📄 খাজা কুতুবুদ্দীন কাকি রহ.-এর মাতার তারবিয়াত
ভারত উপমহাদেশের একজন বিখ্যাত বুযুর্গ ছিলেন। যাকে মোঘল বাদশাহদের পীর বলা হতো। তিনি ছিলেন খাজা কুতুবুদ্দীন বখতিয়ার কাকি রহ.। কুতুব মিনারের পাশেই তার কবর। এই মহান বুযুর্গের নামেই কুতুব মিনার আজ বিশ্বখ্যাত। সেখানে চিরশান্তিতে তিনি শায়িত আছেন।
যখন এই বুযুর্গের জন্ম হলো এবং একটু বুঝ-শক্তিও হলো। একসময় তাঁর বাবা-মা বসে বসে চিন্তা করতে লাগলেন, আমাদের সন্তানের সুন্দর তারবিয়াত কিভাবে হবে? এবং সে কিভাবে আল্লাহর খাঁটি ও প্রিয় পাত্র হবে? উভয়ে এ ব্যাপারে (Discuss) পরামর্শ করতে লাগলেন। পরামর্শের পর যা সিদ্ধান্ত হলো, তা পুরোপুরি বাস্তবায়নও করতে থাকেন। এরই ধারাবাহিকতায় একদিন বিবি সাহেব বললেন, আমার মাথায় একটি খেয়াল এসেছে, আমি কাল থেকেই তার সফল বাস্তবায়ন করব; যাতে আমাদের সন্তান আল্লাহর ওলী হতে পারে। স্বামী তা শুনে বললেন, ঠিক আছে। খুব ভালো হবে, তাই করো।
পরেরদিন ছেলে যখন মাদরাসায় চলে গেল। মা ছেলের অগোচরে খাবার তৈরি করে কোনো নিরাপদ জায়গায় লুকিয়ে রাখলেন। এবার ছেলে মাদরাসা থেকে ফিরে এল। এসেই চিৎকার দিয়ে বলল, আম্মু! আমার খুব খিদে পেয়েছে। আমাকে কিছু খেতে দাও।
মা তখন বললেন, বাবা! আমাকে খাবার আল্লাহ তাআলা দেন। তোমাকেও তিনিই দিবেন। তুমি আল্লাহর কাছে তোমার রুটি চেয়ে নাও।
ছোট শিশু কুতুবুদ্দীন জায়নামায বিছাল এবং দু'হাত তুলে বলতে লাগল, আয় আল্লাহ! আমি এইমাত্র মাদরাসা থেকে এলাম; খুবই ক্লান্ত। বড্ড ক্ষুদা পেয়েছে। বড্ড তিয়াস পেয়েছে। আল্লাহ! আমাকে রুটি দেন। পানিও দেন। আয় আল্লাহ! এগুলো আমাকে তাড়াতাড়ি দেন।
দুআ শেষ করে মাকে বলল, আম্মু এখন আমি কী করব? মা বললেন, বেটা! হয়তো আল্লাহ তাআলা তোমার জন্য খাবার পাঠিয়ে দিয়েছেন। তুমি ঘরে তালাশ করো পেয়ে যাবে। শিশু কুতুবুদ্দীন জায়নামাজ থেকে উঠলেন। ঘরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করলেন। মমতাময়ী মাও তাকে খোঁজার কাজে সাহায্য করলেন। একপর্যায়ে তিনি যখন খানার ভুলচি খুললেন, দেখলেন তাতে রান্না করা গরম গরম খাবার রাখা আছে। এটা দেখে তিনি খুব খুশি হলেন এবং খুব মজা করে খেতে লাগলেন। খেতে খেতে বললেন, আম্মু! প্রতিদিন কি আল্লাহই আমাকে খেতে দেন? মা বললেন, হ্যাঁ বেটা, প্রতিদিন আল্লাহ তাআলাই আমাদের রিযিক দেন।
এভাবে প্রতিদিন এই নিয়মেই চলতে লাগল। শিশু কুতুবুদ্দীন প্রতিদিন মাদরাসা থেকে আসেন। জায়নামায বিছিয়ে দুআ করেন এবং নির্দিষ্ট স্থান থেকে খানা পেয়ে যান। আর ওদিকে পূর্ব থেকেই মা খানা রান্না করে সেখানে রেখে দেন।
এভাবে বেস কিছুদিন চলতে থাকে। এক পর্যায়ে মা বিষয়টি বুঝতে পারেন যে, আল্লাহ তাআলার সম্পর্কে জানার আগ্রহ তার বাড়ছে এবং আল্লাহর প্রতি তার ভালোবাসা ও বিশ্বাস দিন দিন বেড়ে চলেছে। কখনো শিশু আম্মুকে জিজ্ঞাসা করে, আম্মু! আল্লাহ তাআলা সকল প্রাণীকে খাবার দেন? আম্মু! আল্লাহ তাআলা কত ভালো! আম্মু, আল্লাহ তাআলা প্রতিদিন খাবার দেন। তিনি অনেক মহান!
এভাবে শিশু কুতুবুদ্দীনের ঈমান দিন দিন বাড়তে লাগল। মাও খুশি মনে শিশুর শিক্ষার প্রতি পূর্ণ যত্ন নিতে লাগলেন। এভাবেই দীর্ঘদিন চলতে লাগল। একদিন শিশু কুতুবুদ্দীনের মা এক আত্মীয়ের বাড়ি বেড়াতে গেলেন। বেড়াতে গিয়ে লম্বা সময় সেখানে কেটে গেল। এদিকে শিশু কুতুবুদ্দীনের মাদরাসা থেকে ফেরার সময়ও হয়ে এল। মা খুব পেরেশান হয়ে গেলেন। চিন্তায় তার কপাল বেয়ে ঘام ঝড়তে লাগল। তিনি ভাবতে লাগলেন, এখন কী হবে? আমার আদরের সন্তানতো সম্ভবত মাদরাসা থেকে ঘরে ফিরেছে। আমি তো তার খানা তৈরি করে রেখে আসিনি। সে যদি ঘরে ফিরে খানা না পায়, তাহলে তো আমার সর্বনাশ হয়ে যাবে। আমার এত দিনের মেহনত সব শেষ হয়ে যাবে। তিনি চিন্তায় অস্থির হয়ে গেলেন; এমনকি চোখে পানি এসে গেল। তিনি দ্রুত বাড়ির দিকে চলতে শুরু করলেন। চোখ দিয়ে পানি ঝরছে আর আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করছেন। আয় আল্লাহ! আমি কেবলমাত্র একটি গল্প সাজিয়ে ছিলাম, যাতে করে তার দিলে আপনার মুহাব্বত বসে যায়। আয় আল্লাহ! আমার ভুল হয়েছে। আমি খানা তৈরি করে রেখে আসিনি। আর এদিকে সময়ও ঠিক রাখতে পারিনি। আল্লাহ! আমার সন্তানের একীন-বিশ্বাসটুকু যেন নষ্ট না হয়। আল্লাহ! আমার মেহনত যেন বিনষ্ট না হয়।
সারা পথ কাঁদতে কাঁদতে আর আল্লাহর নিকট ফরিয়াদ করতে করতে যখন তিনি ঘরে পৌঁছলেন, দেখলেন, আদরের সন্তান খাটে ঘুমিয়ে রয়েছে। দেখে মনে হচ্ছে আরামেই ঘুম দিয়েছে। মা এই সুযোগটাকে গনিমত মনে করলেন, তিনি সন্তান ঘুমিয়ে থাকতে থাকতে খানা তৈরি করে আগের জায়গায় লুকিয়ে রাখলেন। এবার ছেলের নিকট এসে স্বস্থির নিঃশ্বাস ছাড়লেন এবং সন্তানের গালে একটি আদরের চুমু খেলেন। চুমুর স্পর্শে সন্তান ঘুম থেকে জেগে গেল। মা সন্তানকে জড়িয়ে কোলে তুলে নিলেন। আর আদর দিয়ে বলতে লাগলেন, বাবা! তোমার হয়তো ভীষণ ক্ষুদা পেয়েছে। পিপাসাও লেগেছে। সেই কখন এসেছ। ওঠো, জায়নামায বিছিয়ে আল্লাহর কাছে রুটি চেয়ে নাও। শিশু কুতুবুদ্দীন হাসিমুখে মাকে উত্তর দিলেন, আম্মু! আমার ক্ষুদা লাগেনি। তিয়াসও পায়নি। মা বললেন, কেন? ছেলে বললেন, আম্মু! আমি মাদরাসা থেকে ফিরে এসে প্রতিদিনের মতো জায়নামায বিছিয়ে আল্লাহর কাছে আমার খানা চেয়েছি। আল্লাহর কাছে বলেছি, আয় আল্লাহ! আমি ভীষণ ক্ষুধার্ত এবং তৃষ্ণার্ত। ঘরে আজ আম্মুও নেই। আয় আল্লাহ, আমার খানা দেন।
আম্মু, আমি এই দুআ করে আমার কামরায় গিয়ে দেখি রুটি-হালুয়া রাখা রয়েছে। আমি ঐ রুটি-হালুয়া খেয়ে নিয়েছি। কিন্তু আম্মু জান! আজকের রুটিটা না খুব স্বাদের ছিল। এত মজা আর কোনো দিন পাইনি। মা ছেলের মুখ থেকে এই আশ্চর্য ঘটনা শুনে অবাক হলেন। ছেলেকে বুকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে লাগলেন এবং আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করলেন। আসলে এই খাবার ছিল জান্নাতি খাবার।
এই ঘটনা থেকেই কুতুবুদ্দীন রহ.-এর নামের সঙ্গে কাকি নামটি প্রসিদ্ধ হয়ে গেল (কাক অর্থ গম, তার থেকে কাকি) খাজা কুতুবুদ্দীন বখতিয়ার কাকি রহ.।
এই শিশু বড় হয়ে এত বড়মাপের শায়েখ ও বুযুর্গ হলেন, তখনকার বড় বড় মোঘল বাদশাহরা তার মুরিদ ছিল। লক্ষ লক্ষ মানুষ তার হাতে বায়আত গ্রহণ করে নিজেদেরকে সাচ্চা মানুষ বানিয়ে ছিলেন। আল্লাহর ওলী হয়েছেন। সুবহানাল্লাহ, বাবা-মায়ের সুষ্ঠু লালন-পালনে সন্তান কত বড় হতে পারে এবং বিশ্ববাসীর জন্য কত বড় সৌভাগ্যের কারণ হয়ে যায়; তার একটি উত্তম উদাহরণ হলো খাজা কুতুবুদ্দীন বখতিয়ার কাকি রহ.-এর আম্মা। সুতরাং আপনিও আপনার সন্তানকে ছোটকাল থেকেই আল্লাহর ওলী হওয়ার আখলাক শিক্ষা দিবেন; যাতে ছোটকাল থেকেই শিশুর মনে ভালো ভালো গুণের বীজ জন্মাতে থাকে।
📄 সন্তানকে আল্লাহর ওলীদের ঘটনা শুনানো
হাদীস শরীফে এসেছে, সন্তানদেরকে তিনটি জিনিস শিক্ষা দাও।
* আল্লাহর মুহাব্বাত শিক্ষা দাও।
* নবীর মুহাব্বাত এবং নবীর পরিবারের লোকদের প্রতি মুহব্বাত শিক্ষা দাও।
* কোরআনের মুহাব্বাত শিক্ষা দাও।
আর এর জন্য মা-ই হতে পারেন সর্বোৎকৃষ্ঠ শিক্ষক।
শিক্ষার পদ্ধতি এই হবে, আল্লাহর সাথে মুহাব্বাত সৃষ্টি হয় এরকম ঘটনাবলি শোনাতে হবে। নবীজীর জীবনের সুন্দর সুন্দর ঘটনাগুলো শোনাতে হবে এবং কোরআনকে ভালোবাসা ও কোরআন শিখা-শিখানোর বিষয়ে বিভিন্ন ঘটনা শোনাতে হবে। 'কাসাসুল কোরআন' বইতে সুন্দর সুন্দর ঘটনা রয়েছে। শিশুকে ঘুমানোর পূর্বে যখন গল্প শোনানোর প্রয়োজন হয়, তখন তা থেকে কিছু ঘটনা শোনানো যেতে পারে। এত করে এই শিশুটি যখন বড় হয়ে কোরআন পড়বে এবং ইসলাম সম্পর্কে জানবে; তো এরকম অনেক ঘটনা তার আগে থেকেই জানা থাকবে। নিজেকে আরো সুন্দর করে গড়তে সচেষ্ট থাকবে।
এমনিভাবে সাহাবায়ে কেরাম রাযিয়াল্লাহু আনহুমের জীবনী থেকে ঘটনা শোনানো এবং আউলিয়ায়ে কেরামের বিভিন্ন ঘটনা শোনানো; যাতে করে ছোট থেকেই তার মনে ভালো হবার স্বাদ জাগে। নেক ও সৎ হয়ে জীবনযাপনের ইচ্ছা শৈশবকাল থেকেই দানা বাঁধে।
📄 শিশুর অনুকরণ প্রিয় মানসিকতা
আরেকটি কথা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একটি নিষ্পাপ শিশু ছোটকালে তার আশপাশের অবস্থা থেকেই শিক্ষা লাভ করে। শিশুর মনে অনুকরণ ও জানার মানসিকতা এবং কিছু শেখার আগ্রহ বড়দেরকে দেখে দেখেই তৈরি হয়। বিষয়টি লক্ষ করলে আপনিও বুঝতে পারবেন। যখন একটি শিশু হাতে কিছু নিয়ে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকে। কেন? তার কারণ হলো, হাতে নিয়ে সে চুপটি মেরে ভাবে যে, এটা কি নরম না শক্ত। যখন তা বুঝে ফেলে তারপর তা তার মুখে নিয়ে যেতে চেষ্টা করে। এখন কথা হলো, কেন সে মুখে নেয় এবং সব কিছুই মুখে দেয় কেন? তার জবাব হলো, এই জিনিসটি তার কাছে নতুন ও আশ্চর্যের; তাই সে এই জিনিসটির স্বাদ ও তার অবস্থা বুঝতে চেষ্টা করে।
এভাবে একটি শিশু প্রত্যেক জিনিসের নরম ও শক্ত তালাশ করে সে চিনে নেয় যে, এই জিনিসটি কেমন। এটা আল্লাহ তাআলা জন্মগতভাবেই তার মাঝে চেনার একটি উপায় দিয়ে দিয়েছেন। এই জন্য শিশুরা আগুন দেখলে তা ধরতে চায় এবং পানিতেও নামতে চায়; এবং যে কোনো কিছু বুঝার জন্য মুখ পর্যন্ত নিয়ে যায়। তার মানে সে শিশু এবং তার সকল আচরণ শিশুসুলভ অবুঝ আচরণ।
আদর্শ পিতা-মাতা! আপনারা অবশ্যই লক্ষ করে থাকবেন, মা যখন রুটি বানান, ছোট ছোট শিশুরা তখন এক টুকরো খামিরা নিয়ে রুটি বানাতে শুরু করে। অনেক সময় মা-ই শিশুর আগ্রহ দেখে একটু আটা দিয়ে ছোট বেলুন-পিঁড়ি দিয়ে বসিয়ে দেন।
এমনিভাবে বাবা-মাকে যখন শিশু নামায পড়তে দেখে, তখন তাদের পাশে দাঁড়িয়ে সেও নামাযে দাঁড়িয়ে যায়। রুকু, সেজদা ঠিকমতো করতে পারে না; দেখা যায় রুকুতে একটু গিয়েছে আবার সেজদায় পড়ে আর মাথা উঠায় না। কিংবা এদিক সেদিক তাকায় বা দৌড়ে একটু খেলা করে এসে আবার সেজদায় লুটিয়ে পড়ে। তাদের এই অবুঝ আচরণ দেখে হাসি পায়। নিষেধ করলেও তারা মানে না। কারণ তারা ছোট। তারা অবুঝ। দেখাদেখি কিছু করাই তাদের মূল কাজ। এভাবে একদিন অনুকরণ-অনুসরণ করতে করতেই তারা বড় হয়। ভালো অনুকরণে ভালো হয় আর মন্দের অনুসরণে বেঁকে যায়।
📄 শিশুর প্রশ্নে বিরক্ত না হওয়া
শিশু কিছুটা বড় হলে তখন এমন একটা সময় আসে যখন আর সে কিছুই অহেতুক ভাঙ্গে না বা নষ্ট করে না। কিন্তু মা-বাবাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করতে থাকে। কিছু শিশু এমন যারা কম প্রশ্ন করে। আর কিছু শিশু আছে যারা খুব বেশি প্রশ্ন করে। এক্ষেত্রে যে সকল শিশুরা খুব বেশি প্রশ্ন করে তার অর্থ হলো, সে শিশুটি অনেক মেধাবী, তার জেহেন ভালো।
তখন মা-বাবার কাজ হলো, সন্তানের অধিক প্রশ্নের জবাব দিতে বিরক্ত না হওয়া। বরং শিশুর প্রশ্নের উত্তর দিয়ে তাকে তুষ্ট করার চেষ্টা করা। অনেক সময় এক-দুই উত্তর পেয়েও সে খ্যান্ত হয় না। বরং জবাবের উপর আরো প্রশ্ন (counter question) করতে থাকে। মা ধমক দেন, চুপ করো! খালি প্রশ্নের উপর প্রশ্ন।
সাবধান! এমনটি করবেন না। বরং উত্তর দিয়ে যান। আজকে আপনি তাকে ধমক দিয়ে চুপ করিয়ে দিলেন আর শিশুটিও চুপ হয়ে গেল। কিন্তু তার জেহেন থেকে প্রশ্নতো দূর হলো না। প্রশ্ন থেকেই যাবে। এখন সে করবে কি? সে চুপ করে বসে থাকবে আর একা একা নিজে তার উত্তর খুঁজতে থাকবে। এতে করে আপনি শয়তানকে সুযোগ করে দিলেন। এই প্রশ্নকে কেন্দ্র করে সে ভাববে আমার আম্মু কিছু জানে না। আম্মু না ইসলামের কিছু জানে, না দুনিয়ার কোনো খবর রাখে। এভাবে সে বসে বসে মায়ের বিরুদ্ধে ভাবতে থাকবে।
আপনি তার প্রশ্ন শুনে তার উপর রেগে ছিলেন। কিন্তু তার ফলাফল কী দাঁড়িয়েছে? সে অনেক কষ্ট পেয়েছে এবং একা একা বসে আপনার অক্ষমতা নিয়ে ভাবতে শুরু করেছে।
এখন কথা হলো, বাবাও যদি এমন করেন। আর বাবাদের স্বভাব চরিত্র সাধারণত এমনই হয়। এক দুইটা প্রশ্নের উত্তরতো সঠিকই দেন। তৃতীয়বার অধৈর্য হয়ে বলে বসেন, চুপ করো! অতো প্রশ্ন করো না, ইত্যাদি। যদি সত্যিই আপনি শিশুর সাথে এমন আচরণ করেন, তবে জেনে রাখুন; আপনি সন্তানের মনে আপনার সাথে বিরোধ সম্পর্কের বীজ বপন করলেন। মা-বাবাদের উচিত এরূপ বীজ সন্তানদের মনে বপন না করা। আর যদি এরূপ বীজ বপন করেন তবে স্মরণ রাখবেন, একদিন তা কষ্টদায়ক হওয়ার কারণে কাঁটাযুক্ত গাছে পরিণত হবে। আর কাঁটাযুক্ত গাছ যখন তার ভেতরে জন্ম নেবে, তখন মা-বাবার সাথে ভবিষ্যতে তার আচরণ কেমন বিষাক্ত হবে, তা সহজেই অনুমান করা যায়। এই জন্য শিশু যত প্রশ্নই করুক, সংক্ষেপে তার সন্তুষ্টজনক উত্তর দিতে থাকতে হবে এবং তার আশা ও জানার আগ্রহকে বহাল রাখতে হবে।
সৃষ্টিগতভাবে শিশুর ভেতরে জানার এমন আগ্রহ রাখা আছে যে, সে সকল বিষয়ে জানতে চায়। তাই এই জিজ্ঞাসাকে শিশুর জন্মগত অভ্যাস মনে করে, তার সকল প্রশ্নের জবাব দিতে হবে। আর যদি কখনো মনে করেন, শিশু এই উত্তরে তৃপ্ত হয়নি। তবে স্ত্রীর সাথে (discuss) পরামর্শ করেন। না-হয় কোনো বয়জেষ্ঠ মুরব্বীর সাথে (discuss) আলোচনা করেন। আর যদি তাও না হয় তখন নিজের শায়খ বা কোনো বিজ্ঞ আলেমের নিকট তার উত্তর জিজ্ঞাসা করে নিন। সঠিক উত্তর পেয়ে তখন সন্তানকে কাছে টেনে নিয়ে বলুন, আব্বু! তুমি আমাকে এই প্রশ্নটি করেছিলে; তখনতো আমি তার উত্তর দিতে পারিনি। আসলে তার সঠিক উত্তর হলো এই...। এভাবে আপনি যখন শিশুকে তার সকল প্রশ্নের সন্তুষ্টজনক উত্তর দিতে থাকবেন; তখন শিশু মনে করবে, আমার আম্মু যা বলে তা সঠিক এবং তা আমাকে মানতে হবে। এভাবে সন্তান তার পিতা-মাতার প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও বাধ্যগত হয়ে গড়ে ওঠে। তার মাথায় একথা বসে যায়, আম্মু যা বলেন তা একেবারে সঠিক এবং সিদ্ধান্তমূলক কথা। আর আমার কাজ হলো তা মেনে চলা।