📄 যিনা বা ব্যভিচারের শাস্তি
নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম একবার সূর্যগ্রহণের নামাযের পর একটি ভাষণ দেন। উক্ত ভাষণের একটি বাণী ছিল এরকম-
يَا أُمَّةَ مُحَمَّدٍ وَاللَّهِ مَا مِنْ أَحَدٍ أَغْيَرُ مِنْ اللَّهِ أَنْ يَزْنِيَ عَبْدُهُ أَوْ تَزْنِي أَمَتُهُ
'হে মুহাম্মদের উম্মত! আল্লাহর শপথ করে বলছি। আল্লাহর কোনো বান্দা বা বান্দী যখন ব্যভিচারে লিপ্ত হয়, তখন আল্লাহর আত্মসম্মানবোধ সবচেয়ে বেশি আঘাতপ্রাপ্ত হয়।[২]
সহীহ বুখারীর আরেকটি হাদীসে উল্লেখ রয়েছে, নবীজি ইরশাদ করেন-
لَا أَحَدَ أَغْيَرُ مِنَ اللَّهِ، مِنْ أَجْلِ ذَلِكَ حَرَّمَ الْفَوَاحِشَ مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَمَا بَطَنَ، وَلَا أَحَدَ أَحَبُّ إِلَيْهِ الْعُذْرُ مِنَ اللَّهِ، مِنْ أَجْلِ ذَلِكَ أَرْسَلَ الرُّسُلَ مُبَشِّرِينَ وَمُنْذِرِينَ، وَلَا أَحَدَ أَحَبُّ إِلَيْهِ الْمَدْحُ مِنَ اللهِ، مِنْ أَجْلِ ذَلِكَ أَثْنَى عَلَى نَفْسِهِ
'আল্লাহ তাআলার মতো আত্মসম্মানবোধ-সম্পন্ন কেউ নেই। এই সম্মানের কারণেই তিনি প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য সকল অশ্লীলতা ও অন্যায়কে হারাম করেছেন। আল্লাহ তাআলার মতো করে কেউ ওযরগ্রহণ করতে ভালোবাসে না। এজন্যই তিনি তাঁর রাসূলদেরকে সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী হিসেবে প্রেরণ করেছেন। আল্লাহ তাআলার চেয়ে বেশি কেউ প্রশংসা ও বন্দনাস্তুতি পছন্দ করে না। আল্লাহ তাআলা নিজেই নিজের প্রশংসা করেছেন।'[১]
অন্য হাদীসে এসেছে-
أَكْثَرُ مَا يُدْخِلُ النَّاسَ النَّارَ الْفَمُ، وَالْفَرْجُ
'মুখ ও লজ্জাস্থানের কারণেই অধিকাংশ মানুষ জাহান্নামে যাবে।'[২]
লজ্জাস্থানের দ্বারা মানুষ যিনা-ব্যভিচারে লিপ্ত হয়। ব্যভিচারের শরয়ী দণ্ডবিধানের অধ্যায়ে যিনার খারাপ দিকগুলো তুলে ধরা হয়েছে। যিনাকারীর পরিবারে লজ্জার গ্লানি নেমে আসে। সমাজের বুকে তাদের মাথা নত হয়ে যায়। যিনা বা ব্যভিচারে যদি মহিলা গর্ভবতী হয়ে যায়, সাধারণত গর্ভপাতের মাধ্যমে সন্তান বিনষ্ট করে ফেলে। এক্ষেত্রে যিনাকারী মহিলা একইসাথে যিনা এবং মানবহত্যার মতো ভয়ংকর দুই অপরাধে লিপ্ত হয়। আর যিনার কারণে জন্ম নেয়া সন্তানকে যদি সুস্থভাবে প্রসবও করে, তাহলে যিনাকারী মহিলার পরিবারে এমন এক লোকের আগমন হয়, যে তাদের বংশের নয়, তাদের রক্ত-সম্পর্কের নয়। এ ছাড়া জন্ম নেয়া শিশুটিও পরিচয়-সংকটে ভুগতে থাকে সারাজীবন। এতগুলো মানুষের জীবনের করুণ পরিণতি কেবল একটি গুনাহের কারণেই সৃষ্টি হয়। একইসাথে যেই পুরুষ যিনা করে, সে তার বংশের ধারা নষ্ট করে দেয়। অন্যের পরিবারে অশান্তি বাঁধিয়ে দেয়। দুনিয়া ও আখিরাতের যাবতীয় অকল্যাণ আর অমঙ্গল তারা একত্রিত করে ফেলে ব্যভিচারের মাধ্যমে।
যিনার ক্ষতি শুধু বংশধারা আর পরিবারের গ্লানি ও লজ্জার অপদস্থতাই তৈরি করে না, বরং এর কারণে মানুষের হায়াত কমে যায়। দারিদ্রতা নেমে আসে জীবনে। মানুষের ক্রোধ আর আক্রোশ জন্ম নেয়। সমাজের দৃষ্টিতে ব্যভিচারে লিপ্ত ব্যক্তির চেহারায় চুনকালি পড়ে যায়। মানুষের ঘৃণা ও ধিক্কারে তার জীবনও সংকীর্ণ হয়ে যায়। তার হৃদয় মরে যায়, রোগাক্রান্ত হয়ে যায়। দুঃখ, দুর্দশা, হতাশা আর গ্লানিবোধ তার জীবনকে কুড়েকুড়ে খেতে থাকে। সে রহমতের ফিরিশতা থেকে দূরে ছিটকে পড়ে। শয়তানের নৈকট্য লাভ করে। এভাবেই সে গুনাহের কারণে জাগতিক সংসারের সবচেয়ে হতভাগা ব্যক্তিতে পরিণত হয়।
আর এই জগতে আল্লাহ তাআলার অবধারিত রীতি হলো, যিনা বা ব্যভিচারের সময় আল্লাহ তাআলার ক্রোধ প্রকাশ পায় এবং আক্রোশের মাত্রা তীব্র থেকে তীব্রতর হতে থাকে। আর আল্লাহ তাআলার ক্রোধের মাত্রা যখন বেড়ে যায়, তখন অনিবার্যভাবে এর ক্ষতিকর প্রভাব পৃথিবীতে প্রকাশ পায়।
আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ বলেন, 'যে জনপদে সুদ আর ব্যভিচার ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, আল্লাহ তাআলার পক্ষ থেকে সেই জনপদের ধ্বংস ঘোষণা করা হয়।'
আল্লাহ তাআলা বিবাহিত ব্যক্তির যিনার জন্য রজম বা পাথর মেরে হত্যা করার যেই দণ্ডবিধি প্রণয়ন করেছেন, সেখানে তিনটি বিশেষ দিক উল্লেখ্য।
১. পরকীয়ার শাস্তি হিসেবে আল্লাহ তাআলা কঠোরতার সাথে হত্যা করার বিধান আরোপ করেছেন। মাথায় পাথর নিক্ষেপ করে হত্যার বিধান আরোপ করেছেন। আর বিবাহপূর্ব ব্যভিচারের জন্য শরীরে বেত্রাঘাত করার আদেশ করেছেন।
২. ব্যভিচার বা পরকীয়ার দণ্ডবিধি প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে কোনো প্রকারের করুণা, মার্জনা বা দয়াপ্রদর্শনের সুযোগ তিনি রাখেননি। এক্ষেত্রে করুণা প্রদর্শনের অর্থ হলো, আল্লাহ তাআলার আদেশ পালনে শিথিলতা বা আদেশ অমান্য করা। আল্লাহ তাআলা জগতের সর্বোচ্চ দয়ালু সত্তা হওয়ার পরেও তিনি নিজেই যখন এই দণ্ডবিধি প্রণয়ন করেছেন, সেখানে বান্দার জন্য এই শাস্তিকে লঘু করার কোনো সুযোগ নেই।
৩. আল্লাহ তাআলা ব্যভিচার বা পরকীয়ার শাস্তি প্রয়োগের জন্য গোপন কোনো স্থান বা জায়গার কথা বলেননি। বরং সমাজের সকলের জন্য শিক্ষা ও সতর্ককীরণ হিসেবে জনসমাগমে এই শাস্তি আরোপের বিধান জারি করেছেন। আর এই বিধান সমাজের চারিত্রিক ও নৈতিক অবক্ষয় রোধের সর্বোত্তম ব্যবস্থাপনা।
টিকাঃ
[২] বুখারী, হাদীস-ক্রম: ৫২২১
[১] বুখারী, হাদীস-ক্রম: ৪৬৩৪
[২] মুসনাদু আহমাদ, হাদীস-ক্রম: ৯৬৯৪
📄 সমকামিতার শাস্তি
সমকামিতা যেহেতু সামাজিক ভারসাম্যের জন্য হুমকিস্বরূপ এবং চূড়ান্ত নৈতিক অবক্ষয়, তাই এই জঘন্যতম অপরাধ দমন ও নির্মূলে শরীয়তও কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। সমকামিতার অপরাধে লিপ্ত ব্যক্তির জন্য প্রণয়ন করেছে কঠোর শাস্তির বিধান।
আবু বকর, আলী, খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ, আবদুল্লাহ ইবনুয যুবায়ের, আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস, জাবির ইবনু যায়েদ, আবদুল্লাহ ইবনু মা'মার—প্রমুখ সাহাবী রাদিয়াল্লাহু আনহুম আজমাঈন এবং ইমাম যুহরী, রবীআহ ইবনু আবি আবদির রহমান, ইমাম মালিক, ইসহাক ইবনু রাহুয়াই, ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বাল প্রমুখ আলিমের নিকট সমকামিতার শাস্তি ব্যভিচারের শাস্তির চেয়েও কঠোর। সমকামী পুরুষ বা নারী—বিবাহিত হোক বা অবিবাহিত—সর্বাবস্থায় তাকে হত্যা করা হবে।
আতা ইবনু আবী রাবাহ, হাসান বসরী, সাঈদ ইবনুল মুসাইয়্যিব, ইবরাহীম আন নাখায়ী, কাতাদাহ, ইমাম আওযায়ী, ইমাম আবু ইউসুফ, ইমাম মুহাম্মদ, ইমাম আহমদের এক মত এবং ইমাম শাফিয়ী'র মাযহাবের প্রচলিত মত অনুযায়ী সমকামিতা আর ব্যভিচারের শাস্তি সমপর্যায়ের।
আর ইমাম আবু হানিফা, হাকিম প্রমুখ আলিম বলেন, সমকামিতার শাস্তি যিনার চেয়ে কম গুরুতর। যিনার ব্যাপারে শরীয়ত কর্তৃক নির্ধারিত শাস্তি রয়েছে। আর সমকামিতার ব্যাপারে যেহেতু নবীজি থেকে সুনির্ধারিত কোনো শাস্তি বর্ণিত হয়নি, তাই এর শাস্তি ব্যভিচারের চেয়ে তুলনামূলক কম হবে। এক্ষেত্রে অপরাধীকে সামাজিকভাবে তীব্র নিন্দা ও ভর্ৎসনা করা হবে। মানবদেহের যে অঙ্গের মাধ্যমে সমকামিতার অপরাধ করা হয়, সেই অঙ্গের প্রতি মানুষের স্বভাবজাতই ঘৃণা ও অরুচি থাকে। বিকৃত রুচির মানুষের পক্ষেই কেবল সম্ভব এমন কুরুচিপূর্ণ কাজে লিপ্ত হওয়া। এজন্যই এই অপরাধের জন্য কোনো নির্ধারিত শাস্তি রাখা হয়নি।
📄 সমকামিতার অপরাধে হত্যার বিধান
ইতিহাসের কিতাবে খালিদ ইবনুল ওয়ালীদের প্রসিদ্ধ ঘটনা বিবৃত আছে। তিনি একবার জানতে পারলেন, আরবের কিছু পুরুষ একজন আরেকজনকে বিয়ে করছে। এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি খলীফাতুল মুসলিমীন আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু'র নিকট পরামর্শ চেয়ে চিঠি লিখেন। আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু তখন উপস্থিত সাহাবীদের সাথে পরামর্শ করলেন। আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বললেন, 'এমন গর্হিত কাজ পৃথিবীর ইতিহাসে একটি সম্প্রদায়ই করেছে। আর মহান আল্লাহ তাদেরকে এরজন্য যে শাস্তি দিয়েছেন, তা আমাদের সকলের জানা আছে। আমি মনে করি, এখনো যারা এ কাজ করছে, তাদেরকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা উচিত।' তখন আবু বকর তাদেরকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করার নির্দেশনা দিয়ে চিঠি লিখলে খালিদ ইবনুল ওয়ালিদ তা বাস্তবায়ন করেন। সমকামিতার শাস্তি হিসেবে তাদেরকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়।
আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, 'সমকামীকে এলাকার সবেচেয়ে বড় প্রাসাদের উপর থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিতে হবে তার ঘৃণিত কাজের জন্য। এরপরও যদি সে বেঁচে থাকে, তাহলে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করা হবে।'
ইবনু আব্বাস নবীজি সূত্রে বর্ণনা করেন-
مَنْ وَجَدْتُمُوهُ يَعْمَلُ عَمَلَ قَوْمِ لُوطٍ، فَاقْتُلُوا الْفَاعِلَ وَالْمَفْعُولَ بِهِ
'তোমরা যদি কাউকে লূত সম্প্রদায়ের মন্দ স্বভাবের কাজ করতে দেখো, তবে এ কাজে লিপ্ত উভয়কেই হত্যা করে ফেলো।'[১]
নবীজি সূত্রে আরও বর্ণিত আছে-
لَعَنَ اللَّهُ مَنْ عَمِلَ عَمَلَ قَوْمٍ لُوطٍ، لَعَنَ اللَّهُ مَنْ عَمِلَ عَمَلَ قَوْمٍ لُوطٍ، لَعَنَ اللَّهُ مَنْ عَمِلَ عَمَلَ قَوْمٍ لُوطٍ
'যে ব্যক্তি লূত সম্প্রদায়ের ঘৃণিত কাজ করবে, আল্লাহ তাআলার লানত আরোপিত হোক তার উপর! যে ব্যক্তি লূত সম্প্রদায়ের ঘৃণিত কাজ করবে, আল্লাহ তাআলার লানত আরোপিত হোক তার উপর! যে ব্যক্তি লূত সম্প্রদায়ের ঘৃণিত কাজ করবে, আল্লাহ তাআলার লানত আরোপিত হোক তার উপর!'[১]
নবীজি ব্যভিচারের অপরাধীকেও তিনবার লানত করেননি, কিন্তু সমকামিতার অপরাধীকে তিন তিনবার করে আল্লাহ তাআলার লানতের বদদুআ করেছেন। এই হাদীস থেকে বোঝা যায়, বিবাহ-পরবর্তী যিনার চেয়েও জঘন্য অপরাধ হলো সমকামিতা। তাই এই অপরাধের শাস্তিও বিবাহ-পরবর্তী যিনার শাস্তির চেয়ে ভয়াবহ হওয়া উচিত।
লূত আলাইহিস সালামের সম্প্রদায় যখন সমকামিতায় লিপ্ত হয়ে গেল, তাদের নবীর কোনো বারণ তারা মনল না, তখন আল্লাহ তাআলা তাদেরকে পৃথিবীর ইতিহাসের স্মরণীয় শাস্তি আরোপ করলেন। তাদের সেই শাস্তির অভিশাপ পৃথিবী আজও বয়ে বেড়াচ্ছে। পবিত্র কুরআনে এই পাপিষ্ঠ সম্প্রদায়ের কথা, তাদের আযাবের প্রেক্ষাপট বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পাপিষ্ঠ সম্প্রদায়ের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে আল্লাহ তাআলা অত্যন্ত কঠোর ও ভীতিকর শব্দ ব্যবহার করেছেন। আরবী ভাষার দক্ষতাসম্পন্ন চোখে এই আয়াতগুলো তিলাওয়াত করলে এই নরাধম সম্প্রদায়ের শাস্তির ভয়াবহতা অনুভব করা যায়। কুরআনে কারীমে তাদের চূড়ান্ত ধ্বংসের ঘোষণা এভাবে বিবৃত হয়েছে-
فَلَمَّا جَاءَ أَمْرُنَا جَعَلْنَا عَالِيَهَا سَافِلَهَا وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهَا حِجَارَةً مِنْ سِجِّيلٍ
'অতঃপর যখন আমার আদেশ চলে এল, তখন আমি তাদের ভূপৃষ্ঠের উপরিভাগকে নিচের দিকে উলটে দিলাম। আর তাদের উপর স্তরে স্তরে পাথরবৃষ্টি বর্ষণ করলাম।'[১]
টিকাঃ
[১] তিরমিযী, হাদীস-ক্রম: ১৪৫৬
[১] মুসনাদু আহমাদ, হাদীস-ক্রম: ২৯১৩
[১] সূরা হুদ, আয়াত-ক্রম: ৮২
📄 পশুসঙ্গমিতার শাস্তি
আমাদের এই পৃথিবীতে মানুষরূপী এমনও নিকৃষ্ট দোপায়ী জানোয়ার আছে, যারা পশুর সাথে তাদের কামভাব পূরণ করতে আগ্রহী হয়। তাদের বিবেক-বুদ্ধি এতটাই রোগাক্রান্ত যে, পশু প্রাণীকে দেখলেও তাদের যৌনক্ষুধা জেগে ওঠে। এধরনের নরাধমদের ক্ষেত্রে শরয়ী বিধি-বিধানে বিশেষজ্ঞ আলিমগণ তিন ধরনের শাস্তির কথা বলেছেন।
১. প্রথমেই কোনো শাস্তি আরোপ না করে তার মস্তিষ্কের সুস্থতা ও রুচির ভারসাম্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য ধর্মীয় ও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ যা ভালো মনে করেন, সেই পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
২. দ্বিতীয় মত হলো, তাদেরকে শাস্তির আওতাধীন করা হবে। এক্ষেত্রে তাদেরকে যিনা বা ব্যভিচারের হদ বা শাস্তি প্রয়োগ করা হবে।
৩. তৃতীয় মত হলো, সমকামিতার যেই শাস্তি রয়েছে, তাকেও শাস্তিই ভোগ করতে হবে। অর্থাৎ তাকেও সরাসরি হত্যা করতে হবে। সুনানু আবি দাউদে বর্ণিত আছে, নবীজি সূত্রে আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস বর্ণনা করেন, 'যে ব্যক্তি কোনো পশুর সাথে সঙ্গম করল, তাকে তোমরা হত্যা করো। তার সাথে সেই পশুটিকেও মেরে ফেলো।[২]
টিকাঃ
[২] আবু দাউদ, হাদীস-ক্রম: ৪৪৬৪