📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর নামায > 📄 তাকবীর

📄 তাকবীর


রসূলুল্লাহ (সঃ) আল্লাহু আকবার বলে নামায শুরু করতেন।৫৫ তিনি ভুল নামায আদায়কারী ব্যক্তিকেও অনুরূপ করার আদেশ দিয়েছিলেন। তিনি তাকে বলেছেন, 'কোনো ব্যক্তির নামায ওযু শেষে 'আল্লাহু আকবার' বলে শুরু না করলে তা সম্পন্ন হয় না' (সহীহ সনদ সহকারে তাবারানী এ হাদীস বর্ণনা করেছেন।)
রসূলুল্লাহ (সঃ) আরো বলেছেন, নামাযের চাবি হচ্ছে পবিত্রতা অর্জন। তাকবীর দ্বারা নামাযের বাইরের বৈধ কাজগুলোকে নামাযে হারাম করা হয় এবং সালাম ফিরানোর মাধ্যমে নামাযের বাইরের বৈধ কাজগুলোকে হালাল করা হয়। (আবু দাউদ, তিরমিযী, হাকেম, আল্লামা যাহাবী এ হাদীসকে বিশুদ্ধ বলেছেন)
তিনি তাকবীর বড়ো করে উচ্চারণ করতেন, পেছনের লোকেরাও তা শুনতে পেত। (আহমদ, হাকেম এবং আল্লামা যাহাবী এ হাদীসকে সহীহ বলেছেন)
তিনি যখন অসুস্থ অবস্থায় নামায পড়ান, তখন আবু বকর (রাঃ) তাঁর তাকবীরের শব্দ বড়ো করে লোকদেরকে শুনান। (মুসলিম ও নাসাঈ)
রসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, ইমাম যখন আল্লাহু আকবার বলেন, তখন তোমরাও আল্লাহু আকবার বল। ৫৬

টিকাঃ
৫৫. মুসলিম, ইবনে মাজাহ। নিয়্যত করার জন্যে তিনি কখনও نَوَيْتُ أَنْ أُصَلِّي ইত্যাদি বলতেন না। বরং তা সর্বসম্মতভাবে বেদআত। শুধু এতটুকু মতভেদ যে, তা বেদআতে হাসানাহ, না সাইয়ে‍্যআহ। আমরা বলবো, ইবাদতের মধ্যে সকল বেদআত গোমরাহী। হাদীস তাই বলে।
৫৬. আহমদ। বায়হাকী সহীহ সনদ সহকারে বর্ণনা করেছেন।

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর নামায > 📄 দুই হাত তোলা

📄 দুই হাত তোলা


রসূলুল্লাহ (সঃ) কখনও তাকবীর তাহরীমার সময়, ৫৭ কখনও তাকবীরের পরে ৫৮ এবং কখনও তাকবীরের আগে দুই হাত তুলতেন। ৫৯
তিনি আঙ্গুল লম্বা করে হাত তুলতেন, তা বেশি ফাঁক করতেন না এবং মিলিয়েও রাখতেন না। ৬০
তিনি দুইহাত কাঁধ পর্যন্ত তুলতেন। ৬১
মাঝে-মধ্যে কানের লতি পর্যন্ত হাত তুলতেন। ৬২

টিকাঃ
৫৭. বোখারী, নাসাঈ।
৫৮. ঐ।
৫৯. বোখারী, আবু দাউদ।
৬০. আবু দাউদ, ইবনু খোযায়মাহ, হাকেম, তাম্মাম।
৬১. বোখারী, নাসাঈ।
৬২. বোখারী আবু, দাউদ।

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর নামায > 📄 বাম হাতের ওপর ডান হাত রাখা

📄 বাম হাতের ওপর ডান হাত রাখা


রসূলুল্লাহ (সঃ) বাম হাতের উপর ডান হাত রাখতেন৬৩ এবং বলতেন, আমাদের নবীগণকে ইফতার দ্রুত করা, সেহরী বিলম্বে খাওয়া এবং নামাযে বাম হাতের উপর ডান হাত রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ৬৪
একবার তিনি এক নামায পড়া ব্যক্তির পাশে দিয়ে যাওয়ার সময় দেখেন যে, সে ডান হাতের উপর বাম হাত রেখেছে। তিনি তার হাত পৃথক করে দিয়ে তার ডান হাতকে বাম হাতের উপর রেখে দেন। ৬৫

টিকাঃ
৬৩. মুসলিম, আবু দাউদ。
৬৪. ইবনু হিব্বান, আযয্যিয়া সহীহ সনদ সহকারে তা বর্ণনা করেছেন।
৬৫. আহমদ, আবু দাউদ বিশুদ্ধ সনদ সহকারে।

📘 রাসূলুল্লাহ সাঃ এর নামায > 📄 বুকে হাত রাখা

📄 বুকে হাত রাখা


তিনি বাম হাতের পিঠ ও কব্যার উপর ডান হাত রাখতেন ৬৬ এবং এরূপ করার জন্য সাহাবায়ে কেরামকে আদেশ দেন। ৬৭
কখনও তিনি বাম হাতকে ডান হাত দিয়ে আঁকড়ে ধরতেন। (নাসাঈ ও দার কুতনী-সনদ সহীহ।) হাদীস থেকে বুঝা যায় হাতের উপর হাত রাখা কিংবা আঁকড়ে ধরা উয়ভটিই সুন্নত। তবে হানাফী মাযহাবের কিছু লোক দু'টো বিষয়কে এক সাথে করা উত্তম বলেছেন। কিন্তু এটা বেদআত। তারা বলেছেন, বাম হাতের উপর ডান হাত রেখে ডান হাতের কনিষ্ঠ ও বৃদ্ধাঙ্গুলি দিয়ে বাম হাতের কব্জি আঁকড়ে ধরতে হবে এবং অবশিষ্ট তিন আঙ্গুল বিছিয়ে দিতে হবে। ৬৮
রসূলুল্লাহ (সঃ) দু'হাত বুকের উপর রেখে নামায পড়তেন। ৬৯
তিনি কোমরের উপর হাত রেখে নামায পড়তে নিষেধ করেছেন। ৭০
কোমর বলতে কোমরের হাড় বুঝানো হয়েছে। এর উপর হাত রাখতে রসূলুল্লাহ (সঃ) নিষেধ করেছেন। ৭১

টিকাঃ
৬৬. আবু দাউদ, নাসাঈ, ইবনু খোযায়মাহ বিশুদ্ধ সনদ সহকারে, ইবনু হিব্বانও একে সহীহ বলেছেন।
৬৭. মালেক, বোখারী, আবু আওয়ানা।
৬৮. হাশিয়া ইবনু আবেদীন-রদ্দুল মোহতার।
৬৯. আবু দাউদ, ইবনু খোযায়মাহ, আহমদ। তারীখে ইসপাহান-আবুশ শেখ, পৃঃ ১২৫। তিরমিযী এর একটি সনদকে উত্তম বলেছেন। একই অর্থে মোআত্তা ও বোখারীতে হাদীসটি বর্ণিত হয়েছে। বুকের উপর হাত রাখাই সুন্নত হিসেবে হাদীসে বর্ণিত আছে। এর বিপরীত বর্ণনা হয় দুর্বল, না হয় ভিত্তিহীন। ইমাম ইসহাক বিন রাহওয়াহ এই সুন্নতের উপর আমল করেছেন।
৭০. বোখারী, মুসলিম।
৭১. আবু দাউদ, নাসাঈ প্রভৃতি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00