📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হযরত ঈসা (আ)-এর আগমনের প্রেক্ষাপট

📄 হযরত ঈসা (আ)-এর আগমনের প্রেক্ষাপট


আল্লাহ তা'আলা ইসরাঈল জাতির হেদায়াতের জন্য এবং তাহাদের অবস্থার সংস্কার ও উন্নতির জন্য হযরত ঈসা (আ)-কে নবী ও রাসূল হিসাবে প্রেরণ করেন। তিনি ছিলেন দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ও কঠোর প্রতিশ্রুতিবদ্ধ (উলুল আজম) রাসূলগণের অন্যতম। সাইয়্যিদুনা নূহ, ইবরাহীম ও মূসা (আ)-এর মত তাঁহাকেও নূতন শরীআত প্রদান করিয়া সম্মানিত করা হইয়াছিল। বনূ ইসরাঈলের মধ্যে তিনিই সর্বশেষ নবী। বিশ্বে প্রচলিত সর্ববৃহৎ ধর্মগুলির অন্যতম খৃস্টান ধর্মের অনুসারিগণ তাঁহার অনুসারী বলিয়া দাবি করিয়া থাকে।
হযরত ইবরাহীম (আ)-এর পুত্র ইসহাক (আ)-এর অন্যতম পুত্র ছিলেন ইয়াকুব (আ)। তিনিও নবী ছিলেন। তাঁহার অপর নাম ছিল ইসরাঈল। তাই তাঁহার বংশধরকে বনু ইসরাঈল বলা হয়। পূর্ববর্তী যুগে মহান আল্লাহ তাআলা তাঁহাদের মধ্যে অসংখ্য নবী প্রেরণ করিয়া জগৎময় তাহাদিগকে বিশেষ মর্যাদা দান করিয়াছিলেন। এই বনূ ইসরাঈলের প্রথম নবী ছিলেন হযরত ইউসুফ (আ), আর শেষ নবী হইলেন হযরত ঈসা (আ)। তাঁহাদের মূল আবাসস্থল ছিল ফিলিস্তীন অঞ্চল। কিন্তু তাহা সত্ত্বেও বিভিন্ন পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তাহাবা এই অঞ্চল ছাড়িয়া বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে আবাসন গ্রহণ করিতে বাধ্য হইয়াছিল। দেশে দুর্ভিক্ষের কারণে মিসরের শাসনকর্তা ইউসুফ (আ)-এর সময় তাহারা মিসরে চলিয়া গিয়াছিল কিন্তু পরবর্তীতে ফেরাউনদের অত্যাচারে জর্জরিত হইয়া দীর্ঘদিন পর হযরত মূসা (আ)-এর নেতৃত্বে ফিলিস্তীনের উদ্দেশে মিসর হইতে বাহির হইয়া আসে। কিন্তু তখন ফিলিস্তীনে দুর্ধর্ষ জাতি বসবাস করিত। তাহাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করার জন্য মূসা (আ) আহবান জানান। তাহারা তাহাতে সাড়া দিতে অস্বীকার করে। ফলে দীর্ঘ চল্লিশ বৎসর সিনাই মরু অঞ্চলে তাহারা আবদ্ধ থাকে। অতঃপর তাহাদের মধ্যে নূতন বংশধর সৃষ্টি হইলে আল্লাহর নবী ইউশা ইবন নূন (আ)-এর নেতৃত্বে তাহারা ফিলিস্তীন অঞ্চল তথা বায়তুল মুকাদ্দাসে প্রবেশ করে। পরে হযরত দাউদ (আ)-এর সময়ে ফিলিস্তীনের অধিকাংশ অঞ্চল বনী ইসরাঈল-এর নিয়ন্ত্রণে আসে। খৃ. পূ. ৯৮৪ অব্দে হযরত সুলায়মান (আ) এই রাষ্ট্রকে সম্প্রসারিত ও সুদৃঢ় করিয়া মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করেন। আল্লাহর নির্দেশে তিনি এখানে বায়তুল মুকাদ্দাসের মসজিদ নির্মাণ করেন। পিতৃপুরুষের নামানুসারে এই রাষ্ট্রের নাম রাখা হয় 'ইয়াহুদা'। খৃস্টপূর্ব ৯৩৭ অব্দে হযরত সুলায়মান (আ)-এর ইন্তিকালের পর তাঁহার পুত্র রহবিয়াম ইয়াহুদা রাষ্ট্রের শাসনভার গ্রহণ করেন। রহবিয়ামের ভ্রান্ত শাসননীতি ও ব্যর্থতার সুযোগে রাষ্ট্রের দীনী চেতনা ও শাসনতান্ত্রিক দৃঢ়তায় ব্যাপক ধ্বস নামে। ইহাতে রাষ্ট্রের অপূরণীয় ক্ষতি সাধিত হয়। এই সময় সুলায়মান (আ)-এর এক প্রাক্তন কর্মচারী য়ারবিয়াম বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং ইসরাঈল নামে একটি পৃথক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন। এইভাবে দীর্ঘদিনের জন্য বনী ইসরাঈল দুইটি শিবিরে বিভক্ত হইয়া পড়ে। উত্তরে ছিল ইসরাঈল রাষ্ট্র, যাহার রাজধানী ছিল সামেরিয়া (Samaria) এবং দক্ষিণে ছিল ইয়াহুদা রাষ্ট্র, যাহার রাজধানী ছিল জেরুসালেম।
তাহা ছাড়া মূর্তিপূজা, ব্যভিচার, হত্যা, রাহাজানি ইত্যাদি পাপকর্মে ইসরাঈলীরা প্রচণ্ডভাবে নিমগ্ন হইয়া গিয়াছিল। তাহাদের সংশোধন করিবার উদ্যোগ নেওয়াই কঠিন হইয়া পড়িয়াছিল। এই লক্ষ্যে যখনই কোন হেদায়াতকারী তথা নবীকে পাঠানো হইত তখন তাহারা সেই আহবানকে জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করিত। এমনকি অনেক নবীকে তাহারা হত্যা করিতে দ্বিধাবোধ করে নাই। তাই তাহাদের নৈতিক অধঃপতন, সামাজিক বিশৃংখলা ও রাজনৈতিক দুর্বলতার সুযোগে তাহাদের আশেপাশের রাজ্যগুলির শাসকগণ তাহাদের উপর চড়াও হয়। ব্যাবিলন সম্রাট বস্তুনসর বনু ইসরাঈলদের রাজ্য দখল করে। হায়কালে সুলায়মানী ধ্বংস করে, হাজার হাজার ইসরাঈলীকে হত্যা করে এবং বহু ইয়াহুদীকে গ্রেফতার করিয়া ব্যাবিলনে নিয়া যায়। খৃষ্টপূর্ব ৫৩৮ অব্দে পারস্য সম্রাট কৌরস কর্তৃক ব্যাবিলন হইতে মুক্তি ও খৃস্টপূর্ব ৪৫১ অব্দে হায়কাল পুনঃপ্রতিষ্ঠা হইলেও পরবর্তীতে গ্রীক শাসকরা আবার ধ্বংসলীলা চালায়। অতঃপর খৃস্টপূর্ব ১৬৫ অব্দে সিরিয়ার শাসনকর্তা আনাতিয়াস আইপি ফিনেস বনু ইসরাঈল তথা ইয়াহুদীদের উপর বর্বর হত্যাযজ্ঞ চালায় এবং তাহাদের ধর্মীয় গ্রন্থের সমস্ত কপি জ্বালাইয়া দেয়। অতঃপর খৃস্টপূর্ব ৬৩ অব্দে রোমানরা ফিলিস্তীন দখল করিয়া লয়। ইসরাঈলীদের পাপ-পংকিলতা, ভ্রষ্টতা ও আল্লাহ কর্তৃক বারবার দণ্ডারোপের বিষয়টি এমনকি বাইবেলেও উদ্ধৃত হইয়াছে (দ্র. বর্তমান বাইবেল পুরাতন নিয়ম, হোশেয় ১, ৪৭, আমোষ, ৮, মীখা ১, ২, ৩, সকনিয় ১,৩ ইত্যাদি)।
সম্ভবত ইসরাঈলীদের এ অবস্থার কথা আল-কুরআনেও নিম্নোক্ত আয়াতসমূহে বর্ণিত হইয়াছে:.. وَإِذْ تَأَذَّنَ رَبُّكَ لِيَبْعَثَنَّ عَلَيْهِمْ إِلى يَوْمِ الْقِيَامَةِ مَنْ يَسُومُهُمْ سُوءَ الْعَذَابِ إِنَّ رَبَّكَ لَسَرِيعُ الْعِقَابِ. وَإِنَّهُ لَغَفُورٌ رَّحِيمٌ. وَقَطَّعْنَهُمْ فِي الْأَرْضِ أَمَمًا مِنْهُمُ الصَّالِحُونَ وَمِنْهُمْ دُونَ ذَلِكَ وَبَلَوْنَهُمْ بِالْحَسَنَتِ وَالسَّيِّئَاتِ لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ . "স্মরণ কর, তোমার প্রতিপালক ঘোষণা করেন যে, তিনি তো কিয়ামত পর্যন্ত তাহাদিগের উপর এমন লোকদিগকে প্রেরণ করিবেন যাহারা তাহাদিগকে কঠিন শাস্তি দিতে থাকিবে, আর তোমার প্রতিপালক তো শাস্তিদানে তৎপর এবং তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়াময়ও। দুনিয়ায় আমি তাহাদিগকে বিভিন্ন দলে বিভক্ত করি, তাহাদের কতক সৎকর্মপরায়ণ ও কতক অন্যরূপ এবং মঙ্গল ও অমঙ্গল দ্বারা আমি তাহাদিগকে পরীক্ষা করি, যাহাতে তাহারা প্রত্যাবর্তন করে" (৭:১৬৭-১৬৮)।
যাহা হউক ইসরাঈলীদের ঐ ধরনের রাজনৈতিক নিপীড়ন ভোগ এবং ধর্মীয় ও নৈতিক স্খলনের করুণ অবস্থায় তাহারা মনেপ্রাণে একজন ত্রাণকর্তার আবির্ভাব কামনা করিত এবং কায়মনোবাক্যে আল্লাহর কাছে উহার জন্য দুআ করিত। বিশেষ করিয়া, হযরত ঈসা (আ)-এর আগমনের পূর্বক্ষণে সেই চেতনা ও আকাংক্ষা আরও প্রকট আকার ধারণ করে। ঈসা (আ)-এর সময়ে রাজনৈতিকভাবে ইসরাঈলীগণ রোমান সাম্রাজ্যের অধীন ছিল। তখনকার রোমান সম্রাট ছিল অগাষ্টাস (Augutus)। তাহার শাসন কাল ছিল ৩০ খৃ. পৃ. হইতে ১৪ খৃ. পর্যন্ত। তাহার পর রোমান সম্রাট হয় তিবিরিয়াস (Tiberius), তাহার শাসনকাল ১৪ হইতে ৩৭ খৃস্টাব্দ পর্যন্ত।
আর পণ্ডীয় পীলাত নামে একজন রোমীয় লোক ফিলিস্তীনের শাসনকর্তা ছিলেন। রোম রাজ্যের সম্রাট কায়সার অনেক দূরে রোম শহরে বাস করিতেন। ইয়াহুদীরা স্বাধীনতা ভালবাসিত বলিয়া রোম সরকারকে ভাল চোখে দেখিত না। রোম সরকারের অধীন ছিল বলিয়া ইয়াহূদী নেতাদের হাতে বিশেষ কোন ক্ষমতা ছিল না। কিন্তু ইয়াহুদীদের মধ্যে এক চালাক প্রকৃতির লোক ছিল যাহার নাম হেরদ (Herod)। সে রোমান আঞ্চলিক শাসনকর্তাকে সাহায্য করিবে এমন একজন ইয়াহুদী বংশোদ্ভূত ব্যক্তিকে ইয়াহুদীদের রাজা (king of Jews) হিসাবে নিয়োগের জন্য রোমান সম্রাটকে প্রভাবিত করে এবং নিজেই ইয়াহুদীদের রাজা হইয়া যায়। তাহার সময়কাল ৩৭-৪ খৃ. পূ. (The new Encyclopaedia Britannica, vol. 10, page 146)। তাহাদের আমলে ফিলিস্তীন অঞ্চল প্রধানত তিন ভাগে বিভক্ত ছিল।
(১) ইয়াহুদীয়া প্রদেশ: ইহা ফিলিস্তীনের দক্ষীণ দিকের একটি প্রদেশ। শুকনা পাথুরে একটি মরু এলাকা। তবুও ইহা অন্যান্য প্রদেশ হইতে উন্নত ছিল। এই প্রদেশে জেরুসালেম ও বেথেলহাম অবস্থিত।
(২) সামারিয়া প্রদেশ: ইহা ভূমধ্য সাগরের তীর ঘেঁষিয়া ইয়াহূদীয়া প্রদেশের উত্তরাঞ্চল, এই এলাকার লোকজনকে সামরিয়া বলা হইত। তাহাদের পূর্বপুরুষেরা ইয়াহূদী হইলেও অ-ইয়াহুদীদের বিবাহ করিবার ফলে তাহারা একটি মিশ্র জাতিতে পরিণত হইয়া গিয়াছিল। যদিও তাহাদের ধর্ম অনেকাংশে ইয়াহুদী ধর্মের মত, তবুও আসলে তাহা ছিল আলাদা। এই দুইটি কারণে ইয়াহুদীরা তাহাদের ঘৃণা করিত এবং তাহাদের সঙ্গে মেলামেশা করিত না।
(৩) গালীল বা জালীল প্রদেশ: ইহা সামারিয়া প্রদেশের উত্তরে পাহাড়ী অঞ্চল। এই প্রদেশেই নাসারত নামে জনপল্লী অবস্থিত। ভারত, ইরাক, সিরিয়া হইতে মিসর তথা উত্তর আফ্রিকার সহিত সংযোগকারী যে আন্তর্জাতিক রাস্তাটি ছিল তাহা ঐ প্রদেশ ঘেঁষিয়াই চলিয়া গিয়াছে (Encyclopaedia Americana, vol.-16, page 42)।
মোটকথা, ঈসা (আ)-এর আগমনের সন্ধিক্ষণে তাহারা রাজনৈতিক দিক দিয়া শতধা বিভক্ত ছিল। Encyclopaedia Britannica -র বর্ণনা অনুসারে তাহারা ছিল নির্বীর্য ও দলাদলিতে লিপ্ত। তাই সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসী শক্তির কোপানলে পড়া ছিল স্বাভাবিক। যদিও তাহাদের দেশপ্রেমিক কিছু কিছু ব্যক্তি ছিল যাহারা কখনও কখনও রোমানদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করিয়া বসিত (মার্ক লিখিত সুসমাচার, ১৫: ৭,৮)।
রাজনৈতিক অবস্থার মত তাহাদের ধর্মীয় অবস্থাও ছিল খুবই শোচনীয়। তাহাদের সমাজে অত্যাচার, উৎপীড়ন ও মূর্খতা বিরাজমান ছিল। ইয়াহুদী সম্প্রদায় বিভিন্ন পাপাচার ও অপরাধজনক কর্মে লিপ্ত ছিল। শত শত বৎসরের চিন্তাধারায় বন্ধ্যাত্ব এবং শিক্ষা বিমুখতা তাহাদিগকে জ্ঞান চর্চার ক্ষেত্রে গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত রাখিয়াছিল। তাহারা ধর্মের প্রকৃত মর্ম ও তাৎপর্য অনুধাবন ও আল্লাহ্র বিধি-বিধানের অনুসরণের পরিবর্তে লোকাচার ও বাহ্যিক অনুষ্ঠানাদিকেই সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করিত (ইমাম মুহাম্মাদ আবু যুহ্রা, মুহাদিরাত ফিন-নাসরানিয়্যা, page ২২১)। হযরত ঈসা (আ)-এর আগমনের সময় ইয়াহুদীগণ নিম্নলিখিতকয়েকটি দলে বিভক্ত ছিল।
১. সাদুকী : তাহারা বলিত, মানুষের ভালমন্দ কাজের ফল এই দুনিয়াতেই সে পাইবে, আখিরাতে নহে, অন্য কথায় তাহারা পরকালে অবিশ্বাসী ছিল। তাহাদের এই বিষয়টি এমনকি বর্তমান খৃস্টানদের স্বীকৃত বাইবেলেও একাধিকবার উল্লেখ করা হইয়াছে (লুক লিখিত সুসমাচার, ২০: ২৯, ২৮; মথি লিখিত সুসমাচার, ২২: ২৪)। তাহারা অনেকটা বস্তুবাদী ছিল, বৈষয়িক ভোগবিলাসে মত্ত থাকিত। এই কারণে তাহারা ইবাদতখানা তথা হায়কালে সুলায়মানী এবং সরকার উভয় দিকের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিয়োজিত। (২) ফরীসী : এই ফেরকার অনুসারীরা সাদুকীর চাইতেও সংখ্যায় বেশি ছিল। ইহারা সর্বপ্রকার ভোগবিলাস হইতে বিমুখ থাকাকেই মুক্তির উপায় বলিয়া মনে করিত। রাষ্ট্রীয় কোন পদ বা বিত্তশালী হওয়াকে পছন্দ করিত না, নিজেদেরকে সর্বশ্রেষ্ঠ ও আল্লাহর মনোনীত লোক হিসাবে মনে করিত (আবদুল ওয়াহীদ খান, ঈসাইয়্যাত, page ১২)। ধর্মীয় বিভিন্ন বিধিবিধান ও ইবাদত প্রচার-প্রচারণায় কঠোর ভূমিকা পালন করিত। হায়কালে সুলায়মানীর প্রতি তেমন আকৃষ্ট থাকিত না, তাহা সত্ত্বেও খোদার রাজ্য ফিরাইয়া নিতে দাউদ বর্ণিত 'মাসীহ' আগমনের আকীদা প্রচণ্ডভাবে হৃদয়ের মাঝে লালন করিত। হায়কালের প্রতি তেমন আগ্রহ না দেখাইয়া নিজেদের বাড়িতেই তাহাদের ধর্মীয় উৎসবাদি পালন করিত। এতদসত্ত্বেও তাহারা নানাবিধ অসাধু কর্মে লিপ্ত থাকিত।
(৩) আসেনীয় : হযরত ঈসা (আ)-এর সমসাময়িক যুগে ইয়াহুদীদের একটি ধর্মীয় গোপন দল। তাহারা তাহাদের ইবাদত ও ধর্মীয় উৎসবের আলাদা পন্থা অবলম্বন করিত, তাহাদের সাংগঠনিক ভিত্তি অত্যন্ত মজবুত ছিল। কিন্তু ইহা গোপন দল হওয়ার কারণে মাওলানা আবদুল ওয়াহিদ খান উল্লেখ করেন, এই। সম্প্রদায় আধ্যাত্মিক ও বৈষয়িক রোগের মুক্তি সংক্রান্ত জ্ঞান-বিজ্ঞানের বাহক বলিয়া দাবি করিত। তাহারা যুদ্ধ পছন্দ করিত না, অস্ত্র ধরাকে খুব খারাপ মনে করিত। মৃত্যুর পর জীবন, কিয়ামত, হাশর এইগুলির উপর তাহারা বিশ্বাস রাখিত। তাহাদের নাজাত ও মুক্তির জন্য একজন মাসীহ-এর আগমনের অপেক্ষায় থাকিত (আবদুল ওয়াহিদ খান, প্রাগুক্ত, page ১১-১২)।
কিন্তু সম্প্রতি ১৯৪৭ সালে মৃত সাগরে (Dead Sea) ঐ সম্প্রদায়ের কিছু লিখিত দলিল-দস্তাবেজ পাওয়া যায় যাহাকে (Dead sea scrolls) হিসাবে নামকরণ করা হইয়াছে। উহার মাধ্যমে ঐ সম্প্রদায় সম্পর্কে অনেক অজানা তথ্য উদঘাটিত হইয়াছে। বার বার যখন সাম্রাজ্যবাদীদের দ্বারা ইয়াহুদীদের ইবাদতখানা ভাঙ্গিয়া ফেলা হইতেছিল এবং ইয়াহুদীদের রাজ্য দখল করিয়া নেওয়া হইতেছিল, সেই বিদেশী আগ্রাসন মুকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য তাহারা গহীন বন জঙ্গলে জীবন যাপন করিতেছিল। এই মুজাহিদ বাহিনীর দলকে তাহাদের শত্রুরা Zealot নামে আখ্যা দিত (দ্র. দি নিউ এনসাইক্লোপেডিয়া ব্রিটানিকার ভাষ্য অনুসারে হযরত ইয়াহ্ইয়া ও ঈসা (আ) ঐ দলের সাথেই সম্পৃক্ত ছিলেন বলিয়া অনুমিত হয়।
ইয়াহুদী ও অসুরীয়দের যৌথ রক্তের মিশ্রণে গড়িয়া ওঠা সামেরী সম্প্রদায়ও নিজেদের আকীদা বিশ্বাসে আসল ইসরাঈলী হিসাবে মনে করিত। অন্যদেরকে ইয়াহুদী হিসাবে মানিয়া নিলেও ইসরাঈলী হিসাবে মানিয়া লইত না। এইজন্য তাহারা বায়তুল মুকাদ্দাসে আলাদা ইবাদতখানা তৈরী করিয়া তাহাকে কেবলা, যিয়ারতের কেন্দ্রস্থল এবং হজ্জ অনুষ্ঠানের আয়োজনের আকাংখা করিত। এবং সেই কারণে জুযীম-এ এক ইবাদতখানা নির্মাণ করিয়াছিল এবং বায়তুল মুকাদ্দাস ধ্বংস করিবার চেষ্টাও করিয়াছিল কিন্তু ইহাতে সফলকাল হয় নাই (আবদুল ওয়াহীদ খান, প্রাগুক্ত, page ১৩)। যাহা হউক ইয়াহুদী সমাজে ধর্মীয় দিক দিয়া যাহারা নেতৃত্ব দিত এবং তাহাদের ধর্মগ্রন্থের ব্যাখ্যার মাধ্যমে বিকৃতি সাধনে লিপ্ত থাকিত তাহারা হইল আহবার ও রিব্বীগণ। জনগণের মধ্যে তাহারা খুবই প্রভাবশালী ছিল।
আহবার (আহবার) বা ধর্মযাজক ইয়াহুদী ধর্মের হর্তাকর্তা হইয়া বসিয়াছিল, তাহারা যাহা ইচ্ছা হালাল করিত এবং যাহা ইচ্ছা হারাম করিত। তাওরাতের বিকৃতিতে ইহাদের প্রধান ভূমিকা ছিল। এতদ্ব্যতীত তাহাদের ধর্মীয় জ্ঞান ও নৈতিকবোধের এত অবক্ষয় হইয়াছিল যে, সুলায়মান (আ)-এর মসজিদকে তাহারা ব্যবসায়ের কেন্দ্রে পরিণত করিয়াছিল। হযরত ঈসা (আ) ইয়াহুদী ধর্মযাজকদের লক্ষ্য করিয়া বলিয়াছিলেন: "তোমরা এই উপাসনালয়কে দস্যুদের আখড়া করিয়াছ" (মথি, ২১: ১২-১৩)।
বস্তুত তাহারা ধর্মকে একটি ব্যবসায়ে পরিণত করিয়ছিল। তাহারা ছিল নির্দয় ও কঠোর। দরিদ্র ও অসহায় ব্যক্তিদের জন্য তাহাদের মনে কোন সমবেদনার উদ্রেক হইত না (ইসলামী বিশ্বকোষ, বাংলা, ইফাবা, ৫খ, page ৫১২)।
তাহা ছাড়া রিব্বীরা ছিল ইয়াহূদী শিক্ষকমণ্ডলী। ইয়াহুদী এলাকায় বিভিন্ন মজলিস প্রতিষ্ঠা হইয়াছিল যেখানে ধর্মীয় বিভিন্ন বিষয় আলোচনা-পর্যালোচনা ও শিক্ষা দেওয়া হইত এবং ধর্মীয় রায় ঘোষণা দেওয়া হইত। ইহার পাশাপাশি সেখানে তাওরাত শিক্ষা দেওয়ারও ব্যবস্থা ছিল। ইহার শিক্ষকগণকে রিব্বী বলা হয়। আহবারের পাশাপাশি ধর্মীয় অপব্যাখ্যা প্রদান করিয়া রিব্বীগণও তাহাদের প্রভাব বিস্তার করার জন্য সতত চেষ্টা করিত।
কাহিন বা ভবিষ্যৎ বক্তা হিসাবেও কিছু কিছু ব্যক্তি তাহাদের মধ্যে ছিল। তাহারা উপাসনার কর্মকাণ্ডে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার পরিবর্তে সম্পদ আহরণকেই একমাত্র লক্ষ্য বস্তুতে পরিণত করিয়াছিল। মোটকথা তৎকালীন ইয়াহুদীরা সমাজে বিপর্যয় সৃষ্টি করিয়াছিল। তাহাদের মধ্যে অশিক্ষা, অন্যায়, অবিচার, ব্যভিচার, মদ, জুয়া, চুরি, ডাকাতি, প্রতারণা, হত্যা, রাহাজানি ইত্যাদির সয়লাব বহিয়াছিল। তাহাদের মধ্যে প্রভাবশালী ধর্মীয় অভিজাত শ্রেণী জন্ম নিয়াছিল। সভ্যতা ও সাংস্কৃতিক দিকে লক্ষ্য করিলেও দেখা যায়, ইয়াহুদী সমাজে হেলেনেষ্টিক তথা গ্রীক সভ্যতা-সংস্কৃতি প্রচণ্ডভাবে প্রসার লাভ করিয়াছিল। সেই অঞ্চলের ভাষা হিব্রু, এরামিক বা সুরিয়ানী হইলেও সরকারীভাবে গ্রীক ভাষায় কাজ-কর্ম চলিত। এইজন্য ঐতিহাসিক গবেষণায় দেখা যায়, বাইবেলের অধিকাংশ লেখক গ্রীক ভাষায় তাহাদের গ্রন্থ রচনা বা অনুবাদ করিয়াছিলেন। আর শিক্ষিত সমাজেও গ্রীক দর্শন ও ভাষার বিরাট প্রভাব ছিল। আর হিব্রু ভাষা ইয়াহুদী ধর্মীয় পণ্ডিতদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এমন কি তাহা মৃত ভাষায় পর্যবসিত হওয়ার উপক্রম হইয়াছিল। কিন্তু সাধারণ জনগণ সুরিয়ানী ভাষাতেই অভ্যস্ত ছিল। তবে ফিলিস্তীনের সাধারণ অধিবাসীরা সুরিয়ানী ভাষায় একটা উপভাষা ব্যবহার করিত যাহার স্বর, উচ্চারণ ভংগি ও কথন দিমাশক এলাকায় ব্যবহৃত সুরিয়ানী হইতে ভিন্নতর ছিল। এই দেশের জনগণ গ্রীক ভাষা একেবারেই জানিত না। ৭০ খৃস্টাব্দে জেরুসালেম দখল করার পর রোমীয় সেনাধ্যক্ষ টিটাস (Titus) জেরুসালেমবাসীদের সম্মুখে গ্রীক ভাষায় ভাষণ দিয়াছিলেন। ফলে উহা সুরিয়ানী ভাষায় তরজমা করিতে হইয়াছিল (সাইয়েদ আবুল আ'লা মওদূদী, তাফহীমুল কুরআন, বঙ্গানুবাদ, মুহাম্মদ আবদুর রহীম, ১৭খ, page ১০১)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 বাইবেলে ঈসা (আ)-এর নবুওয়াত প্রাপ্তির বর্ণনা

📄 বাইবেলে ঈসা (আ)-এর নবুওয়াত প্রাপ্তির বর্ণনা


খৃস্টানদের বাইবেলের বর্ণনামতে যোহন তথা ইয়াহইয়া ইব্‌ন যাকারিয়া ইয়াহূদীয়ার মরু এলাকায় আসিয়া প্রচারকাজ করিতেছিলেন এবং মানুষদেরকে বাপ্তিস্ম দিতেছিলেন (মথি, ৩ঃ ৪-৬)।
তিনি যীশুকে আপনার নিকট আসিতে দেখিলেন, আর কহিলেন, এই দেখ, ঈশ্বরের মেষ শাবক উনি সেই ব্যক্তি, যাহার বিষয় আমি বলিয়াছিলাম, আমার পশ্চাৎ এমন এক ব্যক্তি আসিতেছেন যিনি আমার অগ্রগণ্য হইলেন। কেননা তিনি আমার পূর্বে ছিলেন। আর আমি তাঁহাকে চিনিতাম না। কিন্তু তিনি যেন ইস্রায়েলের নিকট প্রকাশিত হন, এইজন্য আমি আসিয়া জলে বাপ্তাইজ করিতেছি (যোহন, ১: ১৯-৩৭)।

হযরত ঈসা (আ)-এর নবুওয়াত ও ইন্‌ন্জীল লাভের ঘটনাটি বার্নাবাসের বাইবেলে নিম্নরূপ বর্ণিত হইয়াছে: "স্বয়ং তিনি আমাকে (বার্ণাবাসকে) বলিয়াছেন যে, যখন তিরিশ বছর বয়স তাঁহার পূর্ণ হইয়াছিল তখন একদা যয়তুন সংগ্রহের জন্যে মাকে সাথে লইয়া তিনি ঐ পাহাড়ে আরোহণ করিয়াছিলেন। মধ্যাহ্নকালীন প্রার্থনার সময় তিনি নামাযে রত, সহসা গায়েবী আওয়াজ শুনিতে পাইলেনঃ "প্রভু দয়াময়"। পর মুহূর্তে অতীব উজ্জ্বল আলোয় উদ্ভাসিত হইলেন। তিনি তাঁহাকে বেষ্টন করিয়া দাঁড়াইলেন। অসংখ্য ফেরেশতা যাহাদের কণ্ঠে 'সালাম সালাম আল্লাহর পক্ষ হইতে' এই রব ধ্বনিত হইতে লাগিল, দীপ্ত আর্শির মত উজ্জ্বল একখানা কিতাব জিবরাঈল তাঁহাকে উপহার দিলেন। ঈসার সিনা মুবারকে কিতাবখানা অবতীর্ণ হইল" (বার্নাবাসের বাইবেল, পৃ. ৮)।

লুক লিখিত বাইবেলে বলা হইয়াছে, "যে সমস্ত লোক ইয়াহইয়ার নিকট আসিয়াছিল তাহারা বাপ্তিস্ম গ্রহণ করিবার সময় ঈসাও বাপ্তিস্ম গ্রহণ করিলেন। বাপ্তিস্মের পরে ঈসা যখন মুনাজাত করিতেছিলেন, তখন আসমান খুলিয়া গেল এবং পাক রূহ কবুতরের মত হইয়া তাঁহার উপর নামিয়া আসিলেন; প্রায় তিরিশ বৎসর বয়সে ঈসা তাঁহার কাজে নামিলেন" (আরও দ্র. মার্ক, ১: ১০-১৩; লুক, ৩: ২১-২৩)। বার্নাবাসের বাইবেলে দেখা যায়, তিনি ত্রিশ বৎসর বয়সে পদার্পণের পর যয়তুন পাহাড়ে দুপুর বেলায় নবুওয়াত ও ইন্জীল লাভ করেন। লুক লিখিত প্রেরিত অধ্যায়ে উল্লিখিত হইয়াছে যে, জেরুসালেম শহর হইতে এই পাহাড়টি প্রায় আধা মাইল দূরে ছিল (প্রেরিত, ১: ১২)। যয়তুন পাহাড়কে ইন্‌ন্জীল অবতরণের স্থল ধরিলে আল-কুরআনের একটি ইঙ্গিতের সাথেও সেই তথ্য মিলিয়া যায়। সূরা আত-তীনে ইরশাদ হইয়াছে: . وَالتِّينِ وَالزَّيْتُونِ . وطُورِ سِينِينَ، وَهُذَا الْبَلَدِ الْأَمِينِ .
"শপথ তীন ও যায়তুন-এর, শপথ সিনাই পর্বতের এবং শপথ এই নিরাপদ নগরীর" (সূরা তীন, ১-৩)।

উপরিউক্ত আয়াতে আল্লাহপাক সম্ভবত প্রসিদ্ধ গ্রন্থাবলী অবতরণ স্থলের মর্যাদা প্রদানে সেইগুলির নামে শপথ করিয়াছেন। কেননা স্থানগুলি আসমান ও দুনিয়ার মিলন স্থল, তূরে সীনায় হযরত মূসা (আ)-এর উপর তাওরাত নাযিল হয়। তেমনিভাবে নিরাপদ নগরী বলিতে মক্কা নগরীকে বুঝানো হইয়াছে যাহার হেরা পর্বতে আল-কুরআন নাযিল হয়। তাই ইন্‌ন্জীল যেহেতু যয়তুন পর্বতে নাযিল হয়, আল্লাহ পাক সেই পর্বতেরও শপথ করেন। আল্লামা ইবন কাছীর প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আবু যুরআ আদ-দিমাশকী-এর সূত্রে উল্লেখ করেন যে, রমযানের আঠারো তারিখ রাত্রে হযরত ঈসা ইবন মারয়ামের উপর ইন্‌ন্জীল নাযিল করা হয়। আর তাওরাত নাযিল হওয়ার ৪৮২ বছর পরে যাবুর নাযিল করা হয় এবং যাবুর নাযিল হওয়ার ১০৫০ বছর পর ইন্জীল নাযিল করা হয় অর্থাৎ তাওরাত নাযিল হওয়ার ১৫৩২ বৎসর ইন্‌ন্জীল নাযিল করা হয় (ইবন কাছীর, প্রাগুক্ত, পৃ. ৭২)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 কুরআন ও হাদীছে হযরত ঈসা (আ)

📄 কুরআন ও হাদীছে হযরত ঈসা (আ)


হযরত ঈসা (আ) যুগে যুগে প্রেরিত নবীগণের অন্যতম মহান নবী। তাই ইসলামের মৌলিক উৎস কুরআন-হাদীসেও তাঁহার কথা আলোচনা করা হইয়াছে। এমনকি পূর্ববর্তী আম্বিয়ায়ে কিরামের মধ্যে আল-কুরআনে যাহাদের কথা বেশী বেশী আলোচনায় আসিয়াছে, তন্মেধ্যে হযরত ঈসা (আ) অন্যতম |
কুরআন মজীদে হযরত ঈসা' (আ)-এর জীবনের পূর্ণাঙ্গ ইতিবৃত্ত পাওয়া না গেলেও তাঁহার জীবন-প্রবাহের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ও ঘটনাবলী বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হইয়াছে। অধিকন্তু তাঁহার পূত-পবিত্র জীবনের উপক্রমণিকা হিসাবে তাঁহার মা হযরত মরিয়ম (আ)-এর জীবনের ঘটনাবলীও তুলিয়া ধরা হইয়াছে। আলোচনার স্থানগুলি ছকে দেখানো হইল:
ক্রমিক সূরার সংখ্যা নাম সূরা ও আয়াতের ক্রমিক সংখ্যা যে নামের উল্লেখ আছে ঈসা মসীহ আয়দুল্লাহ ইব্‌ন মারয়াম মোট আয়াত
১। বাকারা ২:৮৭, ১৩৬, ১৩৭, ১৩৮, ২৫৩ ৩ ২ ৫ ২৪ ২। আল ইমরান ৩:৪২-৬৪, ৮৪ ৫ ১ ২ ৫ ৩। নিসা ৪: ১৫৬-১৫৯, ১৭১-১৭২ ৩৩ ২ ১ ৬ ৪। মাইদা ৫:১৭-৪৬, ৭২, ৭৫, ১১০, ১২০ ৬ ৫ ১০ ১৮ ৫। আন'আম ৬:৮৫ ১ ১ ১ ৬। তাওবা ৯:৩০-৩১ ১ ১ ২ ৭১। মারয়াম ১৯:১৬-৩৫ ১ ১ ১ ১৯ ৮। মুমিনূন ২৩:৫০ ১ ১ ৯। আহযাব ৩৩ঃ ৭-৮ ১ ১ ২ ১০। শূরা ৪২: ১৩ ১ ১ ১১। যুখরুফ ৪৩:৫৭-৬৩ ১ ১ ২ ১২। হাদীদ ৫৭:২৭ ১ ১ ১ ১৩। সাফ ৬১:৬-১৪ ২ ২ ২
মোট ২৫ ১১ ১ ২৩

কুরআন কারীমের মোট ১৩টি সূরায় তাঁহার ও তাঁহার মায়ের আলোচনা আসিয়াছে। সেই সূরাগুলির ক্রমানুসারে তাঁহার সম্পর্কে আয়াতসমূহ নিম্নে উল্লেখ করা হইল।

وَلَقَدْ آتَيْنَا مُوسَى الْكِتَابَ وَقَفَّيْنَا مِنْ بَعْدِهِ بِالرُّسُلِ وَآتَيْنَا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ الْبَيِّنَاتِ وَأَيَّدْنَاهُ بِرُوحِ الْقُدُسِ أَفَكُلْمَا جَاءَكُمْ رَسُولٌ بِمَا لا تَهْوَى أَنْفُسُكُمُ اسْتَكْبَرْتُمْ فَفَرِيقًا كَذَّبْتُمْ وَفَرِيقًا تَقْتُلُونَ .
"এবং নিশ্চয় আমি মূসাকে কিতাব দিয়াছি এবং তাহার পরে পর্যায়ক্রমে রাসূলগণকে প্রেরণ করিয়াছি, মারয়াম তনয় ঈসাকে স্পষ্ট প্রমাণ দিয়াছি এবং পবিত্র আত্মা দ্বারা তাহাকে শক্তিশালী করিয়াছি। তবে কি যখনই কোন রাসূল এমন কিছু আনিয়াছে যাহা তোমাদের মনঃপূত নহে তখনই তোমরা অহংকার করিয়াছ আর কতককে অস্বীকার করিয়াছ এবং কতককে হত্যা করিয়াছ" (২:৮৭)?

قُولُوا آمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنْزِلَ إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَاسْمَعِيلَ وَاسْحَقَ وَيَعْقُوبَ وَالْأَسْبَاطِ وَمَا أُوتِيَ مُوسَى وَعِيسَى وَمَا أُوتِيَ النَّبِيُّونَ مِنْ رَبِّهِمْ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِّنْهُمْ وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ .
"তোমরা বল, আমরা আল্লাহতে ঈমান রাখি এবং যাহা আমাদের প্রতি এবং ইব্রাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়াকুব ও তাঁহার বংশধরগণের প্রতি অবতীর্ণ হইয়াছে এবং যাহা তাঁহাদের প্রতিপালকের নিকট হইতে' মূসা, ঈসা ও অন্যান্য নবীগণকে দেওয়া হইয়াছে। আমরা তাঁহাদের মধ্যে কোন পার্থক্য করি না এবং আমরা তাঁহার নিকট আত্মসমর্পণকারী" (২: ১৩৬)।

تِلْكَ الرُّسُلُ فَضَّلْنَا بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ مِنْهُمْ مَنْ كَلَّمَ اللهُ وَرَفَعَ بَعْضَهُمْ دَرَجَتِ وَآتَيْنَا عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ البَيِّنَاتِ وَأَيَّدَنَهُ بِرُوحِ الْقُدُسِ وَلَوْ شَاءَ اللهُ مَا اقْتَتَلَ الَّذِينَ مِنْ بَعْدِهِمْ مِنْ بَعْدِ مَا جَاءَتْهُمُ الْبَيِّنَاتُ وَلَكِن اخْتَلَفُوا فَمِنْهُمْ مَنْ أَمَنَ وَمِنْهُمْ مَنْ كَفَرَ وَلَوْ شَاءَ اللهُ مَا اقْتَتَلُوا وَلَكِنَّ اللَّهَ يَفْعَلُ مَا يُرِيدُ.
"এই রাসূলগণ, আমি তাহাদের মধ্যে কাহাকেও কাহারও উপর শ্রেষ্ঠত্ব দিয়াছি। তাহাদের মধ্যে এমন কেহ রহিয়াছে যাহার সহিত আল্লাহ কথা বলিয়াছেন, আবার কাহাকেও উচ্চ মর্যাদায় উন্নীত করিয়াছেন। মারয়াম তনয় ঈসাকে স্পষ্ট প্রমাণ প্রদান করিয়াছি ও পবিত্র আত্মা দ্বারা তাহাকে শক্তিশালী করিয়াছি। আল্লাহ ইচ্ছা করিলে তাহাদের পরবর্তীরা তাহাদের নিকট স্পষ্ট প্রমাণ সমাগত হওয়ার পর পারস্পরিক যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হইত না; কিন্তু তাহাদের মধ্যে মতভেদ ঘটিল। ফলে তাহাদের কতক বিশ্বাস করিল এবং কতক কুফরী করিল। আল্লাহ্ ইচ্ছা করিলে তাহারা পারস্পরিক যুদ্ধ-বিগ্রহে লিপ্ত হইত না; কিন্তু আল্লাহ যাহা ইচ্ছা তাহাই করেন" (২ঃ ২৫৩)।

إِذْ قَالَتِ الْمَلَئِكَةُ يُمَرِّيمُ إِنَّ اللهَ يُبَشِّرُكَ بِكَلِمَةٍ مِنْهُ اسْمُهُ الْمَسِيحُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ وَجِيْهَا فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَمِنَ الْمُقَرَّبِينَ ، وَيُكَلِّمُ النَّاسَ فِي الْمَهْدِ وَكَهْلاً وَمِنَ الصَّلِحِينَ ، قَالَتْ رَبِّ أَنِّي يَكُونُ لِي وَلَدٌ وَلَمْ يَمْسَسْنِي بَشَرٌ قَالَ كَذلِكَ اللهُ يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ إِذَا قَضَى أَمْرًا فَإِنَّمَا يَقُولُ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ ، وَيُعَلِّمُهُ الْكِتَبَ والحكمة والتَّوْرَةَ وَالْإِنْجِيلَ وَرَسُولاً إِلى بَنِي إِسْرَائِيلَ أَنِّي قَدْ جِئْتُكُمْ بِآيَةٍ مِّنْ رَبِّكُمْ أَنِّي أَخْلُقُ لَكُمْ مِنَ الطيْنِ كَهَيْئَةِ الطَّيْرِ فَانْفُخُ فِيهِ فَيَكُونُ طَيْرًا بِإِذْنِ اللهِ وَأَبْرِئُ الْأَكْمَهَ وَالْأَبْرَصَ وَأَحْيِ الْمَوْتَى بِإِذْنِ اللَّهِ وَأُنَبِّئُكُمْ بِمَا تَأْكُلُونَ وَمَا تَدْخِرُونَ فِي بُيُوتِكُمْ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَةً لَكُمْ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ ، وَمُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَى مِنَ التَّوْرَةِ وَلَأُحِلَّ لَكُمْ بَعْضَ الَّذِي حُرِّمَ عَلَيْكُمْ وَجِئْتُكُمْ بِآيَةٍ مِنْ رَبِّكُمْ فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ ، إِنَّ اللَّهَ رَبِّي وَرَبُّكُمْ فَاعْبُدُوهُ هَذَا صِرَاطٍ مُسْتَقِيمُ . فَلَمَّا أَحَسٌ عِيسَى مِنْهُمُ الْكُفْرَ قَالَ مَنْ أَنْصَارِي إِلَى اللَّهِ قَالَ الحَوَارِيُّونَ نَحْنُ أَنْصَارُ اللهِ أَمَنَّا بِاللهِ وَاشْهَدْ بَأَنَّا مُسْلِمُونَ . رَبَّنَا آمَنَّا بِمَا أَنْزَلْتَ وَاتَّبَعْنَا الرَّسُولَ فَاكْتُبْنَا مَعَ الشَّهِدِينَ ، وَمَكَرُوا وَمَكَرَ اللهُ وَاللَّهُ خَيْرُ المُكِرِينَ ، إِذْ قَالَ اللَّهُ يُعِيسَى إِنِّي مُتَوَفِّيْكَ وَرَافِعُكَ إِلَى وَمُطَهِّرُكَ مِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا وَجَاعِلُ الَّذِينَ اتَّبَعُوكَ فَوْقَ الَّذِينَ كَفَرُوا إِلَى يَوْمِ الْقِيمَةِ ثُمَّ إِلَى مَرْجِعُكُمْ فَاحْكُمُ بَيْنَكُمْ فِيْمَا كُنْتُمْ فِيْهِ تَخْتَلِفُونَ ، فَأَمَّا الَّذِينَ كَفَرُوا فَأَعَذِّبْهُمْ عَذَابًا شَدِيدًا فِي الدُّنْيَا وَالْآخِرَةِ وَمَا لَهُمْ مِنْ نُصِرِينَ ، وَأَمَّا الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّلِحَتِ فَيُوَفِّيْهِمْ أُجُورَهُمْ وَاللهُ لا يُحِبُّ الظَّلِمِينَ .
"স্মরণ কর, যখন ফেরেশতাগণ বলিল, হে মারয়াম! আল্লাহ তোমাকে তাঁহার পক্ষ হইতে একটি কলেমার সুসংবাদ দিতেছেন। তাহার নাম মসীহ, মারয়াম তনয় ঈসা, সে ইহলোক ও পরলোকে সম্মানিত এবং সন্নিধ্যপ্রাপ্তগণের অন্যতম হইবে। সে দোলনায় থাকা অবস্থায় ও পরিণত বয়সে মানুষের সহিত কথা বলিবে এবং সে হইবে পুণ্যবানদের একজন। সে বলিল, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে কোন পুরুষ স্পর্শ করে নাই, আমার সন্তান হইবে কীভাবে? তিনি বলিলেন, এইভাবেই, আল্লাহ যাহা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন। তিনি যখন কিছু স্থির করেন তখন বলেন, 'হও' এবং উহা হইয়া যায়। এবং তিনি তাহাকে শিক্ষা দিবেন কিতাব, হিকমত, তাওরাত ও ইনজীল এবং তাহাকে বনী ইসরাঈলের জন্য রাসূল করিবেন। সে বলিবে, আমি তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হইতে তোমাদের নিকট নিদর্শন লইয়া আসিয়াছি। আমি তোমাদের জন্য কর্দম দ্বারা একটি পক্ষীসদৃশ আকৃতি গঠন করিব, অতঃপর উহাতে আমি ফুৎকার দিব, ফলে আল্লাহ্র হুকুমে উহা পাখি হইয়া যাইবে। আমি জন্মান্ধ ও কুষ্ঠ ব্যাধিগ্রস্তকে নিরাময় করিব এবং আল্লাহ্র হুকুমে মৃতকে জীবন্ত করিব। তোমরা তোমাদের গৃহে যাহা আহার কর ও মওজুদ কর তাহা তোমাদিগকে বলিয়া দিব। তোমরা যদি মুমিন হও তবে উহাতে তোমাদের জন্য নিদর্শন রহিয়াছে। আমি আসিয়াছি তোমাদের সম্মুখে তাওরাতের যাহা রহিয়াছে উহার সমর্থকরূপে ও তাহাদের জন্য যাহা নিষিদ্ধ ছিল উহার কতগুলিকে বৈধ করিতে এবং আমি তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ হইতে তোমাদের নিকট নিদর্শন লইয়া আসিয়াছি। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর আর আমাকে অনুসরণ কর। নিশ্চয়ই আল্লাহ আমার প্রতিপালক এবং তোমাদেরও প্রতিপালক, সুতরাং তোমরা তাঁহার ইবাদত করিবে। ইহাই সরল পথ। যখন ঈসা তাহাদের অবিশ্বাস উপলব্ধি করিল তখন সে বলিল, আল্লাহর পথে কাহারা আমার সাহায্যকারী? হাওয়ারীগণ বলিল, আমরাই আল্লাহ্ পথে সাহায্যকারী। আমরা আল্লাহে ঈমান আনিয়াছি। আমরা আত্মসমর্পণকারী, তুমি ইহার সাক্ষী থাক। হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি যাহা অবতীর্ণ করিয়াছ তাহাতে আমরা ঈমান আনিয়াছি এবং আমরা এই রাসূলের অনুসরণ করিয়াছি। সুতরাং আমাদিগকে সাক্ষ্যদানকারীদের তালিকাভুক্ত কর। আর তাহারা চক্রান্ত করিয়াছিল, আল্লাহও কৌশল করিয়াছিলেন, আল্লাহ কৌশলীদের শ্রেষ্ঠ। স্মরণ কর, যখন আল্লাহ বলিলেন, হে ঈসা! আমি তোমার কাল পূর্ণ করিতেছি এবং আমার নিকট তোমাকে তুলিয়া লইতেছি এবং যাহারা সত্যকে প্রত্যাখ্যান করিয়াছে তাহাদের মধ্য হইতে তোমাকে পবিত্র করিতেছি। আর তোমার অনুসারিগণকে কিয়ামত পর্যন্ত কাফিরদের উপর প্রাধান্য দিতেছি। অতঃপর আমার কাছে তোমাদের প্রত্যাবর্তন। তারপর যে বিষয়ে তোমাদের মতান্তর ঘটিতেছে আমি উহা মীমাংসা করিয়া দিব। যাহারা সত্য প্রত্যাখ্যান করিয়াছে আমি তাহাদিগকে ইহকালে ও পরকালে কঠোর শাস্তি প্রদান করিব এবং তাহাদের কোন সাহায্যকারী নাই। আর যাহারা ঈমান আনিয়াছে এবং সৎকর্ম করিয়াছে, তিনি তাহাদের প্রতিফল পুরাপুরিভাবে প্রদান করিবেন। আল্লাহ জালিমদেরকে পছন্দ করেন না" (৩:৪৫-৫৭)।

إِنَّ مَثَلَ عِيْسَى عِنْدَ اللَّهِ كَمَثَلِ أَدَمَ خَلَقَهُ مِنْ تُرَابٍ ثُمَّ قَالَ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ
"আল্লাহর নিকট ঈসার দৃষ্টান্ত আদমের দৃষ্টান্ত সদৃশ। তিনি তাহাকে মৃত্তিকা হইতে সৃষ্টি করিয়াছিলেন, অতঃপর তাহাকে বলিয়াছিলেন, 'হও', ফলে সে হইয়া গেল" (৩ঃ ৫৯)।

قُلْ أَمَنَّا بِاللَّهِ وَمَا أُنْزِلَ عَلَيْنَا وَمَا أُنْزِلَ عَلَى إِبْرَاهِيمَ وَاسْمُعِيلَ وَإِسْحَقَ وَيَعْقُوبَ وَالْأَسْبَاطِ وَمَا أُوتِيَ مُوسى وَعِيسَى وَمَا أُوتِيَ النَّبِيُّونَ مِنْ رَبِّهِمْ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ مِّنْهُمْ وَنَحْنُ لَهُ مُسْلِمُونَ .
"বল, আমরা আল্লাহতে এবং আমাদের প্রতি যাহা অবতীর্ণ হইয়াছে এবং ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়া'কুব ও তাঁহার বংশধরগণের প্রতি যাহা অবর্তীর্ণ হইয়াছিল এবং যাহা মূসা ও অন্যান্য নবীগণকে তাহাদের প্রতিপালকের নিকট হইতে প্রদান করা হইয়াছে তাহাতে ঈমান আনিয়াছি, আমরা তাহাদের মধ্যে কোন তারতম্য করি না এবং তাঁহারই নিকট আত্মসমর্পণকারী" (৩:৮৪)।

وَبِكُفْرِهِمْ وَقَوْلِهِمْ عَلَى مَرْيَمَ بُهْتَانًا عَظِيمًا ، وَقَوْلِهِمْ إِنَّا قَتَلْنَا الْمَسِيحَ عِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ رَسُولَ اللَّهِ وَمَا قَتَلُوهُ وَمَا صَلَبُوهُ وَلَكِنْ شُبِّهَ لَهُمْ وَإِنَّ الَّذِينَ اخْتَلَفُوا فِيْهِ لَفِي شَكٍّ مِنْهُ مَا لَهُمْ بِهِ مِنْ عِلْمٍ إِلَّا اتَّبَاعَ الظَّنَّ وَمَا قَتَلُوهُ يَقِينَا . بَلْ رَّفَعَهُ اللَّهُ إِلَيْهِ وَكَانَ اللهُ عَزِيزًا حَكِيمًا ، وَإِنْ مِنْ أَهْلِ الْكِتَبِ إِلا لَيُؤْمِنُنَّ بِهِ قَبْلَ مَوْتِهِ وَيَوْمَ الْقِيمَةِ يَكُونُ عَلَيْهِمْ شَهِيدًا .
"এবং তাহারা লানত গ্রস্ত হইয়াছিল তাহাদের কুফুরীর জন্য ও মারয়ামের বিরুদ্ধে গুরুতর অপরাধের জন্য, আর আমরা আল্লাহর রাসূল মারয়াম তনয় ঈসা মসীহকে হত্যা করিয়াছি তাহাদের এই উক্তির জন্য। অথচ তাহারা তাহাকে হত্যা করে নাই, ক্রুশবিদ্ধও করে নাই, কিন্তু তাহাদের এইরূপ বিভ্রম হইয়াছিল। যাহারা তাহার বিরুদ্ধে মতভেদ করিয়াছিল তাহারা নিশ্চয়ই এই সম্বন্ধে সংশয়যুক্ত ছিল; এই সম্পর্কে অনুমানের অনুসরণ ব্যতীত তাহাদের কোন জ্ঞানই ছিল না। ইহা নিশ্চিত যে, তাহারা তাহাকে হত্যা করে নাই বরং আল্লাহ তাহাকে তাঁহার নিকট তুলিয়া লইয়াছেন; এবং আল্লাহ পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়। কিতাবীদের মধ্যে প্রত্যেকে তাহার মৃত্যুর পূর্বে তাহাকে বিশ্বাস করিবেই এবং কিয়ামতের দিন সে তাহাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে" (৪: ১৫৬-১৫৯)।

إِنَّا أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ كَمَا أَوْحَيْنَا إِلَى نُوحٍ وَالنَّبِيِّنَ مِنْ بَعْدِهِ وَأَوْحَيْنَا إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَإِسْمَعِيلَ وَإِسْحَقَ وَيَعْقُوبَ والأسباط وَعِيسَى وَأَيُّوبَ وَيُونُسَ وَهُرُونَ وَسُلَيْمَنَ وَآتَيْنَا دَاوُدَ زَبُورًا
"আমি তোমার নিকট ওহী প্রেরণ করিয়াছি, যেমন নূহ এবং তাহার পরবর্তী নবীগণের নিকট প্রেরণ করিয়াছিলাম, ইবরাহীম, ইয়া'কূব, ইসমাঈল, ইসহাক ও তাহার বংশধরগণ, ঈসা, আইয়ব, ইউনুস, হারুন এবং সুলায়মানের নিকটও ওহী প্রেরণ করিয়াছিলাম এবং দাউদকে যাবুর দিয়াছিলাম" (৪ঃ ১৬৩)।

يَأَهْلَ الْكِتٰبِ لَا تَغْلُوا فِي دِينِكُمْ وَلَا تَقُولُوا عَلَى اللهِ إِلا الْحَقَّ إِنَّمَا الْمَسِيحُ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ رَسُولُ اللَّهِ وَكَلِمَتُهُ الْقُهَا إِلَى مَرْيَمَ وَرُوْحٌ مِنْهُ فَامِنُوا بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ وَلَا تَقُولُوا ثَلْثَةٌ إِنْتَهُوا خَيْرًا لَكُمْ إِنَّمَا اللَّهُ إِلهُ وَاحِدٌ سُبْحْنَهُ أَنْ يَكُونَ لَهُ وَلَدٌ لَهُ مَا فِي السَّمواتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ وَكَفَى بِاللَّهِ وَكِيلاً ، لَنْ يُسْتَنْكِفَ الْمَسِيحُ أَنْ يَكُونَ عَبْدًا لِلَّهِ وَلَا المَلْئِكَةُ الْمُقَرِّبُونَ وَمَنْ يُسْتَنْكِفْ عَنْ عِبَادَتِهِ وَيَسْتَكْبِرْ فَسَيَحْشُرُهُمْ إِلَيْهِ جَمِيعًا
"হে কিতাবীগণ! তোমরা দীনের ব্যাপারে বাড়াবাড়ি করিও না এবং আল্লাহ সম্বন্ধে সত্য ব্যতীত বলিও না। মারয়াম তনয় ঈসা মসীহ তো আল্লাহ্র রাসূল এবং তাঁহার বাণী, যাহা তিনি মারয়ামের নিকট প্রেরণ করিয়াছিলেন ও তাঁহার আদেশ। সুতরাং তোমরা আল্লাহ ও তাঁহার রাসূলে ঈমান আন এবং বলিও না, তিন। নিবৃত্ত হও, ইহা তোমাদের জন্য কল্যাণকর হইবে। আল্লাহ তো একমাত্র ইলাহ, তাঁহার সন্তান হইবে—তিনি ইহা হইতে পবিত্র। আসমানে যাহা কিছু আছে ও যমীনে যাহা কিছু আছে সব আল্লাহরই, কর্ম বিধানে আল্লাহই যথেষ্ট। মসীহ আল্লাহর বান্দা হাওয়াকে কখনো হেয় জ্ঞান করে না এবং ঘনিষ্ঠ ফেরেশতাগণও করে না। আর কেহ তাঁহার ইবাদতকে হেয় জ্ঞান করিলে এবং অহংকার করিলে তিনি তাহাদের সকলকে তাহার নিকট একত্র করিবেন" (৪:১৭১-১৭২)।

لَقَدْ كَفَرَ الَّذِينَ قَالُوا إِنَّ اللَّهَ هُوَ الْمَسِيحُ ابْنُ مَرْيَمَ قُلْ فَمَنْ يَمْلِكُ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا إِنْ أَرَادَ أَنْ يُهْلِكَ الْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ وَأُمَّهُ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا وَلِلَّهِ مُلْكُ السَّمَواتِ وَالْأَرْضِ وَمَا بَيْنَهُمَا يَخْلُقُ مَا يَشَاءُ وَاللَّهُ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ .
"যাহারা বলে, মারয়াম তনয় মসীহই আল্লাহ, তাহারা তো কুফরী করিয়াছেই। বল, আল্লাহ মারয়াম তনয় মসীহ, তাহার মাতা এবং দুনিয়ার সকলকে যদি ধ্বংস করিতে ইচ্ছা করেন, তবে তাঁহাকে বাঁধা দিবার শক্তি কাহার আছে? আসমানসমূহে ও যমীনে এবং ইহাদের মধ্যে যাহা কিছু আছে তাহার সার্বভৌমত্ব আল্লাহরই। তিনি যাহা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান" (৫ঃ১৭)।

وَقَفَّبْنَا عَلَى أَثَارِهِمْ بِعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ مُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ التَّوْرَةِ وَأَتَيْنُهُ الْإِنْجِيلَ فِيهِ هُدًى وَنُورٌ ومُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ التَّوْرَةِ وَهُدًى وَمَوْعِظَةً لِلْمُتَّقِينَ . وَلَيَحْكُمْ أَهْلُ الْإِنْجِيلِ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فِيهِ وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْفُسِقُونَ .
"মারয়াম তনয় ঈসাকে তাহার পূর্বে অবতীর্ণ তাওরাতের সমর্থকরূপে উহাদের পশ্চাতে প্রেরণ করিয়াছিলাম এবং তাহার পূর্বে অবতীর্ণ তাওরাতের সমর্থকরূপে এবং মুত্তাকীদের জন্য পথের নির্দেশ ও উপদেশরূপে তাহাকে ইন্‌ন্জীল দিয়াছিলাম, ইহাতে ছিল পথের নির্দেশ ও আলো। ইনজীল অনুসারীগণ যেন আল্লাহ উহাতে যাহা অবতীর্ণ করিয়াছেন তদনুসারে বিধান দেয়। আল্লাহ যাহা অবতীর্ণ করিয়াছেন তদনুসারে যাহারা বিধান দেয় না তাহারা সত্যত্যাগী" (৫ঃ ৪৬-৪৭)।

لَقَدْ كَفَرَ الَّذِينَ قَالُوا إِنَّ اللَّهَ ثَالِثُ ثَلْقَةٍ وَمَا مِنْ إِله إِلا إِلهَ وَاحِدٌ وَإِنْ لَمْ يَنْتَهُوا عَمَّا يَقُولُونَ لَيَمَسَّنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ ، أَفَلَا يَتُوبُونَ إِلَى اللهِ وَيَسْتَغْفِرُونَهُ وَاللَّهُ غَفُورٌ رَّحِيمٌ ، مَا الْمَسِيحُ ابْنُ مَرْيَمَ إِلَّا رَسُولٌ قَدْ خَلَتْ مِنْ قَبْلِهِ الرُّسُلُ وَأُمَّهُ صِدِّيقَةٌ كَانَا يَأْكُلَانِ الطَّعَامَ أَنْظُرْ كَيْفَ نُبَيِّنَ لَهُمُ الْآيَاتِ ثُمَّ انْظُرْ أَنِّي يُؤْفَكُونَ
"যাহারা বলে, আল্লাহই মারয়াম তনয় মসীহ। তাহারা তো কুফরী করিয়াছেই। অথচ মসীহ বলিয়াছেন, হে বনু ইসরাঈল! তোমরা আমার প্রতিপালক আল্লাহর ইবাদত কর। কেহ আল্লাহর শরীক করিলে আল্লাহ তাহার জন্য জান্নাত নিষিদ্ধ করিবেন এবং তাহার আবাস জাহান্নাম। জালিমদের জন্য কোন সাহায্যকারী নাই। যাহারা বলে, আল্লাহ তো তিনের মধ্যে একজন, তাহারা কুফরী করিয়াছেই-যদিও এক ইলাহ ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নাই। তাহারা যাহা বলে তাহা হইতে নিবৃত্ত না হইলে তাহাদের মধ্যে যাহারা কুফরী করিয়াছে তাহাদের উপর মর্মন্তুদ শাস্তি আপতিত হইবেই। তবে কি তাহারা আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করিবে না এবং তাঁহার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করিবে না? আল্লাহ তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। মারয়াম তনয় মসীহ তো কেবল একজন রাসূল; তাহার পূর্বে বহু রাসূল গত হইয়াছে এবং তাহার মাতা সত্যনিষ্ঠ ছিল। তাহারা উভয়ে খাদ্যাহার করিত। দেখ, আমি উহাদের জন্য আয়াতসমূহ কিরূপ বিশদভাবে বর্ণনা করি। আরও দেখ, উহারা কিভাবে সত্যবিমুখ হয়" (৫ : ৭২-৭৫)।

لُعِنَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ عَلَى لِسَانِ دَاوُدَ وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ ذَلِكَ بِمَا عَصَوْا وَكَانُوا يَعْتَدُونَ. كَانُوا لَا يَتَنَاهَوْنَ عَنْ مُنْكَرٍ فَعَلُوهُ لَبِئْسَ مَا كَانُوا يَفْعَلُونَ
"বনী ইসরাঈলের মধ্যে যাহারা কুফরী করিয়াছিল তাহারা দাউদ ও মারয়াম তনয় কর্তৃক অভিশপ্ত হইয়াছিল। ইহা এই হেতু যে, তাহারা ছিল অবাধ্য ও সীমালংঘনকারী। তাহারা যেসব গর্হিত কার্য করিত উহা হইতে তাহারা একে অন্যকে বারণ করিত না। তাহারা যাহা করিত তাহা কতই না নিকৃষ্ট" (৫ : ৭৮-৭৯)।

لَتَجِدَنَّ أَشَدَّ النَّاسِ عَدَاوَةً لِلَّذِينَ آمَنُوا الْيَهُودَ وَالَّذِينَ أَشْرَكُوا وَلَتَجِدَنَّ أَقْرَبَهُمْ مَوَدَةٌ لِلَّذِينَ آمَنُوا الَّذِينَ قَالُوا إِنَّا نَصْرَى ذَلِكَ بِأَنَّ مِنْهُمْ قِسَيْسِينَ وَرُهْبَانًا وَأَنَّهُمْ لَا يَسْتَكْبِرُونَ .
"অবশ্যই মুমিনদের প্রতি শত্রুতায় মানুষের মধ্যে ইয়াহুদী ও মুশরিকদিগকেই তুমি সর্বাধিক উগ্র দেখিবে এবং যাহারা বলে, 'আমরা খৃস্টান' মানুষের মধ্যে তাহাদিগকেই তুমি মুমিনদের নিকটতর বন্ধুরূপে দেখিবে। কারণ তাহাদের মধ্যে অনেক পণ্ডিত ও সংসারবিরাগী আছে, আর তাহারা অহংকারও করে না" (৫:৮২)।

إِذْ قَالَ اللهُ يُعِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ اذْكُرْ نِعْمَتِي عَلَيْكَ وَعَلَى وَالِدَتِكَ إِذْ أَيَّدَتُكَ بِرُوحِ الْقُدُسِ تُكَلِّمُ النَّاسَ فِي الْمَهْدِ وَكَهْلاً وَإِذْ عَلَّمْتُكَ الكتب والحِكْمَةَ وَالتَّوْرَاةَ وَالانْجِيلَ وَإِذْ تَخْلُقُ مِنَ الطَّيْنِ كَهَيْئَةِ الطَّيْرِ باذني فَتَنْفُخُ فِيهَا فَتَكُونُ طَيْرًا بِاذْنِي وَتُبْرِئُ الْأَكْمَهَ وَالْأَبْرَصَ بِاذْنِي وَاذْ تُخْرِجُ الْمَوْتَى بِاذْنِي وَإِذْ كَفَفْتُ بَنِي إِسْرَائِيلَ عَنْكَ إِذْ جِئْتَهُمْ بِالْبَيِّنَتِ فَقَالَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْهُمْ إِنْ هُذَا إِلَّا سِحْرٌ مُّبِينٌ .
"এবং যখন আল্লাহ বলিলেন, হে মারয়াম তনয় ঈসা! তোমার প্রতি ও তোমার জননীর প্রতি আমার অনুগ্রহ স্মরণ করঃ পবিত্র আত্মা দ্বারা আমি তোমাকে শক্তিশালী করিয়াছিলাম এবং তুমি দোলনায় থাকা অবস্থায় ও পরিণত বয়সে মানুষের সহিত কথা বলিতে, তোমাকে কিতাব, হিকমত, তাওরাত ও ইনজীল শিক্ষা দিয়াছিলাম, তুমি কর্দম দ্বারা আমার অনুমতিক্রমে পাখি সদৃশ আকৃতি গঠন করিতে এবং উহাতে ফুৎকার দিতে, ফলে আমার অনুমতিক্রমে উহা পাখি হইয়া যাইত। জন্মান্ধ ও কুষ্ঠ ব্যাধিগ্রস্তকে তুমি আমার অনুমতিক্রমে নিরাময় করিতে এবং আমার অনুমতিক্রমে মৃতকে জীবিত করিতে। আমি তোমা হইতে বনী ইসরাঈলকে নিবৃত্ত রাখিয়াছিলাম। তুমি যখন তাহাদের নিকট স্পষ্ট নিদর্শন আনিয়াছিলে তখন তাহাদের মধ্যে যাহারা কুফরী করিয়াছিল তাহারা বলিয়াছিল, ইহা তো স্পষ্ট যাদু" (৫: ১১০)।

وَإِذْ قَالَ اللَّهُ يُعِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ أَنْتَ قُلْتَ لِلنَّاسِ اتَّخِذُونِي وَأُمِّيَ الْهَيْنِ مِنْ دُوْنِ اللَّهِ قَالَ سُبْحْنَكَ مَا يَكُونُ لِي أَنْ أَقُولَ مَا لَيْسَ لِي بِحَقِّ إِنْ كُنْتُ قُلْتُهُ فَقَدْ عَلِمْتَهُ تَعْلَمُ مَا فِي نَفْسِي وَلَا أَعْلَمُ مَا فِي نَفْسِكَ إِنَّكَ أَنْتَ عَلامُ الْغُيُوبِ. مَا قُلْتُ لَهُمْ إِلا مَا أَمَرْتَنِي بِهِ أَنِ اعْبُدُوا اللهَ رَبِّي وَرَبَّكُمْ وَكُنْتُ عَلَيْهِمْ شَهِيدًا مَّا دُمْتُ فِيهِمْ فَلَمَّا تَوَفَّيْتَنِي كُنْتَ أَنْتَ الرَّقِيبَ عَلَيْهِمْ وَأَنْتَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ شَهِيدٌ . إِنْ تُعَذِّبْهُمْ فَإِنَّهُمْ عِبَادَكَ وَأَنْ تَغْفِرْ لَهُمْ فَإِنَّكَ أَنْتَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ .
"আল্লাহ যখন বলিবেন, "হে মারইয়াম তনয় 'ঈসা! তুমি কি লোকদিগকে বলিয়াছিলে যে, তোমরা আল্লাহ্ ব্যতীত আমাকে ও আমার জননীকে দুই ইলারূপে গ্রহণ কর?" সে বলিবে, "তুমিই মহিমান্বিত! যাহা বলার অধিকার আমার নাই তাহা বলা আমার পক্ষে শোভন নহে। যদি আমি তা বলিতাম তবে তুমি তো তাহা জানিতে। আমার অন্তরের কথা তো তুমি অবগত আছ, কিন্তু তোমার অন্তরের কথা আমি অবগত নহি; তুমি তো অদৃশ্য সম্বন্ধে সম্যক পরিজ্ঞাত।" তুমি আমাকে যে আদেশ করিয়াছ তাহা ব্যতীত তাহাদিগকে আমি কিছুই বলি নাই, তাহা এইঃ "তোমরা আমার ও তোমাদের প্রতিপালক আল্লাহর 'ইবাদত কর এবং যত দিন আমি তাহাদের মধ্যে ছিলাম তত দিন আমি ছিলাম তাহাদের কার্যকলাপের সাক্ষী, কিন্তু যখন তুমি আমাকে তুলিয়া লইলে তখন তুমিই তো ছিলে তাহাদের কার্যকলাপের তত্ত্বাবধায়ক এবং তুমিই সর্ববিষয়ে সাক্ষী।" "তুমি যদি তাহাদিগকে শাস্তি দাও তবে তাহারা তো তোমারই বান্দা, আর যদি তাহাদিগকে ক্ষমা কর তবে তুমি তো পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়" (৫: ১১৬-১১৮)।

وَزَكَرِيَّا وَيَحْيَى وَعِيسَى وَالْيَاسَ كُلُّ مِنَ الصَّلِحِينَ .
"এবং যাকারিয়‍্যা, ইয়াহ্ইয়া, ঈসা এবং ইলয়াসকেও সৎপথে পরিচালিত করিয়াছিলাম; ইহারা সকলে সজ্জনদিগের অন্তর্ভুক্ত" (৬:৮৫)।

وَقَالَتِ الْيَهُودُ عُزَيْرُنِ ابْنُ اللَّهِ وَقَالَتِ النَّصْرَى المَسِيحُ ابْنُ اللهِ ذَلِكَ قَوْلُهُمْ بِأَفْوَاهِهِمْ يُضَاهِئُونَ قَوْلَ الَّذِينَ كَفَرُوا مِنْ قَبْلُ قَتَلَهُمُ اللَّهُ أَنَّى يُؤْفَكُونَ . اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ وَالْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ وَمَا أُمِرُوا إِلا لِيَعْبُدُوا إِلها واحداً لا إِلهَ إِلا هُوَ سُبْحُنَهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ .
"ইয়াহুদীরা বলে, উযায়র আল্লাহ্র পুত্র এবং খৃস্টানরা বলে, মসীহ আল্লাহ্র পুত্র। ইহা তাহাদের মুখের কথা। পূর্বে যাহারা কুফরী করিয়াছিল উহারা তাহাদের মত কথা বলে। আল্লাহ উহাদিগকে ধ্বংস করুন। আর কোন্ দিকে উহাদিগকে ফিরাইয়া দেওয়া হইয়াছে! তাহারা আল্লাহ ব্যতীত তাহাদের পণ্ডিতগণকে ও সংসার বিরাগিগণকে তাহাদের প্রভুরূপে গ্রহণ করিয়াছে এবং মারয়াম তনয় মসীহকেও। কিন্তু উহারা এক ইলাহের ইবাদত করিবার জন্যই আদিষ্ট হইয়াছিল। তিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নাই। তাহারা যাহাকে শরীক করে তাহা হইতে তিনি কত পবিত্র" (৯: ৩০-৩১)!

وَاذْكُرْ فِي الْكِتٰبِ مَرْيَمَ إِذِ انْتَبَذَتْ مِنْ أَهْلِهَا مَكَانًا شَرْقِيًّا . فَاتَّخَذَتْ مِنْ دُونِهِمْ حِجَابًا فَأَرْسَلْنَا إِلَيْهَا رُوحَنَا فَتَمَثَّلَ لَهَا بَشَرًا سَوِيًّا . قَالَتْ إِنِّي أَعُوذُ بِالرَّحْمَنِ مِنْكَ إِنْ كُنْتَ تَقِيًّا . قَالَ إِنَّمَا أَنَا رَسُولُ رَبِّكَ لاهَبَ لَكِ غُلُمَّا زَكِيًّا . قَالَتْ أَنَّى يَكُونُ لِي غُلْمٌ وَلَمْ يَمْسَسْنِي بَشَرٌ وَلَمْ أَكُ بَغِيًّا . قَالَ كَذَلِكَ قَالَ رَبُّكِ هُوَ عَلَى هَيِّنٌ وَلِنَجْعَلَهُ أَيَةٌ لِلنَّاسِ وَرَحْمَةً مِنَّا وَكَانَ أَمْرًا مَّقْضِيًّا . فَحَمَلَتْهُ فَانْتَبَذَتْ بِهِ مَكَانًا قَصِيًّا . فَأَجَاءَهَا الْمَخَاضُ إِلَى جِذْعِ النَّخْلَةِ قَالَتْ يُلَيْتَنِي مِنْ قَبْلَ هذا وَكُنْتُ نَسَبًا مَنْسِيًّا . فَنَادَهَا مِنْ تَحْتِهَا أَلَّا تَحْزَنِي قَدْ جَعَلَ رَبُّكِ تَحْتَكِ سَرِيًّا . وَهُزِّي إِلَيْكِ بِجِذْعِ النَّخْلَةِ تُسْقِطَ عَلَيْكِ رُطَبًا جَنِيًّا . فَكُلِي وَاشْرَبِي وَقَرِّى عَيْنًا فَإِمَّا تَرَيَنَّ مِنَ الْبَشَرِ أَحَدًا فَقُولِي إِنِّي نَذَرْتُ لِلرَّحْمَنِ صَوْمًا فَلَنْ أَكَلِمَ الْيَوْمَ إِنْسِيًّا . فَأَتَتْ بِهِ قَوْمَهَا تَحْمِلُهُ قَالُوا يُرْيَمُ لَقَدْ جِئْتِ شَيْئًا فَرِّيًّا . يَا أُخْتَ هَرُوْنَ مَا كَانَ أَبُوكِ امْرَأَ سَوْءٍ وَمَا كَانَتْ أُمُّكِ بَغِيًّا . فَأَشَارَتْ إِلَيْهِ قَالُوا كَيْفَ نُكَلِّمُ مَنْ كَانَ فِي الْمَهْدِ صَبِيًّا - قَالَ إِنِّي عَبْدُ اللَّهِ أُثْنِيَ الْكِتٰبَ وَجَعَلَنِي نَبِيًّا ، وَجَعَلَنِي مُبْرَكًا أَيْنَ مَا كُنْتُ وَأَوْصُنِي بِالصَّلوٰةِ والزكوة مَا دُمْتُ حَيًّا ، وبَرَّاً بِوَالِدَتِي وَلَمْ يَجْعَلْنِي جَبَّارًا شَقِيًّا . وَالسَّلٰمُ عَلَى يَوْمَ وُلِدْتُ وَيَوْمَ أَمُوْتُ وَيَوْمَ أُبْعَثُ حَيًّا . ذلكَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ قَوْلَ الْحَقِّ الَّذِي فِيهِ يَمْتَرُونَ. مَا كَانَ لِلَّهِ أَنْ يَتَّخِذَ مِنْ وَلَدٍ سُبْحْنَهُ إِذَا قَضَى أَمْرًا فَإِنَّمَا يَقُولُ لَهُ كُنْ فَيَكُونُ. وَإِنَّ اللَّهَ رَبِّي وَرَبُّكُمْ فَاعْبُدُوهُ هَذَا صِرَاطٌ مُسْتَقِيمُ .
"বর্ণনা কর এই কিতাবে উল্লিখিত মারয়ামের কথা, যখন সে তাহার পরিবারবর্গ হইতে পৃথক হইয়া নিরালায় পূর্বদিকে এক স্থানে আশ্রয় লইল, অতঃপর উহাদিগ হইতে পর্দা করিল। অতঃপর আমি তাহার নিকট আমার রূহকে পাঠাইলাম। সে তাহার নিকট পূর্ণ মানবাকৃতিতে আত্মপ্রকাশ করিল। মারয়াম বলিল, তুমি যদি আল্লাহকে ভয় কর তবে আমি তোমা হইতে দয়াময়-এর শরণ লইতেছি। সে বলিল, আমি তো তোমার প্রতিপালক প্রেরিত, তোমাকে এক পবিত্র পুত্র দান করিবার জন্য। মারয়াম বলিল, কেমন করিয়া আমার পুত্র হইবে যখন আমাকে কোন পুরুষ স্পর্শ করে নাই এবং আমি ব্যভিচারিণীও নহি? সে বলিল, এইরূপই হইবে। তোমার প্রতিপালক বলিয়াছেন, ইঁহা আমার জন্য সহজসাধ্য এবং আমি উহাকে এইজন্য সৃষ্টি করিব যেন সে হয় মানুষের জন্য এক নিদর্শন এবং আমার নিকট হইতে এক অনুগ্রহ। ইহা তো এক স্থিরীকৃত ব্যাপার। তৎপর সে গর্ভে উহাকে ধারণ করিল, অতঃপর তৎসহ এক দূরবর্তী স্থানে চলিয়া গেল। প্রসব বেদনা তাহাকে এক খর্জুর বৃক্ষতলে আশ্রয় লইতে বাধ্য করিল। সে বলিল, হায় ইহার পূর্বে আমি যদি মরিয়া যাইতাম ও লোকের স্মৃতি হইতে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হইতাম। ফেরেশতারা তাহার নিম্নপার্শ্ব হইতে আহবান করিয়া তাহাকে বলিল, তুমি দুঃখ করিও না, তোমার পাদদেশে তোমার প্রতিপালক এক নহর সৃষ্টি করিয়াছেন, তুমি তোমার দিকে খর্জুর বৃক্ষের কাণ্ড নাড়া দাও, উহা তোমাকে সুপক্ক তাজা খর্জুর দান করিবে। সুতরাং আহার কর, পান কর ও চক্ষু জুড়াও। মানুষের মধ্যে কাহাকেও যদি তুমি দেখ তখন বলিও, আমি দয়াময়ের উদ্দেশে মৌনতা অবলম্বনের মানত করিয়াছি। সুতরাং আজ আমি কিছুতেই কোন মানুষের সহিত বাক্যালাপ করিব না। অতঃপর সে সন্তানকে লইয়া তাহার সম্প্রদায়ের নিকট উপস্থিত হইল। উহারা বলিল, হে মারয়াম! তুমি তো এক অদ্ভুত কাণ্ড করিয়া বসিয়াছ। হে হারুন ভগ্নি! তোমার পিতা অসৎ ব্যক্তি ছিল না এবং তোমার মাতাও ছিল না ব্যভিচারিণী। অতঃপর মারয়াম সন্তানের প্রতি ইংগিত করিল। উহারা বলিল, যে কোলের শিশু তাহার সহিত আমরা কেমন' করিয়া কথা বলিব? সে বলিল, আমি তো আল্লাহর বান্দা। তিনি আমাকে কিতাব দিয়াছেন, আমাকে নবী করিয়াছেন। যেখানেই আমি থাকি না কেন তিনি আমাকে বরকতময় করিয়াছেন। তিনি আমাকে নির্দেশ দিয়াছেন যত দিন জীবিত থাকি তত দিন সালাত ও যাকাত আদায় করিতে, আর আমাকে আমার মাতার প্রতি অনুগত করিয়াছেন এবং তিনি আমাকে করেন নাই উদ্ধত ও হতভাগ্য। আমার প্রতি শান্তি যেদিন আমি জন্মলাভ করিয়াছি, যেদিন আমার মৃত্যু হইবে এবং যেদিন জীবিত অবস্থায় আমি পুনরুত্থিত হইব। এই-ই মারয়াম তনয় ঈসা। আমি বলিলাম সত্য কথা, যে বিষয়ে উহারা বিতর্ক করে। সন্তান গ্রহণ করা আল্লাহ্র কাজ নহে; তিনি পবিত্র, মহিমাময়। তিনি যখন কিছু স্থির করেন তখন বলেন, 'হও' এবং উহা হইয়া যায়। আল্লাহ্ আমার প্রতিপালক ও তোমাদের প্রতিপালক। সুতরাং তোমরা তাঁহার ইবাদত কর, ইহাই সরল পথ" (১৯ : ১৬-৩৬)।

وَجَعَلْنَا ابْنَ مَرْيَمَ وَأُمَّهُ أَيَةً وَأَوَيْنُهُمَا إِلى ربوة ذات قَرَارٍ ومَعِين .
"এবং আমি মারয়াম তনয় ও তাহার জননীকে করিয়াছিলাম এক নিদর্শন, তাহাদিগকে আশ্রয় দিয়াছিলাম এক নিরাপদ ও প্রস্রবণ বিশিষ্ট উচ্চ ভূমিতে" (২৩:৫০)।

وَاِذْ أَخَذْنَا مِنَ النَّبِيِّنَ مِيْثَاقَهُمْ وَمِنْكَ وَمِنْ نُوحٍ وَأَبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ وَأَخَذْنَا مِنْهُمْ مِيثَاقًا غليظا
"স্মরণ কর যখন আমি নবীদের নিকট হইতে অংগীকার গ্রহণ করিয়াছিলাম এবং তোমার নিকট হইতেও এবং নূহ, ইবরাহীম, মূসা, মারয়াম তনয় ঈসার নিকট হইতেও। তাহাদের নিকট হইতে গ্রহণ করিয়াছিলাম দৃঢ় অংগীকার" (৩৩ঃ ৭)।

شَرَعَ لَكُمْ مِنَ الدِّيْنِ مَا وَصَّى بِهِ نُوحًا وَالَّذِي أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ وَمَا وَصَّيْنَا بِهِ إِبْرَاهِيمَ وَمُوسَى وَعِيسَى أَنْ أَقِيمُوا الدِّينَ وَلَا تَتَفَرَّقُوا فِيْهِ كَبُرَ عَلَى الْمُشْرِكِينَ مَا تَدْعُوهُمْ إِلَيْهِ اللَّهُ يَجْتَبِي إِلَيْهِ مَنْ يَشَاءُ وَيَهْدِي إِلَيْهِ مَنْ يُنيبُ .
"তিনি তোমাদের জন্য বিধিবদ্ধ করিয়াছেন দীন, যাহার নির্দেশ দিয়াছিলেন তিনি নূহকে আর আমি যাহা ওহী করিয়াছি তোমাকে এবং যাহার নির্দেশ দিয়াছিলাম ইবরাহীম, মূসা ও ঈসাকে, এই বলিয়া যে, তোমরা দীনকে প্রতিষ্ঠিত কর এবং উহাতে মতভেদ করিও না। তুমি মুশরিকদিগকে যাহার প্রতি আহবান করিতেছ তাহা উহাদের নিকট দুর্বহ মনে হয়। আল্লাহ যাহাকে, ইচ্ছা দীনের প্রতি আকৃষ্ট করেন এবং যে তাঁহার অভিমুখী তাহাকে দীনের দিকে পরিচালিত করেন" (৪২: ১৩)।

وَلَمَّا ضُرِبَ ابْنُ مَرْيَمَ مَثَلاً إِذَا قَوْمُكَ مِنْهُ يَصِدُّونَ
"যখন মারয়াম তনয়ের দৃষ্টান্ত উপস্থিত করা হয়, তখন তোমার সম্প্রদায় শোরগোল আরম্ভ করিয়া দেয়" (৪৩:৫৭)।

إِنْ هُوَ إِلا عَبْدُ أَنْعَمْنَا عَلَيْهِ وَجَعَلْنَهُ مَثَلاً لِبَنِي إِسْرَاءيْلَ
"সেতো ছিল আমারই এক বান্দা যাহাকে আমি অনুগ্রহ করিয়াছিলাম এবং করিয়াছিলাম বনী ইসরাঈলের জন্য দৃষ্টান্ত" (৪৩:৫৯)।

وَلَمَّا جَاءَ عِيسَى بِالْبَيِّنَتِ قَالَ قَدْ جِئْتُكُمْ بِالْحِكْمَةِ وَلَأُبَيِّنَ لَكُمْ بَعْضَ الَّذِي تَخْتَلِفُونَ فِيهِ فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ إِنَّ اللَّهَ هُوَ رَبِّي وَرَبُّكُمْ فَاعْبُدُوهُ هَذَا صِرَاطٍ مُسْتَقِيمٌ . فَاخْتَلَفَ الْأَحْزَابُ مِنْ بَيْنِهِمْ فَوَيْلٌ لِلَّذِينَ ظَلَمُوا مِنْ عَذَابِ يَوْمِ الِيم .
"ঈসা যখন স্পষ্ট নিদর্শনসহ আসিল তখন সে বলিয়াছিল, আমি তো তোমাদের নিকট আসিয়াছি প্রজ্ঞাসহ এবং তোমরা যে বিষয়ে মতভেদ করিতেছ তাহা স্পষ্ট করিয়া দিবার জন্য। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার অনুসরণ কর। আল্লাহই তো আমার প্রতিপালক এবং তোমাদেরও প্রতিপালক। অতএব তোমরা তাঁহার ইবাদত কর; ইহাই সরল পথ। অতঃপর উহাদের বিভিন্ন দল মতানৈক্য সৃষ্টি করিল; সুতরাং জালিমদের জন্য দুর্ভোগ মর্মন্তুদ দিবসের শাস্তির" (৪৩: ৬৩-৬৫)।

ثُمَّ قَفَّيْنَا عَلَى آثَارِهِمْ بِرُسُلِنَا وَقَفَّيْنَا بِعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ وَأَتَيْنَهُ الْإِنْجِيلَ وَجَعَلْنَا فِي قُلُوبِ الَّذِينَ اتَّبَعُوهُ رَافَةً وَرَحْمَةً وَرَهْبَانِيَّةٌ ابْتَدَعُوهَا مَا كَتَبْنَهَا عَلَيْهِمْ إِلا ابْتِغَاءَ رِضْوَانِ اللَّهِ فَمَا رَعَوْهَا حَقَّ رِعَايَتِهَا فَأَتَيْنَا الَّذِينَ آمَنُوا مِنْهُمْ أَجْرَهُمْ وَكَثِيرٌ مِّنْهُمْ فَسِقُونَ .
"অতঃপর আমি তাহাদেরকে পশ্চাতে অনুগামী করিয়াছিলাম আমার রাসূলগণকে এবং অনুগামী করিয়াছিলাম মারয়াম তনয় ঈসাকে, আর তাহাকে দিয়াছিলাম ইনজীল এবং তাহার অনুসারীদের অন্তরে দিয়াছিলাম করুণা ও দায়। কিন্তু সন্ন্যাসবাদ- ইহা তো উহারা নিজেরাই আল্লাহ্র সন্তুষ্টি লাভের জন্য প্রবর্তন করিয়াছিল। আমি উহাদিগকে ইহার বিধান দেই নাই। অথচ ইহাও উহারা যথাযথভাবে পালন করে নাই। উহাদের মধ্যে যাহারা ঈমান আনিয়াছিল, উহাদিগকে আমি- দিয়াছিলাম পুরস্কার এবং উহাদের অধিকাংশই সত্যত্যাগী" (৫৭: ২৭)।

وَإِذْ قَالَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ يُبَنِي إِسْرَاءِيلَ إِنِّي رَسُولُ اللَّهِ إِلَيْكُمْ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَى مِنَ التَّوْرَاةِ وَمُبَشِّرًا بِرَسُولٍ يَأْتِي مِنْ بَعْدِي اسْمُهُ أَحْمَدُ فَلَمَّا جَاءَهُمْ بِالْبَيِّنَتِ قَالُوا هَذَا سِحْرٌ مُّبِينٌ .
"স্মরণ কর, মারয়াম তনয় ঈসা বলিয়াছিল, হে বানু ইসরাঈল! আমি তোমাদের নিকট আল্লাহ্র রাসূল এবং আমার পূর্ব হইতে তোমাদের নিকট যে তাওরাত রহিয়াছে আমি তাহার সমর্থক এবং আমার পরে আহমাদ নামে যে রাসূল আসিবে আমি তাহার সুসংবাদদাতা। পরে সে যখন স্পষ্ট নিদর্শনসহ উহাদের নিকট আসিল তখন উহারা বলিতে লাগিল, ইহা তো এক স্পষ্ট যাদু" (৬১:৬)।

يُأَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُونُوا أَنْصَارَ اللهِ كَمَا قَالَ عِيسَى ابْنُ مَرْيَمَ لِلحَوَارِينَ مَنْ أَنْصَارِي إِلَى اللَّهِ قَالَ الحَوَارِبُونَ نَحْنُ أَنْصَارُ اللَّهِ فَأَمَنَتْ طَائِفَةٌ مِّنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ وَكَفَرَتْ طَائِفَةً فَأَيْدَنَا الَّذِينَ آمَنُوا عَلَى عَدُوِّهِمْ فَأَصْبَحُوا ظَهِرِينَ
"হে মু'মিনগণ আল্লাহর দীনের সাহায্যকারী হও, যেমন মারয়াম তনয় ঈসা হাওয়ারীগণকে বলিয়াছিল, আল্লাহর পথে কে আমার সাহায্যকারী হইবে? হাওয়ারীগণ বলিয়াছিল, আমরাই আল্লাহর পথে সাহায্যকারী। অতঃপর বনী ইসরাঈলের একদল ঈমান আনিল এবং একদল কুফরী করিল। পরে আমি মু'মিনদেরকে শক্তিশালী করিলাম তাহাদের শত্রুদিগের মুকাবিলায়; ফলে তাহারা বিজয়ী হইল" (৬১: ১৪)।

وَمَرْيَمَ ابْنَتَ عِمْرَنَ الَّتِي أَحْصَنَتْ فَرْجَهَا فَنَفَحْنَا فِيهِ مِنْ رُوحِنَا وَصَدَّقَتْ بِكَلِمَتِ رَبِّهَا وَكُتُبِهِ وَكَانَتْ مِنَ الفنتين.
"আরও দৃষ্টান্ত দিতেছেন ইমরান-তনয়া মারয়ামের, যে তাহার সতীত্ব রক্ষা করিয়াছিল, ফলে আমি তাহার মধ্যে রূহ ফুঁকিয়া দিয়াছিলাম এবং সে তাহার প্রতিপালকের বাণী ও তাঁহার কিতাবসমূহ সত্য বলিয়া গ্রহণ করিয়াছিল; সি ছিল অনুগতদের একজন" (৬৬: ১২)।

এই আয়াতে রূহ বলিতে হযরত ঈসা (আ)-এর রূহকেই বুঝানো হইয়াছে।

এখানে স্মর্তব্য যে, মহানবী (স)-এর হাদীছের পাশাপাশি তাঁহার সাহাবীগণ হইতে ও ইসরাঈলী উৎস হইতে যেসব বর্ণনা পাওয়া যায়, সেইগুলি নব্য ইসলাম ধর্মগ্রহণকারী সাহাবীগণ হইতে গ্রহণ করা হইয়াছে বলিয়া প্রতীয়মান হয়। তন্মধ্যে কা'ব আল-আহবার (র) ও ওয়াহব ইবন মুনাব্বিহ (র) প্রমুখের নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 ঈসা (আ)-এর ইন্জীল সম্পর্কে আল কুরআন

📄 ঈসা (আ)-এর ইন্জীল সম্পর্কে আল কুরআন


যুগে যুগে মানব সমাজে যে সমস্ত আসমানী গ্রন্থ অবতীর্ণ হইয়াছে তন্মধ্যে ইন্‌ঞ্জীলের প্রসঙ্গটি আল-কুরআনে অত্যন্ত গুরুত্বের সহিত বর্ণিত হইয়াছে। খোদ ইন্‌ন্জীল শব্দটি ৬টি সূরার ১২টি আয়াতে বারটি স্থানে উল্লেখ করা হইয়াছে (দ্র. মুহাম্মাদ ফুআদ আবদুল বাকী, আল-মু'জাম আল-মুফাস্ লি আলফাজিল কুরআনিল কারীম, page ৬৮৮)। সেই স্থানগুলি নিম্নরূপ: (১) ৩:৩, ৪৮, ৬৫; (২) ৫:৪৬, ৪৭, ৬৬, ৬৮, ১১০; (৩) ৭৫:১৫৭; (৪) ৯:১১১; (৫) ৪৮: ২৯; (৬) ৫৭:২৭।
উপরিউক্ত আয়াতগুলিতে হযরত ঈসা (আ)-কে প্রদত্ত ইন্জীল সম্পর্কেও যথাযথ মর্যাদা প্রদর্শনমূলক মৌলিক তথ্য প্রদান করা হইয়াছে এবং ইন্‌ন্জীল নাযিল হওয়ার পর এই গ্রন্থের ব্যাপারে খৃস্টানদের ভূমিকা সম্পর্কেও আলোকপাত করা হইয়াছে। আল-কুরআনে এই গ্রন্থ সম্পর্কে নিম্নরূপ তথ্য উপস্থাপন করা হইয়াছে।
(১) ইন্‌ন্জীল আল্লাহ প্রদত্ত আসমানী গ্রন্থঃ আল-কুরআনে স্পষ্ট ঘোষণা করা হয় যে, তাওরাত ও আল-কুরআনুল কারীমের মত ইন্‌ন্জীলও আল্লাহর পক্ষ হইতে নাযিলকৃত একটি আসমানী গ্রন্থের নাম। ইরশাদ হইয়াছে:
اللَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ. نَزَّلَ عَلَيْكَ الْكِتَبَ بِالحَقِّ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَأَنْزَلَ السُّورَةَ وَالْإِنْجِيلَ مِنْ قَبْلُ هُدًى لِلنَّاسِ وَأَنْزَلَ الْفُرْقَانَ إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا بِأَ يُتِ اللَّهِ لَهُمْ عَذَابٌ شَدِيدٌ ، وَاللَّهُ عَزِيزٌ ذُو انْتِقَامِ.
"আল্লাহ ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নাই, তিনি চিরঞ্জীব, সর্বসত্তার ধারক। তিনি সত্যসহ তোমার প্রতি কিতাব অবতীর্ণ করিয়াছেন, যাহা উহার পূর্বের কিতাবের সমর্থক। আর তিনি অবতীর্ণ করিয়াছিলেন তাওরাত ও ইন্‌ন্জীল, ইতোপূর্বে মানবজাতির সৎপথ প্রদর্শনের জন্য; এবং তিনি ফুরকানও অবতীর্ণ করিয়াছেন। যাহারা আল্লাহর নিদর্শনকে প্রত্যাখ্যান করে তাহাদের জন্য কঠোর শাস্তি আছে। আল্লাহ মহা পরাক্রমশালী, দণ্ডদাতা" (৩: ২-৪)।
উল্লেখ্য, উক্ত আয়াতে ফুরকান দ্বারা শেষ আসমানী গ্রন্থ আল-কুরআনকে বুঝাইয়াছে, যাহার পূর্বেই তাওরাত ও ইন্‌ন্জীল নাযিল করা হইয়াছিল।
(২) ইন্‌ন্জীল গ্রন্থ হযরত ঈসা (আ)-এর উপর অবতীর্ণ : ইন্জীল গ্রন্থটি যে ঈসা (আ)-এর উপর অবতীর্ণ করা হয় ইহা স্পষ্টভাবে বারবার উল্লেখ করা হইয়াছে। যেমন ইরশাদ হইয়াছে:
ثُمَّ قَفَّيْنَا عَلَى أَثَارِهِمْ بِرُسُلِنَا وَقَفَّيْنَا بِعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ وَأَتَيْنُهُ الْإِنْجِيلَ.
"অতঃপর আমি তাহাদের পশ্চাতে অনুগামী করিয়াছিলাম আমার রাসূলগণকে এবং অনুগামী করিয়াছিলাম মারয়াম তনয় ঈসাকে, আর তাহাকে দিয়াছিলাম ইন্‌ন্জীল" (৫৭:২৭)।
(৩) ইন্‌ন্জীল ছিল পথনির্দেশ ও আলোর উৎস: ইহা ছিল মানব জীবন পরিচালনার দিকনির্দেশনায় ভরপুর, যাহার অনুসরণ করিলে সেই সময়ে মানব জীবনে অন্ধকার দুরীভূত হইয়া জীবন চলার পথ আলোকিত হইত। ইরশাদ হইয়াছে:
وَقَفَّيْنَا عَلَى أَثَارِهِمْ بِعِيسَى ابْنِ مَرْيَمَ مُصَدِّقًا لِمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ التَّوْرَةِ. وَأَتَيْنُهُ الْإِنْجِيلَ فِيْهِ هُدًى ونور .
"মারয়াম তনয় ঈসাকে তাহার পূর্বে অবতীর্ণ তাওরাতের সমর্থকরূপে উহাদের পশ্চাতে প্রেরণ করিয়াছিলাম এবং তাহার পূর্বে অবতীর্ণ তাওরাতের সমর্থকরূপে এবং মুত্তাকীদের জন্য পথের নির্দেশ ও উপদেশরূপে তাহাকে ইন্‌ঞ্জীল দিয়াছিলাম, উহাতে ছিল পথের নির্দেশ ও আলো" (৫:৪৬)।
(৪) ইন্‌ন্জীল কিতাব তাওরাতের সত্যায়নকারী : মূসা (আ)-এর উপর নাযিলকৃত তাওরাতের মৌলিক শিক্ষার মধ্যে ঈসা (আ)-এর জীবনকালে যাহা কিছু সুরক্ষিত ছিল হযরত ঈসা (আ) তাহা নিজে মানিতেন এবং ইন্‌ন্জীল কিতাবও উহার সত্যতা প্রমাণ করিত (দ্র. মথি, ৫ : ১৭-১৮)। ইন্‌ন্জীলের শরীআত ছিল তাওরাতেরই পরিপূরক ও সমর্থক। ইন্‌ন্জীল দ্বারা তাওরাতের বিধান খুব অল্পই রহিত করা হয়। তাওরাতের শিক্ষার সমর্থনকারী ইন্‌ন্জীলের এই ভূমিকার কথা আল-কুরআনে উল্লেখ করা হইয়াছে:
وأَتَيْنُهُ الإِنْجِيلَ فِيهِ هُدًى وَنُورُ . وَمُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ التَّوْرَةِ .
"আর আমি তাহাকে ইন্‌ন্জীল প্রদান করিয়াছিলাম যাহার মধ্যে রহিয়াছে হিদায়াত ও আলো, আর উহা সত্যতা নিরূপণকারী পশ্চাতের বিষয়াদির তাওরাতের" (৫:৪৬)।
(৫) ইন্‌ন্জীল ছিল মুত্তাকীদের জন্য হেদায়াত ও উপদেশ বাণীতে সমৃদ্ধ: আল-কুরআনে আরও ঘোষণা করা হয় যে, জীবনে যারা তাকওয়া অবলম্বন করিতে চায়, তাহাদের জন্য ইন্‌ঞ্জীলে অনেক শিক্ষণীয় বিষয় রহিয়াছে। এমন নসীহত ও হৃদয়গ্রাহী কথাবার্তা রহিয়াছে যাহা দ্বারা তাহারা উপকৃত হইবে। তাহাদের হৃদয় মনে আলোড়ন সৃষ্টি করিবে। তাই উপরিউক্ত আয়াতে ইন্‌ন্জীল সম্পর্কে আর ও বলা হয়:
وَهُدًى وَمَوْعِظَةً لِلْمُتَّقِينَ
"আর আল্লাহভীরু লোকদের জন্য পূর্ণাঙ্গ হেদায়াত ও নসীহত ছিল" (৫:৪৬)।
(৬) ইন্‌ন্জীল ছিল ঈসা (আ)-এর উপর আল্লাহ্ পাকের স্মরণীয় নি'মত:
وَإِذْ قَالَ اللَّهُ يُعِيسَى ابْنَ مَرْيَمَ اذْكُرْ نِعْمَتِي عَلَيْكَ وَعَلَى وَالِدَتِكَ إِذْ أَيَّدَتُكَ بِرُوحِ الْقُدُسِ تُكَلِّمُ النَّاسَ في الْمَهْدِ وَكَهْلاً وَاذْ عَلَّمْتُكَ الْكِتَبَ والحِكْمَةَ وَالتَّوْرَاةَ وَالانْجِيلَ .
"আল্লাহ বলিবেন, হে মারয়াম তনয় ঈসা! তোমার প্রতি ও তোমার জননীর প্রতি আমার অনুগ্রহ স্মরণ কর। পবিত্র আত্মা দ্বারা আমি তোমাকে শক্তিশালী করিয়াছিলাম এবং তুমি দোলনায় থাকা অবস্থায় ও পরিণত বয়সে মানুষের সহিত কথা বলিতে, তোমাকে কিতাব, হিকমত, তাওরাত ও ইন্‌ন্জীল শিক্ষা দিয়াছিলাম" (৫:১১০)।
(৭) ইন্‌ন্জীল ছিল খৃস্ট সমাজের জন্য বিশেষ বিধান: আল-কুরআনে উল্লেখ আছে যে, ইন্‌ন্জীলে আল্লাহ্র নাযিল করা এমন আইন-কানুন ছিল যাহার দ্বারা তাহারা বিতর্কিত ও মতানৈক্যপূর্ণ বিষয়ে ফয়সালা ও বিচার করিত। ইরশাদ হইয়াছে:
وَلَيَحْكُمْ أَهْلُ الْإِنْجِيلِ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فِيْهِ وَمَنْ لَمْ يَحْكُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْفُسِقُونَ .
"ইন্‌ন্জীল বিশ্বাসিগণ উহাতে আল্লাহ্র নাযিল করা আইন অনুযায়ী যেন ফয়সালা ও বিচার করে। আর যাহারাই আল্লাহ্ নাযিল করা আইন অনুযায়ী বিচার ফায়সালা করিবে না, তাহারাই ফাসেক" (৫:৪৭)।
وَلَمَّا جَاءَ عِيسَى بِالْبَيِّنَتِ قَالَ قَدْ جِئْتُكُمْ بِالْحِكْمَةِ وَلِأُبَيِّنَ لَكُمْ بَعْضَ الَّذِي تَخْتَلِفُونَ فِيهِ فَاتَّقُوا اللَّهَ وَأَطِيعُونِ إِنَّ اللَّهَ هُوَ رَبِّي وَرَبُّكُمْ فَاعْبُدُوهُ هَذَا صِرَاطٍ مُّسْتَقِيمُ.
"ঈসা যখন স্পষ্ট নিদর্শনসহ আসিল, সে বলিয়াছিল, আমি তো তোমাদিগের নিকট আসিয়াছি প্রজ্ঞাসহ এবং তোমরা যে বিষয়ে মতভেদ করিতেছ তাহা স্পষ্ট করিয়া দিবার জন্য। সুতরাং তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার অনুসরণ কর। আল্লাহই তো আমার প্রতিপালক এবং তোমাদিগেরও প্রতিপালক। অতএব তোমরা তাঁহার ইবাদত কর; ইহাই সরল পথ" (৪৩:৬৩)।
(৮) ইন্জীল বানু ইসরাঈলের উন্নতি ও সমৃদ্ধির চাবিকাঠি:
وَلَوْ أَنَّهُمْ أَقَامُوا التَّوْرَةَ وَالْإِنْجِيلَ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِمْ مَنْ رَّبِّهِمْ لَا كَلُوا مِنْ فَوْقِهِمْ وَمِنْ تَحْتِ أَرْجُلِهِمْ مِنْهُمْ أُمَّةٌ مُقْتَصِدَةً وَكَثِيرٌ مِّنْهُمْ سَاءَ مَا يَعْمَلُونَ .
"তাহারা যদি তাওরাত, ইন্‌ন্জীল ও তাহাদের প্রতিপালকের নিকট হইতে তাহাদের প্রতি যাহা অবতীর্ণ হইয়াছে তাহা প্রতিষ্ঠিত করিত তাহা হইলে তাহারা তাহাদের উপর ও পদতল হইতে আহার্য লাভ করিত। তাহাদের মধ্যে একদল রহিয়াছে যাহারা মধ্যপন্থী, কিন্তু তাহাদের অধিকাংশ যাহা করে তাহা নিকৃষ্ট" (৫: ৬৬)।
(৯) আল-কুরআন ইন্‌ন্জীল গ্রন্থের সত্যায়নকারী: অতীত আসমানী গ্রন্থাবলীর মধ্য হইতে যাহা কিছু অবিকৃত অবস্থায় রহিয়াছে আল-কুরআন উহার সত্যতা স্বীকার করে এবং যাহা বিকৃত ও পরিবর্তিত তাহা সংশোধন করিয়াছে। এখন যাহা কিছু কুরআনের অনুরূপ ও উহার সহিত সংগতিপূর্ণ বলিয়া বিবেচিত হইবে তাহাই আল্লাহর কালাম মনে করিতে হইবে। এই মর্মে ইরশাদ হইয়াছে:
وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَبَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ مِنَ الْكِتَبِ وَمُهَيْمِنًا عَلَيْهِ فَاحْكُمْ بَيْنَهُمْ بِمَا أَنْزَلَ اللَّهُ وَلَا تَتَّبِعْ أَهْوَاءَهُمْ عَمَّا جَاءَكَ مِنَ الْحَقِّ لِكُلٍّ جَعَلْنَا مِنْكُمْ شِرْعَةً وَمِنْهَاجًا وَلَوْ شَاءَ اللَّهُ لَجَعَلَكُمْ أُمَّةً وَاحِدَةً وَلَكِنْ لِيَبْلُوكُمْ فِي مَا أَتْكُمْ فَاسْتَبِقُوا الْخَيْرَاتِ إِلَى اللَّهِ مَرْجِعُكُمْ جَمِيعًا فَيُنَبِّئُكُمْ بِمَا كُنْتُمْ فِيهِ تَخْتَلِفُونَ .
"তোমাদের প্রতি সত্যসহ কিতাব অবতীর্ণ করিয়াছি ইহার পূর্বে অবতীর্ণ কিতাবের সমর্থক ও সংরক্ষকরূপে। সুতরাং আল্লাহ যাহা অবতীর্ণ করিয়াছেন তদনুসারে তুমি তাহাদের বিচার নিষ্পত্তি করিও এবং যে সত্য তোমার নিকট আসিয়াছে তাহা ত্যাগ করিয়া তাহাদের খেয়াল-খুশির অনুসরণ করিও না। তোমাদের প্রত্যেকের জন্য আইন ও স্পষ্ট পথ নির্ধারণ করিয়াছি। ইচ্ছা করিলে আল্লাহ তোমাদিগকে এক জাতি করিতে পারিতেন। কিন্তু তিনি তোমাদিগকে যাহা দিয়াছেন তদ্দ্বারা তোমাদিগকে পরীক্ষা করিতে চাহেন। সুতরাং সৎকর্মে তোমরা প্রতিযোগিতা কর। আল্লাহ্ দিকেই তোমাদের সকলের প্রত্যাবর্তন। অতঃপর তোমরা যে বিষয়ে মতভেদ করিতে সে সম্বন্ধে তিনি তোমাদিগকে অবহিত করিবেন" (৫:৪৮)।
(১০) ইন্জীলের কিছু কিছু বিষয় আল-কুরআনের সহিত সাদৃশ্যপূর্ণ:
إِنَّ اللَّهَ اشْتَرَى مِنَ الْمُؤْمِنِينَ أَنفُسَهُمْ وَأَمْوَالَهُمْ بِأَنَّ لَهُمُ الْجَنَّةَ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ فَيَقْتُلُونَ وَيُقْتَلُونَ وَعْدًا عَلَيْهِ حَقًّا فِي التَّوْرَةِ وَالْإِنْجِيلِ وَالْقُرْآنِ وَمَنْ أَوْفَى بِعَهْدِهِ مِنَ اللَّهِ فَاسْتَبْشِرُوا بِبَيْعِكُمُ الَّذِي بَايَعْتُمْ بِهِ وَذَلِكَ هُوَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ .
"আল্লাহ্ মু'মিনদিগের নিকট হইতে তাহাদিগের জীবন ও সম্পদ ক্রয় করিয়া লইয়াছেন, তাহাদিগের জন্য জান্নাত আছে ইহার বিনিময়ে। তাহারা আল্লাহর পথে সংগ্রাম করে, নিধন করে ও নিহত হয়। তাওরাত, ইন্‌ন্জীল ও কুরআনে এই সম্পর্কে তাহাদের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি রহিয়াছে। নিজ প্রতিজ্ঞা পালনে আল্লাহ অপেক্ষা শ্রেষ্ঠতর কে আছে? তোমরা যে সওদা করিয়াছ সেই সওদার জন্য আনন্দ কর এবং উহাই মহা সাফল্য" (৯:১১১)।
উপরিউক্ত বাণীটির কিছু ইঙ্গিত বর্তমানে প্রচলিত বাইবেলে পাওয়া যায়। যেমন: "ধন্য যাহারা ধার্মিকতার জন্য তাড়িত হইয়াছে, কারণ স্বর্গরাজ্য তাহাদেরই" (মথি সুসমাচার, ৫: ১০)।
এই গ্রন্থের অন্যত্র আরও বলা হইয়াছে: "আর যে কোন ব্যক্তি আমার নামের জন্য বাটি, কি ভ্রাতা, কি ভাগিনা, কি পিতা, কি মাতা, কি সন্তান, কি গোত্র পরিত্যাগ করিয়াছে সে তাহার মত গুণ পাইবে; এবং অনন্ত জীবনের অধিকারী হইবে" (মথি সুসমাচার, ১৯: ২৯)।
(১১) ইন্‌ন্জীল হযরত মুহাম্মাদ (স)-এর নবুওয়তের দলীল : ইন্জীলকে শেষ নবী হযরত মুহাম্মাদ (স)-এর নবুওয়তের দলীল হিসাবে পেশ করা হইয়াছে। কেননা সেই ইন্‌ন্জীলে মহানবী (স)-এর শুভাগমনের সুসংবাদ ছিল, তাঁহার পরিচিতিমূলক গুণাবলী আলোচনা করা হইয়াছিল। এই মর্মে ইরশাদ হইয়াছে:
الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الرَّسُولَ النَّبِيَّ الْأُمِّيَّ الَّذِي يَجِدُونَهُ مَكْتُوبًا عِنْدَهُمْ فِي التَّوْرَةِ وَالْإِنْجِيلِ يَأْمُرُهُمْ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهُهُمْ عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبَتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الخَبَئِثَ وَيَضَعُ عَنْهُمْ إِصْرَهُمْ وَالْأَغْلُلَ الَّتِي كَانَتْ عَلَيْهِمْ .
"যাহারা অনুসরণ করে বার্তাবাহক উম্মী নবীর, যাহার উল্লেখ তাহারা লিপিবদ্ধ আকারে তাহাদের নিকট পাইবে তাওরাত ও ইন্‌ঞ্জীলে। এইভাবে যে, সে তাহাদের নেক কাজের আদেশ করে, বদ কাজ হইতে বিরত রাখে, তাহাদের জন্য পাক জিনিসসমূহ হালাল ও নাপাক জিনিসগুলিকে হারাম করে। আর তাহাদের উপর হইতে সেই বোঝা সরাইয়া দেয় যাহা তাহাদের উপর চাপানো ছিল এবং সেই বাধা ও বন্ধনসমূহ খুলিয়া দেয়, যাহাতে তাহারা বন্দী ছিল" (৭ঃ ১৫৭)।
দৃষ্টান্তস্বরূপ বর্তমান বাইবেলের পূরাতন ও নূতন নিয়মের নিম্নলিখিত স্থানসমূহ দেখা যাইতে পারে : দ্বিতীয় বিবরণ, ১৮: ১৫-১৯, মথি, ২১: ২৩-৪৬, যোহন ১: ১৯-২১, ১৪: ১৫-১৭, ১৫: ২৫-২৬, ১৬: ৭-১৫। এইসব স্থানে হযরত মুহাম্মাদ (স)-এর আগমন সম্পর্কে সুস্পষ্ট ইংগিত রহিয়াছে। এমনিভাবে বার্নাবাসের বাইবেলে আরও স্পষ্ট করিয়া মহানবী (স)-এর নামসহ তাঁহার শুভাগমনের সংবাদ উদ্ধৃত হইয়াছে (বার্নাবাসের বাইবেল, page ২০৪)।
(১২) ইন্‌ন্জীলে হযরত মুহাম্মাদ (স)-এর সাহাবীগণের উল্লেখ: আল-কুরআনে এই মর্মে ইরশাদ হইয়াছেঃ
مُحَمَّدٌ رَّسُولُ اللهِ وَالَّذِينَ مَعَهُ أَشِدَّاءُ عَلَى الْكُفَّارِ رُحَمَاءُ بَيْنَهُمْ تَرْهُمْ رُكَعًا سُجَّدًا يَبْتَغُونَ فَضْلًا مِّنَ اللَّهِ وَرِضْوَانًا سِيمَاهُمْ فِي وُجُوهِهِمْ مِّنْ أَثَرِ السُّجُودِ ذَلِكَ مَثَلُهُمْ فِي التَّوْرَةِ وَمَثَلُهُمْ فِي الْإِنْجِيلِ كَزَرْعٍ أَخْرَجَ شَطْنَهُ فَأَزَرَهُ فَاسْتَغْلَظَ فَاسْتَوَى عَلَى سُوقِهِ يُعْجِبُ الزَّرَاعَ لِيَغِيظَ بِهِمُ الْكُفَّارَ وَعَدَ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا وَعَمِلُوا الصَّلِحَتِ مِنْهُمْ مُغْفِرَةً وَأَجْرًا عَظِيمًا.
"মুহাম্মাদ আল্লাহ্র রাসূল; তাহার সহচরগণ কাফিরদিগের প্রতি কঠোর এবং নিজদিগের মধ্যে পরস্পরের প্রতি সহানুভূতিশীল। আল্লাহ্র অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনায় তুমি তাহাদিগকে রুকু ও সিজদায় অবনত দেখিবে। তাহাদিগের মুখমণ্ডলে সিজদার চিহ্ন থাকিবে, তাওরাতে তাহাদিগের বর্ণনা এইরূপ এবং ইন্‌ন্জীলেও এইরূপ। তাহাদিগের দৃষ্টান্ত একটি চারাগাছ, যাহা হইতে নির্গত হয় কিশলয়, অতঃপর ইহা শক্ত ও পুষ্ট হয় এবং পরে কাণ্ডের উপর দাঁড়ায় দৃঢ়ভাবে যাহা চাষীর জন্য আনন্দদায়ক। এইভাবে আল্লাহ্ মু'মিনদিগের সমৃদ্ধি দ্বারা কাফিরদিগের অন্তর্জালা সৃষ্টি করেন। যাহারা ঈমান আনে ও সৎকর্ম করে আল্লাহ্ তাহাদিগকে প্রতিশ্রুতি দিয়াছেন ক্ষমা ও মহাপুরস্কারের" (৪৮ : ২৯)।
এই দৃষ্টান্তটি ইন্‌ন্জীলে হযরত ঈসা (আ)-এর একটি ওয়াজ প্রসঙ্গে বর্ণিত হইয়াছে যাহা সুসমাচারেও উদ্ধৃত হইয়াছে নিম্নরূপ : "তিনি আরও কহিলেন, ঈশ্বরের রাজ্য এইরূপ। কোন ব্যক্তি যেন ভূমিতে বীজ বুনে; পরে রাত দিন নিদ্রা যায় ও উঠে। ইতোমধ্যে ঐ বীজ অংকুরিত হইয়া বাড়িয়া উঠে, কিরূপে আপনি ফল উৎপন্ন করে; প্রথমে অংকুর, পরে শীষ, তাহার পর শীষের মধ্যে পূর্ণ শষ্য। কিন্তু ফল পাকিলে সে তৎক্ষণাৎ কাস্তে লাগায়। কেননা শষ্য কাটিবার সময় উপস্থিত। তাহা একটি সরিষার দানার তুল্য। সেই বীজ ভূমিতে বুনিবার সময় ভূমির সকল বীজের মধ্যে অতি ক্ষুদ্র বটে; কিন্তু বুনা হইলে তাহা অংকুরিত হইয়া সকল শাক হইতে বড় হইয়া উঠে, এবং বড় বড় ডাল ফেলে। তাহাতে আকাশের পক্ষিগণ তাহার ছায়ার নীচে বাস করিতে পারে" (মার্ক সুসমাচার, ৪ : ২৬-৩২; আরো দ্র. মথি, ১৩ : ৩১-৩২)।
(১৩) ইসলাম গ্রহণের পথে ইন্‌ন্জীল খৃস্টানদের জন্য আলোকবর্তিকা : খৃস্ট সমাজকে দীনের দাওয়াত প্রসঙ্গে আল-কুরআনে ইন্‌ন্জীলকেই দলীল হিসাবে পেশ করা হইয়াছে। কেননা ইন্‌ন্জীলের আহবান ছিল পরবর্তীতে আল-কুরআনের আহবানকে মানিয়া লওয়া। এইজন্যই আল-কুরআনে বলা হইয়াছে:
قُلْ يُأَهْلَ الْكِتٰبِ لَسْتُمْ عَلَى شَيْءٍ حَتَّى تُقِيمُوا التورة وَالْإِنْجِيلَ وَمَا أُنْزِلَ إِلَيْكُمْ مَنْ رَّبِّكُمْ.
"বলল, হে কিতাবীগণ! তোমরা কোনক্রমেই কোন মৌলিক জিনিসের উপর দণ্ডায়মান নও যতক্ষণ পর্যন্ত তাওরাত ও ইন্‌ন্জীল এবং তোমাদের রব-এর নিকট হইতে তোমাদের প্রতি যাহা নাযিল করা হইয়াছে তাহা প্রতিষ্ঠিত না করিবে" (৫ : ৬৮)।
প্রকৃত কথা এই যে, ইয়াহুদী ও খৃস্টানগণ যদি এইসব কিতাবে উল্লিখিত আল্লাহ ও নবীগণের প্রদত্ত শিক্ষার উপর দৃঢ়ভাবে দণ্ডায়মান হইত তাহা হইলে হযরত নবী করীম (স)-এর আগমন কালে তাহারা একটি সত্যপন্থী জাতিরূপে গণ্য হইতে পারিত।
(১৪) ইন্‌ন্জীলের কারণে নাসারাদের সম্মান ও মর্যাদা প্রদর্শন: তাওরাত, যাবূর, ইন্‌ন্জীলে আংশিক পরিবর্তিত হইলেও দীনের মূল বিষয় সংরক্ষিত ছিল। যেই কারণে তাওরাত, যাবুর ও ইন্‌ন্জীলের অনুসারীদেরকে আল-কুরআন 'আহলে কিতাব' বলিয়া বারবার সম্বোধন করিয়াছে। ইয়াহুদী ও নাসারাগণকে ৩১ বার আহলে কিতাব বা কিতাবীগণ বলিয়া সম্বোধন করা হইয়াছে এবং ২৩ বার তাহাদেরকে ঐ ব্যক্তিবর্গ বলিয়া সম্বোধন করা হইয়াছে "যাহাদেরকে কিতাব দেওয়া হইয়াছে" কিংবা "কিতাবের উত্তরাধিকারী বানানো হইয়াছে"। যাহারা কিতাবের অধিকারী তাহারা জ্ঞানের অধিকারী ও রক্ষক। অতএব খৃস্টানরা ইন্‌ন্জীল কিতাবের সাথে নিজেদেরকে সম্পর্কিত করিবার কারণে আহলে কিতাব বলিয়া তাহাদেরকে জগৎবাসীর মধ্যে বিশেষ সম্মান ও মর্যাদা প্রদান করা হইয়াছে। তাহাদের কন্যা সন্তান মুসলমানদের জন্য বিবাহ করা হালাল এবং তাহাদের তৈরী হালাল খাবার গ্রহণের অনুমতি প্রদান করা হইয়াছে।
قُلْ يَا أَهْلَ الْكِتَابِ تَعَالَوْا إِلَى كَلِمَةٍ سَوَاءٍ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ إِلا نَعْبُدَ إِلا اللَّهَ وَلَا نُشْرِكَ بِهِ شَيْئًا وَلَا يَتَّخِذَ بَعْضُنَا بَعْضًا أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ فَإِنْ تَوَلَّوا فَقُولُوا اشْهَدُوا بِأَنَّا مُسْلِمُونَ .
"তুমি বল, হে কিতাবীগণ! আইস সে কথায় যাহা আমাদের ও তোমাদের মধ্যে একই; যেন আমরা আল্লাহ ব্যতীত কাহারও ইবাদত না করি, কোন কিছুকেই তাঁহার শরীক না করি এবং আমাদের কেহ কাহাকেও আল্লাহ ব্যতীত রব হিসাবে গ্রহণ না করে। যদি তাহারা মুখে ফিরাইয়া লয় তবে বল, তোমরা সাক্ষী থাক, আমরা মুসলমান" (৩: ৬৪-৬৫)।
(১৫) ইন্‌ন্জীলের প্রতি ঈমান মুসলিম আকীদার অংশ: ইন্‌ন্জীলসহ সকল আসমানী কিতাবের উপর ঈমান আনার জন্য মুসলমানদের প্রতি নির্দেশ দেওয়া হইয়াছে। যেমন আল্লাহর বাণী:
أَمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنْزِلَ إِلَيْهِ مِنْ رَبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ . كُلُّ أَمَنَ بِاللَّهِ وَمَلْئِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ لَا نُفَرِّقُ بَيْنَ أَحَدٍ منْ رُّسُلِهِ وَقَالُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا غُفْرَانَكَ رَبَّنَا وَإِلَيْكَ الْمَصِيرُ .
"রাসূল, তাহার প্রতি তাহার প্রতিপালকের পক্ষ হইতে যাহা অবতীর্ণ হইয়াছে তাহাতে ঈমান আনিয়াছে এবং মুমিনগণও। তাহাদের সকলে আল্লাহে, তাঁহার ফেরেশতাগণে, তাঁহার কিতাবসমূহে এবং তাঁহার রাসূলগণে ঈমান আনয়ন করিয়াছে। তাহারা বলে, আমরা তাঁহার রাসূলগণের মধ্যে কোন তারতম্য করি না; আর তাহারা বলে, আমরা শুনিয়াছি এবং পালন করিয়াছি। হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা তোমার ক্ষমা চাই আর প্রত্যাবর্তন তোমারই নিকট" (২: ২৮৫)।
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أُمِنُوا بِاللَّهِ وَرَسُولِهِ وَالْكِتَابِ الَّذِي نَزَّلَ عَلَى رَسُولِهِ وَالْكِتَابِ الَّذِي أَنْزَلَ مِنْ قَبْلُ .
"হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহে, তাঁহার রাসূলে, তিনি যে কিতাব তাঁহার রাসূলের প্রতি অবতীর্ণ করিয়াছেন তাহাতে এবং যে কিতাব তিনি পূর্বে অবতীর্ণ করিয়াছেন তাহাতে ঈমান আন" (৪: ১৩৬)।
ইব্‌ন কাছীর বলেন যে, রাসূলের উপর অবতীর্ণ কিতাব বলিতে আল-কুরআনুল কারীমকে বুঝানো হইয়াছে, আর উহার পূর্বে নাযিল করা কিতাব বলিতে পূর্ববর্তী সকল কিতাব বুঝানো হইয়াছে (ইব্‌ন কাছীর, তাফসীরুল কুরআনিল আজীম, ১০ খ., page ৫৬৬)।
উপরিউক্ত আয়াতের দ্বারা বুঝা যায়, একজন মুসলমান তাহার ঈমানের ক্ষেত্রে যদি কোন রাসূলকে বাদ দিয়া অন্য রাসূলকে গ্রহণ করে কিংবা কোন কিতাবকে বাদ দিয়া অন্য কিতাব গ্রহণ করে তাহা হইলে সে মুমিন হইবে না। এইজন্য আল-কুরআনে ঘোষণা করা হইয়াছে:
وَمَنْ يَكْفُرْ بِاللَّهِ وَمَلَئِكَتِهِ وَكُتُبِهِ وَرُسُلِهِ وَالْيَوْمِ الْآخِرِ فَقَدْ ضَلَّ ضَلَالًا بَعِيدًا .
"কেহ আল্লাহ, তাঁহার ফেরেশতা, তাঁহার কিতাব, তাঁহার রাসূল এবং পরকালকে প্রত্যাখ্যান করিলে সে ভীষণভাবে পথভ্রষ্ট হইয়া পড়িবে” (৪: ১৩৬)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন