ালা)
১৬। খেজুরের টুকরো সমপরিমাণ দান করে হলেও জাহান্নাম থেকে পরিত্রাণ নাও। কারণ সে দান বাঁকাকে সোজা, মৃত্যুকে সহজ এবং ক্ষুধাকে নিবৃত্ত করে। (আবু ইয়ালা)
১৭। ফারায়েজ এবং সদকার হাদীস। (বুখারী, মুসলিম)
১৮। একদা হযরত আবু বকর উটের উপর সওয়ার হলে চাবুক খানা পড়ে যায়। তিনি উট বসিয়ে সেখান থেকে নেমে চাবুকটি কুড়ালেন। লোকেরা বলল, আমাদের কেন নির্দেশ করলেন না? তিনি বললেন, আমার প্রিয়তম নবীজি (সা.) লোকদের নিকট চাইতে আমাকে নিষেধ করেছেন। (আহমদ)
১৯। রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে জিজ্ঞেস করা হলো, কোন হজ্জ উত্তম? তিনি বললেন, যেখানে জোরে জোরে এবং বেশি বেশি তাকবীর বলা হয় এবং অনেক কুরবানী দেয়া হয়। (তিরমিযী, ইবনে মাজা)
২০। আসমা বিনতে আমীসের গর্ভে মুহাম্মদ বিন আবু বকর ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ (সা.) নেফাস অবস্থায় গোসল করে হজ্জ এবং উমরার ইহরাম বাঁধার জন্য তাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। (বায্যার, তাবারানী)
২১। হাজ্রে আসওয়াদকে চুমু দেবার সময় তিনি তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, যদি আমি রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে চুমু দিতে না দেখতাম তাহলে আমি তোমাকে চুমু দিতাম না। (দারা কুতনী)
২২। রাসূলুল্লাহ (সা.) সূরা বারাআত-এর বিধান মক্কায় পাঠিয়ে নির্দেশ করেন যে, এ বছর থেকে মুশরিকরা আর হজ্জ করতে পারবে না এবং কেউ উলঙ্গ হয়েও তাওয়াফ করবেন না। (আহমদ)
২৩। আমার ঘর এবং মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থানটি জান্নাতের একটি বাগান। আর আমার মিম্বর জান্নাতের একটি অংশ। (আবু ইয়ালা)
২৪। আবুল হাইছামের বাড়ি তালাক সংকান্ত হাদীস। (আবু ইয়ালা)
২৫। চান্দী এবং স্বর্ণ এগুলো সমান সমান। যে লেনদেনে কমেবেশি করবে সে জাহান্নামী। (আবু ইয়ালা)
২৬। যে মুমিনের সাথে প্রতারণা এবং কষ্ট দিবে সে অভিশপ্ত জাহান্নামী। (তিরমিযী)
২৭। কৃপণ, উচ্চাভিলাসী এবং অধীনস্তদের নিকট গর্বকারী জালেম বাদশা জান্নাতে যাবে না। আল্লাহ স্বীয় মনিবের প্রতি আনুগত্যশীল গোলাম জান্নাতে প্রবেশ করবে। (আহমদ)
২৮। গোলামের পরিত্যক্ত সম্পদের অধিকারী সেই ব্যক্তি, যে তাকে আযাদ করেছে। (যিয়াউল মুকাদ্দাসী)
২৯। নবীদের সম্পদের কোনো উত্তরাধিকার নেই। তাঁদের সকল পরিত্যক্ত সম্পদ সদকা হিসেবে বিবেচিত। (বুখারী)
৩০। নবীদের ওয়ারেস হলেন নবীর স্থলাভিষিক্ত খলীফা। (আবু দাউদ)
৩১। বংশপরিচয় অস্বীকার করা কুফুরী। (বায্যার)
৩২। তুমি এবং তোমার সম্পদ তোমার বাবার জন্য। হযরত আবু বকর বলেন, এ থেকে উদ্দেশ্য হলো খোরপোষ দেয়া। (বায়হাকী)
৩৩। যার পা আল্লাহর রাস্তায় গিয়ে ধুলায় ধূসরিত হবে আল্লাহ তা'আলা তার জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম করে দিবেন। (বায্যার)
৩৪। আমাকে কাফেরদের সাথে লড়াই করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। (বুখারী, মুসলিম)
৩৫। খালিদ বিন ওলীদের প্রশংসায় বলেন, তিনি আল্লাহর তলোয়ার। আল্লাহ তা'আলা তাঁকে কাফির এবং মুনাফিকদের উপর বিজয়ী করেছেন। (আহমদ)
৩৬। উমরের চেয়ে উত্তম ব্যক্তির উপর সূর্য উদিত হয় না। (তিরমিযী)
৩৭। মুসলিম সরকার মুসলমানদের প্রাপ্য বুঝিয়ে না দিলে তার উপর অভিশাপ। আল্লাহ তা'আলা তার কোনো নফল ও ফরয (ইবাদত) কবুল করবেন না। (আহমদ)
৩৮। মাআযকে সঙ্গসার (অপরাধের কারণে পাথর নিক্ষেপ হত্যা করা সংক্রান্ত হাদীস। (আহমদ)
৩৯। ইসতেগফার করার পর তার প্রতি জেদ করবে না। যদিও সে একই কাজ (অপরাধ) দিনে সত্তর বার করে। (তিরমিযী)
৪০। রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর লড়াই-এর পরামর্শ সংক্রান্ত হাদীস। (তাবারানী)
৪১। 'ওয়ামাই ইয়ামাল সুআন ইউজ্জা বিহি' -এ আয়াত সংক্রান্ত হাদীস। (তিরমিযী, ইবনে মাজা)
৪২। তোমরা এ আয়াত তিলাওয়াত করো, 'ইয়া আইয়্যাহাল্লাযীনা আমানু আলাইকুম আনফুসাকুম'। (আহমদ, আইম্মায়ে আরবা, ইবনে হাব্বান)
৪৩। হিজরতের ঐ হাদীস যেখানে গুহায় সিদ্দীকে আকবরের ভীতি দূরীভূত করার জন্য তাদের দু'জনের সাথে আল্লাহ আছেন এবং তিনি তাদের সাহায্যকারী হিসেবে উল্লেখ করা হয়। (বুখারী, মুসলিম)
৪৪: আল্লাহুম্মাল আন্না ওয়াত্বাউনা - সংক্রান্ত হাদীস। (আবু ইয়ালা)
৪৫। সূরা হুদ আমাকে বৃদ্ধ করে দিয়েছে। (দারা কুতনী)
৪৬। আমার উম্মতের মধ্যে পিঁপড়ার গতির চেয়েও গোপনে শিরক বিস্তার লাভ করবে। (আবু ইয়ালা)
৪৭। আমি আরয করলাম, হে আল্লাহর রাসূল, আমাকে এমন একটি জিনিস শিক্ষা দিন, যে দু'আ সকাল-সন্ধ্যা পাঠ করব। (আল-হাইছাম বিন কালীব, তিরমিযী)
৪৮। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু এবং ইসতেগফার কর। কারণ ইবলিস বলেছে, আমি গুনাহকে ধ্বংস করি, আর লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু এবং ইসতেগফার আমাকে ধ্বংস করে। (আবু ইয়ালা)
৪৯: লা তারাফাউ আসওয়াতাকুম ফাউকা সাউতিন নবী - এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর আমি বললাম, ইয়া রাসূলাল্লাহ, আমি আপনার কাছে নিচু স্বরে কথা বলব। (বায্যার)
৫০। কুল্লুন মুয়্যাসারুল লিমা খুলিকা লাহু - সংক্রান্ত হাদীস। (আহমদ)
৫১। যে জ্ঞাতসারে আমাকে মন্দ বলবে এবং আমার কোনো আদেশ অমান্য করবে সে জাহান্নামে নিজের ঠিকানা বানিয়ে নিবে। (আবু ইয়ালা)
৫২: মা নাজাতু ফি হাযাল আমরি - সংক্রান্ত হাদীস। (আহমদ)
৫৩। নবী (সা.) আমাকে বলেন, তুমি বলে দাও, যে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ বলবে জান্নাত তার জন্য ওয়াজিব। আমি রওয়ানা করলাম, পথিমধ্যে উমরের সাথে দেখা...। (আবু ইয়ালা) এ হাদীসটি আবু হুরায়রার বর্ণনা দ্বারা সংরক্ষিত, আবু বকরের দ্বারা নয়।
৫৪। আমার উম্মতের মধ্যে মোর্জীয়া এবং কাদরিয়া এ দু'টি গ্রুপ জান্নাতে প্রবেশ করবে না। (দারে কুতনী)
৫৫। আল্লাহ তা'আলার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা কর। (আহমদ, নাসাঈ, ইবনে মাজা)
৫৬। রাসূলুল্লাহ (সা.) প্রত্যেক কাজের সময় এ দুআ পড়তেন, হে আল্লাহ, আমার জন্য এ কাজ পছন্দনীয় এবং উত্তম করে দিও। (তিরমিযী)
৫৭। আল্লাহুম্মা ফারিজি...। (বায্যার, হাকেম)
৫৮। হারাম পন্থায় প্রতিপালিত শরীর অপেক্ষা আগুন শ্রেয়। অপর রেওয়ায়েতে রয়েছে, অবৈধ পথে লালিত শরীর জান্নাতে প্রবেশ করবে না। (আবু ইয়ালা)
৫৯। শরীরের প্রত্যেক অংশ তোমাদের কর্কশ কথার প্রতিবাদ করবে। (আবু ইয়ালা)
৬০। মধ্যবর্তী শাবানের রাতে আল্লাহ তা'আলা নিচে অবতরণ করেন। সে রাতে কাফির এবং ঈর্ষাপরায়ণ ব্যক্তি ছাড়া সকলকে ক্ষমা করা হয়। (দারা কুতনী)
৬১। প্রাচ্যের খোরাসান থেকে দাজ্জালের আবির্ভাব হবে, সূচলা মুখের একদল মানুষ তার অনুগামী হবে। (তিরমিযী, ইবনে মাজা)
৬২। আমার প্রতি আল্লাহর এতটুকু মেহেরবানী যে, আমি সত্তর হাজার লোককে বিনা হিসাবে জান্নাতে নিয়ে যেতে পারব। (আহমদ)
৬৩। কিয়ামত দিবসে রাসূলের সুপারিশ সংক্রান্ত হাদীস। (আহমদ)
৬৪। লোকেরা যদি এক দিকে যায়, আর আনসারগণ অন্য দিকে, তবে আমি আনসারদের সাথে থাকব। (আহমদ)
৬৫। কুরাইশগণ এ উম্মতের নেতা। চরিত্রবানরা চরিত্রবানদের এবং মন্দ লোকেরা মন্দ কাজের অনুসারী। (আহমদ)
৬৬। ওমান সম্বন্ধে রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন, সেখানে এক আরব গোত্র রয়েছে। আমার দূত সেখানে গেলে ওমানবাসী তীর ছুঁড়বে। (আহমদ, আবু ইয়ালা)
৬৭। একদা নবী (সা.) হযরত আবু বকরকে নিয়ে এমন স্থানে গেলেন যেখানে হযরত ইমাম হাসান ছেলেদের সঙ্গে খেলছিলেন। তিনি তাকে কাঁধে তুলে নিয়ে বললেন, এর সঙ্গে আলীর চেহারার মিল রয়েছে। (বুখারী) ইবনে কাসীর হাকেমের সূত্র ধরে বলেন, এ হাদীসটি মারফু।
৬৮। উহুদ যুদ্ধ সংক্রান্ত হাদীস। (তায়ালাসী, তাবারানী)
৬৯। পঞ্চমবারে চোরকে হত্যা করবে। (আবু ইয়ালা, দাইলামী)
৭০। রাসূলুল্লাহ (সা.) উম্মে আইমানের কবর যিয়ারত করতে যেতেন। (মুসলিম)
৭১। আমরা রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর সাথে বসেছিলাম। তিনি হাত দিয়ে কি যেন সরাচ্ছিলেন। আমরা সেখানে কিছু দেখতে না পেয়ে জিজ্ঞেস করলাম, কি করছেন? তিনি বললেন, দুনিয়া সরাচ্ছি। (বায্যার) ইবনে কাসীর অপর হাদীসের মাধ্যমে এ রেওয়ায়েতটি পরিপূর্ণভাবে বর্ণনা করেছেন।
৭২। একজন বাকী থাকা পর্যন্ত রদবাসীকে হত্যা কর। (তাবারানী)
৭৩। কোন স্থানে বাড়ি তৈরির পূর্বে সেখানের আবাসন, প্রতিবেশি এবং রাস্তা-ঘাট দেখে নিবে।
৭৪। আমার নিকট অসংখ্যাবার দরুদ প্রেরণ করো। কারণ আল্লাহ তা'আলা আমার কবরে একজন ফেরেশতা নিয়োগ করেছেন। কোনো ব্যক্তি দরুদ পাঠালে সেই ফেরেশতা আমাকে বলে, অমুকের ছেলে অমুক আপনার প্রতি দরুদ পাঠিয়েছেন। (দাইলামী)
৭৫। এক জুমা অপর জুমার কাফফারা...! (আকীলী)
৭৬। আমার উম্মতের জন্য জাহান্নামের উষ্ণতা হবে হাম্মাম খানার উষ্ণতার মতো। (তাবারানী)
৭৭। মিথ্যাচার থেকে নিজেকে রক্ষা করো। কারণ মিথ্যাচার ঈমান ধ্বংস করে দেয়। (ইবনে লা-ল)
৭৮। বদর যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের জন্য জান্নাতের সুসংবাদ। (দারা কুতনী)
৭৯। দীন আল্লাহ তা'আলার এক মহান ঝাণ্ডা। এমন কোনো ব্যক্তি নেই যে তা উত্তোলন করবে। (দাইলামী)
৮০। সূরা ইয়াসিনের ফযীলত সংক্রান্ত হাদীস। (দাইলামী)
৮১। ন্যায়পরায়ণ বাদশাহ পৃথিবীর জন্য আল্লাহ তা'আলার ছায়া এবং বর্শা। প্রতিদিন রাতে তিনি সত্তর সিদ্দীকের সওয়াব প্রাপ্ত হন। (আকীলী, ইবনে হিব্বান)
৮২। মূসা (আ.) আল্লাহর দরবারে আরয করলেন, অবলা নারীর সেবা করলে কি ধরনের সওয়াব পাওয়া যাবে? তিনি বললেন, আমি তাকে আমার ছায়া দান করব। (ইবনে শাহীন, দাইলামী)
৮৩। হে আল্লাহ, উমর বিন খাত্তাবের মাধ্যমে ইসলামকে শক্তিশালী করো। (তাবারানী)
৮৪। প্রাণী শিকার করবে না, বৃক্ষের প্রশাখা এবং মূল কাটবে না, কারণ তারা তাসবীহ পড়ে।
৮৫। আমি নবী হয়ে প্রেরিত না হলে উমর নবী হতেন। (দাইলামী)
৮৬। কাপড়ের ব্যবসা করবে। (আবু ইয়ালা)
৮৭। যে ব্যক্তি নেতা থাকার পরও অন্যের জন্য বিদ্রোহ করবে তার প্রতি আল্লাহর ফেরেশতা এবং মানবকূলের অভিশাপ, তাকে হত্যা করো। (দাইলামী)
৮৮। যে আমার থেকে জ্ঞান অর্জন করবে অথবা হাদীস লিখবে যতক্ষণ পর্যন্ত সে জ্ঞান ও হাদীস সংরক্ষিত থাকে ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি সওয়াব পেতেই থাকবেন। (হাকেম)
৮৯। যে নাঙ্গা পায়ে আল্লাহর পথে বের হবে, আল্লাহ তা'আলা কিয়ামত দিবসে স্বীকৃত পন্থায় তাকে প্রশ্ন করবেন না। (তাবারানী)
৯০। যে ব্যক্তি জান্নাত এবং আল্লাহর (আরশের) ছায়ার আকাঙ্ক্ষা করে সে যেন মুসলমানদের উপর কঠোরতা না করে বরং রহম করে। (ইবনে লাল ইবনে, হিব্বান, আবুশ শায়েখ)
৯১। যে ব্যক্তি কেবল আল্লাহর সন্তুটির উদ্দেশ্যে কারো প্রয়োজনে মিটাবে, ঐ দিন তার থেকে কোন গুনাহ প্রকাশ পাওয়া সত্ত্বেও আল্লাহ তাকে এ সেদিন পূর্ণ প্রতিদিন দিবেন। (দাইলামী)
৯২। যে জাতি জিহাদ ছেড়ে দিবে সে জাতি শান্তি ভোগ করবে। (তাবারানী)
৯৩। মিথ্যা অপবাদ দানকারী জান্নাতে যাবে না। (দাইলামী)
৯৪। কোনো মুসলমানকে অবজ্ঞা করো না। একজন অতি সাধারণ মুসলমানও আল্লাহর কাছে অনেক মর্যাদাবান। (দাইলামী)
৯৫। আল্লাহ তা'আলা বলেন, তোমরা আমার রহমতের আশা করলে আমার সৃষ্টির উপর রহম করো। (আবুশ শায়েখ, ইবনে হাব্বান, দাইলামী)
৯৬। টাখনুর নীচ পর্যন্ত কাপড় পরিধান করো না। (আবু নুয়াঈম)
৯৭। আমার আবু বকর (রা.) এবং আলী ইনসাফের পাল্লা বরাবর।
৯৮। শয়তান থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করতে অলসতা করো না। তোমরা তাকে দেখ না, কিন্তু সে তোমাদের ব্যাপারে অমনোযোগী নয়। (দাইলামী)
৯৯। যে শুধু আল্লাহর জন্য মসজিদ তৈরি করবেন, আল্লাহ তা'আলা জান্নাতে তার জন্য বাড়ি নির্মাণ করে দিবেন। (তাবারানী)
১০০। যে তরকারীর মধ্যে কাঁচা পেঁয়াজ ও রসুন খাবে সে যেন মসজিদে না আসে। (তাবারানী)
১০১। নবী (সা.) নামাযের শুরু, রুকু যাওয়ার সময় এবং রুকু থেকে উঠে রফয়ে ইয়াদাইন করতেন। (বাইহাকী)
১০২। রাসূলুল্লাহ (সা.) আবু জাহেলকে একটি উট হাদিয়াস্বরূপ দিয়েছেন। (ইসমাঈলী)
১০৩। আলীর প্রতি তাকানো ইবাদত। (ইবনে আসাকির)
১০৪। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আনসারদের সম্পর্কে অসিয়ত করেছেন, তাদের ভালো মানুষদের গ্রহণ করো এবং মন্দদের ক্ষমা করে দাও। (বাযযার ও তাবারানী)