📄 আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া‘তা‘আলা সাধ্যের বাইরে কিছু চাপিয়ে দেন না
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: لَمَّا نَزَلَتْ عَلَى رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: لِلَّهِ مَا فِي السَّمَوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَإِن تُبْدُواْ مَا فِي أَنفُسِكُمْ أَوْ تُخْفُوهُ يُحَاسِبْكُم بِهِ اللَّهُ فَيَغْفِرُ لِمَن يَشَاءُ وَيُعَذِّبُ مَن يَشَاءُ وَاللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ ﴾ [البقرة: ٢٨٤]، قَالَ: فَاشْتَدَّ ذَلِكَ عَلَى أَصْحَابِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَأَتَوْا رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ ثُمَّ بَرَكُوا عَلَى الرُّكَبِ، فَقَالُوا: أَيْ رَسُولَ اللهِ، كُلَّفْنَا مِنَ الْأَعْمَالِ مَا نُطِيقُ الصَّلَاةَ وَالصَّيَامَ وَالْجِهَادَ وَالصَّدَقَةَ، وَقَدْ أُنْزِلَتْ عَلَيْكَ هَذِهِ الْآيَةُ وَلَا نُطِيقُهَا، قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَتُرِيدُونَ أَنْ تَقُولُوا كَمَا قَالَ أَهْلُ الْكِتَابَيْنِ مِنْ قَبْلِكُمْ سَمِعْنَا وَعَصَيْنَا؟ بَلْ قُولُوا: سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ » ، قَالُوا : سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ، فَلَمَّا اقْتَرَأَهَا الْقَوْمُ، ذَلَّتْ بِهَا أَلْسِنَتُهُمْ، فَأَنْزَلَ اللهُ فِي إِثْرِهَا: ءَامَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْهِ مِن رَّبِّهِ، وَالْمُؤْمِنُونَ كُلُّ ءَامَنَ بِاللَّهِ وَمَلَائِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِّن رُّسُلِهِ وَقَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ ﴾ [البقرة: ٢٨٥]، فَلَمَّا فَعَلُوا ذَلِكَ نَسَخَهَا اللَّهُ تَعَالَى، فَأَنْزَلَ اللهُ عَزَّ وَجَلَّ: لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُсْعَهَا لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا) [البقرة: ٢٨٦] ، قَالَ: نَعَمْ" رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِنَا) [البقرة: ٢٨٦] " قَالَ: نَعَمْ " رَبَّنَا وَلَا تُحَمِّلْنَا مَا لَا طَاقَةَ لَنَا بِهِ، وَاعْفُ عَنَّا وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا أَنتَ مَوْلَانَا فَانصُرْنَا عَلَى الْقَوْمِ الْكَافِرِينَ ﴾ [البقرة: ٢٨٦] "قَالَ: نَعَمْ».
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর যখন এ আয়াত নাযিল হয়, "আল্লাহর জন্যই যা রয়েছে আসমানসমূহে এবং যা রয়েছে জমিনে। আর তোমরা যদি প্রকাশ কর যা তোমাদের অন্তরে রয়েছে অথবা গোপন কর, আল্লাহ সে বিষয়ে তোমাদের হিসাব নেবেন। অতঃপর তিনি যাকে চান ক্ষমা করবেন, আর যাকে চান আযাব দেবেন। আর আল্লাহ সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান”। [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৮৪], তখন বিষয়টি সাহাবীদের কাছে খুবই কঠিন মনে হলো। তাই সবাই রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসলেন এবং হাঁটু গেড়ে বসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সালাত, সাওম, জিহাদ ও সদকা প্রভৃতি যে সমস্ত আমল আমাদের সামর্থ্যানুযায়ী ছিল এ যাবত আমাদেরকে সেগুলোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এ আয়াত নাযিল হয়েছে। এ বিষয়টি তো আমাদের ক্ষমতার বাইরে। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "আহলে কিতাব; ইয়াহুদী ও খৃস্টানের মত তোমরাও কি এমন কথা বলবে যে, শুনলাম কিন্তু মাননাম না; বরং তোমরা বলো, শুনলাম ও মানলাম। হে আমাদের রব! আমরা তোমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করি, আর তুমিই আমাদের শেষ প্রত্যাবর্তন স্থল”। রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এ নির্দেশ শুনে সাহাবীরা বললেন, আমরা শুনেছি ও মেনেছি। হে আমাদের রব! আমরা তোমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি, তুমিই আমাদের শেষ প্রত্যাবর্তনস্থল। বর্ণনাকারী বলেন, সাহাবীদের সকলে এ আয়াত পাঠ করলেন এবং বিনয়ী হয়ে মনে-প্রাণে তা গ্রহণ করে নিলেন। অনন্তর আল্লাহ তা'আলা এ আয়াত নাযিল করেন, "রাসূল তার নিকট তার রবের পক্ষ থেকে নাযিলকৃত বিষয়ের প্রতি ঈমান এনেছে, আর মুমিনগণও। প্রত্যেকে ঈমান এনেছে আল্লাহর উপর, তাঁর ফিরিশতাকুল, কিতাবসমূহ ও তাঁর রাসূলগণের উপর, আমরা তাঁর রাসূলগণের কারও মধ্যে তারতম্য করি না। আর তারা বলে, আমরা শুনলাম এবং মানলাম। হে আমাদের রব! আমরা আপনারই ক্ষমা প্রার্থনা করি, আর আপনার দিকেই প্রত্যাবর্তনস্থল”। [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৮৫], যখন তারা সর্বতোভাবে আনুগত্য জ্ঞাপন করলেন তখন আল্লাহ উক্ত আয়াতের হুকুম রহিত করে নাযিল করলেন, "আল্লাহ কোনো ব্যক্তিকে তার সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না। সে যা অর্জন করে তা তার জন্যই এবং সে যা কামাই করে তা তার উপরই বর্তাবে। হে আমাদের রব! আমরা যদি ভুলে যাই, অথবা ভুল করি তাহলে আপনি আমাদেরকে পাকড়াও করবেন না”। [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৮৬], আল্লাহ বললেন, হ্যাঁ, মেনে নিলাম। আরো নাযিল হলো, "হে আমাদের রব, আমাদের উপর বোঝা চাপিয়ে দেবেন না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর চাপিয়ে দিয়েছেন”। [সূরা আল- বাকারাহ, আয়াত: ২৮৬], আল্লাহ বললেন, হ্যাঁ, মেনে নিলাম। আরো নাযিল হলো, "হে আমাদের রব, আপনি আমাদেরকে এমন কিছু বহন করাবেন না, যার সামর্থ্য আমাদের নেই। আর আপনি আমাদেরকে মার্জনা করুন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন, আর আমাদের ওপর দয়া করুন। আপনি আমাদের অভিভাবক। অতএব আপনি কাফির সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে আমাদেরকে সাহায্য করুন”। আল্লাহ বললেন, হ্যাঁ, মেনে নিলাম”। সহীহ, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১২৫।
عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ: لَمَّا نَزَلَتْ هَذِهِ الْآيَةُ: ﴿وَإِن تُبْدُوا مَا فِي أَنفُسِكُمْ أَوْ تُخْفُوهُ يُحَاسِبْكُم بِهِ اللَّهُ ﴾ [البقرة: ٢٨٤]، قَالَ: دَخَلَ قُلُوبَهُمْ مِنْهَا شَيْءٌ لَمْ يَدْخُلْ قُلُوبَهُمْ مِنْ شَيْءٍ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «قُولُوا: سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا وَسَلَّمْنَا». قَالَ: فَأَلْقَى اللَّهُ الْإِيمَانَ فِي قُلُوبِهِمْ، فَأَنْزَلَ اللهُ تَعَالَى: لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا لَهَا مَا كَسَبَتْ وَعَلَيْهَا مَا اكْتَسَبَتْ رَبَّنَا لَا تُؤَاخِذْنَا إِن نَّسِينَا أَوْ أَخْطَأْنَا) [البقرة: ٢٨٦] ، قَالَ: «قَدْ فَعَلْتُ». رَبَّنَا وَلَا تَحْمِلْ عَلَيْنَا إِصْرًا كَمَا حَمَلْتَهُ عَلَى الَّذِينَ مِن قَبْلِنَا) [البقرة: ٢٨٦] قَالَ: «قَدْ فَعَلْتُ» . وَاغْفِرْ لَنَا وَارْحَمْنَا أَنتَ مَوْلَيْنَا ﴾ [البقرة: ٢٨٦] قَالَ: «قَدْ فَعَلْتُ».
ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওপর যখন এ আয়াত নাযিল হয়, "আর তোমরা যদি প্রকাশ করো যা তোমাদের অন্তরে রয়েছে অথবা গোপন করো, আল্লাহ সে বিষয়ে তোমাদের হিসাব নেবেন”। [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৮৪], এতে সাহাবীগণ খুবই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লেন। আর কোনো বিষয়ে তারা এমন উদ্বিগ্ন হন নি। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, বরং তোমরা বলো, শুনলাম, আনুগত্য স্বীকার করলাম এবং মেনে নিলাম। ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন, আল্লাহ তা'আলা তাদের অন্তরে ঈমান ঢেলে দিলেন। তিনি নাযিল করলেন, "আল্লাহ কোনো ব্যক্তিকে তার সামর্থ্যের বাইরে দায়িত্ব দেন না। সে যা অর্জন করে তা তার জন্যই এবং সে যা কামাই করে তা তার উপরই বর্তাবে। হে আমাদের রব! আমরা যদি ভুলে যাই, অথবা ভুল করি তাহলে আপনি আমাদেরকে পাকড়াও করবেন না”। [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৮৬], আল্লাহ বললেন, "অবশ্যই আমি তা করলাম"। আরো নাযিল হলো, "হে আমাদের রব, আমাদের উপর বোঝা চাপিয়ে দেবেন না, যেমন আমাদের পূর্ববর্তীদের উপর চাপিয়ে দিয়েছেন”। [সূরা আল- বাকারাহ, আয়াত: ২৮৬], আল্লাহ্ বললেন, "অবশ্যই তা করলাম"। আল্লাহ আরো ঘোষণা করলেন, আর আপনি আমাদেরকে মার্জনা করুন এবং আমাদেরকে ক্ষমা করুন, "আর আমাদের ওপর দয়া করুন। আপনি আমাদের অভিভাবক”। [সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ২৮৬], আল্লাহ্ বললেন, "অবশ্যই তা করলাম”।
সহীহ, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১২৬।
হাদীসের বাণী, دَخَلَ قُلُوبَهُمْ مِنْهَا شَيْءٌ এখানে شَيْءٌ এ নসব যোগে অর্থ হবে এ আয়াতের কারণে সাহাবীগণ খুবই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লেন। অথবা شَيْءٌ এ রফ'আ হবে। তখন এর অর্থ হবে এ আয়াতের কারণে তাদের অন্তরে অনেক বড় চিন্তা ঢুকল। আর রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী لَمْ يَدْخُلُ قُلُوبَهُمْ مِنْ شَيْءٍ বাক্যটি সিফাত। অর্থাৎ এমন আর কোনো উদ্বিগ্ন বিষয় তাদের অন্তরে প্রবেশ করে নি।
📄 আল্লাহ সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখা তাঁর ভীতি ও তাঁর কাছে প্রত্যাশা সম্বলিত
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: «يَخْرُجُ مِنَ النَّارِ أَرْبَعَةُ فَيُعْرَضُونَ عَلَى اللَّهِ، فَيَلْتَفِتُ أَحَدُهُمْ، فَيَقُولُ: أَيْ رَبِّ، إِذْ أَخْرَجْتَنِي مِنْهَا فَلَا تُعِدُنِي فِيهَا، فَيُنْجِيهِ اللهُ مِنْهَا».
আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "চার ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে বের করে আল্লাহর সম্মুখে উপস্থিত করা হবে। অতঃপর তাদের এক ব্যক্তি ফিরে তাকাবে এবং বলবে, হে আমরা রব! আপনি যখন একবার আমাকে তা থেকে বের করেছেন, পুনরায় আমাকে সেখানে নিক্ষেপ করবেন না। ফলে আল্লাহ তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেবেন”। সহীহ, সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৯২।
عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «يَخْرُجُ رَجُلَانِ مِنَ النَّارِ، فَيُعْرَضَانِ عَلَى اللَّهِ، ثُمَّ يُؤْمَرُ بِهِمَا إِلَى النَّارِ، فَيَلْتَفِتُ أَحَدُهُمَا فَيَقُولُ: يَا رَبِّ، مَا كَانَ هَذَا رَجَائِي، قَالَ: وَمَا كَانَ رَجَاؤُكَ؟، قَالَ: كَانَ رَجَائِي إِذْ أَخْرَجْتَنِي مِنْهَا، أَنْ لَا تُعِيدَنِي، فَيَرْحَمُهُ اللَّهُ فَيُدْخِلُهُ الْجَنَّةَ».
আনাস ইবন মালিক রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "দু ব্যক্তিকে জাহান্নাম থেকে বের করে আল্লাহর সম্মুখে উপস্থিত করা হবে। অতঃপর তাদেরকে জাহান্নামে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হবে। তাদের এক ব্যক্তি ফিরে চাইবে এবং বলবে, হে আমরা রব! এটি আমার আশা ছিলো না। তখন তাকে জিজ্ঞেস করা হবে, তাহলে তোমার কী আশা ছিলো? সে বলবে, আমার আশা ছিলো আপনি যখন একবার আমাকে তা থেকে বের করেছেন, পুনরায় আমাকে সেখানে নিক্ষেপ করবেন না। ফলে আল্লাহ তাকে রহমত করবেন এবং জান্নাতে প্রবেশ করাবেন”। সহীহ, ইবন হিব্বান, হাদীস নং ৬৩২।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، قَالَ: «إِنَّ اللَّهَ جَلَّ وَعَلَا يَقُولُ: أَنَا عِنْدَ ظَنَّ عَبْدِي بِي، إِنْ ظَنَّ خَيْرًا فَلَهُ، وَإِنْ ظَنَّ شَرًّا فَلَهُ».
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "নিশ্চয়ই আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, "আমি আমার বান্দাহর ধারণা মতো। বান্দা যদি আমার সম্পর্কে ভালো ধারণা করে তবে আমি তার সাথে ভালো (ব্যবহার) করি, আর বান্দা যদি আমার সম্পর্কে মন্দ ধারণা রাখে তাহলে তার জন্য মন্দ ফয়সালা করি”। সহীহ, ইবন হিব্বান, হাদীস নং ৬৩৯; মুসনাদ আহমদ, হাদীস নং ৯০৭৬।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَرْوِي عَنْ رَبِّهِ جَلَّ وَعَلَا، قَالَ: «وَعِزَّتِي لَا أَجْمَعُ عَلَى عَبْدِي خَوْفَيْنِ وَأَمْنَيْنِ، إِذَا خَافَنِي فِي الدُّنْيَا أَمَّنْتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ، وَإِذَا أَمِنَنِي فِي الدُّنْيَا أَخَفْتُهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ».
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহান আল্লাহ তা'আলা থেকে বর্ণনা করেছেন, আল্লাহ তা'আলা বলেছেন, "আমার ইয্যতের কসম! আমি আমার বান্দাহর ওপর (দুনিয়া ও আখিরাতে) ভীতি ও নিরাপদ দুটো একত্রিত করবো না। সে যদি দুনিয়াতে আমাকে ভয় করে আমি তাকে কিয়ামতে নিরাপদ রাখবো। আর সে যদি দুনিয়াতে নিরাপদে থাকে তবে কিয়ামতে তাকে আমি ভয়ে রাখবো”। হাসান, ইবন হিব্বান, হাদীস নং ৬৪০; বাযযার- কাশফুল আসতার- হাদীস নং ৩২৩৩, ৩২৩২।
📄 আল্লাহভীতি ও তাকওয়া সম্পর্কে
عَنْ أُمَّ العَلَاءِ، امْرَأَةً مِنَ الأَنْصَارِ بَايَعَتِ النَّبِيَّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ أَخْبَرَتْهُ: أَنَّهُ اقْتُسِمَ المُهَاجِرُونَ قُرْعَةً فَطَارَ لَنَا عُثْمَانُ بْنُ مَظْعُونٍ، فَأَنْزَلْنَاهُ فِي أَبْيَاتِنَا، فَوَجِعَ وَجَعَهُ الَّذِي تُوُفِّيَ فِيهِ، فَلَمَّا تُوُفِّيَ وَغُسَلَ وَكُفَّنَ فِي أَثْوَابِهِ، دَخَلَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقُلْتُ: رَحْمَةُ اللَّهِ عَلَيْكَ أَبَا السَّائِبِ، فَشَهَادَتِي عَلَيْكَ : لَقَدْ أَكْرَمَكَ اللَّهُ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: وَمَا يُدْرِيكِ أَنَّ اللَّهَ قَدْ أَكْرَمَهُ؟ فَقُلْتُ: بِأَبِي أَنْتَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، فَمَنْ يُكْرِمُهُ اللَّهُ؟ فَقَالَ: أَمَّا هُوَ فَقَدْ جَاءَهُ اليَقِينُ، وَاللَّهِ إِنِّي لَأَرْجُو لَهُ الخَيْرَ، وَاللَّهِ مَا أَدْرِي، وَأَنَا رَسُولُ اللَّهِ، مَا يُفْعَلُ بي» قَالَتْ: فَوَاللَّهِ لَا أُزَكِّي أَحَدًا بَعْدَهُ أَبَدًا.
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে বায়'আতকারী আনসারী মহিলা উম্মে 'আলা রাদিয়াল্লাহু 'আনহা থেকে বর্ণিত, (হিজরতের পর) লটারির মাধ্যমে মুহাজিরদের বণ্টন করা হচ্ছিলো। তাতে উসমান ইবন মায'ঊন রাদিয়াল্লাহু 'আনহু আমাদের ভাগে পড়লেন। আমরা (সাদরে) তাকে আমাদের বাড়িতে স্থান দিলাম। এক সময় তিনি সে রোগে আক্রান্ত হলেন, যাতে তার মৃত্যু হলো। তিনি মারা গেলে যখন তাকে গোসল করিয়ে কাফনের কাপড় পরানো হলো, তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম প্রবেশ করলেন। তখন আমি বললাম, হে আবু সায়িব! আপনার ওপর আল্লাহ্র রহমত বর্ষিত হোক। আপনার সম্বন্ধে আমার সাক্ষ্য এই যে, আল্লাহ আপনাকে সম্মানিত করেছেন। তখন রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তুমি কি করে জানলে যে, আল্লাহ তাকে সম্মানিত করেছেন?” আমি বললাম, আমার পিতা আপনার জন্য কুরবান, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! তাহলে আল্লাহ আর কাকে সম্মানিত করবেন? রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, "তার ব্যাপার তো এই যে, নিশ্চয় তার মৃত্যু হয়েছে এবং আল্লাহর কসম! আমি তার জন্য মঙ্গল কামনা করি। আল্লাহর কসম! আমি জানি না আমার সঙ্গে কী ব্যবহার করা হবে; অথচ আমি আল্লাহর রাসূল”। সেই আনসারী মহিলা বললেন, আল্লাহর কসম! এরপর আর কোনো দিন আমি কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে পবিত্র বলে মন্তব্য করব না। সহীহ, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ১২৪৩।
📄 আল্লাহর রহমত তাঁর আযাবের চেয়ে প্রশস্ত
عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الخدري رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: أَنَّ رَجُلًا كَانَ قَبْلَكُمْ، رَغَسَهُ اللَّهُ مَالًا، فَقَالَ لِبَنِيهِ لَمَّا حُضِرَ : أَيَّ أَبٍ كُنْتُ لَكُمْ؟ قَالُوا: خَيْرَ أَبٍ، قَالَ: فَإِنِّي لَمْ أَعْمَلْ خَيْرًا قَطُّ، فَإِذَا مُتُّ فَأَحْرِقُونِي، ثُمَّ اسْحَقُونِي، ثُمَّ ذَرُونِي فِي يَوْمٍ عَاصِفٍ، فَفَعَلُوا، فَجَمَعَهُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ، فَقَالَ: مَا حَمَلَكَ؟ قَالَ: مَخَافَتُكَ، فَتَلَقَّاهُ بِرَحْمَتِهِ».
আবু সা'ঈদ আল-খুদরী রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "তোমাদের পূর্ববর্তী যুগে এক ব্যক্তি - আল্লাহ তাকে প্রচুর ধন-সম্পদ দান করেছিলেন- যখন তার মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলো তখন সে তার ছেলেদেরকে একত্রিত করে জিজ্ঞাসা করলো, আমি তোমাদের কেমন পিতা ছিলাম? তারা উত্তর দিলো, আপনি আমাদের উত্তম পিতা ছিলেন। সে বললো, আমি জীবনে কখনও কোনো ভালো আমল করতে পারি নি। আমি যখন মারা যাবো তখন তোমরা আমার লাশকে জ্বালিয়ে ভস্ম করে গুঁড়াগুলো রেখে দিও এবং প্রচণ্ড ঝড়ের দিনে ঐ ভস্ম বাতাসে উড়িয়ে দিও। সে মারা গেলে ছেলেরা অসিয়াত অনুযায়ী কাজ করলো। আল্লাহ তার ভস্ম একত্রিত (পুনঃজীবিত) করে জিজ্ঞাসা করলেন, এমন অদ্ভুত অসিয়াত করতে কে তোমাকে উদ্বুদ্ধ করল? সে জবাব দিলো, হে আল্লাহ! তোমার শাস্তির ভয়। ফলে আল্লাহর রহমত তাকে ঢেকে নিলো”।
মুত্তাফাকুন 'আলাইহি, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩৪৭৮; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৭৫৭।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বাণী, رَغَسَ এর অর্থ আল্লাহ তাকে ধন-সম্পদ দান করেছেন এবং তাতে বরকত দিয়েছেন। رَفَّس অর্থ বরকত, বৃদ্ধি ও কল্যাণ।
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাণী, اسْحَقُونِي শব্দটি السحق থেকে নির্গত। এর অর্থ চূর্ণ বিচূর্ণ করা, গুঁড়া করা।
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: قَالَ رَجُلٌ لَمْ يَعْمَلْ خَيْرًا قَطُّ : فَإِذَا مَاتَ فَحَرَّقُوهُ وَاذْرُوا نِصْفَهُ فِي البَر، وَنِصْفَهُ فِي البَحْرِ، فَوَاللَّهِ لَئِنْ قَدَرَ اللَّهُ عَلَيْهِ لَيُعَذِّبَنَّهُ عَذَابًا لَا يُعَذِّبُهُ أَحَدًا مِنَ العَالَمِينَ، فَأَمَرَ اللهُ البَحْرَ فَجَمَعَ مَا فِيهِ، وَأَمَرَ البَرَّ فَجَمَعَ مَا فِيهِ، ثُمَّ قَالَ: لِمَ فَعَلْتَ؟ قَالَ: مِنْ خَشْيَتِكَ وَأَنْتَ أَعْلَمُ، فَغَفَرَ لَهُ».
আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "এক ব্যক্তি (জীবনেও) কোনো ভালো আমল করে নি। মৃত্যুর সময় সে বলল, মারা যাওয়ার পর তোমরা তাকে পুড়িয়ে ফেলো। আর অর্ধেক স্থলে আর অর্ধেক সাগরে ছড়িয়ে দাও। সে আরো বলল, আল্লাহর কসম! আল্লাহ যদি তাকে পেয়ে যান তাহলে অবশ্যই তাকে এমন শাস্তি দেবেন, যা জগতের আর কাউকে দেবেন না। তারপর আল্লাহ সাগরকে হুকুম দিলে সাগর এর মধ্যকার অংশকে একত্রিত করল। স্থলকে হুকুম দিলে সেও তার মধ্যকার অংশ একত্রিত করল। তারপর আল্লাহ বললেন, তুমি কেন এরূপ করলে? সে উত্তর বলল, তোমার ভয়ে। আর তুমি অধিক জ্ঞাত। এর প্রেক্ষিতে আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলেন”।
মুত্তাফাকুন 'আলাইহি, মুয়াত্তা মালিক, হাদীস নং ৫২; সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৭৫০৬; সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ২৭৫৬।
عَنْ عُقْبَةَ أنه قال الحُذَيْفَةَ: أَلَا تُحَدَّثُنَا مَا سَمِعْتَ مِنَ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ؟ قَالَ: سَمِعْتُهُ يَقُولُ: «إِنَّ رَجُلًا حَضَرَهُ المَوْتُ، لَمَّا أَيْسَ مِنَ الحَيَاةِ أَوْصَى أَهْلَهُ: إِذَا مُتُّ فَاجْمَعُوا لِي حَطَبًا كَثِيرًا، ثُمَّ أَوْرُوا نَارًا ، حَتَّى إِذَا أَكَلَتْ لَحْمِي، وَخَلَصَتْ إِلَى عَظْمِي، فَخُذُوهَا فَاطْحَنُوهَا فَذَرُونِي فِي اليَمِّ فِي يَوْمٍ حَارٌ، أَوْ رَاحٍ، فَجَمَعَهُ اللهُ فَقَالَ لِمَ فَعَلْتَ؟ قَالَ: خَشْيَتَكَ، فَغَفَرَ لَهُ، قَالَ عُقْبَةُ: وَأَنَا سَمِعْتُهُ يَقُولُ.
উকবা ইবন 'আমের রাদিয়াল্লাহু 'আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি হুযাইফা রাদিয়াল্লাহু 'আনহুকে বললেন, আপনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে যা শুনেছেন তা থেকে কিছু বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, "এক ব্যক্তির যখন মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এলো এবং সে জীবন থেকে নিরাশ হয়ে গেলো তখন সে তার পরিবার পরিজনকে অসিয়াত করল, যখন আমি মরে যাব তখন তোমরা আমার জন্য অনেক লাকড়ি জমা করে (তার ভিতরে আমাকে রেখে) আগুনে জ্বালিয়ে দিও। আগুন যখন আমার গোশত জ্বালিয়ে পুড়িয়ে হাড় পর্যন্ত পৌঁছে যাবে তখন (অদগ্ধ) হাড়গুলি পিষে ছাই করে নিও। তারপর সেই ছাই গরমের দিন কিংবা প্রচণ্ড বাতাসের দিনে সাগরে ভাসিয়ে দিও (তারা তাই করল)। আল্লাহ তা'আলা (তার ভস্মীভূত দেহ একত্রিত করে) জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি এমন কেন করলে? সে বলল, আপনার ভয়ে। আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলেন”। উকবা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু বলেন, আর আমিও তাকে তা বলতে শুনেছি। সহীহ, সহীহ বুখারী, হাদীস নং ৩৪৭৯।