📘 কুরআনের জানা অজানা > 📄 প্রসিদ্ধ কয়েকটি তাফসীরগ্রন্থের নাম

📄 প্রসিদ্ধ কয়েকটি তাফসীরগ্রন্থের নাম


১. তাফসিরে বাকী বিন মাখলাদ, লেখক: বাকী বিন মাখলাদ বিন ইয়াযীদ আন্দালুসী কুরতুবী, মৃত্যু: ২৭৬ হি.। এই তাফসিরের কোনো পান্ডুলিপি এখন আর পাওয়া যাচ্ছে না। ইবনে হাযম জাহিরি রহ. ও অন্যান্য ওলামায়ে কেরামের বক্তব্যে কিতাবটির প্রশংসা পাওয়া যায়। তাফসিরটি পাওয়া গেলে তা সবচেয়ে প্রাচীন তাফসীরগ্রন্থ হবে।
২. তাফসিরে ইবনে জারীর তাবারী, লেখক: আবূ জাফর মুহাম্মাদ বিন জারীর তাবারী, মৃত্যু: ৩১০ হি.। এই তাফসীরগ্রন্থটির আসল নাম ‘জামেউল বায়ান’। বর্ণনানির্ভর তাফসিরের মৌলিক কিতাব হিসেবে গণ্য।
৩. আহকামুল কুরআন, লেখক: ইমাম আবূ বকর জাসসাস রাযী, মৃত্যু: ৩৭৩ হি.। এই তাফসিরে মূলত শুধু আহকাম-সম্পর্কিত আয়াতগুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আবূ বকর জাসসাস বিশিষ্ট হানাফী ফকীহ ও উসূলবিদ। তিনি হানাফী উসূলের আলোকে আয়াত থেকে মাসআলার ইস্তিফাত (উদ্ধাবন) দেখিয়েছেন।
৪. তাফসিরে সমরকান্দী, লেখক: ফকীহ আবুল লাইস সমরকান্দী, মৃত্যু: ৩৭৩ হি.। এটি একটি রেওয়ায়েতনিরভর তাফসিরগ্রন্থ। তাফসিরটির মূল নাম ‘বাহরুল উলুম’।
৫. তাফসিরে বাগাবী, লেখক: আল্লামা আবূ মুহাম্মাদ হুসাইন বিন মাসউদ বাগাবী শাফেয়ী, মৃত্যু: ৫১০ হি.। তাফসীরটির মূল নাম 'মাআলিমুত তানযীল' (معالم التنزيل)।
৬. তাফসিরে কাবির, লেখক: আল্লামা ফখরউদ্দীন মুহাম্মাদ বিন ওমর রাযী, মৃত্যু: ৬০৬ হি.। তাফসীরটির মূল নাম, 'মাফাতীহুল গাইব'। ইলমে কালামকে মূল উপজীব্য করে লেখা প্রসিদ্ধ তাফসীর।
৭. তাফসিরে কুরতুবী, লেখক: আবূ আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বায়রাজী কুরতুবী, মৃত্যু: ৬৭১ হি.। তাফসীরটির মূল নাম, 'আল-জামে' লি-আহকামিল কুরআন'। মালেকী মাযহাবের ফেকাহকে মূল উপজীব্য করে লিখিত।
৮. তাফসিরে বায়যাভী, লেখক: আল্লামা নাসিরুদ্দীন বায়যাভী, মৃত্যু: ৬৮৫/৬৯১ হি.।
৯. তাফসিরে মাদারিকুত তানযীল, লেখক: আল্লামা আবুল বারাকাত আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ নাসাফী, মৃত্যু: ৭১০ হি.।
১০. তাফসিরে খাযেন, লেখক: আল্লামা আলাউদ্দীন আলী বিন মুহাম্মাদ খাযেন, মৃত্যু: ৭৪১ হি.।
১১. আলবাহরুল মুহীত, লেখক: আবূ হাইয়ান মুহাম্মাদ বিন ইউসুফ আন্দালুসী, মৃত্যু: ৭৪৫ হি.। আরবি ব্যাকরণ-বিষয়ক আলোচনা এই তাফসিরের বৈশিষ্ট্য।
১২. তাফসিরে ইবনে কাসীর, লেখক: আবুল ফিদা ইসমাঈল বিন কাসীর শাফেয়ী, মৃত্যু: ৭৭৪ হি.। তাফসীরটির মূল নাম 'তাফসীরুল কুরআনিল আযীম'। বর্ণনানির্ভর তাফসীরের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য কিতাব।
১৩. তাফসিরে গারাইবুল কুরআন ওয়া রাগাইবুল ফুরকান, লেখক: আল্লামা নিজামুদ্দীন হাসান বিন মুহাম্মাদ নাইসাবারী, মৃত্যু: ৮৫০ হিজরীর পর।
১৪. তাফসিরে জালালাইন, লেখক: আল্লামা জালালুদ্দীন মুহাম্মাদ মহল্লী, মৃত্যু: ৮৬৪ হি. এবং
১৫. আল্লামা জালালুদ্দীন আবদুর রহমান সুয়ুতী, মৃত্যু: ৯১১ হি.। প্রসিদ্ধ তাফসীরগ্রন্থ। তাফসীরটি উপমহাদেশের প্রচলিত দরসে নেয়ামিরও পাঠ্যভুক্ত।
১৬. আদদুররুল মানসূর, লেখক: আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ুতী, মৃত্যু: ৯১১ হি.। এই কিতাব তাফসীর-সম্পর্কিত সকল রেওয়ায়াতকে এক মলাটে সন্নিবেশিত করার জন্য বিখ্যাত।
১৭. তাফসীরে আবূস সুউদ, লেখক: আল্লামা আবূস সাউদ মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন মুস্তফা ইমামী, মৃত্যু: ৯৮২ হি.। এই তাফসীর প্রয়োজনীয় তাহকিক ও তারকিবসহ আয়াতের মর্ম বুঝতে সহায়ক। দরজামায়ে কুরআনের ছাত্রদের জন্য এই গ্রন্থ বিশেষ উপকারী।
১৮. তাফসীরে মাজহারী, লেখক: আল্লামা কাজী সানাউল্লাহ পানিপথী, মৃত্যু: ১২২৫ হি.।
১৯. তাফসীরে রূহুল মাআনী, লেখক: আল্লামা শিহাবুদ্দীন মাহমুদ বিন আব্দুল্লাহ আলূসী, মৃত্যু: ১২৭০ হি.। এই তাফসীরকে সকল তাফসীরগ্রন্থের জামে' বা সমষ্টি বলা হয়ে থাকে।
২০. তাফসীরে বায়ানুল কুরআন, লেখক: মাওলানা আশরাফ আলী থানবী, মৃত্যু: ১৩৬২ হি.। উর্দুভাষায় লিখিত গবেষণামূলক ও বরকতময় তাফসীর।
২১. তাফসীরে মাআরেফুল কুরআন, লেখক: মুফতি মুহাম্মাদ শফী, মৃত্যু: ১৩৯৬ হি.। এই তাফসীরে কুরআনে কারীমের শিক্ষা, মর্ম ও আয়াত সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। আলেম ও গায়রে আলেম সবার জন্য উপকারী।

📘 কুরআনের জানা অজানা > 📄 বিভিন্ন ভাষায় কুরআনের প্রথম তাফসীরলেখক

📄 বিভিন্ন ভাষায় কুরআনের প্রথম তাফসীরলেখক


ক্রম: ভাষা — প্রথম তাফসীরলেখক — সাল
১. বাংলা — মাওলানা আব্বাস আলী — ১৮৯৫ খ্রি.
২. উর্দু — শাহ আব্দুল কাদের — ১২৪৫ হি.
৩. ফার্সি — শিহাবুদ্দীন দৌলতাবাদী — ৮৪৮ হি.
৪. হিন্দি — আহমদ শাহ মাসিহী — ১৯১৮ খ্রি.
৫. কাশ্মীরী — মুহাম্মাদ ইয়াহইয়া শাহ — ১৯৩৭ খ্রি.
৬. ইংরেজি — আলেকজান্ডার রোস — ১৬৪৮ খ্রি.
৭. জার্মান — মার্টিন লুথার — ১৫৪৫ খ্রি.
৮. ফরাসি — আন্দ্রে ডুরোয়ার — ১৬৪৮ খ্রি.
৯. ইতালীয়ান — আন্দ্রে আন্না ডারিনি — ১৫৪৬ খ্রি.
১০. রুশ — লিনেন্ট পিটার থেকে প্রকাশিত — ১৭৭৬ খ্রি.
১১. চীনা — পাও মেন চেং — ১৯২৩ খ্রি.
১২. কোরিয়ান — মর সান কিম — ১৯৭১ খ্রি.
১৩. আফ্রিকান — ইসমাইল আব্দুর রাজ্জাক — ১৯৯০ খ্রি.
১৪. সুদানি — এইচ কামরুদ্দীন সালেহ — ১৯৭১ খ্রি.
১৫. রুমানিয়ান — ইউসুফ কুল — ১৯৯২ খ্রি.

টিকাঃ
¹⁶. মাওলানা আব্বাস আলী কৃত অনুবাদের উপর তিনি টিকা সংযোজন করেছিলেন; এটাকেই প্রথম তাফসির হিসেবে ধরা নেয়া যায়। তবে প্রথম পূর্ণাঙ্গ তাফসির হিসেবে ধরা যায় খায় তামসিয়াতে বয়ানুল কুরআনের অনুবাদকে। কয়েকজন অনুবাদক ১৯৪৮ সালে এর অনুবাদ শুরু করে ১৯৬১ সালে সমাপ্ত করেন। আর অনুবাদ ছাড়া বাংলায় রচিত প্রথম মৌলিক তাফসির হলো মাওলানা আমিনুল ইসলাম রহ. রচিত ‘তাফসিরে নুরুল কুরআন’। ১৯৯৮ সালে এর প্রকাশ শুরু হয়।

📘 কুরআনের জানা অজানা > 📄 কুরআন বোঝায় সহায়ক আরও কিছু কিতাব

📄 কুরআন বোঝায় সহায়ক আরও কিছু কিতাব


১. আসবাবুন নুযুল, লেখক: আল্লামা আবুল হাসান আলী বিন আহমাদ ওয়াহেদী, মৃত্যু: ৪৬৮ হি.।
২. লুবাবুন নুকুল ফি আসবাবিন নুজুল, লেখক: আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতী, মৃত্যু: ৯১১ হি.।
৩. আল-নাসিখ ওয়াল মানসূখ, লেখক: আল্লামা আবূ জাফর নাহ্হাস, মৃত্যু: ৩০৪ হি.। এ বিষয়ে আরও অনেকের কিতাব রয়েছে।
৪. আল-মুফরাদাত ফি গারীবিল কুরআন, লেখক: আল্লামা রাগেব আসফাহানী, মৃত্যু: ৫০২ হি.।
৫. ইরাবুল কুরআন ওয়া বায়ানূহু, লেখক: শাইখ মহিউদ্দীন দরবেশ। এটি এ বিষয়ে আধুনিককালে লেখা কিতাব এবং সবচেয়ে সুবিখ্যাত। ইরাবুল কুরআন বিষয়ে পূর্ববর্তী অনেক আলেমেরও কিতাব রয়েছে।
৬. আল-ইতকান ফি উলুমিল কুরআন, লেখক: আল্লামা জালালুদ্দীন সুয়ূতী, মৃত্যু: ৯১১ হি.। উসুলুল কুরআন বিষয়ক আরও অনেকের কিতাবের মধ্যে সাম্প্রতিককালে লেখা মা’আ আল ক্বাতানের ‘মাবাহিস ফি উলুমিল কুরআন’ও রয়েছে, যা সহজবোধ্য ও সুবিখ্যাত।
৭. কাসাসুল কুরআন, লেখক: মাওলানা হিফজুর রহমান সিওহারবী, মৃত্যু: ১৩৯২ হি.। এ কিতাবে কুরআনে বর্ণিত ঘটনাবলীর বিশদ বিবরণ রয়েছে।
৮. আতলাসুল কুরআন, লেখক: ড. শাওকী আবূ খলীল। এ কিতাবে কুরআনে বর্ণিত বিভিন্ন স্থান ও ঘটনার মানচিত্র দেখানো হয়েছে।

টিকাঃ
” আত্তাক, পৃষ্ঠা ২১৫।

📘 কুরআনের জানা অজানা > 📄 কুরআন অনুবাদের কয়েকটি মূলনীতি

📄 কুরআন অনুবাদের কয়েকটি মূলনীতি


১. কুরআনে কারীমে আল্লাহ তায়ালার নিজ কথা হিসেবে উদ্ধৃত ‘عسى’ ও ‘لعل’ শব্দদুটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে تَعْلِيلٌ বা কারণ-বর্ণনার অর্থ দেয়। তবে যেখানে মানুষের কথার বর্ণনা দেয়া হয়েছে, সেগুলো ভিন্ন।
২. কুরআনে ব্যবহৃত ‘كان’-এর ৫ ধরনের অর্থ হতে পারে:
(ক) চিরকাল আছে ও থাকবে- এমন অর্থ। যেমন, وَكَانَ اللَّهُ عَلِيمًا حَكِيمًا
(খ) পূর্বে ছিল, এখন নেই- এমন অর্থ। যেমন, وَكَানَ فِي الْمَدِينَةِ تِسْعَةُ رَهْطٍ
(গ) বর্তমানে আছে- এমন অর্থ। যেমন, كُنْتُمْ خَيْرَ أُمَّةٍ أُخْرِجَتْ لِلنَّاسِ
(ঘ) ভবিষ্যতে হবে- এমন অর্থ। যেমন, يخافون يوما كان شره مستطيرا।
(ঙ) রূপান্তরিত হয়েছে (صار)- এমন অর্থ। যেমন, وإذ قلنا للملائكة اسجدوا لآدم فسجدوا إلا إبليس أبى واستكبر وكان من الكافرين
৩. কুরআনে কারীমে আল্লাহ তায়ালার জন্য ব্যবহৃত বহুবচনের যমীরগুলোর অনুবাদ একবচনে হওয়া চাই। কারণ, আরবীতে সম্মানার্থে বহুবচন ব্যবহারের প্রচলন থাকলেও বাংলায় তেমনটি নেই।⁷⁶
৪. কুরআনে কারীমের অনুবাদগ্রন্থের সাথে প্রয়োজনীয় টীকা সংযুক্ত থাকা কাম্য। সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা ছাড়া শুধু অনুবাদ ভুল বোঝাবুঝির কারণ হতে পারে।

টিকাঃ
৭৬. মাসিক আলকাউসার, ফেব্রুয়ারি ২০১৫।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00