📘 রুকইয়াহ শারইয়াহ > 📄 নকশা ও ছক লিখে তাবিজের ইতিহাস

📄 নকশা ও ছক লিখে তাবিজের ইতিহাস


ইতিহাসের পাতা থেকে যতটুকু পাওয়া যায়, তাবীজের নকশা লেখা শুরু হয় অনেক পূর্বযুগ থেকেই। বশীকরণ, পাগলকরণ, বিপদ থেকে আত্মরক্ষা ইত্যাদির কাজে খুব বেশি ব্যবহার হতো। তবে সেগুলো ছিল বাক্যের উপর নির্ভর। ১, ২ দিয়ে আবজাদী অক্ষরের নকশা ও ছক তৈরি করণ এটা শুরু হয়েছে আরব দেশে ইসমাঈল আ. এর বসবাসের পরে। বিশেষ করে ফেরআউনের যুগ থেকে এটাকে যাদুর ক্ষেত্রে খুব বেশি ব্যবহার করতে দেখা যায়। ইহুদীরা এটাকে খুব বেশি ব্যবহর করতো। হাদীসে বর্ণিত আছে, কাবে আহবার রহ. বলেন, আমি যদি এই কলেমাগুলো না পড়তাম, তাহলে আমাকে ইহুদীরা গাধা বানিয়ে ফেলতো। তাছাড়া ইহুদীরা যে রাসূল স. কে যাদু করেছিল তা তো প্রসিদ্ধ।

টিকাঃ
[১৬] মুয়াত্তা ইমাম মালেক রহ, হাদীস নং-৩৫০২ مَالِكٌ، عَنْ سُمّي مَوْلَى أَبِي بَكْرٍ، عَنِ الْقَعْقَاعِ بْنِ حَكِيمٍ: أَنَّ كَعْبَ الْأَحْبَارِ قَالَ: لَوْلَا كَلِمَاتٌ أَقُولُهُنَّ لَجَعَلَتْنِي يَهُودُ حِماراً، فَقِيلَ لَهُ: وَمَا هُنَّ ؟ فَقَالَ: أَعُوذُ بِوَجْهِ اللَّهِ الْعَظِيمِ الَّذِي لَيْسَ شَيْءٌ أَعْظَمَ مِنْهُ. وَبِكَلِمَاتِ اللهِ التَّامَّاتِ الَّتِي لا يُجَاوِزُهُنَّ بَرِّ وَلا فَاجِرٌ. وَبِأَسْمَاءِ اللَّهِ الْحُسْنَى كُلِّهَا. مَا عَلِمْتُ مِنْهَا وَمَا لَمْ أَعْلَمُ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ وَبَرَأَ وَذَرَا

📘 রুকইয়াহ শারইয়াহ > 📄 নকশার মাধ্যমে তাবিজ লেখা ও তা ব্যবহার করা

📄 নকশার মাধ্যমে তাবিজ লেখা ও তা ব্যবহার করা


নকশার দ্বারা আসলে শুধু ইঙ্গিত বুঝায়। বাস্তবে নকশার কোন অর্থ নেই। আমরা যেমন দিক বুঝানোর জন্য তীর চিহ্ন ব্যবহার করি কিন্তু এর কোন অর্থ নেই। ঠিক তেমনিভাবে .....। অক্ষরগুলোকে ।৮.৮.৫ এর মাধ্যমে প্রকাশ করার কোন অর্থ নেই। কিন্তু যত তাবিজ-তুমার লেখা হয় তার অধিকাংশেই এই সংখ্যার ব্যবহার খুব বেশি। সংখ্যার যদি নিজস্ব কোন অর্থ না থাকে, তাহলে সেটা দ্বারা কোরআনের আয়াতের নকশা বানানো বা পবিত্র কোরআনের সূরাসমূহের নকশা বানানো কতটুকুট বৈধ তা আমরা বলতে পারবো না।
কতগুলো আঁকিবুকি করে যদি বলা হয় এগুলো কোরআনের আয়াতের সারাংশ বা মান তাহলে সেটা কতটুকু সঠিক হতে পারে তা সহজেই বোধগম্য।
থানাবি রহ. তাবিজ সম্পর্কে দুইটি কিতাব লিখেছেন। একটি হলো আমালে কোরআনী। অন্য আরেকটি লিখেছেন। অনেক আগে কিতাবটি পড়ার সুযোগ হয়েছিল। কিন্তু এখন সেই কিতাবটির নাম মনে নেই। উক্ত কিতাবে তিনি বলেছেন, কোন নকশার অর্থ জানা না থাকলে তা দিয়ে তাবিজ লেখা বৈধ নয়। আমাদের বাজারে প্রচলিত যতগুলো তাবিজের বই আছে তাতে প্রায় সবগুলোতেই পবিত্র কোরআনের সূরাগুলোর নকশা দেওয়া আছে। প্রশ্ন হলো, কে এই নকশাগুলো তৈরি করলো?
আর কীভাবেই বা তৈরি করা হলো?
কোন সংখ্যার জন্য কোরআনের কোন কোন আয়াত নির্ধারিত করা হলো?
এই সংখ্যা দিয়ে কোরআনের আয়াতের মান লিখার কি মূলনীতি রয়েছে?
নকশার মাধ্যমে কোরআনের আয়াতগুলোর প্রতীকি তাবিজ লেখার কেন প্রয়োজন হলো?
এসব প্রশ্নের উত্তর আজও অজানা। তাই আমরা বলি নকশার মাধ্যমে কোন তাবিজ লেখা বৈধ নয়। কিন্তু আমাদের দেশে বড় বড় শায়খ ও অনেক উলামায়ে কেরাম এই তাবিজ দেদারছে লিখে যাচ্ছেন আর এটাকে বৈধ বলেও ফতোয়া দিচ্ছেন। জানিনা এর বৈধতা কোরআন-সুন্নাহর কোন উৎস থেকে নির্গত! আল্লাহ আমাদের সবধরনের ভ্রান্তি থেকে হেফাজত করুন।

📘 রুকইয়াহ শারইয়াহ > 📄 কিছু বাস্তব নমুনা

📄 কিছু বাস্তব নমুনা


নিচের চিত্রে আটটি তাবীজের চিত্র দেয়া আছে। যে তাবীজগুলো আমাদের কাছে সংরক্ষিত আছে যা বান মারা, গর্ভের সন্তান নষ্ট করা, ছেলে বা মেয়েকে বশ করা, মানুষকে অসুস্থ করে রেখে মেরে ফেলাসহ বিভিন্ন কুফরি এবং শিরকী তাবিজ যা বিভিন্ন ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে সংরক্ষণ করা হয়েছে। আমরা কোনো তাবিজের জন্য সাথে কোন ক্যাপশন দেইনি; যাতে এগুলোর দ্বারা কেউ উৎসাহিত হয়ে অসৎ উদ্দেশ্য হাসিল করতে না পারে।

📘 রুকইয়াহ শারইয়াহ > 📄 শিরক এবং কুফরি তাবীজ থেকে কীভাবে বেঁচে থাকবেন?

📄 শিরক এবং কুফরি তাবীজ থেকে কীভাবে বেঁচে থাকবেন?


> সর্বপ্রথম আপনাকে তাওহীদের ভিত্তিতে ঈমান আকিদাহ্ ও বিশ্বাস বিশুদ্ধ করতে হবে।
> আহলে সুন্নাহ ওয়াল-জামায়াহ্'র পূর্ণ অনুসারী হতে হবে।
> যদি আপনার কোন সমস্যা দেখা দেয় তবে সমস্যা উত্তরণের উপায় অভিজ্ঞ মুহাক্কিক আলিমদের কাছ থেকে জেনে নিবেন।
> চমকপ্রদ সুন্দর লেবাস পোশাক, বড় পাগড়ীওয়ালা বেশভূষায় বুযুর্গ বা বিশাল টাইটেল বা নামধারী মাওলানা হলেই তাকে মুহাক্কিক মনে করা যাবে না। এ ব্যাপারে ভালো করে খোঁজ নিতে হবে। খেয়াল রাখবেন আপনি কোনো ভণ্ড বা বাটপারের পাল্লায় পড়ছেন না তো!
> কোন ওঝা, বৈদ্য, দরবেশ বা সাধুদের কাছ থেকে কখনোই কোনো তাবীজ নেয়া যাবে না।
> তারপরও যদি কেউ তাবীজ দিতে চান! তাহলে তার কাছ থেকে জিজ্ঞেস করে নিন এ তাবিজের কোনো শরয়ী প্রমাণ তার কাছে আছে কিনা?
চিকিৎসা তার কাছ থেকেই নিবেন যিনি কুরআন সুন্নাহ'য় বর্ণিত তদবীর দিবেন, প্রচলিত শিরকী তাবিজ-কবজ নয়!
> যদি কারো সাথে কোনো তাবিজ পাওয়া যায়, তবে সেটা খুলে দেখতে হবে, তাতে কুফরি কিছু আছে কিনা? যদি আপত্তিকর কিছু পাওয়া যায় তবে সূরা ফালাক্ক নাছ পড়ে ফুঁক দিয়ে আগুনে পুড়িয়ে ফেলতে হবে। ফিতনার আশংকা থাকলে প্রয়োজনে মুহাক্কিক আলিমদের শরণাপন্ন হতে হবে।
> দ্বীনদার ব্যক্তি হলেও অনেকে এইসব বিষয়ে জ্ঞান রাখেন না। এজন্য তালগোল না পাকিয়ে এ বিষয়ের অভিজ্ঞ ব্যক্তির পরামর্শ নিতে হবে, যার তার পরামর্শ গ্রহণ করা যাবে না।
> মনে রাখবেন, আপনার ঈমান আপনার আমানত, আমাদের উদ্দেশ্য ছিলো আপনাকে সতর্ক করার, অতএব পরবর্তী পদক্ষেপ আপনাকেই নিতে হবে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00