📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 শক্তির উৎস নফসে আম্মারাহ

📄 শক্তির উৎস নফসে আম্মারাহ


মনোস্তত্ত্ববিদগণ বছরের পর বছর পরীক্ষা নিরীক্ষা করে এ সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছেন যে, মানুষ উন্নতি লাভকারীজীব এ সৃষ্টিজগতের এক দূর্লভ শক্তি। আর এ শক্তিকে শানিত করে তার চেতনাবোধ। মূলতঃ চেতনাবোধই প্রাণীজগতকে অনুভূতিহীনতার স্তর থেকে সামনে নিয়ে যায়। আপনিও স্বচক্ষে দেখে থাকবেন, যে ব্যক্তি স্বজাতির দিক থেকে শক্তিশালী হয়, তার বুদ্ধি ও প্রতিভা উত্তম হয়। মানবিক চেতনা বোধ এবং চেতনাহীনতা বৃদ্ধি পায় তার স্বভাবগত আগ্রহ-উদ্যমের দ্বারা। তার প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার বিষয়টিও এর মাধ্যমে নিরূপণ করা হয়। যদি স্বভাবগত শক্তি ভ্রান্ত পথে ব্যয় হয়ে যায়, তাহলে এর পরিণতি সর্বদা দুঃসহ হয়। যে ব্যক্তি নৈতিকতা বিরোধী কাজে অভ্যস্থ হয়ে যায় এবং স্বভাষাগত শক্তি অনায়াসে নষ্ট করতে থাকে, এ ধরনের লোক সর্বদা পথের ভিখারী হয়ে থাকে। এমনকি নিজের মস্তিষ্ক বিকৃতির কারণে জীবন থেকে বিতৃষ্ণ হয়ে যায়। স্মরণ রাখতে হবে, আমাদের দেহ-মনের সব শক্তির উৎস হল আত্মিক চেতনাবোধ। যাকে নফসে আম্মার বলা হয়। এ ভূতকে এক হিংস্র গরিলার সাথেও উপমা দেওয়া যেতে পারে। কেননা মানুষ তার স্বভাব ও প্রবত্তির তাড়নায় অবশেষে পশুতে পরিণত হয়ে যায়।

প্রাচীন যুগে অর্থাৎ প্রাক ঐতিহাসিক যুগের মানুষ বানর, গরিলা ও বন্য প্রাণীর মত উলংগ জীবন যাপন করত। তাদের ঐ জীবন ছিল শুধু উদরপূর্ণ করার জন্য। প্রবৃত্তিকে শান্তি দানের উদ্দেশ্যে। সে বিপরীত লিঙ্গের সাথে জীবজন্তুর মত মেলামেশা করত। ফলশ্রুতিতে সন্তান পয়দা হত। এসব অজ্ঞাতনামা পূর্বপুরুষেরা লাখো ও হাজারো বছর পর্যন্ত জীবন যাপন করেছে। তারা যা বুঝত, তাই করত। চর্তুদিকে জংগী আইন-কানুন চালু ছিল। অর্থাৎ জোর যার রাজ্য তার এই নীতি ছিল সর্বত্র, তাদের মানবিক অনুভূতি পর্যন্ত জাগ্রত হয়নি। এ কারণে তারা নিজের জ্ঞানকে কাজে লাগাতে পারেনি। হাজার বছর পর্যন্ত আমাদের ঐ হিংস্র পূর্বপুরুষগণ বাঘ-সিংহ প্রভৃতি জন্তুর সাথে কুস্তি লড়ে চলত। ঋতুর কঠোরতা মোকাবিলা করে চলত।

কিন্তু তাদের ধ্যান-ধারনা ও তাদের কথা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকত। ক্রমান্বয়ে হাজার হাজার বছরের আবর্তনের পর অনুভূতিহীনতার মাটি থেকে অনুভূতির অংকুব উদগম হয়। কিশলয় প্রকাশ পায়। আর মানুষ সর্বপ্রথম তা থেকে কিছু কাজ করতে শিখে। হাজার বছর পর্যন্ত তাদের মেধার অনুভূতির এ কাজ জারী থাকে। প্রয়োজন সীমাবদ্ধতার গণ্ডি বেদ করে ব্যাপক আকারে ধারন করতে শুরু করে। মানুষের মধ্যে সর্বকাল থেকে শক্তির আকর্ষণ বিদ্যমান ছিল। সুতরাং মানুষ এ শক্তিকে কাজে লাগাতে শুরু করে। স্বভাবধর্মী কমনা-বাসনার পেরিয়ে সামাজিক সাংস্কৃতিক রীতনীতি নির্ধারণ করা হয়। অবশেষে যখন গরিলা ও বন মানুষ এ পৃথিবীতে পাঁচ বা ছয় ফুট বাক শক্তিসম্পন্ন প্রাণী সর্বশ্রেষ্ঠ জীবে পরিণত হয়ে যায়। প্রথমে সব মানুষও অন্যান্য প্রাণীর মত গোত্রীয় এক নিয়মের অধীনে পরিচালিত হত। কিন্তু বর্তমানে জীবন-যাপনের উপকরণের প্রভাবে জীবন যাত্রার নিয়ম-রীতির জটিলতা কঠোরতা বরণ করে নেয়। তাই আমাদের চিন্তা-চেতনা ও দৈহিক অংগ প্রত্যংগ সমূহ এর দ্বারা বিশেষ প্রভাবান্বিত হয়ে যায়। হাজারো 'কামনা বাসনার উদ্রেক হয়েছে। তাদের অবস্থা ও ধ্যান-ধারনা এত জটিল যে, তা বুঝতে আমরা সম্পূর্ণ অক্ষম। যদিও বর্তমানে আমরা আমাদের প্রাচীন পূর্বপুরুষদের মোকাবিলায় যথেষ্ট সভ্য ও সাংস্কৃতিক মনা হয়েছি। তথাপি আমাদের মাঝে সেই গরিলা হিংস্র রক্তপিপাসু প্রাণীটি ঘাপটি মেরে বসে আছে। যার অনুকরণে আমাদের পূর্বপূরুষগণ তাদের হাজারো কোটি বছর পার করেছে। এসব আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। এ পাশবিকতায় আমরা বর্তমানেও সফলতা লাভ করছি। এর কারণে নিত্য নতুন অনেক বস্তু আমাদের সামনে আসছে।

স্বভাব ও কামোত্তেজনার এ জাহান্নামী দৈত্ব কোন আখলাক বা কানুনকে সমর্থন করে না। সে তো শুধু শক্তির দাপটকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়। আর আমরা এখনও ঐ শক্তির দাপটে উপকৃত হতে চাই। এ রক্ত পিপাসু পৈশাচিকতার মাধ্যমে মানুষ বিরাট উপকার সাধন করেছে। ব্যাপক ক্ষতিরও সম্মুক্ষীন হয়েছে। যদি মানুষ স্বীয় মজ্জাগত শক্তির অফুরন্ত ভাণ্ডারকে অনর্থক নষ্ট করে না ফেলত, তাহলে সে ঐ শক্তির গুণে তার মেধাগত প্রতিভাকে অস্বাভাবিকভাবে প্রজ্জলিত করতে পারত। বিশেষভাবে স্মরণ রাখতে হবে, স্বীয় প্রতিভার যোগ্যতা সমূহের উন্নতি কল্পে মানবিক কামোত্তেজনার শক্তির উপর নিয়ন্ত্রণ লাভ করতে হবে। তাকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। ঐ স্বভাবকে তার খুশি মত চলতে দেওয়া যাবে না। কেননা যদি আপনার নফসে আম্মারাহ পূর্ণাঙ্গ রূপে জাগ্রত হয়ে যায়, তাহলে আপনি নিশ্চিত হিতাহিত জ্ঞান শূন্য হয়ে যাবেন।

আমাদের জন্য মানবিক চাহিদা পূর্ণ করাও জরুরী। কিন্তু তা শুধু মেরামতের দৃষ্টিকোণ থেকে হতে হবে। আমাদের ভেতর লুকায়িত পশুবৃত্তির কারণে আমরা খুন-খারাবীর দৃশ্য দেখে বিশেষ ধরনের আনন্দ ও স্বাদ উপভোগ করি। যে মানুষের অসাধারণ পৈশাচিকতা রয়েছে, সে আমাদের জন্য অস্ত্র পাচারকারী সার্জন হতে পারে। তবু তাকে ডাকাত বা ঘাতক হতে দেওয়া হয় কেন? আমাদের মাঝে যেসব জেবিক শক্তি যে মানুষের রয়েছে, তন্মধ্যে যৌন উত্তেজনা বিশেষ গুরুতপূর্ণ। আমরা এর উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে অসংখ্য উপকারীতা লাভ করতে সক্ষম। যেভাবে এক ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সময় কোন বাঁধা বিঘ্নের সম্মুক্ষীন না হলে, চার পাশে প্লাবনের ধ্বংসলীলা রেখে যায়। কিন্তু যদি এর মুখে বাঁধ দিয়ে চার দিকে নহর, পুকুর ও ঝিল বানিয়ে দেওয়া হয়, তাহলে ঐ প্লাবন এক রহমত প্রমাণ হবে। আর এর দ্বারা লাখো একর জমি চাষাবাদ করা যাবে। জন্মগত যৌন উত্তেজনার অবস্থাও তাই।

যদি এটাকে লাগামহীনভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে সে নিশ্চিত তার কামোত্তেজনার দাপটে চারিত্রিক সব মূল্যবোধ ভাসিয়ে নিয়ে যাবে। কিন্তু যদি ঐ শক্তির উপর স্বীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা যায়, তাহলে আমরা এর দ্বারা অতি গুরুত্বপূর্ণ বিস্ময়কর কাজ সমাধা করতে সক্ষম হব। যদি আপনি ভবিষ্যত দর্শনের নিয়মাবলী শিক্ষা লাভ করতে চান, তাহলে সর্বপ্রথম আপনাকে স্বীয় হুজাত কামোত্তেজনার উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আপনাকে এরূপ দ্য দ্রব্যাদি ব্যবহার করতে হবে, যা আপনার যৌন উত্তেজনা বৃদ্ধিকারক না হয়। উদাহরণতঃ পালং শাক, দধি, ছাগলের দুধ ও মুগডাল ইত্যাদি। এ সব চুলকা খাবার ধারাবাহিকভাবে আপনার প্রতিভা বিকাশে সহায়ক হবে।

আপনার মত প্রত্যেক লোকের মাঝে এ কাজের শক্তির উৎস রয়েছে। কেননা বর্তমান যুগে পূর্ববর্তী যুগের মত মানুষকে বাঘ ও সিংহের সাথে লড়াই করতে হয় না। অনুরূপভাবে আপনাকে গুহা থেকে বের হয়ে কোন ঘড়িয়াল বা হাংগরের সাথে যুদ্ধ করতে হয় না। আর না কাউকে বিশাল বিশাল অজগর সাপের গলা কাটতে হয়।

যতক্ষণ পর্যন্ত আপনি আপনার নফসে আম্মারাহকে নিয়ন্ত্রণে না রাখবেন, ততক্ষণ আপনার সৃষ্টিগত সৌন্দর্য্য চেতনার শীর্ষে আরোহণ করতে পারবে না। প্রত্যেক মানুষের মধ্যে এরূপ এক বিশেষ শক্তি নিহিত আছে, ইউগের পরিভাষায় যাকে "কন্তেলানি শক্তি" বলা হয়। ইংরেজীতে এর অনুবাদ হল "স্যারনিপ্ট পাওয়ার"। আমার-আপনার মেরুদণ্ডের হাড়ে সকল প্রকার দ্বিতীয় জীবনী শক্তি দৌড়াতে থাকে। বাইর থেকে এ শক্তি দৃষ্টিগোচর হয় না বরং এটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপনার ও আমার মাঝে সমভাবে বিদ্যমান। যদি আমি আপনি আভ্যন্তরীণ এ শক্তিকে জাগ্রত করে এর উপর নিয়ন্ত্রণ লাভ করতে পারি, তাহলে আমি নিজের মধ্যে ভবিষ্যৎ দর্শনের যোগ্যতা সষ্টি করার ক্ষেত্রে একদিকে নিশ্চিত সফলতা লাভ করতে সক্ষম হয়। মানুষের সব নীরব অনুভূতি ও অন্যান্য উপায় অনুকরণ অনুশীলন এ কারণে সূচিত হয় যে, মেরুদণ্ডের হাড়ের জড়ে যে জীবনী শক্তি লুকায়িত আছে, তাকে জাগ্রত করে দেয়। মেরুদণ্ডের হাড়কে আপনি নগন্য মনে করবেন না। ওটা হারাম রগ, উত্তেজনা, প্রাকৃতিক স্বভাব, েেচতনতাসহ আরো বিভিন্ন প্রকার গোপন শক্তির উৎস। মেরুদণ্ডের হাড়ের নলের অংগগুলো পাওয়া যায়। যা সরাসরি আমাদের ব্রেণে সাথে সম্পর্কিত।

ভবিষ্যত দর্শনের যোগ্যতা ও জীবন শক্তি বা স্যারনিপ্ট পাওয়ার জাগ্রত করা দুটি পৃথক পৃথক বস্তু। এ কারণে এ দু বস্তু একত্রে লাভ করার চেষ্টা করবেন না। প্রথমে ক্যানডালীন শক্তিকে জাগ্রত করুন। তারপর ভবিষ্যত দর্শনের যোগ্যতা অর্জন করুন। সুতরাং এর জন্য সর্বপ্রথমে আপনি আপনার ব্রেণ ও অংগ-প্রত্যংগসমূহকে জৈবিক মলিনতা থেকে পরিষ্কার ও পরিচ্ছন্ন করে নিন। সেই সাথে এই ধরনের আরো অনেক প্রকারের বস্তুকে আবেষ্টন করে নিতে হবে। প্রায় সব মানুষেরই জানা আছে যে, সহজাত স্বভাবের মানদণ্ডে মানুষ ও প্রাণী উভয় এক সমান। জীবজন্তু অক্ষম অসহায় কিন্তু আমরা তা নই। আমাদের সকলের মাঝে এ শক্তি ও যোগ্যতা বিদ্যমান রয়েছে যে, আমরা বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ অবস্থাকে ও আমাদের পছন্দের ছাঁচে সাজিয়ে নিতে পারি। এ সবই আমরা জ্ঞাত। জীবজন্তু কখনো স্বভাবজাত কানুনের বিরোধীতা করে না। কিন্তু মানুষ তার স্বভাবের বিরোধীতা করতে বাধ্য হয়। সে তার নফসে আম্মারার উপর ক্রমান্বয়ে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়। এমনকি পৈশাচিকতাও তার ব্যক্তি স্বত্তার অংশ হয়ে যায়।

আপনি আপনার জীবনী শক্তি বা ক্যানডালি শক্তির উৎসকে নির্দয়ভাবে মিটানোর চেষ্টা করুন। কেননা যদি অমূল্য রত্ন খরচ হয়ে যায়, তাহলে তা পুনরায় হাতের নাগালে আসবে না। আপনি আপনার ঐ অসীম শক্তিকে জাগ্রত করার সময় নূন্যতম পক্ষে সতর্কতা ও সাবধানতার সাথে কাজ করুন। কখনো যেন এরূপ না হয় যে, আপনার অসতর্কতা বশতঃ এ শক্তি চিৎকার করে জাগ্রত হয়ে যায়। আর আপনি তার শক্তিশালী প্লাবনে ভেসে গিয়ে চিরদিনের জন্য আপনার নিজেকে হারিয়ে ফেলেন।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 জীবনী শক্তি জাগ্রত করুন

📄 জীবনী শক্তি জাগ্রত করুন


আমি আপনাকে ভবিষ্যত দ্রষ্টা বানাতে চাই। আর এর জন্য আপনার শ্রম সাধনা ও অনুশীলনের প্রয়োজন। আপনি নিজের মত করে ভবিষ্যত দ্রষ্টা হওয়ার আগ্রহে সকল প্রকার ত্যাগ স্বীকারে চুড়ান্তভাবে উৎসাহী ও প্রস্তুত। কিন্তু প্রশ্ন হতে পারে, শ্রম-সাধনা ও অনুশীলনের জ্বালানী কোথেকে সংগ্রহ করবেন। আপনি জানেন, যৌনশক্তি ঐ অনুশীলনে জ্বালানীর কাজ করে। আর এ কারণে মেরুদণ্ডের হাড় সমূহের নলে কামোত্তেজনার দানব গোপনে ঘাপটি মেরে বসে আছে। আপনি প্রথমে এটাকে ধীরে ধীরে জাগ্রত করতে থাকুন। তারপর পুরোপুরিভাবে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত করুন। তারপর আপনি ঐ সাপের চামড়া ছিলে ফেলুন, যাকে ক‍্যানডালি বলা হয়। তারপর দেখবেন, ধীরে ধীরে এ রত্নভাণ্ডার কিভাবে হারাম রগের বাসস্থানের প্রতি অগ্রসর হতে শুরু করে। তখন ধীরে ধীরে অনুভব হবে, আপনার ব্রেণ ঐ ভাণ্ডারের পদ্মরাগমনি, চুনি, নীলকান্তমনি ও পান্না থেকেও বেশী ঝলমল করতে শুরু করবে। যেভাবে এটমকে ভাঙ্গার জন্য তাপ, নড়াচড়া ও আঘাতের প্রয়োজন হয়, অনুরূপভাবে ঐ ক্যানডালি শক্তিকে জাগ্রত করার জন্য ঐ সব বস্তুর প্রয়োজন হয়। আপনাকে কাজ করার পর তার কাজ প্রতিহত করার জন্যও অপেক্ষা করতে হবে। হতে পারে আপনি যখন সঠিক সময় ঘুম থেকে জাগ্রত হবেন, তখন আপনার ভবিষ্যত দর্শনের শক্তিও জেগে উঠবে। অথবা আপনি নিজ বিছানায় শোয়া অবস্থায়ই আপনার অন্তর্দৃষ্টি খুলে যাবে। মানবীয় সহজাত কোন স্বভাব সত্ত্বাগতভাবে খারাপ হয় না। এ উত্তেজনা ও কামোত্তেজনাগুলো দান করা হয়েছে, যাতে এসবের সাহায্যে পূর্ণাঙ্গ জীবন যাপনের সহায়তা লাভ করতে পারি এবং স্বীয় ব্যক্তি স্বত্ত্বা গঠন করতে পারি। কখনো যেন এরূপ না হয় যে, আমরা এ স্বভাবজাত উত্তেজনা শক্তিকে খোদ নিজের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে শুরু করি। আমাদের সর্বপ্রথম ঐ ধরনের সকল শক্তিকে গুটিয়ে একই কেন্দ্রীভূত করতে হবে। যদি আপনার সামনে কোন উদ্দেশ্য আসে, তাহলে গন্তব্যস্থলে পৌঁছা কঠিন হবে না।

অনুভূতি ও উৎসাহ, পরিশ্রম ও উদ্যমের এ পৃথিবীতে প্রশান্তিও নির্জনতা লাভ করা ভীষণ কঠিন হয়ে গেছে। পূর্ণাঙ্গ নির্জনতা আমরা শুধু রাতেই লাভ করতে পারি। যখন চর্তুদিক নীরব নিস্তব্দ হয়ে যায়, চর্তুদিকে নীরবতার আদেশ কার্যকরী হয়, তখন আপনি আপনার ব্রেণকে সকল প্রকার ধ্যান-ধারনা, কামনা-বাসনা, উৎসাহ-উদ্দীপনা থেকে সম্পূর্ণরূপে পূতপবিত্র পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে নিন। অভ্যন্তরীণ সব শক্তিকে গুটিয়ে একীভূত করে নিন। এর জন্য এক বিশেষ অনুশীলনের কথা সামনে বিস্তারিতভাবে আলোকপাত করব।

আমি ইতোপূর্বে খাদ্যদ্রব্যাদি সম্পর্কে সতর্কতা অবলম্বন করার প্রতি গুরুত্বারোপ করেছি। খাদ্য দ্রব্যাদি আধ্যাত্মিক শ্রম সাধনা ও ধ্যান-তন্ময়তার মাধ্যম রূপে কাজ করে। দেহ ও ব্রেণের সকল শক্তিকে এক কেন্দ্রে একীভূত করে নিন। অতিউৎসাহ ও হৈ চৈ থেকে বিরত থাকুন।

ভবিষ্যৎ দর্শনের যোগ্যতা তৈরী করার উদ্দেশ্যে নিয়মিত অনুশীলন শুরু করার পূর্বে নিম্নোক্ত উপদেশ ভালোভাবে স্মরণ রাখুন।
১. ধারাবাহিকভাবে সামনে অগ্রসর হওয়ার দৃঢ় চিত্ততা থাকতে হবে।
২. এ অনুশীলনকে কখনো অস্বাভাবিক অভ্যাস বা অনর্থক ধারনা করবেন না।
৩. নফসে আম্মারার ভাণ্ডারকে (প্রবৃত্তির তাড়না) নিয়ন্ত্রিত রাখার চেষ্টা করুন।
৪. "ক্যানডালনি শক্তি" কে অতি সতর্কতার সাথে ধীরে ধীরে জাগ্রত করা শুরু করুন।
৫. এক বিন্দুর উপর একীভূত ও সমষ্ঠিগত শক্তিকে হাতুড়ী দিয়ে নির্জনতার ক্যানডালনির উপর দৃঢ়তার আঘাত করুন।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 ভবিষ্যত দর্শন অটল বাস্তবতা

📄 ভবিষ্যত দর্শন অটল বাস্তবতা


মানবীয় অনুভূতি বর্তমান, অতীত ও ভবিষ্যতের লৌহজিঞ্জিরে আবদ্ধ হয়ে আছে। কিন্তু অনুভূতি ঐ ধরনের শৃংখলে আবদ্ধ হওয়া থেকে সম্পূর্ণ অবমুক্ত ও স্বাধীন। সে যখন ইচ্ছা তখন স্থান কালের প্রতিবন্ধকতা ভেদ করে চলতে শুরু করতে পারে। প্রত্যেক ব্যক্তিকে প্রতিনিয়ত ঐ অদৃশ্য বাস্তবতার সম্মুখীন হতে হয়। আপনি অধিকাংশ সময় স্বপ্নে নিজেকে দূরদূরান্তে কিভাবে দেখে ফেলেন। ওখানে আপনি আপনার কোন কোন বন্ধু বা আত্মীয়ের সাথে সাক্ষাত করেন। কিন্তু যখন চোখ খোলেন তখন নিজেকে নিজের বিছানায়ই দেখতে পান। ঐ বিছানা, ঐ বাসস্থান, যেখানে আপনি কয়েক ঘণ্টা পূর্বে নিজ চোখ বন্ধ করে ছিলেন।

এটা কিরূপ আশ্চর্যজনক বিষয় যে, এ সংক্ষিপ্ত সময়ে আপনার ব্রেণ দ্রুত দূরদূরান্ত পরিভ্রমণ করে এসেছে। সময় ও স্থানের সীমানা ভেদ করে কোত্থেকে কোথায় পৌঁছে গেছে। তাছাড়া স্থান ও কালের সীমাবদ্ধতাও তো আপনি নিজেই সৃষ্টি করেছেন। এ সব বাহ্যিক অনুভূতির ধোঁকা। রাতের যে সময় আরাম করার এবং ঘুমানোর আহবান করছে, ঐ সময় পৃথিবীর অপর এক অংশে সূর্য স্বীয় পূর্ণাঙ্গ শক্তির সাথে ঝলমল করছে। আইনেস্টাইনের মতে সময় অনুভূতির প্রতারণার নাম। করাচীতে আপনার পূর্ণাঙ্গ একদিন চব্বিশ ঘণ্টার হয়। কিন্তু উত্তর মেরু অঞ্চলের অধিবাসিগণ পুরো ছয় মাসকে তাদের পুরো একদিন মনে করে। এক সময় তখন লন্ডনে পৌঁছতে কয়েক দিন লেগে যেত। আর এখন মাত্র কয়েক ঘণ্টায় পৌঁছা যায়। পি.আই. এর কোন নৈশকালীন উড়োজাহাজে ভ্রমণ করে দেখুন। রাতের খাবার করাচীতে ঢাকায় খাচ্ছেন। আর সকালে নাশতা করছেন লন্ডনে।

সংযোগ স্থাপনের দৃষ্টিকোণ থেকে সময় অসীম ও চিরন্তন তো উন্মাদনার একক উচ্ছাসের নাম। এখানে না আছে বর্তমান, না আছে অতীত আর না আছে ভবিষ্যত। কেউ যেন সত্য কথাই বলেছেন, বর্তমান বলতে কিছুই নেই। ব্যাস। হয়ত ভবিষ্যত হবে নতুবা অতীত ছিল। আমাদের এ পৃথিবীতে হয়ত সব কিছু ভবিষ্যতে হবে অথবা অতীতে হয়েছে।

কারণ, মূলতঃ অনুভূতির পার্থক্য হল সময়। তা সময় ও সীমাবদ্ধতার জন্ম দেয়। নতুবা সত্ত্বাগত দিক থেকে এর নিবিড় কোন অস্তিত্ব নেই। যদি আমরা এভাবে স্বীয় অনুভূতির উপর বিজয়ী হয়ে যাই এবং প্রতিবন্ধকতা ছিন্নভিন্ন করে ফেলি, তাহলে আর কিছুই বাকী থাকবে না। এখন আপনি এক ঘটনা শুনুন। মিস্টার জায়েদ সাইকেলে আরোহন করে তার কার্যালয়ে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ তার মন বিষণ্ণ হতে শুরু করে। তারপর তার এ পেরেশানী আরো বাড়তে শুরু করে। তাই সে ভীত হয়ে সাইকেল থেকে নেমে যায়। তার কাছে মনে হচ্ছিল, তার মস্তিস্কে ভীষণ তোলপাড় হচ্ছে। সে তখন কিছু সময়ের জন্য বিস্ময়কর অবস্থা অনুভব করতে থাকে। তারপর রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে এ নিয়ে ভাবতে থাকে। সহসা সে নিজেকে স্ত্রীর খাটের পাশে দণ্ডায়মান দেখতে পায়। স্ত্রী খাটের উপর পড়ে আছে। আর বলছে, আমার জন্য ডাক্তার ডেকে নিয়ে আস।

এরপর মিস্টার জায়েদ সাহেবের কানে বিউগলের সুরের মত নানা শব্দ ভেসে আসে। কিন্তু সে অনতি বিলম্বে বাড়ি ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে নেয়। এরপর সাইকেল ঘুরিয়ে চিকিৎসকসহ বাড়ীর উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। কেননা তার ব্রেণ এ পরামর্শ দিচ্ছিল। ঘরে পৌছে সে স্ত্রীকে সুস্থ্য সবল দেখতে পায়। ঐ বেচারী তাকে আকস্মিকভাবে ফিরে আসতে দেখে খুবই ব্যতিব্যস্ত হয়ে উঠে। জায়েদ সাহেবের ভীষণ গোস্বা হয় যে, তার ব্রেণ অন্তর তাকে বিস্ময়কর ধোঁকা দিয়েছে। তাই সে তাৎক্ষণিকভাবে গন্তব্যস্থলের দিকে যাত্রা শুরু করে। হঠাৎ স্ত্রী চক্কর দিয়ে বিছানায় পড়ে যায়। তার স্বাস্থ্য-মন বাস্তবিকই খারাপ হয়ে যায়। এ ছিল অভিজ্ঞতা অনুভূতির উন্নতি ও অদৃশ্য বিষয় সংকেত দেওয়া ও কাজ করার সুফল। কোন কোন সময় অবস্থা এরূপ হয় যে, আমাদের অনুভূতি পঞ্চইন্দ্রিয়ের শীর্ষে আরোহন করে সৃষ্টিজগতে সংঘঠিত কোন প্রিয় বস্তুকে বেষ্টন করে নেয়। মোহে নিমোজ্জিত হওয়া, কাশফ খোলা, ইলহাম, দৈবপ্রাপ্তি, সত্য স্বপ্ন, অদৃশ্য বাণী শোনা ও যুক্তি পেশকরা প্রভৃতি এর অন্তর্ভূক্ত হয়। জনৈক ব্যক্তি বর্ণনা করছিল, সে কফি হাউজে বসে কোন বিষয় নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করছিল। হঠাৎ সে অনুভব করে যে, তার ব্রেণ সমস্ত সৃষ্টিজীবকে আবেষ্টন করে নিয়েছে। এ অবস্থাকে প্যারাসাইকোলোজির (মনোস্তত্ত্বের) পরিভাষায় "আর ফাস্টমন স্যারি পরসিসেন" বলা হয়।

ডাক্তার এ্যালগিজেন্ড তার এক সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদনে এক অতি চিত্তকর্ষক ঘটনা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, তার জনৈক মক্কেল তার জীবনের এক আশ্চার্যজনক ঘটনা শুনিয়েছে। ঘটনা হল, সে একদিন তার ড্রয়িং রুমে চুপচাপ বসে ছিল। হঠাৎ সে অনুভব করতে থাকে, যেন কক্ষের ছাদ ভেঙ্গে নিচে পড়ে যাচ্ছে। আর তাৎক্ষণিকভাবে কোন অদৃশ্য শক্তি অতি দ্রুতগতিতে তাকে বাইরে নিক্ষেপ করছে। তার ধারনা মতে তা অবশ্যই কোন অদৃশ্য শক্তি ছিল। কেননা যখনই সে কক্ষ থেকে বাইরে বেরিয়ে যায়, ঠিক ঐ তখনই বিকট শব্দে ছাদ ভেঙ্গে নিচে পড়ে যায়। এ ঘটনার ব্যাখ্যা হতে পারে, ঐ ব্যক্তি মস্তকের শক্তি অনুভূতির সীমা থেকে উন্নীত হয়ে ছাদ ভেঙ্গে পড়ার বিষয় অনুভব করে নেয়। আর তার ক্যানডালি শক্তি (অন্তর্নিহিত গোপন শক্তি) বা স্যারনিপ্ট পাওয়ার সাধারণত: মানুষকে হেফাযত কতে পারে। আর তা তাকে কক্ষ থেকে উঠিয়ে বাইরে পৌছে দেয়। আপনার সাথে বর্তমান ও ভবিষ্যত বর্ণনা কারী বিস্ময়কর অসাধারণ ব্যক্তির সাক্ষাত হতে পারে। পূর্বে মহল্লাতে এরূপ এক বাঙালী যাদুকর ছিল। তার সম্পর্কে শোনা যায় যে, তার সাক্ষাতেজীন আসত। একবার এক ব্যক্তি তার সাথে সাক্ষাতের উদ্দেশ্যে তার কক্ষে গিয়ে দেখে, ঐ বাঙলী বাঙা পা উপরের দিকে মাথা নিচের দিকে দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আর তার কতিপয় স্পশকাতর অংগে লম্বা লম্বা সুই ফুটানো আছে।

যোগ ব্যয়ামে মাথার উপর ভর করে দাঁড়ানো এক উল্লেখযোগ্য ব্যায়াম। অধিকাংশ সাধু ব্যক্তি এ ধরনের সাধনা করে। যাদের অধিকাংশ সময় মাথা ব্যথা হয় ও তালুতে চমক অনুভূত হয়। বাহ্যিক কোন কারণ ব্যতীত চেহারা লাল হতে শুরু করে বা মস্তকের রগ সমূহে কখনো বিদ্যুতের মত উজ্জ্বল মনে হয়। তখন মাথা নিচু করে অনুশীলন শুরু করা উচিত। এছাড়াও মাথা নিচু করার অনেক উপকারীতা রয়েছে।

জনৈক ব্যক্তি জ্বিনে ধরা এক মহিলার অবস্থা প্রসংগে বলেছিল, ঐ জ্বিনে ধরা মহিলার নিকট সর্বদা মহিলাদের ভীড় লেগে থাকত। যে তার নিকট কিছুর আবেদন করত, ঐ মহিলা তাৎক্ষণিকভাবে তা হাজির করে দিত। এক ব্যক্তি অনেক চিন্তা ভাবনা করে তার নিকট এক ফলের আবেদন করে, যা ঐ মৌসুমে কোথাও পাওয়া যেত না। ফলে মহিলাটি কিছু সময় ঐ ব্যক্তির প্রতি গভীর দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। তারপর তার হাত পেছনের দিকে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর নিজের হাতে মুঠি খোলে। তখন তার হাতে একটি আম দেখা যায়। একদিন হঠাৎ ঐ মহিলা অদৃশ্য হয়ে যায়। তারপর সে কোথায় চলে গেছে এর কোন সন্ধান পাওয়া যায়নি। বিবেক বুদ্ধি ও বিজ্ঞানের আলোকে এ অবিশ্বাস্য দৃশ্যের কোন ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু প্যারাসাইকোলোজির মূলতত্বের মাধ্যমে এ বিষয় যথেষ্ট ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ করা যায়। কেননা তার উদ্দেশ্য এ ধরনের মানুষের জ্ঞান ও মস্তকে ঘুমন্ত অবস্থায় অনেক শক্তির আনাগোনা করে। কোন কোন সময় অবস্থা এরূপ হয়, যা আবেগ-অনুভূতির আওতায় আসে না। এর কারণ আবেগের উত্তেজনা, পাকস্থলির গণ্ডগোল ও মানসিক অবসাদও হতে পারে।

জীবজন্তুর ভয়, বিতৃষ্ণা, প্রেমের উত্তেজনা, সাধারণ মাথা ব্যথা, যার ব্যাপক কোন কারণ নেই। নারীদের নমনীয়তা, জৈবিক চাহিদা, নিদ্রাহীনতা, আর্থিক অস্বচ্ছলতার দুশ্চিন্তা, অতিরিক্ত ধুমপান ও চায়ের নেশা প্রভৃতি অবশেষে মানসিক ব্যাধির কারণ হয়ে যায়। এসব অশান্তি আর আবেগের পেছনে অবশ্যই কিছু না কিছু কারণ আছে। অতি দ্রুত ব্রেণের সৃষ্টিগত শক্তিগুলো ক্ষতিগ্রস্থ করা এবং অচেতনা তার নিজেস্ব গণ্ডি থেকে সামনে অগ্রসর হওয়ার কারণে সে নিজেই তা আড়াল করতে শুরু করে।

এ কথা অবিস্মরণীয় যে, প্যারাসাইকোলোজী ও যোগব্যায়ামের সব অনুশীলনের উদ্দেশ্য হল শুধুমাত্র মানুষের দৈহিক অংগ-প্রত্যংগ সমূহকে নিয়ন্ত্রণে রেখে শক্তি ক্ষয় রোধ করা। দ্বিতীয়তঃ এ সব অনুশীলনের দ্বারা মনোযোগ ও ধ্যান-ধারনার শক্তিকে এক কেন্দ্রে একীভূত করে নেওয়া হয়। যখনই ধ্যান-ধারনা ও মনোযোগ এক লক্ষ্যে স্থির হয়ে যাবে, তখন শাহরগের জীবনী শক্তি জাগ্রত হতে শুরু করবে। অনুরূপভাবে মানুষের আভ্যন্তরীণ অনুভূতি শক্তির শীর্ষে আরোহন করে সুপার কানেকশনের শীর্ষে আরোহন করে কাজ শুরু করবে।

ভবিষ্যত দর্শনের বা গায়েব জানার যোগ্যতা সৃষ্টি করে নেওয়া কোন বিস্ময়কর বিষয় নয়। এখন থেকে হাজার হাজার বছর পূর্বে হামাবী ও ব্যবিলনের যাদুবিদগণ এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ ক্ষমতার অধিকারী ছিল। আপনি নিশ্চই জামশেদের নাম শুনে থাকবেন। যে কাঁচের মধ্যে গায়েবের অবস্থা দেখতে পেত। মূলতঃ চেতনা যখনই অবচেতনার সাথে স্বীয় সম্পর্ক ও সংযোগ ভঙ্গ করে, তখন গায়েব জানার সূচনা হয়। আগাম যুক্তি প্রদানের জন্য জরুরী হল, চেতনা ও অচেতনার সাথে সম্পর্ক (ডস এ্যাসোসিয়েশন অফ কনশাসন্স) অবশিষ্ট রাখা যাবে না। এভাবে হাজারো বছর পূর্বে পুরোহিত ও জ্যোতিষীগণ ভবিষ্যদ্বাণী পেশ করত। অনুরূপভাবে বর্তমানেও তা সম্ভব। এর জন্য প্রয়োজন হল, শুধু স্বীয় অবচেতন অনুভূতি সমূহকে জাগ্রত করে নেওয়া।

📘 সুন্নতে রাসূল সাঃ ও আধুনিক বিজ্ঞান > 📄 আমাদের স্বপ্ন ও তার ধরন

📄 আমাদের স্বপ্ন ও তার ধরন


আমরা ঘুমের ঘোরে অবশ্যই কিছু না কিছু স্বপ্ন দেখি। আবার কেউ কেউ নিজের স্বপ্নগুলোকে অতিগুরুত্ব দিয়ে থাকে। যাবত না সে কোন জ্যোতিষী, গনক ও ফকীর থেকে এর ব্যাখ্যা জেনে নেয়, ততক্ষণ পর্যন্ত সে স্বস্তি বোধ করে না। বাস্তবিকই আমাদের স্বপ্ন স্বস্থানে অতিগুরুত্বপূর্ণ। এভাবে তা ভবিষ্যত দর্শনের সারিতে এসে যায়। এ কারণে আপনি নিজের প্রয়োজনে এর কিছু বাস্তবতা অবশ্যই জেনে নিন। আমাদের স্বপ্ন বিভিন্ন ধরনের হতে পারে।

১. সাদা স্বপ্ন। ৩. নিদর্শনমূলক স্বপ্ন। ৫. কাশফের সংযোগে স্বপ্ন।
২. বিস্ময়কর স্বপ্ন। ৪. কারণ যুক্ত স্বপ্ন। ৬. রুইয়ায়ে সাদেকা বা সত্য স্বপ্ন।

আমাদের অধিকাংশ স্বপ্ন এরূপ হয় যে, আমরা জাগ্রত হওয়া মাত্রই তা আমাদের মন থেকে মুছে যায়। কোন কোন লোক স্বপ্নে হাসে, কাঁদে অথবা বিস্ময়করভাবে মুখ আঁকা বাঁকা করতে দেখে। অর্থহীন বিড়বিড় করাও স্বপ্নের একাংশ। আমদের সর্বদা ঘুমে ঐ অনুভূতির উদ্রেক হতে থাকে। তাতে কোন অজ্ঞাত অবস্থা বা বিষয় বিদ্যমান হয়। তা আমাদের অতীত বা ভবিষ্যতের সাথে জড়িত হয়। স্বপ্নকে মানুষের মনের উদাহরণীয় কাজের সাথে ব্যাখ্যা করা হয়। মানুষের ব্রেন প্রতি মুহূর্তে কিছু না কিছু চিন্তা করে। শয়ন করার পর যখন বাহ্যিক কাজ কর্মের আলোড়ন শেষ হয়ে যায়, তখন আবেগ-অনুভূতি তো নিজেই বিভিন্ন ধরনের আকৃতি তৈরী করতে থাকে অথবা অচেতনতার গোপন উৎসাহ-উদ্দীপনা অসমাপ্ত কামনা ও বাঞ্ছিত হওয়ার বিষয়গুলো স্বরূপ পরিবর্তন করে আমাদের সামনে আসতে শুরু করে। কোন কোন স্বপ্ন ভীষণ জটিল ও কঠিন হয়। যার ফলে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত মন ব্যতিব্যস্ত থাকে। কোন কোন স্বপ্ন বারবার দৃষ্টিগোচর হতে থাকে। বাস্তবে আমাদের স্বপ্ন সমূহের মৌলিকত্বও রয়েছে।

১. ভাণ্ডার সঞ্চয় না করা। ৩. রূপক বাকপটুতা।
২. এক স্থান থেকে অন্যস্থানে প্রত্যাবর্তন করা। ৪. অবচেতনতা বিন্যাস করা।

স্বপ্নের মাধ্যমে কামোত্তেজনার সংমিশ্রণও হতে পারে। কিন্তু এখানে আমাদের শুধু এ বিষয় জানতে হবে যে, আমরা যখন ভবিষ্যত দর্শনের অনুশীলন কালে কোন স্বপ্ন দেখি, তখন এর বিষয়বস্তু বুঝতে সক্ষম হই।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00