📄 একটি ভুল ধারণার সংশোধন
আমি বললাম, 'শাইখ, আপনাকে আল্লাহ তাআলা সম্মানিত করুন; মহব্বত ও ভালোবাসার বিষয়টি আপনি তো এমনভাবে তুলে ধরলেন, যেন বান্দা ও রবের মধ্যকার ভালোবাসা অস্বীকারকারীও আছে কেউ! ব্যাপারটা আসলে কী?'
শাইখ ইবনু তাইমিয়া বললেন, 'আমি এই ধাঁচে বয়ান করেছি; কারণ, বাস্তবেই কেউ কেউ এ বিষয়টি অস্বীকার করে। জাহমিয়্যাহ সম্প্রদায় মনে করে, ভালোবাসার জন্য প্রেমিক ও প্রেমাস্পদের মধ্যে এক ধরনের মিল ও সাদৃশ্য থাকতে হয়; তাই তারা বলে, অবিনশ্বর আল্লাহ ও নশ্বর বান্দার মধ্যে ভালোবাসাই সম্ভব নয়; কারণ, এদের পরস্পরে ভালোবাসার উৎসরূপে কোনো সাদৃশ্য নেই。
'ইসলামের ইতিহাসে এই কথার প্রথম প্রবক্তা হলো জা'দ ইবনু দিরহাম। হিজরি দ্বিতীয় শতকের শুরুতে সে এই কথা প্রচার করে। ফলে, ইরাক ও মধ্যপ্রাচ্যের আমির খালিদ ইবনু আবদুল্লাহ কাসরি তাকে জবাই করে হত্যা করেন। ঈদুল আজহার দিন খালিদ মানুষের সামনে বক্তব্য দেন- “লোকসকল, কুরবানি করো; আল্লাহ তোমাদের কুরবানি কবুল করবেন। আমি তো জা'দ ইবনু দিরহামকে কুরবানি করব; সে মনে করে-আল্লাহ নবী ইবরাহিমকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করেননি এবং নবী মুসার (আলাইহিমাস সালাম) সঙ্গে কথা বলেননি।” এরপর তিনি মিম্বার থেকে নেমে জা'দকে জবাই করে দেন।[১]।
'যথাসম্ভব জাহম ইবনু সফওয়ান এই জা'দের কাছ থেকেই এই মতবাদ গ্রহণ করে প্রচার শুরু করে। এই জাহম নামক ব্যক্তির নামের সঙ্গে যুক্ত করেই তার অনুসারীদেরকে জাহমিয়্যাহ বলা হয়। তার এই মতবাদের কারণে খোরাসানের আমির সালাম ইবনু আহওয়াজ তাকে হত্যা করেন। এরপর আমর ইবনু উবাইদের অনুসারীরা এই মতবাদ মুতাযিলিদের মধ্যেও প্রচার করে দেয়। খলিফা মামুনের সময়ে এই মতবাদ খুব হাওয়া পায়। ফলে, ইসলামের মহান ইমামগণকে বিভিন্ন নির্যাতনের মুখোমুখি করা হয়, যেন তাঁরা ওদের সঙ্গে ওই ভ্রান্ত মতবাদে একমত পোষণ করেন。
আসলে, এই মতবাদের মূল প্রবক্তা হলো মুশরিক, তারকাপূজারি ব্রাহ্মণ, ভ্রান্ত দার্শনিক ও ইহুদি-খ্রিষ্টানের পথভ্রষ্ট লোকেরা; যারা মনে করে, মৌলিকভাবে আল্লাহ তাআলার ইতিবাচক কোনো গুণ নেই। বস্তুত এরাই নবী ইবরাহিমের (আলাইহিস সালাম) শত্রু। এরা তারকার পূজা করে, আকল ও নক্ষত্র-ইত্যাদির প্রতিকৃতি তৈরি করে। তারা মনে করে, বাস্তবে কখনোই নবী ইবরাহিম আল্লাহর বন্ধু এবং নবী মূসা (আলাইহিমাস সালাম) আল্লাহর কালিম (তথা, 'কথার সঙ্গী') হতে পারেন না। তাদের ধারণা—বন্ধুত্ব হলো ভালবাসার চূড়ান্তরূপ, যেখানে একে অপরের প্রেমে হাবুডুবু খায়। ওই যেমন কবিতায় আছে— "তুমি তো আমার শ্বাসনালীতে এসে দাঁড়িয়েছ আসলে, এজন্যই তো বন্ধুকে 'বন্ধু' বলা হয়।”
'অথচ আল্লাহ ও বান্দার ভালবাসার কথা সহিহ হাদিসেও এসেছে—
عَنْ عَبْدِ اللهِ ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : لَوْ كُنْتُ مُتَّخِذًا مِنْ أَهْلِ الْأَرْضِ خَلِيْلًا لَاتَّخَذْتُ ابْنَ أَبِي قُحَافَةَ خَلِيْلًا وَلَكِنَّ صَاحِبَكُمْ خَلِيْلُ الله
| 'আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু'র সূত্রে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, "দুনিয়ার কাউকে আমি ঘনিষ্ঠ বন্ধু বানালে আবু কুহাফার পুত্রকেই বানাতাম; কিন্তু তোমাদের সঙ্গী (তথা আমি রাসূল) তো আল্লাহর বন্ধু।" [১]
'অন্য বর্ণনায় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
إِنِّي أَبْرَأُ إِلى كُلِّ خَلِيْلٍ مِنْ خُلَّتِهِ وَلَوْ كُنْتُ مُتَّخِذًا خَلِيْلًا لَاتَّخَذْتُ أَبَا بَكْرٍ خَلِيْلًا إِنَّ صَاحِبَكُمْ خَلِيْلُ اللَّهِ “
"জেনে রাখো, আমি প্রত্যেক বন্ধুর বন্ধুত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছি। আমি কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করলে আবু বকরকেই অন্তরঙ্গ বন্ধুরূপে গ্রহণ করতাম। নিশ্চয় তোমাদের এই সাথি (অর্থাৎ নবীজি নিজে) আল্লাহর অন্তরঙ্গ বন্ধু।” [২]
'অন্য বর্ণনায় নবীজি বলেন-
إِنَّ اللَّهَ اتَّخَذَنِي خَلِيْلًا كَمَا اتَّخَذَ إِبْرَاهِيمَ خَلِيْلًا
"আমাকে আল্লাহ তাআলা ইবরাহিমের মতো বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছেন।” [৩]
'দেখুন, এই বর্ণনাগুলোয় নবীজির বক্তব্য হলো, তাঁর জন্য কোনো মাখলুককে বন্ধুরূপে গ্রহণ করা সমীচীন নয়; তিনি কাউকে বন্ধুরূপে গ্রহণ করলে সব মানুষের চেয়ে আবু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু এর বেশি উপযুক্ত ছিলেন। অথচ তিনি তো বিভিন্ন সাহাবীর প্রতি নিজের ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন。
'তাঁর সাহাবী মুআয রাদিয়াল্লাহু আনহুকে বলেছেন-
وَاللَّهِ إِنِّي لَأُحِبُّكَ
"আল্লাহর শপথ, আমি তোমাকে ভালোবাসি।” [৪]
'আনসারদেরকেও তিনি এমন কথা বলেছিলেন। যাইদ ইবনু হারিসা ও তাঁর ছেলে উসামা ছিলেন নবীজির বিশেষ ভালোবাসার পাত্র। আমর ইবনুল আস রাদিয়াল্লাহু আনহু'র সূত্রে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবীজিকে জিজ্ঞেস করেছিলাম-
أَيُّ النَّاسِ أَحَبُّ إِلَيْكَ ؟ قَالَ: عَائِشَةُ قُلتُ: مِنَ الرِّجَالِ ؟ قَالَ : أَبُوهَا "মানুষের মধ্যে কে আপনার কাছে সবচেয়ে বেশি প্রিয়?” তিনি বলেছিলেন, "আয়েশা।” আমি বলেছিলাম, "পুরুষদের মধ্যে কে?” তাঁর জবাব ছিল, "আয়েশার বাবা।” (রাদিয়াল্লাহু আনহুমা)। [১]
'নবীজি স্বীয় কন্যা ফাতিমা রাদিয়াল্লাহু আনহাকে বলেছেন-
أَيْ بُنَيَّةُ أَلَسْتِ تُحِبّيْنَ مَا أُحِبُّ ، فَقَالَتْ بَلَى . قَالَ " فَأَحِبِّي هَذِهِ " . "আমার মেয়ে! আমি যাঁকে ভালোবাসি, তুমি ভালোবাসবে না তাঁকে?” ফাতিমা বললেন, "কেন নয়!” নবীজি বললেন, "তাহলে তাঁকে (আয়েশাকে) ভালোবাসো।” [২]
'নবীজি তাঁর দৌহিত্র হাসান রাদিয়াল্লাহু আনহু'র ব্যাপারে বলেছেন-
اللَّهُمَّ إِنِّي أُحِبُّهُ فَأَحِبَّهُ وَأَحِبَّ مَن يُحِبُّهُ “হে আল্লাহ, আমি হাসানকে ভালোবাসি, আপনিও তাকে ভালোবাসুন; এবং ভালোবাসুন তাকেও, যে ভালোবাসে হাসানকে।” [৩]
'এমন বহু বক্তব্য বিভিন্ন হাদিসে এসেছে, যেখানে নবীজি বিভিন্ন ব্যক্তির প্রতি তাঁর ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন; অথচ তিনিই আবার বলেছেন-
إِنِّي أَبْرَأُ إِلى كُلِّ خَلِيْلٍ مِنْ خُلَّتِهِ وَلَوْ كُنْتُ مُتَّخِذًا خَلِيْلًا لَاتَّخَذْتُ أَبَا بَكْرٍ خَلِيْلًا إِنَّ صَاحِبَكُمْ خَلِيْلُ اللَّهِ “
"আমি প্রত্যেক বন্ধুর বন্ধুত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছি। আমি কাউকে অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসাবে গ্রহণ করলে আবু বকরকেই অন্তরঙ্গ বন্ধুরূপে গ্রহণ করতাম।"[১১]
'এতে বোঝা গেল, বন্ধুত্ব হলো ভালোবাসার পূর্ণাঙ্গ রূপ; তাই, সাধারণ ভালোবাসার চেয়ে বন্ধুত্ব অনেক উচ্চস্তরের বিষয়। বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে প্রিয়তম সত্তা যে, সত্তাগত কারণেই সে প্রিয়, অন্যের কারণে নয়; যেহেতু অন্যের কারণে যে প্রিয় হয়, ভালোবাসা পাওয়ার ক্ষেত্রে সে ওই 'অন্যে'র চেয়ে পেছনে থাকে。
'বন্ধুত্ব যেখানে পূর্ণতা পায়, সেখানে কোনো অংশীদার থাকতে পারে না; ফলে, সেখানে ভালোবাসার পেয়ালা থাকে পরিপূর্ণ; সেখানকার তাওহিদের ঝরনায় আসে পূর্ণতা। আবার, বন্ধুত্বের মধ্যে প্রতিযোগিতা ও (মূল সত্তাকে ছেড়ে) অন্যকে প্রাধান্য দেওয়া চলে না; বরং যিনি প্রিয়তম, তাঁকে ঘিরেই আবর্তিত হয় ভালোবাসার যত আলো-জোছনা; অন্য কেউ তার সঙ্গে অংশীদার হতে পারে না。
'আসলে, কেবল আল্লাহই তো এমন ভালোবাসার উপযুক্ত; তাই তিনি যেই বস্তুর হেকদার, সেখানে অন্য কাউকে অংশীদার বানানো জায়েজ নেই। মৌলিকভাবে তিনিই শুধু ভালোবাসার পাত্র হবেন; আর, অন্যদের প্রতি ভালোবাসা তাঁর সন্তুষ্টির জন্য হলে তা শুদ্ধ ও সঠিক; নতুবা সেই ভালোবাসা হবে দুনিয়াবি ও অশুদ্ধতার জলাশয়। কারণ, আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্য ছাড়া দুনিয়া ও দুনিয়ার সবকিছু অভিশপ্ত。
এই হলো বন্ধুত্বের বাস্তবতা। আল্লাহ তাআলা সত্তাগতভাবে প্রেমাস্পদ হতে পারেন—এটাই যে অস্বীকার করে, সে তো তাঁর বন্ধুত্বকে আরও জোরালোভাবেই অস্বীকার করবে। এমনিভাবে আল্লাহ তাআলা কোনো বান্দাকে ভালোবাসতে পারেন—এটাই যে মানবে না, সে তো এই কথা কোনোভাবেই মানতে চাইবে না যে, তিনি কোনো বান্দাকে বন্ধুরূপে এমনভাবে গ্রহণ করতে পারেন যার ফলে বান্দার প্রতি রবের ভালোবাসার শিশির ঝরবে, আবার বান্দাও ইবাদতের চূড়ায় দাঁড়িয়ে রবের দরবারে পেশ করবে ভালোবাসার তোহফা。
'আল্লাহ তাআলার ভালোবাসা ও বন্ধুত্ব অস্বীকারের পাশাপাশি নবী মূসা আলাইহিস সালামের সঙ্গে আল্লাহর কথোপকথনও তারা মানতে রাজি না。
তাদের বিশ্বাস, আল্লাহর সত্তায় কোনো গুণ বা কর্ম থাকতে পারে না; ফলে তারা বলে, হায়াত (জীবন), কুদরত (শক্তি-ক্ষমতা), ইলম (জ্ঞান) ইত্যাদি নামের কোনো গুণ তাঁর নেই; আবার, ইসতিওয়া (আল্লাহর শান মোতাবেক আসীন হওয়া) করার মতো কোনো কর্মও তাঁর নেই। এমনিভাবে আল্লাহ তাআলা কারও সঙ্গে কথা বলা, বা তাঁর সঙ্গে অন্য কেউ কথা বলতে পারা—উভয়টিই তারা অস্বীকার করে। আসলে, তাদের অবস্থা হলো কুরআনের ভাষায়—
كَذَلِكَ قَالَ الَّذِينَ مِن قَبْلِهِم مِّثْلَ قَوْلِهِمْ تَشْبَهَتْ قُلُوبُهُمْ
"তাদের পূর্ববর্তীরাও বলেছিল তাদেরই মতো করে; বস্তুত তাদের সবার মন একই রকম।"[১]
'কিন্তু ইসলাম যেহেতু বিজয়ী ছিল, আল্লাহর কালাম (অর্থাৎ, কথা) কুরআনও তিলাওয়াত হতো, যা অস্বীকার করা কোনো নামধারী মুসলিমের পক্ষেই সম্ভব নয়, তাই তারা আল্লাহ তাআলার নামসমূহ বিকৃত করা শুরু করল এবং প্রতিটি শব্দে-বাক্যে অর্থবিভ্রাট ঘটাতে লাগল। তারা "আল্লাহর প্রতি বান্দার ভালোবাসা"র অর্থ দাঁড় করাল— (রবকে নয়) রবের ইবাদত ও নৈকট্য পছন্দ করা। হায় রে, কত বড় মূর্খতা! যার নৈকট্য কামনা করা হয়, আগে তাঁর প্রতি ভালোবাসা থাকলেই না তাঁর নৈকট্য কামনা করা হবে; তাঁর নৈকট্যের বাসনা তো তাঁর ভালোবাসার অনুগামী ও ফলাফল মাত্র。
'কারও প্রতি ভালোবাসা না থাকলে তার নৈকট্যের কামনা তো অসম্ভব; কারণ, নৈকট্য তো মাধ্যম শুধু; এখন, মূল ও উদ্দিষ্ট বিষয়ের ভালোবাসা ব্যতীত মাধ্যমের ভালোবাসা কী করে জন্ম নেবে মনে! তাই প্রিয় হওয়ার যোগ্য যেই সত্তা, তাকে বাদ দিয়ে তার কাছে পৌঁছানোর মাধ্যমটি শুধু প্রিয় হয়ে উঠতে পারে না; এটা অসম্ভব。
'এমনিভাবে, অনুসৃত ও ইবাদতযোগ্য সত্তার কথা উল্লেখ করে যখন বলা হয়, অমুক ব্যক্তি সেই সত্তার আনুগত্য ও ইবাদত করতে ভালোবাসে, তখন এর অর্থ দাঁড়াবে—লোকটি মূলত ওই সত্তাকেই ভালোবাসে, তাই তো তাঁর আনুগত্য ও ইবাদতকে ভালোবাসছে সে। কারণ, ওই সত্তাকে ভালো না বাসলে তাঁর ইবাদত ও আনুগত্যকে ভালোবাসার কোনো যুক্তি নেই। যেমন—যে ব্যক্তি নিজ স্বার্থের জন্য কোনো সত্তার সন্তুষ্টি লাভ কিংবা শান্তি থেকে বাঁচতে কাজ করে, সে কিন্তু ওই সত্তাকে ভালোবাসে না এবং তার ব্যাপারে এটা বলাও হবে না; সে বরং ওই সত্তার বিরোধী, বা পণের বিনিময়ে তার কাছ থেকে মুক্তিকামী। এ-ই হলো কোনো সত্তার ইবাদত-আনুগত্যকে ভালোবাসা, বা না-বাসার ব্যাখ্যা。
'আবার, ইবাদত শব্দটিতে নীচুতা ও অপদস্থতার অর্থ যেমন আছেন, তেমনই আছে মহব্বত ও ভালোবাসার অর্থও। এ কারণে অন্তরে মানুষের ভালোবাসার কয়েকটি স্তর আছে—
১. আলাকাহ, তথা প্রিয় সত্তা বা বস্তুর প্রতি মনের টান。
২. সবাবাহ, তথা প্রিয় ব্যক্তি বা বস্তুটির প্রতি অন্যরকম আসক্তি。
৩. গরাম, এটি হলো অভ্যাসে মিশে যাওয়া ভালোবাসা。
৪. ইশক, এটি হলো শেষ স্তর; এই স্তরে পৌঁছে প্রেমিক তার প্রেমাস্পদের দাস ও গোলামে পরিণত হয়। প্রেমিক যার দাস হয়, সে (তথা প্রেমাস্পদ) হয়ে যায় মাবুদ ও ইবাদতের আসনে সমাসীন সত্তা। তাই, যে আল্লাহর প্রেমে দাস হতে পারে, সে-ই হয় তাঁর (প্রকৃত) বান্দা। কারণ, যে প্রকৃত প্রেমিক, তার হৃদয়েই তো হরদম বাজতে থাকে প্রেমাস্পদের যিকির; প্রেমাস্পদের সব আদেশ-নিষেধের সামনে সে-ই তো মান-মর্যাদা ভুলে লুটিয়ে পড়ে দাসের মতো。
'এমনিভাবে, আল্লাহর প্রতি ইনাবত (ফিরে আসা) শব্দেও তো ভালোবাসা সুপ্ত আছে। এ-জাতীয় সব শব্দই এমন। তো, তাদের বলা কথাটাই যদি সঠিক হতো যে, যেহেতু সেখানে (আল্লাহকে মাহবুব ও প্রেমাস্পদ বলার বাক্যে) কিছুটা ব্যাকরণিক জটিলতা আছে, তাই অমন শব্দ-বাক্য রূপক, শাব্দিক অর্থ বোঝাবে না সেগুলো, তাহলে তো এই প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক যে, রূপক শব্দ-বাক্য তো তার রূপক অর্থের প্রতি ইঙ্গিতবাহী কিছু ব্যতীত ব্যবহৃত হয় না; অথচ ওইসব শব্দ-বাক্যের সঙ্গে রূপকতার অর্থবোধক কোনো কিছু নেই。
'এরপর শুনুন, কুরআন ও সুন্নাহর কোনো রকম দলিলেই এটা নেই যে, আল্লাহ তাআলা মাখলুকের প্রেমাস্পদ হতে পারবে না। বরং নেক আমলগুলোই প্রিয় হতে পারবে। বরং এমন কথা তো বিবেকও সমর্থন করে না। কারণ, রূপকের একটি আলামত হলো, সেটা না হওয়া বা না ঘটার কথা বলা যাবে। ফল স্বরূপ এটা বলা সহিহ হবে যে, আল্লাহ তাআলা কাউকে ভালোবাসেন না এবং তাঁকে ভালোবাসাও যায় না。
'এই কথাটাই কিন্তু তাদের ইমাম জা'দ ইবনু দিরহাম বলতে চেয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা নবী ইবরাহিমকে বন্ধু বানাননি এবং নবী মূসাকে (আলাইহিমাস সালাম) কালিমরূপে (কথার সঙ্গী) গ্রহণ করেননি। অথচ এমন কথা পুরো উম্মাহর ইজমার (ঐকমত্যের) খেলাফ। ইজমার মাধ্যমে আমরা তাহলে এ-ও বুঝতে পারলাম-আল্লাহ তাআলা যে মাখলুকের প্রেমাস্পদ হতে পারেন এটি রূপক নয়; বাস্তব। প্রকৃত অর্থেই তিনি মাখলুকের প্রেমাষ্পদ হতে পারেন。
'আর আল্লাহ তাআলাই তো তাঁর ভালোবাসা এবং তাঁর সন্তুষ্টির জন্য কৃত আমলের ভালোবাসা-দুটির মধ্যে পার্থক্য করে দিয়েছেন। বলেছেন-
قُلْ إِن كَانَ ءَابَاؤُكُمْ وَأَبْنَاؤُكُمْ وَإِخْوَنُكُمْ وَأَزْوَجُكُمْ وَعَشِيرَتُكُمْ وَأَمْوَلٌ اقْتَرَفْتُمُوهَا وَتِجْرَةٌ تَخْشَوْنَ كَسَادَهَا وَمَسْكِنُ تَرْضَوْنَهَا أَحَبَّ إِلَيْكُم مِّنَ : اللَّهِ وَرَسُولِهِ ، وَجِهَادٍ فِي سَبِيلِهِ -
"বলুন! তোমাদের পিতা, তোমাদের সন্তান, তোমাদের ভাই, তোমাদের পত্নী, তোমাদের গোত্র, তোমাদের অর্জিত ধন-সম্পদ, তোমাদের ব্যবসা-যা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় করো; এবং তোমাদের বাসস্থান-যাকে তোমরা পছন্দ করো; এসব যদি তোমাদের নিকট আল্লাহ, তাঁর রাসূল ও তাঁর পথে জিহাদের চেয়ে প্রিয় হয়, তবে অপেক্ষা করো, আল্লাহর বিধান আসা পর্যন্ত..." [১]
'এখানে কিন্তু আল্লাহর ভালোবাসা, তাঁর রাসূলের ভালোবাসা এবং আল্লাহর পথে জিহাদের (তথা একটি নেক আমলের) ভালোবাসার কথা আলাদা আলাদা বলা হয়েছে। তিনটি ভালোবাসার মধ্যে পার্থক্য করা হয়েছে। এখন, যদি আল্লাহর ভালোবাসা দ্বারা আমলের ভালোবাসা উদ্দেশ্য হতো, তাহলে তো এখানে আলাদাভাবে আমলের (তথা জিহাদের) কথা উল্লেখ করাটা পুনরুক্তি হতো এবং নির্দিষ্টকে (তথা জিহাদকে) সাধারণের (তথা যেকোনো নেক আমল, তাদের কথানুযায়ী যা উদ্দিষ্ট হয়েছে 'আল্লাহ' শব্দ দ্বারা) দিকে ফেরানো আবশ্যক হতো। বিশেষ উদ্দেশ্যের বিবৃতি ব্যতীত এমনটা করা ব্যাকরণসম্মত নয়; তাছাড়া, এখানে তো আলাদা কোনো উদ্দেশ্যই বয়ান করা হয়নি。
'যদিও আল্লাহর ভালোবাসার আবশ্যিক অনুগামীরূপে রাসূল ও আমলের ভালোবাসা এসে যায়, তবু শুধু রাসূলের ভালোবাসা বা শুধু আমলের ভালোবাসা দিয়ে আল্লাহর ভালোবাসাকে ব্যাখ্যা করা জায়েজ নয়。
'মোটকথা, কারও সত্তাকে বাদ দিয়ে শুধু তার আদেশ-নিষেধের ভালোবাসা এমন একটা ব্যাপার, ভাষার অঙ্গনে রূপক হিসেবে বা বাস্তবাকারে-কোনোভাবেই যার অস্তিত্ব নেই। তাই, শরিয়তের সেসব ভাষ্যকে ওই লোকদের কথামতো ব্যবহার করাটা কেবলই বিকৃতি ও ভ্রষ্টতা।'
আমি বললাম, 'শাইখ, এখানে একটি বিষয় জানার ছিল। কোনো ব্যক্তি কি তার সত্তাগত কারণেই কোনো মুসলিমের প্রিয়তমে পরিণত হতে পারে?'
শাইख বললেন, 'না, আল্লাহ ব্যতীত আর কেউই একজন মুসলিমের মৌলিক ভালোবাসার পাত্র বা উদ্দিষ্ট সত্তা হতে পারে না। যেমন-আল্লাহ ব্যতীত সত্তাগতভাবে কারোরই অস্তিত্ব নেই, বরং তিনিই একমাত্র রব ও ইলাহ; আর ইলাহ যিনি, একমাত্র তিনিই সত্তাগতভাবে পূর্ণ সম্মান ও ভালোবাসার পাত্র হতে পারেন。
'দেখুন, প্রতিটি নবজাতক আল্লাহর দেওয়া প্রকৃতি নিয়ে জন্ম লাভ করে; আল্লাহ তাআলা নবজাতকের হৃদয় এমন প্রকৃতিতে সৃষ্টি করেন, যেখানে প্রশান্তির মাধ্যমরূপে কেবল তাঁরই ভালোবাসার মিষ্টি হাওয়া বয়। এ কারণে প্রিয়তম রব তাঁর বান্দার জন্য যেই খাবার, যেই পোষাক, যেই দৃশ্য পছন্দ করেন এবং যেই বস্তু সে স্পর্শ করুক বলে কামনা করেন, তা বুঝতে পারে বান্দার মন; যদিও সেই মন কখনো অন্য কাউকে তালাশ করে বা অন্য কাউকে ভালোবাসতে চায়, কিবা অন্য কাউকে ইলাহ ডেকে তার কাছে ভিক্ষা করে সুখ পেতে চায়। তাই কুরআনে আল্লাহ বলেছেন
أَلَا بِذِكْرِ اللَّهِ تَطْمَئِنُّ الْقُلُوبُ
"শোনো, আল্লাহর স্মরণেই হৃদয় প্রশান্ত হয়।” [১]
'সহিহ হাদিসে ইয়ায ইবনু হিমার রাদিয়াল্লাহু আনহু'র সূত্রে নবীজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত, আল্লাহ তাআলা বলেন—
إِنِّي خَلَقْتُ عِبَادِي حُنَفَاءَ كُلَّهُمْ ، وَإِنَّهُمْ أَتَتْهُمُ الشَّيَاطِينُ فَاجْتَالَتْهُمْ عَنْ دِينِهِمْ ، وَحَرَّمَتْ عَلَيْهِمْ مَا أَحْلَّلْتُ لَهُمْ ، وَأَمَرْتُهُمْ أَن يُشْرِكُوْا بِيْ مَا لَمْ أُنْزِلْ بِهِ سُلْطَانًا
“নিশ্চয় আমি আমার সকল বান্দাকে সৃষ্টি করেছি শিরক মুক্ত-একনিষ্ঠ, অতঃপর তাদের নিকট শয়তান এসে তাদেরকে তাদের দ্বীন থেকে বিচ্যুত করেছে। তাদের ওপর শয়তানরা হারাম করেছে যা আমি তাদের জন্য হালাল করেছি। তারা তাদেরকে নির্দেশ করেছে যেন আমার সাথে শরিক করে, যার স্বপক্ষে আমি কোনো দলিল নাজিল করিনি।” [২]
বুখারি ও মুসলিমে এসেছে—
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، أَنَّهُ كَانَ يَقُوْلُ قَالَ رَسُوْلُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ “ مَا مِنْ مَوْلُوْدٍ إِلَّا يُوْلَدُ عَلَى الْفِطْرَةِ فَأَبَوَاهُ يُهَوِّدَانِهِ وَيُنَصِرَانِهِ وَيُمَحِّسَانِهِ كَمَا تُنْتَجُ الْبَهِيمَةُ بَهِيمَةً جَمْعَاءَ هَلْ تُحْسِوْنَ فِيهَا مِنْ جَدْعَاءَ " . ثُمَّ يَقُوْلُ أَبُوْ هُرَيْرَةَ وَاقْرَءُوا إِنْ شِئْتُمْ { فِطْرَتَ اللَّهِ الَّتِي فَطَرَ النَّاسَ عَلَيْهَا لَا تَبْدِيلَ لِخَلْقِ اللَّهِ } الآية .
আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু'র সূত্রে বর্ণিত: তিনি বলেন, “রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, 'প্রতিটি নবজাতক স্বভাবজাত ইসলাম নিয়ে জন্মলাভ করে। অতঃপর তার বাবা-মা তাকে ইহুদি বানিয়ে দেয়, খ্রিষ্টান বানিয়ে দেয় এবং আগুনপূজারি বানিয়ে দেয়; যেমন চতুষ্পদ প্রাণী পূর্ণাঙ্গ চতুষ্পদ বাচ্চা জন্ম দেয়; তোমরা কি তাতে কোনো অঙ্গ-কর্তিত বাচ্চা উপলব্ধি করছ?"" তারপর আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, “ইচ্ছা করলে তোমরা এ আয়াতটি পাঠ করতে পারো 'আল্লাহর (দেওয়া) ফিতরাত (প্রকৃতি), যার উপর তিনি মানুষ সৃষ্টি করেছেন। আল্লাহর সৃষ্টির কোনো পরিবর্তন নেই।”[১]
'প্রশংসনীয় যেসব গুণের ভালোবাসা দিয়ে হৃদয় সৃষ্টি করা হয়েছে, সেগুলোর অপার আধার হিসেবে আল্লাহ তাআলাই সবচেয়ে বেশি ও পরিপূর্ণ ভালোবাসার হকদার; এমনকি, সেই গুণগুলো অন্য যাদের মধ্যেই আছে সবার মধ্যে আল্লাহর তরফ থেকেই তো দেওয়া হয়েছে; তাই, তিনিই বাস্তব ও পূর্ণাঙ্গরূপে ভালোবাসার হকদার। আর, রবের প্রতি বান্দার ভালোবাসাকে অস্বীকার করাটা মূলত তাঁকে ইলাহ ও মাবুদ বলে মানতে না চাওয়ার নামান্তর; যেমনিভাবে, বান্দার প্রতি তাঁর ভালোবাসাকে অস্বীকারের ফল দাঁড়ায় তাঁর ইচ্ছা-শক্তি না থাকা, যার ফলে তাঁর রব ও খালিক হওয়াকে অস্বীকার করা আবশ্যক হয়। আল্লাহর ভালোবাসাকে অস্বীকারের ফল দাঁড়াচ্ছে, তাঁকে জগতসমূহের রব ও ইলাহরূপেই মানতে না চাওয়া। কিন্তু এমন কথা তো নাস্তিক ও স্রষ্টার অক্ষমতার মতাবলম্বী লোকেরা ছাড়া আর কেউ বলে না。
'এজন্যই আমাদের পূর্ববর্তী নবী মূসা ও ঈসা আলাইহিমাস সালামের উম্মতেরা তাদের নবীগণের সবচেয়ে বড় অসিয়তরূপে একটি কথায় একমত ছিল, যে, “তুমি সর্বোতভাবে; হৃদয় ও বিবেকের সমস্তটা দিয়ে শুধু আল্লাহকে ভালোবাসো।” এটাই মিল্লাতে ইবরাহিমের সরল ও মৌলিক তাৎপর্য। যেই মিল্লাতে ইবরাহিম হলো তাওরাত, ইনজিল ও কুরআনের শরিয়ার মূল。
'আর, এর বিরোধী মতটি নেওয়া হয়েছে ইবরাহিম আলাইহিস সালামের শত্রু তারকাপূজারি ও তাদের অনুসারী ভ্রান্ত দার্শনিক ও মুতাকাল্লিমদের বক্তব্য থেকে; কিংবা এমন কোনো 'নামধারী ফকিহের' বক্তব্য থেকে, যে সেটা উল্লিখিত লোকদের থেকে নিয়েছে। এই মতবাদ পরবর্তীতে ইসমাইলি শিয়াদের অন্তর্ভুক্ত কারামিতা বাতিনিদের মধ্যে ছড়িয়েছে。
'এ কারণেই সরল পথের পথিকদের আদর্শপুরুষ নবি ইবরাহিম খলিল আলাইহিস সালাম বলেছেন—
قَالَ أَفَرَأَيْتُم مَّا كُنتُمْ تَعْبُدُونَ أَنتُمْ وَآبَاؤُكُمُ الْأَقْدَمُونَ فَإِنَّهُمْ عَدُوٌّ لِي إِلَّا رَبَّ الْعَالَمِينَ
"তোমরা কি তাদের সম্পর্কে ভেবে দেখেছ, যাদের পূজা করে আসছ। তোমরা এবং তোমাদের পূর্ববর্তী পিতৃপুরুষেরা? বিশ্বপালনকর্তা ব্যতীত তারা সবাই আমার শত্রু।" [১]
'অন্যত্র বলেছেন-
قَالَ لَا أُحِبُّ الْعَافِلِينَ
| “আমি অস্তগামীদেরকে ভালোবাসি না।””[২]
'আল্লাহ তাআলা বলেন-
يَوْمَ لَا يَنفَعُ مَالٌ وَلَا بَنُونَ إِلَّا مَنْ أَتَى اللَّهَ بِقَلْبٍ سَلِيمٍ
"সে-দিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো উপকারে আসবে না; কিন্তু যে সুস্থ অন্তর নিয়ে আল্লাহর কাছে আসবে (সে বেঁচে যাবে)।”[৩]
'এখানে সুস্থ বলতে বুঝানো হয়েছে শিরক থেকে যা সুস্থ ও নিরাপদ।'
টিকাঃ
[১] আল আ'লাম, ২/১২০
[১] মুসলিম, হাদিস-ক্রম: ২৩৮৩
[২] মুসলিম, হাদিস-ক্রম: ২৩৮৩
[৩] জুনদুব রাদিয়াল্লাহু আনহুর সূত্রে হাকেম ২/৫৫৫ বলেছেন: হাদিসটি বুখারি-মুসলিমের শর্তানুযায়ী সহিহ。
[৪] মুসনাদু আহমাদ ৫/২৪৫ ও ২৪৭; আবু দাউদ, হাদিস-ক্রম: ১৫২২; নাসায়ি ৩/৫৩; ইবনু হিব্বান এটিকে সহিহ বলেছেন: মাওয়ারিদ ২৩৪৫
[১] বুখারি, হাদিস-ক্রম: ৩৬৬২; মুসলিম, হাদিস-ক্রম: ৬০৭১
[২] মুসনাদু আবু ইয়া'লা ও বাযযারে আছে এটি (কাশফ ২৬৬১) মুজালিদ ইবনু সায়িদের সূত্রে; আর, এই মুজালিদ হলো দুর্বল。
[৩] বুখারি, হাদিস-ক্রম: ৩৭৪৯; মুসলিম, হাদিস-ক্রম: ৬১৫০
[১১] মুসলিম, হাদিস-ক্রম: ২৩৮২
[১] সূরা বাকারা, আয়াত-ক্রম: ১১৭
[১] সূরা তাওবা, আয়াত-ক্রম: ২৪
[১] সূরা রা'দ; আয়াত-ক্রম: ২৮
[২] মুসলিম, হাদিস-ক্রম: ২৮৬৫
[১] বুখারি, হাদিস-ক্রম: ১৩৮৫ ও ১৩৫৮; মুসলিম, হাদিস-ক্রম: ২৬৫৮
[১] সূরা শুআরা, আয়াত-ক্রম: ৭৫-৭৭
[২] সূরা আনআম, আয়াত-ক্রম: ৭৬
[৩] সূরা শুআরা, আয়াত-ক্রম: ৮৮-৮৯