📘 তাবিয়িদের চোখে দুনিয়া > 📄 ওয়াহাব ইবনু মুনাব্বিহ রাহিমাহুল্লাহ-এর চোখে দুনিয়া

📄 ওয়াহাব ইবনু মুনাব্বিহ রাহিমাহুল্লাহ-এর চোখে দুনিয়া


[১৪] মূল গ্রন্থে এটি সাঈদ ইবনু জুবায়েরের অধ্যায়ের অধীনে এসেছে। আলাদা ব্যক্তি হওয়ায় তা স্বতন্ত্র অধ্যায়ে উপস্থাপন করা হলো। -অনুবাদক

নিজের দোষের প্রতি লক্ষ রাখা
[১৪] ইবনু মুনাব্বিহ বলেন, “যে ব্যক্তি অন্যের দোষ না দেখে নিজের দোষের প্রতি লক্ষ করে, তার জন্য সুসংবাদ। আর সুসংবাদ সে ব্যক্তির জন্য—যে নিজের বাসস্থান না থাকা সত্ত্বেও আল্লাহর জন্য বিনয়ী হয়, দরিদ্র ও দুঃখী লোকদের প্রতি সদয় হয়, পাপমুক্ত সঙ্গিত অর্থসম্পদ থেকে সদকা করে, আলেম-উলামা ও ধৈর্যবান ব্যক্তিদের সঙ্গে ওঠাবসা করে, সুন্নাহর প্রতি ধাবিত হয় এবং বিদআত থেকে দূরে থাকে।”

দ্বীন মানার সহায়ক
[১৫] জাফর থেকে বর্ণিত, ওয়াহাইব ইবনু মুনাব্বিহ বলেন, “দ্বীন মানার সবচেয়ে সহায়ক গুণ হচ্ছে দুনিয়াবিমুখতা। আর একে সবচেয়ে দ্রুত বিভেদনকারী হচ্ছে প্রবৃত্তির অনুসরণ করা। প্রবৃত্তির অনুসরণের অন্যতম দাবি হলো, দুনিয়ার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হওয়া। আর দুনিয়ার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হওয়া থেকে সম্পদ ও মর্যাদার প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি হয়। সম্পদ ও মর্যাদার প্রতি আকর্ষণ থেকে আল্লাহর ক্রোধের কারণ হারাম বস্তুকে হালাল মনে করার প্রবণতা তৈরি হয়। আর আল্লাহর ক্রোধ এমন এক অসুখ, যার ভিন্ন কোনো ওষুধ নেই। যদি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন হয়ে যায়, তাহলে অন্য কোনো অসুখই কোনো ধরনের ক্ষতি করতে সক্ষম নয়। সুতরাং যে ব্যক্তি তার প্রতিপালক আল্লাহকে সন্তুষ্ট করতে চায়, সে যেন নিজেকে (প্রবৃত্তির অনুসরণ না করার মাধ্যমে) অসন্তুষ্ট করে। কারণ, যে নিজেকে অসন্তুষ্ট করে না, সে স্বীয় প্রতিপালককে সন্তুষ্ট করতে পারে না। যে ব্যক্তি দ্বীনের কোনো কিছু অপছন্দ হলেই তা ছুড়ে ফেলে দেয়, অচিরেই দেখা যাবে তার কাছে দ্বীনের কোনো কিছুই আর অবশিষ্ট থাকবে না।”

আমলহীন দায়ীর অবস্থা
[৯৫০] সিমাক ইবনু ফদল বলেন, “আমি ওয়াহহবকে বলতে শুনেছি, আমলহীন দায়ী ধনুকহীন (তির) নিক্ষেপকারীর ন্যায়।”

ইলমের স্বেচ্ছাচারিতা
[৯৫১] আবদুল মালিক ইবনু হুনাইফ বলেন, "আমি ওয়াহহব ইবনু মুনাব্বিহকে বলতে শুনেছি, নিশ্চয়ই ইলমেরও কিছু স্বেচ্ছাচারিতা আছে, যেমন ধন-সম্পদের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। [১৪৮]

মানুষের সাথে মেলামেশা করেও তাকওয়াবান থাকা
[৯৫২] উমার ইবনু আবদুর রহমান বলেছেন, "লোকেরা ওয়াহহব ইবনু মুনাব্বিহের কাছে বানী ইসরাঈলের ইবাদাত ও পর্যটন সম্পর্কে আলোচনা করলে তিনি বললেন, 'যে মানুষের সাথে মেলামেশা করে তাকওয়াবান থাকতে পারে এবং মানুষের কষ্টদানের ওপর ধৈর্যধারণ করতে পারে, সে-ই হচ্ছে আমার কাছে বেশি মর্যাদাবান।”

ধনীদের জান্নাতে যাওয়াটা বেশ কষ্টসাধ্য
[৯৫৩] তাইমি ওয়াহহব ইবনু মুনাব্বিহ থেকে বর্ণনা করেন, "সুইয়ের ছিদ্রে উটের প্রবেশ করা ধনীদের জান্নাতে প্রবেশ করার চেয়েও সহজ।" [১৪৯]

আল্লাহ তাআলার বুদ্ধিমান বান্দা
[৯৫৪] সুলাইমান ইবনু উআইনা বলেন, "আমরা ওয়াহহব ইবনু মুনাব্বিহকে বলতে শুনেছি, 'আল্লাহ তাআলার কোনো বান্দাই ওই বুদ্ধিমান ব্যক্তির মতো নয়, যে ঘর থেকে বের হয়ে যাকেই দেখে নিজেকে সে তার থেকে নিম্নস্তরের মনে করে। অহংকার তার থেকে নিরাপদ থাকে। কল্যাণ তার থেকে প্রত্যাশা করা যায়। সে পূর্ববর্তীদের অনুসরণ করে। পরবর্তীদের জন্য আদর্শ হয়ে থাকে। এমনকি ছোট থাকা মর্যাদা পাওয়ার চেয়ে তার কাছে অধিক প্রিয় হয়ে থাকে। দরিদ্রতা তার কাছে ধনাঢ্যতা থেকে বেশি পছন্দনীয় হয়। নিজের বেশি আমলকেও তার কাছে কম মনে হয়। অন্যের কম আমলকেও তার কাছে বেশি মনে হয়। তার জীবনযাপন হয় সামান্য খাবারের ওপর নির্ভর করে। আপন প্রয়োজন উপার্জনে সে বিরক্ত হয় না। হালাল উপার্জনে সন্তুষ্ট থেকে দরিদ্রতাকে বরণ করে নেওয়া তার কাছে অধিক প্রিয় হয় হারাম উপার্জনের ধনাঢ্যতা থেকে। আল্লাহর অনুগত হয়ে অভাবকে মেনে নেওয়া তার কাছে বেশি প্রিয় হয় আল্লাহর অবাধ্য হয়ে প্রাচুর্যে মেতে থাকা থেকে।” তারপর তিনি বলেন, দশম বৈশিষ্ট্য—যার মাধ্যমে বান্দার মর্যাদা ও স্মরণ সমুন্নত হয়—হলো, ঘর থেকে বের হওয়ার পর যে ব্যক্তিই তার মুখোমুখি হয়, তাকেই সে নিজের চেয়ে বড় মনে করে।'

অহংকারের আলামত
[৯৫৫] ওয়াহহবের ছেলে তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, “তাওরাতে লিপিবদ্ধ আছে, অহংকারের আলামত হলো—কোনো ভাই তাকে ডাক দিলে তার ডাকে সাড়া না দেওয়া, আপন জীবনের কসম করে তা পুরা না করা, তার কাছে খাবার নিয়ে আসা হলে এই কথা বলা যে, খাবারটি ভালো নয়। যে ব্যক্তি খাবারের কারণে আল্লাহর প্রশংসা করে সে তার শুকরিয়া আদায় করে।"

সুখকে বিপদ মনে করা
[৯৫৬] উসমান ইবনু মারদাওয়াইহি বলেন, "আমি ওয়াহহব ইবনু মুনাব্বিহ ও সাঈদ ইবনু জুবায়েরের সাথে আরাফার দিন ইবনে আমারের পাহাড়ের কাছে অবস্থান করছিলাম। ওয়াহহব সাঈদ ইবনু জুবায়েরকে বলল, 'হে আবূ আবদুল্লাহ, আপনি আর কত দিন হাজ্জাজের চোখ ফাঁকি দিয়ে লুকিয়ে থাকবেন?' তিনি বললেন, 'আমার স্ত্রী গর্ভবতী থাকাবস্থায় আমি বের হয়ে এসেছি। তারপর তার গর্ভস্থ সন্তানের জন্ম হয়েছে।' তখন ওয়হাব বললেন, 'নিশ্চয়ই আপনাদের পূর্ববর্তীদের ওপর কোনো বিপদ আপতিত হলে, তারা সেটাকে সুখ হিসেবে বিবেচনা করতেন। আর সুখের মুখোমুখি হলে সেটাকে বিপদ হিসেবে বিবেচনা করতেন।"

মুনাফিকের স্বভাব
[৯৫৭] আওন আল-আরাবি বলেছেন, “মুনাফিকের স্বভাব হলো, সে প্রশংসা পেতে ভালোবাসে এবং নিন্দা অপছন্দ করে।"
[৯৫৮] ওয়াহহব ইবনু মুনাব্বিহ বলেছেন, "মুনাফিকের আলামত হলো, সে নিন্দাকে অপছন্দ করে আর প্রশংসা পেতে ভালোবাসে।"

শয়তানের কাছে প্রিয় ব্যক্তি
[৯৫৯] ইবরাহীম ইবনু হাজ্জাজ বলেন, “আমি ওয়াহহবকে বলতে শুনেছি, শয়তানের কাছে আদম-সন্তানদের মধ্যে অতিভোজক ও অতিনিদ্রালু ব্যক্তি থেকে বেশি প্রিয় আর কেউ নেই।"

মুমিনের বিপদ
[৯৬০] ওয়াহহব থেকে বর্ণিত আছে, “মুমিনের জন্য বিপদাপদ চতুষ্পদ জন্তুর বেড়ির ন্যায়।”

কিয়ামাতের দিন পাহাড়ের চিৎকার
[৯৬১] রবাহ বলেন, "ওয়াহহব থেকে আমার কাছে বর্ণনা করা হয়েছে, তিনি বলেছেন, 'যখন পাহাড়কে চলমান করা হবে এবং সে জাহান্নামের আওয়াজ, ক্রোধ, কর্কশধ্বনি ও শ্বাসগ্রহণের শব্দ শুনতে পাবে, তখন পাহাড় মহিলাদের ন্যায় চিৎকার করবে। তারপর পরস্পর ধাক্কা খেয়ে তার ওপরভাগ শেষভাগের ওপর ফিরে আসবে।”

প্রতিদান ও বিনিময় না দেওয়া
[৯৬২] বাক্কার বলেন, আমি ওয়াহহবকে বলতে শুনেছি, “প্রতিদান ও বিনিময় না দেওয়াটাও এক ধরনের ব্যয়কুণ্ঠতা।”

ইবাদাতগুজারের শক্তি বৃদ্ধি পায়
[৯৬৩] মুহাম্মাদ ইবনু জুহাদাহ বলেন, “ওয়াহহব ইবনু মুনাব্বিহ বলেছেন, 'যে ইবাদাতগুজার হয়, তার শক্তি বৃদ্ধি পায়। আর যে অলসতা করে, তার দুর্গতি বৃদ্ধি পায়।”

আল্লাহর ওলীদের অবস্থা
[৯৬৪] সাঈদ ইবনু জুবায়ের ওয়াহহব ইবনু মুনাব্বিহের পাশ দিয়ে অতিক্রম করার সময় তার সঙ্গীকে বললেন, “চলো আমরা কাছে যাই।” তারপর তিনি তার কাছে এলেন এবং তার ওপর হাজ্জাজের প্রয়োগ করা কঠোরতা ও তাকে বিতাড়িত করার অভিযোগ জানালেন। তখন ওয়াহব তাকে বললেন, "যখন আল্লাহর ওলীদের সাথে কঠোরতার আচরণ করা হয়, তখন তারা প্রত্যাশার আলো দেখেন। আর যখন তাদের সাথে নমনীয়তার আচরণ করা হয়, তখন তারা আতঙ্কিত হন।”

তিনটি বিষয় থেকে সাবধান থাকা
[৯৬৫] সমাদ ইবনু মাকিল থেকে বর্ণিত, “তিনি ওয়াহহব ইবনু মুনাব্বিহকে মিম্বরে দাঁড়িয়ে মানুষদের খুতবা দিতে শুনেছেন এই বলে-তোমরা আমার থেকে তিনটি বিষয় স্মরণ রাখো। অনুসৃত প্রবৃত্তি থেকে সাবধান থাকবে, অসৎ সঙ্গী থেকে সতর্ক থাকবে, নিজের মতামতের ওপর মুগ্ধ হওয়া থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখবে।”

কয়েকটি বিষয় শিক্ষা দিলেন
[৯৬৬] আবদুস সমাদ বলেন, “তিনি ওয়াহহবকে তার কোনো এক সঙ্গীকে বলতে শুনেছেন, আমি কি তোমাকে এমন চিকিৎসাবিদ্যা শেখাব না, যাতে চিকিৎসককে নিন্দায় না পড়তে হয়? এমন ফিকহ শেখাব না, যাতে ফকীহকে ভর্ৎসনার ভাগীদার না হতে হয়? এমন বিচক্ষণতা শেখাব না, যাতে বিচক্ষণ ব্যক্তিকে কোনো তিরস্কারের মুখোমুখি না হতে হয়? সে উত্তরে বলল, 'হ্যাঁ, অবশ্যই হে আবূ আবদুল্লাহ।' তখন তিনি বললেন, 'যে চিকিৎসাবিদ্যায় চিকিৎসককে নিন্দায় পড়তে হবে না তা হলো, খাওয়ার শুরুতে আল্লাহর নাম নেওয়া এবং শেষে তার প্রশংসা করা। আর যে ফিকহের মধ্যে ফকীহকে ভর্ৎসনার ভাগীদার হতে হবে না তা হলো, কোনো কিছু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে, জানা থাকলে উত্তর দেওয়া; নয়তো বলে দেওয়া যে, আমি জানি না। আর যে বিচক্ষণতার ক্ষেত্রে তিরস্কারের মুখোমুখি হতে হয় না তা হলো, বেশি বেশি চুপচাপ থাকা, যতক্ষণ না কোনো বিষয় সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়।”

নফসের অবস্থা অনুযায়ী প্রার্থনা কবুল করা হয়
[৯৬৭] আবদুল হামীদ ওয়াহহব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, “পূর্ববর্তী যুগের এক ব্যক্তি কিছুকাল ইবাদাত-বন্দেগি করে আল্লাহর কাছে কোনো প্রয়োজন প্রার্থনা করল। সে সত্তরটি শনিবার সিয়ামে কাটিয়ে দিলো। প্রতি শনিবারে এগারোটি করে খেজুর খেতো। তারপর আল্লাহর কাছে কোনো প্রয়োজন চাওয়ার পরও তিনি তা দিলেন না। তখন সে নিজের প্রতি মনোনিবেশ করে বলল, 'হে আমার নফস, তোমার অবস্থানুযায়ী আমাকে দান করা হয়। যদি তোমার কাছে কল্যাণকর কিছু থাকত, তাহলে অবশ্যই তোমার প্রয়োজনীয় বস্তু দিয়ে দেওয়া হতো। কিন্তু তোমার কাছে তো কল্যাণকর কিছু নেই।' ঠিক তখনই একজন ফেরেশতা তার কাছে অবতরণ করে তাকে জানাল, 'হে আদম-সন্তান, এই যে সময়টাতে তুমি নিজে নিজেকে দোষ দিচ্ছ, সে সময়টা তোমার অতীতের সমস্ত ইবাদাত অপেক্ষা উত্তম। তুমি যে প্রয়োজন প্রার্থনা করেছিলে, আল্লাহ তাআলা তা তোমাকে দিয়ে দিয়েছেন।”

কিয়ামাতের সময় সমুদ্র অগ্নিতে উত্তাল হবে
[৯৬৮] ইমরান আবুল হুযাইল শুনেছেন, وَإِذَا الْبِحَارُ سُجَّرَتْ "যখন সমুদ্র উত্তাল হবে।”[১০০] এই আয়াতের ব্যাখ্যায় ওয়াহহাব বলেছেন, “সমুদ্র অগ্নিতে উত্তাল হবে।”

টিকাঃ
[১৪৮] অর্থাৎ সম্পদশালী হলে যেমন অনেক সময় মানুষ স্বেচ্ছাচারী হয়ে ওঠে, অহংকারে আক্রান্ত হয় তেমনি ইলমের অধিকারী হলেও অনেক সময় এই ধরনের অবস্থা হয়ে থাকে।-অনুবাদক
[১৪৯] অর্থাৎ ধনীদের জান্নাতে যাওয়াটা বেশ কষ্টসাধ্য ব্যাপার। যেহেতু ধন-সম্পদ বেশি হবার কারণে তাদের হিসাব-নিকাশও বেশি, আবার তাদের গুনাহের পরিমাণও হয় অধিক।-অনুবাদক

📘 তাবিয়িদের চোখে দুনিয়া > 📄 তাউস রাহিমাহুল্লাহ-এর চোখে দুনিয়া

📄 তাউস রাহিমাহুল্লাহ-এর চোখে দুনিয়া


আমীরের হাদিয়া গ্রহণ করেননি
[৯৬৯] নোমান ইবনু যুবায়ের সানআনি জানিয়েছেন, “মুহাম্মাদ ইবনু ইউসুফ অথবা আইয়ুব ইবনু ইয়াহইয়া তাউসের কাছে পাঁচ শ বা সাত শ দীনার পাঠাল। যার মাধ্যমে পাঠাল তাকে তিনি বলে দিলেন, 'যদি তিনি তোমার থেকে তা গ্রহণ করেন, তবে আমীর তোমাকে (উন্নত) বস্ত্র দান করবেন এবং তোমার প্রতি আরও আনুগ্রহ করবেন।' সে দীনারগুলো নিয়ে তাউসের কাছে উপস্থিত হয়ে তাকে বলল, 'হে তাউস, এখানে কিছু খরচপাতি রয়েছে যা আমীর আপনার জন্য তা পাঠিয়েছেন।' তিনি উত্তর দিলেন, 'আমার এসবের কোনো দরকার নেই।' সে তাকে এগুলো গ্রহণ করে নিতে বলল। কিন্তু তাউস রাহিমাহুল্লাহ তাতে সম্মত হলেন না। তিনি দীনারগুলো ঘরের জানালা দিয়ে ছুড়ে ফেললেন। অতঃপর দূত সেখান থেকে প্রস্থান করে জানাল, তাউস রাহিমাহুল্লাহ দীনারগুলো গ্রহণ করেছেন। কিছুদিন যাবার পর তাউসের এমন কিছু কর্মকাণ্ডের সংবাদ আমীরের কানে এল যা তার পছন্দ হলো না। তিনি সংবাদ পাঠালেন যেন তার প্রদত্ত সম্পদগুলো ফিরিয়ে আনা হয়। তাউসের কাছে আমীরের দূত এসে বলল, 'আমীর যে সম্পদ আপনাকে দিয়েছিলেন তা ফেরত দিন।' তিনি জানালেন, 'সেই সম্পদের কিছুই আমি গ্রহণ করিনি।' দূত ফিরে গিয়ে এই সংবাদ জানাল। তারপর জানা গেল তিনি সত্য কথাই বলেছেন। তারপর যে ব্যক্তিকে দিয়ে সম্পদগুলো পাঠানো হয়েছিল, তাকে খোঁজ করা হলো। তাকে সংবাদ জানানোর পর সে এসে বলল, 'হে আবূ আবদুর রহমান (তাউসের উপনাম), আমি না তোমার কাছে সম্পদগুলো নিয়ে এসেছিলাম?' তিনি জানালেন, 'আমি কি তোমার থেকে কোনো কিছু গ্রহণ করেছিলাম?' সে বলল, 'না।' তিনি বললেন, 'তুমি কি জানো, আমি তা কোথায় রেখেছি?' সে বলল, 'হ্যাঁ জানি। ওই জানালাতে।' তিনি বললেন, 'যাও, আমি যেখানে রেখেছি, সেখানটাতে গিয়ে দেখো।' এরপর সে তার হাত বাড়িয়ে দেখে সেখানে থলের ভেতর সেই সম্পদগুলো পড়ে আছে। মাকড়সা তার ওপর এত দিনে বাসা বেঁধে ফেলেছে। তারপর লোকটি সেগুলো নিয়ে আমীরের কাছে চলে গেল।”

দুই পথে মাসজিদে যেতেন
[৯৭০] আবদুল্লাহ ইবনে বিশর বলেন, “তাউস রাহিমাহুল্লাহ ইয়ামানির মাসজিদে যাবার দুটি পথ ছিল। একটা বাজারের ভেতর দিয়ে, অন্যটা আরেক জায়গা দিয়ে। তিনি একবার একটা দিয়ে গমন করতেন, অন্যবার আরেকটা দিয়ে। বাজারের পথ দিয়ে যাবার সময় যদি ভুনা করা মাথা দেখতে পেতেন, তাহলে সে রাত্রে আর তিনি খাবার খেতেন না।”

সম্পদ-সন্তান থেকে দূরে থাকার দুআ
[৯৭১] সাঈদ বলেন, 'তাউস রাহিমাহুল্লাহ এই বলে দুআ করতেন, হে আল্লাহ, আমাকে সম্পদ ও সন্তান থেকে বঞ্চিত রাখো।”

সাহরির সময় জেগে থাকা
[৯৭২] মিসআর এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন, “সাহরির সময় তাউস রাহিমাহুল্লাহ একজন লোকের কাছে আসলেন। অন্যরা জানাল সে ঘুমিয়ে আছে। তিনি তখন বললেন, 'আমি সাহরির সময় কাউকে ঘুমিয়ে থাকতে দেখিনি।”

শাসকের থেকে দূরত্ব বজায় রাখা
[৯৭৩] সুফিয়ান ইবনু উআইনা বলেন, “উমার ইবনু আবদুল আযীয রাহিমাহুল্লাহ তাউস রাহিমাহুল্লাহ-কে বললেন, 'আপনি আপনার প্রয়োজনের কথা আমিরুল মুমিনিন সুলাইমান ইবনু আবদুল মালিককে জানান।' তাউস রাহিমাহুল্লাহ তাকে উত্তরে বললেন, 'তাকে জানানোর মতো কোনো প্রয়োজন আমার নেই।' (কথাটা শুনে) উমার ইবনু আবদুল আযীয রাহিমাহুল্লাহ কেমন যেন অবাক হলেন।”

ঈমান ও আমল দান করার দুআ
[৯৭৪] সুফিয়ান এক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেন, "তাউস রাহিমাহুল্লাহ এই বলে দুআ করতেন, হে আল্লাহ, আমাকে ঈমান ও আমল দান করুন এবং সম্পদ ও সন্তান থেকে বঞ্চিত রাখুন।”

হাজ্জাজের সামনে দুঃসাহস
[৯৭৫] আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ তাইমি বলেন, “আমি একজন শাইখকে অন্য আরেক ব্যক্তি থেকে বলতে শুনেছি যে, তাউস রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, আমি হিজর নামক জায়গায় ছিলাম। হঠাৎ সেখানে হাজ্জাজের আগমন হলো। এমতাবস্থায় সেখান দিয়ে এমন এক ব্যক্তি যাচ্ছিল, যার মধ্যে গ্রাম্য বেশভূষা ছিল। হাজ্জাজ তাকে জিজ্ঞেস করল, 'কোত্থেকে এসেছ?' সে জানাল, ইয়ামান থেকে। সে পুনরায় জিজ্ঞেস করল, ‘মুহাম্মাদ ইবনু ইউসুফকে কেমন দেখে এসেছ?’ সে বলল, 'বেশ মোটাতাজা ও হৃষ্টপুষ্ট। যেমনটা দেখলে আপনি খুশিই হবেন।' হাজ্জাজ বলল, 'আরে তোমার কাছে আমি এটা জানতে চাইনি।' সে বলল, 'তাহলে কী জানতে চেয়েছেন?' হাজ্জাজ বলল, 'তার চরিত্র সম্পর্কে জানতে চেয়েছি।' এবার সে ব্যক্তি জানাল, 'তাকে আমি চরম অত্যাচারীরূপে দেখে এসেছি।' হাজ্জাজ জিজ্ঞেস করল, 'তুমি কি জানো না যে, সে আমার ভাই?' সে ব্যক্তি বলল, 'আপনি কি আপনার ভাইকে আল্লাহর কাছে আমার চেয়েও বেশি পরাক্রমশালী মনে করেন?' তাউস রাহিমাহুল্লাহ বলেন, 'এই দৃশ্যের মতো নয়ন জুড়ানো দৃশ্য আমার চোখে আর পড়েনি। ওই ব্যক্তি (এই কথা বলার পর) বেঁচে গেল। হাজ্জাজ তাকে আর কিছুই করল না।”

জামা না নিয়েই চলে গেলেন
[৯৭৬] আবদুর রাজ্জাক তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন, “তাউস রাহিমাহুল্লাহ মেঘময় ঠান্ডা সকালে সালাত আদায় করতেন। একবার মুহাম্মাদ ইবনু ইউসুফ অথবা আবূ আইয়ুব ইবনু ইয়াহইয়া সদলবলে তার পাশ দিয়ে যাচ্ছিল, তখন তিনি সাজদা অবস্থায় ছিলেন। সে সবুজ রঙের এক বিশেষ পোশাক আনার জন্য বলে, তা তার ওপর রেখে দিলো। তাউস রাহিমাহুল্লাহ নিজ প্রয়োজনের কথা (আল্লাহর কাছে বলা) শেষ করার আগ পর্যন্ত মাথা উঠালেন না। তারপর তিনি সালাম ফিরিয়ে তাকিয়ে দেখলেন তার গায়ের ওপর সবুজ রঙের সেই পোশাক। তিনি কিছুটা কেঁপে উঠলেন এবং সেদিকে আর ভ্রুক্ষেপ না করে সোজা বাড়ি ফিরে গেলেন।"

অসুস্থের সেবা করা
[৯৭৭] মামার বলেন, “একবার তাউস রাহিমাহুল্লাহ তার একজন অসুস্থ বন্ধুর কাছে (সেবা করার জন্য এত দীর্ঘ সময়) অবস্থান করছিলেন যে, একপর্যায়ে হাজ্জও তার হাতছাড়া হয়ে যায়।”

দায়িত্বশীল ব্যক্তির খানা ভক্ষণ না করা
[৯৭৮] শাম্মা আল-আক্কী বলেন, “তাউস রাহিমাহুল্লাহ আমাকে বলেছেন, 'ঈশার সালাত আদায় করার পর আরও তিন (রাকাত) পড়ো। আর কখনো কোনো দায়িত্বশীল ব্যক্তির খানা ভক্ষণ করবে না।"

নেক বান্দাদের হাজ্জ
[৯৭৯] লাইস ইবনে সাদ তাউস রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেন, “নেক বান্দাদের হাজ্জ সওয়ারির ওপর হয়ে থাকে।"

শেষ রাত জেগে কাটানো
[৯৮۰] দাউদ ইবনু ইবরাহীম বলেন, "একবার একটা সিংহ রাত্রিবেলায় রাস্তায় লোকদের আটকে রাখল। মানুষেরা একে অপরের সাথে ধাক্কাধাক্কি করতে লাগল। সাহরির সময় সিংহটি তাদের রেখে চলে গেল। তখন সবাই ডানে-বামে (ছড়িয়ে-ছিটিয়ে) অবস্থান নিয়ে ঘুমের কোলে ঢলে পড়ল। কিন্তু তাউস রাহিমাহুল্লাহ দাঁড়িয়ে সালাত আদায় করতে লাগলেন। কেউ একজন তাকে বলল, 'সেই রাত হবার পর থেকে আপনি দাঁড়িয়ে আছেন!' তিনি জবাব দিলেন, 'সাহরির সময় কি কেউ ঘুমায়!’"

দুআয় রোনাজারি
[৯৮১] ইবনু আবী রওয়াদ বলেন, “তাউস রাহিমাহুল্লাহ এবং তার কিছু সাথি-সঙ্গী আসরের সালাত আদায় করার পর কেবলামুখী হয়ে বসতেন। তারপর কারও সাথে কোনো কথা না বলে দুআয় রোনাজারি করতে থাকতেন।”

সালাতে দুই শ আয়াত তিলাওয়াত
[৯৮২] ইবনু জুরাইজ বলেন, “তাউস রাহিমাহুল্লাহ বৃদ্ধ ও দুর্বল হয়ে যাবার পরও সালাতে দাঁড়িয়ে সূরা বাকারার দুই শ আয়াত তিলাওয়াত করতেন। তার থেকে এর ব্যত্যয় পাওয়া যেত না এবং তিনি নাড়াচাড়াও করতেন না।”

আরাফার সন্ধ্যায় নিজেকে একাকী রাখা
[৯৮৩] উমার ইবনু ওয়ারদ বলেন, “আতা আমাকে বলেছেন, 'যদি আরাফার সন্ধ্যায় তুমি নিজেকে একাকী রাখতে সক্ষম হও তবে তা কোরো।”

অন্যকে উপদেশ দিয়ে নিজে আমল না করার পরিণতি
[৯৮৪] মুহাম্মাদ ইবনু ওয়াসি বলেন, "আমি জানতে পেরেছি-যাদের জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে তাদের কেউ কেউ নিজের পেটের আঁত টেনে বের করবে, তা নিয়ে ঘুরতে থাকবে যেভাবে চাক্কি ঘুরতে থাকে। তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, 'তুমি কি সৎ কাজের আদেশ আর অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করতে না?' সে বলবে, 'হ্যাঁ, আমি সৎ কাজের আদেশ করতাম বটে কিন্তু পরে নিজেই তার বিপরীতটা করতাম। এমনিভাবে অসৎ কাজ থেকেও নিষেধ করতাম বটে কিন্তু পরে নিজেই তাতে লিপ্ত হতাম।"

নিজের ইলম দ্বারা উপকৃত না হওয়ার পরিণতি
[৯৮৫] মানসুর ইবনে যাজান বলেন, “আমাকে জানানো হয়েছে যে, এক ব্যক্তিকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে, তার দুর্গন্ধে জাহান্নামীদের খুব কষ্ট হতে থাকবে। তখন তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, 'তোমার ধ্বংস হোক, তুমি কি এমন কাজ করতে? আমরা যে দুরবস্থায় আছি সেটাই তো আমাদের সহ্য হয় না। তার ওপর আবার তোমার দুর্গন্ধের জ্বালায় অতিষ্ঠ হচ্ছি।' সে তখন জানাবে, 'আমি (দুনিয়াতে) আলেম ছিলাম কিন্তু নিজের ইলম দ্বারা উপকৃত হইনি।”

জাহান্নামের আশ্রয় প্রার্থনা
[৯৮৬] ইমরান আল-কসীর বলেন, “আমি জানতে পেরেছি যে, জাহান্নামে এমন একটা উপত্যকা রয়েছে, খোদ জাহান্নাম যার থেকে দিনে চার শ’ বার আশ্রয় প্রার্থনা করে। কারণ, তার আশঙ্কা হয়, তাকে সেখানে পাঠানো হবে আর সেই উপত্যকা তাকে খেয়ে ফেলবে। সেই উপত্যকাটি তৈরি করা হয়েছে লৌকিকতায় আক্রান্ত কারিদের জন্য।"

📘 তাবিয়িদের চোখে দুনিয়া > 📄 মুজাহিদ রাহিমাহুল্লাহ-এর চোখে দুনিয়া

📄 মুজাহিদ রাহিমাহুল্লাহ-এর চোখে দুনিয়া


জাহান্নাম থেকে আশ্রয় চাওয়ার সুফল
[৯৮৭] মুজাহিদ বলেছেন, “কোনো এক বান্দার ব্যাপারে জাহান্নামে যাবার আদেশ দেওয়া হলে, জাহান্নাম লাফিয়ে উঠবে। তার কাছে জানতে চাওয়া হবে, 'কী ব্যাপার, তোমার আবার কী হলো?' সে তখন বলবে, 'এই ব্যক্তি তো আমার থেকে রীতিমতো আশ্রয় প্রার্থনা করত।' তখন তাকে বলা হবে, 'ঠিক আছে। তাকে চলে যেতে দাও।'”

দুনিয়া থেকে আখিরাতের পাথেয় সংগ্রহ
[৯৮৮] মুজাহিদ রহিমাহুল্লাহ وَلَا تَنسَ نَصِيبَكَ مِنَ الدُّنْيَا “তুমি তোমার দুনিয়ার অংশের কথা ভুলে যেয়ো না।”[১৫১] এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন, “আল্লাহর আনুগত্য করার মাধ্যমে দুনিয়াতেই তুমি তোমার আখেরাতের পাথেয় সংগ্রহ করে নাও।”

সত্যিকার ফকীহ-এর পরিচয়
[৯৮৯] মুজাহিদ বলেছেন, “সত্যিকার ফকীহ হলেন তিনি, যিনি আল্লাহ তাআলাকে ভয় করেন।”

আল্লাহমুখী হওয়া
[৯৯০] মুজাহিদ বলেছেন, "নিশ্চয়ই বান্দা যখন আল্লাহ তাআলার প্রতি মনোনিবেশ করে তখন আল্লাহ তাআলাও মুমিনদের অন্তর তার দিকে ঘুরিয়ে দেন।”

হালাল উপার্জনে লজ্জাবোধ না করা
[৯৯১] মুজাহিদ বলেছেন, "যে ব্যক্তি হালাল উপার্জনে লজ্জাবোধ করে না, তার খরচের (ভার) হালকা হয়ে আসে। নিজেকে সে প্রশান্তি দিতে পারে এবং তার অহংবোধ কমে আসে।"

নির্জন অবস্থায় নিজের পাপের কথা স্মরণ করা
[৯৯২] ইউনুস ইবনু খাব্বাব বলেন, “মুজাহিদ—তিনি আমার ভাই হন—আমাকে বলেছেন, 'আমি কি তোমাকে আল-আওয়াব আল-হাফীজ সম্পর্কে সংবাদ দেবো না?' আমি বললাম, 'জি হ্যাঁ।' তিনি বললেন, 'সে হচ্ছে ওই ব্যক্তি, যে নির্জন অবস্থায় নিজের পাপের কথা স্মরণ করে আল্লাহর দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করে।"

একজন ব্যক্তির জাহান্নাম থেকে মুক্তি
[৯৯৩] মুজাহিদ বলেছেন, "কিয়ামাতের দিন একজন বান্দার ব্যাপারে জাহান্নামের আদেশ করা হবে। সে বলবে, 'আমার তো এমনটা ধারণা ছিল না।' আল্লাহ তাআলা জিজ্ঞেস করবেন, 'তোমার ধারণা কী ছিল?' সে বলবে, '(আমার) ধারণা ছিল আপনি আমাকে ক্ষমা করবেন।' তখন আল্লাহ তাআলা বলবেন, 'তাকে ছেড়ে দাও।”

ঈশার সালাতের পর চার রাকাত সালাত
[৯৯৪] আমাশ থেকে বর্ণিত, মুজাহিদ বলেছেন, "ঈশার সালাতের পর চার রাকাত সালাত আদায় করা, কদরের রাতে সমসংখ্যক সালাতের সমকক্ষ গণ্য করা হয়।" [১৫২]

নিজেকে খাটো করা
[৯৯৫] মুজাহিদ বলেছেন, “যে নিজেকে সম্মানিত করে, সে দ্বীনকে খাটো করে। আর যে নিজেকে খাটো করে, সে দ্বীনকে সম্মানিত করে।”[১৫৩]

টিকাঃ
[১৫১] সূরা কাসাস, ২৮: ৭৭
[১৫২] ইসনাদে দুর্বল বর্ণনাকারী আছেন (হাইসামি, মাজমা: ২/৪০)।
[১৫৩] অর্থাৎ অনেক ক্ষেত্রে নিজের সম্মান রক্ষা করতে গিয়ে মানুষ দরকার হলে দ্বীনের অসম্মান ঘটায়। আবার এর বিপরীত দ্বীনের সম্মান রক্ষা করতে গিয়ে অনেক সময় নিজেকে অসম্মানিত ও খাটো করার প্রয়োজন দেখা দেয়।-অনুবাদক

📘 তাবিয়িদের চোখে দুনিয়া > 📄 উবায়দ ইবনু উমায়র রাহিমাহুল্লাহ-এর চোখে দুনিয়া

📄 উবায়দ ইবনু উমায়র রাহিমাহুল্লাহ-এর চোখে দুনিয়া


আল্লাহকে লজ্জা করা
[৯৯৬] উবায়দ ইবনু উমায়র রাহিমাহুল্লাহ থেকে জনৈক শ্রবণকারী বর্ণনা করেন, তিনি বলেছেন, "তোমরা মানুষকে লজ্জা করার তুলনায় আল্লাহকে লজ্জা করাকে প্রাধান্য দাও।"

আল্লাহ যার কল্যাণ কামনা করেন
[৯৯৭] আবু সুফিয়ান বলেন, "উবায়দ ইবনু উমায়র বলেছেন, 'আল্লাহ যার কল্যাণ কামনা করেন, তাকে দ্বীনের বুঝ দান করেন। এবং তার অন্তরে হেদায়াতের অনুপ্রেরণা দান করেন।"

বর্তমান যুগের মুজতাহিদ
[৯৯৮] মুজাহিদ বলেন, “উবায়দ ইবনু উমায়র রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, 'বর্তমান যুগের মুজতাহিদ অতীতকালের খেলোয়ারের মতো।”

আল্লাহর নিকট অধিক উত্তম আমল
[৯৯৯] আবূ নাওফিল বলেন, “উবায়দ ইবনু উমায়র বলেছেন, 'যদি তোমরা সম্পদ খরচ করতে কৃপণতা করো, শত্রুর সঙ্গে লড়াই করতে ভয় পাও এবং রাত্রি জাগরণ কষ্টসাধ্য মনে করো, তবে তোমরা অধিক পরিমাণে সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি বলো। ওই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ—এটি স্বর্ণ-রুপার-দুটি পাহাড় অপেক্ষা আল্লাহর নিকট অধিক উত্তম।”
হাবীব ইবনু আবী সাবিত বলেন, “উবায়দ ইবনু উমায়র বলেছেন, 'যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর কাছে বান্দার প্রয়োজন থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহরও বান্দার প্রতি মনোযোগ থাকবে।”

শীতকালে রাতে বেশি সালাত পড়া যায়
[১০০০] মুজাহিদ বলেন, “উবায়দ ইবনু উমায়র আল-লাইসি শীতকাল এলে বলতেন, 'হে কুরআন-প্রেমিকরা, যখন শীতকাল আসে তখন তোমাদের সালাতের জন্য রাত দীর্ঘ এবং সাওমের জন্য দিন খাটো হয়ে যায়। সুতরাং তোমরা আমলে নিমগ্ন হও। যদি তোমরা রাত্রে ইবাদাত করতে না পারো, শত্রুর সঙ্গে লড়াই করতে ভীত থাকো এবং সম্পদ খরচ করতে কৃপণতা করো, তবে অধিক পরিমাণ আল্লাহর যিকর করো।”

যখন আল্লাহ কারিকে অপছন্দ করেন
[১০০১] আবদুল কারীম ইবনু উমাইয়া বলেন, “উবায়দ ইবনু উমায়র রাহিমাহুল্লাহ বলেছেন, আল্লাহ তাআলা কারিকে অপছন্দ করেন, যখন সে অধিক পোশাক পরিধান করে, অধিক আরোহণ করে এবং অধিক যাতায়াত করে। [১৫৪]

দান করা অপচয় নয়
[১০০২] উসমান ইবনু আসওয়াদ বলেন, “মুজাহিদ বলেছেন, 'কোনো ব্যক্তি আল্লাহর আনুগত্যে উহুদ পরিমাণ সম্পদ খরচ করলেও, সে অপচয়কারীদের অন্তর্ভুক্ত হবে না।"

আল্লাহর কাছে বরকত কামনা করা
[১০০৩] সুফিয়ান বলেন, "তিনি বলেছেন, 'রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তিকে বলতে শুনেছেন, আল্লাহ আমাদের মৃত্যুতে বরকত দান করুন। তখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, 'এবং জীবনেও।” [১৫৫]

গুনাহ হলে ইস্তিগফার করা
[১০০৪] মালেক ইবনু মিগওয়াল বলেন, “আমি আবূ ইয়াহইয়াকে বলতে শুনেছি, আমি মুজাহিদের নিকট গুনাহের অভিযোগ ব্যক্ত করলে তিনি বললেন, 'তুমি কেন ইস্তিগফার করছ না!"

উত্তম ব্যক্তির পরিচয়
[১০০৫] আবূ যুরআ ইবনু আমর ইবনু জারীর বলেন, "যে দুই ব্যক্তি একে অপরকে আল্লাহর জন্য ভালোবাসে, তাদের উভয়ের মধ্যে সর্বোত্তম ব্যক্তি সে, যে অপরকে অধিক ভালোবাসে।”

অভাবে পড়লে তাওবা করা
[১০০৬] হারেস ইবনু কায়েস আল-জুফি রাহিমাহুল্লাহ থেকে বলেন, “যখন কারও দুনিয়াবি কোনো বিষয়ের প্রয়োজন দেখা দেবে, তখন তার কর্তব্য হলো তাওবা করা। আর যখন পরকালীন কোনো বিষয়ের প্রয়োজন দেখা দেবে, তখন তার কর্তব্য হলো আশা করা।"

তিনি তাকে লুঙ্গি কিনে দিলেন
[১০০৭] হাফস ইবনু গিয়াস রাহিমাহুল্লাহ বর্ণনা করেন, “সুফিয়ান সাওরি রাহিমাহুল্লাহ মুজাম্মি আত-তাইমি রাহিমাহুল্লাহ-এর কাছে ছেঁড়া লুঙ্গি পরে আসলেন। তাই তিনি চার দিরহাম নিয়ে সুফিয়ান সাওরিকে দিয়ে বললেন, 'আপনি (এই দিরহামগুলো দিয়ে আরেকটি নতুন) লুঙ্গি ক্রয় করুন।' সুফিয়ান বললেন, 'আমার প্রয়োজন নেই।' মুজাম্মি বললেন, 'ঠিকই বলেছেন। আপনার প্রয়োজন নেই। তবে আমার ঠিকই প্রয়োজন আছে।' তারপর তিনি তা নিলেন ও একটি লুঙ্গি কিনে আনলেন সেটি দিয়ে। বর্ণনাকারী বলেন, সুফিয়ান বলতেন, 'মুজাম্মি আমাকে কাপড় দিয়েছেন। আল্লাহ তাকে উত্তম বিনিময় দান করুন।' তিনি আরও বলতেন, 'আমার যে আমলের সাথে অন্য কোনো কিছুর তুলনা হয় না তা হলো—মুজাম্মির প্রতি পোষণ করা আমার ভালোবাসা।”

সম্মানিত ব্যক্তিবর্গের মজলিস
[১০০৮] রবী ইবনু ইয়াজিদ বলেন, “আবূ ইদরীস আল-খাওলানি বলেছেন, 'মাসজিদ হলো সম্মানিত ব্যক্তিবর্গের মজলিস।”

যার জন্য আল্লাহ যথেষ্ট হয়ে যাবেন
[১০০৯] রবী ইবনু ইয়াজিদ বলেন, “আবূ ইদরীস বলেছেন, 'যে ব্যক্তি তার সকল চিন্তা-ভাবনাকে একটি চিন্তা-ভাবনায় (আখিরাতের চিন্তা-ভাবনায়) পরিণত করবে, আল্লাহ তার সকল দুঃখ-কষ্টের জন্য যথেষ্ট হয়ে যাবেন। আর যে ব্যক্তির প্রত্যেক বিষয়ে (অর্থাৎ দ্বীন-দুনিয়ার সব বিষয়ে) চিন্তা-ভাবনায় মগ্ন হবে, সে কোথায় ধ্বংস হবে আল্লাহ তার পরোয়া করবেন না।"

মানুষকে আকৃষ্ট করার জন্যে হাদীস শেখা
[১০১০] আবূ ইদরীস আল-খাওলানি বলেন, “যে ব্যক্তি মানুষের অন্তর আকৃষ্ট করার জন্যে হাদীসশাস্ত্র শিখবে সে জান্নাতের ঘ্রাণও পাবে না।"

অনুগ্রহকে ঋণ মনে করা
[১০১১] ইবরাহীম ইবনু আদহাম রাহিমাহুল্লাহ বলেন, “তুমি আল্লাহ ও নিজের মাঝে কোনো অনুগ্রহকারী নিযুক্ত কোরো না। তোমার প্রতি অন্যদের অনুগ্রহকে ঋণ মনে কোরো।”[১৫৬]

খ্যাতিলোভী ব্যক্তির অবস্থা
[১০১২] ইবরাহীম ইবনু আদহাম রাহিমাহুল্লাহ বলেন, “যে ব্যক্তি খ্যাতি পেতে ভালোবাসে, সে আল্লাহকে সত্যায়ন করে না।”

সন্তানের প্রতি কিছু উপদেশ
[১০১৩] আলি ইবনু ইয়াজিদ ইবনু জুদআন বলেন, “একজন আনসারি ব্যক্তির কাছে মৃত্যু উপস্থিত হলে তিনি তার ছেলেকে ডেকে বললেন, 'প্রিয় বৎস, তোমাকে আমি কিছু উপদেশ দিচ্ছি। তুমি তা মুখস্থ করে নাও। কারণ, তুমি যদি আমার থেকে তা মনে না রাখো, তাহলে অন্যদের থেকে তা আর মনে রাখার সুযোগ পাবে না। আল্লাহকে ভয় করো। যদি তোমার পক্ষে সম্ভব হয়, গতকালের চেয়ে আজ এবং আজকের চেয়ে আগামীকাল তুমি বেশি ভালো হবে, তবে তা-ই করো। লোভ থেকে দূরে থাকো। কারণ, তা হলো উপস্থিত দরিদ্রতা। নিরাশ হওয়া থেকেও সাবধান থাকো। কারণ, যে বিষয়েই তুমি নিরাশ হও না কেন, আল্লাহ তা থেকে তোমাকে মুক্ত করতে সক্ষম। যেসব বিষয়ে আপত্তি করা হয়, তা থেকেও সাবধান থাকো। কারণ, কল্যাণকর বিষয়ে কোনো আপত্তি গ্রহণীয় নয়। যদি কোনো আদম-সন্তানের পদস্খলন হয়—তবে সেই ব্যক্তি তুমি না হওয়ার কারণে—আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করো। যখন সালাতের জন্য প্রস্তুত হবে তখন এমনভাবে সালাত আদায় করবে, যেন এটিই তোমার জীবনের শেষ সালাত। এর পরে আর তুমি সালাত পড়তে পারবে না।”

নিজের দ্বীনকে বিক্রি না করা
[১০১৪] রজা ইবনু আবূ সালামাহ বলেন, “আমাকে জানানো হয়েছে যে, ইবনু মুহাইরিয কিছু কেনার জন্য একজন কাপড়-বিক্রেতার কাছে গেলেন। এক ব্যক্তি তাকে বলল, 'একে চেনো? সে হলো ইবনু মুহাইরিয।' (এটা শুনে) তিনি দাঁড়িয়ে গিয়ে বললেন, 'আমরা এখানে পয়সা দিয়ে কিনতে এসেছি, নিজেদের দ্বীন দিয়ে নয়।”

বিনম্র লোকের পরিচয়
[১০১৫] আমর ইবনু আউসম বলেন, “বিনম্র তারা, যারা অন্যের প্রতি জুলুম করে না। আর যখন তাদের প্রতি জুলুম করা হয়, তখন তারা জয়ী হয় না।" [১৫৭]

সৎলোকের পরিচয়
[১০১৬] সুফিয়ান ইবনু উয়ায়না বলেছেন, “হাসানকে 'আবরার' বা সৎলোক সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছে। উত্তরে তিনি বলেছেন, 'যারা একটি ছোট্ট পিঁপড়াকেও কষ্ট দেয় না।"

অহংকার করলে আল্লাহ অপদস্থ করেন
[১০১৭] মুজাহিদ নবি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে মুরসাল সূত্রে বর্ণনা করেছেন, "প্রত্যেক আদম-সন্তানেরই মাথার অগ্রভাগের কেশগুচ্ছ ধরে রাখে একজন ফেরেশতা। যখন সে অহংকার করে, তখন আল্লাহ তাআলা (সেই ফেরেশতার মাধ্যমে) তাকে অপদস্থ করেন। আরও একজন ফেরেশতা তার মাথা ধরে রাখে, যখন সে বিনয়ী হয় তখন আল্লাহ (সেই ফেরেশতার মাধ্যমে) তার মর্যাদা বুলন্দ করেন।”

আয়াতের উদ্দেশ্য
[১০১৮] মুজাহিদ রাহিমাহুল্লাহ وَاسْأَلُوا اللَّهَ مِن فَضْلِهِ "তোমরা আল্লাহর নিকট তার অনুগ্রহ চাও।”[১৫৮] এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন, "এখানে দুনিয়া উদ্দেশ্য নয়।”

যিকরকারী সালাতে থাকার মতোই
[১০১৯] হেলাল ইবনু আবূ উবায়দা বলেন, “মানুষের অন্তর যতক্ষণ আল্লাহর যিকর করে, ততক্ষণ সে যেন সালাতেই থাকে; যদিও সে বাজারে অবস্থান করে। আর যদি দুটি ঠোঁট নাড়িয়ে যিকর করে, তবে তো তা আরও উত্তম।”

যার সম্পদ বেশি তার কষ্ট বেশি
[১০২০] আমর ইবনু কায়েস বলেন, “ওয়ালীদ ইবনু কায়েস বলেছেন, 'যার অর্থসম্পদ বেশি তার কষ্ট-ক্লান্তি বেশি। যার কষ্ট-ক্লান্তি বেশি তার শয়তান বেশি। যার শয়তান বেশি তার হিসেব-নিকাশ হবে কঠিন।”

ধৈর্যশীলদের প্রতিদান
[১০২১] আবূ হাম্মাম ওয়ালীদ ইবনু কায়েস আস্-সুকুনি রাহিমাহুল্লাহ বলেন, إِنَّمَا يُوَفَّى الصَّابِرُونَ أَجْرَهُم بِغَيْرِ حِسَابٍ “নিশ্চয় ধৈর্যশীলদের বিনা হিসাবে তাদের প্রতিদান দেওয়া হবে।” [১৫৯]
এই আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেছেন, "তাদের হাতের কোষ ভরে দেওয়া হবে।”

রাতের বেলায় সালাতের জন্য ডাকতেন
[১০২২] ইবনু জাবের বলেন, “আমরা আতা আল-খুরাসানি রাহিমাহুল্লাহ-এর সঙ্গী হয়ে যুদ্ধ করতাম। তিনি রাত্র জেগে সালাত আদায় করতেন। যখন অর্ধরাত কিংবা রাতের এক-তৃতীয়াংশ অতিবাহিত হয়ে যেত তখন তিনি তাঁবুর ভেতর থেকে আমাদের শুনিয়ে এভাবে ডাকতে থাকতেন—হে আবদুর রহমান ইবনু ইয়াজিদ। হে ইয়াজিদ ইবনু ইয়াজিদ। হে হিশাম ইবনুল গায। হে অমুকের ছেলে অমুক। তোমরা ঘুম থেকে ওঠো। ওযু করে সালাত আদায় করো। এই রাতের সালাত এবং এই দিনের সাওম এসব পূঁজ পান ও লৌহ কর্তন অপেক্ষা অধিকতর সহজ। অতঃপর তিনি বলতেন, 'দ্রুত করো। আরও দ্রুত করো।' তারপর তিনি সালাতে মনোনিবেশ করতেন।"

আল্লাহর ভয়ে সব সময়ই ক্রন্দন করা
[১০২৩] ইবনু জাবের বলেন, “আমি ইয়াজিদ ইবনু মারসাদকে জিজ্ঞেস করলাম, 'কী ব্যাপার, আমি আপনার চোখ শুকাতে দেখি না?' তিনি বললেন, 'তা জেনে তুমি কী করবে?' আমি বললাম, 'আশা করি, আল্লাহ আমাকে এর দ্বারা উপকৃত করবেন।' তিনি বললেন, “হে ভাই, আল্লাহ তাআলা আমাকে ধমক দিয়েছেন যদি আমি তার অবাধ্যতা করি, তাহলে তিনি আমাকে আগুনের কারাগারে বন্দী করবেন। আল্লাহর কসম, যদি তিনি আমাকে গোসলখানায় বন্দী করারও ধমক দিতেন, তবুও আমার চোখ শুকাত না। (অর্থাৎ আল্লাহর ভয়ে অশ্রুসজল থাকত।) আমি তাকে বললাম, 'নির্জন অবস্থায়ও কি আপনি এমনই থাকেন?' তিনি বললেন, 'এটা জেনে তুমি কী করবে?' আমি বললাম, 'আল্লাহ হয়তো আমাকে এর দ্বারা উপকৃত করবেন।' তিনি বললেন, 'আল্লাহর কসম, আমি যখন আমার পরিবারের কাছে থাকি তখনো আমার এই অবস্থা হয় এবং আমার ইচ্ছার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। আমার সামনে খাবার রাখা হয়, তখন এই অবস্থা হবার কারণে আমার খাবারের মধ্যে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। এমনকি আমার স্ত্রী ও সন্তানরা কাঁদতে থাকে। তারা ঠিক জানেও না, কেন আমরা কাঁদছি। অনেক সময় এই বিষয়টি আমার স্ত্রীকে কষ্টে ফেলে দেয়। তখন সে বলে, হায়, দুনিয়ার জীবনে একি দীর্ঘ দুঃখ আপনার সঙ্গী হলো! আপনার সাথে তো আমার চোখটাও প্রশান্তি পাচ্ছে না।”

অধিক পরিমাণে তাকবীর
[১০২৪] ইবনু জাবের বলেন, “আবূ মুসলিম আল-খাওলানি উচ্চৈঃস্বরে অধিক পরিমাণে তাকবীর বলতেন। এমনকি শিশুদের সাথে থাকা অবস্থায়ও। তিনি বলতেন, ‘তুমি এমনভাবে আল্লাহর যিকর করো, যেন জাহেলরা দেখে মনে করে তুমি একজন পাগল'।”

হারানো জিনিস ফিরে পেতে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা
[১০২৫] হুমাইদ ইবনু হিলাল বা অন্য কারও থেকে বর্ণিত, “আবূ মুসলিম খাওলানি একবার দজলা নদীর পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। সেখানে স্রোতের প্রবাহে এক টুকরা কাঠ ভেসে যাচ্ছিল। তিনি পানির ওপর দিয়ে হেঁটে চলে গেলেন। তারপর তিনি তার সাথি দের দিকে ফিরে বললেন, ‘তোমরা কি তোমাদের কোনো জিনিস হারিয়েছ? যদি হারিয়ে থাকো, তাহলে তা ফিরে পাওয়ার জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করো'।”

কুরআনকে বিক্রি না করা
[১০২৬] শাইবান ইবনু আবী শাইবাহ বলেন, “আমি সাল্লাম ইবনু মিসকিনকে বলতে শুনেছি, যদি আমাকে এই স্তম্ভ সমপরিমাণ স্বর্ণও দেয়া হয়, তবুও আমি কুরআন বিক্রি করব না।”

চল্লিশ বছর যাবৎ জামাতে সালাত আদায়
[১০২৭] ইমরান থেকে বর্ণিত, “সাঈদ ইবনু মূসাইয়িবের চল্লিশ বছর যাবৎ জামাতে সালাত ছুটেনি। এবং (সবার শেষে মাসজিদ থেকে বের হবার দরুন) লোকদের পৃষ্ঠদেশের দিকে তিনি তাকিয়েও দেখেননি। লোকেরাও মাসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় কখনো তার সাক্ষাৎ পায়নি।”

আযানের আগে মাসজিদে যাওয়া
[১০২৮] আবূ সাহল উসমান ইবনু হাকীম বলেন, “আমি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব রাহিমাহুল্লাহ-কে বলতে শুনেছি, ত্রিশ বছর যাবৎ আমি মাসজিদে থাকা অবস্থায় মুআযযিন আযান দিয়েছে।”

মাছির চেয়েও তুচ্ছ জীবন
[১০২৯] ইমরান ইবনু আবদুল্লাহ ইবনু তালহা বলেন, "আমার মনে হয় সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব আল্লাহর সামনে নিজের জীবনকে মাছির চেয়েও তুচ্ছ মনে করেন।”

বাইয়াত প্রদানে অসম্মত হওয়া
[১০৩০] ইমরান ইবনু আবদুল্লাহ বলেন, "আবদুল মালিক ইবনু মারওয়ানের পরবর্তী শাসক ওয়ালীদ ইবনু সুলাইমানের হাতে বাইয়াত গ্রহণ করার জন্য সাঈদ ইবনুল মূসাইয়িবকে ডাকা হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, 'যতদিন দিবারাত্রি পরিবর্তন হবে, তত দিন আমি দুজনের হাতে বাইয়াত গ্রহণ করব না।' তাঁকে বলা হলো, 'তুমি এক দরজা দিয়ে প্রবেশ করো এবং আরেক দরজা দিয়ে বের হও।' তিনি বলেন, 'আল্লাহর কসম, কোনো মানুষ আমার পদাঙ্ক অনুসণ করবে না।”
বর্ণনাকারী বলেন, "অতঃপর তারা তাকে এক শ বেত্রাঘাত করেছে এবং শক্ত পোশাক পরিধান করিয়েছে।”

মক্কায় অবস্থানের গুরুত্ব
[১০৩১] ওলীদ ইবনু মুগীরাহ বলেন, "সাঈদ ইবনুল মূসাইয়িব আমাকে বলেছেন, 'তুমি একাকিত্বকে গ্রহণ করে নাও। কেননা, তা ইবাদাত। তুমি (মক্কার) হারামের আশপাশে থাকবে। যদি ভালো কিছু হওয়ার থাকে, তবে তা হারামেই হবে। আর যদি মন্দ কিছু হয়ে থাকে, তবে হারামের বাইরের অংশে হবে। কারণ, আমি জানতে পেরেছি যে, মক্কাবাসী বা মক্কায় যারা বসবাস করে, তারা কোনোদিন ধ্বংস হবে না; যতদিন না হারাম তাদের কাছে হারামের বাইরের অন্যান্য সাধারণ জায়গার মতো না হয়ে যায়।”

শাসকের ডাকে সাড়া না দেওয়া
[১০৩২] মায়মুন ইবনু মিহরান বর্ণনা করেন যে, “একবার আবদুল মালিক ইবনু মারওয়ান মদীনায় এলেন। দুপুরে ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে তিনি তার দারোয়ানকে বললেন, 'দেখো, মাসজিদে কোনো যুবক আছে কি না?' দারোয়ান যুবকের খোঁজে বের হয়ে সেখানে সাঈদ ইবনুল মূসাইয়িবকে ছাড়া আর কাউকে দেখতে পেল না। সে আঙুল দিয়ে ইশারা করে তাকে আসতে বলল। কিন্তু সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব নড়লেন না। অতঃপর দারোয়ান এসে বলল, 'তুমি কি দেখোনি, আমি তোমাকে ইশারা করে আসতে বলেছিলাম?' তিনি বললেন, 'তোমার কী প্রয়োজন?' সে বলল, 'আমিরুল মুমিনিন ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে আমাকে বলেছেন, দেখো, মাসজিদে কোনো যুবক আছে কি না?' সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব বললেন, 'আমি তার (প্রশাসনের) কোনো লোক নই।' দারোয়ান আবদুল মালিকের নিকট গিয়ে বলল, 'মসজিদে একজন শাইখ পেয়ে তাঁকে ইশারা করে আসতে বলেছিলাম, কিন্তু তিনি ওঠেননি। তারপর বলেছি, আমিরুল মুমিনিন আমাকে বলেছেন— দেখো, কোনো যুবক দেখতে পাও কি না? তখন তিনি বলেছেন, আমি আমিরুল মুমিনিনের লোক নই।' আবদুল মালিক বললেন, 'তিনি হলেন সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব। তাকে আপন অবস্থায় ছেড়ে দাও।”

চল্লিশবার হাজ্জ করা
[১০৩৩] ইবনু হারমালা বর্ণনা করেন, "আমি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িবকে বলতে শুনেছি, আমি চল্লিশবার হাজ্জ করেছি।”

আল্লাহর সন্তুষ্টি কামনা করা
[১০৩৪] উমার ইবনু যর বলেন, "একবার আমার সাথে রবী ইবনু আবী রাশেদ-এর সাক্ষাৎ হলো। তিনি আমার হাত ধরে একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে গেলেন। অতঃপর বললেন, 'হে আবূ যর, যে ব্যক্তি আল্লাহর নিকট তার সন্তুষ্টি কামনা করল, সে তার নিকট অতি মহান একটি বিষয় কামনা করল।"

মকবুল দুআর সময়
[১০৩৫] খালেদ বলেন, "মকবুল দুআ হলো— অথবা তিনি বলেছেন— যে ব্যক্তি মকবুল দুআ করতে চায়, সে যেন সাজদার সময় হস্তদ্বয় উল্টিয়ে দুআ করে।”

পৃথিবীতে আল্লাহর পাত্র
[১০৩৬] খালেদ ইবনু মা'দান বলেন, “নিশ্চয় পৃথিবীতে আল্লাহ তাআলার কিছু (পছন্দের) পাত্র আছে। তার নিকট সর্বাধিক প্রিয়পাত্র হলো, যা গুণগতভাবে কোমল ও পরিচ্ছন্ন হয়। পৃথিবীতে আল্লাহর (পছন্দনীয়) পাত্র হলো তার সৎ বান্দাদের অন্তর।”

কল্যাণের পথে দ্রুত অগ্রসর হওয়া
[১০৩৭] খালেদ ইবনু মা'দান রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, “যখন তোমাদের কারও জন্য কল্যাণের দরজা খুলে দেওয়া হয়, তখন সে যেন দ্রুত সেদিকে অগ্রসর হয়। কেননা, সে জানে না, কখন তা বন্ধ করে দেওয়া হবে।"

সৎকর্মের প্রতি উৎসাহ
[১০৩৮] বেলাল ইবনু সা'দ বলেন, "আমি লোকজনকে দেখেছি— তারা সৎকর্ম তথা সালাত, যাকাত, মঙ্গলজনক কাজ, সৎ কাজের আদেশ ও গর্হিত কাজ থেকে নিষেধ করার প্রতি উৎসাহ প্রদান করতেন। আর এখন তোমরা কেয়াস ও যুক্তির প্রতি উৎসাহ প্রদান করো।”

সকল গুনাহই আল্লাহর নাফরমানি
[১০৩৯] আওযায়ি বর্ণনা করেন, “আমি বেলাল ইবনু সা'দকে বলতে শুনেছি, তুমি ছোট গুনাহের প্রতি লক্ষ্য কোরো না; বরং তুমি লক্ষ্য করো কার নাফরমানি করছ?”

এক ধরনের অসতর্কতা
[১০৪০] আওযায়ি বর্ণনা করেন, “আমি বেলাল ইবনু সা'দকে বলতে শুনেছি, নিশ্চয়ই সৎকর্মের কথা স্মরণ রাখা ও পাপের কথা ভুলে যাওয়াটা এক ধরনের অসতর্কতা।”

দুনিয়ার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে যাওয়া
[১০৪১] আওযায়ি বর্ণনা করেন, বেলাল ইবনু সা'দ বলেন, “গুনাহের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, আল্লাহ তাআলা আমাদের দুনিয়াবিমুখ করে রাখেন আর আমরা দুনিয়ার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে যাই।”

মুসলমান তার ভাইয়ের জন্য আয়নাস্বরূপ
[১০৪২] ইয়াজিদ ইবনু জাবির থেকে বর্ণিত, "বেলাল ইবনু সা'দ বলেন, 'আমি জানতে পেরেছি যে, মুসলমান তার ভাইয়ের জন্য আয়নাস্বরূপ। আয়না কি আমার কোনো বিষয়কে সন্দেহপূর্ণ মনে করে?”

গোপনে আল্লাহর শত্রু না হওয়া
[১০৪৩] আওযায়ি বলেন, “আমি বেলাল ইবনু সা'দকে বলতে শুনেছি, তুমি প্রকাশ্যে আল্লাহর বন্ধু আর গোপনে তার শত্রু হোয়ো না।

দুনিয়ার প্রতি আকৃষ্ট হওয়া গুনাহ
[১০৪৪] আওযায়ি বলেন, “আমি বেলাল ইবনু সা'দকে বলতে শুনেছি, আল্লাহর কসম! গুনাহের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, আল্লাহ তাআলা আমাদের দুনিয়াবিমুখ রাখেন আর আমরা দুনিয়ার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে যাই; ফলে তোমাদের মধ্যকার দুনিয়াবিমুখ ব্যক্তিরা হয়ে যায় দুনিয়ার প্রতি আকৃষ্ট, আর আলেমরা হয়ে যায় জাহেল, অধিক ইবাদাতকারীরা হয়ে যায় স্বল্প ইবাদাতকারী।”

আল্লাহর কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়া
[১০৪৫] আওযায়ি বলেছেন, “আমি বেলাল ইবনু সা'দকে বলতে শুনেছি, তোমার যে ভাই তোমার সাথে সাক্ষাৎ করে তোমাকে আল্লাহ প্রদত্ত সুখ-শান্তির কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, সে ওই ভাই অপেক্ষা উত্তম, যে তোমার সাথে সাক্ষাৎ করলে তোমাকে একটি দীনার দান করে।"

নিশ্চিহ্ন করার জন্য সৃষ্টি করা হয়নি
[১০৪৬] আবদুর রহমান ইবনু ইয়াজিদ ইবনু তামীম বলেছেন, "আমি বেলাল ইবনু সা'দকে বলতে শুনেছি, হে চিরস্থায়ী জগতের অধিবাসী। হে পরকাল নিবাসী। তোমাদের নিশ্চিহ্ন করার জন্য সৃষ্টি করা হয়নি। তোমরা কেবল এক জগৎ থেকে অন্য জগতে স্থানান্তরিত হবে। যেভাবে তোমরা মেরুদণ্ড থেকে গর্ভাশয়ে, গর্ভাশয় থেকে দুনিয়াতে, দুনিয়া থেকে কবরে, কবর থেকে মাওকিফ তথা অবস্থানস্থলে ও মাওকিফ থেকে চিরস্থায়ী জগতে স্থানান্তরিত হও।"

মানুষের প্রতি মুখাপেক্ষী হওয়া থেকে আশ্রয় প্রার্থনা
[১০৪৭] ইবনু জাবের বলেছেন, "আমি বেলাল ইবনু সা'দকে বলতে শুনেছি, যখন আমি আবূ সা'দ-এর নিকট উপস্থিত হলাম, তিনি বললেন, 'হে আমার প্রিয় বৎস, তোমার সন্তানেরা কোথায়?' তিনি বলেন, 'আমি আমার স্ত্রীকে (তাদের নিয়ে আসতে) বললাম। তারপর তাদের সাদা পোশাক পরিয়ে তার কাছে নিয়ে এলাম। তিনি তাদের চুমু খেলেন এবং ঘ্রাণ নিলেন। অতঃপর বললেন, হে আল্লাহ, আমি তাদের ব্যাপারে তোমার কাছে কুফুরি, অন্ধত্বের গোমরাহি, নারী ও বানী আদমের প্রতি মুখাপেক্ষী হওয়া থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।”

দিনে হাসিখুসি থেকে রাতে ইবাদাতে মগ্ন হওয়া
[১০৪৮] আওযায়ি বর্ণনা করেন, "বেলাল ইবনু সা'দ বলেন, 'আমি লোকজনকে দেখেছি, তারা (দিনের বেলায়) বিভিন্ন কাজে কঠিন (পরিশ্রমী) হয় এবং একে অপরের সাথে হাসাহাসি করে। কিন্তু রাত্রি এলে তারা ইবাদাতগুজার হয়ে যায়।”

অনেক প্রফুল্ল মানুষ প্রতারিত
[১০৪৯] আওযায়ি বলেন, “আমি বেলাল ইবনু সা'দকে বলতে শুনেছি, অনেক প্রফুল্ল মানুষ প্রতারিত এবং সে তা বুঝতেও পারছে না। পানাহার ও হাসাহাসি করছে। অথচ তার ব্যাপারে আল্লাহর ইলমে এই সিদ্ধান্ত অবধারিত হয়ে আছে যে, সে হবে জাহান্নামের ইন্ধন।”

নির্বোধদের কাছে হেকমতপূর্ণ কথা না বলা
[১০৫০] সুলাইমান ইবনু সুমায়ের বলেন, “আমি কাসীর ইবনু মুররাহকে বলতে শুনেছি, তুমি নির্বোধদের কাছে হেকমতপূর্ণ কথা বোলো না। তাহলে তারা তোমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে। বিচক্ষণ লোকদের সামনে অবাস্তব কথা বোলো না, তাহলে তারা তোমাকে অপছন্দ করবে। ইলমের যোগ্য লোকদের ইলম থেকে বাধা দিয়ো না, তাহলে তুমি গুনাহগার হবে। অযোগ্যদের কাছে তা বর্ণনা কোরো না, তাহলে তুমি জাহেল হয়ে যাবে। নিশ্চয় তোমার ওপর তোমার ইলমের হক রয়েছে, যেভাবে তোমার ওপর তোমার মালের হক রয়েছে।”

এতিম ও বিধবাদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করা
[১০৫১] দহহাক ইবনু আবদুর রহমান ইবনু আযরাম রাহিমাহুল্লাহ থেকে বর্ণিত, “তিনি জুমুআর দিন খুতবা শেষ করে যখন মিম্বর থেকে নামার ইচ্ছা করতেন তখন বলতেন,
الله الله فيمن لا أحد له الا الله الله الله فى يتاماكم الله الله في أراملكم
'তোমরা এতিম ও বিধবাদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো। এবং যার আল্লাহ ছাড়া কেউ নেই, তার ব্যাপারেও আল্লাহকে ভয় করো।”

উত্তম নিআমাত
[১০৫২] রাশদে ইবনু আবূ রাশেদ বলেন, “ইয়াজিদ ইবনু মায়সারাহ বলতেন, 'শোকর-সংবলিত নিআমাত ও ধৈর্য-সংবলিত বিপদ এবং আনুগত্যের দরুন আপতিত বিপদ, ক্ষতিকর হয় না। আল্লাহর আনুগত্য তার নাফরমানির দরুন আগত নিআমাত অপেক্ষা উত্তম।”

ইলম হবে সাজসজ্জার বস্তু!
[১০৫৩] হাবীব ইবনু উবায় আর-রহাবি বলেন, “তোমরা ইলম শিখে তা উপলব্ধি করো এবং তার দ্বারা উপকৃত হও। সাজসজ্জা গ্রহণের উদ্দেশ্যে তা শিখো না। কেননা, অদূরভবিষ্যতে যদি তোমরা বেঁচে থাকো তবে দেখবে, আলেমরা ইলমকে সাজসজ্জার বস্তু হিসেবে গ্রহণ করবে যেভাবে কাপড়ের মালিক তার কাপড়কে সাজসজ্জার জন্য গ্রহণ করে থাকে।"

দুটি চক্ষুকে আগুন স্পর্শ করবে না
[১০৫৪] মাকহুল বলেন, "দুটি চক্ষুকে আগুন স্পর্শ করবে না। এমন চক্ষু, যা আল্লাহর ভয়ে ক্রন্দন করে। আরেকটি হলো এমন চক্ষু, যা মুসলমানদের পাহারায় জাগ্রত থাকে।" [১৬০]

যার পাপ কম তার দিল নরম হয়ে থাকে
[১০৫৫] মাকহুল আদ-দিমাশকি বলেন, “সবচেয়ে নরম দিলের অধিকারী ওই ব্যক্তি, যার পাপ সবচেয়ে কম।"

মুমিনরা লাগাম পরানো উটের ন্যায় নিরাপদ
[১০৫৬] মাকহুল বলেন, "মুমিনরা হলো সহজ-সরল লাগাম পরানো উটের ন্যায় নিরাপদ। যদি তুমি তাকে টেনে নাও সে অনুগামী হবে। আর যদি তাকে বসাও তবে সে বসে যাবে।" [১৬১]

আল্লাহর অনুগ্রহ
[১০৫৭] জাফর থেকে বর্ণিত, সালেহ ইবনু মিসমার বলেন, "দুনিয়ার যেসব জিনিস নিয়ে গিয়ে আমাদের ওপর আল্লাহ অনুগ্রহ করেন, তা দুনিয়ার ওই অনুগ্রহ থেকে উত্তম, যা তিনি আমাদের দিয়ে থাকেন।"

আল্লাহ-প্রেমিকরা দুনিয়া থেকে সরে থাকে
[১০৫৮] মুহাম্মাদ ইবনু ফদল বলেন, "আমি ইবনু শুবরুমাকে এই কবিতার অনুকরণ করতে দেখেছি,
حتى متى أنت في دنياك مشتغل وعامل الله عن دنياه مشغول
"আর কতকাল তুমি ব্যস্ত রবে তোমার এই দুনিয়া নিয়ে? অথচ আল্লাহ-প্রেমিকরা তো এই দুনিয়া থেকে নিজেদের রাখে সরিয়ে।”

বিপদে আক্রান্ত হওয়াটাও আল্লাহর নিআমাত
[১০৫৯] ইসমাঈল বিন যারবি বলেন, "আমি সাঈদ বিন জুবাইরকে বলতে শুনেছি, আমার সঙ্গীদের বিপদ লেগেই থাকত। একপর্যায়ে আমার মনে হলো, আমাকে আল্লাহর কোনো প্রয়োজনই নেই, নয়তো তিনি আমাকেও বিপদ দিতেন।”

হৃদয়ের শাঁস
[১০৬০] ইসমাঈল ইবনু যারবি বলেন, “আমি সাঈদ ইবনু ফুযাইরকে বলতে শুনেছি, উমার ইবনু সাবিত বলেন, 'আবূ মূসার কাছে কুরআনের একটি কপি ছিল। তিনি একে হৃদয়ের শাঁস বলতেন।”

মাজীদ
[১০৬১] লাইস থেকে বর্ণিত, মুজাহিদ বলেন, “আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা-এর একটি কুরআনের কপি ছিল, তিনি একে মাজীদ বলতেন।”

ঘরে প্রবেশের সময় সালাম দেওয়া
[১০৬২] মাহান বলেন, "তুমি যখন এমন কোনো ঘরে প্রবেশ করবে, যেখানে কেউ নেই তখন এই কথা বলবে,
السلام علينا من ربنا 'আমাদের প্রভুর পক্ষ থেকে আমাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।”

পাপ করার পর নিজের আমলকে তুচ্ছ মনে করা
[১০৬৩] জাফর থেকে বর্ণিত, একবার সাঈদকে জিজ্ঞেস করা হলো, “কে সবচেয়ে বড় ইবাদাতকারী?” তিনি বললেন, "সেই ব্যক্তি, যে পাপ করার পর—যখনই তা স্মরণ হয়—তখনই নিজের আমলকে খুবই তুচ্ছ মনে করে।"

ওলীদের কষ্ট দিলে আল্লাহ ক্রোধান্বিত হোন
[১০৬৪] জাফর থেকে বর্ণিত, সাঈদ ইবনু জুবায়ের বলেন, “বানী ইসরাঈলের কোনো এক শাসকের আমলে একবার অনাবৃষ্টি দেখা দিলো। মানুষজন বৃষ্টির প্রার্থনার জন্য বের হয়ে এল। একজন বলল, 'যদি আমাদের বৃষ্টি দেওয়া না হয়, তাহলে আমরা তাঁকে (আল্লাহকে) ক্রোধান্বিত করব।' অন্যরা জানতে চাইল, 'কীভাবে ক্রোধান্বিত করবে? কীসের মাধ্যমে ক্রোধান্বিত করবে?' সে বলল, 'তার ওলীদের হত্যা করব।' তখন তাদের জন্য বৃষ্টি বর্ষিত হলো।”[১৬২]

তাকে সাঈদ ইবনু মুসাইয়িব থেকেও শ্রেষ্ঠ মনে করা হতো
[১০৬৫] হুমাইদ আল-আরাজ থেকে বর্ণিত, সাঈদ ইবনু জুবায়েরের এক ছেলে তার কাছে এলে তিনি বললেন, "আমার কাছে তার সবচেয়ে ভালো অবস্থা হলো, সে মারা যাবে আর আমি তা সওয়াবের কারণ বলে মনে করব।" ইবনু উআইনা বলেন, "ইবনু আইয়ুব বলেছেন, 'তারা তাকে সাঈদ ইবনু মুসাইয়িব থেকেও বেশি শ্রেষ্ঠ মনে করতেন।"

শিশুসুলভ আচরণ
[১০৬৬] ইবরাহীম বলেছেন, "যুবকের শিশুসুলভ আচরণ তারা (সাহাবিরা) পছন্দ করতেন।"

মৃত্যুর সময় কষ্ট পাওয়াকে পছন্দনীয় মনে করা
[১০৬৭] ইবরাহীম ইবনু মুহাজির বলেন, "ইবরাহীম বলেছেন, 'তারা (সাহাবিরা) মৃত্যুর সময় অসুস্থ ব্যক্তির কষ্ট পাওয়াকে পছন্দনীয় মনে করতেন।”
[১০৬৮] মানসূর থেকে বর্ণিত, “ইবরাহীম মৃত্যুযন্ত্রণাকে পছন্দ করতেন।”

মাটির শীতলতার কথা মনে পড়া
[১০৬৯] খালাফ ইবনু হাওশাব থেকে বর্ণিত, ইবরাহীম বলেছেন, "আমি যতবারই এই আয়াত তিলাওয়াত করেছি, ততবারই আমার মাটির শীতলতার কথা মনে পড়েছে। তারপর তিনি এই আয়াতটি পড়লেন :
وَحِيلَ بَيْنَهُمْ وَبَيْنَ مَا يَشْتَهُونَ
'তাদের ও তাদের কাঙ্ক্ষিত বস্তুর মাঝে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে।” [১৬৩]

কিছু উপদেশ
[১০৭০] উমার ইবনু আবদুল মালিক বলেন, "রোম অঞ্চলে সেনাবাহিনীর পেছনের অংশে ইবনু মুহাইরিযের সাথে এক ব্যক্তির সাক্ষাৎ হলো। বিদায়ের মুহূর্ত এলে ইবনু মুহাইরিয তাকে বললেন, 'আমাকে কিছু উপদেশ দিন।' তিনি বললেন, 'কয়েকটি কাজ করা সম্ভব হলে, করবে। তুমি (সবাইকে) চিনবে কিন্তু কেউ তোমাকে চিনবে না। তুমি প্রশ্ন করবে, কিন্তু তোমাকে প্রশ্ন করা হবে না। তুমি হাঁটবে, কিন্তু তোমার কাছে হেঁটে আসা হবে না।”

পিতার সামনে সামনে না হাঁটা
[১০৭১] আলি ইবনু তলক বলেন, “আমি ইবনু মুহাইরিযকে বলতে শুনেছি, যে তার পিতার সামনে সামনে হাঁটল, সে তার বাবার অবাধ্যতা করল। তবে যদি তার সামনে দিয়ে রাস্তা থেকে কাঁটা সরিয়ে দেবার জন্য হাঁটে, সেটা ভিন্ন। যে তার বাবার নাম বা উপনাম ধরে ডাকল, সে তার অবাধ্যতা করল। তার উচিত এভাবে বলা—হে আমার বাবা।"

জালেমের ওপর বদদুআ খুব দ্রুত নিপতিত হয়
[১০৭২] মুসলিম ইবনু ইয়াসার থেকে বর্ণিত, “তিনি শুনতে পেলেন, এক ব্যক্তি অপর এমন এক ব্যক্তির জন্য বদদুআ করছে, যে তার ওপর অবিচার করেছে। তখন তিনি তাকে বললেন, 'জালেমকে তার জুলুমের হাতেই ছেড়ে দাও। কারণ, তোমার বদদুআ খুব দ্রুত তার ওপর নিপতিত হবে। যদি না কোনো আমলের কারণে সে (এর থেকে) নিষ্কৃতি না পায়। যোগ্য ব্যক্তিরা এমনটা করে না।”

নাসীহাত-সংবলিত পত্র
[১০৭৩] রজা ইবনু আবূ সালামা বলেন, “ইবনু মুহাইরিয নাসীহাত-সংবলিত পত্র নিয়ে আবদুল মালিকের কাছে এসে সেটা তাকে পড়ে শোনাল। তারপর সেটা তার হাতে আর ধরে রাখতে পারেননি।"

প্রশংসা করলে তিনি রাগ করতেন
[১০৭৪] আবূ আমর শায়বানি বলেন, “ইবনু মুহাইরিযের সামনে কেউ প্রশংসা করলে তিনি রাগ করে বলতেন, 'তোমার কী জ্ঞান আছে? তুমি কী জানো?”

রেশমি কাপড় অপছন্দনীয়
[১০৭৫] রজা ইবনু সালামাহ বলেন, “ইবনু মুহাইরিয বলেছেন, 'রেশমি কাপড় পরিধান করার তুলনায় আমার চর্মে শ্বেতরোগ হওয়াটা আমি বেশি পছন্দ করি।'”

আল্লাহর রাস্তায় পাহারা দেওয়ার লাভ
[১০৭৬] ইবনু মুহাইরিয বলেন, “যে ব্যক্তি এক রাত আল্লাহর রাস্তায় পাহারা দিলো, প্রতিটি মানুষ ও প্রাণীর বিনিময়ে তাকে এক কিরাত এক কিরাত করে (নেকি) প্রদান করা হবে।" [১৬৪]

দাসীর কারণে ঘর ছেড়ে চলে যাওয়া
[১০৭৭] আবূ যুরআ বলেন, "আবদুল মালিক একজন দাসীকে ইবনু মুহাইরিযের কাছে পাঠালেন। তিনি তার ঘর ছেড়ে চলে যান এবং সেখানে আর প্রবেশ করেননি। তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, 'হে আমিরুল মুমিনিন, আপনি কি ইবনু মুহাইরিযকে ঘর থেকে তাড়িয়ে দিয়েছেন?' তিনি বললেন, 'কেন?' তারা বলল, 'সেই দাসীর কারণে (এমনটা বললাম), যাকে আপনি তার কাছে পাঠিয়েছিলেন।' তারপর আবদুল মালিক লোক পাঠিয়ে সেই দাসীকে ফেরত নিয়ে আসেন।"

ঘাস কেটে অর্থ উপার্জন করা
[১০৭৮] রজা ইবনু আবূ সালামা বলেন, "ইবনু মুহাইরিয যখন জিহাদে বের হতেন, তখন সবচেয়ে পছন্দনীয় খরচপাতি তিনি (জোগাড় করতেন) জানোয়ারের ঘাসে। (অর্থাৎ ঘাস কেটে অর্থ উপার্জন করে, সেটা দিয়ে নিজের খরচপাতি চালাতে তিনি বেশি পছন্দ করতেন)।”

খাটো লুঙ্গি পরিধান করতে অস্বীকৃতি জানানো
[১০৭৯] রজা ইবনু জামীল আল-আইলি বলেন, “যখন পিতার পরে ওলীদ ও সুলাইমানের জন্য বাইয়াতের ব্যাপারে মদীনাতে নির্দেশনা পাঠানো হলো, তখন আবদুর রহমান ইবনু আবদুল কারি সাঈদ ইবনু মূসাইয়িবকে বললেন, 'আমি তোমাকে তিনটি বিষয়ের পরামর্শ দিচ্ছি।' তিনি বললেন, 'কী সেটা?' তিনি বললেন, 'তুমি আপন জায়গা থেকে সরে যাবে। কারণ, তুমি এমন স্থানে অবস্থান করছ, যেখানে হিশাম ইবনু ইসমাঈল তোমাকে দেখতে পায়। অথবা তুমি উমরা করতে বেরিয়ে পড়বে।' তিনি বললেন, 'আমি নিজ সম্পদ ও শ্রম এমন কাজে ব্যয় করতে পারব না, যাতে নিয়ত নেই। তৃতীয় বিষয়টি কী?' তিনি বললেন, 'তুমি বাইয়াত করে নেবে।' তিনি বললেন, 'আচ্ছা, আল্লাহ যদি আপনার চোখের মতো অন্তরকেও অন্ধ করে দেন, তাতে আমার কী!'"
বর্ণনাকারী বলেন, “তিনি ছিলেন অন্ধ। রজা বলেন, 'তারপর হিশাম তাকে বাইয়াতের জন্য ডাকল। তিনি অস্বীকার করলেন। সে আবদুল মালিকের কাছে এই বিষয়ে পত্র লিখল। আবদুল মালিক তাকে জানাল, তোমার আর সাঈদের কী হলো? তার থেকে তো আমরা অপছন্দনীয় কিছু পাচ্ছি না। যদি তুমি কিছু করতেই চাও তবে তাকে ত্রিশটি বেত্রাঘাত করো। এবং খাটো লুঙ্গি পরিধান করাও। অতঃপর তাকে মানুষের জন্য বন্দী করে রাখো। রজা বলেন, 'মদীনাতে যেসব আইলির বাসিন্দা পুলিশের চাকুরিতে ছিল তারা আমাকে বলেছে—আমরা জানতাম তিনি ছোট লুঙ্গি পরবেন না। তাই তাকে বললাম, 'হে আবু মুহাম্মাদ, আপনি তা পরে নিন। নইলে এর পরিণতি হবে হত্যা।' তিনি তখন তা পরিধান করলেন। যখন তাকে প্রহার করা হলো, তিনি বুঝলেন যে আমরা তাকে ধোঁকা দিয়েছি। তাই তিনি বললেন, 'হে আইলাবাসীরা, যদি হত্যা করবে বলে আমার মনে না হতো, তবে আমি কখনোই তা পরিধান করতাম না।”

বান্দার মাধ্যমে সম্মান না চাওয়া
[১০৮০] সাঈদ ইবনু মূসাইয়িব রাহিমাহুল্লাহ বলেন, “আমি উমার ইবনুল খাত্তাবকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, আমি রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে বলতে শুনেছি,
مَنِ اعْتَزَّ بِالْعَبْدِ أَذَلَّهُ اللَّهُ
'যে বান্দার মাধ্যমে সম্মান লাভ করতে চায় আল্লাহ তাকে অসম্মানিত করেন।" [১৬৫]

মৃত্যুর স্মরণ আনন্দ ও হিংসাকে দূর করে
[১০৮১] রজা ইবনু হায়ওয়া বলেন, “মানুষ যত বেশি মৃত্যুর কথা স্মরণ করে, তত বেশি আনন্দ ও হিংসাকে পরিহার করে।”

মেহমানকে সর্বোৎকৃষ্ট খাদ্য খাওয়ানো
[১০৮২] ইসমাঈল ইবনু সাঈদ বলেন, “আমি হাইয়া আল-উরানির কাছে আসলাম। তিনি এক পাত্র কাঁচা খেজুর ও গুঁড়া লবণ দিলেন। তারপর বললেন, 'খাও। যদি ঘরে এর চেয়ে ভালো কিছু থাকত, তাহলে তোমাকে তা খাওয়াতাম।' তারপর তিনি বললেন, 'আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু বলতেন, তোমার কাছে তোমার মুসলিম ভাই আগমন করলে, তাকে তোমার ঘরের সর্বোৎকৃষ্ট খাবার খাওয়াও। যদি সে সাওম পালনকারী হয়, তবে তাকে তেল মাখিয়ে দাও।”

নিরাপত্তা ও সুস্থতা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে
[১০৮৩] শাবি বলেন, “আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন,
لَتُسْأَلُنَّ يَوْمَئِذٍ عَنِ النَّعِيمِ
'সেদিন তোমাদের স্বাচ্ছন্দ্য সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবে।'[১৬৬]
এই আয়াতের ব্যাখ্যায় রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, '(এই স্বাচ্ছন্দ্য হলো) নিরাপত্তা ও সুস্থতা।”

স্বাচ্ছন্দ্য ও ঐশ্বর্যর ব্যাখ্যা
[১০৮৪] রাশেদ ইবনু সাঈদ থেকে বর্ণিত, তাকে জিজ্ঞেস করা হলো, "স্বাচ্ছন্দ্য কী?” তিনি বললেন, "আত্মিক প্রশান্তি।” আবার জিজ্ঞেস করা হলো, "ঐশ্বর্য কী?” তিনি বললেন, "শারীরিক সুস্থতা।”

আল্লাহ যাকে দ্বীনের নিআমাত দান করেন
[১০৮৫] মুজাহিদ বলেন, "উবায়েদ ইবনু উমায়ের বলেছেন, 'দুনিয়ার অন্বেষী হোক বা না হোক, আল্লাহ তাআলা সবাইকেই তা দান করেন। কিন্তু দ্বীন দান করেন কেবল তাকে, যে দ্বীনকে ভালোবাসে। যখন আল্লাহ কোনো বান্দাকে ভালোবাসেন, তখন তাকে ঈমানের দৌলত দান করেন। যে ব্যক্তি শত্রুর সাথে লড়াই করতে ভয় করে, রাত্রে জেগে থাকতে শঙ্কাবোধ করে এবং সম্পদ খরচ করতে কৃপণতা করে, সে যেন বেশি বেশি সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ ও লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ পড়ে।”
আবূ আবদুর রহমানকে 'যবীহ' সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, “অধিকাংশ হাদীস ইসমাঈল আলাইহিস সালাম-এর কথাই বলে। আমার পিতাও এই মতের প্রতি বেশি আকৃষ্ট ছিলেন।”

টিকাঃ
[১৫৪] خراج ولاج -এর মানে হলো কোথাও অধিক পরিমাণে আসা-যাওয়া করা। (দ্রষ্টব্য: তাজুল আরূস)
[১৫৫] বর্ণনাটি মুরসাল। কারণ সুফিয়ান সাওরী রাহিমাহুল্লাহ সরাসরি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাক্ষাৎ পাননি। তাই এর সনদে বিচ্ছিন্নতা আছে।
[১৫৬] অর্থাৎ মাখলুকের কোনো অনুগ্রহ গ্রহণ কোরো না। বরং নিজের সকল প্রয়োজনের জন্য আল্লাহর দ্বারস্থ হও।-অনুবাদক
[১৫৭] পাল্টা প্রতিশোধ নিয়ে বিজয় লাভ করে না।-অনুবাদক
[১৫৮] সূরা নিসা, ৪: ৩২
[১৫৯] সূরা যুমার, ৩৯ : ১০
[১৬০] এটি মারফু হাদীস হিসেবে বর্ণিত হয়েছে, সনদ সহীহ; সহীহুল জামি: ৪১১৩
[১৬১] সনদ হাসান। সহীহুল জামি: ৬৬৬৯
[১৬২] এই ঘটনা দ্বারা মূলত সৃষ্টিজীবের অবাধ্যতা ও দুঃসাহস এবং তাঁর মর্যাদা সম্পর্কে অজ্ঞতা সত্ত্বেও তাদের ওপর আল্লাহর ধৈর্য ও সহনশীলতা বোঝানো উদ্দেশ্য। নইলে কার এমন সাধ্য আছে যে আল্লাহকে এভাবে ক্রোধান্বিত করবে!-অনুবাদক
[১৬৩] সূরা সাবা, ৩৪ : ৫৪
[১৬৪] কিরাত একটা পরিমাপের নাম।-অনুবাদক
[১৬৫] সনদ যঈফ। হিলইয়াতুল আউলিয়া : ২/১৭৪; সিলসিলা যঈফা : ২১২০
[১৬৬] সূরা তাকাসুর, ১০২:৮

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00