📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 পুনরাগমনের পর ঈসা (আ)-এর ভূমিকা

📄 পুনরাগমনের পর ঈসা (আ)-এর ভূমিকা


(১) তাজদীদে শরী'আতে মুহাম্মাদী : তিনি হযরত মুহাম্মাদ (স)-এর শরী'আতের বিলুপ্ত অংশ পুনরায় প্রতিষ্ঠা করিবার জন্য কাজ করিবেন। ইমাম কুরতুবী বলেন : "হযরত ঈসা (আ) নূতন শরী'আত নিয়া পুনরাগমন করিবেন না যাহার দ্বারা শরী'আতে মুহাম্মাদী মানসূখ হইয়া যায়, বরং এই শরী'আতের অনুসারীরা যাহা হারাইয়া ফেলিয়াছে তাহা নূতনভাবে প্রতিষ্ঠার জন্যই পুনরাগমন করিবেন" (তাফসীরে কুরতুবী, প্রগুক্ত, ৪খ, page ১০১)।
(২) দাজ্জাল হত্যা: হাদীছে বর্ণিত আছে যে, তিনি বাবে লুদের নিকট দাজ্জালকে হত্যা করিবেন। আর লুদ্দ (Lydda) ফিলিস্তীনের অন্তর্গত বর্তমান ইসরাঈল রাষ্ট্রের রাজধানী তেলআবীব হইতে কয়েক মাইল দূরে অবস্থিত। ইয়াহুদীরা এখানে একটি বিরাট বিমান বন্দর নির্মাণ করিয়াছে।
(৩) কাফির হত্যা: হাদীছে আরও বর্ণিত আছে যে, তাঁহার দৃষ্টি যতদূর যাইবে নিঃশ্বাসও ততদূর যাইবে এবং উহাতে কাফেরকুল নিধন হইয়া যাইবে (কুরতুবী, প্রাগুক্ত, ৪খ, page ৯০)।
(৪) ক্রুশ ভাঙ্গিয়া ফেলাঃ হাদীছে আরও বর্ণিত আছে যে, হযরত ঈসা (আ) খৃস্টানদের ক্রুশবিদ্ধ করার মনগড়া ঘটনার প্রতীক ক্রুশকে ভাঙ্গিয়া ফেলিবেন। এভাবে তিনি ইসলামের বিজয়ের ঘোষণা করিবেন।
(৫) তিনি শূকর হত্যা করিবেন। শূকরের মাংস ভক্ষণ প্রতিটি শরী'আতে হারাম (দ্র. লেবীয় পুস্তক, ১১ : ৭-৮)। অথচ খৃস্টানরা নিজেদের মনগড়া মত অনুযায়ী উহার মাংস ভক্ষণকে হালাল করিয়াছে। তাই হযরত ঈসা (আ) শূকর হত্যা করিয়া প্রকাশ করিবেন যে, ইহা খৃস্টানদের ভ্রান্ত নীতি।
(৬) আদল ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা: তিনি আদল ও ইনসাফের নীতি অনুযায়ী সমাজ শাসন করিবেন। তাঁহার সময়ে সমাজে শান্তি বিরাজ করিবে। প্রভাবশালী ও শক্তিশালীদের সাথে দুর্বলরা নির্বিঘ্নে জীবন যাপন করিবে। কেহ কাহারো অধিকারে হস্তক্ষেপ করিবে না। তাঁহার সময়ে সমাজে সুখ-সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পাইবে। সম্পদের কোন অভাব থাকিবে না।
(৭) তিনি এখনও বিবাহ করেন নাই। তাই পুনরাগমনের পর তিনি বিবাহ করিবেন এবং তাঁহার সন্তান-সন্তুতিও হইবে।
অবস্থান কাল: কোন কোন বর্ণনায় আসিয়াছে, তিনি পৃথিবীতে ৪০ বৎসর অবস্থান করিবেন। আবার কোন কোন বর্ণনায় আসিয়াছে, তিনি ৪৫ বৎসর অবস্থান করিবেন। আলুসীর এক বর্ণনায় দেখা যায় যে, তিনি ২৪ বৎসর থাকিবেন (আলুসী, প্রাগুক্ত, ৩খ, page ১৬৪)। কিন্তু প্রথমোক্ত বর্ণনাটি অধিক প্রসিদ্ধ।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ইনতিকাল ও দাফন

📄 ইনতিকাল ও দাফন


হযরত ঈসা (আ) দীর্ঘ ৪০ বৎসর জীবন যাপনের পর স্বাভাবিকভাবে ইনতিকাল করিবেন। পূর্বোক্ত হাদীছসমূহের বর্ণনায় দেখা যায়, তাঁহাকে হযরত মুহাম্মাদ (স)-এর পার্শ্বে দাফন করা হইবে (মিশকাত শরীফ, ফাসলুছ ছালিছ, বাব নুযূলে ঈসা; কাদিয়ানী মতবাদ একটি ভ্রান্ত মতবাদ, page ১৫৭ হইতে উদ্ধৃত)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হযরত ঈসা (আ)-এর দেহায়বয়ব

📄 হযরত ঈসা (আ)-এর দেহায়বয়ব


বুখারী শরীফে মি'রাজ সম্পর্কিত হাদীছে উল্লেখ আছে, রাসূলুল্লাহ (স) বলিয়াছেন: ঈসা (আ)-এর সহিত আমার সাক্ষাত হয়। তাঁহার দেহ মধ্যমাকৃতির এবং গায়ের রং লাল-সাদা, পরিচ্ছন্ন দেহ, মনে হইতেছিল এইমাত্র গোসল করিয়া বাহির হইয়া আসিয়াছেন। কোন কোন বর্ণনা হইতে জানা যায়, তাঁহার কেশগুচ্ছ কাঁধ পর্যন্ত প্রলম্বিত ছিল। কোন কোন হাদীছে তাঁহার দেহের রং গৌরবর্ণ বলিয়া উল্লেখ আছে।
প্রাচীন রোমান রেকর্ড প্রণয়নকারী লেন্টুলাস (Lentulus)-এর বিবরণ হযরত ঈসা সম্পর্কে যাহা আসিয়াছে তাহা সংক্ষেপে নিম্নরূপঃ "হযরত ঈসা (আ) কর্ণলতিকা পর্যন্ত চুল ছিল, মাথার মধ্য দিয়ে সিথি কাটা ছিল এবং তাঁহার দাড়িও মধ্যখানে বিভক্ত ছিল যাহা দেখিতে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও বেশ ভূষণ ছিল। তাঁহার ভ্রূ ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট এবং চেহারা ছিল লালচে ধরনের দাগহীন, অকুঞ্চিত, ভাঁজহীন। চক্ষুযুগল ছিল নীলাভ, উচ্চতা মধ্যম ধরনের"।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হযরত ঈসা (আ)-এর স্বভাব-চরিত্র ও গুণাবলী

📄 হযরত ঈসা (আ)-এর স্বভাব-চরিত্র ও গুণাবলী


বর্ণিত আছে যে, হযরত ঈসা (আ) যাযাবর জীবন যাপন করিতেন। ইসরাঈলী সমাজে দাওয়াতী কাজ করিতে গিয়া যেখানেই রাত্র হইত সেখানেই তিনি রাত্রি যাপন করিতেন। তবে অধিকাংশ সময় নিরাপত্তার জন্য রাত্রিতে পাহাড়, জঙ্গল ও বাগবাগিচায় অবস্থান করাকেই প্রাধান্য দিতেন। তাঁহার নির্দিষ্ট কোন ঘরবাড়ি ছিল না। তিনি নগ্নপদে চলাফেরা করিতেন। তিনি নিজের জন্য কোন সম্পদ সঞ্চয় করিতেন না। পানাহারে দৈনিক ব্যবস্থাকেই যথেষ্ট মনে করিতেন। মানবতার দুঃখ-দুর্দশায় তাঁহার অন্তর ছিল সদা বিগলিত। তিনি যেখানেই যাইতেন মনে হইত যেন স্বস্তি ও শান্তির সুবাতাস বহিতেছে। আল-কুরআনে হযরত ঈসা (আ)-এর স্বভাব-চরিত্র ও বৈশিষ্ট্যের কয়েকটি দিক তুলিয়া ধরা হইয়াছে:
إِذْ قَالَتِ الْمَلَئِكَةُ يُريمُ إِنَّ اللهَ يُبَشِّرُكَ بِكَلِمَةٍ مِنْهُ اسْمُهُ المَسِيحُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ وَجِيْهَا فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَمِنَ الْمُقَرَّبِينَ وَيُكَلِّمُ النَّاسَ فِي الْمَهْدِ وَكَهْلاً وَمِنَ الصَّلِحِينَ.
"স্মরণ কর যখন ফেরেশতাগণ বলিল, হে মারয়াম! আল্লাহ্ তোমাকে তাঁহার পক্ষ হইতে একটি কলেমার সুসংবাদ দিতেছেন। তাহার নাম মসীহ, মারয়াম তনয় ঈসা। সে ইহলোক ও পরলোকে সম্মানিত এবং সান্নিধ্যপ্রাপ্তগণের অন্যতম হইবে। সে দোলনায় থাকা অবস্থায় ও পরিণত বয়সে মানুষের সহিত কথা বলিবে এবং সে হইবে পুণ্যবানদের একজন" (৩:৪৫)।
উপরিউক্ত আয়াত পর্যালোচনায় দেখা যায়, হযরত ঈসা (আ)-এর নিম্নবর্ণিত গুণ ও বৈশিষ্ট্য ছিল: (১) পিতাবিহীন জন্মলাভকারী মানুষ, যেই জন্য আল-কুরআনের একাধিক স্থানে ইবন মারয়াম বলা হইয়াছে। জগতে তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যাহাকে মায়ের নামের সাথে যুক্ত করিয়া এইভাবে ডাকা হয়।
(২) মাতৃক্রোড়ে কথোপকথনকারী শিশু, এমনকি বর্ণিত আছে যে, মায়ের গর্ভে থাকাকালীন মায়ের সঙ্গে কথা বলিয়াছেন (ইবন কাছীর, আল-বিদায়া ওয়ান-নিহায়া, ২খ., page ৬০)।
(৩) যুক্তিতর্কে পারদর্শী: শৈশব অবস্থা হইতেই তিনি বড় বড় পণ্ডিতদের সাথে যুক্তিতর্কে বিজয় লাভ করিতেন। তখন হইতেই তাঁহার জ্ঞানদীপ্ত প্রতিভার যশ ও খ্যাতি বুদ্ধিজীবী মহলে ছড়াইয়া গিয়াছিল।
(৪) তিনি কালিমাতুল্লাহ, কেননা কোন পুরুষের সংগ ও স্পর্শ ব্যতীত বিনা বাপে একমাত্র আল্লাহ্র নির্দেশে তিনি মাতৃগর্ভে জন্মগ্রহণ করেন। তাই তিনি কালিমাতুল্লাহ উপাধিতে ভূষিত হন।
(৫) তিনি ছিলেন মসীহ তথা ত্রাণকর্তা: কারণ ইয়াহুদী ধর্ম ব্যবসায়ী ও রোমান শাসকদের তল্পীবাহকদের নিষ্পেষণ হইতে ইসরাঈলী জাতিকে মুক্তির বাণী শুনাইয়াছিলেন। সেই সমাজের সাধারণ জনগোষ্ঠীকে ধ্বংসোন্মুখ অবস্থা হইতে রক্ষা করিয়াছিলেন।
(৬) দুনিয়া ও আখেরাতে মহাসম্মানিত ব্যক্তিত্ব, আল-কুরআনের ভাষায় ওয়াজীহ (وجيه)।
(৭) সালিহ্ তথা নেককার: তিনি সদা সৎ ও নেক কাজ করিতেন। যাহা কল্যাণকর তাহাই তাঁহার দ্বারা সম্পাদিত হইত। মানবতার কল্যাণে তিনি ছিলেন নিবেদিত।
(৮) মুকাররিব তথা সান্নিধ্যপ্রাপ্তগণের অন্যতম ছিলেন (তাফসীরে মাযহারী, প্রাগুক্ত, page ১৯১)। সূরা মারয়ামের অন্য এক আয়াতে হযরত ঈসা (আ) সম্পর্কে আরও কয়েকটি কথা উল্লেখ করা হয়। ইরশাদ হইয়াছে:
قَالَ إِنِّي عَبْدُ اللَّهِ اتْنِي الْكِتٰبَ وَجَعَلَنِي نَبِيًّا وَجَعَلَنِي مُبْرَكًا أَيْنَ مَا كُنْتُ وَأَوْضُنِي بِالصَّلوَاةِ وَالزَّكوة مَا دُمْتُ حَيًّا ، وَبَرَأَ بِوَالِدَتِي وَلَمْ يَجْعَلْنِي جَبَّارًا شَقِيًّا. وَالسَّلِّمُ عَلَى يَوْمَ وُلِدْتُ وَيَوْمَ أَمُوتُ وَيَوْمَ أَبْعَثُ حيا .
"তিনি বলিলেন, "আমি তো আল্লাহর বান্দা, তিনি আমাকে কিতাব দিয়াছেন এবং আমাকে নবী করিয়াছেন। যেখানেই আমি থাকি না কেন তিনি আমাকে বরকতময় করিয়াছেন। তিনি আমাকে নির্দেশনা দিয়াছেন যতদিন জীবিত থাকি ততদিন সালাত ও যাকাত আদায় করিতে। আর আমাকে আমার মাতার প্রতি অনুগত করিয়াছেন এবং তিনি আমাকে করেন নাই উদ্ধত ও হতভাগ্য। আমার প্রতি শান্তি যেদিন আমি জন্মলাভ করিয়াছি, যেদিন আমার মৃত্যু হইবে এবং যেদিন জীবিত অবস্থায় আমি পুনরুত্থিত হইব” (১৯:৩০-৩৩)।
উপরিউক্ত আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, (১) তিনি আবদুল্লাহ তথা আল্লাহ্র বান্দা। আল্লাহ্র ইবাদতেই তিনি তৃপ্তি লাভ করিতেন। তিনি কোন ইলাহ বা প্রভু নহেন। এই পরিচয় দিতেই তিনি গর্ববোধ করিতেন। আল-কুরআনে এই ব্যাপারে উল্লেখ করা হয়:
لَنْ يَسْتَنْكِفَ الْمَسِيحُ أَنْ يَكُونَ عَبْدًا لِلَّهِ وَلَا المَلْئِكَةُ المُقَرِّبُونَ. وَمَنْ يَسْتَنْكِفْ عَنْ عِبَادَتِهِ وَيَسْتَكْبِرْ فَسَيَحْشُرُهُمْ إِلَيْهِ جَمِيعًا .
"মসীহ আল্লাহ্র বান্দা হওয়াকে হেয় জ্ঞান করে না এবং ঘনিষ্ঠ ফেরেশতাগণও নহে এবং কেহ তাঁহার বান্দা হওয়াকে হেয় জ্ঞান করিলে এবং অহংকার করিলে তিনি তাহাদের সকলকে তাঁহার নিকট একত্র করিবেন" (৪: ১৭২)।
(২) তিনি ছিলেন আল্লাহর নবী, যাহাকে আল্লাহ্ পাক একক আসমানী কিতাব দিয়াছেন তাহা হইল ইনজীল শরীফ।
(৩) তিনি ছিলেন বরকতময়। যেখানেই তিনি যাইতেন আর্তমানবতার সেবা করিতেন। সেখানে আল্লাহ পাক বরকত নাযিল করিতেন। মানুষ সুখ সমৃদ্ধি লাভ করিত।
(৪) তিনি ছিলেন মায়ের প্রতি সদাচারী। তিনি মায়ের আদেশ-নিষেধ ও আশা-আকাংক্ষার প্রতি ছিলেন শ্রদ্ধাশীল ও সদানুগত। মায়ের শোক-দুঃখ ও ইজ্জত-সম্মান রক্ষায় তিনি ছিলেন সদা সচেষ্ট। এই হইল আল-কুরআনে হযরত ঈসা (আ)-এর মায়ের প্রতি আচার-আচরণের বিবরণ। পক্ষান্তরে খৃস্টানদের লিখিত সুসমাচারে দেখা যায়, তিনি মায়ের প্রতি কোন এক সময় যথাযথ শ্রদ্ধা দেখান নাই (দ্র. লুক, ৮: ১৯-২১)।
(৪) তিনি ছিলেন বিনয়ী (আলুসী, ১৬খ, page ৯০) ও সৌভাগ্যবান। তিনি উদ্ধত স্বভাবের লোক ছিলেন না এবং দম্ভভরে চলিতেন না। আল্লাহ তা'আলা তাঁহাকে বিভিন্নভাবে সাহায্য ও সম্মান দান করিয়াছেন। তাই সকল দিক দিয়া তিনি একজন সৌভাগ্যবান ব্যক্তি।
(৫) তিনি ছিলেন শান্তির বার্তাবাহক: তাঁহার জন্ম মৃত্যু জীবন সকল অবস্থায় শান্তির প্রতীক হিসাবে গণ্য হইয়াছে। আল-কুরআনের অন্য কয়েকটি আয়াতে তাঁহাকে আরও অনেকগুলি গুণে গুণান্বিত ও বৈশিষ্ট্য মণ্ডিত বলিয়া উল্লেখ করা হয়। যেমন:
১) তিনি ছিলেন রূহুল কুদ্দুস (روح القدس) তথা পবিত্র আত্মার দ্বারা সাহায্যপ্রাপ্ত। পবিত্র আত্মা বলিতে জিবরাঈল আমীনকে বুঝানো হইয়াছে (ইবন কাছীর, প্রাগুক্ত, ২খ, page ৭৪-৭৫, ৭৭)। আল্লাহর বাণী:
তِلْكَ الرُّسُلُ فَضَّلْنَا بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ مِنْهُمْ مَنْ كَلَّمَ اللهُ وَرَفَعَ بَعْضَهُمْ دَرَجَتٍ وَآتَيْنَا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ الْبَيِّنَتِ وَأَيَّدْنُهُ بِرُوحِ الْقُدُسِ.
"এই রাসূলগণ! তাহাদের মধ্যে কাহাকেও কাহারও উপর শেষ্ঠত্ব দিয়াছি। তাহাদের মধ্যে এমন কেহ রহিয়াছে যাহার সহিত আল্লাহ্ কথা বলিয়াছেন। আবার কাহাকেও উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করিয়াছেন। মারয়াম তনয় ঈসাকে স্পষ্ট প্রমাণ প্রদান করিয়াছি ও পবিত্র আত্মা তাহাকে শক্তিশালী করিয়াছি” (২: ২৫৩)।
(২) তিনি ছিলেন ফায়সাল তথা মানুষের মাঝে বিভিন্ন মতানৈক্য ও বিবাদ মীমাংসাকারী। যেমন, আল-কুরআনে আসিয়াছে :
قَدْ جِئْتُكَ بِالْحِكْمَةِ وَلِأُبَيِّنَ لَكُمْ بَعْضَ الَّذِي تَخْتَلِفُونَ فِيهِ .
"আমি তো তোমাদের নিকট আসিয়াছি প্রজ্ঞাসহ এবং তোমরা যে বিষয়ে মতভেদ করিতেছ তাহা স্পষ্ট করিয়া দিবার জন্য" (৪৩ঃ ৬৩)।
(৩) তিনি ছিলেন মানব দরদী ও নরম হৃদয়ের অধিকারী (ইবন কাছীর, প্রাগুক্ত, ২খ, page ৭৩)। আল-কুরআনে তাঁহার অনুসারীদের সম্পর্কে বলা হয়ঃ
وَجَعَلْنَا فِي قُلُوبِ الَّذِينَ اتَّبَعُوهُ رَأْفَةً وَرَحْمَةً .
"আর আমি তাহার অনুসারীদের অন্তরে দিয়াছিলাম করুনা ও দয়া” (৫৭ঃ ২৭)।
অতএব এই আয়াত দ্বারা বুঝা যাইতেছে তিনি যেইরূপ হৃদয়ের অধিকারী ছিলেন, তাঁহার অনুসারিগণকেও সেইভাবেই তৈরি করিয়াছিলেন।
(৪) সর্বোপরি তিনি ছিলেন উলুল আযম (দৃঢ় প্রতিজ্ঞ) রাসূলগণের অন্তর্ভুক্ত। এই মর্মে ইরশাদ হইয়াছে :
وَإِذْ أَخَذْنَا مِنَ النَّبِيِّينَ مِيثَاقَهُمْ وَمِنْكَ وَمِنْ نُوحٍ وَأَبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ .
"স্মরণ কর যখন আমি নবীদিগের নিকট হইতে অংগীকার গ্রহণ করিয়াছিলাম এবং তোমার নিকট হইতেও এবং নূহ, ইবরাহীম, মূসা, মারয়াম তনয় ‘ঈসার নিকট হইতেও। তাহাদের নিকট হইতে গ্রহণ করিয়াছিলাম দৃঢ় অংগীকার" (সূরা আহযাবঃ ৭)।
হযরত ঈসা (আ) বৈষয়িক কোন স্বার্থ বা ভোগ-বিলাসে মত্ত ছিলেন না, বরং এই সবের প্রতি তাঁহার কোন আগ্রহ ছিলনা। তিনি অত্যন্ত সাদাসিধা জীবন যাপন করিতেন। আল্লাহর একজন মহান রাসূল হিসাবে দাওয়াতী কাজেই তাঁহার সকল চিন্তা-চেতনা ও কাজকর্ম নিষ্ঠার সাথে নিয়োগ করিয়াছিলেন। আল্লাহর রাসূল হিসাবে যাহাদের প্রতি তিনি প্রেরিত হইয়াছিলেন সেই ইসরাঈল জাতির মধ্যে থাকিয়াই গ্রামে গঞ্জে ভ্রমণ করিয়া তাঁহার রিসালাতের দায়িত্ব পালন করিয়া গিয়াছেন। তিনি সমাজমুখী দাঈগণের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00