📄 হাশরের ময়দানের আরো কিছু ভয়াবহ অবস্থা
কবর থেকে মানুষের উঠে আসা
তিরমিযীতে আছে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. বলেন: আল্লাহর রাসূল স. বলেছেন, শেষ শিঙা ফুঁকার পর সবার আগে যমীন বিদীর্ণ করে আমাকে উঠানো হবে। তারপর আবু বকর ও ওমর উঠে আসবে। তারপর আমি জান্নাতুল বাকী কবরস্থানে যাবো। তাদেরকেও আমার সাথে একত্রিত করা হবে। এরপর মক্কাবাসীদেরকেও আমার সাথে একত্র করা হবে। অতপর আমি হারামাঈনবাসীদের মাঝে হাশরের ময়দানে একত্রিত হবো।
যারা কবরে আছে তারা তো শিঙার আওয়াজ শুনেই কবর হতে বেরিয়ে আসবে। যাদেরকে আগুনে জ্বালানো হয়েছে অথবা সমুদ্রে ভাসিয়ে দেয়া হয়েছে কিংবা জঙ্গলে হিংস্র জন্তু খেয়ে ফেলেছে তারাও আপন আপন জায়গা হতে দেহপ্রাপ্ত হয়ে হাশরের ময়দানে এসে একত্রিত হবে।
হাশরের ময়দানে মানুষ উলঙ্গ ও খতনা বিহীন হওয়া
বুখারী ও মুসলিমে আছে: হযরত আয়েশা রা. বলেছেন, আমি আল্লাহর রাসূলকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেছেন, হাশরের দিন মানুষকে খোলা পায়ে ও খতনা বিহীন অবস্থায় সমবেত করা হবে। একথা শুনে আমি জিজ্ঞেস করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! নারী পুরুষ সকলেই কি উলঙ্গ হয়ে উঠবে? একে অপরকে দেখতে পাবে? এটাতো খুবই শরমের কথা। একথা শুনে আল্লাহর রাসূল সা. বলেন, হে আয়েশা! হাশরের দিন এতো কঠিন ও ভয়াবহ হবে, মানুষ এতো ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে উঠবে যে, তখন কারো দিকে কারো তাকাবার খেয়ালই থাকবে না।
আর এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহর রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন। তোমাদেরকে হাশরের দিন অবশ্যই খালি পায়ে, নগ্ন দেহে ও খতনা বিহীন অবস্থায় একত্রিত করা হবে। তারপর তিনি কালামে পাকের সূরা আল আম্বিয়ার ১০৪ আয়াতটি তেলাওয়াত করেন। আল্লাহ বলেন:
كَمَا بَدَأْنَا أَوَّلَ خَلْقٍ نُعِيدُهُ، وَعْدًا عَلَيْنَا إِنَّا كُنَّا فَعِلَيْنَ
"আমি যেভাবে তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছি ঠিক সেভাবে দ্বিতীয়বারও সৃষ্টি করবো। এটা আমার মজবুত ওয়াদা। আর এই কাজ আমি করবোই।"
বুখারী ও মুসলিম শরীফে আছে। আল্লাহর রাসূল স. বলেছেন, অতপর কিয়ামতের দিন সবার আগে হযরত ইবরাহীম আ.-কে পোশাক পরানো হবে। এর কারণ হিসাবে উলামায়ে কিরাম বলেন, যেহেতু তিনিই সর্বপ্রথম কাপড় পরিধান করেছেন অথবা তাঁকে আগুনে নিক্ষেপ করার সময় নগ্ন করে নিক্ষেপ করা হয়েছিলো। তাই আগে তাঁকে পোশাক পরিধান করানো হবে।
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. বলেন, আল্লাহর রাসূল স. বলেছেন, সবার আগে যাকে কাপড় পরানো হবে, তিনি হযরত ইবরাহীম আ.। আল্লাহ বলবেন, আমার বন্ধুকে কাপড় পরাও। তারপর জান্নাত হতে দুটি মসৃণ নরম ও সাদা রঙের কাপড় তাঁকে পরাবার জন্য আনা হবে। তারপর আমাকে পরানো হবে।
কবর হতে উঠে হাশরের মাঠে যাওয়া
তিরমিযীতে বর্ণিত হয়েছে, হযরত আবু হুরাইরা রা. বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল স. বলেছেন, হাশরের দিন তিন প্রকার মানুষকে একত্রিত করা হবে। (১) পায়ে চলা দল, (২) সওয়ার হওয়া দল, (৩) চেহারার উপর ভর করে চলার দল। জিজ্ঞেস করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! চেহারার ওপর ভর করে তারা কিভাবে চলবে, জবাবে আল্লাহর রাসূল বললেন, যে পবিত্র সত্তা তাদেরকে পায়ে ভর করে চালিয়েছেন তিনি তাদেরকে চেহারার উপর ভর করে চালাবার ক্ষমতাও রাখেন। তারপর তিনি বলেন, জেনে রেখো, চেহারার উপর ভর করে এমনভাবে চলবে, যেমন যমীনের উঁচু নিচু জায়গা এবং কাঁটা থেকেও নিজেকে রক্ষা করতো। এটা হবে কাফেরদের অবস্থা। কারণ দুনিয়ায় তারা তাদের চেহারা আল্লাহর সামনে নত করেনি। গর্ব ও অহংকারে মাথানত করে আল্লাহকে সাজদা করতে অস্বীকার করেছে। এখন তার বদলা নিয়ে সে মাথাকে নত করে মাটির সাথে মিশিয়ে হাটাবেন। এটা আল্লাহর জন্য অসম্ভব কিছু না।
কাফেরদেরকে বোবা, বধির ও অন্ধ করে উঠানো হবে
হাশরের ময়দানে আল্লাহ কাফেরদেরকে বোবা, বধির ও অন্ধ করে উঠাবেন। সূরা বনী ইসরাঈলের ৯৭ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন:
وَنَحْشُرُهُمْ يَوْمَ الْقِيمَةِ عَلَى وُجُوهِهِمْ عُمْيًا وَبُكْمًا وَصُمَّا
"আমি তাদেরকে হাশরের মায়দানে অন্ধ, বোবা ও বধির বানিয়ে চেহারার ওপর ভর করে বিচরণ করাবো।"
সূরা ত্বা-হার ১২৪-১২৭ আয়াতে একথাটাই আল্লাহ এভাবে বলেছেন:
وَمَنْ أَعْرَضَ عَنْ ذِكْرِي فَإِنَّ لَهُ مَعِيشَةً ضَنْكًا وَنَحْشُرُهُ يَوْمَ الْقِيمَةِ أعْمَى قَالَ رَبِّ لِمَ حَشَرْتَنِي أَعْمَى وَقَدْ كُنْتُ بَصِيْرًا قَالَ كَذَلِكَ أَتَتْكَ ايَتُنَا فَنَسِيْتَهَا ، وَكَذَلِكَ الْيَوْمَ تُنْسَى وَكَذَلِكَ نَجْزِي مَنْ أَسْرَفَ وَلَمْ يُؤْمِنْ بِايَتِ رَبِّهِ ، وَلَعَذَابُ الْآخِرَةِ أَشَدُّ وَأَبْقَى .
"আর যে আমার স্মরণ হতে মুখ ফিরিয়ে নিবে, তার জন্য দুনিয়ায় হবে সংকীর্ণ জীবন, আর কিয়ামতের দিন আমরা তাকে অন্ধ করে উঠাবো সে বলবে, হে আল্লাহ! দুনিয়ায় তো আমি চক্ষুষ্মান ছিলাম, এখানে কেন আমাকে অন্ধ করে তুললে? আল্লাহ তাআলা বলবেন, হ্যাঁ, এমনিভাবেই তো আমার আয়াতগুলো যখন তোমার নিকট এসেছিলো তুমি তখন তা ভুলে গিয়েছিলে! ঠিক সেই রকমই আজ তোমাকেও ভুলে যাওয়া হচ্ছে। এভাবেই আমরা সীমালংঘনকারী এবং আল্লাহর আয়াত অমান্যকারী লোকদেরকে দুনিয়ায় ফল দান করে থাকি। আর পরকালের আযাব অধিক কঠোর ও স্থায়ী।"
এ দুনিয়ায় যারা আল্লাহর দীন থেকে মুখ ফিরিয়ে রয়েছে, তাঁর আয়াতগুলোকে গ্রহণ করার পরিবর্তে প্রতাখ্যান করেছে ও অবহেলার চোখে দেখেছে। তাদের চোখের জ্যোতি, কান ও বাকশক্তি ছিনিয়ে নেয়া হবে। হাশরের মাঠে তারা প্রথম দিকে বোবা, বধির ও অন্ধ হয়ে উঠবে। পরে তাদের চোখ, কান ও মুখ হাশরের ভয়াবহ অবস্থা দেখার জন্য খুলে দেয়া হবে। যাতে হিসাব-নিকাশের সময় জিজ্ঞাসাবাদ করা যায়। -মাআলিমুত তানযীল
হাশরের ময়দানে কাফেররা নীল চক্ষু নিয়ে উঠবে
সূরা ত্বা-হার ১০২ আয়াতে আল্লাহ পাক বলেছেন:
يَوْمَ يُنْفَخُ فِي الصُّورِ وَنَحْشُرُ الْمُجْرِمِينَ يَوْمَئِذٍ زُرْقَانَ
"যে দিন শিঙায় ফুঁক দেয়া হবে সেদিন আমরা অপরাধী লোকদেরকে এমন অবস্থায় একত্রিত করবো যে, আতংকের কারণে তাদের চোখ নীল বর্ণ হয়ে যাবে।”
দুনিয়ায় তাদের থাকার হিসাব
হাশরের ময়দানে একত্রিত হবার পর পরস্পর তারা বলাবলি করবে— তারা দুনিয়াতে কতোদিন বসবাস করলো। আবার তারা নিজেরাই বলবে, মাত্র দশদিন দুনিয়ায় ছিলাম। একথাটাই সূরা ত্বা-হার ১০৩ আয়াতে আল্লাহ বলে দিয়েছেন। আল্লাহ বলেছেন:
يَتَخَافَتُوْنَ بَيْنَهُمْ إِنْ لَبِثْتُمْ إِلَّا عَشْرًا
"তারা পরস্পর চুপে চুপে বলবে যে, দুনিয়ায় বড় জোর মোটে দশটি দিনই হয়তো কাটিয়ে দিয়েছো।"
সূরা ত্বা-হারই ১০৪ আয়াতে আবার বলা হয়েছে:
نَحْنُ أَعْلَمُ بِمَا يَقُولُونَ إِذْ يَقُولُ أَمْثَلُهُمْ طَرِيقَةً إِنْ لَبِثْتُمْ إِلَّا يَوْمًا 8
"আমরা ভালো করেই জানি তারা কি কথা বলবে। (আমরা একথাও জানি যে), তখন তাদের মধ্যে যে লোক সর্বাধিক সতর্ক অনুমান করতে পারবে, সে বলবে যে, না তোমাদের দুনিয়ার জীবন শুধু একদিনের জীবন ছিলো।"
পরকালের দীর্ঘ জীবন ও হাশরের ময়দানের ভয়াবহ দৃশ্য দেখে দুনিয়া ও কবরের অবস্থান তাদের কাছে খুবই কম সময় বলে মনে হবে। কারো কাছে মনে হবে মাত্র দশদিন থেকে এসেছে। এদের মধ্যে বেশী সচেতন বুদ্ধি-বিবেকসম্পন্ন লোক বলবে, দশদিন কোথায়? মাত্র একদিন বলো। এ লোকটি দুনিয়ার সামান্য সময়ের অবস্থান আর আখিরাতের চিরস্থায়িত্বকে অন্যদের তুলনায় বেশী বুঝতে পেরেছে। তাই তাকে বুদ্ধিমান ও বিবেক- সম্পন্ন বলা হয়েছে। সূরা আন নাযিআতের ৪৬ আয়াতে আল্লাহ একথাটি বলেছেন। তিনি বলেছেন:
كَأَنَّهُمْ يَوْمَ يَرَوْنَهَا لَمْ يَلْبَثُوا إِلَّا عَشِيَّةً أَوْ ضُحْهَا
"যে দিন এ লোকেরা হাশরের দিনকে দেখতে পাবে তখন তারা মনে করবে এ দুনিয়ায় অথবা মৃত অবস্থায় শুধু একদিনের বিকেল কিংবা সকাল বেলাই তারা অবস্থান করেছে মাত্র।"
তখন দুনিয়ায় নবী রাসূলদের মুখে কিয়ামতের কথা শুনলে বলতো, তোমাদের কথায় যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে সে ওয়াদা কবে পূরণ হবে? কিয়ামত কখন আসবে? কিন্তু তখন অতর্কিত কিয়ামত এসে পড়ার পর তাদের কাছে মনে হবে যেনো কিয়ামত বেশ দ্রুত এসে গেছে।
সূরা আর রূমের ৫৫ আয়াতে একথাটিই স্পষ্ট করে আল্লাহ বলেছেন:
وَيَوْمَ تَقُومُ السَّاعَةُ يُقْسِمُ الْمُجْرِمُونَ : مَا لَبِثُوا غَيْرَ سَاعَةٍ ، كَذَلِكَ كَانُوا يُؤْفَكُونَ
"যে দিন কিয়ামত হবে, তখন অপরাধী লোকেরা শপথ করে বলবে যে, আমরা অল্প সময়ের বেশী অবস্থান করিনি। এমনিভাবেই তারা দুনিয়ার জীবনে ধোঁকা খাচ্ছিলো।"
কিয়ামত ও হাশরের ময়দানের বিভীষিকাময় অবস্থা দেখার পর দুঃখ করে তারা বলবে, দুনিয়া ও কবরের জীবন তো খুবই দ্রুত শেষ হয়ে গেলো। যদি দুনিয়ায় আরো কিছুটা সময় পেতাম কিছু প্রস্তুতি নিয়ে আসতে পারতাম। হঠাৎ বিপদ এসে গেলো। এ লোকেরা দুনিয়ার ভোগ বিলাস ও আরাম আয়েশের দীর্ঘ সময়ের কথা সব ভুলে যাবে। দুনিয়ার জীবনকে ভোগ বিলাসে কাটানো সহায় সম্পদ প্রতাপ প্রতিপত্তিতে দীর্ঘ সময় কাটাবার পর এ সময় সামান্য বলে অভিহিত করবে। তাদের এসব কথাকে আল্লাহ সূরা আর রূমের ৫৫ আয়াতে বলেন:
وَيَوْمَ تَقُوْمُ السَّاعَةُ يُقْسِمُ الْمُجْرِمُونَ : مَا لَبِثُوا غَيْرَ سَاعَةٍ ، كَذَلِكَ كَانُوا يُؤْفَكُونَ
"আর যখন সেই সময়টি এসে পড়বে, তখন অপরাধী লোকেরা শপথ করে বলবে যে, আমরা অল্প সময়ের বেশী অবস্থান করিনি। এমনিভাবে তারা দুনিয়াতেও উল্টাপাল্টা কথা বলতো।"
অর্থাৎ আজে বাজে ধারণা পোষণ করতো। দুনিয়াতে যেমনি সত্যকে মনেপ্রাণে গ্রহণ করেনি। আজো তেমনি সত্য বলছে না।
তারপর আল্লাহ তাআলা সূরা আর রূমের ৫৬ আয়াতে বলেন:
وَقَالَ الَّذِينَ أُوتُوا الْعِلْمِ وَالْإِيمَانَ لَقَدْ لَبِثْتُمْ فِي كِتَبِ اللَّهِ إِلَى يَوْمِ الْبَعْثِ وَ فَهُذَا يَوْمُ الْبَعْثِ وَلَكِنَّكُمْ كُنْتُمْ لَا تَعْلَمُونَ .
"কিন্তু যাদেরকে জ্ঞান ও ঈমান দেয়া হয়েছে, তারা বলবে যে, আল্লাহর লিখনতো তোমরা পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত পড়ে রয়েছো। এটাতো সেই হাশর কিন্তু তোমরা জানতে না।"
তাদের এসব ক্ষণস্থায়িত্বের কথা শুনে জ্ঞানী ও ঈমানদারগণ তাদের প্রতিবাদ করে বলবে, তোমরা মিথ্যা বলছো। অল্প সময় থাকার কথা একেবারেই মিথ্যা। তোমরা আল্লাহর দেয়া নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত দুনিয়ায় ও কবরে অবস্থান করেছো। এক মুহূর্তও কম সময় কাটাওনি। প্রত্যেকেই জীবনকাল শেষ করে বারযাখের দীর্ঘ সময় কাটিয়ে এখন হাশরের মাঠে এসে হাযির হয়েছো। এ দিনের অনিবার্যতার কথা তোমাদেরকে শুনানো হয়েছিলো বিশ্বাস তো করোনি। বরং উল্টো তাদের নির্যাতন করেছো, মিথ্যাবাদী বলেছো, এখন দেখে নাও যা তোমরা বিশ্বাস করতে না। তখন বিশ্বাস করলে আজ প্রস্তুতি নিয়ে এখানে আসতে পারতে।
হাশরের মাঠে বিভিন্ন অপরাধীদের দুরবস্থা
হাশরের মাঠে প্রত্যেকে আমল অনুযায়ী ঝাণ্ডা হাতে নিয়ে উঠবে।
হাত পাতা লোকদের দূরবস্থা
বুখারী ও মুসলিমে আছে, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল স. বলেছেন, মানুষ অন্যের কাছে হাত পেতে চাইতে চাইতে খুব নিচু স্তরে পৌঁছে যায়। হাশরের ময়দানে তার চেহারায় গোশতের সামান্য টুকরাও বাকী থাকবে না।
বার বার মানুষের কাছে হাত বাড়িয়ে ভিক্ষা করার জন্য হাশরের ময়দানে তাকে মুখে গোশতবিহীন অবস্থায় উঠানো হবে।
তবে ভিক্ষাবৃত্তি অবলম্বন করা যেমন খারাপ কাজ, ভিক্ষুককে অপমান ও লাঞ্ছনা দিয়ে বঞ্চিত করাও তেমনি খারাপ কাজ। উভয়ের কাজের পরিণতিই হাশরের ময়দানে হাদীসে বর্ণিত অবস্থার মতো হবে।
স্ত্রীদের মধ্যে অবিচারকারীর হাশর
দুনিয়ায় যার দু'জন স্ত্রী ছিলো। সে তাদের মধ্যে সুবিচার করেনি। হাশরের মাঠে সে তার শরীরের একপাশ পড়ে থাকা অবস্থায় হাযির হবে।-মিশকাত
কুরআন ভুলে যাওয়া লোকের হাশর
মিশকাত শরীফে আছে, হযরত সা'দ ইবনে উবাদাহ রা. বর্ণনা করেছেন যে, আল্লাহর রাসূল স. বলেছেন, যে ব্যক্তি কুরআন মুখস্থ করে তা অলসতা অবহেলার জন্য ভুলে যায়, সে কুষ্ঠ রোগে আক্রান্ত অবস্থায় হাশরের মাঠে আল্লাহর সাথে সাক্ষাত করবে।
বেনামাযীর হাশর
আহমাদ দারেমীতে আছে, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. একটি হাদীসে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল স. বলেছেন, যে ব্যক্তি নিয়মিত নামায আদায় করবে না নামায তার জন্য নূর হবে না। দলীলও হবে না নাজাতেরও উপায় হবে না। ফেরাউন, কারুন, হামান ও উবাই ইবনে খালফের সাথে সে হাশরের ময়দানে উঠবে।
রাসূলুল্লাহ স. বলেছেন, হাশরের দিন বেনামাযীর জন্য কোনো আলো থাকবে না। দলিল হবে না। নাজাতেরও কোনো উপায় থাকবে না। বরং সেদিন ফেরাউন, নমরূদ, হামান ও উবাই ইবনে খালফের সাথে তার হাশর নশর হবে।
হন্তা ও নিহতের হাশর
তিরমিযি ও নাসাঈতে হযরত আবু হুরাইরাহ রা. হতে বর্ণিত। একটি হাদীসে আল্লাহর রাসূল স. বলেছেন, যে লোক কোনো মু'মিনকে হত্যা করার জন্য সামান্য কথা বলেও সাহায্য করে, হাশরের ময়দানে সে দু চোখের মাঝে 'আল্লাহর রহমত বঞ্চিত' লেখা নিয়ে উঠবে।
চুক্তি ও ওয়াদা ভঙ্গকারীর হাশর
মুসলিম শরীফে আছে, হযরত সাঈদ রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আল্লাহর রাসূল স. বলেছেন, প্রত্যেক চুক্তি ও ওয়াদা ভঙ্গকারীর কাছে একটি পতাকা থাকবে। এ পাতাকা তার গুহ্যদ্বারে লাগানো থাকবে।
মিশকাত শরীফে আর একটি হাদীস বর্ণিত আছে। আল্লাহর রাসূল স. বলেছেন, যার বিশ্বাসঘাতকতা যত বড় হবে তার পতাকা ততো উঁচু হবে। তারপর তিনি বলেন, হুশিয়ার! যে লোক মানুষের শাসক হয়েছে, তার চাইতে বড়ো বিশ্বাসঘাতকতা আর কারো হতে পারে না। তার বিশ্বাসঘাতকতায় গোটা জাতি বিপদগ্রস্থ হয়ে পড়ে।
যাকাত অনাদায়ীর হাশর
হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, যে ব্যক্তি দুনিয়ার ধন-সম্পদের যাকাত আদায় করবে না, হাশরের দিন তার এ সম্পদ 'টাক পড়া সাপে' পরিণত হবে। এর চোখের ওপর দুটি বিন্দু থাকবে, সাপে তাকে দংশন করতে থাকবে। সোনা রূপার যাকাত আদায় না করলে তাকে হাশরের মাঠে সেই সোনা
রূপা গরম করে সেক দেয়া হবে। তারপর আল্লাহর রাসূল স. তেলাওয়াত করলেন। সূরা আলে ইমরানের ১৮০ আয়াত:
وَلَا يَحْسَبَنَّ الَّذِينَ يَبْخَلُوْنَ بِمَا آتَهُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ هُوَ خَيْرًا لَّهُمْ ، بَلْ هُوَ شَرٌّ لَّهُمْ ، سَيُطَوَّقُوْنَ مَا بَخِلُوا بِهِ يَوْمَ الْقِيمَةِ ، وَلِلَّهِ مِيْرَاثُ السَّمَوتِ وَالْأَرْضِ ، وَاللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ
"যেসব লোককে আল্লাহ অনুগ্রহ দানে ধন্য করেছেন এবং তা সত্ত্বেও তারা কৃপণতা করে তারা যেন মনে না করে যে, এ কৃপণতা তাদের পক্ষে ভাল। না, বরং এটা তাদের পক্ষে খুবই খারাপ। তারা কৃপণতা করে যাকিছু সঞ্চয় করছে কিয়ামতের দিন তাই তাদের গলার রশি হয়ে দাঁড়াবে। আকাশ ও পৃথিবীর উত্তরাধিকার আল্লাহরই জন্য; আর তোমরা যাকিছু করছো, আল্লাহ তা ভালো করেই জানেন।"
গৃহপালিত পশুর যাকাত আদায় না করলে তাকে হাশরের ময়দানে ওইসব পশুর শিং দিয়ে গুতানো হবে। পায়ের খুর দিয়ে মাড়িয়ে দলিত, মথিত করা হবে।
দুমুখো মানুষের হাশর
আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দুমুখো নীতি সম্পন্ন মানুষ হাশরের দিন মুখে আগুন নিয়ে উঠবে।
মনগড়া স্বপ্ন বর্ণনাকারীর হাশর
মিশকাত শরীফে আছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে লোক মনগড়া স্বপ্ন বর্ণনা করবে, হাশরের দিন তাকে দুটো যবের বীজের মধ্যে গিট লাগাতে বলা হবে। কিন্তু সে তা লাগাতে পারবে না। এজন্য তাকে শাস্তি ভোগ করতে হবে।
হাশরের মাঠে ঘামের বিপদ
হাশরের মাঠে পাপী মানুষেরা বেশী কষ্ট পাবে। অনবরত ঘাম ঝরবে তাদের শরীর বয়ে। আল্লাহর রাসূল স. বলেছেন, হাশরের দিন সূর্য মাথার ওপরে মাত্র এক মাইল দূরে থাকবে। পাপীরা তাদের আমল অনুযায়ী ঘামে নিমজ্জিত হতে থাকবে। ঘাম কারো পায়ের গোড়ালী পর্যন্ত, কারো হাঁটু
পর্যন্ত, কারো লুঙ্গী পরার জায়গায়, কারো পা হতে মুখ পর্যন্ত হবে। পাপী লোকের ঘাম লাগামের মতো মুখে ঢুকে থাকবে।
এক হাদীসে উল্লেখ হয়েছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, হাশরের ময়দানে মানুষ মাত্রাতিরিক্ত ঘামের কারণে বলতে থাকবে, হে আল্লাহ! ঘামের এ মহাবিপদ থেকে পরিত্রাণ দিয়ে আমাদেরকে জাহান্নামে পাঠিয়ে দাও। তা আমাদের কাছে বরং এ কষ্টের চেয়ে আসান হবে। অথচ জাহান্নামের আযাব এর চেয়ে ভয়াবহ তা তারা জানে। শুধু ঘামের আযাব থেকে বাঁচার জন্য এ তারা ফরিয়াদ জানাবে।
কু-শাসক বৃন্দের হাশর
দারেমীতে আছে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, কোনো লোক দশজন মানুষের আমীর বা নেতা হলেও হাশরের দিন তাকে হাত পা বাঁধা অবস্থায় উঠানো হবে। তারপর সে তার অধীন লোকদের প্রতি সুবিচার করে থাকলে এ সুবিচার তাকে রেহাই দেবে। আর সুবিচার না করে যুলুম করে থাকলে এ যুলুম তাকে ধ্বংস করে দেবে।
মিশকাতের এক হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহর রাসূল স. বলেছেন, প্রত্যেক শাসককেই কিয়ামতের দিন ফেরেশতারা তার ঘাড় ধরে রাখবে ও আল্লাহর দিকে মাথা উঠিয়ে তার নির্দেশের অপেক্ষা করবে। তার যুলুমের কারণে আল্লাহ তাকে নিক্ষেপ করার নির্দেশ দিলে ফেরেশতা তাকে এমন ভূগর্ভের গর্তে নিক্ষেপ করবে, যার তলায় পৌঁছতে ৪০ বছর সময় লেগে যাবে।
অহংকারীর হাশর
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দুনিয়ার অহমিকা অহংকার দেখিয়ে চলাচলকারীদেরকে হাশরের দিন মর্যাদাহানীকর পোশাক পরিয়ে আল্লাহ হাশরের ময়দানে উঠাবেন।
সাক্ষ গোপনকারীর হাশর
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, সত্যের সাক্ষ দেয়ার জন্য আল্লাহ দুনিয়ায় নির্দেশ দিয়েছিলেন। যে লোক এ সত্যের সাক্ষ না দিয়ে তা গোপন করেছে। হাশরের দিন তাকে আগুনের লাগাম পরায়ে উঠানো হবে।-আহমাদ ও তিরমিযি
আড়ি পেতে শ্রবণকারীর হাশর
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে লোক দু ব্যক্তির আলাপ আলোচনা শুনার জন্য আড়ি পেতে থাকবে, যা সে অন্যকে শুনাতে চায় না। হাশরের ময়দানে তার কানে গলানো শিশা ঢেলে ঢেলে উঠানো হবে।-মেশকাত
পরের জায়গা দখলকারীর হাশর
বুখারী শরীফে বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহর রাসূল বলেছেন, যে লোক যুলুম করে কারো ভাগ দখল করবে, হাশরের দিন তাকে মাটির সপ্তম স্তর পর্যন্ত গাড়া হবে। আরো এক বর্ণনায় আছে। আল্লাহর রাসূল স. বলেছেন, যে লোক অন্যায়ভাবে কারো জায়গা আত্মসাত করবে, হাশরের দিন তাকে যমীনের সপ্তম স্তরের শেষ পর্যন্ত খনন করাতে বাধ্য করবেন। বিচার শেষ হবার আগ পর্যন্ত তার গলায় সাত স্তর যমীন লটকিয়ে দেয়া হবে।
ইলম গোপনকারীর হাশর
আহমদ ও তিরমিজিতে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহর রাসূল স. বলেছেন, কাউকে জানার জন্য কোনো বিষয় সম্পর্কে কিছু জিজ্ঞেস করলে সে তা না বলে গোপন করলে হাশরের দিন তার মুখে আগুনের লাগামপরানো হবে।
📄 হাশরের ময়দানে ভাগ্যবান লোকগণ
রাগ সম্বোরণকারীর হাশর
তিরমিযী ও আবু দাউদে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহর রাসূল সঃ বলেছেন, যে ব্যক্তি রাগ হয়ে প্রতিশোধ গ্রহণ করতে পারতো। কিন্তু তা না করে সে রাগ হজম করেছে, হাশরের দিন আল্লাহ এ লোককে সকলের সামনে ডেকে এনে তাকে যে কোনো হুরকে গ্রহণ করার অধিকার দেবেন।
হারামাইনে মৃত্যুবরণকারীর হাশর
বায়হাকীতে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহর রাসূল স. বলেছেন, যে ব্যক্তি মদীনায় থেকে সেখানকার দুঃখ-কষ্টে ধৈর্যধারণ করেছে, হাশরের দিন আমি তার জন্য সাক্ষ দেবো ও সুপারিশ করবো। আর যে ব্যক্তি মক্কা মদীনার হারাম এলাকায় মৃত্যুবরণ করবে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তাকে নিরাপদ ব্যক্তির সাথে হাশর করাবেন।
হজ্জ পালনকালে মৃত্যুবরণ
বুখারী শরীফে বর্ণিত হয়েছে, হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেছেন, এক লোক আল্লাহর রাসূলের সাথে হজ্জের সময় আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করছিলেন। হঠাৎ সে সওয়ারী থেকে পড়ে ঘাড় ভেঙে মৃত্যুবরণ করলো। রাসূলুল্লাহ স. তাকে বরই পাতার গরম করা পানি দিয়ে গোসল দিতে ও ইহরামের কাপড় দিয়ে কাফন দিতে বললেন এবং মাথা ঢাকতে নিষেধ করলেন। কারণ এ লোক হাশরের মাঠে তালবিয়া অর্থাৎ লাব্বাইকা ...... বলতে বলতে উঠে আসবে।
শহীদগণ
বুখারী ও মুসলিম শরীফে হযরত আবু হুরাইরা রা. হতে বর্ণিত হয়েছে। আল্লাহর রাসূল স. বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর রাস্তায় আঘাত পেয়ে মৃত্যুবরণ করে। আর কে আল্লাহর রাস্তায় আঘাত পেয়ে মৃত্যুবরণ করলো তা আল্লাহ ভালো জানেন। হাশরের ময়দানে সে ব্যক্তি উক্ত আঘাত থেকে রক্ত প্রবাহিত অবস্থায় উঠে আসবে। রক্ত হবে গাঢ় রক্তীম বর্ণের। আর সুগন্ধ হবে মেশকের মতো।
অন্ধকারে মসজিদে যাওয়া
তিরমিযীতে হযরত আবু হুরাইরা রা. হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল বলেছেন, অন্ধকারে মসজিদে গমনকারী ব্যক্তিদেরকে শুনিয়ে দাও, হাশরের দিন পরিপূর্ণ নূর দিয়ে তাদেরকে উঠিয়ে আনা হবে।
আযানের মর্যাদা
মুসলিমে হযরত মুআবিয়া রা. হতে বর্ণিত। রাসূল স. বলেছেন, হাশরের ময়দানে আযান দাতার গর্দান সবচেয়ে বেশী লম্বা হবে। -মুসলিম
আল্লাহর জন্য ভালোবাসা
আল্লাহর রাসূল স. বলেছেন, যারা শুধু আল্লাহর জন্য পরস্পরকে ভালোবাসে হাশরের ময়দানে তাদের জন্য নূরের মিম্বর থাকবে। নবী ও শহীদগণ তাদের প্রতি ঈর্ষান্বিত হবে। তারা নূরের মিম্বারে বসা থাকবে। আর নবী শহীদগণ অন্যের জন্য সুপারিশে নিয়োজিত থাকবেন। -মেশকাত
আরশের ছায়া লাভকারীগণ
হযরত আবু হুরাইরা রাঃ হতে বর্ণিত। রাসূল স. বলেছেন, হাশরের মাঠে সাত ধরনের লোককে আল্লাহ তাআলা আরশের ছায়ায় জায়গা দেবেন। সেদিন তাঁর ছায়া ছাড়া আর কারো ছায়া থাকবে না।
তারা হলেন:
১. মুসলমানদের ন্যায়বিচারক বাদশা।
২. যে ব্যক্তি নিজের যৌবন কালকে আল্লাহর পথে কাটিয়েছে।
৩. যে ব্যক্তির মন মসজিদে পড়ে থাকে। মসজিদে নামায পড়ে আসার পর আবার মসজিদে যাবার জন্য মন আনচান করতে থাকে।
৪. আল্লাহর জন্যই যারা পরস্পর পরস্পরকে ভালোবাসে। আবার আল্লাহর জন্যই পরস্পর পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়।
৫. যে নির্জনে নিভৃতে আল্লাহকে স্মরণ করে অশ্রু বর্ষণ করে।
৬. যাকে কোনো সুন্দরী রূপসী কুলীন মহিলা অশ্লীল আহ্বান জানায়। আর সে আল্লাহর ভয়ে তা প্রত্যাখ্যান করে।
৭. যে ব্যক্তি ডান হাতে দান করলে তার বাম হাতও তা জানে না।-বুখারী ও মুসলিম
📄 মহাবিচারের দিন
মহাবিচারের দিন কি হবে
হাশরের ময়দানে মানুষ বিচিত্র অবস্থায় উত্থিত হয়ে আসার পর কতো দিন এভাবে থাকবে তা শুধু আল্লাহরই জানা। ওসব অবস্থার কথা আর কারো জানা নেই। আল্লাহর পরিকল্পনা অনুযায়ী হাশরের ময়দানের সব কাজ সমাধার পর আল্লাহ মানুষের পরকালীন জীবনে স্থায়ী জান্নাত বা জাহান্নামে পাঠাবার জন্য আদালত কায়েম করে বিচার করবেন। এটাই মহাবিচারের দিন। এ বিচার দুনিয়ার কোনো বিচার-ফায়সালার পদ্ধতির সাথে তুলনীয় নয়। একমাত্র বিচারক থাকবেন আল্লাহ রব্বুল আলামীন। সেখানে কারো কোনো মামলা উপস্থাপন করার পক্ষ থাকবে না। কারো পক্ষ সমর্থনের জন্য, কারো সাফাই গাইবার জন্য কোনো উকিল মুক্তার ব্যারিস্টার থাকবে না।
মানুষের দুনিয়ায় করা আমলগুলো আগেই মুনকার নাকীর ভিডিও রেকর্ড করে রেখেছিলেন। এ অবস্থার ছবি আল্লাহ তাআলা সূরা ক্বাফ-এর ১৮ আয়াতে এভাবে বলেছেন: "مَا يَلْفِظُ مِنْ قَوْلٍ اِلَّا لَدَيْهِ رَقِيْبٌ عَتِيْدٌ " “এমন কোনো শব্দ তার মুখ থেকে বের হয় না যা সংরক্ষিত করার জন্য একজন সদা প্রস্তুত রক্ষক উপস্থিত থাকে না।” সেই আমলনামা ডিসপ্লে করে দেয়া হবে। তাছাড়া হাত-পা, চোখ, কানসহ সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সাক্ষ দিতে থাকবে। মানুষ শুধু অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে থাকবে। নবী-রাসূলগণ তাঁদের উম্মতদের জীবনের কার্যক্রমের সাক্ষ দেবে। কারো ওপর এক বিন্দুও বেইনসাফী করা হবে না। আল্লাহর সকল ওয়াদা অঙ্গীকার পূরণ করা হবে। একজনের অপরাধের জন্য আরেকজনকে দায়ী করা হবে না। সেখানে কেউ কারো কাজে আসবে না। সকলকে একই সাথে এক জায়াগায় হাযির করা হবে। সূরা আলে ইমরানের ৩০ আয়াতে আল্লাহ পাক এ ছবিটি এভাবে এঁকেছেন:
يَوْمَ تَجِدُ كُلُّ نَفْسٍ مَّا عَمِلَتْ مِنْ خَيْرٍ مُحْضَرًا ، وَمَا عَمِلَتْ مِنْ سُوءٍ تَوَدُّ لَوْ أَنَّ بَيْنَهَا وَبَيْنَهُ آمَدًا بَعِيْدًا ، وَيُحَذِّرُكُمُ اللَّهُ نَفْسَهُ ، وَاللَّهُ رَءُوفٌ بِالْعِبَادِ
“সেদিন নিশ্চয়ই আসবে, যখন প্রত্যেকটি ব্যক্তিই নিজের কৃতকর্মের ফল পাবে, সে ভাল কাজই করুক, আর মন্দই করুক। সেদিন প্রত্যেকেই এ কামনা করবে যে, এ দিনটি যদি তার নিকট হতে বহুদূরে থাকতো, তবে কতই না ভালো হতো। আল্লাহ তোমাকে তাঁর নিজের সম্পর্কে ভয় দেখাচ্ছেন। প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ তাঁর বান্দাদের জন্য অত্যন্ত কল্যাণকামী।”
সূরা আল ইনফিতারের ১৫-১৯ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন :
يُصْلَوْنَهَا يَوْمَ الدِّينِ وَمَا هُمْ عَنْهَا بِغَائِبِينَ وَمَا أَدْرَكَ مَا يَوْمُ الدِّينِ ، ثُمَّ مَا أَدْرَكَ مَا يَوْمُ الدِّينِ يَوْمَ لَا تَمْلِكُ نَفْسٍ لِنَفْسٍ شَيْئًا ، وَالْأَمْرُ يَوْمَئِذٍ لِلَّهِ
“বিচারের দিন সেখানে তারা প্রবেশ করবে এবং তা থেকে কক্ষণই অনুপস্থিত থাকতে পারবে না। আর তুমি কি জানো, সেই বিচারের দিনটি কি ? হ্যাঁ, তুমি কি জানো, সেই বিচারের দিনটি কি ? এটা সেদিন যখন কারো জন্য কিছু করার সাধ্য কারো হবে না। সেদিন ফায়সালার চূড়ান্ত ক্ষমতা একমাত্র আল্লাহর ইখতিয়ারেই হবে।”
কারো পক্ষে কোনো কিছু করার কোনো শক্তি থাকবে না। সূরা আত তারিকের ৯-১০ আয়াতে এ চিত্রটি আল্লাহ পাক এভাবে তুলে ধরেছেন :
يَوْمَ تُبْلَى السَّرَائِرُ فَمَا لَهُ مِنْ قُوَّةٍ وَلَا نَاصِرِ
“যেদিন গোপন অজানা তত্ত্বসমূহ যাচাই-বাছাই করা হবে, তখন মানুষের নিকট না নিজের কোনো শক্তি থাকবে, না কোনো সাহায্যকারী তার জন্য আসবে।"
সেদিন খাটি বিচার হবে
সেদিন কৌশল করে, বুদ্ধিমত্তা খাটিয়ে ও তীক্ষ্ণ যুক্তিতর্ক দিয়ে বিচারের রায় কোনো দিকে নিয়ে যেতে পারবে না। এ ছবি আল্লাহ সূরা আয যুমারের ৬৮-৬৯ আয়াতে এঁকেছেন এভাবে :
ونُفِخَ فِي الصُّورِ فَصَعِقَ مَنْ فِي السَّمَوتِ وَمَنْ فِي الْأَرْضِ إِلَّا مَنْ شَاءَ اللهُ ، ثُمَّ نُفِخَ فِيْهِ أُخْرَى فَإِذَا هُمْ قِيَامٌ يَنْظُرُونَ وَأَشْرَقَتِ الْأَرْضُ
بِنُورِ رَبِّهَا وَوُضِعَ الْكِتٰبُ وَجَائَ بِالنَّبِيِّنَ وَالشُّهَدَاءِ وَقُضِيَ بَيْنَهُمْ بِالْحَقِّ وَهُمْ لَا يُظْلَمُوْنَ .
"আর সেদিন শিঙায় ফুঁক দেয়া হবে। আর তারা সবাই মরে যাবে, যারা আকাশজগত ও যমীনে আছে, সে লোকদের ছাড়া যাদেরকে আল্লাহ জীবন্ত রাখতে চান। পরে আর একবার শিঙায় ফুঁক দেয়া হবে এবং সহসা সকলেই উঠে দেখতে শুরু করবে পৃথিবী তার আল্লাহর নূরে ঝলমল করে উঠবে। আমলনামা সামনে এনে রাখা হবে। নবী-রাসূল ও সকল সাক্ষীদেরকে উপস্থিত করা হবে। লোকদের মধ্যে যথাযথভাবে সত্য সহকারে ফায়সালা করে দেয়া হবে এবং তাদের ওপর কোনো যুলম করা হবে না।"
সূরা আল মু'মিনের ১৭ আয়াতে বলা হয়েছে:
الْيَوْمَ تُجْزَى كُلُّ نَفْسٍ بِمَا كَسَبَتْ ، لَا ظُلْمَ الْيَوْمَ ، إِنَّ اللَّهَ سَرِيعُ الْحِسَابِ .
"আজ প্রত্যেকটি প্রাণীকেই তার উপার্জনের প্রতিফল দেয়া হবে। আজ কারো ওপর যুলম করা হবে না। আর হিসাব গ্রহণে আল্লাহ খুব ক্ষীপ্র।"
সূরা আল কাহফ্ফের ৪৯ আয়াতে বলা হয়েছে:
وَوُضِعَ الْكِتَبُ فَتَرَى الْمُجْرِمِينَ مُشْفِقِينَ مِمَّا فِيهِ وَيَقُولُونَ يُوَيْلَتَنَا مَالِ هُذَا الْكِتٰبِ لَا يُغَادِرُ صَغِيْرَةً وَلَا كَبِيرَةً إِلَّا أَحْصُهَا ، وَوَجَدُوا مَا عَمِلُوا حَاضِرًا ، وَلَا يَظْلِمُ رَبُّكَ أَحَدًا .
"আর তখন আমলনামা সামনে রেখে দেয়া হবে। তখন তোমরা দেখবে যে, অপরাধী লোকেরা নিজেদের কিতাবে লিখিত সব বিষয় সম্পর্কে খুবই ভয় পাচ্ছে। আর বলছে: হায়রে দুভার্গ্য এটা কেমন কিতাব যে, আমাদের ছোট বড় কোনো কাজই এমন থেকে যায়নি যা এতে লিপিবদ্ধ করা হয়নি! তারা যে যা করেছিল তা সবই নিজের সামনে উপস্থিত পাবে, আর তোমার আল্লাহ কারো প্রতি এক বিন্দু যুলুম করবেন না।"
সূরা আল মায়েদার ৩৬-৩৭ আয়াতে বলা হয়েছেঃ
إِنَّ الَّذِينَ كَفَرُوا لَوْ أَنَّ لَهُمْ مَّا فِي الْأَرْضِ جَمِيعًا وَمِثْلَهُ مَعَهُ لِيَفْتَدُوا بِهِ مِنْ عَذَابِ يَوْمِ الْقِيِّمَةِ مَا تُقْبِلَ مِنْهُمْ ، وَلَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ يُرِيدُونَ أَنْ يَخْرُجُوا مِنَ النَّارِ وَمَا هُمْ بِخُرِجِينَ مِنْهَا ، وَلَهُمْ عَذَابٌ مُّقِيمٌ .
"ভালোরূপে জেনে নাও, যারা কুফরী নীতি অবলম্বন করেছে, সমগ্র দুনিয়ার ধন-সম্পদও যদি তাদের করায়ত্ত হয় এবং এর সাথে আরো অতো পরিমাণ একত্র করে দেয়া হয়, আর তারা যদি তা বন্ধক দিয়ে কিয়ামতের দিনের আযাব থেকে রক্ষা পেতে চায়, তবুও তা তাদের নিকট থেকে কবুল করা হবে না। তারা তীব্র যন্ত্রণাদায়ক আযাব ভোগ করতে বাধ্য হবে। জাহান্নামের অগ্নি-গহ্বর থেকে বের হয়ে যেতে চাইবে তারা; কিন্তু তা থেকে তারা বের হতে পারবে না; তাদের জন্য স্থায়ী আযাব নির্দিষ্ট করা আছে।"
সূরা আল মায়েদার ১১৯ আয়াতে বলা হয়েছে:
قَالَ اللَّهُ هَذَا يَوْمُ يَنْفَعُ الصَّدِقِينَ صِدْقُهُمْ ، لَهُمْ جَنَّتٌ تَجْرِي مِنْ تَحْتِهَا الْأَنْهَرُ خَلِدِينَ فِيهَا أَبَدًا ، رَضِيَ اللهُ عَنْهُمْ وَرَضُوا عَنْهُ ، ذَلِكَ الْفَوْزُ الْعَظِيمُ
"তখন আল্লাহ বলবেন: আজ সেই দিন যেদিন সত্যপন্থীদেরকে তাদের সত্যবাদিতা কল্যাণদান করবে। তাদের জন্য এমন দালান সজ্জিত হবে যার নিম্নদেশ থেকে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত। এখানে তারা চিরদিন থাকবে। আল্লাহ তাদের প্রতি সন্তুষ্ট হবেন, আর তারা আল্লাহর প্রতি সন্তুষ্ট হবে, বস্তুত এটাই বিশাল সাফল্য।"
সূরা আল আনআমের ২৭ আয়াতে বলা হয়েছে:
وَلَوْ تَرَى إِذْ وُقِفُوا عَلَى النَّارِ فَقَالُوا يُلَيْتَنَا نُرَدُّ وَلَا نُكَذِّبَ بِأَيْتِ رَبِّنَا وَنَكُونَ مِنَ الْمُؤْمِنِينَ .
"হায়! সেই সময়ের অবস্থা যদি তুমি দেখতে পারতে, যখন তাদেরকে জাহান্নামের কিনারায় দাঁড় করিয়ে দেয়া হবে তখন তারা বলবে: হায়। আমরা যদি দুনিয়ায় আবার ফিরে যেতে পারতাম এবং সেখানে আল্লাহর
নিদর্শনসমূহ প্রত্যাখ্যান না করতাম ও ঈমানদার লোকদের মধ্যে শামিল হতাম!"
সূরা আল আনআমের ২৮ আয়াতে বলা হয়েছে:
بَلْ بَدَا لَهُمْ مَّا كَانُوا يُخْفُونَ مِنْ قَبْلُ ، وَلَوْ رُدُّوا لَعَادُوا لِمَا نُهُوا عَنْهُ وَإِنَّهُمْ لَكَذِبُونَ .
"মূলত একথা তারা শুধু এজন্যই বলবে যে, যে সত্যকে তারা আগে ঢেকে ও গোপন করে রেখেছিলো সে সময় তা উন্মুক্ত হয়ে তাদের সামনে প্রকাশিত হয়ে পড়বে। তাদেরকে আগের জীবনের দিকেও যদি ফিরিয়ে দেয়া হয় তাহলেও তারা সেসব কাজই করতো যা থেকে তাদেরকে নিষেধ করা হয়েছে। তারা তো বড়ই মিথ্যাবাদী।"
সূরা আল আনআমের ৩০ আয়াতে বলা হয়েছে:
وَلَوْ تَرَى إِذْ وُقِفُوا عَلَى رَبِّهِمْ ، قَالَ الَيْسَ هَذَا بِالْحَقِّ ، قَالُوا بَلَى وَرَبِّنَا ، قَالَ فَذُوقُوا الْعَذَابَ بِمَا كُنْتُمْ تَكْفُرُونَ
"হায়! তোমরা যদি সেই দৃশ্য দেখতে পারো, যখন এদেরকে তাদের আল্লাহর সামনে দাঁড় করানো হবে তখন তাদের আল্লাহ তাদের জিজ্ঞেস করবেন: এটা কি সত্য নয়? তারা বলবে, হ্যাঁ, হে আমাদের আল্লাহ! এটা প্রকৃত সত্য। তখন আল্লাহ বলবেন: তাহলে এখন তোমরা প্রকৃত সত্যকে অস্বীকার ও অমান্য করার ফলস্বরূপ শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করো।"
সূরা আল আনআমের ৭০ আয়াতে বলা হয়েছে:
لَيْسَ لَهَا مِنْ دُونِ اللَّهِ وَلِيٌّ وَلَا شَفِيعٌ ، وَإِنْ تَعْدِلْ كُلَّ عَدْلٍ لايُؤْخَذْ مِنْهَا ، أُولَئِكَ الَّذِينَ أَبْسِلُوا بِمَا كَسَبُوا لَهُمْ شَرَابٌ مِّنْ حَمِيمٍ وَعَذَابٌ أَلِيمٌ بِمَا كَانُوا يَكْفُرُونَ
"আল্লাহর আযাব থেকে রক্ষা করার জন্য কোনো বন্ধু, সাহায্যকারী ও সুপারিশকারী হবে না। আর যদি সম্ভাব্য সকল জিনিস বন্ধক দিয়ে নিষ্কৃতি পেতে চায় তাহলেও তা তার নিকট থেকে কবুল করা হবে না। কেননা এসব লোক তো নিজেদের কর্মফলের কারণেই ধরা পড়ে যাবে।
সত্যকে অস্বীকার করার পরিণামে তাদেরকে ফুটন্ত গরম পানি পান করার জন্য এ পীড়নকারী আযাব ভোগ করতে দেয়া হবে।"
মহাবিচারের দিন দু ব্যাপারে হিসাব নেয়া হবে। একটি হিসাব নেয়া হবে আল্লাহর হকের ব্যাপারে। আর একটি হিসাব নেয়া হবে বান্দার হকের ব্যাপারে। দুনিয়ার কিছুদিনের জীবন চলার পথে আল্লাহ যেসব নিয়ম-কানুন ও বিধি-বিধান বেঁধে দিয়েছিলেন আসমানি কিতাব পাঠিয়ে নবী-রাসূলদের মাধ্যমে সেসব নিয়ম-কানুন ও বিধি-বিধানগুলো সূচারুভাবে মেনে চলাই ছিলো বান্দাহর দায়িত্ব কর্তব্য, এগুলোই আল্লাহর হক। আল্লাহর হকের ব্যাপারে আল্লাহ দুই রকম দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করবেন। তিনি ইচ্ছা করলে তাঁর হক অনাদায়ীদেরকে শাস্তিও দিতে পারেন। আবার ইচ্ছা করলে মাফও করে দিতে পারেন।
আর বান্দাহর হক হলো— বান্দাহর কাছে বান্দাহর দেনা-পাওনা, আচার-আচরণ, বান্দাহর প্রতি বান্দাহর কিছু আল্লাহর প্রদত্ত দায়িত্ব কর্তব্য পালন করা। বান্দাহর হকের ব্যাপারে কোনো বান্দাহ তা পালন করে না চললে এ অপরাধ আল্লাহ মাফ করবেন না। যতোক্ষণ পর্যন্ত যার হক নষ্ট হয়েছে সে তা মাফ না করবে।
সেদিন কেউ কারো কাজে আসবে না
মহাবিচারের দিন হবে খুবই কঠিন ও সংকটময় মুহূর্ত। নিজের হিসাব নিয়েই নিজে ব্যস্ত। কারো দিকে কারো নজর দেয়ার সুযোগ হবে না। একথাটিই আল্লাহ তাআলা সূরা আল বাকারার ৪৮ আয়াতে অনুপম ভঙ্গিতে প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন:
وَاتَّقُوا يَوْمًا لَا تَجْزِى نَفْسٌ عَنْ نَفْسٍ شَيْئًا وَلَا يُقْبَلُ مِنْهَا شَفَاعَةً وَلَا يُؤْخَذُ مِنْهَا عَدْلٌ وَلَا هُمْ يُنْصَرُونَ .
"ভয় করো সেদিনকে, যেদিন কেউ কারো কোনো কাজে আসবে না। কারো সম্পর্কে কোনো সুপারিশ গ্রহণ করা হবে না, কোনো কিছুর বিনিময়ে কাউকেও ছেড়ে দেয়া হবে না এবং পাপীদের কোনো দিক থেকেই সাহায্য করা হবে না।"
বিপথে পরিচালনাকারী নেতার অস্বীকৃতি
দুনিয়ায় যারা মানুষদেরকে আল্লাহর পথ থেকে সরিয়ে বিপথে চালিয়েছে, নেতৃত্ব দিয়েছে তারাও ওইদিন দায় মাথায় নিবে না। এ চিত্রটি কুরআনে
আল্লাহ এভাবে তুলে ধরেছেন। তিনি সূরা ইবরাহীমের ২১ আয়াতে এভাবে বলেছেন:
وَبَرَزُوا لِلَّهِ جَمِيعًا فَقَالَ الضَّعَفُوا لِلَّذِينَ اسْتَكْبَرُوا إِنَّا كُنَّا لَكُمْ تَبَعًا فَهَلْ أَنْتُمْ مُغْنُونَ عَنَّا مِنْ عَذَابِ اللَّهِ مِنْ شَيْءٍ ، قَالُوْا لَوْ هَدْنَا اللَّهُ لَهَدَيْنَكُمْ ، سَوَاءٌ عَلَيْنَا أَجَزِعْنَا أَمْ صَبَرْنَا مَا لَنَا مِنْ مَّحِيْصِ
"আর এ লোকেরা যখন একত্রিত হয়ে আল্লাহর সামনে উন্মোচিত হবে, তখন এদের মধ্যে যারা পৃথিবীতে দুর্বল ছিল তারা যারা বড়লোক বনেছিল তাদেরকে বলবে: দুনিয়ায় আমরা তোমাদের অধীন ছিলাম, এখন তোমরা আল্লাহর আযাব থেকে আমাদেরকে বাঁচাবার জন্যও কি কিছু করতে পারো? তারা জবাব দিবে: আল্লাহ যদি আমাদেরকেই মুক্তির কোনো পথ দেখাতেন তাহলে আমরা অবশ্যই তোমাদেরও দেখাতাম। এখন আহাজারী করি কি ধৈর্য অবলম্বন করি উভয়ই আমাদের জন্য সমান। আমাদের রক্ষা ও মুক্তিলাভের কোনো উপায়ই নেই।"
সূরা আল আনআমের ৯৪ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন:
وَمَا نَرَى مَعَكُمْ شُفَعَاءَ كُمُ الَّذِينَ زَعَمْتُمْ أَنَّهُمْ فِيكُمْ شُرَكُوا لَقَدْ تَقَطَّعَ بَيْنَكُمْ وَضَلَّ عَنْكُمْ مَّا كُنْتُمْ تَزْعُمُونَ .
"এখন আমরা তোমাদের সাথে তোমাদের সেই শাফায়াতকারীদেরকেও তো দেখি না, যাদের সম্পর্কে তোমরা মনে করছিলে যে, তোমাদের কার্যোদ্ধারের ব্যাপারে তাদেরও অংশ রয়েছে। তোমাদের পারস্পরিক সকল সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে এবং তোমরা যা ধারণা করতে তা সবই আজ তোমাদের নিকট থেকে বিলীন হয়ে গেছে।"
সূরা আল আনআমের ১২৮ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন:
يُمَعْشَرَ الْجِنِّ قَدِ اسْتَكْثَرْتُمْ مِّنَ الْإِنْسِ وَقَالَ أَوْلِيَؤُهُمْ مِّنَ الْإِنْسِ رَبَّنَا اسْتَمْتَعَ بَعْضُنَا بِبَعْضٍ وَبَلَغْنَا أَجَلَنَا الَّذِي أَجَلْتَ لَنَا ، قَالَ النَّارُ مَثْلُكُمْ خُلِدِينَ فِيهَا إِلَّا مَا شَاءَ اللَّهُ ، إِنَّ رَبَّكَ حَكِيمٌ عَلِيمٌ
“হে জিন সমাজ! তোমরা তো মানব সমাজের ওপর খুব বাড়াবাড়ি করলে। মানুষের মধ্যে যারা তাদের বন্ধু ছিল তারা নিবেদন করবে: হে পরোয়ারদিগার! আমরা পরস্পরের দ্বারা খুব ফায়দা লুটেছি এবং এখন আমরা সে অবস্থায় এসে উপস্থিত হয়েছি যা তুমি আমাদের জন্য নির্দিষ্ট করে রেখেছিলে। আল্লাহ বললেন: আচ্ছা, এখন তোমাদের চূড়ান্ত পরিণাম জাহান্নাম। এখানে তোমরা চিরদিন থাকবে। এটা হতে রক্ষা পাবে কেবল তারাই যাদেরকে আল্লাহ রক্ষা করতে চাইবেন। তোমাদের রব নিসন্দেহে সর্বজ্ঞ ও বিজ্ঞ।”
সূরা আল আরাফের ৮-৯ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন:
وَالْوَزْنُ يَوْمَئِذْنِ الْحَقُّ فَمَنْ تَقُلَتْ مَوَازِينُهُ فَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ ، وَمَنْ خَفَّتْ مَوَازِينُهُ فَأُولَئِكَ الَّذِينَ خَسِرُوا أَنْفُسَهُمْ بِمَا كَانُوا بِايْتِنَا يَظْلِمُونَ
“আর ওযন সেদিন নিশ্চিতই সত্য সঠিক হবে। যাদের পাল্লা ভারী হবে, তারাই কল্যাণ লাভ করবে। আর যাদের পাল্লা হালকা হবে, তারা নিজেরাই নিজেদেরকে মহাক্ষতির সম্মুখীন করবে। কেননা তারা আমাদের আয়াতের সাথে যালেমদের ন্যায় আচরণ করছিলো।”
সূরা ইবরাহিমের ২২ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন:
وَقَالَ الشَّيْطَنُ لَمَّا قُضِيَ الْأَمْرُ إِنَّ اللَّهَ وَعَدَكُمْ وَعْدَ الْحَقِّ وَوَعَدْتُكُمْ فَأَخْلَفْتُكُمْ ، وَمَا كَانَ لِي عَلَيْكُمْ مِّنْ سُلْطَنٍ إِلَّا أَنْ دَعَوْتُكُمْ فَسْتَجَبْتُمْ لِي ، فَلَا تَلُومُونِي وَلُوْمُوا أَنْفُسَكُم مَا أَنَا بِمُصْرِخِكُمْ وَمَا أَنْتُمْ مِصْرِحَى إِنِّي كَفَرْتُ بِمَا أَشْرَكْتُمُونِ مِنْ قَبْلُ إِنَّ الظَّلِمِينَ لَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ
“আর যখন চূড়ান্ত ফায়সালা করে দেয়া হবে তখন শয়তান বলবে, এতে কোনোই সন্দেহ নেই যে, তোমাদের প্রতি আল্লাহ যেসব ওয়াদা করেছিলেন তা সবই সত্য ছিল। আর আমি যত ওয়াদাই করেছিলাম তার মধ্যে কোনো একটিও পুরা করিনি। তোমাদের ওপর আমার তো কোনো জোর ছিল না। আমি এটা ছাড়া আর তো কিছু করিনি—শুধু
এটাই করেছি যে, তোমাদেরকে আমার পথে চলার জন্য আহ্বান করেছি। আর তোমরা আমার আহ্বানে সাড়া দিয়েছো। এখন আমাকে দোষ দিও না-তিরস্কার করো না, নিজেকেই নিজে তিরস্কৃত করো। এখানে না আমি তোমাদের ফরিয়াদ শুনতে পারি, না তোমরা আমার ফরিয়াদ শুনতে পারো। ইতিপূর্বে তোমরা যে আমাকে খোদায়ীর ব্যাপারে শরীক বানিয়ে নিয়েছিলে, আমি তার দায়িত্ব থেকে মুক্ত। এরূপ যালেমদের জন্য তো কঠিন পীড়াদায়ক শাস্তি নিশ্চিত।”
সূরা ইউনুসের ২৮-২৯ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন :
يَوْمَ نَحْشُرُهُمْ جَمِيعًا ثُمَّ نَقُولُ لِلَّذِينَ أَشْرَكُوا مَكَانَكُمْ أَنْتُمْ وَشَرَكَاؤُكُمْ : فَزَيَّلْنَا بَيْنَهُمْ وَقَالَ شُرَكَاؤُهُمْ مَّا كُنْتُمْ إِيَّانَا تَعْबुدُونَهُ فَكَفَى بِاللَّهِ شَهِيدًا بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ إِنْ كُنَّا عَنْ عِبَادَتِكُمْ لَغْفِلِينَ )
“যেদিন আমরা এ সকলকে একত্রে (আমার বিচারালয়ে) উপস্থিত করবো তখন যারা দুনিয়ায় শিরক করেছে তাদের আমরা বলবো : থাম, তোমরা ও তোমাদের বানানো শরীক মাবুদেরা সকলেই। অতপর আমরা তাদের পারস্পরিক অপরিচিতির আবরণ তুলে ফেলবো। তখন তাদের শরীক মাবুদেরা বলবে: তোমরা তো আমাদের ইবাদাত করতে না। আমাদের ও তোমাদের মাঝে আল্লাহর সাক্ষই যথেষ্ট, আমরা তোমাদের এ ইবাদাত সম্পর্কে সম্পূর্ণ অনবহিত ছিলাম।”
হিসাব ছাড়া জান্নাতে প্রবেশ করবে
ভয়াবহ এ দিনেও কিছু ভাগ্যবান লোক হিসাব নিকাশ ছাড়াই আত্মতৃপ্তির সাথে জান্নাতে প্রবেশ করার অনুমতি পাবে। আল্লাহর রাসূল স. বলেছেন:
يُحْشَرُ النَّاسُ فِي سَعِيدٍ وَاحِدٍ يَوْمَ الْقِيَامَةِ فَيُنَادِ مُنَادٍ فَيَقُولُ أَيْنَ الَّذِينَ كَانَتْ تَتَجَافَى جُنُوبُهُمْ عَنِ الْمَضَاجِعِ فَيَقُومُونَ وَهُمْ قَلِيلٌ فَيَدْخُلُونَ الْجَنَّتَ بِغَيْرِ حِسَابٍ ثُمَّ يُؤْمَرُ سَائِرُ النَّاسِ إِلَى الْحِسَابِ
"হাশরের দিন মানুষকে একত্রিত করে উঠানো হবে। অতপর একজন আহ্বানকারী চিৎকার করে আহ্বান জানাবে, তারা কোথায়? যাদের
পিঠ বিছানায় লাগতো না। এ আহ্বান শুনে কিছু লোক দাঁড়িয়ে যাবে। অবশ্য তাদের সংখ্যা হবে খুবই কম। তারপর তারা হিসাব ছাড়া জান্নাতে প্রবেশের অনুমতি পাবে। তারপর নির্দেশ দেয়া হবে অন্যদের হিসাব গ্রহণের।"-বায়হাকী
📄 মীযান
আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, পরকালের জীবনের শুরু মানুষের মৃত্যু দিয়েই। আল্লাহর পরিকল্পনা অনুযায়ী দুনিয়ার জীবন শেষ হলেই তিনি ইসরাফীলের শিঙার ফুঁকের মাধ্যমে গোটা পৃথিবী ও এর মধ্যে যা কিছু আছে সবকিছু লণ্ডভণ্ড ও তছনছ করে দেবেন। যারা দুনিয়ার সৃষ্টির শুরুতে ছিলেন তারা তো মৃত্যুবরণ করেছেন হাজার হাজার বছর আগে। আর যারা কিয়ামতের সময় পর্যন্ত বেঁচে থাকবে তারা কিয়ামতের দিন মরে যাবে। এবার শুরু হবে কিয়ামতের মাধ্যমে মানুষের পরকালের জীবনের আল্লাহর করে রাখা স্তরের পর স্তর অতিক্রম করার পালা।
ইসরাফীলের তৃতীয় শিঙা ফুঁকার মাধ্যমে মানুষ স্ব স্ব স্থান থেকে উঠে আসবে। সে সময়টার নামই হাশর। সব মানুষ তার দুনিয়ার জীবনের আমল অনুযায়ী এক এক অবস্থায় এক একজন উঠে আসবে আল্লাহর ব্যবস্থাপনায় করে রাখা হাশরের ময়দানে। পূর্বে এর ওপর আলোচনা করা হয়েছে।
এবার শুরু হবে মানুষের দুনিয়ার জীবনে করে আসা আমলের পরিমাপের জন্য মীযান অতিক্রম করার পালা। মীযান অর্থ হলো দাঁড়ি-পাল্লী। মানুষের নেক কাজ ও পাপ কাজ আল্লাহ তার সামনেই পরিমাপ করে দেখাবেন। মানুষ যেনো বুঝে আজ তার ওপর কোনো যুলুম ও অন্যায় করা হচ্ছে না। যা সে করেছে আজ তাই সে পাচ্ছে। মানুষের নেক ও বদ কাজের পরিমাপ হচ্ছে তা বুঝার জন্য মিযান শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। পরিমাপের ধরন কি হবে তা আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন। আমরা দুনিয়ার জীবনে দাঁড়িপাল্লার মাধ্যমে জিনিস-পত্র পরিমাপ করি। অন্যান্য অনেক জিনিসের মাধ্যমে বিভিন্ন জিনিস মাপি। কাজেই পরকালে পরিমাপ হবে এটা বুঝাবার জন্য আল্লাহ মীযান শব্দ কুরআনেও ব্যবহার করেছেন। সূরা আল আম্বিয়ার ৪৭ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন:
وَنَضَعُ الْمَوَازِينَ الْقِسْطَ لِيَوْمِ الْقِيمَةِ فَلَا تُظْلَمُ نَفْسٌ شَيْئًا ، وَإِنْ كَانَ مِثْقَالَ حَبَّةٍ مِّنْ خَرْدَلٍ آتَيْنَا بِهَا ، وَكَفَى بِنَا حَسِبِيْنَ
"আমি সঠিক ও নির্ভুল ওযন করার জন্য কিয়ামতের দিন পাল্লা সংস্থাপন করবো। ফলে কোনো লোকের ওপরই এক কণা পরিমাণ
যুলুম করা হবে না। একবিন্দু পরিমাণ কৃতকর্মও সেদিন আমি সামনে নিয়ে আসবো। আর হিসাব সম্পন্ন করার জন্য আমিই যথেষ্ট।”
সূরা লুকমানের ১৬ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন:
إِنَّهَا إِنْ تَكُ مِثْقَالَ حَبَّةٍ مِّنْ خَرْدَلٍ فَتَكُنْ فِي صَخْرَةٍ أَوْ فِي السَّمَوتِ أَوْ فِي الْأَرْضِ يَأْتِ بِهَا اللَّهُ ، إِنَّ اللَّهَ لَطِيفٌ خَبِيْرُهُ
“কোনো বস্তু যদি সরিষার দানা পরিমাণও হয় এরপর তা যদি পাথরের মধ্যে কিংবা আকাশ বা ভূগর্ভেও থাকে আল্লাহ তাও উপস্থিত করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সূক্ষ্মদর্শী ও সবজান্তা।”
সূরা আল আ'রাফের ৮-৯ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন:
وَالْوَزْنُ يَوْمَئِدْنِ الْحَقُّ فَمَنْ ثَقُلَتْ مَوَازِينُهُ فَأُوْلَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ وَمَنْ خَفَّتْ مَوَازِينُهُ فَأُولَئِكَ الَّذِينَ خَسِرُوا أَنْفُسَهُمْ بِمَا كَانُوا بِآيَتِنَا يَظْلِمُونَ
“আর ওযন সেদিন নিশ্চিতই সত্য সঠিক হবে। যাদের পাল্লা ভারী হবে, তারাই কল্যাণ লাভ করবে। আর যাদের পাল্লা হালকা হবে, তারা নিজেরাই নিজেদেরকে মহাক্ষতির সম্মুখীন করবে। কেননা তারা আমাদের আয়াতের সাথে যালেমদের ন্যায় আচরণ করছিলো।"
সূরা আল কারিআর ৬-১১ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন:
فَأَمَّا مَنْ ثَقُلَتْ مَوَازِينُهُ فَهُوَ فِي عِيْشَةٍ رَاضِيَةٍ ، وَأَمَّا مَنْ خَفَّتْ مَوَازِينُهُ ، فَأُمُّهُ هَاوِيَةٌ ، وَمَا أَدْرَاكَ مَاهِيَهُ نَارٌ حَمِيَةً
"অতপর যার পাল্লা ভারী হবে সে পসন্দ মতো সুখে থাকবে। আর যার পাল্লা হালকা হবে, গভীর গহ্বরই হবে তার আশ্রয়স্থল। তুমি কি জান তা কি জিনিস? জ্বলন্ত আগুন!”
সূরা যিলযালের ৭-৮ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন:
فَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَرَهُ وَمَنْ يَعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَرَهُ 8
"কেউ যদি দুনিয়ায় অণু-পরমাণু পরিমাণ সৎকাজ করে হাশরের ময়দানে তা সে দেখতে পাবে। অপর পক্ষে কেউ যদি দুনিয়ায় অণু- পরমাণু পরিমাণ বদ কাজ করে তাও সে সেখানে দেখতে পাবে।" সূরা আন নাহলের ১১১ আয়াতে আল্লাহ বলেছেন:
يَوْمَ تَأْتِي كُلُّ نَفْسٍ تُجَادِلَ عَنْ نَّفْسِهَا وَتُوَفَّى كُلُّ نَفْسٍ مَّا عَمِلَتْ وَهُمْ لا يُظْلَمُونَ .
"এসব কিছুরই ফায়সালা সেদিন হবে যে দিন প্রত্যেক ব্যক্তি কেবল নিজের বাঁচার চিন্তায় লেগে থাকবে এবং প্রত্যেককেই তার কৃতকর্মের বদলা পুরোপুরি দেয়া হবে। আর কারো ওপর এক বিন্দু পরিমাণও যুলুম হতে পারবে না।”
আততারগীব ওয়াততারহীবে উদ্ধৃত হয়েছে: হযরত আনাস রা. বলেন, আল্লাহর রাসূল স. বলেছেন, কিয়ামতের দিন মীযানের কাছে একজন ফেরেশতাকে নিয়োগ দেয়া হবে। নিজ নিজ আমলের পরিমাপের জন্য মানুষ এ মীযানের কাছে আসবে। এখানে আসার পরই তাকে পাল্লার মাঝ খানে দাঁড় করানো হবে। পরিমাপে তার নেক আমলের পরিমাণ বেশী হলে ফেরেশতারা চিৎকার দিয়ে ঘোষণা করবে অমুক লোক আজ হতে চিরদিনের জন্য ভাগ্যবান হিসাবে চিহ্নিত হলো। আর কোনো দিন সে দুর্দশাগ্রস্ত হবে না। তার এ উচ্চ স্বরের ঘোষণা সমস্ত সৃষ্টি শুনতে পাবে। আর পরিমাপে তার আমলের পরিমাণ কম হলে একজন ফেরেশতা বিকট শব্দে চিৎকার দিয়ে বলবে। অমুক ব্যক্তি চিরদিনের জন্য বিফল ও ব্যর্থ হয়ে গেলো। সে আর কোনো সময় ভাগ্যবান হবে না। এ চিৎকার ধ্বনীও সমস্ত সৃষ্টি শুনতে পাবে।
হাশরের ময়দানে এভাবে মীযান কায়েম করে আল্লাহ তাআলা মানুষের নেক আমল ও বদ আমলের পরিমাপ তাদেরকে দেখিয়ে দেবেন। কারো পক্ষেই সেদিন আল্লাহর এ সূক্ষ্ম ব্যবস্থার ব্যাপারে কিছু বলার ও করার থাকবে না। অসহায়ের মতো মানুষ শুধু পরকালের জন্য করে রাখা সোপানের পর সোপানের দিকে এগুতে এগুতে চূড়ান্ত ফল জান্নাত ভোগ করার দিকে এগিয়ে যাবে।