📘 সংশয়বাদী > 📄 ধর্মীয় দীক্ষা বনাম সেক্যুলার দীক্ষা

📄 ধর্মীয় দীক্ষা বনাম সেক্যুলার দীক্ষা


আরব বসন্ত চলাকালে একজন সিরিয়ান অ্যাক্টিভিস্টের সাথে কথা হচ্ছিল। উনি বলছিলেন-
'লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এর চেয়ে স্বাধীনতা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, স্বাধীনতা না থাকলে আমি নিজের ইচ্ছেমতো বিশ্বাস বেছে নিতে পারব না।'

কথাটা শুনে মনে হতে পারে উনি স্বাধীনতা আর ঈমানকে মুখোমুখি দাঁড়াচ্ছেন। আসলে উনি স্বাধীনতার গুরুত্ব বোঝাতে চেষ্টা করছিলেন। উনার মতে স্বাধীনতা হলো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মূল্যবোধ। কিন্তু স্বাধীনতার ধারণা নিয়ে অনেক ভুল বোঝাবুঝি আছে। স্বাধীনতার শাব্দিক অর্থ আর লিবারেলিসমের বলা 'স্বাধীনতা'র অর্থ এক না।

লিবারেল দর্শন অনুযায়ী একজন প্রকৃত স্বাধীন মানুষ চিন্তা শুরু করে একটা ব্ল্যাংক স্লেইট বা খালি খাতা নিয়ে। মনের এ অবস্থাকে বলা হয় টাবুলা রাসা (Tabula Rasa)। অষ্টাদশ এবং উনবিংশ শতাব্দীর ইউরোপিয়ান এমপিরিসিস্টদের সময় থেকে শুরু করে এটাই হলো লিবারেল দার্শনিকদের অবস্থান।

টাবুলা রাসা তত্ত্ব অনুযায়ী, একজন সত্যিকারের স্বাধীন মানুষের মনের খাতা থাকে খালি, সব ধরনের বিশ্বাস আর অঙ্গীকার থেকে মুক্ত। বিশ্ব, প্রকৃতি, কিংবা স্রষ্টার ব্যাপারে চাপিয়ে দেয়া কোনো বিশ্বাস বা আদর্শ তার মধ্যে থাকে না। তার মন, তার চিন্তা সব ধরনের পূর্বধারণা থেকে 'পবিত্র।' একবারে শূন্য খাতা নিয়ে শুরু করার পর এই মানুষ ধীরে ধীরে তার নিজস্ব বিশ্বাস তৈরি করে।

এম্পিরিসিস্টদের আশা ছিল, এই প্রকৃত স্বাধীন মানুষ নিজস্ব বিশ্বাস ও দর্শন গড়ে তুলবে বিশুদ্ধ বৈজ্ঞানিক গবেষণার আলোকে। আর কেউ যদি বিজ্ঞানের আলোতে নিজের বিশ্বাস নাও গড়ে, তবুও খালি খাতা নিয়ে শুরু করার কারণে তার বিশ্বাস, সেটা যা-ই হোক না কেন-কমসেকম খাঁটি এবং অকৃত্রিম হবে। তাই কোনো মানুষ শূন্য খাতা নিয়ে শুরু করার পর স্বেচ্ছায় ধার্মিক হলে লিবারেল দর্শন সেটা মেনে নেয়। যদিও বাস্তবতা হলো, লিবারেল দর্শন যে জায়গা থেকে শুরু করার কথা বলে-টাবুল রাসা, খালি খাতা-সেটা কার্যত ধর্মহীনতার অবস্থান।

এ অবস্থানের বেশ মজার কিছু তাৎপর্য আছে।
ধরুন, আমার জন্ম ধার্মিক পরিবারে। শুরু থেকেই পরিবার আমাকে একটা নির্দিষ্ট ধর্ম- বিশ্বাসের ওপর বড় করেছে। আমি বেড়ে উঠেছি এ বিশ্বাসের সাথেই। তার মানে কি এই বিশ্বাস আমার ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছে?
আমি কিন্তু যুক্তি দেখাতে পারি-একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ হিসেবে আমি স্বেচ্ছায়, সচেতনভাবে এই নির্দিষ্ট ধর্ম অনুসরণ করছি।

কিন্তু সে ক্ষেত্রে প্রশ্ন আসতে পারে-আজকের যে 'আমি' সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, সেই মানুষটার চিন্তা-চেতনা কি তার শৈশব দ্বারা প্রভাবিত হয়নি? ধার্মিক পরিবারে বেড়ে ওঠার কারণে আজকের 'আমি' কি একধরনের ধর্মীয় দীক্ষার মধ্য দিয়ে যাইনি? এর প্রভাব কি আমার সিদ্ধান্তে পড়ছে না? হয়তো আমি ব্রেইনওয়াশড। তাহলে আমি সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছি, এটা আসলে বলা যায় না। ছোটবেলা থেকে যা শেখানে হয়েছে, আমি আসলে সেটা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিচ্ছি আর ভাবছি আমার সিদ্ধান্ত স্বাধীন।

লিবারেলরা এই ধরনের প্রশ্ন করে থাকে। এটা তাদের খুব পছন্দের একটা যুক্তি। কিন্তু প্রশ্ন হলো, একই কথা কি তাদের ক্ষেত্রেও খাটে না? ধার্মিক পরিবারের বড় হওয়া শিশুরা যদি ধর্মীয় দীক্ষার শিকার হয়, তাহলে অধার্মিক পরিবারে বড় হওয়া সন্তানেরাও কি একধরনের দীক্ষার মধ্য দিয়ে যায় না? দুটোই ব্রেইনওয়াশিং। একটা ধর্মীয় আরেকটা সেক্যুলার।

ধরুন, একটা শিশুকে ছোটবেলা থেকে শেখানো হলো বস্তুবাদী পৃথিবীই সব, স্রষ্টা বলে কেউ নেই। উচ্চতর কোনো সত্তা কিংবা শক্তি নেই। তাকে আরও শেখানো হলো, ধর্মীয় ভক্তি আসলে মূল্যহীন এবং গোঁড়ামি। বুঝ হবার পর এই শিশু যদি নাস্তিক হয় এবং ধর্ম নিয়ে তুচ্ছতাছিল্য করে, তাহলে তাকে কি আসলে স্বাধীন বলা যায়? এটা কি আসলেই মুক্তচিন্তা? স্বাধীন চিন্তা? নাকি তার এ বিশ্বাস ও দর্শন তার পরিবেশ ও প্রেক্ষাপটের ফসল কেবল?

আসলে টাবুলা রাসা বা খালি খাতা বলে কিছু নেই। মানুষের মন কখনো সত্যিকার অর্থে নিরপেক্ষ হতে পারে না। লিবারেল দার্শনিকদের কল্পনার জগৎ ছাড়া আর কোথাও এই খালি খাতার অস্তিত্ব নেই। সব পূর্বধারণা, পক্ষপাত, সংস্কার, অঙ্গীকার, মূল্যবোধ, নৈতিকতা-সব একেবারে ধুয়েমুছে, শূন্য থেকে মানুষ নিজের দর্শন ও বিশ্বাসের কাঠামো তৈরি করতে পারে না।

আমরা সবাই একটা নির্দিষ্ট পরিবেশে জন্ম নিই। শৈশব থেকে নির্দিষ্ট কিছু ধ্যানধারণা আর মূল্যবোধ আমাদের মনে গেঁথে যায়। এর অনেক কিছুই আমরা সারাজীবন নিজেদের মধ্যে বয়ে বেড়াই।
কাজেই যে প্রশ্নটা নিয়ে আসলে চিন্তা করা দরকার তা হলো, এই ধারণা এবং মূল্যবোধগুলো কি সঠিক?
যদি সঠিক হয়, তাহলে কীভাবে এ অবস্থান আসলাম সেটা আদৌ গুরুত্বপূর্ণ না। খালি খাতা নিয়ে এসেছি না ভরা খাতা নিয়ে, সেই আলোচনা মূল্যহীন। আর বাস্তবে খালি খাতা বলে কিছু নেইও।

অন্যদিকে, আমার ভেতরে গেঁথে যাওয়া এই ধ্যানধারণা আর মূল্যবোধগুলো যদি ভুল এবং মিথ্যে হয়, তাহলে সংশোধনের একমাত্র উপায় হলো সত্য ও সঠিকের অনুসরণ করা। ভুল 'স্বাধীনভাবে' করলেও, সেটা ভুলই থাকে। স্বাধীনতা নামের ভাসাভাসা, বায়বীয় বস্তুর অজুহাত দিয়ে ভুলকে সঠিক প্রমাণ করা যায় না, আর না-ই-বা মিথ্যাকে সত্য বানানো যায়। আর এই কথিত 'স্বাধীনতা'-ও এনলাইটেনমেন্ট দার্শনিকদের দিবাস্বপ্ন ছাড়া আর কিছুই না।
দিনশেষে সত্য ও ইনসাফের চূড়ান্ত ঘোষণা হলো-লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।

পুরো আলোচনাটা অন্যভাবে দেখানো যায়।
আজকের সেক্যুলার রাষ্ট্রগুলো 'ধর্মীয় স্বাধীনতা'র কথা বলে। সেক্যুলারিসম ধরে নেয় ধর্মীয় স্বাধীনতার প্রথম ধাপ হলো ধর্মহীনতার জায়গা থেকে শুরু করা (খালি খাতা)। কিন্তু খালি খাতাকে কেন প্রথম ধাপ ধরা হচ্ছে? কেন একে নিরপেক্ষ ভাবা হচ্ছে? কেন ধরে নেয়া হচ্ছে বিশ্বাসহীনতা হলো আমাদের ডিফল্ট, সহজাত অবস্থান?

কেউ হয়তো বলবে-পৃথিবীতে অনেক ধর্ম আছে। অনেক রকমের বিশ্বাস আছে। সেক্যুলার রাষ্ট্র এগুলোর মধ্য থেকে কোনো একটার পক্ষ না নিয়ে সব ধর্মই ত্যাগ করে। নিরপেক্ষ হবার জন্য সে সব ধর্ম থেকে সমান দূরত্ব বজায় রাখে।
কিন্তু এটা আসলে বাস্তবতার বেশ মোটা দাগের ভুল উপস্থাপনা। কারণ, ধর্মহীনতাও একধরনের বিশ্বাস। এই বিশ্বাসের আছে নিজস্ব মূল্যবোধ আর মূলনীতি। আছে নৈতিকতার নিজস্ব মাপকাঠি-লিবারেল দর্শন। তাত্ত্বিকভাবে আসলেই নিরপেক্ষ হওয়া সম্ভব কি না, সেটা ভিন্ন আলোচনা। কিন্তু বাস্তবতা হলো আজকের সেক্যুলার রাষ্ট্র নিরপেক্ষ না; বরং সে লিবারেল মূল্যবোধ তথা লিবারেল বিশ্বাসের কাঠামো গ্রহণ করে।

কাজেই সেক্যুলার রাষ্ট্র যখন ধর্মহীনতার অবস্থান গ্রহণ করে তখন সে নির্দিষ্ট এক মূল্যবোধ এবং নৈতিকতার কাঠামো গ্রহণ করছে। সে ঠিকই নির্দিষ্ট মতাদর্শ ও বিশ্বাসের পক্ষ নিচ্ছে। পক্ষপাতের দিক থেকে, কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের মূলনীতির ভিত্তিতে চালানো ধর্মীয় রাষ্ট্র-যেখানে একটি ধর্মকে অন্য সব ধর্ম কিংবা দর্শনের ওপর প্রাধান্য দেয়া হয়-আর আজকের সেক্যুলার রাষ্ট্রের মৌলিক কোনো পার্থক্য নেই। পার্থক্য হলো ধর্মীয় রাষ্ট্র নিজেকে নিরপেক্ষ দাবি করে না। ধর্মীয় রাষ্ট্র নিজের আত্মপরিচয় নিয়ে মিথ্যা বলে না, বিভ্রান্তিতেও থাকে না।

ইসলামী রাষ্ট্রের সাথে সেক্যুলার রাষ্ট্রের পার্থক্য হলো ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয় তাওহিদ, ঈমান, সত্য এবং ইনসাফের ভিত্তিতে। সেক্যুলার রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয় কুফর ও শিরকের ভিত্তিতে।

টিকাঃ
[২৩] Empiricism-বাংলায় অভিজ্ঞতাবাদ। একটি জ্ঞানতত্ত্ব বা Epistemology, যা দাবি করে জ্ঞানের একমাত্র অথবা প্রধান উৎস হল ইন্দ্রিয়জাত (অথবা বৈজ্ঞানিক পরীক্ষালব্ধ) অভিজ্ঞতা। এম্পিরিসিস্ট (empiricist)-অভিজ্ঞতাবাদী। যে অভিজ্ঞতাবাদের অবস্থান গ্রহণ করে। - অনুবাদক

📘 সংশয়বাদী > 📄 ইসলাম ধর্মীয় স্বাধীনতাকে সম্মান করে না

📄 ইসলাম ধর্মীয় স্বাধীনতাকে সম্মান করে না


ইসলাম কি ধর্মীয় স্বাধীনতার ধারণাকে সমর্থন করে?
না, অবশ্যই না।

এ কথা অনেকে মানতে চান না। ধর্মীয় স্বাধীনতার ব্যাপারে যারা ইসলামের অবস্থান মানতে পারেন না তারা আসলে আল্লাহর সিদ্ধান্ত মানতে পারছেন না। বাস্তবতা হলো, ধর্মীয় স্বাধীনতার ধারণা মহান আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য না। এটাই সোজাসাপ্টা উত্তর। আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য দ্বীন একটাই। যদিও এ কথা আজ অনেকের কাছে জঘন্য মনে হয়। আল্লাহ কীভাবে মানুষের বিবেকের স্বাধীনতাকে সম্মান না করতে পারেন, কীভাবে একজন পরম করুণাময় স্রষ্টা মানুষের ব্যক্তি-স্বাধীনতার বিরুদ্ধে হন—এটা অনেকের মাথায় ধরে না। তাই ধর্মীয় স্বাধীনতার মতো মূল্যবোধগুলো গ্রহণ করা মুসলিমদের অনেককে একসময় ইসলাম ত্যাগ করতে দেখা যায়। এমন হওয়া স্বাভাবিক, কারণ ধর্মীয় স্বাধীনতার এই ধারণা ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক।

একটু ভেবে দেখুন, ধর্মীয় স্বাধীনতা যদি আসলেই মহান কোনো মূল্যবোধ হয় তাহলে এটা শুধু দুনিয়াতে কেন প্রযোজ্য হবে? এটা তো আখিরাতেও প্রযোজ্য হবার কথা। মৃত্যুর পরের জীবনেও ইসলাম ছাড়া অন্য ধর্মের প্রতি সহিষ্ণুতা থাকা উচিত। আমরা যদি সরকার এবং শাসকদের কাছে সব ধর্ম ও বিশ্বাসের প্রতি সহিষ্ণুতা আর সমান আচরণের দাবি করি—একে নৈতিকতা, মূল্যবোধ এবং ইনসাফের দাবি মনে করি, তাহলে সেটা তো স্রষ্টার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবার কথা। তাই না?

কিন্তু দেখা যাচ্ছে সব বিশ্বাস সমান না। মহান আল্লাহর মনোনীত এবং তাঁর কাছে গ্রহণযোগ্য একমাত্র দ্বীন হলো ইসলাম। তিনি এটা শুধু কুরআনে বলেননি, আগের আসমানি কিতাবগুলোতেও এ কথা বলা হয়েছে। যে ইসলামের অনুসরণ করবে আল্লাহ্ তাঁকে পুরস্কৃত করবেন। যে ইসলাম ছাড়া অন্য কিছুর অনুসরণ করবে সে হবে চিরকালের জন্য জাহান্নামী।

ধর্মীয় স্বাধীনতা আর আখিরাতে শুধু মুসলিমদের নাজাত পাওয়া—এ দুই বিশ্বাস সাংঘর্ষিক। তাই লিবারেলিসম এবং সেক্যুলারিসম দ্বারা প্রভাবিত অনেকেই মনে করে, কে কোন ধর্ম অনুসরণ করল তা গুরুত্বপূর্ণ না। দুনিয়াতে তো না-ই, আখিরাতেও না। কেবল ইসলামই যে আখিরাতে নাজাত দিতে পারে, এই বিশ্বাস তারা ত্যাগ করেছে। দেখবেন এই ধরনের মানুষেরা বলছে-
দিনশেষে সব ধর্মই সমান। একই স্রষ্টার কাছে পৌঁছোবার ভিন্ন ভিন্ন রাস্তা কেবল। সব ধর্মই শেষ পর্যন্ত কল্যাণের দিকে নিয়ে যায়... ইত্যাদি।

অনেক সময় মনে হতে পারে যে ধর্মীয় স্বাধীনতার ধারণা সমর্থনের ব্যাপারটা আসলে রাজনৈতিক অবস্থান। রাজনৈতিক হিসেবেনিকেশের কারণে কৌশল হিসেবে এগুলে বলা হয়। কিন্তু সাধারণ মুসলিমদের ঈমানের ওপর এ ধরনের মতাদর্শের গভীর, নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। আর এভাবেই লিবারেলিসমের দর্শন (যা থেকে ধর্মীয় স্বাধীনতার উৎপত্তি) ধীরে ধীরে, সূক্ষ্মভাবে মুসলিমের ঈমান ও আকীদাহ নষ্ট করে। আল্লাহ্ আমাদের সবাইকে এ ফিতনা থেকে হেফাযত করুন।

📘 সংশয়বাদী > 📄 আত্ম-উপাসনা, গোল্ডেন রুল এবং সায়ইটানিসম

📄 আত্ম-উপাসনা, গোল্ডেন রুল এবং সায়ইটানিসম


স্যাইটানিসমের মূল মন্ত্র কী জানেন?
Do what thou wilt shall be the whole of the law. যা ইচ্ছে তা-ই করো, এই হলো পূর্ণাঙ্গ বিধান।
কথাটা অ্যালিস্টার ক্রউলির 'দা বুক অফ দা ল' থেকে নেয়া। এ বইকে আধুনিক শয়তান উপাসনার প্রধানতম রচনাগুলো অন্যতম ধরা হয়। আর অ্যালিস্টার ক্রউলিকে মনে করা আধুনিক স্যাইটানিসমের গডফাদার।

আচ্ছা বলুন তো, মানুষকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়?
এর নানা পদ্ধতি আছে। তবে ইতিহাস বলে মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করার সবচেয়ে কার্যকরী পদ্ধতির অন্যতম হলো মানুষকে এই কথা বলা-
তুমিই সর্বেসর্বা। তুমি নিজেই নিজের সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করো। নিজেই নিজের ভাগ্য গড়ো, তোমার জীবনের নিয়ন্ত্রণ তোমারই হাতে। তুমিই দেবতা, তুমি কেবল তোমারই আরাধনা করো।

মানুষ প্রাণী হিসেবে নির্দিষ্ট কিছু ছকের মধ্যে চলে। মানুষের সিদ্ধান্তগুলো ছক বাঁধা। কামনাবাসনার কাছে মানুষ আত্মসমর্পণ করে। নিজের ইগো আর প্রবৃত্তিকে সে সন্তুষ্ট করতে চায় নানাভাবে। নিজেকে সে সাময়িক সুখে মগ্ন করে। চকচকে জিনিস তার দৃষ্টি আর মন, দুটোই কেড়ে নেয়। এগুলো আমাদের নফসের বৈশিষ্ট্য।

যখন বলা হয়-মনের কথা শোনো, মন যা চায় তা-ই করো-মানুষ তখন নফসের কামনা-বাসনাগুলোর দিকে ফিরে যায়। মন্ত্রমুগ্ধের মতো নফসের চাহিদা মেটানোয় ব্যস্ত থাকে। কামনাবাসনা তার ওপর রাজত্ব করে। সে পরিণত হয় শরীর, নফস, আর চাহিদার দাসে। আর পুরোটা সময় মনে করে সে মুক্ত, স্বাধীন। সে নিজেই তার জীবন নিয়ন্ত্রণ করছে। নিজের ভাগ্য গড়ে নিচ্ছে।

লিবারেল দর্শন, 'মুক্তি-স্বাধীনতা-ক্ষমতায়নের' মুখস্থ বুলি, সেলফহেল্প, পসিটিভ সাইকোলজি, মাই লাইফ মাই রুলস, জাস্ট ডু ইট, ইউ ঔনলি লিভ ওয়ান্স-এই সবকিছুর মূল মন্ত্র হলো নফসের দাসত্ব। খেয়ালখুশির গোলামি।

ব্যাপারটা মাদকাসক্ত হওয়ার মতো। আসক্ত ব্যক্তি মনে করে নিজের চিন্তা আর কাজের ওপর তার নিয়ন্ত্রণ আছে। মনে করে সে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। কথাটা সত্য। মাদকাসক্তরা যা কিছু করার সিদ্ধান্ত নেয় সেটা স্বেচ্ছায়ই তো নেয়। কিন্তু সমস্যা হলো, সিদ্ধান্তগুলো বেশির ভাগ সময় ভুল হয় এবং তাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যায়। নফসের গোলামি করা মানুষেরও একই অবস্থা।
এ জন্যই দখল করা অঞ্চলের স্থানীয় অধিবাসীদের নিয়ন্ত্রণের জন্য এবং তাদের স্বাধীনচেতা মনোভাব ধ্বংসের জন্য সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলো বহুদিন ধরে মাদক আর মদ ব্যবহার করে আসছে। মানুষকে তার আদিম, পাশবিক সত্তায় ফিরিয়ে নিতে পারলে তাকে ইচ্ছেমতো নিয়ন্ত্রণ করা খুব সহজ হয়ে যায়।

লিবারেলিসম গোল্ডেন রুলের কথা বলে। গোল্ডেন রুলের বক্তব্য হলো-
অন্যের সাথে এমন আচরণ করো, যেমন আচরণ তুমি নিজের জন্য চাও
এটা আসলে অ্যালিস্টার ক্রউলির Do what thou wilt-এর একটা সংস্করণ। কারণ, লিবারেল দর্শনের ভেতরে থাকা অবস্থায় এটা একটা অসার কথা, যার কোনো নির্দিষ্ট অর্থ নেই। এই নীতি কোনো কাজের দিকে মানুষ ধাবিত করে না। কোনো সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করতে পারে না।

কারণ, একটা বড় প্রশ্ন থেকে যায়-তুমি নিজের জন্য কেমন আচরণ চাও?
দেখুন, ঘুরেফিরে আবারও বৃত্তের কেন্দ্রে বসানো হচ্ছে নিজেকেই। নিজের ইচ্ছা, নিজের ভালোলাগাই চূড়ান্ত মাপকাঠি। নৈতিকতা হলো পুরো বিশ্বকে আমার অবয়বে দেখা। এটা ন্যায়পরায়ণতা না, এটা আত্ম-উপাসনা। আত্মকেন্দ্রিক লিবারেল দর্শনের প্রধান স্তম্ভ এই 'গ্লোডেন রুল' হওয়াই স্বাভাবিক।

লিবারেলরা অবশ্য এখানে একটা বস্তাপচা যুক্তি দেয়ার চেষ্টা করবে। তারা বলবে- প্রত্যেক ধর্মেই কোনো-না-কোনোভাবে গোল্ডেন রুলের কথা এসেছে। যেমন হাদিসে এসেছে-
'তোমাদের কেউ প্রকৃত মু'মিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য সেটাই পছন্দ করবে, যা তার নিজের জন্য পছন্দ করে।

হ্যাঁ, বিভিন্ন ধর্মে এমন কথা এসেছে, এটা সত্য। কিন্তু বিভিন্ন ধর্মে এটা কীভাবে এসেছে? লিবারেলদের দেয়া এই যুক্তির ত্রুটি হলো, এ কথাটা কোনো ধর্মে স্বতন্ত্র এবং বিচ্ছিন্ন মূলনীতি হিসেবে আসেনি; বরং বিভিন্ন ধর্মীয় বিধান ও অন্যান্য মূলনীতির সাথে যুক্ত হয়ে এসেছে। কাজেই রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম যখন বলেছেন-... ‘যতক্ষণ না সে তার ভাইয়ের জন্য সেটাই পছন্দ করবে, যা তার নিজের জন্য পছন্দ করে’-তখন সেটাকে ইসলামী শরীয়াহর বেঁধে দেয়া সীমার ভেতরেই বুঝতে হবে। কেউ তার সমকামী যৌনসঙ্গীকে বিয়ে করতে চায়, তাই তার উচিত সমকামী বিয়ে সমর্থন করা—এটা বলা যাবে না। কেউ যিনা করে তাই সে চায় সমাজে যিনা বহুল-প্রচলিত হয়ে যাক, এটাও বলা যাবে না। তখন এই যুক্তি দেয়া যাবে না যে-একজন মুসলিম ‘তার ভাইয়ের জন্য সেটাই পছন্দ করবে, যা তার নিজের জন্য পছন্দ করে’!

কল্যাণ, ন্যায়-অন্যায়, ভালোমন্দের সংজ্ঞা নিজে নিজে ঠিক করা যায় না। ভালোমন্দ, হারাম-হালাল আল্লাহ্ নির্ধারণ করে দিয়েছেন। আল্লাহর নির্ধারিত সেই সীমার মধ্যে থাকতে হবে। কিন্তু লিবারেলিসমের ক্ষেত্রে গোল্ডেন রুল স্বতন্ত্র এবং একাকী। এই মূলনীতির ওপর ভিত্তি করে শুধু সিদ্ধান্তই নেয়া হয় না; বরং ভালোমন্দ পর্যন্ত ঠিক করা হয়।
এ কাজটা কি আমার কাছে ভালো মনে হয়? যদি হয়, তাহলে আমি চাই অন্য সবাই এই কাজ করার সুযোগ পাক।
সমকামিতা, অজাচার কিংবা মাদক আমার ভালো লাগে। তাই আমি চাই এগুলো বৈধ করে দেয়া হোক। সবাই যেন এই ভালো জিনিসগুলো উপভোগ করতে পারে।
ঘুরেফিরে এটা সেই আত্ম-উপাসনাই। ভালোমন্দের মাপকাঠি আমি। আমার যা ভালো লাগে সেটাই আমি দুনিয়ার জন্য চাই।

প্রশ্ন-কোন সৃষ্টি সর্বপ্রথম নিজেকে ভালোমন্দের কেন্দ্র বানিয়েছিল?
সে বলল, ‘আমি তার চেয়ে উত্তম। আপনি আমাকে আগুন থেকে সৃষ্টি করেছেন, আর তাকে সৃষ্টি করেছেন কাদামাটি থেকে।

📘 সংশয়বাদী > 📄 মদ ও স্বাধীনতা

📄 মদ ও স্বাধীনতা


সেক্যুলাররা প্রায়ই বলে ইসলামে ব্যক্তিস্বাধীনতা নেই। মানুষের স্বাধীনভাবে বেছে নেয়ার অধিকারকে ইসলাম সম্মান করে না। যেমন ইসলামে মদ পান অথবা বিক্রি নিষিদ্ধ। অন্যদিকে স্বাধীন পশ্চিমে মদ চলে পানির মতো। যার ইচ্ছে খাবে, যার ইচ্ছে খাবে না। মদ খেলে ক্ষতি যা হবার তার হবে, অন্য কারও না। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ নিজের ইচ্ছেমতো, স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেবে। তার স্বাধীনতায় বাধা দেয়ার কিংবা তার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করার অধিকার ধার্মিক ব্যক্তির নেই।
এই হলো মোটাদাগে সেক্যুলারিসমের বক্তব্য। কথাগুলো আরেকটি খতিয়ে দেখা যাক।

এমন কোনো আইনি ব্যবস্থা নেই, যা মানুষকে যা ইচ্ছে তা-ই করার স্বাধীনতা দেয়। সব আইনি কাঠামো কোনো-না-কোনোভাবে মানুষের সিদ্ধান্তের সীমানাকে সীমিত করে এবং সেই সীমাবদ্ধতাকে বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করে।
যেমন গাড়ি চালাতে হলে লাইসেন্স লাগে। এ নিয়মের কারণে অনেক মানুষের গাড়ি চালানোর স্বাধীনতা কিন্তু খর্ব হচ্ছে। এমন অনেক মানুষ থাকতে পারে যারা গাড়ি চালাতে পারে, কিন্তু তাদের লাইসেন্স নেই। এমন মানুষ থাকতে পারে যাদের গাড়ি চালানো দরকার। হয়তো তার জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে যেতে হবে। কিন্তু লাইসেন্স না থাকার কারণে সে যেতে পারছে না। এই আইনের কারণে মানুষের চলাচলের সুযোগ সীমিত হচ্ছে। তবু এ আইন সবাই মেনে নেয়, কারণ এ আইনকে দরকারি মনে করা হয়। লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি চালাতে দেয়া হলে দুর্ঘটনা বেড়ে যাবে। আহত ও নিহতের সংখ্যা বাড়বে। ক্ষয়ক্ষতি বাড়বে। এসব প্র্যাকটিকাল কারণে মানুষ চায় এ আইনটা থাকুক এবং ঠিকঠাকভাবে এর প্রয়োগ হোক। যাতে ক্ষতি এড়ানো যায়।

এখানে আরেকটা প্রশ্ন আসে। 'ক্ষতি' বলতে আসলে কী বোঝানো হচ্ছে? ক্ষতির সংজ্ঞা কী? মাপকাঠি কী? কোনটাকে ক্ষতি মনে করা হবে, কোনটাকে হবে না? এ প্রশ্নগুলোর উত্তর নির্ভর করে একজন মানুষের সার্বিক মতাদর্শ ও মূল্যবোধের ওপর।
প্রশ্নগুলো গুরুত্বপূর্ণ। তবে আপাতত এগুলো সরিয়ে রাখা যাক। তর্কের খাতিরে ক্ষতির পশ্চিমা স্ট্যান্ডার্ড এবং সংজ্ঞাকেই আপাতত আমরা মেনে নিচ্ছি।
আসুন মদের উদাহরণে ফিরে যাওয়া যাক। সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে অ্যামেরিকার জনসংখ্যার কমপক্ষে ৫% Fetal Alcohol Spectrum Disorder বা FASD-নামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়। কিছু কিছু জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে এই মাত্রাটা ৪০%। FASD এর কারণে বিভিন্ন মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। লারনিং ডিস্যাবিলিটি তৈরি হয় এবং তীব্র ধরনের অ্যান্টি সোশাল বিভেইভিয়ার-ও তৈরি হতে পারে।

এ রোগে আক্রান্ত শিশুদের বিশেষ পদ্ধতিতে শেখাতে হয়। অনেকে বড় হয়ে জেল খাটে, বেকার থাকে কিংবা জড়িয়ে পড়ে অপরাধ আর মাদকের জীবনে। আর এসব কিছুর শুরু হয় অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের মদ পান থেকে। অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় মা অল্প পরিমাণ মদ খেলেও সন্তানের মধ্যে FASD দেখা দিতে পারে। প্রেগনেন্সির কথা জানার পর অনেক মহিলা মদ্যপান কমিয়ে দেন বা একেবারে বন্ধ করে দেন। কিন্তু সমস্যা হলো অনেক সময় প্রেগনেন্সির বিষয়টা বুঝে ওঠার আগেই ক্ষতি হয়ে যায়। আর ভুলের কারণে চড়া দাম দিতে হয়।
বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী হিসেবে জীবন কাটানো অনেক চড়া মাশুল। সেই সাথে সমাজের ক্ষতি তো আছেই। এ ধরনের শিশুর দায়িত্ব নিতে হয় রাষ্ট্রকে। তাদের জন্য উপযোগী ব্যবস্থা তৈরি করতে হয়। খরচ করতে হয়। সেই টাকা আসে জনগণের দেয়া ট্যাক্সের টাকা থেকে। এই সবকিছুর সম্মিলিত প্রভাব ওই স্বাধীনতা সীমিত করে এবং কমিয়ে আনে, যে স্বাধীনতার কথা বলে বলে পশ্চিমা সংস্কৃতি মুখে ফেনা তোলে।

এই হিসেব সামনে রাখলে মদ বৈধ করার আইনকে খুব একটা স্বাধীনতাবান্ধব মনে হয় না; বরং মদ নিষিদ্ধ করার ইসলামী বিধানকে যৌক্তিক মনে হয়। ব্যক্তিস্বাধীনতা নিয়ে লিবারেল-সেক্যুলারিসমের অন্তঃসারশূন্য কথাবার্তা নিয়ে এমন আরও অনেক উদাহরণ আর যুক্তি দেয়া যায়। এসব ফাঁকা বুলি দিয়ে ওরা প্রমাণ করতে চায় ইসলামী আইন পশ্চাৎপদ এবং প্রগতিবিরোধী। অন্যদিকে সেক্যুলার আইন মুক্তচিন্তা, প্রগতি আর ব্যক্তির ক্ষমতায়নের সোপান।

মানুষের জীবনে মদ কতটা অবর্ণনীয় কষ্ট নিয়ে আসে সেটা বোঝানোর জন্য একটা খবর কিছু অংশ তুলে দিচ্ছি-
সুস্যান আর্ল যখন মা হয় তখন ওর বয়স পঁচিশের আশেপাশে। মা হবার আগে ওর বেশির ভাগ রাত কাটত ক্লাব আর বারে। পার্টি আর মদে বুদ হয়ে কেটে যেত প্রত্যেক উইকএন্ড। ওর তখনকার বয়ফ্রেন্ডও ওকে উৎসাহিত করত। সুস্যান যখন জানল ও প্রেগনেন্ট, ততদিনে ছয় সপ্তাহ হয়ে গেছে।
'প্রেগনেন্সির কথা জানামাত্র আমি ড্রিংক করা বন্ধ করে দিই', শান্ত গলায় বলে সুস্যান। কিন্তু ততদিনে দেরি হয়ে গেছে। সুস্যানের ছেলে কুইনটন মিলসের জন্ম হয় ডেলিভারি ডেইট অর্থাৎ নির্ধারিত সময়ের চার সপ্তাহ আগে। জন্মের সময় কুইনটনের মুখে FASD এর পরিষ্কার চিহ্ন দেখা যাচ্ছিল। ও কথা বলা শুরু করে স্বাভাবিকের শিশুদের চেয়ে অনেক পরে। কিন্ডারগার্টেনে পড়ার সময় অন্যদের কামড় দেয়া, লাথি দেয়া আর চিৎকার করা শুরু হয়। ক্লাসমেটরা ওকে বুলি করত। বিছানা ভেজানোর অভ্যাস ছিল ১২ বছর পর্যন্ত'।

এমন অনেক গল্প আছে। তুলনামূলকভাবে কম কষ্টের একটা গল্প বললাম। এই নিষ্পাপ শিশুটিকে জন্ম পর থেকে কষ্টের মধ্যে জীবন কাটাতে হচ্ছে মদের কারণে। তার জীবন অন্য দশটা মানুষের চেয়ে আলাদা—মদের কারণে। হৃদয়ে সামান্য পরিমাণ মায়ামমতা থাকা মানুষমাত্রই বুঝতে পারবে মদ ব্যক্তি ও সমাজের জন্য ক্ষতিকর। মানুষকে মদ থেকে দূরে রাখা দরকার। হাজার বছর ধরে ইসলামী শাসন সমাজকে মদ থেকে মুক্ত রেখেছে। তবু কেন আধুনিক বিশ্ব ইসলামী শাসনের উদাহরণ থেকে শিক্ষা নিচ্ছে না? মুসলিম-বিশ্ব দীর্ঘদিন এই বিষ থেকে মুক্ত ছিল। কিন্তু ঔপনিবেশিক যুগে পশ্চিমারা ধীরে ধীরে মুসলিম-বিশ্বে এই বিষ ছড়াতে শুরু করে। একে গ্ল্যামারাইযও করে। আজ তাই করাচি থেকে রাবাত পর্যন্ত মুসলিম তরুণদের বড় একটা অংশ মদ খাওয়াকে মনে করে মুক্তি, স্বাধীনতার আর পরিশীলিত হবার চিহ্ন। অনাগত শিশুর ক্ষতি করা তাদের বুদ্ধি প্রতিবন্ধিত্বের কারণ হওয়া কীভাবে মুক্তি আর স্বাধীনতা হয়?
যদি নিজের স্রষ্টার কাছে আত্মসমর্পণের মতো মানবিকতা না থাকে, তাহলে অন্তত নিষ্পাপ শিশুদের এ কষ্ট থেকে রেহাই দেয়ার মতো মানবিক কি হওয়া যায় না?

টিকাঃ
[২৬] অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় মদ্যপান করলে গর্ভস্থ শিশুর ফিটাল অ্যালকোহল স্পেকট্রাম ডিজঅর্ডার (FASD) অর্থাৎ 'ভ্রূণের মদ্যজনিত সমস্যারাশি' হতে পারে। এর ফলে সার্বিকভাবে শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ক্ষতিগ্রস্ত। FASD এর কিছু ফলাফল হলো- অয়াভাবিক চেহারা, স্বপ্ন উচ্চতা, শরীরের কম ওজন, ক্ষুদ্র আকৃতির মাথা, সমন্বয়হীনতা, বুদ্ধিমত্তার অভাব, আচরণগত সমস্যা, কানে কম শোনা এবং চোখের সমস্যা। অনুবাদক
[২৭] লার্নিং ডিসেবিলিটি বা শিক্ষাগ্রহণ সংক্রান্ত বিকার একধরনের স্নায়বিক ব্যাধি যা মস্তিষ্কের তথ্য সঞ্চালন এবং তথ্য বিশ্লেষণ করার ক্ষমতাকে প্রভাবিত করে। লার্নিং ডিসেবিলিটিতে আক্রান্ত শিশুর পড়তে, লিখতে, কথা বলতে, বলা কথা শুনে তার মানে বুঝতে, গণিতের সমীকরণ বুঝতে অসুবিধে হয় এবং এ ধরনের শিশু বোধশক্তি-সংক্রান্ত সমস্যায় ভোগে। লার্নিং ডিসেবিলিটি অনেক ধরনের হতে পারে যেমন ডিসলেক্সিয়া, ডিসপ্রেক্সিয়া, ডিসক্যালকুলিয়া এবং ডিসগ্রাফিয়া। একই শিশুর বিভিন্ন ধরনের সমস্যা একসাথে হতে পারে।
অ্যান্টি সোশাল বিভেইভিয়ার (Antisocial personality disorder)-সোশিওপ্যাথি। - অনুবাদক
[২৮] This Chicago doctor stumbled on a hidden epidemic of fetal brain damage. May 31, 2016. Pbs.org

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00