📄 অনুবাদকের কথা
মহানবী মোহাম্মদ (সঃ) বলেছেন, 'তোমরা আমাকে যেভাবে নামায পড়তে দেখ, সেভাবে নামায আদায় কর।' - (বোখারী, আহমদ)
নামায ইসলাম ও কুফরীর মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টিকারী এবং বেহেশতের চাবি ও মোমেনের উন্নতির সোপান। এক সর্বশ্রেষ্ঠ স্থান ও সময়ে তা ফরয করা হয়েছে। আল্লাহ মে'রাজের পবিত্র রাত্রে নিজ আরশে পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের ভেতর পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাযের সওয়াব উপহার ঘোষণা করেছেন।
ফেরেশতা-শ্রেষ্ঠ জিবরীল (আঃ) রসূলুল্লাহ (সঃ)-কে নামাযের সর্বশ্রেষ্ঠ পদ্ধতি শিক্ষা দিয়েছেন। তাই রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নামায পদ্ধতি জানার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
صِفَةٌ صَلَاةِ النَّبِيِّ (ص) مِنَ التَّكْبِيرِ إِلَى التَّسْلِيمِ كَأَنَّكَ এ-বইটিতে রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নামায পদ্ধতি সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন।
বইটি আরব বিশ্বের ওলামায়ে কেরামসহ সাধারণ মুসলমানদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। ইতিপূর্বে শতাব্দী প্রকাশনী থেকে বইটির দু'টো সংস্করণ প্রকাশিত হয়েছে। যা আমরা বর্তমানে রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নামায ১ম ভাগ নাম দিয়েছি।
রসূলুল্লাহ (সাঃ) কিভাবে নামায পড়েছেন তা জানার পর সহীহ হাদীসের আলোকে নামাযের ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলোও আলোচনার দাবী রাখে। অনুরূপভাবে অযু-গোসলের ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলোও আলোচনা হওয়া দরকার। তাই এ বিষয়ের উপর আলোচনা সম্বলিত দ্বিতীয় ভাগ মূল বইয়ের সাথে সংযোজন করা হলো। দ্বিতীয় ভাগের মুখবন্ধ পাঠ করলে পাঠক বিষয়টি সুন্দরভাবে উপলব্ধি করতে পারবেন। আল্লাহ বইটির মাধ্যমে বাংলাভাষী মুসলমানদেরকেও উপকৃত করুন। আমীন!
এ. এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
বাংলা বিভাগ, রেডিও জেদ্দা
সৌদী আরব। ১৭/১২/১৯৯৫ ইং
📄 লেখক পরিচিতি
নাসেরুদ্দীন আলবানী (রঃ) বর্তমান যুগের সর্বশ্রেষ্ঠ মোহাদ্দেস বা হাদীস বিশারদ। আরব ও মুসলিম বিশ্বে তিনি হাদীস শাস্ত্রের ইমাম ও রেফারেন্স ব্যক্তি হিসেবে গণ্য। বিশ্বে হাদীস গ্রন্থের সংখ্যা অসংখ্য। তিনি বিভিন্ন হাদীস গ্রন্থ থেকে বিশুদ্ধ হাদীসগুলোকে দুর্বল ও জাল হাদীস পৃথক করেছেন। তিনি সহীহ হাদীসগুলোকে سِلْسِلَةُ الْأَحَادِيثِ الصَّحِيحَةُ এবং দুর্বল হাদীসগুলোকে سِلْسِلَةُ الْأَحَادِيثِ الضَّعِيفَةُ নামক দু'টো পৃথক সংকলনে প্রকাশ করেছেন। এজন্য তাঁকে 'বাদশাহ ফয়সল' আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। আরব বিশ্বের ওলামায়ে কেরام কোন হাদীসকে গ্রহণ ও বর্জনের জন্য আলবানীর মতামতকে মাপকাঠি হিসেবে গ্রহণ করে থাকেন।
তিনি সহীহ হাদীসসমূহের আলোকে রসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নামায পদ্ধতি তুলে ধরার তীব্র প্রয়োজন অনুভব করেন। আর এটা তাঁর মত একজন অনন্য সাধারণ ও প্রথিতযশা পণ্ডিতের পক্ষেই সম্ভব। এ বিষয়ের উপর তিনি ছাড়া আর কোন আলেম এককভাবে কোন বই রচনা করেননি। তিনি এবইটিতে হাদীস গ্রহণের প্রতি চার মাজহাবের অনুকূল দৃষ্টিভী তুলে ধরার লক্ষ্যে এক মহামূল্যবান ভূমিকা লেখায় বইটি পরশ পাথরের মূল্যকেও ছাড়িয়ে গেছে। এ অনন্য ভূমিকাটি বইটিকে অসাধারণ ও বিশ্বজনীন করেছেন এবং সকল মত ও মাজহাবের লোকের নিকট সমানভাবে সমাদৃত করেছে।
লেখকের পিতার নাম নূহ আলবানী। তিনি ১৩৩৩ হিঃ সালে আলবেনিয়ার প্রাচীন রাজধানী আশকুদারার এক গরীব পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। আলবেনিয়ার বাদশাহ আহমদ যোগো দেশে ধর্ম-নিরপেক্ষ শাসনব্যবস্থা চালু করার কারণে পিতা নূহ নিজের ঈমান ও জান-মালের নিরাপত্তাহীনতার আশংকায় সিরিয়ার উদ্দেশ্যে হিজরত করে দামেশক পৌঁছেন।
নাসেরুদ্দীন আলবানী প্রথমে পিতার কাছে আরবী ভাষা ও কোরআনসহ হানাফী মাজহাবের ফেকাহ শাস্ত্র অধ্যয়ন করেন। পরে তিনি কোরআন-হাদীস, ফিকহ-আকীদাসহ ইসলামী এলেমে ব্যুৎপুত্তি অর্জন করেন। এরপর এলেম ও দ্বীনের দাওয়াতী কাজে মনোনিবেশ করেন। দ্বীনের দাওয়াত ও সংগ্রামে তাঁকে দু'বার কারাবরণ করতে হয়েছে। তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা ১২-এর অধিক।
তিনি ১৩৮১ - ১৩৮৩ হিঃ পর্যন্ত মদীনার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে মোহাদ্দেস হিসেবে হাদীস শিক্ষা দেন এবং ১৩৯৮ হিঃ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ পরিষদের সদস্য ছিলেন। তিনি দামেস্ক এবং পরে জর্দানে বাস করেন। ১৯৯৯ সন মোতাবেক, ১৪২১ হিজরীতে তিনি ইন্তেকাল করেন। আল্লাহ্ তাঁকে তাঁর এ বিশাল দ্বীনি খেদমতের জন্য জান্নাত নসীব করুন। আমীন।
টিকাঃ
** এছাড়াও তিনি নাসাঈ, ইবনে মাজাহ, তিরমিজী এবং আবু দাউদের সহীহ ও দুর্বল হাদীসগুলোর পৃথক পৃথক সংকলন করেন।
📄 গ্রন্থপঞ্জী
ক. আল কোরআন
১. আল কোরআনুল করীম
খ. আত তাফসীর
২. ইবনে কাসীর (৭০১-৭৭৪) : তাফসীরুল কোরআনিল আযীম
গ. সুন্নাহ
৩. মালেক ইবনে আনাস (৯৩-১৭৯ হিঃ) : আল মুয়াত্তা
৪. আবদুল্লাহ ইবনুল মুবারক (১১৮ - ১৮১ হিঃ) : আযযোহদ
৫. মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আশশায়বানী (১৩১-১৮৯ হিঃ) : আল মুয়াত্তা
৬. আত্মায়ালিসী (১২৪-২০৪ হিঃ) : আল মুসনাদ
৭. আবদুর রায্যাক ইবনে হুমাম (১২৬-২১১ হিঃ) : আল আমালী
৮. আবদুল্লাহ ইবনুয যুবাইর আল হুমায়দী ( ... -২১৯ হিঃ) : আল মুসনাদ
৯. মুহাম্মদ ইবনে সাআদ (১৬৮-২৩০ হিঃ) : আত্তাবাকাতুল কুবরা
১০. ইয়াহইয়া ইবনে মুঈন ( ... - ২৩৩ হিঃ) : তারীখুর রিজাল ওয়াল ইলাল
১১. আহমাদ ইবনে হাম্বল (১৬৪-২৪১ হিঃ) : আল মুসনাদ
১২. ইবনে আবী শায়বা আবদুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ আবু বাকর ( ... - ২৩৫ হিঃ) : আল মুসান্নাফ
১৩. আদদারেমী (১৮১-২৫৫ হিঃ) : আস সুনান
১৪. আল বোখারী (১৯৪-২৫৬ হিঃ): আল জামেউস সহীহ
১৫. আল বোখারী (১৯৪-২৫৬ হিঃ): আল আদাবুল মুফরাদ
১৬. আল বোখারী (১৯৪-২৫৬ হিঃ): খালকু আফআলুলুল ইবাদ
১৭. আল বোখারী (১৯৪-২৫৬ হিঃ): আত্তারীখুস সগীর
১৮. আল বোখারী (১৯৪-২৫৬ হিঃ): জুযউল কেরাআত
১৯. আবু দাউদ (২০২-২৭৫ হিঃ): আস সুনান
২০. মুসলিম (২০৪-২৬১ হিঃ): আস সহীh
২১. ইবনে মাজা (২০৯-২৭৯ হিঃ): আস সুনান
২২. আতিরমিযী (২০৯-২৭৯ হিঃ): আস সুনান
২৩. আতিরমিযী (২০৯-২৭৯ হিঃ): আশ শামায়েল
২৪. আল হারেছ ইবনে আবী উসামা (১৭৬-২৮২ হিঃ): আল মুসনাদ
২৫. আবু ইসহাক আল হারাবী ইবরাহীম ইবনে ইসহাক (১৯৮-২৮৫ হিঃ) : গারীবুল হাদীস।
২৬. আলবাযযার আবু বাকর আহমদ ইবনে আমর আল বসরী (...-২৯২ হিঃ) : আল মুসনাদ।
২৭. মুহাম্মদ বিন নাসর (২০২-২৯৪ হিঃ): কিয়ামুল লাইল
২৮. ইবনে খোযায়মা (২২৩-৩১১ হিঃ): আস্সহীহ
২৯. আননাসায়ী (২২৫-৩০৩ হিঃ): আসসুনানন
৩০. আননাসায়ী (২২৫ - ৩০৩ হিঃ): আসসুনানুল কুবরা।
৩১. আল কাসেমুল সারকাসতী (২৫৫-৩০২ হিঃ): গারীবুল হাদীস
৩২. ইবনুল জারূদ (... ৩০৭ হিঃ): আল মুনতাকা
৩৩. আবু ইয়ালী আল মুসেলী (... ৩০৭ হিঃ): আল মুসনাদ
৩৪. আররুয়ানী মুহাম্মদ ইবনে হারূন (...- ৩০৭ হিঃ): আল মুসনাদ
৩৫. আসসেরাজ আবুল আব্বাস মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক (২১৬-৩১৩ হিঃ) : আল মুসনাদ
৩৬. আবূ আওয়ানা (...- ৩১৬ হিঃ): আসসহীহ
৩৭. ইবনে আবু দাউদ আব্দুল্লাহ ইবনে সুলায়মান (২৩০-৩১৬ হিঃ) : আল মাসাহিফ
৩৮. আতাহাবী (২৩৯-৩২১ হিঃ): শরহে মাআনি আল-আছার
৩৯. আতাহাবী (২৩৯-৩২১ হিঃ): মুশকিলুল আছার'
৪০. মুহাম্মদ ইবনে আমর আল ওকাইলী (... ৩২২ হিঃ): আদ-দোয়াফা
৪১. ইবনে আবী হাতিম (২৪০-৩২৭ হিঃ): ইলালুল হাদীস
৪২. ইবনে আবী হাতিম (২৪০ - ৩২৭ হিঃ): আলজারহু ওয়াত তাদীল।
৪৩. আবু জা'ফর আল বাখতারী মুহাম্মাদ বিন আমর আররাযায (... -৩২৯ হিঃ) : আল আমালী
৪৪. আবু সাঈদ ইবনুল আবী আহমাদ বিন যিয়াদ (২৪৬-৩৪০ হিঃ) : আল মু'জাম
৪৫. ইবনুস সামাক উছমান ইবনে আহমাদ (... ৩৪৪ হিঃ): হাদীসাহ
৪৬. আবুল আব্বাস আল আসেম মুহাম্মদ বিন ইয়াকুব (২৪৭-৩৪৬ হিঃ) হাদীসুহু
৪৭. ইবনে হিববান (... ৩৫৪ হিঃ): আসসহীহ
৪৮. আতাবারানী (২৬০-৩৬০ হিঃ): আল মু'জামুস সগীর
৪৯. আতাবারানী (২৬০-৩৬০ হিঃ) ঃ আল মু'জামুল কাবীর
৫০. আতাবারানী (২৬০-৩৬০ হিঃ): আল মু'জাম আল-আওসাত
৫১. আবু বাকর আল আজরী (...- ৩৬০ হিঃ) ঃআল আরবায়ীন
৫২. আবু বাকর আল আজরী (..- ৩৬০ হিঃ): আদাবু হামালাতিল কুরআন
৫৩. ইবনুস সুন্নী (... ৩৬৪ হিঃ): আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলে
৫৪. আবুশ শায়খ ইবনে হাইয়ান (২৭৪-৩৬৯ হিঃ) তাবাকাতুল আসবাহানীন
৫৫. আবুশ শায়খ ইবনে হাইয়ান (২৭৪-৩৬৯ হিঃ) : মারাওয়াহু আবুয যোবায়র আন গাইরি যাবির
৫৬. আবুশ শায়খ ইবনে হাইয়ান (২৭৪-৩৬৯ হিঃ) আখলাকুন্নবী (সঃ)
৫৭. আদদারা কুতনী (৩০৬-৩৮৫ হিঃ): আস সুনান
৫৮. আল খাত্তাবী (৩১৭-৩৮৮ হিঃ): মাআলিমু আস্ সুনান।
৫৯. আলমুখলিস (৩০৫-৩৯৩ হিঃ): আল ফাওয়ায়িদ
৬০. ইবনে মানদাহ আবু আবুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসহাক (৩১৬-৩৯৫ হিঃ): আততাওহীদ ওয়া মা'রিফাতু আসমায়িল্লাহি তাআলা
৬১. আল হাকিম (৩২০-৩০৫ হিঃ): আল মুসতাদরাক
৬২. তাম্মামুর রাযী (৩৩০ ৪১৪ হিঃ) আল ফাওয়ায়িদ
৬৩. আসসাহমী হামযাতু ইবনে ইউসুফ আলজুরজানী (.... ৪২৭ হিঃ) : তারীখু জুরজান
৬৪. আবু নোআইম (৩৩৬-৪৩০ হিঃ): আখবারু ইসবাহান
৬৫. ইবনে বুশরান (৩৩৯-৪৩০ হিঃ): আল আমালী
৬৬. আল বায়হাকী (৩৮৪-৪৫৮ হিঃ): আস সুনানুল কুবরা
৬৭. আল বায়হাকী (৩৮৪ ৪৫৮ হিঃ) দালায়িলুন নুবুয়াহ
৬৮. ইবনে আবদুল বারর (৩৬৮-৪৬৩ হিঃ): জামিউ বায়ানিল ইলমি ওয়া ফাদলুহু
৬৯. ইবনে মানদাহ্ আবুল কাসেম (৩৮১-৪৭০ হিঃ): আররাদ্দু আলা, মাহইয়ানফিল হারফ মিনাল কোরআন।
৭০. আলবাজী (৪০৩-৪৭৭ হিঃ): শরহে আল মুয়াত্তা
৭১. আবদুল হক আল্ আশ্বীলী (৫১০-৫৮১ হিঃ): আল আহকামুল কুবরা
৭২. আবদুল হক আল আশবীলী (৫১০-৫৮১ হিঃ): আতাহাজ্জুদ।
৭৩. ইবনে আজজাওযী (৫১০-৫৯৭ হিঃ) : আততাহকীক আলা মাসাইলিত তা'লীক।
৭৪. আবু হাফদ আল মুয়াদ্দিবু ওমার ইবনে মুহাম্মদ (৫১৬-৬০৭ হিঃ) : আল মুনতাকা মিন আমালী আবিল কাসিম আস সামারকানদী।
৭৫. আবদুল গনী ইবনে আবদুল ওয়াহিদ আল মাকদিসী (৫৪১-৬০০)
৭৬. আদদিয়াউল মাকদিসী (৫৬৯-৬৪৩ হিঃ): আল আহাদীসুল মুখতারাহ।
৭৭. আদদিয়াউল মাকদিসী (৫৬৯-৬৪৩ হিঃ): আল মুনতাকা মিনাল আহাদীসিস সেহাহে ওয়াল হেসান।
৭৮. আদদিয়াউল মাকদিসী (৫৬৯-৬৪৩ হিঃ): জুযউন ফী ফাদলিল হাদীসে ওয়া আহলিহী।
৭৯. আল মোনজেরী (৫৮১-৬৫৬ হিঃ): আত্মারগীব ওয়াত্তারহীব।
৮০. আয্যায়লাঈ (... ৭৬২ হিঃ): নসবুর রাইয়াহ।
৮১. ইবনে কাছীর (৭০১-৭৭৪ হিঃ): জামেউল মাসানীদ।
৮২. ইবনুল মুলাক্কান আবু হাফস ওমার ইবনে আবিল হাসান (৭২৩-৮০৪ হিঃ) : খুলাসাতুল বাদরিল মুনীর।
৮৩. আল ইরাকী (৭২৫-৮০৬ হিঃ): তাখরীজুল এহ্ইয়াহ্।
৮৪. আল ইরাকী (৭২৫-৮০৬ হিঃ): তারহুত্ তাছরীব।
৮৫. আল হাইছামী (৭৩৫-৮০৭ হিঃ): মাজমাউয যাওয়ায়িদ।
৮৬. আলহাইছামী (৭৩৫-৮০৭ হিঃ): মাওয়ারিদুয যামআন ফী যাওয়ায়িদি ইবনে হিব্বান।
৮৭. আল হাইছামী (৭৩৫-৮০৭ হিঃ): যাওয়ায়িদুল মু'জামিস সাগীর ওয়াল আওসাতু লিততাবারানী।
৮৮. ইবনে হাজার আল আসকালানী (৭৭৩-৮৫২ হিঃ): তাখরীজু আহাদীসুল হিদায়াহ।
৮৯. ইবনে হাজার আল আসকালানী (৭৭৩-৮৫২ হিঃ): তালখীসুল হোবাইর।
৯০. ইবনে হাজার আল আসকালানী (৭৭৩-৮৫২ হিঃ): ফাতহুল বারী।
৯১. ইবনে হাজার আল আসকালানী (৭৭৩-৮৫২ হিঃ) আল আহাদীসুল আলিয়াত।
৯২. আস্সুয়ূতী (৮৭৯-৯১১ হিঃ): আল জামিউল কাবীর।
৯৩. আলী আলকারী (... ১০১৪ হিঃ): আল আহাদীসুল মাওদুআহ।
৯৪. আল মানাওয়া (৯৫২-১০৩১ হিঃ): ফাইদুল কাদীর শারহুল জামিইস সাগীর।
৯৫. আযযারকানী (১০৫৫-১১২২ হিঃ): শরহুল মাওয়াহিবি আললাদানিয়াহ্।
৯৬. আশাওকানী (১১৭১-১২৫০ হিঃ): আলফাওয়াইদুল মাজমুআ ফিল আহাদীছিল মাওদুয়াহ্।
৯৭. আবদুল হাই লাখনুবী (১২৬৪-১৩০৪ হিঃ) আত্মালীকুল মুমাজ্জাদ আলা মুয়াত্তা মুহাম্মাদ।
৯৮. আবদুল হাই লাখনুবী (১২৬৪-১৩০৪ হিঃ) : আল আছারুল মারফুআ ফিল আখবারিল মাওদুআ।
৯৯. মুহাম্মদ বিন সাঈদ আল হালাবী (.......) মুসালসালাতুহু।
১০০. আল মুয়াললিফ: তাখরীজু সিফাতিস সালাহ।
১০১. গ্রন্থকার: ইরওয়াউল গালীলে ফী তাখরীজি মানারিস সাবীল।
১০২. গ্রন্থকার: সহীহ আবু দাউদ।
১০৩. গ্রন্থকার: আত্মালীক আলা আহকামি আবদিল হক।
১০৪. গ্রন্থকার: তাখরীজু আহাদিস শরহিল আকীদা আত-তাহাওইয়াহ।
১০৫. গ্রন্থকার: সিলসিলাতুল আহাদীসিদ দায়ী 'ফাহ্।
ঘ. ফিকহ
১০৬. মালিক ইবনে আনাস (৯৩-১৭৯ হিঃ) মোদাওয়ানাহ।
১০৭. আশ শাফেঈ (১৫০-২০৪ হিঃ) আল উম্মু।
১০৮. ইসহাক ইবনে মানসূর: আল মারূযী (... ২৫১ হিঃ) মাসাইলুল ইমাম আ-হমাদ ওয়া ইসহাক ইবনে রাহ্ওয়ায়হ
১০৯. ইবনে হানী: ইবরাহীম আন্ নিসাবুরী (..... ২৬৫ হিঃ) মাসাইলুল ইমাম আহমদ
১১০. আল মুযানী (১৭৫-২৬৪ হিঃ) মুখতাসের ফিকহ শাফেঈ।
১১১. আবু দাউদ (২০২-২৭৫ হিঃ) মাসাইলুল ইমাম আহমাদ।
১১২. আবদুল্লাহ ইবনে ইমাম আহমাদ (২০৩-২৯০ হিঃ) মাসায়িলু ইমাম আহমাদ
১১৩. ইবনে হাযম (৩৮৪-৪৫৬ হিঃ) আল মুহাল্লা।
১১৪. আল ইয্যু ইবনে আবদিস সালাম (৫৭৮-৬৬০ হিঃ) আলফাতাওয়া।
১১৫. আনববী (৬৩১-৬৭৬ হিঃ)
১১৬. আল মাজমুউ শরহিল মোহায্যাব: রাওদাতুত তালেবীন।
১১৭. ইবনে তাইমিয়া (৬৬১-৭২৮ হিঃ) আল ফাতাওয়া।
১১৮. ইবনে তাইমিয়া (৬৬১-৭২৮ হিঃ) মান কালামুন লাহু ফিততাকবীরে ফিল ঈদাইনে ওয়া গাইরিহি।
১১৯. ইবনুল কাইয়িম (৬৯১-৭৫১ হিঃ) ইলামুল মুকিঈন।
১২০. আসসাবকী (৬৮৩-৭৫৬ হিঃ) আল ফাতাওয়া।
১২১. ইবনুল হাম্মام (৭৯০-৮৬৯ হিঃ) ফাতহুল কাদীর।
১২২. ইবনু আবদিল হাদী ইউসুফ (৮৪০-৯০৯ হিঃ) ইরশাদুস সালিক।
১২৩. ইবনু আবদিল হাদী ইউসুফ (৮৪০-৯০৯ হিঃ) আল ফুরূউ।
১২৪. আসুয়ূতী (৮৮৯-৯১১ হিঃ) আলহাওয়ী লিল ফাতাওয়া।
১২৫. ইবনে নোজাইম আলমিসরী (... ৯৭০ হিঃ) আলবাহরুর রায়িক।
১২৬. আশা'রানী (৮৯৮-৯৭৩ হিঃ) আল মীযান।
১২৭. আলহাইতামী (৯০৯-৯৭৩ হিঃ) আদদুররুল মানযুদ ফিস্সালাতি ওয়াস সালামি আলা সাহেবিল মাকামিল মাহমূদ।
১২৮. আল হাইতামী (৯০৯-৯৭৩ হিঃ) আসমাল মাতালেব।
১২৯. ওয়ালীউল্লাহ আদ্দেহলভী (১১১০-১১৭৬ হিঃ) হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগা।
১৩০. ইবনু আবিদীন (১১৫১-১২০৩ হিঃ) আল হাশিয়াতুল আলাদ্দুররিল মুখতার।
১৩১. ইবনু আবিদীন (১১৫১-১২০৩ হিঃ) হাশিয়াতু আলাল বাহরির রায়িক।
১৩২. ইবনু আবিদীন (১১৫১-১২০৩ হিঃ) রাসমুল মুফতী।
১৩৩. আবদুল হাই আললাখনোভী (১২৬৪-১৩০৪ হিঃ) ইমামুল কালাম ফী মা ইয়াতাআল্লাকু বিল কিরআতি খালফিল ইমাম।
১৩৪. আবদুল হাই আললাখনোভী (১২৬৪-১৩০৪ হিঃ) আন্নাফিউল কাবীরে লিমাইয়ুতালিউল জামিউস সাগীরে।
ঙ. আসসীরাতু ওয়াত্তারাজিম
১৩৫. ইবনু আবী হাতিম আবদুর রহমান (২৪০-৩২৭ হিঃ) তাকদোমাতুল মারিফাতে লিকিতাবিল জারহি ওয়াতাদীল।
১৩৬. ইবনু হিব্বান (.. ৩৫৪ হিঃ) আছছিকাত।
১৩৭. ইবনু আদী (২৭৭-৩৬৫ হিঃ) আল কামিল।
১৩৮. আবু নোআ'ইম (৩৩৬-৪৩০ হিঃ) হিলইয়াতুল আওলিয়া।
১৩৯. আল খাতীবুল বাগদাদী (৩৯২-৪৬৩ হিঃ) তারীখে বাগদাদ।
১৪০. ইবনু আবদিল বার (৩৬৮-৪৬৩ হিঃ) আল ইনতিকা ফী ফাদাইলিল ফুকাহা।
১৪১. ইবনু আসাকির (৪৯৯-৫৭১ হিঃ) তারীখে দামিষ্ক।
১৪২. ইবনুল জাওযী (৫০৮-৫৯৭ হিঃ) মানাকিবুল ইমাম আহমাদ।
১৪৩. ইবনুল কাইয়িম (৬৯১-৭৫১ হিঃ) যাদুল মাআদ।
১৪৪. আবদুল কাদের আলকোরাশী (৬৯৬-৭৭৫ হিঃ) আলজাওয়াহিরুল মুদীয়াহ।
১৪৫. ইবনু রাজাব আল হাম্বলী (৭৩৬-৭৯৫ হিঃ) যায়লুত্-তাবাকাত।
১৪৬. আবদুল হাই আল লাখনোভী (১২৬৪-১৩০৪ হিঃ) আলফাওয়াইদুল বাহিয়া ফী তারাজিমিল হানাফিয়াহ্।
চ. আল লুগাত
১৪৭. ইবনুল আছীর (৫৪৪-৬০৬ হিঃ) আন্নিহাইয়াতু ফী গারীবিল হাদীসে ওয়াল আছার।
১৪৮. ইবনু মানযুর (৬৩০-৭১১ হিঃ) লিসানুল আরাব।
১৪৯. আল ফিরোযাবাদী (৭২৯-৮১৭ হিঃ) আলকামুসুল মুহীত।
ছ. উসূলুল ফিকহ
১৫০. ইবনু হাযাম (৩৮৪-৪৫৬ হিঃ) আল এহকামু ফী উসূলিল আহকাম।
১৫১. আস্সাবকী (৬৮৩-৮৫৬ হিঃ) মানা কাওলিশ শাফেঈ আল মাতলাবী ইযা সাহ্হা হাদীসু ফাহুয়া মাযহাবী
১৫২. ইবনু কাইয়িম (৬৯১-৮৫৬ হিঃ) বাদাইউল ফাওয়াইদ।
১৫৩. ওয়ালিউল্লাহ আদ্-দেহলভী (১১১০-১১৭৬ হিঃ) ইকদুল জীদ ফী আহকামিল ইজতিহাদ ওয়াতাকলীদ।
১৫৪. আল ফালানী (১১৬৬-১২১৮ হিঃ) ইকাযুল হিমাম।
১৫৫. আয্যারকা আশ শেখ মুসতাফা: আল মাদখাল ইলা ইলমি উসূলিল ফিকহ।
জ. আল আযকার
১৫৬. ইসমাঈল কাযী আলজাহ্দামী (১৯৯-২৮২ হিঃ) ফাদলুস সালাতি আলান নাবীয়্যি (সঃ)।
১৫৭. ইবনুল কায়্যিম (৬৯১-৭৫১ হিঃ) জালাউল আফহামি ফিসসালাতি আলা খাইরিল আনাম।
১৫৮. সিদ্দীক হাসান খান (১২৪৮-১৩০৭ হিঃ) নুযুলুল আবরার।
জ. মোতানাওয়েআত
১৫৯. ইবনু বাত্তাহ আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ (৩০৪-৩৮৭ হিঃ) আল-ইবানাহ্ আন শারীআতিল ফিরকাতিন-নাজিয়াহ্।
১৬০. আবু আমর আদদানী উসমান ইবনু সাঈদ (৩৭১-৪৪৪ হিঃ) আল মুকতাফী ফী মারিফাতিল ওয়াকফিতাম
১৬১. আল খাতীবুল বাগদাদী (৩৯২-৪৬৩ হিঃ) আল ইহতিজাজু বিশশাফেঈ ফীমা উসনিদা ইলাইহি.....।
১৬২. আল হারাবী : আবদুল্লাহ ইবনু মুহাম্মাদ আনসারী (৩৯৬-৪৮১ হিঃ) যামুল কালাম ওয়া আহলুহু
১৬৩. ইবনুল কায়্যিম (৬৯১-৭৫১ হিঃ) শিফাউল আলীল ফী মাসাইলিল কাদায়ে ওয়াল কাদরি ওয়াতা'লীল
১৬৪. আল ফীরোযাবাদী (৭২৯-৮১৭ হিঃ) আররাদ্দু আলাল মো'তারেদ আলা ইবনি আরাবী।
📄 মুখবন্ধ
রসূলুল্লাহ (সাঃ) কিভাবে নামায পড়েছেন এ বিষয়টি জানার পর তাঁর নামায এবং সহীহ হাদীসের আলোকে নামায এবং অযু-গোসলের ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলোও আলোচনার দাবী রাখে। আমরা সচরাচর নামাযে অনেক ত্রুটি-বিচ্যুতি দেখি যা জানলে তার পুনরাবৃত্তি হবে না। নামায সহীহ-শুদ্ধ হোক এটা সবারই কামনা। কেননা, বিশুদ্ধ নামাযই আল্লাহর দরবারে কবুল হয়, ত্রুটিপূর্ণ নামায কবুল হয় না। অনুরূপভাবে, অজু-গোসলের ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলোও আলোচনা হওয়া দরকার।
ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলো হাদীসের পরিপন্থী। যদি বিরাট সংখ্যক লোকও সে ভুল করে তাহলেও সেটা ভুল। আর একজনও যদি হক বা সত্যকে অবলম্বন করে তাহলে তা-ই সত্য এবং এ ব্যাপারে কোন সমস্যা নেই। আল্লামা ইবনুল কাইয়েম (রঃ) বলেন: হক বা সত্যের অনুসারী একজন আলেমও সংখ্যাগরিষ্ঠতা, দলীল-প্রমাণ ও এজমা'র দাবী করতে পারেন, যদিও গোটা দুনিয়া তার বিরোধীতা করে। ১
নাঈম বিন হাম্মাদ বলেন: কোন দল বা সমষ্টি নষ্ট হয়ে গেলে তুমি তাদের খারাপ হওয়ার পূর্বের অবস্থা অনুসরণ করবে যদিও তুমি একা। তখন তুমিই মূলতঃ সমষ্টি। ২
ইমাম আহমদ বিন হাম্বলের সময় তিনি ছাড়া অন্য সবাই যেমন, খলীফা, উজির-নাজির, আলেম-ওলামা, মুফতীরা 'কোরআন সৃষ্ট' এ মতবাদের অনুসারী হয়ে যান। একমাত্র ইমাম আহমদ এর বিরোধীতা করেন। সমষ্টির যুক্তি ছিল, আমরা সবাই নাহক এবং তিনি একাই হকের উপর আছেন, এটা হতে পারে না। তাই খলীফা তাঁকে গ্রেফতার করে বেত্রাঘাত পর্যন্ত করেন। তা সত্ত্বেও তিনি সত্য থেকে বিচ্যুত হননি। সত্যের জন্য অনেকে অকাতরে জীবন বিলিয়ে গেছেন। ভুল ও ত্রুটি-বিচ্যুতিকারীদের সংখ্যাই বিরাট। এক্ষেত্রে ভুল সংশোধনকারী হয়ত সংখ্যালঘু। তাই আল্লামা শাতেবী (রঃ) বলেছেন: 'অতীতের নেক লোকেরা হকের উপর আমলের জন্য উৎসাহিত করেছেন এবং সংখ্যালঘু হওয়ার ভয় করতে নিষেধ করেছেন।'৩
তিনি আরো বলেছেন: সাধারণ লোকের এজমা বা মতৈক্যের কোন মূল্য নেই, এমনকি তারা নেতৃত্ব বা ইমামতির দাবী করলেও না। ৪
রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর অনুসরণ, তাঁর আদেশ-নিষেধ মানা, তিনি যা করেছেন তা করা, সেগুলোর প্রচার ও প্রসার ঘটানো, তাঁর ভাল ও পসন্দনীয় কাজগুলোর প্রচলন করা এবং মুসলিম উম্মাহকে সেগুলো অনুসরণের জন্য উৎসাহিত করাই মূলতঃ সুন্নত। সুন্নতের উদাহরণ হল, হযরত নূহ (আঃ)-এর নৌকার মত। যে তাতে আরোহণ করবে সে মুক্তি পাবে।
হাদীস সহীহ হলে তা গ্রহণ করাই ঈমান ও যুক্তির দাবী। ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রঃ) এ মর্মে ইমাম মালেকের সাথে ইমাম আবু ইউসুফের সা' এবং মোদ সম্পর্কিত প্রসিদ্ধ ঘটনাটি উল্লেখ করেছেন। ইমাম আবু ইউসুফ মোদ-এর পরিবর্তে ইমাম মালেকের সা'-এর ভিত্তিতে সদকা-ফিতরা দানের যুক্তি গ্রহণ করে নিজ মত পরিবর্তন করেছেন। ইমাম মালেক মদীনার বিভিন্ন লোককে তাদের মাপযন্ত্র- সা' হাজির করার আহ্বান জানালে অনেকে তা হাজির করেন। তারা তাদের দাদা-দাদীর বরাত দিয়ে বলেন: এগুলো দিয়ে রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর কাছে ঈদুল ফিতরের সদকাহ দেয়া হত। ইমাম মালেক প্রশ্ন করেন, তারা কি মিথ্যা বলছে? আবু ইউসুফ বলেন, না, তারা মিথ্যা বলছে না। ইমাম মালেক ইরাকী জনগণের জন্য তাদের ৫ রতল এবং আরেক রতলের এক তৃতীয়াংশকে এক সা'-এর সমান ধার্য করেন। আবু ইউসুফ ইমাম মালেককে বলেন, হে আবু আবদুল্লাহ! আমার বন্ধু ইমাম আবু হানিফা আমি যা দেখলাম তা দেখলে তিনিও আমার মতো আপনার মতের প্রতি প্রত্যাবর্তন করতেন।
ইমাম বারাবহারী (রঃ) বলেনঃ তোমরা ছোট ছোট নতুন নতুন এবাদত তৈরির ব্যাপারে হুঁশিয়ার থাকবে। ছোট ছোট বেদআতগুলোর পুনরাবৃত্তি বড় বেদআতের জন্ম দেয়। উম্মাহর মধ্যে প্রথম যে বেদআতগুলো ঢুকে সেগুলো ছোট আকৃতির থাকে এবং তাকে হক মনে হয়। ফলে বহু লোক ধোঁকায় পড়ে যায় ও তাতে অংশ নেয়। তারপর আর তা থেকে বেরিয়ে আসতে পারে না। এটা ফুলে-ফেঁপে বড় হতে থাকে, দ্বীনের অংশে পরিণত হয় এবং সেরাতুল মোস্তাকীম তথা সরল পথ থেকে বিচ্যুতি ঘটায়।
এক্ষেত্রে নিম্নোক্ত ঘটনাটি বড় চমকপ্রদ। আমর বিন সালামাহ বলেন: আমরা চাশতের নামাযের আগে আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রাঃ)-এর ঘরের দরজায় বসা ছিলাম। তিনি বের হলেন। আমরা তাঁর সাথে মসজিদে চললাম। আবু মূসা আশআরী (রাঃ) আসলেন। তিনি প্রশ্ন করেন, আবু আবদুর রহমান কি আপনাদের কাছে এসেছে? আমরা বললাম, 'না'। তিনিও আমাদের কাছে বসলেন। এমন সময় আবু আবদুর রহমান অর্থাৎ আবদুল্লাহ বিন মাসউদ (রাঃ) আসলেন। আমরা সকলে দাঁড়িয়ে গেলাম। হযরত আবু মূসা আশআরী (রাঃ) বলেন: হে আবু আবদুর রহমান! আমি প্রথমে মসজিদে ঢুকে কিছু অপসন্দনীয় কাজ দেখি। তবে আমি যা দেখেছি তা ভাল হবে বলে মনে করি। তিনি জিজ্ঞেস করেন, সেটা কি? তিনি জবাব দেন, আপনিও দেখতে পারবেন। আমি মসজিদে একদল লোককে গ্রুপে গ্রুপে বসে নামাযের জন্য অপেক্ষা করতে দেখলাম।
প্রত্যেক গ্রুপের একজন লোকের হাতে ছিল কঙ্কর। তিনি দলের লোকদেরকে ১শ' বার তাকবীর, ১শ' বার লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং ১শ' বার তাসবীহ পড়তে (সোবহানাল্লাহ) বলেন। লোকেরা তাই করল। অর্থাৎ সে কঙ্কর দিয়ে তার হিসেব গুনতো। ইবনে মাসউদ জিজ্ঞেস করেন, আপনি কি বলেছেন? তিনি বলেন, আমি আপনার মতের অপেক্ষায় কিছু বলিনি। ইবনে মাসউদ বলেন, আপনি তাদেরকে কেন তাদের গুনাহগুলোর গুনতির কথা বললেন না? আমি তাদের নেকসমূহ নষ্ট না হবার গ্যারান্টি দিচ্ছি। এরপর আমরা সবাই তাঁর সাথে একটি গ্রুপের কাছে যাই। তিনি সেখানে দাঁড়ান এবং জিজ্ঞেস করেন, আমি তোমাদের একি কাজ দেখছি? তারা বলল: হে আবু আবদুর রহমান, আমরা কঙ্কর দ্বারা তাকবীর, তাহলীল ও তাসবীহর হিসেব রাখি। তিনি বলেন: তোমরা তোমাদের গুনাহর হিসেব রাখ। আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি, তোমাদের নেক সামান্যও নষ্ট হবে না। হে উম্মতে মোহাম্মদ, তোমাদের জন্য আফসোস। তোমাদের ধ্বংস এত তাড়াতাড়ি আসন্ন! নবীর এ সকল সাহাবায়ে কেরাম বিদ্যমান আছেন, রসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর এই তরতাজা শুকনো কাপড় এবং তাঁর তৈজসপত্রগুলো এখনও পর্যন্ত অক্ষত। আমার প্রাণ যার হাতে সে সত্ত্বার শপথ করে বলছি, তোমরা হয় উম্মতে মোহাম্মদীর সর্বাধিক হেদায়েত প্রাপ্ত কিংবা সর্বাধিক গোমরাহ লোক হবে। তাঁরা বলেন, হে আবু আবদুর রহমান! আল্লাহর কসম, আমাদের নেক উদ্দেশ্যই এর পেছনে কাজ করেছে। তিনি উত্তর দেন, বহু ভাল কাজের আকাঙ্খী লোক ঠিক পথে নেই। রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, একদল লোক কোরআন পড়বে কিন্তু তা তাদের গলার ভেতর প্রবেশ করবে না।
আল্লাহর কসম, আমি জানিনা যে, তোমরাই সে দলের সংখ্যাধিক্য লোক কিনা?
আমর বিন সালামাহ বলেন: আমরা নাহরাওয়ান যুদ্ধে তাদের অধিকাংশকে খারেজী সম্প্রদায়ের সাথে আমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে দেখেছি।
দ্বীনের মধ্যে নতুন আবিষ্কৃত এবাদত শেষ পর্যন্ত চরম গোমরাহীর দিকে ঠেলে দেয়। তাই যে কোন বেদআত থেকে মোমেনদেরকে দূরে থাকতে হবে।
এখন প্রশ্ন হল, মানুষ কেন হাদীসের খেলাপ কাজ করে এবং নামাযসহ বিভিন্ন এবাদতে বহু ভুল-ত্রুটি করে? উত্তরগুলো হচ্ছে নিম্নরূপ:
১। দুর্বল ও জাল হাদীস সম্পর্কে পার্থক্য করার ক্ষমতা না থাকার কারণে সহীহ হাদীস অনুযায়ী আমল করা সম্ভব হয়না। ফলে ঐ সকল ভুল-ত্রুটি হতে থাকে। এ ব্যাপারে ওলামায়ে কেরামকে জিজ্ঞেস করে নিশ্চিত না হওয়াটাই বড় কারণ।
২। কিছু কিছু ফকীহ এজতেহাদ করে মাসলা ঠিকই বলেছেন, কিন্তু শরয়ী কোন প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেন নি। অথচ জনগণের কাছে তা গ্রহণযোগ্য হয়ে আছে।
৩। পূর্বসূরীদের মধ্যে পরবর্তীতে কিছু লোকের অন্ধ অনুসরণ এর অন্যতম কারণ।
৪। যাদের ফতোয়া দানের যোগ্যতা নেই তাদের ফতোয়ার ফলে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।
এ সকল কারণে লোকেরা সুন্নত ত্যাগ করেছে এবং ভুল জিনিস আঁকড়ে ধরে আছে।
মাজহাব কিংবা মাজহাবের ইমামদের কোন দোষ নেই। তারা সহীহ হাদীস গ্রহণের তাকিদ দিয়ে গেছেন এবং সহীহ হাদীস বিরোধী হলে নিজেদের প্রদত্ত মাসলাগুলো ত্যাগ করার আদেশ দিয়েছেন। এখন সকল দায়-দায়িত্ব মোকাল্লেদ বা অনুসারীদের।
আমি এ বইতে, হাদীসের আলোকে নামাযের ৭৬টি, জুমু'আর নামাযের ৭টি এবং অযু গোসলের ১৮টি প্রচলিত ভুলের সংশোধন উল্লেখ করেছি। এ বইটি প্রতিটি মুসলমানের জন্য খুবই মূল্যবান। আল্লাহর কাছে আমলের তওফীক কামনা করি। আমিন!
এ. এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
বাংলা বিভাগ, রেডিও জেদ্দা
সৌদী আরব।
১৪/২/১৪২২ হিঃ
৮/৫/২০০১ খ্রীঃ
টিকাঃ
১. মিম্ মোখালিফাত-আততাহারাহ ওয়াসসালাহ। আবদুল আযীয বিন মোহাম্মদ সাদহান, দারু তাইয়েবাহ প্রকাশনী। রিয়াদ, ১৪১২ হিঃ।
২. ঐ
৩. আল-এ'তেসাম, ২য় খণ্ড, ১১১ পৃঃ।
৪. এরশাদ আস্-সারী ৩য় খণ্ড, ১০৭ পৃঃ।