📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 আল্লাহভীরুতার তিন প্রমাণ

📄 আল্লাহভীরুতার তিন প্রমাণ


৮৪৬. আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক থেকে বর্ণিত, দাউদ একদিন তাঁর ছেলে সুলাইমান-কে বলেন: “তিনটি বিষয় আল্লাহভীরুতার প্রমান বহণ করে: এক. আপতিত বিপদাপদে উত্তমভাবে আল্লাহর ওপর তাওয়াক্কুল করা। দুই. আল্লাহ তাআলা যা দিয়েছেন, উত্তমভাবে তাতে সন্তুষ্ট থাকা। তিন. অপেক্ষমান বিষয়ে উত্তমরূপে ধৈর্য ধারণ করা।”

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 ইয়াকীনের স্বরূপ

📄 ইয়াকীনের স্বরূপ


৮৪৭. তিনি বলেন, “আমি যুননুনকে বলতে শুনেছি : 'তিনটি বিষয় হলো ইয়াকীনের আলামত। সকল বিষয়ে আল্লাহর প্রতি লক্ষ্য করা, সকল বিষয়ে তাঁর নিকট ফিরে যাওয়া এবং সর্বক্ষেত্রেই তাঁর নিকট সাহায্য চাওয়া।”

৮৪৮. আবূ উসমান আল হান্নাত বলেন, “সিররিকে তার এক সঙ্গীকে উদ্দেশ্য করে বলতে শুনেছি : 'যেসব বিষয় ঈমানকে দুর্বল করে ফেলে, সে বিষয়ে বেশি চিন্তাভাবনা করবে না। কেননা ঈমানের দুর্বলতা হলো সকল গুনাহ, দুশ্চিন্তা ও টেনশনের মূল। এর পরিবর্তে ওইসব বিষয় নিয়ে চিন্তাভাবনা করবে, যা অন্তরে ইয়াকিন তৈরি করে থাকে। কারণ ইয়াকিনের মাধ্যমে সকল আনুগত্য করা যায়। এর মাধ্যমেই সকল দুশ্চিন্তা থেকে দূরে থাকা যায়। এটাই তোমাকে এসব ভয়ভীতি থেকে নিরাপদ রাখবে এবং সকল প্রশান্তি ও আনন্দের নিকটবর্তী করে দেবে。
নবি থেকে এমনটাই বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেছেন:
مَا أُوتِيَ عَبْدُ خَيْرٌ لَهُ مِنَ اليَقِينِ
বান্দাকে ইয়াকীনের চেয়ে উত্তম কিছু প্রদান করা হয়নি।”[৫৬২]

৮৪৯. আবূ উসমান বলেন, “আমি সিররিকে বলতে শুনেছি : ইয়াকীন কাকে বলে, জানো? আমলের সময় অন্তর প্রশান্ত থাকা। শয়তানের পক্ষ থেকে তাতে কোনো ভয়ভীতির স্থান না থাকা। কোনোরূপ আশঙ্কা তাতে প্রভাব বিস্তার না করা। অন্তর এতটাই প্রশান্ত থাকা যে, তাতে দুনিয়ার কমবেশ কোনো ধরনের ভয়ভীতি বিদ্যমান না থাকা। অন্তরে যদি কোনো কল্যাণকর কাজের ইচ্ছা জাগে, তাহলে তাতে বাধা প্রদানকারী কোনো চিন্তার উদ্রেক না ঘটা। এমন কোনো চিন্তা মনে না আসা, যা অন্তরকে সেই কল্যাণ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দুর্বল বানিয়ে দেয়। বরং কল্যাণকর কাজটি অন্তরে এমন স্থিরতা দান করে যে, মনে হবে যেন এটাই অন্তরের স্বভাবজাত বিষয়। বিষয়টা অন্তরে এতটা দৃঢ় থাকা, যেন এর ওপর কোনো পাহাড় স্থাপন করা হয়েছে। জেনে রাখো, কেবল আল্লাহ তাআলার মাধ্যমেই উপকার লাভ করা সম্ভব। আল্লাহ তাআলা না চাইলে কোনো কিছুই হয় না। আর তাঁর ইচ্ছা ছাড়া মানুষ কোনো কিছু করতে সক্ষম নয়। এই বিষয়টি অন্তরে স্থিরতা লাভ করলে, কেবল আল্লাহর ওপরই বিশ্বাসীদের অন্তর প্রশান্ত হয়ে উঠে, অন্য কিছুতে নয়। তখন সে আল্লাহ ছাড়া কারও কাছে কোনো কিছুর আশা রাখে না, তাঁকে ছাড়া কাউকে ভয় পায় না। তার অন্তর থেকে সৃষ্টিজীবের সকলের আশা- আকাঙ্ক্ষা ও ভয়ভীতি বিদূরীত হয়ে যায়। তাই সে কারও ওপর নির্ভর করে না। কারও অর্থ-সম্পদ, দেহ বা কৌশল—কোনো কিছুর ওপরই সে ভরসা করে না। এভাবেই সে আল্লাহ ছাড়া অন্য সকল কিছু থেকে অমুখাপেক্ষী হয়ে উঠে এবং মানসিকভাবে অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে যায়।”

টিকাঃ
[৫৬২] আহমাদ ইবনু হাম্বল, আল মুসনাদ, ১/৮; সনদ হাসান。

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 মুমিন হওয়ার হাকীকাত

📄 মুমিন হওয়ার হাকীকাত


৮৫০. আবূ সুলাইমান আদ দারানি বলেন, “দামিশকের সমুদ্রতীরের এক শাইখের নাম আলকামা ইবনু ইয়াযিদ ইবনু সুআইদ। তিনি আমাকে বলেছেন যে, সুআইদ ইবনুল হারিস তাকে বলেছেন: 'আমি আমার সাতজন সাথি নিয়ে একবার নবি -এর কাছে আসি। কথাবার্তা বলি তার সাথে। তিনি আমাদের বেশভূষা দেখে আশ্চর্য হয়ে যান। জিজ্ঞেস করেন, 'তোমরা কারা?' আমরা বলি, 'আমরা হলাম মুমিন।' নবি তখন মুচকি হেসে বলেন, 'প্রতিটি কথার একটি হাকীকাত রয়েছে। তোমাদের বক্তব্য এবং তোমাদের ঈমানের হাকীকাত কী?' আমরা তখন বলি, 'এর পনেরোটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। যার পাঁচটির ব্যাপারে আপনার দূত আমাদের ঈমান আনার নির্দেশ দিয়েছেন। আরও পাঁচটির ব্যাপারে আমাদের আমলের নির্দেশ দিয়েছে। বাকি পাঁচটি আমাদের জাহিলি যুগের অভ্যাস, আমরা এখনো সেগুলোর ওপর রয়েছি। তবে যদি আপনি তা অপছন্দ করেন, তাহলে ভিন্ন কথা।' নবি তখন তাদের জিজ্ঞেস করেন, 'আমার দূত কোন পাঁচটি বিষয়ে তোমাদের ঈমান আনার নির্দেশ দিয়েছে?' আমরা তখন বলি, 'আল্লাহ, ফেরেশতা, তাঁর কিতাব, রাসূল এবং মৃত্যু পরবর্তী পুনরুত্থানের ব্যাপারে ঈমান আনার।'
নবি এরপর জিজ্ঞেস করেন, 'আর আমল করার নির্দেশ দিয়েছে কোনগুলো?' আমরা বলি, 'যেন আমরা সাক্ষ্য দিই যে, আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই আর মুহাম্মাদ হলেন আল্লাহর রাসূল। আর যেন সালাত কায়েম করি, যাকাত দিই, রমাদানে সাওম থাকি, বাইতুল্লাহর হাজ্জ আদায় করি। আমরা এখনো সেগুলোর ওপর আছি।' নবি এরপর জিজ্ঞেস করেন, 'আর জাহিলি যুগের স্বভাবগুলো?' আমরা বলি, 'স্বচ্ছলতার সময় আল্লাহ তাআলার কৃতজ্ঞতা আদায় করা, বিপদাপদে ধৈর্যধারণ করা, মানুষের সাথে সত্য বলা, শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই করা—অপর এক বর্ণনায় এসেছে, শত্রুর ওপর কোনো বিপদ আপতিত হলে তাতে উল্লসিত না হওয়া এবং আল্লাহ তাআলার ফায়সালায় সন্তুষ্ট থাকা।'
নবি তখন মুচকি হেসে বলেন, 'তারা বেশ উত্তম শিষ্টাচারের অধিকারী, অত্যন্ত বিচক্ষণ, বিজ্ঞ ও সহনশীল; যেন তারা কোনো নবি। এই বৈশিষ্ট্যগুলো কতই না চমৎকার ও সুন্দর। এর প্রতিদান কতই না বিশাল। শোনো, তোমাদের আরও পাঁচটি বিষয়ের ওসিয়ত করছি। এর মাধ্যমে সর্বমোট বিষয় হবে বিশটি।' আমরা তখন বলি, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ, করুন।' তিনি বলেন, 'যেমনটি বললে, যদি আসলেই তেমন হয়ে থাকো, তাহলে যা আহার করো না, তা জমা রেখো না। যাতে তোমরা বসবাস করবে না, তা নির্মাণ কোরো না। এমন বিষয়ের প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হোয়ো না, যা থেকে আগামীকাল বিদায় নিয়ে চলে যাবে। সেই বিষয়ের প্রতি আগ্রহী হও, যেদিকে তোমাদের যেতে হবে এবং যেখানে তোমাদের চিরস্থায়ী ঠিকানা হবে। আল্লাহকে ভয় করো, যার নিকট তোমারা ফিরে যাবে এবং তোমাদেরকে যার সামনে পেশ করা হবে।” সুলাইমান বলেন, "তারা নবি -এর এ ওসিয়ত মুখস্ত করে ফিরে আসে এবং সে অনুযায়ী আমল করে। এরপর তিনি বলেন, 'আল্লাহর শপথ, আবূ সুলাইমান! সেই দলের একজনও এখন জীবিত নেই। আমি ছাড়া তাদের কারও সন্তান-সন্ততিও এখন বাকি নেই। হে আল্লাহ! আমার বর্তমান অবস্থার পরিবর্তন না ঘটিয়ে আপনার কাছে নিয়ে যান।” আবূ সুলাইমান বলেন, “এর কিছুদিন পরই মৃত্যুবরণ করেন তিনি।”[৫৬৩]

৮৫১. ইবরাহীম ইবনু শাইবান বলেন, "জুনাইদ ইবনু মুহাম্মাদকে তাওহীদের প্রথম স্তর সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল। এর উত্তরে আমি তাকে বলতে শুনেছি: 'তা হলো নবি -এর এই বক্তব্য,
اعْبُدِ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَراهُ
এমনভাবে ইবাদাত করো, যেন তুমি আল্লাহকে দেখছ।”

৮৫২. আবদুল করীম থেকে বর্ণিত, হারিস ইবনু মালিক বলেছেন, "আমি একবার নবি -এর কাছে যাই। চাদর দলা পাকিয়ে মাথার নিচে রেখে শুয়ে ছিলেন তিনি তখন। আমি গিয়ে তাঁকে সালাম দিই। তিনি আমাকে বলেন, 'হারিস! কেমন আছ?' আমি বলি, 'আমি মুমিন আছি।' 'কী বলছ, বুঝে শুনে বলো।' 'হ্যাঁ, আমি আসলেই মুসলিম।' নবি তখন সোজা হয়ে বসে বলেন, 'প্রতিটি বিষয়ের একটি হাকীকাত রয়েছে। তোমার এই বিষয়টির হাকীকাত কী?' 'আমি নিজেকে দুনিয়া থেকে গুটিয়ে নিয়েছি, নির্ঘুম রাত কাটাই এবং দিনে অনাহারে থাকি। জান্নাতিদের যেন আমি দেখতে পাই যে, তারা জান্নাতে ঘুরাঘুরি করছে। আবার জাহান্নামিদের আর্তনাদও যেন শুনতে পাই।' নবি তখন বলেন, 'তুমি মারিফাত লাভ করেছ। একে আঁকড়ে থাকো।'
তারপর তিনি বলেন, 'সে এমন এক বান্দা, আল্লাহ যার অন্তরকে ঈমানের নূরে আলোকিত করে দিয়েছেন।'” [৫৬৪]

৮৫৩. আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ বলেন, “নবি তিলাওয়াত করেন :
أَفَمَن شَرَحَ اللهُ صَدْرَهُ لِلْإِسْلَامِ فَهُوَ عَلَى نُورٍ مِّن رَّبِّهِ
'আল্লাহ যার বক্ষকে ইসলামের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছেন, ফলে সে তার রবের পক্ষ থেকে আগত আলোর মাঝে রয়েছে, সে কি তার সমান যে এরূপ নয়? '[৫৬৫]
আমরা তখন জিজ্ঞেস করি, 'ইয়া রাসূলাল্লাহ, বক্ষ কীভাবে উন্মুক্ত হয়?' তিনি উত্তরে বলেন, 'অন্তরে যখন নূর প্রবেশ করে, তখন তা উন্মুক্ত ও প্রসারিত হয়ে যায়।' আমরা জিজ্ঞেস করি, 'এর আলামত কী?' তিনি বলেন:
الإنابة إلى دار الخلود، والتجافي عن دارِ الغُرور، والاستعداد للموت قبل نزول الموت.
'চিরস্থায়ী ঠিকানার প্রতি অন্তর ধাবিত হওয়া, ধোঁকার ঘর থেকে অন্তর উঠে যাওয়া, মৃত্যু আসার পূর্বেই তার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে রাখা।”[৫৬৬]

টিকাঃ
[৫৬৩] আবু নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৯/ ২৭৯, ২৮০; এই হাদীসের সনদ সহীহ নয়। অনেকে এর সনদকে মুনকারও বলেছেন。
[৫৬৪] তাবারানি, আল মুজামুল কাবীর, ৩/ ২৬৬, ২৬৭; এর সনদ যঈফ。
[৫৬৫] সূরা যুমার, ৩৯: ২২。
[৫৬৬] হাকিম নাইসাপুরি, আল মুস্তাদরাক, ৪/ ৩১১; এর সনদ মুনকাতি。

📘 শ্রেষ্ঠ প্রজন্মের দুনিয়াবিমুখতা > 📄 ইয়াকীনের মাধ্যমে অসাধ্য সাধন

📄 ইয়াকীনের মাধ্যমে অসাধ্য সাধন


৮৫৪. আবূ মুহাম্মাদ আল জারিরি বলেন, "আমি সাহাল ইবনু আবদুল্লাহকে বলতে শুনেছি: 'তোমরা যবকে খাবার বানাও, ক্ষুধাকে তরকারি বানাও, খেজুরকে মিষ্টান্ন বানাও, পশমকে কাপড় বানাও, মাসজিদকে ঘর বানাও, সূর্যকে শীত বস্ত্র বানাও, চাঁদকে বাতি বানাও, পানিকে সুগন্ধি বানাও, সতর্কতাকে দ্বীন বানাও, সকল বিষয়ের সন্তুষ্টিকে তোমাদের নিদর্শন বানাও, আল্লাহভীতিকে পাথেয় বানাও। দিনে ঘুমাবে আর রাতে খানা খাবে। যিকর যেন হয় তোমাদের কথা। চিন্তাভাবনা এবং শিক্ষাগ্রহণ যেন হয় তোমাদের লক্ষ্য- উদ্দেশ্য। আল্লাহ তাআলা যেন তোমাদের আশ্রয়স্থল এবং সাহায্যকারী হন। লজ্জা যেন হয় তোমাদের পোশাক। আস্থা যেন হয় তোমাদের সম্পদ। মৃত্যু পর্যন্ত তোমাদের অন্তরকে এভাবেই তৈরি করে নাও। বান্দা যতক্ষণ পর্যন্ত অন্তর দিয়ে আল্লাহকে না দেখে, অদৃশ্যের বিষয়গুলো প্রত্যক্ষ না করে এবং ইয়াকীন তার কাছে ধরা না দেয়, ততক্ষণ সে এই বিষয়গুলোর পূর্ণতায় পৌঁছাতে পারে না। যখন সে এগুলো লাভ করে, তখন কঠিন বিষয়ও সহজ হয়ে যায় তার জন্য। ইয়াকীন অর্জনের মাধ্যমে তারা পানি ও বাতাসের ওপরও হাঁটতে পারে। যে ব্যক্তি এগুলো অর্জন করতে পারল না, সে যেন কোনো কিছুই অর্জন করতে পারল না।”

৮৫৫. ওহাইব আল মাক্কি থেকে বর্ণিত, নবি বলেছেন:
لَوْ عَرَفْتُمُ اللهَ حَقَّ مَعْرِفَتِهِ لَعَلِمْتُمُ الْعِلْمَ الَّذِي لَيْسَ مَعَهُ جَهْلٌ ، وَلَوْ عَرَفْتُمُ اللهَ حَقَّ مَعْرِفَتِهِ لَزَالَتِ الْجِبَالُ بِدُعَائِكُمْ ، وَمَا أُتِيَ أَحَدٌ مِنَ الْيَقِينِ شَيْئًا إِلَّا مَا لَمْ يُؤْتَ مِنْهُ أَكْثَرُ مِمَّا أُتِيَ ، قَالَ مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ : وَلَا أَنْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ ؟ قَالَ : وَلَا أَنَا
"যদি তোমরা ভালোভাবে আল্লাহর পরিচয় লাভ করতে, তাহলে এমন ইলম অর্জন করতে পারতে যার সাথে কোনো অজ্ঞতা নেই। যদি ভালোভাবে আল্লাহর পরিচয় লাভ করতে সক্ষম হতে, তাহলে তোমাদের দুআতে পাহাড় পর্যন্ত টলে যেত। কাউকে ইয়াকীনের চেয়ে অধিক কিছু প্রদান করা হয়নি।” মুয়ায ইবনু জাবাল তখন বলেন, "ইয়া রাসূলাল্লাহ, আপনাকেও না?” তিনি বলেন, “আমাকেও না।”
মুয়ায ইবনু জাবাল বলেন, "ঈসা ইবনু মারিয়াম পানির ওপর দিয়ে হাঁটতেন বলে জানি!" নবি তখন বলেন, "যদি তিনি আরও বেশি ইয়াকীনের অধিকারী হতেন, তাহলে শূন্যেও হাঁটতে পারতেন।”[৫৬৭]

৮৫৬. হিলাল ইবনু মুহাম্মাদ ইবনু সুলাইম থেকে বর্ণিত, হাওয়ারিরা [৫৬৮] একবার তাদের নবি ঈসা-কে হারিয়ে ফেলে। তখন তাদের বলা হলো, "সমুদ্র অভিমুখে যাও।” তারা তাঁকে খুঁজতে সমুদ্র অভিমুখে চলতে লাগল। সমুদ্রের কাছে পৌঁছে দেখতে পেল, তিনি পানির ওপর হেঁটে হেঁটে আসছেন। সমুদ্রের ঢেউ তাঁকে একবার ওপরে তোলে আরেকবার নিচে নামায়। আর তাঁর পরনে কেবল একটি চাদর, যার অর্ধেকটা দিয়ে শরীরের ওপরের অংশ ঢাকা আর বাকি অর্ধেকটা দিয়ে নিচের অংশ। এ সুরতে হেঁটে হেঁটে তিনি তাদের কাছে পৌঁছলে তাদের একজন বলে, “আল্লাহর নবি, আমরাও আসি?” এই বলে তিনি এক পা পানিতে রেখে আরেক পা রাখতে গিয়েই বলে উঠেন, “নবিজি, নবিজি! আমি তো ডুবে গেলাম।” ঈসা তখন বলেন, “আরে অল্প ঈমানওয়ালা, হাতটা বাড়াও।” এরপর তিনি বলেন, “যদি বনী আদম যব পরিমাণ ইয়াকীনেরও অধিকারী হত, তাহলে সে পানির ওপর হাঁটতে পারত।”[৫৬৯]

৮৫৭. আল্লাহ তাআলার বাণী: أَلَا يَظُنُّ أُولَئِكَ أَنَّهُم مَّبْعُوثُونَ * لِيَوْمٍ عَظِيمٍ “এরা কি চিন্তা করে না যে, এরা পুনরুত্থিত হবে মহাদিবসে?”[৫৭০]
গাইলান আবী আবদিল্লাহ বলেন, “আমি হাসানকে এ আয়াত তিলাওয়াত করে বলতে শুনেছি : 'মানুষ যদি এ চিন্তাও করত, তবুও সঠিক পথের নিকটবর্তী হয়ে যেত।”

৮৫৮. আহমাদ ইবনু আবীল হাওয়ারি বলেন, “আহমাদ ইবনু আসিম আন্তাকিকে বলতে শুনেছি : 'সামান্য ইয়াকীন-ই অন্তর থেকে সকল ধরনের সন্দেহ- সংশয় দূর করে দেয়। আর সামান্য সন্দেহই অন্তর থেকে সকল ইয়াকীন বিদূরিত করে দেয়।”[৫৭১]

টিকাঃ
[৫৬৭] আবূ নুআইম, হিলইয়াতুল আউলিয়া, ৮/ ১৫৬; এর সনদ মুনকাতি ও মুরসাল。
[৫৬৮] ঈসা ইবনু মারিয়াম-এর সাহাবিদের হাওয়ারি বলা হয়。
[৫৬৯] আহমাদ ইবনু হাম্বল, আয যুহদ, ৫৭。
[৫৭০] সূরা মুতাফফিফীন, ৮৩: ৫。
[৫৭১] ইবনু মানযুর, মুখতাসারু তারিখি দিমাশক, ৩/১২৮。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00