📘 রাসুলুল্লাহ সাঃ এর কান্না > 📄 নামাজের সময় কান্না

📄 নামাজের সময় কান্না


নামাজের যেমন ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নাত রয়েছে তেমনি নামাজের প্রাণ হলো বিশুদ্ধ নিয়্যাত, একনিষ্ঠতা, আল্লাহর ভয় এবং বিনয়। তাই নামাজ আদায়ের সময় আল্লাহর ভয়ে কান্নাকাটি করাটা স্বাভাবিক। জাসসাস (র) বলেন,
أنَّ البكاء في الصلاة من خوف الله لا يقطع الصلاة ؛ لأن الله مدحهم عليه.
নামাজের মধ্যে আল্লাহর ভয়ে কান্নাকাটি নামাজ বিনষ্ট করে না; কেননা আল্লাহ তাঁদের প্রশংসা করেছেন।

টিকাঃ
৪৪. আহমদ ইবন আবু বকর রাযী আল-জাসসাস, আহকামুল কুরআন (বৈরূত: দারু ইয়াহইয়া আত-তুরাছিল আরাবী, ১৪০৫হি.), খ. ৫ম, পৃ. ৩৭

📘 রাসুলুল্লাহ সাঃ এর কান্না > 📄 নামাজের ভিতর কান্নাকাটির শরয়ী বিধান

📄 নামাজের ভিতর কান্নাকাটির শরয়ী বিধান


নামাজের ভিতর কান্নাকাটি করলে নামাজ বিনষ্ট হবে কি না এ ব্যাপারে ইমামগণের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে।
ইমাম আযম আবু হানিফা (র)-এর মতে, পার্থিব দুঃখ, বেদনা ও কষ্টের কারণে নামাজের ভিতরে কান্নাকাটি করলে নামাজ বিনষ্ট হয়ে যাবে। আর নামাজের কান্না যদি জান্নাত ও জাহান্নামের স্মরণে হয় তাহলে নামাজ বিনষ্ট হবে না।
ইমাম মালেক (র) বলেন, নামাজের ভিতরে কান্না যদি শব্দবিহীন হয় এবং সেটা ইচ্ছাকৃত হোক বা অনিচ্ছাকৃত হোক পার্থিব কারণে হোক বা পরকালের কারণে হোক নামাজ বাতিল হবে না। আর কান্না যদি ইচ্ছাকৃতভাবে শব্দ করে হয় তাহলে যে কারণেই হোক নামাজ বাতিল হবে। আর আল্লাহর ভয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে শব্দ করে কান্নাকাটি করলে নামাজ বিনষ্ট হবে না।
ইমাম শাফেয়ী (র) বলেন, কান্না যদি শব্দ করে হয় এবং তেলাওয়াত পরিবর্তন হয়ে যায় তাহলে পরকালের ভয়ে কান্নাকাটি হলেও নামাজ বাতিল হবে। আর যদি তেলাওয়াত পরিবর্তন না হয় তাহলে নামাজ শুদ্ধ হবে।
ইমাম আহমদ (র) বলেন, আল্লাহর ভয়ে কান্নাকাটি করলে নামাজ বিনষ্ট হবে না। অন্যদিকে আল্লাহর ভয় না থাকলে নামাজ বিনষ্ট হয়ে যাবে।

টিকাঃ
৪৫. সম্পাদনা পরিষদ, আল মাওসুয়াতুল ফিকহিয়্যা (কুয়েত: ওযারাতুল আওকাফ ওয়াশ শুরুনুল ইসলামিয়া, ১৪০৪-১৪২৭হি.), খ. ৮ম, পৃ. ১৭০-১৭১

📘 রাসুলুল্লাহ সাঃ এর কান্না > 📄 কবরের আযাব ও তার ভয়াবহতার জন্য ক্রন্দন

📄 কবরের আযাব ও তার ভয়াবহতার জন্য ক্রন্দন


মৃত্যুর পরবর্তীকালের বর্ণনা প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআন ও হাদিসে কবরের বর্ণনা এসেছে। প্রাক ইসলামী যুগে আরবের পৌত্তলিকগণ এবং ইয়াহুদী ও নাসারা নির্বিশেষে সকলেরই মৃতদেহ কবরস্থ করত। স্কুল ও বাহ্য দৃষ্টিতে কবর একটি মৃত্তিকাগর্ত মাত্র যার মধ্যে মৃতদেহ সমাহিত করা হয়। মাটি সে মৃতদেহ ভক্ষণ করে ফেলে। কিন্তু সত্যিকার কবর এক অদৃশ্য সূক্ষ্ম জগতের বস্তু। যা আমাদের জ্ঞান বুদ্ধি ও কল্পনার অতীত।
আসল কথা হলো এই যে, মৃত্যুর পর মানুষ কবরস্থ হোক অথবা চিতায় ভস্মিভূত হোক, বন্য জন্তর উদরস্থ হোক অথবা জলমগ্ন হয়ে জলজন্তর আহারে পরিণত হোক, তার দেহচ্যুত আত্মাকে যে স্থানটিতে রাখা হবে সেটাই তার কবর। ফেরাউন তার বাহিনীসহ লোহিত সাগরের অতল তলে নিমজ্জিত হয়েছে। বিরাট বাহিনী হয়তো জলজন্তুর আহারে পরিণত হয়েছে। আর ফেরাউনের মৃতদেহ হাজার হাজার বছর ধরে মিসরের জাদুঘরে আছে। যাকে কেউ ইচ্ছা করলে এখনো স্বচক্ষে দেখতে পারে। কিন্তু তাদের সকলেরই আত্মা নিজ নিজ কবরেই অবস্থান করছে। এ প্রসঙ্গে আল্লাহ বলেন:
النَّارُ يُعْرَضُونَ فَوَقاهُ اللهُ سَيِّئَاتِ مَا مَكَرُوا وَحَاقَ بآل فِرْعَوْنَ سُوءُ الْعَذَابِ عَلَيْهَا غُدُوًّا وَعَشِيًّا وَيَوْمَ تَقُومُ السَّاعَةُ أَدْخِلُوا آلَ فِرْعَوْنَ أَشَدَّ الْعَذَابِ
অর্থ: “শেষ পর্যন্ত তারা ঐ ঈমানদারদের বিরুদ্ধে যেসব জঘন্য চক্রান্ত করেছে আল্লাহ তা'আলা তাকে তা থেকে রক্ষা করেছেন। আর ফেরাউনের সাঙ্গপাঙ্গরাই জঘন্য আযাবের চক্রে পড়ে গিয়েছে। সকাল ও সন্ধ্যায় তাদের আগুনের সামনে পেশ করা হয় এবং যেদিন কিয়ামত সংঘটিত হবে, সেদিন আদেশ করা হবে, ফেরাউন 'গোত্রকে কঠিনতর আযাবে দাখিল কর।”
মৃত্যুর পরই কবরে পাপীদের শাস্তি ও নেককার বান্দাদের শান্তি শুরু হবে। পাপীদের কবরের আযাব বা শাস্তি হবে ভয়াবহ।
তাই ইসলাম আমাদের কবরের আযাব ও তার ভয়াবহতা থেকে পানাহ চাওয়ার জন্য বলেছেন। রাসূল ﷺ সর্বদা কবরের আযাব ও তার ভয়াবহতার জন্য কাঁদতেন।
কবরের আযাব থেকে বাঁচার জন্য রাসূল ﷺ এর নির্দেশনা
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِذَا تَشَهَّدَ أَحَدُكُمْ فَلْيَسْتَعِدْ بِاللهِ مِنْ أرْبَع يَقُولُ اللهُمَّ إنِّي أَعُودُ بِكَ مِنْ عَذَابِ جَهَنَّمَ وَمِنْ عَذَابٍ القَبْرِ وَمِنْ فِتْنَةِ الْمَحْيَا وَالْمَمَاتِ وَمِنْ شَرِّ فِتْنَةِ الْمَسِيحِ الدَّجَّالِ
আবু হুরাইরা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূল ﷺ বলেছেন, তোমরা যখন কেউ নামাযে তাশাহুদ পড় তখন চারটি জিনিস থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য প্রার্থনা করা চাই। এই বলে দো'আ করবে, হে আল্লাহ! আমি তোমার কাছে জাহান্নাম ও কবরের আযাব থেকে, জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে এবং মাসীহ দাজ্জালের ফিতনার ক্ষতি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি।

টিকাঃ
৪৬. আল্লাহ তা'আলা এখানে সুস্পষ্ট ভাষায় আযাবের দু'টি পর্যায়ের উল্লেখ করেছেন। একটি হচ্ছে কম মাত্রার আযাব যা কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার পূর্বে ফেরাউনের অনুসারীদের দেয়া হচ্ছে অর্থাৎ তাদেরকে সকাল সন্ধ্যায় দোযখের আগুনের সামনে পেশ করা হয় আর ঐ আগুন দেখে তারা সর্বক্ষণ আতঙ্কিত হয়ে কাটায় এই ভেবে যে, এ দোযখেই শেষ পর্যন্ত তাদেরকে যেতে হবে। এরপর কিয়ামত আসলে তাদেরকে তাদের জন্য নির্ধারিত সত্যিকার ও বড় আযাব হবে। এ ব্যাপারটি কেবলমাত্র ফেরাউন ও তার অনুসারীদের জন্য নির্দিষ্ট নয়। বরং সকল মানুষের জন্যই এরূপ। রাসূল (সা) বলেছেন,
عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ رَضِيَ اللهُ عَنْهُمَا: أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: إِنَّ أَحَدَكُمْ إِذَا مَاتَ عُرِضْ عَلَيْهِ مَقْعَدُهُ بِالغَدَاةِ وَالعَشِيِّ، إِنْ كَانَ مِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ فَمِنْ أَهْلِ الْجَنَّةِ، وَإِنْ كَانَ مِنْ أهل النار فمن أهل النار، يُقالُ لَهُ: هَذَا مَقْعَدُكَ حَتَّى يَبْعَثَكَ اللهُ إِليه يَوْمِ الْقِيَامَةِ.
“আব্দুল্লাহ ইবন উমর (রা) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা) বলেছেন: তোমাদের মধ্য থেকে যে ব্যক্তিই মারা যায় তাকেই সকাল ও সন্ধ্যায় তার শেষ বাসস্থান অর্থাৎ জান্নাত ও জাহান্নাম দেখানো হতে থাকে। সে জান্নাতী হওয়ার উপযুক্ত হলে জান্নাতী এবং দোযখী হওয়ার উপযুক্ত হলে দোযখে তার জায়গা দেখানো হবে। তাকে বলা হবে কিয়ামতের দিন যখন আল্লাহ তোমাকে পুনরায় জীবিত করবেন, তখন তোমাকে আল্লাহ যে জায়গা দান করবেন, এটা সেই জায়গা।” সহীহ বুখারী, অধ্যায়: জানায়েয, অনুচ্ছেদ: আল-মায়্যিতু উ'রদু আলাইহি মাক'আদাহু বিল গদাতি ওয়াল 'আশিয়্যি,
৪৭. আল-কুরআন, সূরা আল-মুমিন, ৪০: ৪৫-৪৬
৪৮. আবু আবদুল্লাহ আহমদ ইবন হাম্বল, মুসনাদ, অধ্যায়: জুহুদ, অনুচ্ছেদ: আল-হুযন ওয়াল বুকা, খ. ৪র্থ, পৃ. ২৯৪, হাদিস নং ১৮৬২৪। আলবানি হাদিসটিকে সহীহ বলেছেন।
৪৯. মুসলিম, আস-সহীহ, অধ্যায়: মাসাজিদ, অনুচ্ছেদ: মা ইউসতায়াজু মিনহু ফিস সালাত, খ. ২য়, পৃ. ৯৩, হাদিস নং. ১৩৫২

📘 রাসুলুল্লাহ সাঃ এর কান্না > 📄 বিশেষ কোনো বিষয়ে আল্লাহর সাহায্য চেয়ে কান্না

📄 বিশেষ কোনো বিষয়ে আল্লাহর সাহায্য চেয়ে কান্না


বিশেষ কোনো কাজে সফলতা অর্জনের জন্য দু'আ করার সময় আল্লাহর সাহায্য চেয়ে কান্নাকাটি করার অনুমোদন ইসলামে রয়েছে। যার প্রমাণ আমরা আল্লাহর রাসূলের জীবনে পাই, যেমন বদর যুদ্ধের আগের দিনের ক্রন্দন। আলী ইবন আবি তালিব (রা) থেকে বর্ণিত,
عَنْ عَلِيٍّ ، قَالَ : مَا كَانَ فِينَا فَارِسٌ يَوْمَ بَدْرٍ غَيْرُ المِقْدَادِ ، وَلَقَدْ رَأَيْتُنَا وَمَا فِينَا قَائِمٌ إِلَّا رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم يُصلّي تَحْتَ شَجَرَةٍ وَيَبْكِي حَتَّى أَصْبَحَ
তিনি বলেন, বদর যুদ্ধের দিন মিকদাদ (রা) ছাড়া আমাদের আর কেউ অশ্বারোহী ছিল না। আমরা দেখলাম রাসূল ﷺ একটি গাছের নিচে দাঁড়িয়ে সারারাত নামাজ পড়ছেন আর কাঁদছেন এ অবস্থায় সকাল হয়ে গেল।

টিকাঃ
৫০. আবু ইয়ালা আহমদ ইবন আলী, মুসনাদে আবু ইয়ালা (আল-মাকতাবাতুশ শামেলাহ), খ. ১ম, পৃ. ১৭৫, হাদিস নং. ২৮০

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00