📘 রুকইয়াহ শারইয়াহ > 📄 যেসব কারণে জ্বিন আছর করে

📄 যেসব কারণে জ্বিন আছর করে


এমন কিছু কারণ রয়েছে যে কারণে সাধারণত জিনেরা মানুষের উপর আছর করে। সেগুলো হলো যথাক্রমে:
১) যদি কোন মানুষ জিনকে কষ্ট দেয়। (অর্থাৎ, বেখেয়াল বশত জিনের গায়ে আঘাত করে, তার খাবার নষ্ট করে, তার গায়ে গরম পানি নিক্ষেপ করে, যেটা গর্তে প্রসাব করার মাধ্যমেও হতে পারে, কেননা কতেক জিন গর্তে বাস করে।)
২) প্রেমাসক্তি। সেটা কোন পুরুষ জিন কোনো নারীর প্রেমে পড়ে, অথবা কোনো নারী জিন কোনো পুরুষের প্রেমে পড়ে, তখন জিনটি তার প্রিয় ব্যক্তির উপর আছর করে।
৩) যদি কোনো গণক বা মুশরিক জাদুকর জিনকে চালান দেয়। সেটা দুইভাবে হতে পারে, প্রথমত: জাদুকর নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তিকে পাকড়াও করার জন্য জিনকে প্রেরণ করে। দ্বিতীয়ত: জাদুকর নির্দিষ্ট কোন ব্যক্তিকে পাকড়াও করতে জিন চালান দিয়েছে, কিন্তু জিন চলাচলের পথে এমন কাউকে পেয়ে যায়, যাকে তখন সে আছর করে।
৪) অতিরিক্ত রাগ। অর্থাৎ মানুষ যখন অতিরিক্ত রাগের কারণে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে তখন জিন তাকে আছর করে।
৫) অতিরিক্ত ভয়। সেটা হলো মানুষ যখন অন্ধকার রাতে কোনো জনমানবহীন বন-জঙ্গল, বাগান বা কোনো মাঠঘাট দিয়ে যাতায়াত করে তখন যদি কোনো ছায়া বা কোনও বস্তু দেখে প্রচণ্ড ভয় পায় তখন জিন তাকে আছর করে।
৬) অতিরিক্ত উদাসীনতা। অর্থাৎ ভরদুপুরে বা সন্ধ্যায় বাড়ির ছাদে, বা কোনো বাগান বা মাঠে একাকী উদাসীন অবস্থায় যদি কেউ বসে থাকে, তখন সেখান থেকে জিন অতিক্রম কালে তাকে আছর করে।
৭) অপবিত্র অবস্থায়। এটা হলো অনেক মানুষ এমন রয়েছে যারা নোংরা এবং অপবিত্র অবস্থায় থাকতে পছন্দ করে। যেহেতু শয়তান জিন অপবিত্রতা ও নোংরা পছন্দ করে, সেহেতু যদি সে এ অবস্থায় কাউকে পেয়ে যায়, তখন তাকে আছর করার সুযোগ গ্রহণ করে থাকে।

📘 রুকইয়াহ শারইয়াহ > 📄 জ্বিনের আছর কীভাবে বুঝবেন

📄 জ্বিনের আছর কীভাবে বুঝবেন


সাধারণত জিন যাকে আছর করে তার মাঝে একাধিক ধরনের লক্ষণপাওয়া যায়, তবে সবগুলো লক্ষণএকসাথে পাওয়া জরুরী নয় কোনো কোনো সময় দু একটি লক্ষণপ্রকাশ পেয়ে থাকে। তবে একটি জরুরী বিষয় হলো, বদনজর জাদু, এবং জিনের প্রেসেন্টের লক্ষণসমূহ প্রায় সাদৃশ্যপূর্ণ তবে কিছু কিছু বিষয় ব্যতিক্রম।
লক্ষণসমূহ:
✓ ঘুমন্ত অবস্থায় হঠাৎ করে কেঁদে উঠা, উচ্চস্বরে কথা বলা, জোরে নিঃশ্বাস ফেলা এবং ঘুম হতে আতংকিত অবস্থায় বসে পড়া বা দাঁড়িয়ে যাওয়া।
✓ জাগ্রত অবস্থায় এমন কিছু দেখা, যা তার স্বপ্ন বলে মনে হয়।
✓ কখনো কিছুক্ষণের জন্য বেহুঁশ হয়ে যায়।
✓ কখনো মুখ থেকে ফেনা বের হয় দাঁতে খিল লেগে যায়।
✓ সবসময় ভীতু ভীতু ভাব থাকে।
✓ কখনো কখনো ভিন্ন ভাষায়, এবং বিভিন্ন ভঙ্গিতে কথা বলে।
✓ অনেক সময় তার থেকে আশ্চর্যজনক বিষয় প্রকাশ হয়ে থাকে। যেমন অল্প সময়ে সে বহুদূরে চলে যায় ইত্যাদি।
✓ অনেক সময় মেয়েদের কাছে স্বামী ঘর-সংসার সন্তানদের ভালো লাগে না।
✓ সে ইবাদাত তিলাওয়াত, জিকির ইত্যাদি পছন্দ করে না, বরং এগুলো তার অস্থিরতা বাড়িয়ে দেয়।
✓ আক্রমণাত্বক ও ভয়ংকর স্বপ্ন দেখা। যেমন: কালো কুকুর, কালো সাপ, কালো বিড়াল, অথবা পাহাড় বা উঁচু স্থান থেকে পড়ে যাওয়া অথবা পানিতে পড়ে যাওয়া।
✓ এককানে বা উভয় কানে শো শো আওয়াজ শোনা বা শরীরের ভারসাম্য না থাকার অনুভব হওয়া।
✓ সামান্য কারণে ভীষণ রেগে যাওয়া।
✓ সর্বদা ঘুমের ভাব লেগে থাকা এবং গভীর ঘুম থেকে জেগে কষ্ট অনুভব হওয়া।
✓ কোন কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করা।
✓ কেউ কথা বললে বিরক্ত মনে করা।
✓ একাকী ও নির্জনে থাকতে পছন্দ করা।
✓ এমন কোনো আশ্চর্য ধরনের দুর্গন্ধ পাওয়া যা আশেপাশে কেউ পায় না।
✓ এমন কাজ করেছে মনে হওয়া যা সে করেনি।
✓ কাজ-কর্মে বেশি বেশি ভুল হওয়া।
✓ সর্বদা মনের মধ্যে সন্দেহ ও সংশয় জাগ্রত হওয়া।
✓ দীর্ঘসময় টয়লেটে অবস্থান করা এবং কারো সঙ্গে কথা বলা।
✓ স্পষ্ট কোনো কারণ ছাড়াই দ্রুত রেগে যাওয়া ও কান্না করা।
✓ আরো বিভিন্ন পরিস্থিতিতে বিভিন্ন লক্ষণ রয়েছে, যেমন- বিবাহ চেষ্টায় সফল না হওয়া বা বিবাহ আটকে থাকা ইত্যাদি।
এখানে একটি জরুরী কথা এই যে, পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া ব্যতীত দু একটি সিকনেস দেখলেই তাকে জিনে ধরেছে বলা যাবে না।

📘 রুকইয়াহ শারইয়াহ > 📄 জ্বিনের আছরের মেয়াদ কতদিন

📄 জ্বিনের আছরের মেয়াদ কতদিন


মানুষের উপর জিনের আছর করার মেয়াদ চার রকমের হতে পারে-
১) জিন মানুষের পুরো শরীরের উপর প্রভাব বিস্তার করে স্বল্প সময়ের জন্য।
২) পুরো শরীর নয়, আংশিকভাবে শরীরের এক বা একাধিক অঙ্গে প্রভাব বিস্তার করে সেটাও স্বল্প সময়ের জন্যে।
৩) জিন মানুষের মস্তিষ্কের উপর প্রভাব বিস্তার করে, স্বল্প সময়ের জন্য। সেটা দূর থেকে ওয়াসওয়াসার মাধ্যমেও হতে পারে।
৪) জিন মানুষের শরীরের উপর স্থায়ীভাবে প্রভাব বিস্তার করতে পারে। এর মেয়াদ দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হতে পারে।

📘 রুকইয়াহ শারইয়াহ > 📄 কীভাবে জ্বিনের আছর থেকে নিরাপদ থাকবেন

📄 কীভাবে জ্বিনের আছর থেকে নিরাপদ থাকবেন


আমরা এই প্রবাদ বাক্যটি জানি যে, চিকিৎসার চেয়ে সাবধান থাকাই ভালো। তো জিন আছর করার পর ট্রিটমেন্টের চেয়ে যদি পূর্ব থেকেই একটু সচেতন হওয়া যায় তবে জিনের আছর থেকে বেঁচে থাকতে পারব। ইনশাআল্লাহ আমলগুলো এই:
(এক) পাঁচ ওয়াক্ত সলাত আদায় করতে হবে ও ইসলামী শরীয়াহ অনুযায়ী চলতে হবে।
(দুই) ঘরে ঢোকা ও বের হওয়ার সময় দুয়া পাঠ করতে হবে।
(তিন) প্রসাব-পায়খানাতে যাওয়ার সময় মাসনুন দুয়া পাঠ করা।
(চার) ঘরে নিয়মিত কুরআন তিলাওয়াত করা বিশেষ করে সূরা বাকারা তিলাওয়াত করা।
(পাঁচ) নিয়মিত প্রত্যেক নামাজের পরে ও ঘুমানোর পূর্বে আয়াতুল কুরসী পাঠ করা।
(ছয়) সর্বদা পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকা।
(সাত) খাবার সময় মাছনুন দুয়া আদায় করা।
(আট) নারীরা সর্বদা শরয়ী পর্দা অনুযায়ী চলা।
(নয়) নারী এবং বাচ্চারা ভর-দুপুরে ও সন্ধ্যায় বাহিরে নির্জন স্থানে বা ছাঁদে না থাকা।
(দশ) কোন গর্তে প্রসাব পায়খানা না করা।
(এগারো) ঘরে কোন মূর্তি, প্রাণীর কঙ্কাল বা এ জাতীয় কিছু না রাখা।
(বারো) কখনো যদি কোনো জিন বা এরকম কিছুর খপ্পরে পড়ে যায়, তৎক্ষণাৎ আয়াতুল কুরসী পাঠ করে আযান দিয়ে দেওয়া।
(তেরো) ঘরে আসা কোনো সাপকে মারতে বিলম্ব করা।
(চৌদ্দ) নির্জন স্থানে কোনো ময়লার স্তূপ বা আগুনের কুন্ডলির কাছে একাকী না যাওয়া।
(পনেরো) গ্রামে বা জনমানবহীন স্থানে, গভীর জঙ্গলে বা কোথাও রাতে একাকী সফর না করা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00