📄 আলেম উলামাকে গালি দেওয়া বা অবজ্ঞা করা
কোন সাধারণ মুসলমানকেও গালি দেয়া, তুচ্ছ তাচ্ছিল্য ও অপমান করা নাজায়েয ও কবীরা গুনাহ। আর আলেমকে গালি দেয়া আরও ভয়াবহ অন্যায় ও কবীরা গুনাহ।
সুতরাং কোন আলেমদেরকে আলেম হওয়ার কারণে এবং দ্বীনী ইলম তথা কুরআন সুন্নাহ ও শরীয়তের ধারক বাহক হওয়ার কারণে তাদের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করলে অথবা তাদেরকে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করার উদ্দেশ্যে গালিগালাজ করলে বা অপমান অপদস্ত করলে সে কাফের হয়ে যাবে।
ফলে, কালেমা পড়ে নতুন করে মুসলমান হতে হবে। আর বিবাহিত হলে বিবাহ দোহরিয়ে নিতে হবে।
যদি সে মুসলমান হতে অস্বীকার করে তাহলে তাকে দেশান্তরের শাস্তি দেয়া যাবে।
আর যোক্তিক কোন কারণ ব্যতীত দুনিয়াবী উদ্দেশ্যে যেমন: ব্যক্তিগত শত্রুতা ইত্যাদির কারণে কোন আলেমকে গালিগালাজ, তুচ্ছতাচ্ছিল্য বা অপমান করলে সে ফাসেক হয়ে যাবে এবং ভবিষ্যতে তার ব্যাপারে কুফরীর আশংকাও রয়েছে।
এক্ষেত্রেও তার কর্তব্য হলো, ইস্তেগফার করা এবং অন্তর থেকে আলেম বিদ্বেষ দূর করে তাদেরকে ওয়ারিশে নবী হিসাবে সম্মান ও ইহতেরাম করা।
সূত্র: বোখারী শরীফ ১/১২, মুসলিম শরীফ ১/৫৮, রদ্দুল মোহতার ৬/৩৫৮, ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/২৭, ইমদাদুল ফাতাওয়া ৫৩৯৯, ফাতাওয়া উসমানী ১/৮৪, আহসানুল ফাতাওয়া ১/৩৮, কিফায়েতুল মুফতী ১/৫৪
📄 পীর-ওলীগণ সন্তান দিতে পারে বলে বিশ্বাস করা
সন্তান দেয়া, ধনী বানানো এবং বিপদ থেকে উদ্ধার করা ইত্যাদি আল্লাহর কাজ। অর্থাৎ এগুলো শুধু আল্লাহ তা'আলার সাথেই সীমাবদ্ধ। কোন নবী-রাসূলের হাতে পর্যন্ত এ ধরণের ক্ষমতা দেয়া হয়নি। সুতরাং কোন পীর-ওলী সন্তান দিতে পারে কি-না এ প্রশ্নই উঠতে পারে না। এরূপ বিশ্বাস রাখা সম্পূর্ণ শিরকী। যদি কেউ এরূপ দাবী করে যে, সে সন্তান দিতে পারে, তাহলে সে দাজ্জাল বলে প্রামাণিত হবে।
কারণ, হাদীসে এসেছে, কিয়ামতের পূর্বে আসল দাজ্জালের আত্মপ্রকাশের পূর্বে তার ফিল্ড প্রস্তুত করার জন্য অনেক দাজ্জালের আবির্ভাব ঘটবে। তারা যত বড় আশ্চর্য জিনিষ দেখাক না কেন, তাদের ভক্ত হওয়া যাবে না এবং তাদের দরবারেও যাওয়া যাবে না।
তবে কোন বুযুর্গ কারো সন্তান হওয়ার জন্য আল্লাহর দরবারে দু'আ করতে পারেন। তেমনিভাবে, কোন পারদর্শী ডাক্তার চিকিৎসা করতে পারেন। তাতে আল্লাহ চাইলে কোন ব্যক্তির সন্তান লাভ হতে পারে। সন্তান লাভ হলে বুঝতে হবে সেটা আল্লাহই দিয়েছেন। ঐ বুযুর্গ বা ডাক্তারের সন্তান দেয়ার কোন ক্ষমতা নেই।
সূত্র: সূরা শুরা, আয়াত:-৪৯
📄 পীরের নামে পশু যবেহ করা
কোন মাযারে বা কোন পীরের নামে বা তাদের মৃত্যু দিবসে কোন নির্দিষ্ট দিনে প্রতি বছর ওরশ করা, ঈসালে ছাওয়াব ও শিরনী করা নাজায়েয ও বিদ'আত। তদুপরি, কোন পীরের নামে, খাজা বাবার নামে অথবা আল্লাহ ব্যতীত অন্য যে কোন মানুষ বা প্রাণীর নামে জানোয়ার যবেহ করলে তা খাওয়া সম্পূর্ণ হারাম। কারণ, গাইরুল্লাহর নামে জানোয়ার যবেহ করলে তা মুর্দা সমতুল্য। আর মুর্দা খাওয়া হারাম। সুতরাং আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে উৎসর্গকৃত প্রাণীর গোশত খাওয়া হারাম হবে। এমনকি যবেহ করার সময় আল্লাহর নামের সাথে মিলিত করে অন্য কিছুর নাম উল্লেখ করলে সেটা খাওয়াও হারাম। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তা'আলা বলেন, মুর্দা, প্রবাহিত রক্ত, শুকরের গোশত ও যে প্রাণী আল্লাহ ব্যতীত অন্যের নামে যবেহ করা হয়েছে, তা ভক্ষণ করা তোমাদের জন্য সম্পূর্ণ হারাম করা হলো। সূত্র: সূরা মায়িদা, আয়াত-৩
অন্য আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেন, "যে সমস্ত প্রাণী আল্লাহর নামে যবেহ করা না হয়, অর্থাৎ যবেহ করার সময় আল্লাহর নাম উল্লেখ করা হয়নি, সেগুলোর গোশত তোমরা ভক্ষণ করো না।” সূত্র: সুরা আনয়াম, আয়াত-১১৯
আয়াতদ্বয় দ্বারা বুঝা গেল, কোন প্রাণী গাইরুল্লাহর নামে যবেহ করলে, তার গোশত খাওয়া মুসলমানদের জন্য সম্পূর্ণ হারাম। সুতরাং বিভিন্ন মাযারে বা পীরের নামে জানোয়ার যবেহ করে শিরনী বিতরণ করা সম্পূর্ণ নাজায়েয। এতে কোন মুসলমানের অংশ গ্রহণ করা বৈধ নয়。
📄 পীর/ফকীরকে সিজদা করা
আমাদের দেশে বর্তমানে পীর-মুরীদীর ব্যবসা বেশ জমজমাট। তাইতো দেখা যায়, পীরের নামে কতিপয় অসাধু, ভন্ড, প্রতারক দেশের বিভিন্ন স্থানে পীরালী ব্যবসা খুলে বসেছে। তারা কতিপয় দালাল নিয়োগ করে রেখেছে, যারা পীরের গুণ কীত্তন করে মুরীদ সংগ্রহের কাজ করে। এছাড়া, তারা মুরীদদেরকে দরবারে প্রবেশের আদব শিখায় যে, মাথা ঝুঁকিয়ে পীর বাবার দরবারে প্রবেশকরতে হবে এবং বাবার নৈকট্য পেতে হলে তাকে সিজদাও করতে হবে।
অথচ আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে সিজদা করা হারাম। যে উদ্দেশ্যেই তা করা হোকনা কেন সেটা হারাম হিসাবেই গণ্য হবে। কারণ, কাউকে সিজদা করার দুটি উদ্দেশ্য হতে পারে। (১) সিজদায়ে তাজিমী তথা সম্মান সূচক সিজদা করা। (২) সিজদায়ে ইবাদত তথা ইবাদতের উদ্দেশে সিজদা করা।
আর কোন মাখলুককে করা উভয় প্রকার সিজদাই হারাম। উপরন্তু, দ্বিতীয় প্রকার সিজদা কুফরও বটে।
আর যদি কাউকে মাধ্যম বানিয়ে আল্লাকে সিজদা করা জায়েয হতো, তাহলে এর সবচেয়ে বেশী হকদার ছিলেন রাসূলে আকরাম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। অথচ কুরআন হাদীসের কোথাও এতদসংক্রান্ত কোন বর্ণনা নেই। শুধু তাই নয়; বরং এ ব্যাপারে প্রিয়নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কঠোর ভাবে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে গেছেন। সুতরাং গাইরুল্লাকে সিজদা করার ব্যাপারে যত যুক্তিই দেয়া হোকনা কেন সবগুলো শয়তানী যুক্তি। এর দ্বারা হারাম ও কুফরী কাজ কখনো হালাল হবেনা।
সূত্র: সহীহ মুসলিম হাদীস নং ৫৩২, মুসনাদে আহমদ হাদীস নং ৭৩৫৮, রাহে সুন্নত পৃ: ২৮১