📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 পবিত্র কুরআনে হযরত হারূন (আ)

📄 পবিত্র কুরআনে হযরত হারূন (আ)


পবিত্র কুরআনের ১৪টি সূরার ৭৬টি আয়াতে হযরত হারুন (আ) সম্পর্কে বর্ণনা রহিয়াছে। তিনি তাঁহার সহোদর ছোট ভাই ও আল্লাহর রাসূল হযরত মূসা (আ)-এর সঙ্গে যৌথভাবে নবুওয়াতের দায়িত্ব পালন করার ফলে প্রত্যক্ষভাবে মূসা (আ)-এর বর্ণনা অধিক স্থানে করা হইয়াছে। তবে যে সব আয়াতে হযরত হারুন (আ)-এর নাম উল্লেখ করা হইয়াছে অথবা তাঁহার সম্পর্কে বর্ণনা রহিয়াছে, কেবল সেইসব আয়াত নিম্নে উপস্থাপন করা হইল :
সূরার ক্রমিক নং সূরার নাম আয়াত নম্বর আয়াত সংখ্যা ২ সূরা আল্-বাকারা ২৪৮ ০১ 8 আন্-নিসা ১৬৩ ০১ ৫ আল্-মাইদা ২৫ ০১ ৬ আন'আম ৮৪-৮৭ ০৪ ৭ আ'রাফ ১১১-১১২, ১২১-১২২, ১৪২, 07 ১০ ইউনুস ৭৫, ৮৭-৮৯ ০৪ ১৯ মারয়াম ৫১-৫৩ ০৩ ২০ তা-হা ২৯-৩৬, ৪২-৪৮,৬৩, ৭০, ৯০-৯২,২১-৯৪ ২১ আম্বিয়া ৪৮-৫০ ০৩ ২৩ মু'মিনূন ৪৫-৪৮ ০৪ ২৫ ফুরকান ৩৫-৩৬ ০২ ২৬ আশ্-শু'আরা ১০-১৭,৩৪-৩৭,৪৭-৪৮ ১৪ ২৮ কাসাস ৩৫-৩৬ ০২ ৩৭ আস-সাফ্ফাত ১১৪-১২২ ০৯ সর্বমোট ৭৬টি
১. সূরা আল-বাকারায় বলা হইয়াছে:
وَقَالَ لَهُمْ نَبِيُّهُمْ إِنَّ آيَةَ مُلْكِهِ أَنْ يَأْتِيَكُمُ التَّابُوتُ فِيهِ سَكِينَةً مِّنْ رَّبِّكُمْ وَبَقِيَّةً مِّمَّا تَرَكَ آلُ مُوسَى وَآلُ هُرُونَ تَحْمِلُهُ الْمَلائِكَةُ إِنَّ فِي ذَلِكَ لَآيَةً لَّكُمْ إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ .
“এবং তাহাদের নবী তাহাদিগকে বলিয়াছিল: তাঁহার রাজত্বের নিদর্শন এই যে, তোমাদের নিকট সেই তাবৃত আসিবে যাহাতে তোমাদের প্রতিপালকের নিকট হইতে চিত্ত প্রশান্তি এবং মূসা ও হারূন বংশীয়গণ যাহা পরিত্যাগ করিয়াছে তাহার অবশিষ্টাংশ থাকিবে; ফিরিশতাগণ ইহা বহন করিয়া আনিবে। তোমরা যদি মুমিন হও তবে অবশ্যই তোমাদের জন্যই হাতে নিদর্শন আছে" (২: ২৪৮)।
২. সূরা আন্-নিসায় বলা হইয়াছে:
إِنَّا أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ كَمَا أَوْحَيْنَا إِلَى نُوحٍ وَالنَّبِيِّينَ مِنْ بَعْدِهِ وَأَوْحَيْنَا إِلَى إِبْرَاهِيمَ وَاسْمَاعِيلَ وَإِسْحَقَ وَيَعْقُوبَ وَالْأَسْبَاطِ وَعِيسَى وَأَيُّوبَ وَيُونُسَ وَهُرُونَ وَسُلَيْمَانَ وَآتَيْنَا دَاوُدَ زَبُورًا .
"তোমার নিকট 'ওহী' প্রেরণ করিয়াছি যেমন নূহ ও তাহার পরবর্তী নবীগণের নিকট প্রেরণ করিয়াছিলাম, ইবরাহীম, ইসমাঈল, ইসহাক, ইয়া'কূব ও তাহার বংশধরগণ, ঈসা, আইয়ুব, ইউনুস, হারুন ও সুলায়মানের নিকটও 'ওহী' প্রেরণ করিয়াছিলাম এবং দাউদকে যাবুর দিয়াছিলাম" (৪: ১৬৩)।
৩. সূরা আল-মায়িদায় বলা হইয়াছে:
قَالَ رَبِّ إِنِّي لَا أَمْلِكُ إِلَّا نَفْسِي وَأَخِي فَافْرُقْ بَيْنَنَا وَبَيْنَ الْقَوْمِ الْفَاسِقِينَ .
"সে (মূসা) বলিল, 'হে আমার প্রতিপালক! আমার ও আমার ভ্রাতা ব্যতীত অপর কাহারও উপর আমার আধিপত্য নাই। সুতরাং তুমি আমাদের ও সত্যত্যাগী সম্প্রদায়ের মধ্যে ফয়সালা করিয়া দাও" (৫:২৫)।
৪. সূরা আন'আমে বলা হইয়াছে:
وَوَهَبْنَا لَهُ إِسْحَقَ وَيَعْقُوبَ كُلًّا هَدَيْنَا وَنُوحًا هَدَيْنَا مِنْ قَبْلُ وَمِنْ ذُرِّيَّتِهِ دَاوُدَ وَسُلَيْمَانَ وَأَيُّوبَ وَيُوسُفَ وَمُوسَى وَهُرُونَ وَكَذَلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ.
"এবং তাহাকে দান করিয়াছিলাম ইসহাক ও ইয়াকূব, ও ইহাদের প্রত্যেককে সৎপথে পরিচালিত করিয়াছিলাম; পূর্বে নূহকেও সৎপথে পরিচালিত করিয়াছিলাম এবং তাহার বংশধর দাউদ, সুলায়মান, আইয়ুব, ইউসুফ, মূসা ও হারুনকেও; আর এইভাবেই আমি সৎকর্মপরায়ণদিগকে পুরস্কৃত করি" (৬:৮৪)।
৫. সূরা আ'রাফ-এ বলা হইয়াছে: قَالُوا أَرْجِهُ وَأَخَاهُ وَأَرْسِلْ فِي الْمَدَائِنِ حُشِرِيْنَ يَأْتُوكَ بِكُلِّ سَاحِرٍ عَلِيمٍ. "তাহারা বলিল, তাহাকে ও তাহার ভ্রাতা (মূসা ও হারূন)-কে কিঞ্চিত অবকাশ দাও এবং নগরে নগরে সংগ্রাহকদিগকে পাঠাও, যেন তাহারা তোমার নিকট প্রতিটি সুদক্ষ যাদুকর উপস্থিত করে" (৭: ১১১-১১১২)।
قَالُوا آمَنَّا بِرَبِّ الْعُلَمِينَ، رَبِّ مُوسَى وَهُرُونَ. "তাহারা বলিল, আমরা ঈমান আনিলাম জগতসমূহের প্রতিপালকের প্রতি যিনি মূসা ও হারূনেরও প্রতিপালক" (৭: ১২১-১২২)।
وَوَعَدْنَا مُوسَى ثَلْثِيْنَ لَيْلَةً وَأَتْمَمْنَهَا بِعَشْرِ فَتَمَّ مِيقَاتُ رَبِّهِ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً وَقَالَ مُوسَى لِأَخِيهِ هُرُونَ اخْلُفْنِي فِي قَوْمِي وَأَصْلِحْ وَلَا تَتَّبِعْ سَبِيلَ الْمُفْسِدِينَ. "স্মরণ কর, মূসার জন্য আমি ত্রিশ রাত্রি নির্ধারিত করি এবং আরও দশ দ্বারা উহা পূর্ণ করি। এইভাবে তাহার প্রতিপালকের নির্ধারিত সময় চল্লিশ রাত্রিতে পূর্ণ হয় এবং মূসা তাহার ভ্রাতা হারুনকে বলিল: আমার অনুপস্থিতিতে আমার সম্প্রদায়ের মধ্যে তুমি আমার প্রতিনিধিত্ব করিবে, সংশোধন করিবে এবং বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদিগের পথ অনুসরণ করিবে না" (৭: ১৪২)।
وَلَمَّا رَجَعَ مُوسَى إِلَى قَوْمِهِ غَضَبَانَ أَسِفًا قَالَ بِئْسَمَا خَلَقْتُمُونِي مِنْ بَعْدِي أَعَجِلْتُمْ أَمْرَ رَبِّكُمْ وَالْقَى الْأَلْوَاحَ وأخذ برأس أخيهِ يَجُرُّهُ إِلَيْهِ قَالَ ابْنَ أمْ إِنَّ الْقَوْمَ اسْتَضْعَفُونِي وَكَادُوا يَقْتُلُونَنِي فَلَا تُشْمِتْ بِي الْأَعْدَاءَ وَلَا تَجْعَلْنِي مَعَ الْقَوْمِ الظَّالِمِينَ. قَالَ رَبِّ اغْفِرْ لِي وَلِأَخِي وَأَدْخِلْنَا فِي رَحْمَتِكَ وَأَنْتَ أَرْحَمُ الرَّاحِمِينَ. "মূসা যখন ক্রুদ্ধ ও ক্ষুব্ধ হইয়া স্বীয় সম্প্রদায়ের নিকট প্রত্যাবর্তন করিল তখন বলিল, আমার অনুপস্থিতিতে তোমরা আমার কত নিকৃষ্ট প্রতিনিধিত্ব করিয়াছ! তোমাদের প্রতিপালকের আদেশের পূর্বে তোমরা ত্বরান্বিত করিলে? এবং সে ফলকগুলি ফেলিয়া দিল আর স্বীয় ভ্রাতাকে চুলে ধরিয়া নিজের দিকে টানিয়া আনিল। হারুন বলিল, হে আমার সহোদর! লোকেরা তো আমাকে দুর্বল মনে করিয়াছিল এবং আমাকে প্রায় হত্যা করিয়াই ফেলিয়াছিল। তুমি আমার সহিত এমন করিও না যাহাতে শত্রুরা আনন্দিত হয় এবং আমাকে জালিমদের অন্তর্ভুক্ত করিও না। মূসা বলিল, হে আমার প্রতিপালক! আমাকে ও আমার ভ্রাতাকে ক্ষমা কর এবং আমাদিগকে তোমার আশ্রয় দাও আর তুমিই শ্রেষ্ঠ দয়ালু" (৭: ১৫০-১৫১)।
৬. সূরা ইউনুস-এ বলা হইয়াছে :
ثُمَّ بَعَثْنَا مِنْ بَعْدِهِمْ مُوسَى وَهُرُوْنَ إِلى فِرْعَوْنَ وَمَلَاتِهِ بِابْتِنَا فَاسْتَكْبَرُوا وَكَانُوا قَوْمًا مُجْرِمِينَ.
"পরে আমার নিদর্শনসহ মূসা ও হারূনকে ফিরআওন ও তাহার পারিষদবর্গের নিকট প্রেরণ করি। কিন্তু উহারা অহংকার করে এবং উহারা ছিল অপরাধী সম্প্রদায়” (১০: ৭৫)।
وأوحينا إلى موسى وأخيه أنْ تَبَوَّأَ لِقَوْمِكُما بمصر بيوتا واجْعَلُوا بُيُوتَكُم قبلة وأقيموا الصلوة وبشر الْمُؤْمِنِينَ. وَقَالَ مُوسَى رَبَّنَا إِنَّكَ أَتَيْتَ فِرْعَوْنَ وَمَلَاهُ زِينَة وَأموالاً في الحيوةِ الدُّنْيَا رَبَّنَا لِيُضِلُّوا عَنْ سَبِيلِكَ رَبَّنَا اطْمِسَ عَلَى أَمْوَالِهِمْ وَاشْدُدْ عَلَى قُلُوبِهِمْ فَلَا يُؤْمِنُوا حَتَّى يَرَوْا الْعَذَابَ الْأَلِيمَ. قَالَ قَدْ أُجِيبَتْ دَعْوَتُكُمَا فَاسْتَقِيمًا وَلَا تَتَّبِعْنَ سَبِيلَ الَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ.
"আমি মূসা ও তাহার ভ্রাতাকে প্রত্যাদেশ করিলাম, 'মিসরে তোমাদের সম্প্রদায়ের জন্য গৃহ স্থাপন কর এবং তোমাদের গৃহগুলিকে ইবাদতগৃহ কর, সালাত কায়েম কর এবং মুমিনদিগকে সুসংবাদ দাও'। মূসা বলিল, 'হে আমাদের প্রতিপালক! তুমি তো ফির'আওন ও তাহার পারিষদবর্গকে পার্থিব জীবনে শোভা ও সম্পদ দান করিয়াছ যদ্দ্বারা, হে আমাদের প্রতিপালক! উহারা মানুষকে তোমার পথ হইতে ভ্রষ্ট করে। হে আমাদের প্রতিপালক! উহাদের সম্পদ বিনষ্ট কর, উহাদের হৃদয় কঠিন করিয়া দাও, উহারা তো মর্মন্তুদ শাস্তি প্রত্যক্ষ না করা পর্যন্ত ঈমান আনিবে না'। তিনি বলিলেন, 'তোমাদের দুইজনের দোআ কবুল হইল, সুতরাং তোমরা দৃঢ় থাক এবং তোমরা কখন ও অজ্ঞদের পথ অনুসরণ করিও না" (১০: ৮৭-৮৯)।
৭. সূরা মারয়াম-এ বলা হইয়াছে :
وَاذْكُرْ فِي الْكِتَابِ مُوسَى إِنَّهُ كَانَ مُخْلَصًا وَكَانَ رَسُولاً نَبِيًا ، وَنَادَيْنَهُ مِنْ جَانِبِ الطُّورِ الْأَيْمَنِ وَقَرَّبْنَهُ نَجِيًّا . وَوَهَبْنَا لَهُ مِنْ رَّحْمَتِنَا أَخَاهُ هُرُونَ نَبِيًّا .
"স্মরণ কর এই কিতাবে মূসার কথা, সে ছিল বিশেষ মনোনীত এবং সে ছিল রাসূল, নবী। তাহাকে আমি আহ্বান করিয়াছিলাম তূর পর্বতের দক্ষিণ দিক হইতে এবং আমি অন্তরংগ আলাপে তাহাকে নৈকট্য দান করিয়াছিলাম। আমি নিজ অনুগ্রহে তাহাকে দিলাম তাহার ভ্রাতা হারুনকে নবীরূপে” (১৯: ৫১-৫৩)।
৮. মূসা তা-হা'য় বলা হইয়াছে :
وَاجْعَلْ لِي وَزِيرًا مِّنْ أَهْلِي هَرُونَ أَخِي اشْدُدْ بِهِ أَزْرِى وَأَشْرِكْهُ فِي أَمْرِي كَى نُسَبِّحَكَ كَثِيرًا ، وَنَذْكُرَكَ كثيرا . إِنَّكَ كُنْتَ بِنَا بَصِيرًا . قَالَ قَدْ أُوتِيْتَ سُؤْلُكَ يموسى .
"আমার জন্য করিয়া দাও একজন সাহায্যকারী আমার স্বজনবর্গের মধ্য হইতে; আমার ভ্রাতা হারূনকে; তাহার দ্বারা আমার শক্তি সুদৃঢ় কর ও তাহাকে আমার কর্মে অংশী কর। যাহাতে আমরা তোমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করিতে পারি প্রচুর এবং তোমাকে স্মরণ করিতে পারি অধিক। তুমি তো আমাদিগের সম্যক দ্রষ্টা। তিনি বলিলেন, হে মূসা! তুমি যাহা চাহিয়াছ তাহা তোমাকে দেওয়া হইল" (২০: ২৯-৩৬)।
اِذْهَبْ اَنْتَ وَاَخُوْكَ بِاٰيٰتِيْ وَلَا تَنِيَا فِي ذِكْرِيْ اِذْهَبَا اِلٰى فِرْعَوْنَ اِنَّهٗ طَغٰى فَقُوْلَا لَهٗ قَوْلًا لَّيِّنًا لَّعَلَّهٗ يَتَذَكَّرُ اَوْ يَخْشٰى قَالَا رَبَّنَا اِنَّنَا نَخَافُ اَنْ يُّفْرِطَ عَلَيْنَا اَوْ اَنْ يَّطْغٰى قَالَ لَا تَخَافَا اِنَّنِيْ مَعَكُمَا اَسْمَعُ وَاَرٰى فَاتِيَهُ فَقُوْلَا اِنَّا رَسُوْلًا رَبِّكَ فَاَرْسِلْ مَعَنَا بَنِيْ اِسْرَآءِيْلَ وَلَا تُعَذِّبْهُمْ قَدْ جِئْتُكَ بِاٰيَةٍ مِّنْ رَّبِّكَ وَالسَّلَامُ عَلٰى مَنِ اتَّبَعَ الْهُدٰى اِنَّا قَدْ اُوْحِيَ اِلَيْنَا اَنَّ الْعَذَابَ عَلٰى مَنْ كَذَّبَ وَتَوَلّٰى .
"তুমি ও তোমার ভ্রাতা আমার নিদর্শনসহ গমন কর এবং আমার স্মরণে শৈথিল্য করিও না। তোমরা দুইজন ফির'আওনের নিকট যাও, সে তো সীমালংঘন করিয়াছে। তোমরা তাহার সহিত নম্র কথা বলিবে, হয়তো সে উপদেশ গ্রহণ করিবে অথবা ভয় করিবে। তাহারা বলিল, হে আমাদিগের প্রতিপালক! আমরা আশংকা করি সে আমাদিগকে ত্বরায় শাস্তি দিতে উদ্যত হইবে অথবা অন্যায় আচরণে সীমালংঘন করিবে। তিনি বলিলেন, তোমরা ভয় করিও না, আমি তো তোমাদের সংগে আছি, আমি শুনি ও আমি দেখি। সুতরাং তোমরা তাহার নিকট যাও এবং বল: আমরা তোমার প্রতিপালকের রাসূল, সুতরাং আমাদিগের সহিত বনী ইসরাঈলকে যাইতে দাও এবং তাহাদিগকে কষ্ট দিও না, আমরা তো তোমার নিকট আনিয়াছি তোমার প্রতিপালকের নিকট হইতে নির্দশন এবং শান্তি তাহাদিগের প্রতি যাহারা অনুসরণ করে সৎপথ। আমাদিগের প্রতি ওহী প্রেরণ করা হইয়াছে যে, শান্তি তাহার জন্য, যে মিথ্যা আরোপ করে ও মুখ ফিরাইয়া লয়” (২০: ৪২-৪৮)।
قَالُوْا اِنْ هٰذٰنِ لَسٰحِرٰنِ يُرِيْدٰنِ اَنْ يُّخْرِجَكُمْ مِّنْ اَرْضِكُمْ بِسِحْرِهِمَا وَيَذْهَبَا بِطَرِيْقَتِكُمُ الْمُثْلٰى .
"উহারা বলিল, এই দুইজন (মূসা ও হারুন) অবশ্যই যাদুকর, তাহারা চাহে তাহাদিগের যাদু দ্বারা তোমাদিগকে তোমাদিগের দেশ হইতে বহিষ্কৃত করিতে এবং তোমাদিগের উৎকৃষ্ট জীবন ব্যবস্থার অস্তিত্ব নাশ করিতে" (২০: ৬৩)।
فَأُلْقِيَ السَّحَرَةُ سُجَّدًا قَالُوْا اٰمَنَّا بِرَبِّ هٰرُوْنَ وَمُوْسٰى .
"অতঃপর যাদুকরেরা সিজদাবনত হইল ও বলিল: আমরা হারুন ও মূসার প্রতিপালকের প্রতি ঈমান আনিলাম" (২০: ৭০)।
وَلَقَدْ قَالَ لَهُمْ هَرُوْنُ مِنْ قَبْلُ يُقَوْمِ اِنَّمَا فُتِنْتُمْ بِهٖ وَاِنَّ رَبَّكُمُ الرَّحْمٰنُ فَاتَّبِعُوْنِيْ وَاَطِيْعُوْا اَمْرِيْ قَالُوْا لَنْ نَّبْرَحَ عَلَيْهِ عٰكِفِيْنَ حَتّٰى يَرْجِعَ اِلَيْنَا مُوْسٰى قَالَ يٰهَرُوْنُ مَا مَنَعَكَ اِذْ رَاَيْتَهُمْ ضَلُّوْا اَلَّا تَتَّبِعَنِ اَفَعَصَيْتَ اَمْرِيْ قَالَ يَبْنَؤُمَّ لَا تَأْخُذْ بِلِحْيَتِيْ وَلَا بِرَأْسِيْ اِنِّيْ خَشِيْتُ اَنْ تَقُوْلَ فَرَّقْتَ بَيْنَ بَنِيْ اِسْرَآءِيْلَ وَلَمْ تَرْقُبْ قَوْلِيْ .
"হারুন উহাদিগকে পূর্বেই বলিয়াছিল, হে আমার সম্প্রদায়। ইহা দ্বারা তো কেবল তোমাদিগকে পরীক্ষায় ফেলা হইয়াছে। তোমাদিগের প্রতিপালক দয়াময়; সুতরাং তোমরা আমার অনুসরণ কর এবং আমার আদেশ মানিয়া চল। উহার বলিয়াছিল, আমাদিগের নিকট মূসা ফিরিয়া না আসা পর্যন্ত আমরা ইহার পূজা হইতে কিছুতেই বিরত হইব না। মূসা বলিল, হে হারুন! তুমি যখন দেখিলে উহারা পথভ্রষ্ট হইয়াছে তখন কিসে তোমাকে নিবৃত্ত করিল আমার অনুসরণ করা হইতে? তবে কি তুমি আমার আদেশ অমান্য করিলে? হারুন বলিল, হে আমার সহোদর! আমার শ্মশ্রু ও কেশ ধরিয়া আর্কষণ করিও না। আমি আশংকা করিয়াছিলাম যে, তুমি বলিবে : তুমি বনী ইসরাঈলদিগের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করিয়াছ ও তুমি আমার বাক্য পালনে যত্নবান হও নাই" (২০ : ৯০-৯৪)।
৯. সূরা আম্বিয়ায় বলা হইয়াছে : وَلَقَدْ أَتَيْنَا مُوسَى وَهُرُونَ الْفُرْقَانَ وَضِيَاء وَذِكْرًا لِلْمُتَّقِينَ الَّذِينَ يَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ بِالْغَيْبِ وَهُمْ مِّنَ السَّاعَةِ مُشْفِقُونَ . وَهُذَا ذِكْرٌ مُبَارَكَ أَنْزَلْتُهُ أَفَانْتُمْ لَهُ مُنْكِرُونَ .
"আমি তো মূসা ও হারূনকে দিয়াছিলাম 'ফুরকান', জ্যোতি ও উপদেশ মুত্তাকীদের জন্য-যাহারা না দেখিয়াও তাহাদিগের প্রতিপালককে ভয় করে এবং কিয়ামত সম্পর্কে ভীত-সন্ত্রস্ত। ইহা কল্যাণময় উপদেশ; আমি ইহা অবতীর্ণ করিয়াছি। তবুও কি তোমরা ইহাকে অস্বীকার কর" (২১ : ৪৮-৫০)।
১০. সূরা মু'মিনূন-এ বলা হইয়াছে : ثُمَّ أَرْسَلْنَا مُوسَى وَأَخَاهُ هُرُونَ بِأَيْتِنَا وَسُلْطن مُبِينٍ إِلى فِرْعَوْنَ وَمَلَائِهِ فَاسْتَكْبَرُوا وَكَانُوا قَوْمًا عَالِيْنَ. فَقَالُوا أَنُؤْمِنُ لِبَشَرَيْنِ مِثْلَنَا وَقَوْمُهُمَا لَنَا عبدُونَ . فَكَذَّبُوهُمَا فَكَانُوا مِنَ الْمُهْلَكِينَ .
"অতঃপর আমি আমার নিদর্শন ও সুস্পষ্ট প্রমাণসহ মূসা ও তাহার ভ্রাতা হারুনকে পাঠাইলাম, ফির'আওন ও তাহার পারিষদবর্গের নিকট। কিন্তু উহারা অহংকার করিল; উহারা ছিল উদ্ধত সম্প্রদায়। উহারা বলিল, আমরা কি এমন দুই ব্যক্তিতে বিশ্বাস স্থাপন করিব যাহারা আমাদিগেরই মত এবং যাহাদিগের সম্প্রদায় আমাদিগের দাসত্ব করে? অতঃপর উহারা তাহাদিগকে মিথ্যাবাদী বলিল, ফলে উহারা ধ্বংসপ্রাপ্ত হইল" (২৩ : ৪৫-৪৮)।
১১. সূরা ফুরকানে বলা হইয়াছে : وَلَقَدْ أَتَيْنَا مُوسَى الْكِتَابِ وَجَعَلْنَا مَعَهُ أَخَاهُ هُرُونَ وَزِيْرًا . فَقُلْنَا اذْهَبَا إِلَى الْقَوْمِ الَّذِينَ كَذَّبُوا بِايَتِنَا قَدَمَرْنَهُمْ تَدْمِيرًا .
"আমি তো মূসাকে কিতাব দিয়াছিলাম এবং তাহার ভ্রাতা হারূনকে তাহার সাহায্যকারী করিয়াছিলাম এবং বলিয়াছিলাম, তোমরা সেই সম্প্রদায়ের নিকট যাও যাহারা আমার নির্দশনাবলীকে অস্বীকার করিয়াছে। অতঃপর আমি উহাদিগকে সম্পূর্ণরূপে বিধ্বস্ত করিয়াছিলাম" (২৫ : ৩৫-৩৬)।
১২. সূরা আশ্-শু'আরায় বলা হইয়াছে:
وَإِذْ نَادَى رَبُّكَ مُوسَى أَنِ ائْتِ الْقَوْمَ الظَّالِمِينَ. قَوْمَ فِرْعَوْنَ أَلَا يَتَّقُونَ قَالَ رَبِّ إِنِّي أَخَافُ أَنْ يُكَذِّبُونِ. وَيَضِيقُ صَدْرِي وَلَا يَنْطَلِقُ لِسَانِي فَأَرْسِلْ إِلَى هُرُونَ وَلَهُمْ عَلَى ذَنْبٌ فَأَخَافُ أَنْ يَقْتُلُونِ. قَالَ كَلَّا فَاذْهَبَا بِآيَاتِنَا إِنَّا مَعَكُمْ مُسْتَمِعُونَ. فَأْتِيَا فِرْعَوْنَ فَقُولَا إِنَّا رَسُولُ رَبِّ الْعَالَمِينَ. أَنْ أَرْسِلْ مَعَنَا بَنِي إِسْرَائِيلَ (١٦)
স্মরণ কর, যখন তোমার প্রতিপালক মুসাকে ডাকিয়া বলিলেন, তুমি জালিম সম্প্রদায়ের নিকট যাও, 'ফিরআওন সম্প্রদায়ের নিকট। উহারা কি ভয় করে না? তখন সে বলিয়াছিল, 'হে আমার প্রতিপালক! আমি আশংকা করি ভো' উহারা আমাকে অস্বীকার করিবে এবং আমার হৃদয় সংকুচিত হইয়া পড়িতেছে, আর আমার জিহ্বা তো সাবলীল নাই। সুতরাং হারূনের প্রতিও প্রত্যাদেশ পাঠাও। আমার বিরুদ্ধে তো উহাদিগের এক অভিযোগ আছে; আমি আশংকা করি উহারা আমাকে হত্যা করিবে। আল্লাহ বলিলেন, 'না, কখনও নহে, অতএব তোমরা উভয়ে আমার নিদর্শনসহ যাও, আমি তো'তোমাদিগের সংগে আছি, শ্রবণক্ষয়ী। অতএব তোমরা উভয়ে ফির'আওনের নিকট যাও এবং বলঃ আমরা তো জগতসমূহের প্রতিপালকের রাসূল। আর আমাদিগের সহিত যাইতে দাও বনী ইসরাঈলকে (২৬ : ১০-১৭)।
قَالَ الْمَلَا حَوْلَهُ أَنَّ هَذَا لَسَاحِرٌ عَلِيمٌ . يُرِيدُ أَنْ يُخْرِجَكُمْ مِنْ أَرْضِكُمْ بِسِحْرِهِ فَمَاذَا تَأْمُرُونَ . قَالُوا أَرْجِهْ وَأَخَاهُ وَابْعَثْ فِي الْمَدَائِنِ حَاشِرِينَ يَأْتُوكَ بِكُلِّ سَحَّارٍ عَلِيمٍ.
ফিরআওন তাহার পারিষদবর্গকে বলিল, এ তো এক সুদক্ষ যাদুকর! এ তোমাদিগকে তোমাদিগের দেশ হইতে তাহার যাদুবলে রহিষ্কৃত করিতে চাহে! এখন তোমরা কি করিতে বল? উহারা বলিল, তাহাকে ও তাহার ভ্রাতাকে কিঞ্চিৎ অবকাশ দাও এবং নগরে নগরে সংগ্রাহকদিগকে পাঠাও যেন তাহারা তোমার নিকট প্রতিটি সুদক্ষ যাদুকর উপস্থিত করে" (২৬ : ৩৪-৩৭)।
قَالُوا آمَنَّا بِرَبِّ الْعَالَمِينَ . رَبِّ مُوسَى وَهُرُونَ .
মাসীএবং তাহারা বলিল, আমরা ঈমান আনয়ন করিলাম জগতসমূহের প্রতিপালকের প্রতি যিনি মূসা ও হারূনেরও প্রতিপালক" (২৬ : ৪৭-৪৮)।
১৩. সূরা কাসাসে বলা হইয়াছে:
وَأَخِي هُرُونُ هُوَ أَفْصَحُ مِنِّي لِسَانًا فَأَرْسِلْهُ مَعِيَ رِدْءًا يُصَدِّقُنِي إِنِّي أَخَافُ أَنْ يُكَذِّبُونِ . قَالَ سَنَشُدُّ عَضُدَكَ بِأَخِيكَ وَنَجْعَلُ لَكُمَا سُلْطَانًا فَلَا يَصِلُونَ إِلَيْكُمَا بِآيَاتِنَا أَنْتُمَا وَمَنِ اتَّبَعَكُمَا الْغَالِبُونَ .
আমার ভ্রাতা হারুন আমার অপেক্ষা রাগ্মী; অতএব তাহাকে আমার সাহায্যকারীরূপে প্রেরণ কর সে আমাকে সমর্থন করিলা আমি আশংকা করি উহারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলিবে। আল্লাহ বলিলেন আমি, তোমার করার তোমার, বাহু শক্তিশালী করিব এবং তোমাদিগের উভয়কে প্রাধান্য দান করিব। উহারা তোমাদিগের নিকট পৌঁছিতে পারিবে না। তোমরা এবং তোমাদিগের অনুসারীরা আমার নিদর্শনবলে উহাদিগের উপর প্রবল হইবে" (২৮ : ৩৪-৩৫)।
১৪. সূরা আস-সাফাতে বলা হইয়াছে :
وَلَقَدْ مَنَنَا عَلَى مُوسَى وَهُرُونَ. ونجينهما وقومهما من الكرب العظيم. ونصرتهم فكانوا هُمُ الْطالبين. وَأَتَيْنَاهُمَا الكِتَابَ المُسْتَبِينَ. فَهَدَيْنَاهُمَا الصِّرَاطَ المُسْتَقِيمَ. وَتَرَكْنَا عَلَيْهِمَا فِي الْآخِرِينَ سَلَّمُ عَلَى مُوسَى وَهُرُونَ إِنَّا كَذَلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ : إِنَّهُمَا مِنْ عِبَادِنَا الْمُؤْمِنِينَ.
আমি অনুগ্রহ করিয়াছিলাম, মূসা ও হারূনের প্রতি। এবং তাহাদিগের ও তাহাদিগের সম্প্রদায়কে আমি উদ্ধার করিয়াছিলাম মহাসংকট হইতে। আমি সাহায্য করিয়াছিলাম তাহাদিগকে, ফলে তাহারা হইয়াছিল, বিজয়ী। আমি উভয়কে দিয়াছিলাম বিশদ কিতাব। এবং তাহাদিগকে আমি পরিচালিত করিয়াছিলাম সরল পথে। আমি তাহাদিগের উভয়কে পরবর্তীদিগের স্মরণে রাখিয়াছি। মুসা ও হারূনের প্রতি শান্তি বর্ষিত হউক। এইভাবে আমি সৎকর্মপরায়ণদিগকে পুরস্কৃত করিয়া থাকি" (৩৭ : ১১৪-১২২)।
হাদীছ শরীফে আছে যে, শব-ই মি'রাজে হযরত মুহাম্মদ (স)-এর সঙ্গে হযরত হারুন (আ)-এর সাক্ষাত ঘটে। সহীহ বুখারীতে হযরত মালিক ইবন সা'সা'আ (রা) বর্ণিত হাদীছে আছে যে, যখন রাসূল আকরাম (স) ৫ম আসমানে পৌঁছেন, তখন হযরত হারুন (আ)-এর সঙ্গে তাঁহার সাক্ষাত ঘটে। এই হাদীছে আছে, "আমি উপরে পৌঁছিলাম, ঐখানে হযরত হারুন (আ)-র কোলবিলাম। জিবরাঈল (আ) বলেন, ইনি হযরত হারুন (আ); তাঁহাকে সালাম করুন। অতএব, আমি, তাঁহাকে সালাম দিলাম। তিনি সালামের জওয়াব দিলেন এবং বলিলেন,, উত্তম ভাই, উত্তম নবী! পেশেশ্তামদেদ (খাতীর তাবরীযী, মিশকাতুল মাসাবীহ বাবু ফিল মিরাজ, ৩খ, পৃ. ১৬৩৬; মুলমাদ, জামীর আহমাদ, আম্বিয়ায়ে কুরআন, ২খ, পৃ. ৩০৩)।
عن الهلب بن سعد عَنْ أَبِيهِ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ خَرَجَ إِلَى تَبُوكَ فَاسْتَخْلَفَهُ عَلَيْهِ قَالَ اتُخَلَقُني فِي الصَّبْيَانِ وَالنِّسَاءِ قَالَ أَلا تَرْضَى أَنْ تَكُونَ مِنِّي بمنزلة هارُونَ مِنْ مُوسَى إِلَّا إِنَّهُ لَيْسَ نَبِيُّ
"হযরত মুস'আব ইবন সা'দ তাহার পিতার নিকট হইতে বর্ণনা করেন রাসূলুল্লাষী (স) আবুজেড যুদ্ধে গমনের সময় হযরত, জাদী (রা)-কে স্থলাভিষিক্ত নিযুক্ত করেন। হযরত সা'দ (রা) বলেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ্! আপনি আয়াকে নারী ও শিশুদের মধ্যে রাখিয়া যাইতেছেনদী রাসূলাহ (স)। ইরশাদ করেন, হে আলী! তুমি আমার নিকট ঐ মর্যাদায় উপনীত হইতে পছন্দ কর না, যেমদ হযরত হারুন হযরত মুসা (আ)-এর গরীকে মুনোনীত হইয়াছিলেন? তবে আমার পর আর গেয়গজনবী আসিরে না। (বুখারী, ২খ, পৃ. ৬৩)।
عن عَائِشَةَ أَنَّهَا خَرَجَتْ فِيْمَا كَانَتْ تَعْتَمِرُ فَنَزَلَتْ بِبَعْضِ الْأَعْرَابِ فَسَمِعَتْ رَجُلًا يَقُولُ أَي أَحْ كَانَ فِي الدُّنْيَا أَنْفَعُ لِأَخِيهِ ؟ قَالُوا لأَتَدْرِي قَالَ أَنَا وَاللَّهِ اَدْرِي قَالَتْ فَقُلْتُ فِي نَفْسِي فِي حِلْقِهِ لَا يَسْتَثْنَى إِنَّهُ لَيَعْلَمَ أَيُّ أَحْ كَانَ فِي الدُّنْيَا أَنْفَعُ لِأَخِيهِ قَالَ مُوسَى) حِيْنَ سَأَلَ لِأَخِيهِ النُّبُوَّةَ فَقُلْتُ صَدَقَ وَاللَّهِ.
"হযরত আইশা (রা) উমরার জন্য যাইতেছিলেন। এমতাবস্থায় কোন আরব বেদুঈনের নিকট অবস্থানকালে তিনি শুনিতে পান, এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করিতেছে যে, দুনিয়াতে কোন ভাই তাঁহার ভাই-এর অধিক উপকার করিয়াছে? এই প্রশ্নের পর সকলেই চুপ হইয়া যায় এবং বলে, আমরা এই প্রশ্নের উত্তর জানিনা। ঐ ব্যক্তি বলিল, আল্লাহ্র কসম। আমি জানি। হযরত আয়শা (রা) বলেন, আমি মনে মনে বলিলাম, দেখ, ঐ ব্যক্তি কত বাড়াবাড়ি করিয়াছে। সে ই শা তা বলা ছাড়া কসম খাইয়াছে। মানুষ তাহাকে বলিল, তুমিই বল। সে উত্তর দিল, 'হযরত মূসা (আ) তাঁহার ভাইকে নিজ দু'আ দ্বারা নবুওয়াত পাওয়াইয়া দেন। আমি ইহা শুনিয়া মনে মনে বলিলাম, সে সত্য কথাই বলিয়াছে” (ইব্‌ন কাছীর, ২খ, পৃ. ৪৭৪)।
হযরত মূসা (আ) দু'আ করেন, আমার বাহ্যিক ও আভ্যন্তরীণ সাহায্যের জন্য হযরত হারূনকে আমার উযীর বানাইয়া দিন। ইব্‌ন আব্বাস (রা) বলেন, ঐ সময়ই হারুন (আ)-কে হযরত মূসা'র সঙ্গে নবুওয়াত দান করা হয় (ইব্‌ন কাছীর, ২খ, পৃ. ৪৭৪)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 অন্যান্য ধর্মগ্রন্থে হারূন (আ)

📄 অন্যান্য ধর্মগ্রন্থে হারূন (আ)


বাইবেলে নবী হিসাবে হযরত হারূন (আ)-এর উল্লেখ নাই, বরং তাঁহাকে "যাজক" হিসাবে অভিহিত করা হইয়াছে। ইয়াহুদীদের মধ্যে "যাজক"-এর অবস্থান ও মযার্দা মুসলমানদের "ইমাম"-এর অনুরূপ ছিল (মুহাম্মাদ জামীল আহমাদ, আম্বিয়ায়ে কুরআন, ২খ, পৃ. ২৮৪-২৮৫)।
বিখ্যাত জার্মান পণ্ডিত হেইনরিখ বোল (Heinnrich Buald) বলেন, "ইয়াহুদীদের মধ্যে যেমন কাহিন শব্দটির ব্যবহার দেখা যায়, মুসলমানদের মধ্যে তেমনি "ইমাম" শব্দটির ব্যবহার দেখা যায়" (তারীখ বনী ইসরাঈল, ইং অনু, ১খ, পৃ. ২৫, পার্শ্বটীকা)।
তাওরাতের বর্ণনায় জানা যায় যে, হযরত হারুন (আ)-এর দায়িত্বে ইবাদাতখানার ব্যবস্থাপনা এবং শারী'আত ও কুরবানী ইত্যাদির রীতি-নীতি সম্পাদন করার কাজ নির্দ্ধারিত ছিল এবং বনী ইসরাঈলের জামা'আতের ইমামও তিনিই ছিলেন (আম্বিয়ায়ে কুরআন, ২খ, পৃ. ২৮৫)।
বাইবেলে আরও আছে যে, হযরত মূসা (আ) যখন তুর পাহাড়ে ই'তিকাফে যান এবং তাঁহাকে শরী'আতের নির্দেশসম্বলিত ফলক দেওয়া হয় তখন ঐ সকল নির্দেশের মধ্যে হযরত হারুন (আ)-কে যে কাহিন পদে নিযুক্তি দেওয়া হয়, সেই নির্দেশও ছিল (বাইবেল, যাত্রাপুস্তক, ২৮ : ১)।
হযরত হারুন (আ) ও তাঁহার পুত্রদের দায়িত্বে ছিল ইবাদাতখানা। বাইবেলে এই সম্পর্কে নিম্নবর্ণিত নির্দেশ উল্লিখিত হইয়াছে: "আর সদাপ্রভু মোশিকে কহিলেন, তুমি লেবি বংশকে আনিয়া হারোণ যাজকের সম্মুখে উপস্থিত কর; তাহারা তাহার পরিচর্যা করিবে; আর আবাসের সেবাকর্ম করিবার জন্য সমাগম তাম্বুর সম্মুখে তাহার ও সমস্ত মণ্ডলীর রক্ষণীয় রক্ষা করিবে। আর তুমি লেবীয়দিগকে হারোণের ও তাহার পুত্রগণের হস্তে প্রদান করিবে; তাহারা দত্ত, ইস্রায়েল সম্ভানগণের পক্ষে তাহাকে দত্ত। আর তুমি হারোণ ও তাহার পুত্রগণকে নিযুক্ত করিবে এবং তাহারা আপনাদের যাজকত্ব পদ রক্ষণ করিবে। অন্য গোষ্ঠীভুক্ত যে কেহ নিকটবর্তী হইবে, তাহার প্রাণদণ্ড হইবে (গণনাপুস্তক, ৩:৪ ৫-১০)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হযরত হারূন (আ)-এর নবুওয়াত প্রাপ্তি

📄 হযরত হারূন (আ)-এর নবুওয়াত প্রাপ্তি


হযরত মূসা (আ)-কে রিসালাত দান করার পর আল্লাহ্ তা'আলা হযরত হারুন (আ)-কে লইয়া ফিরআওনকে তাওহীদের দাওয়াত দিতে মিসর যাওয়ার নির্দেশ দান করেন। আল্লাহ্র এই নির্দেশের প্রেক্ষিতে হযরত মূসা (আ) আল্লাহ্র নিকট আরয করিলেন:
قَالَ رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِّنْ لِسَانِي يَفْقَهُوا قَوْلِي وَاجْعَلْ لِي وَزِيرًا مِّنْ أَهْلِي هُرُونَ أَخِي اشْدُدْ بِهِ أَزْرِي وَأَشْرِكْهُ فِي أَمْرِي كَيْ نُسَبِّحَكَ كَثِيرًا وَنَذْكُرَكَ كَثِيرًا إِنَّكَ كُنْتَ بِنَا بَصِيرًا .
"মূসা বলিল, হে আমার প্রতিপালক! আমার বক্ষ প্রশস্ত করিয়া দাও এবং আমার কর্ম সহজ করিয়া দাও। আমার জিহ্বার জড়তা দূর করিয়া দাও, যাহাতে উহারা আমার কথা বুঝিতে পারে। আমার জন্য করিয়া দাও একজন সাহায্যকারী আমার স্বজনবর্গের মধ্য হইতে; আমার ভ্রাতা হারুনকে; তাহার দ্বারা আমার শক্তি সুদৃঢ় কর ও তাহাকে আমার কর্মে অংশী কর। যাহাতে আমরা তোমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করিতে পারি প্রচুর এবং তোমাকে স্মরণ করিতে পারি অধিক। তুমি তো আমাদিগের সম্যক দ্রষ্টা" (২০-২৫ : ৩৫)।
এই ক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে, জিহ্বার জড়তার কারণে এবং ইতোপূর্বে এক কিত্তীকে হত্যা করিয়া হযরত মূসা (আ) ফিরআওনের নিকট যাওয়ার ব্যাপারে সাচ্ছন্দ্যবোধ করিতেছিলেন না। পবিত্র কুরআনে হযরত মূসা (আ)-র কথা নিম্নোক্তভাবে বর্ণিত হইয়াছে:
وَيَضِيقُ صَدْرِي وَلَا يَنْطَلِقُ لِسَانِي فَأَرْسِلْ إِلَى هُرُونَ .
“এবং আমার হৃদয় সংকুচিত হইয়া পড়িতেছে, আর আমার জিহ্বা তো সাবলীল নাই। সুতরাং হারূনের প্রতিও প্রত্যাদেশ পাঠাও” (২৬ : ১৩)।
হযরত হারুন (আ) হযরত মূসা (আ)-এর তুলনায় অধিক বাকপটু, বাগ্মী, শুদ্ধভাষী ও বক্তব্য উপস্থাপনে পারদর্শী ছিলেন। তাই হযরত মূসা (আ) হযরত হারূনের মত যোগ্যতার অধিকারী এই ভাইকে তাঁহার পক্ষে কথা বলার জন্য তাঁহাকে সহায়তা করার জন্য চাহিয়াছিলেন। পবিত্র কুরআনে বলা হইয়াছে:
وَأَخِي هَرُونَ هُوَ أَفْصَحُ مِنِّى لِسَانًا فَأَرْسِلْهُ مَعِى رِدًا يُصَدِّقُنِي إِنِّي أَخَافُ أَنْ يُكَذِّبُونِ .
“আমার ভ্রাতা হারুন আমা অপেক্ষা বাগ্মী; অতএব তাহাকে আমার সাহায্যকারীরূপে প্রেরণ কর, সে আমাকে সমর্থন করিবে। আমি আশংকা করি উহারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলিবে” (২৮:৩৪)।
উপরিউক্ত আয়াতে হযরত মূসা (আ) হযরত হারুন (আ) তাঁহার চাইতে শুদ্ধভাষী ও বাগ্মী ছিলেন বলিয়া যে বক্তব্য উপস্থাপন করিয়াছেন সেই সম্পর্কে তাফসীরকার ও ঐতিহাসিকগণ বিভিন্ন মত দিয়াছেন। হযরত হারুন (আ) মিসরী ও হিব্রু উভয় ভাষায়ই খুব পারদর্শী ও অভিজ্ঞ ছিলেন। মিসরী ভাষা তাঁহার দেশীয় ভাষা আর হিব্রু তাঁহার মাতৃভাষা ছিল (হিফযুর রহমান; কাসাসুল কুরআন, বাংলা অনু., ২খ, পৃ. ৬১)।
মোটকথা, হযরত মূসা (আ)-এর আবেদন ও প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে, সর্বোপরি আল্লাহর একান্ত রহমত ও অনুগ্রহে হযরত হারুন (আ) নবুওয়াত লাভ করেন। আল্লাহ্ বলেন:
وَوَهَبْنَالَهُ مِنْ رَّحْمَتِنَا أَخَاهُ هُرُونَ نَبِيًّا ...
“আমি নিজ অনুগ্রহে তাহাকে (মূসাকে) দিলাম তাহার ভ্রাতা হারুনকে নবীরূপে” (১৯:৫৩)। হারুন (আ)-কে নবী করার ব্যাপারে মূসা (আ)-এর দোআ কবুল করা প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
قَالَ قَدْ أُوتِيْتَ سُؤْلُكَ يَمُوسى .
“তিনি বলিলেন, হে মূসা! তুমি যাহা চাহিয়াছ, তাহা, তোমাকে দেওয়া হইল” (২০:৩৬)।

📘 সীরাত বিশ্বকোষ > 📄 হযরত মূসা (আ)-এর জীবদ্দশায় ও হযরত হারূন (আ)-এর দায়িত্ব পালন

📄 হযরত মূসা (আ)-এর জীবদ্দশায় ও হযরত হারূন (আ)-এর দায়িত্ব পালন


হযরত হারুন (আ)-কে নবুওয়াত দান করিয়া আল্লাহ তা'আলা হযরত মূসা (আ)-কে নির্দেশ দিলেন যে, তিনি যেন হযরত হারুনকে সঙ্গে নিয়া ফিরআওনকে তাওহীদের দাওয়াত দিতে মিসর যাওয়ার নির্দেশ দান করেন। আল্লাহ্র এই নির্দেশের প্রেক্ষিতে হযরত মূসা (আ) আল্লাহ্র নিকট আরয করিলেন:
قَالَ رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِّنْ لِسَانِي يَفْقَهُوا قَوْلِي وَاجْعَلْ لِي وَزِيرًا مِّنْ أَهْلِي هُرُونَ أَخِي اشْدُدْ بِهِ أَزْرِي وَأَشْرِكْهُ فِي أَمْرِي كَيْ نُسَبِّحَكَ كَثِيرًا وَنَذْكُرَكَ كَثِيرًا إِنَّكَ كُنْتَ بِنَا بَصِيرًا .
"মূসা বলিল, হে আমার প্রতিপালক! আমার বক্ষ প্রশস্ত করিয়া দাও এবং আমার কর্ম সহজ করিয়া দাও। আমার জিহ্বার জড়তা দূর করিয়া দাও, যাহাতে উহারা আমার কথা বুঝিতে পারে। আমার জন্য করিয়া দাও একজন সাহায্যকারী আমার স্বজনবর্গের মধ্য হইতে; আমার ভ্রাতা হারুনকে; তাহার দ্বারা আমার শক্তি সুদৃঢ় কর ও তাহাকে আমার কর্মে অংশী কর। যাহাতে আমরা তোমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করিতে পারি প্রচুর এবং তোমাকে স্মরণ করিতে পারি অধিক। তুমি তো আমাদিগের সম্যক দ্রষ্টা" (২০-২৫ : ৩৫)।
এই ক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে, জিহ্বার জড়তার কারণে এবং ইতোপূর্বে এক কিত্তীকে হত্যা করিয়া হযরত মূসা (আ) ফিরআওনের নিকট যাওয়ার ব্যাপারে সাচ্ছন্দ্যবোধ করিতেছিলেন না। পবিত্র কুরআনে হযরত মূসা (আ)-র কথা নিম্নোক্তভাবে বর্ণিত হইয়াছে:
وَيَضِيقُ صَدْرِي وَلَا يَنْطَلِقُ لِسَانِي فَأَرْسِلْ إِلَى هُرُونَ .
“এবং আমার হৃদয় সংকুচিত হইয়া পড়িতেছে, আর আমার জিহ্বা তো সাবলীল নাই। সুতরাং হারূনের প্রতিও প্রত্যাদেশ পাঠাও” (২৬ : ১৩)।
হযরত হারুন (আ) হযরত মূসা (আ)-এর তুলনায় অধিক বাকপটু, বাগ্মী, শুদ্ধভাষী ও বক্তব্য উপস্থাপনে পারদর্শী ছিলেন। তাই হযরত মূসা (আ) হযরত হারূনের মত যোগ্যতার অধিকারী এই ভাইকে তাঁহার পক্ষে কথা বলার জন্য তাঁহাকে সহায়তা করার জন্য চাহিয়াছিলেন। পবিত্র কুরআনে বলা হইয়াছে:
وَأَخِي هَرُونَ هُوَ أَفْصَحُ مِنِّى لِسَانًا فَأَرْسِلْهُ مَعِى رِدًا يُصَدِّقُنِي إِنِّي أَخَافُ أَنْ يُكَذِّبُونِ .
“আমার ভ্রাতা হারুন আমা অপেক্ষা বাগ্মী; অতএব তাহাকে আমার সাহায্যকারীরূপে প্রেরণ কর, সে আমাকে সমর্থন করিবে। আমি আশংকা করি উহারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলিবে” (২৮:৩৪)।
উপরিউক্ত আয়াতে হযরত মূসা (আ) হযরত হারুন (আ) তাঁহার চাইতে শুদ্ধভাষী ও বাগ্মী ছিলেন বলিয়া যে বক্তব্য উপস্থাপন করিয়াছেন সেই সম্পর্কে তাফসীরকার ও ঐতিহাসিকগণ বিভিন্ন মত দিয়াছেন। হযরত হারুন (আ) মিসরী ও হিব্রু উভয় ভাষায়ই খুব পারদর্শী ও অভিজ্ঞ ছিলেন। মিসরী ভাষা তাঁহার দেশীয় ভাষা আর হিব্রু তাঁহার মাতৃভাষা ছিল (হিফযুর রহমান; কাসাসুল কুরআন, বাংলা অনু., ২খ, পৃ. ৬১)।
মোটকথা, হযরত মূসা (আ)-এর আবেদন ও প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে, সর্বোপরি আল্লাহর একান্ত রহমত ও অনুগ্রহে হযরত হারুন (আ) নবুওয়াত লাভ করেন। আল্লাহ্ বলেন:
وَوَهَبْنَالَهُ مِنْ رَّحْمَتِنَا أَخَاهُ هُرُونَ نَبِيًّا ...
“আমি নিজ অনুগ্রহে তাহাকে (মূসাকে) দিলাম তাহার ভ্রাতা হারুনকে নবীরূপে” (১৯:৫৩)। হারুন (আ)-কে নবী করার ব্যাপারে মূসা (আ)-এর দোআ কবুল করা প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
قَالَ قَدْ أُوتِيْتَ سُؤْلُكَ يَمُوسى .
“তিনি বলিলেন, হে মূসা! তুমি যাহা চাহিয়াছ, তাহা, তোমাকে দেওয়া হইল” (২০:৩৬)।
হযরত মূসা (আ)-এর জীবদ্দশায় হযরত হারুন (আ)-এর দায়িত্ব পালন
হযরত হারুন (আ)-কে নবুওয়াত দান করিয়া আল্লাহ তা'আলা হযরত মূসা (আ)-কে নির্দেশ দিলেন যে, তিনি যেন হযরত হারুনকে সঙ্গে নিয়া ফিরআওনকে তাওহীদের দাওয়াত দিতে মিসর যাওয়ার নির্দেশ দান করেন। আল্লাহ্র এই নির্দেশের প্রেক্ষিতে হযরত মূসা (আ) আল্লাহ্র নিকট আরয করিলেন:
قَالَ رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِّنْ لِسَانِي يَفْقَهُوا قَوْلِي وَاجْعَلْ لِي وَزِيرًا مِّنْ أَهْلِي هُرُونَ أَخِي اشْدُدْ بِهِ أَزْرِي وَأَشْرِكْهُ فِي أَمْرِي كَيْ نُسَبِّحَكَ كَثِيرًا وَنَذْكُرَكَ كَثِيرًا إِنَّكَ كُنْتَ بِنَا بَصِيرًا .
"মূসা বলিল, হে আমার প্রতিপালক! আমার বক্ষ প্রশস্ত করিয়া দাও এবং আমার কর্ম সহজ করিয়া দাও। আমার জিহ্বার জড়তা দূর করিয়া দাও, যাহাতে উহারা আমার কথা বুঝিতে পারে। আমার জন্য করিয়া দাও একজন সাহায্যকারী আমার স্বজনবর্গের মধ্য হইতে; আমার ভ্রাতা হারুনকে; তাহার দ্বারা আমার শক্তি সুদৃঢ় কর ও তাহাকে আমার কর্মে অংশী কর। যাহাতে আমরা তোমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করিতে পারি প্রচুর এবং তোমাকে স্মরণ করিতে পারি অধিক। তুমি তো আমাদিগের সম্যক দ্রষ্টা" (২০-২৫ : ৩৫)।
এই ক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে, জিহ্বার জড়তার কারণে এবং ইতোপূর্বে এক কিত্তীকে হত্যা করিয়া হযরত মূসা (আ) ফিরআওনের নিকট যাওয়ার ব্যাপারে সাচ্ছন্দ্যবোধ করিতেছিলেন না। পবিত্র কুরআনে হযরত মূসা (আ)-র কথা নিম্নোক্তভাবে বর্ণিত হইয়াছে:
وَيَضِيقُ صَدْرِي وَلَا يَنْطَلِقُ لِسَانِي فَأَرْسِلْ إِلَى هُرُونَ .
“এবং আমার হৃদয় সংকুচিত হইয়া পড়িতেছে, আর আমার জিহ্বা তো সাবলীল নাই। সুতরাং হারূনের প্রতিও প্রত্যাদেশ পাঠাও” (২৬ : ১৩)।
হযরত হারুন (আ) হযরত মূসা (আ)-এর তুলনায় অধিক বাকপটু, বাগ্মী, শুদ্ধভাষী ও বক্তব্য উপস্থাপনে পারদর্শী ছিলেন। তাই হযরত মূসা (আ) হযরত হারূনের মত যোগ্যতার অধিকারী এই ভাইকে তাঁহার পক্ষে কথা বলার জন্য তাঁহাকে সহায়তা করার জন্য চাহিয়াছিলেন। পবিত্র কুরআনে বলা হইয়াছে:
وَأَخِي هَرُونَ هُوَ أَفْصَحُ مِنِّى لِسَانًا فَأَرْسِلْهُ مَعِى رِدًا يُصَدِّقُنِي إِنِّي أَخَافُ أَنْ يُكَذِّبُونِ .
“আমার ভ্রাতা হারুন আমা অপেক্ষা বাগ্মী; অতএব তাহাকে আমার সাহায্যকারীরূপে প্রেরণ কর, সে আমাকে সমর্থন করিবে। আমি আশংকা করি উহারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলিবে” (২৮:৩৪)।
উপরিউক্ত আয়াতে হযরত মূসা (আ) হযরত হারুন (আ) তাঁহার চাইতে শুদ্ধভাষী ও বাগ্মী ছিলেন বলিয়া যে বক্তব্য উপস্থাপন করিয়াছেন সেই সম্পর্কে তাফসীরকার ও ঐতিহাসিকগণ বিভিন্ন মত দিয়াছেন। হযরত হারুন (আ) মিসরী ও হিব্রু উভয় ভাষায়ই খুব পারদর্শী ও অভিজ্ঞ ছিলেন। মিসরী ভাষা তাঁহার দেশীয় ভাষা আর হিব্রু তাঁহার মাতৃভাষা ছিল (হিফযur রহমান; কাসাসুল কুরআন, বাংলা অনু., ২খ, পৃ. ৬১)।
মোটকথা, হযরত মূসা (আ)-এর আবেদন ও প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে, সর্বোপরি আল্লাহর একান্ত রহমত ও অনুগ্রহে হযরত হারুন (আ) নবুওয়াত লাভ করেন। আল্লাহ্ বলেন:
وَوَهَبْنَالَهُ مِنْ رَّحْمَتِنَا أَخَاهُ هُرُونَ نَبِيًّا ...
“আমি নিজ অনুগ্রহে তাহাকে (মূসাকে) দিলাম তাহার ভ্রাতা হারুনকে নবীরূপে” (১৯:৫৩)। হারুন (আ)-কে নবী করার ব্যাপারে মূসা (আ)-এর দোআ কবুল করা প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
قَالَ قَدْ أُوتِيْتَ سُؤْلُكَ يَمُوسى .
“তিনি বলিলেন, হে মূসা! তুমি যাহা চাহিয়াছ, তাহা, তোমাকে দেওয়া হইল” (২০:৩৬)।
হযরত মূসা (আ)-এর জীবদ্দশায় হযরত হারুন (আ)-এর দায়িত্ব পালন
হযরত হারুন (আ)-কে নবুওয়াত দান করিয়া আল্লাহ তা'আলা হযরত মূসা (আ)-কে নির্দেশ দিলেন যে, তিনি যেন হযরত হারুনকে সঙ্গে নিয়া ফিরআওনকে তাওহীদের দাওয়াত দিতে মিসর যাওয়ার নির্দেশ দান করেন। আল্লাহ্র এই নির্দেশের প্রেক্ষিতে হযরত মূসা (আ) আল্লাহ্র নিকট আরয করিলেন:
قَالَ رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِّنْ لِسَانِي يَفْقَهُوا قَوْلِي وَاجْعَلْ لِي وَزِيرًا مِّنْ أَهْلِي هُرُونَ أَخِي اشْدُدْ بِهِ أَزْرِي وَأَشْرِكْهُ فِي أَمْرِي كَيْ نُسَبِّحَكَ كَثِيرًا وَنَذْكُرَكَ كَثِيرًا إِنَّكَ كُنْتَ بِنَا بَصِيرًا .
"মূসা বলিল, হে আমার প্রতিপালক! আমার বক্ষ প্রশস্ত করিয়া দাও এবং আমার কর্ম সহজ করিয়া দাও। আমার জিহ্বার জড়তা দূর করিয়া দাও, যাহাতে উহারা আমার কথা বুঝিতে পারে। আমার জন্য করিয়া দাও একজন সাহায্যকারী আমার স্বজনবর্গের মধ্য হইতে; আমার ভ্রাতা হারুনকে; তাহার দ্বারা আমার শক্তি সুদৃঢ় কর ও তাহাকে আমার কর্মে অংশী কর। যাহাতে আমরা তোমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করিতে পারি প্রচুর এবং তোমাকে স্মরণ করিতে পারি অধিক। তুমি তো আমাদিগের সম্যক দ্রষ্টা" (২০-২৫ : ৩৫)।
এই ক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে, জিহ্বার জড়তার কারণে এবং ইতোপূর্বে এক কিত্তীকে হত্যা করিয়া হযরত মূসা (আ) ফিরআওনের নিকট যাওয়ার ব্যাপারে সাচ্ছন্দ্যবোধ করিতেছিলেন না। পবিত্র কুরআনে হযরত মূসা (আ)-র কথা নিম্নোক্তভাবে বর্ণিত হইয়াছে:
وَيَضِيقُ صَدْرِي وَلَا يَنْطَلِقُ لِسَانِي فَأَرْسِلْ إِلَى هُرُونَ .
“এবং আমার হৃদয় সংকুচিত হইয়া পড়িতেছে, আর আমার জিহ্বা তো সাবলীল নাই। সুতরাং হারূনের প্রতিও প্রত্যাদেশ পাঠাও” (২৬ : ১৩)।
হযরত হারুন (আ) হযরত মূসা (আ)-এর তুলনায় অধিক বাকপটু, বাগ্মী, শুদ্ধভাষী ও বক্তব্য উপস্থাপনে পারদর্শী ছিলেন। তাই হযরত মূসা (আ) হযরত হারূনের মত যোগ্যতার অধিকারী এই ভাইকে তাঁহার পক্ষে কথা বলার জন্য তাঁহাকে সহায়তা করার জন্য চাহিয়াছিলেন। পবিত্র কুরআনে বলা হইয়াছে:
وَأَخِي هَرُونَ هُوَ أَفْصَحُ مِنِّى لِسَانًا فَأَرْسِلْهُ مَعِى رِدًا يُصَدِّقُنِي إِنِّي أَخَافُ أَنْ يُكَذِّبُونِ .
“আমার ভ্রাতা হারুন আমা অপেক্ষা বাগ্মী; অতএব তাহাকে আমার সাহায্যকারীরূপে প্রেরণ কর, সে আমাকে সমর্থন করিবে। আমি আশংকা করি উহারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলিবে” (২৮:৩৪)।
উপরিউক্ত আয়াতে হযরত মূসা (আ) হযরত হারুন (আ) তাঁহার চাইতে শুদ্ধভাষী ও বাগ্মী ছিলেন বলিয়া যে বক্তব্য উপস্থাপন করিয়াছেন সেই সম্পর্কে তাফসীরকার ও ঐতিহাসিকগণ বিভিন্ন মত দিয়াছেন। হযরত হারুন (আ) মিসরী ও হিব্রু উভয় ভাষায়ই খুব পারদর্শী ও অভিজ্ঞ ছিলেন। মিসরী ভাষা তাঁহার দেশীয় ভাষা আর হিব্রু তাঁহার মাতৃভাষা ছিল (হিফযur রহমান; কাসাসুল কুরআন, বাংলা অনু., ২খ, পৃ. ৬১)।
মোটকথা, হযরত মূসা (আ)-এর আবেদন ও প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে, সর্বোপরি আল্লাহর একান্ত রহমত ও অনুগ্রহে হযরত হারুন (আ) নবুওয়াত লাভ করেন। আল্লাহ্ বলেন:
وَوَهَبْنَالَهُ مِنْ رَّحْمَتِنَا أَخَاهُ هُرُونَ نَبِيًّا ...
“আমি নিজ অনুগ্রহে তাহাকে (মূসাকে) দিলাম তাহার ভ্রাতা হারুনকে নবীরূপে” (১৯:৫৩)। হারুন (আ)-কে নবী করার ব্যাপারে মূসা (আ)-এর দোআ কবুল করা প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
قَالَ قَدْ أُوتِيْتَ سُؤْلُكَ يَمُوسى .
“তিনি বলিলেন, হে মূসা! তুমি যাহা চাহিয়াছ, তাহা, তোমাকে দেওয়া হইল” (২০:৩৬)।
হযরত মূসা (আ)-এর জীবদ্দশায় হযরত হারুন (আ)-এর দায়িত্ব পালন
হযরত হারুন (আ)-কে নবুওয়াত দান করিয়া আল্লাহ তা'আলা হযরত মূসা (আ)-কে নির্দেশ দিলেন যে, তিনি যেন হযরত হারুনকে সঙ্গে নিয়া ফিরআওনকে তাওহীদের দাওয়াত দিতে মিসর যাওয়ার নির্দেশ দান করেন। আল্লাহ্র এই নির্দেশের প্রেক্ষিতে হযরত মূসা (আ) আল্লাহ্র নিকট আরয করিলেন:
قَالَ رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِّنْ لِسَانِي يَفْقَهُوا قَوْلِي وَاجْعَلْ لِي وَزِيرًا مِّنْ أَهْلِي هُرُونَ أَخِي اشْدُدْ بِهِ أَزْرِي وَأَشْرِكْهُ فِي أَمْرِي كَيْ نُسَبِّحَكَ كَثِيرًا وَنَذْكُرَكَ كَثِيرًا إِنَّكَ كُنْتَ بِنَا بَصِيرًا .
"মূসা বলিল, হে আমার প্রতিপালক! আমার বক্ষ প্রশস্ত করিয়া দাও এবং আমার কর্ম সহজ করিয়া দাও। আমার জিহ্বার জড়তা দূর করিয়া দাও, যাহাতে উহারা আমার কথা বুঝিতে পারে। আমার জন্য করিয়া দাও একজন সাহায্যকারী আমার স্বজনবর্গের মধ্য হইতে; আমার ভ্রাতা হারুনকে; তাহার দ্বারা আমার শক্তি সুদৃঢ় কর ও তাহাকে আমার কর্মে অংশী কর। যাহাতে আমরা তোমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করিতে পারি প্রচুর এবং তোমাকে স্মরণ করিতে পারি অধিক। তুমি তো আমাদিগের সম্যক দ্রষ্টা" (২০-২৫ : ৩৫)।
এই ক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে, জিহ্বার জড়তার কারণে এবং ইতোপূর্বে এক কিত্তীকে হত্যা করিয়া হযরত মূসা (আ) ফিরআওনের নিকট যাওয়ার ব্যাপারে সাচ্ছন্দ্যবোধ করিতেছিলেন না। পবিত্র কুরআনে হযরত মূসা (আ)-র কথা নিম্নোক্তভাবে বর্ণিত হইয়াছে:
وَيَضِيقُ صَدْرِي وَلَا يَنْطَلِقُ لِسَانِي فَأَرْسِلْ إِلَى هُرُونَ .
“এবং আমার হৃদয় সংকুচিত হইয়া পড়িতেছে, আর আমার জিহ্বা তো সাবলীল নাই। সুতরাং হারূনের প্রতিও প্রত্যাদেশ পাঠাও” (২৬ : ১৩)।
হযরত হারুন (আ) হযরত মূসা (আ)-এর তুলনায় অধিক বাকপটু, বাগ্মী, শুদ্ধভাষী ও বক্তব্য উপস্থাপনে পারদর্শী ছিলেন। তাই হযরত মূসা (আ) হযরত হারূনের মত যোগ্যতার অধিকারী এই ভাইকে তাঁহার পক্ষে কথা বলার জন্য তাঁহাকে সহায়তা করার জন্য চাহিয়াছিলেন। পবিত্র কুরআনে বলা হইয়াছে:
وَأَخِي هَرُونَ هُوَ أَفْصَحُ مِنِّى لِسَانًا فَأَرْسِلْهُ مَعِى رِدًا يُصَدِّقُنِي إِنِّي أَخَافُ أَنْ يُكَذِّبُونِ .
“আমার ভ্রাতা হারুন আমা অপেক্ষা বাগ্মী; অতএব তাহাকে আমার সাহায্যকারীরূপে প্রেরণ কর, সে আমাকে সমর্থন করিবে। আমি আশংকা করি উহারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলিবে” (২৮:৩৪)।
উপরিউক্ত আয়াতে হযরত মূসা (আ) হযরত হারুন (আ) তাঁহার চাইতে শুদ্ধভাষী ও বাগ্মী ছিলেন বলিয়া যে বক্তব্য উপস্থাপন করিয়াছেন সেই সম্পর্কে তাফসীরকার ও ঐতিহাসিকগণ বিভিন্ন মত দিয়াছেন। হযরত হারুন (আ) মিসরী ও হিব্রু উভয় ভাষায়ই খুব পারদর্শী ও অভিজ্ঞ ছিলেন। মিসরী ভাষা তাঁহার দেশীয় ভাষা আর হিব্রু তাঁহার মাতৃভাষা ছিল (হিফযur রহমান; কাসাসুল কুরআন, বাংলা অনু., ২খ, পৃ. ৬১)।
মোটকথা, হযরত মূসা (আ)-এর আবেদন ও প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে, সর্বোপরি আল্লাহর একান্ত রহমত ও অনুগ্রহে হযরত হারুন (আ) নবুওয়াত লাভ করেন। আল্লাহ্ বলেন:
وَوَهَبْنَالَهُ مِنْ رَّحْمَتِنَا أَخَاهُ هُرُونَ نَبِيًّا ...
“আমি নিজ অনুগ্রহে তাহাকে (মূসাকে) দিলাম তাহার ভ্রাতা হারুনকে নবীরূপে” (১৯:৫৩)। হারুন (আ)-কে নবী করার ব্যাপারে মূসা (আ)-এর দোআ কবুল করা প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
قَالَ قَدْ أُوتِيْتَ سُؤْلُكَ يَمُوسى .
“তিনি বলিলেন, হে মূসা! তুমি যাহা চাহিয়াছ, তাহা, তোমাকে দেওয়া হইল” (২০:৩৬)।
হযরত মূসা (আ)-এর জীবদ্দশায় হযরত হারুন (আ)-এর দায়িত্ব পালন
হযরত হারুন (আ)-কে নবুওয়াত দান করিয়া আল্লাহ তা'আলা হযরত মূসা (আ)-কে নির্দেশ দিলেন যে, তিনি যেন হযরত হারুনকে সঙ্গে নিয়া ফিরআওনকে তাওহীদের দাওয়াত দিতে মিসর যাওয়ার নির্দেশ দান করেন। আল্লাহ্র এই নির্দেশের প্রেক্ষিতে হযরত মূসা (আ) আল্লাহ্র নিকট আরয করিলেন:
قَالَ رَبِّ اشْرَحْ لِي صَدْرِي وَيَسِّرْ لِي أَمْرِي وَاحْلُلْ عُقْدَةً مِّنْ لِسَانِي يَفْقَهُوا قَوْلِي وَاجْعَلْ لِي وَزِيرًا مِّنْ أَهْلِي هُرُونَ أَخِي اشْدُدْ بِهِ أَزْرِي وَأَشْرِكْهُ فِي أَمْرِي كَيْ نُسَبِّحَكَ كَثِيرًا وَنَذْكُرَكَ كَثِيرًا إِنَّكَ كُنْتَ بِنَا بَصِيرًا .
"মূসা বলিল, হে আমার প্রতিপালক! আমার বক্ষ প্রশস্ত করিয়া দাও এবং আমার কর্ম সহজ করিয়া দাও। আমার জিহ্বার জড়তা দূর করিয়া দাও, যাহাতে উহারা আমার কথা বুঝিতে পারে। আমার জন্য করিয়া দাও একজন সাহায্যকারী আমার স্বজনবর্গের মধ্য হইতে; আমার ভ্রাতা হারুনকে; তাহার দ্বারা আমার শক্তি সুদৃঢ় কর ও তাহাকে আমার কর্মে অংশী কর। যাহাতে আমরা তোমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করিতে পারি প্রচুর এবং তোমাকে স্মরণ করিতে পারি অধিক। তুমি তো আমাদিগের সম্যক দ্রষ্টা" (২০-২৫ : ৩৫)।
এই ক্ষেত্রে উল্লেখ্য যে, জিহ্বার জড়তার কারণে এবং ইতোপূর্বে এক কিত্তীকে হত্যা করিয়া হযরত মূসা (আ) ফিরআওনের নিকট যাওয়ার ব্যাপারে সাচ্ছন্দ্যবোধ করিতেছিলেন না। পবিত্র কুরআনে হযরত মূসা (আ)-র কথা নিম্নোক্তভাবে বর্ণিত হইয়াছে:
وَيَضِيقُ صَدْرِي وَلَا يَنْطَلِقُ لِسَانِي فَأَرْسِلْ إِلَى هُرُونَ .
“এবং আমার হৃদয় সংকুচিত হইয়া পড়িতেছে, আর আমার জিহ্বা তো সাবলীল নাই। সুতরাং হারূনের প্রতিও প্রত্যাদেশ পাঠাও” (২৬ : ১৩)।
হযরত হারুন (আ) হযরত মূসা (আ)-এর তুলনায় অধিক বাকপটু, বাগ্মী, শুদ্ধভাষী ও বক্তব্য উপস্থাপনে পারদর্শী ছিলেন। তাই হযরত মূসা (আ) হযরত হারূনের মত যোগ্যতার অধিকারী এই ভাইকে তাঁহার পক্ষে কথা বলার জন্য তাঁহাকে সহায়তা করার জন্য চাহিয়াছিলেন। পবিত্র কুরআনে বলা হইয়াছে:
وَأَخِي هَرُونَ هُوَ أَفْصَحُ مِنِّى لِسَانًا فَأَرْسِلْهُ مَعِى رِدًا يُصَدِّقُنِي إِنِّي أَخَافُ أَنْ يُكَذِّبُونِ .
“আমার ভ্রাতা হারুন আমা অপেক্ষা বাগ্মী; অতএব তাহাকে আমার সাহায্যকারীরূপে প্রেরণ কর, সে আমাকে সমর্থন করিবে। আমি আশংকা করি উহারা আমাকে মিথ্যাবাদী বলিবে” (২৮:৩৪)।
উপরিউক্ত আয়াতে হযরত মূসা (আ) হযরত হারুন (আ) তাঁহার চাইতে শুদ্ধভাষী ও বাগ্মী ছিলেন বলিয়া যে বক্তব্য উপস্থাপন করিয়াছেন সেই সম্পর্কে তাফসীরকার ও ঐতিহাসিকগণ বিভিন্ন মত দিয়াছেন। হযরত হারুন (আ) মিসরী ও হিব্রু উভয় ভাষায়ই খুব পারদর্শী ও অভিজ্ঞ ছিলেন। মিসরী ভাষা তাঁহার দেশীয় ভাষা আর হিব্রু তাঁহার মাতৃভাষা ছিল (হিফযur রহমান; কাসাসুল কুরআন, বাংলা অনু., ২খ, পৃ. ৬১)।
মোটকথা, হযরত মূসা (আ)-এর আবেদন ও প্রয়োজনের প্রেক্ষিতে, সর্বোপরি আল্লাহর একান্ত রহমত ও অনুগ্রহে হযরত হারুন (আ) নবুওয়াত লাভ করেন। আল্লাহ্ বলেন:
وَوَهَبْنَالَهُ مِنْ رَّحْمَتِنَا أَخَاهُ هُرُونَ نَبِيًّا ...
“আমি নিজ অনুগ্রহে তাহাকে (মূসাকে) দিলাম তাহার ভ্রাতা হারুনকে নবীরূপে” (১৯:৫৩)। হারুন (আ)-কে নবী করার ব্যাপারে মূসা (আ)-এর দোআ কবুল করা প্রসঙ্গে আল্লাহ্ তা'আলা বলেন:
قَالَ قَدْ أُوتِيْتَ سُؤْلُكَ يَمُوسى .
“তিনি বলিলেন, হে মূসা! তুমি যাহা চাহিয়াছ, তাহা, তোমাকে দেওয়া হইল” (২০:৩৬)।
আল্লাহ্র উপরিউক্ত নির্দেশমতে হযরত হারূন (আ) হযরত মূসা (আ)-এর সঙ্গে মিলিত হইলেন। দুই ভ্রাতা মিলিত হওয়ার ঘটনা কাসাসুল কুরআনে নিম্নোক্তরূপে বর্ণনা করা হইয়াছে :
আল্লাহ পাকের আদেশ পালনের জন্য মূসা মিসর অভিমুখে রওয়ানা হইলেন। যখন তিনি মিসরে পৌঁছিলেন, তখন রাত্রি হইয়া গিয়াছিল। চুপি চুপি মিসরে প্রবেশপূর্বক নিজের বাড়িতে গিয়া পৌঁছিলেন। তখন তাঁহার মা ও বড় ভাই হারূন (আ) রাতের আহার গ্রহণ করিতেছিলেন। তিনিও তাঁহাদের সহিত আহার করিলেন। অতঃপর হারুন (আ) কে বলিলেন, "আল্লাহ আমাকে ও তোমাকে ফিরাআওনের নিকট গিয়া আল্লাহর দাসত্ব ও আনুগত্য স্বীকার করার দাওয়াত দিতে আদেশ দিয়াছেন। তুমি আমার সঙ্গে চল। তখন উভয়ই ফিরআওনের প্রাসাদের দিকে রওয়ানা হইলেন। সেখানে পৌঁছিয়া দেখিলেন, প্রাসাদের কপাট বন্ধ। মূসা (আ) দ্বাররক্ষী ও সচিবদের (হাজিব) বলিলেন, 'তোমরা ফিরআওনকে গিয়া, বুল যে, আল্লাহর রাসূল দরজায় অপেক্ষা করিতেছেন। তাহারা তখন তাঁহার সঙ্গে ঠাট্টা-বিদ্রূপ করিতে লাগিল। ফিরআওনের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য মূসা (আ)-কে দীর্ঘদিন অপেক্ষা করিতে হইয়াছিল। মতান্তরে তিনি স্বীয় লাঠি দ্বারা দরজায় আঘাত করিলে ফিরআওন দুই ভাইকে ডকিয়া পাঠায়। "আর সদাপ্রভু হারোণকে বলিলেন, তুমি মোশির সহিত সাক্ষাত করিতে প্রান্তরে যাও। তাহাতে তিনি গিয়া ঈশ্বরের পর্বতে তাঁহার দেখা পাইলেন ও তাঁহাকে চুম্বন করিলেন। তখন মোশি প্রেরণকর্তা সদাপ্রভুর সমস্ত বাক্য ও তাহাদের আজ্ঞাপিত সমস্ত চিহ্নের বিষয় হারোণকে জ্ঞাত করিলেন। পরে মোশি ও হারোণ গিয়া ইস্রায়েল সন্তানদের সমস্ত প্রাচীনকে একত্র করিলেন। আর হারোণু মোশির প্রতি সদাপ্রভুর কথিত সমস্ত বাক্য তাহাদিগকে জ্ঞাত করিলেন এবং তিনি লোকদের দৃষ্টিতে সেই সকল চিহ্ন-কার্য করিলেন। তাহাতে লোকেরা বিশ্বাস করিল; এবং সদাপ্রভু ইসরাঈল সন্তানদিগের তত্ত্বাবধান করিয়াছেন ও তাহাদের দুঃখ দেখিয়াছেন, ইহা শুনিয়া তাহারা মস্তক নমন পূর্বক প্রণিপাত করিল" (পবিত্র বাইবেল, যাত্রাপুস্তক ৪৪৪ ২৭-৩১)।
হযরত হারুন (আ) ও হযরত মূসা (আ) উভয়ের সাক্ষাতের পর তাঁহারা পরস্পরের মধ্যে কথাবার্তা সমাপ্ত করিয়া সিদ্ধান্ত নিলেন যে, আল্লাহ তা'আলার আদেশ পালনের উদ্দেশে ফিরআওনের নিকট যাওয়া এবং তাহাকে আল্লাহ তা'আলার পয়গাম পৌঁছাইয়া দেওয়া উচিত। কোন কোন তাফসীরকার লিখিয়াছেন, যখন উভয় ভ্রাতা ফিরআওনের দরবারে গমন করিতে উদ্যত হইলেন, তখন তাঁহাদের মাতা স্নেহাতিশয্যের দরুন তাঁহাদিগকে বারণ করিতে চাহিলেন। "তোমরা এমন ব্যক্তির নিকট যাইতে চাহিতেছ, যে যুগপৎ রাজমুকুট এবং রাজসিংহাসনের মালিক, যালিম এবং অহংকারী। সেখানে যাইও না, সেখানে যাওয়া বিফল হইবে। কিন্তু উভয়ে মাতাকে বুঝাইলেন, আল্লাহ তা'আলার আদেশ লংঘন করা যায় না। তিনি ওয়াদা করিয়াছেন যে, আমরা সফলকাম হইব। যাহা হউক, উভয় ভ্রাতা ফিরআওনের দরবারে পৌঁছিলেন এবং নির্ভয়ে ও নিশ্চিন্তে ভিতরে প্রবেশ করিলেন। ফিরআওনের সিংহাসনের নিকট পৌঁছিয়া হযরত মূসা (আ) ও হারূন (আ) নিজেদের আগমনের কারণ বর্ণনা করিলেন। যখন কথোপকথন আরম্ভ হইল, তাঁহারা বলিলেন, ফিরআওন! আল্লাহ তা'আলা আমাদিগকে রাসূল নিযুক্ত করিয়া তোমার নিকট পাঠাইয়াছেন। আমরা তোমার নিকট দুইটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় চাহিতেছি। একটি এই যে, আল্লাহ তা'আলাকে একক ও অদ্বিতীয় বলিয়া বিশ্বাস এবং কাহাকেও তাঁহারে শরীক সাব্যস্ত করিবে না। দ্বিতীয়টি হইল, যুলম ও অত্যাচার হইতে নিবৃত্ত হও এবং বনী ইসরাঈলকে আপনার দাসত্ব হইতে মুক্ত করিয়া দাও। আমরা যাহা কিছু বলিতেছি, দৃঢ় বিশ্বাস কর যে, আমরা বানোয়াট এবং কৃত্রিম বলিতেছি না। আমাদের এমন দুঃসাহসও নাই যে, আমরা আল্লাহ তা'আলা সম্বন্ধে মিথ্যা কথা বলিব। আমাদের সত্যতা প্রমাণের জন্য যেমন আমাদের এই শিক্ষা স্বয়ং সাক্ষী রহিয়াছে তদ্রূপ আল্লাহ আমাদিগকে দুইটি মু'জিযাও দান করিয়াছেন। অতএব তোমার জন্য ইহাই সঙ্গত হইবে যে, সত্যকে ও আল্লাহ পাকের এই পয়গামকে কবূল করিয়া নাও এবং বনী ইসরাঈলকে মুক্তি দাও (হিফজুর রহমান সিওহারাবী, কাসাসূল কুরআন, বংগানুবাদ নূরুর রহমান, ২খ, পৃ. ৭৬-৭৭)।
হযরত মূসা (আ) ও হযরত হারুন (আ)-এর এই আহবানে ফিরআওন সাড়া দেওয়া তো দূরের কথা, উপরন্তু ফিরআওন তাহার মন্ত্রী হামানকে একটি উচ্চ ইমারত নির্মাণ করিতে আদেশ দিল যাহাতে সে মূসা ও হারূনের খোদার অবস্থা জানিতে পারে এবং খোদা ও তাহাদের উভয়ের মুকাবিলা করিতে পারে। তাঁহারা উভয়ে ফিরআওনকে সর্বতোভাবে বুঝাইলেন, কিন্তু সে ও তাহার সভাসদগণ ক্ষিপ্ত হইয়া মুকাবিলার চ্যালেঞ্জ জানাইল, এমনকি তাঁহাদের জেলখানায় বন্দী করার হুমকি দিল। এমতাবস্থায় আল্লাহ তা'আলা হযরত মূসার মাধ্যমে কতিপয় মু'জিযার প্রকাশ ঘটান। তন্মধ্যে একটি হইল ফিরআওনের দরবারে হযরত মূসার লাঠি ফেলিয়া দেওয়া এবং সেই লাঠি এক বিরাটকায় অজগরের আকৃতি ধারণ করা। তবে পবিত্র কুরআনের বর্ণনায় এই মুজিযা হযরত মূসার মাধ্যমে প্রকাশিত হয়। কিন্তু বাইবেলের বর্ণনায় দেখা যায় যে, লাঠি অজগর হইয়া যাওয়ার মুজিযাটি পবিত্র কুরআনের বর্ণনা ও বাইবেলের বর্ণনা পরস্পরবিরোধী। তবে কুরআনের বর্ণনাই সঠিক ও গ্রহণযোগ্য। তবে বিষয়টির এইভাবে সমন্বয় করা যাইতে পারে যে, যেহেতু হযরত হারুন (আ) প্রায় সর্বক্ষেত্রেই হযরত মূসা (আ)-এর সঙ্গী, সহকারী, সাহায্যকারী ও সহসংঘটক ছিলেন, সেইহেতু এই ক্ষেত্রেও হযরত হারুন হযরত মূসার দ্বারা সংঘটিত এই মুজিয়ার সহসংঘটক ছিলেন ও সশরীরে উপস্থিত ছিলেন।
হযরত মূসা ও হারুন (আ) অতঃপর বনী ইসরাঈলকে সঙ্গে লইয়া তুর ময়দান হইতে সীন বা সীনাই-এর পথ ধরিলেন। সীনার দেব মন্দিরসমূহে তখন মূর্তিপূজকরা মূর্তিপূজায় রত ছিল। বনী ইসরাঈল এই দৃশ্য দেখিয়া বলিতে লাগিল, আমাদেরকেও এইরূপ মাবুদ বানাইয়া দাও। তাহা হইলে আমরা ইহাদের মত উহাদের পূজা করিব। হযরত মূসা বনী ইসরাঈলের এ অকৃতজ্ঞতা ও শিরক্-এর ধ্যান-ধারণার জন্য শাসাইলেন। কিন্তু তাহারা সাময়িকভাবে নিবৃত্ত হইলেও পরে সামেরীর প্ররোচনায় বাহুর পূজায় লিপ্ত হইয়া পড়ে।
হযরত মূসা (আ) যখন তুর পাহাড়ে ৪০ দিনের ই'তিকাফের জন্য গমন করেন তখন হযরত হারুন (আ)-কে তাঁহার স্থলাভিষিক্ত করিয়া যান এবং মানুষকে হিদায়াত করা, আহকামে শারী'আতের প্রচলন ও প্রয়োগ এবং নেতৃত্বের যে অধিকার কেবল মূসার জন্য খাস ছিল, তিনি তাহার সব কিছুই হযরত হারুনকে অর্পণ করিয়া যান এবং বনী ইসরাঈলের হিদায়াতের দায়িত্ব তাঁহাকে দিয়া যান। এই সম্পর্কে তিনি হারুন (আ)-কে পরামর্শ দেন যে, বনী ইসরাঈল অস্থির স্বভাবের লোক। যদি আমার অনুপস্থিতিতে ইহারা গোমরাহীর পথে ধাবিত হয়, তাহা হইলে ইহাদের প্রতিরোধ করার চেষ্টা করিবে এবং আমার কর্ম-পদ্ধতি অনুসরণ করিবে। উপরন্তু ইহাও লক্ষ্য রাখিবে যেন আমার অনুপস্থিতিতে বনী ইসরাঈলের মধ্যে বিভেদ ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি না হয় (আম্বিয়ায়ে কুরআন, ২খ, পৃ. ২৯০)। পবিত্র কুরআনে বলা হইয়াছেঃ এবং মূসা তাহার ভ্রাতা হারুনকে বলিল, 'আমার অনুপস্থিতিতে আমার সম্প্রদায়ের মধ্যে তুমি আমার প্রতিনিধিত্ব করিবে, সংশোধন করিবে এবং বিপর্যয় সৃষ্টিকারীদের পথ অনুসরণ করিবে না' (দ্র. সূরা আ'রাফ: ১৪২)।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00