📘 কুরআন হিফজ করবেন যেভাবে > 📄 পাঁচ বছরে হিফজ সম্পন্ন করা

📄 পাঁচ বছরে হিফজ সম্পন্ন করা


এ ব্যাপারে আমার পরামর্শ হলো, আপনি পাঁচ বছরে হিফজ পূর্ণ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করুন—অর্থাৎ আপনি যদি একেবারে প্রথম থেকে মুখস্থ করা শুরু করে থাকেন...। আর যদি কুরআনের অর্ধেক বা এক-চতুর্থাংশ পূর্ব থেকেই আপনার মুখস্থ থাকে, সে ক্ষেত্রে আনুপাতিক হারে সময়সীমাটাও কমে আসবে...।
এ ক্ষেত্রে পাঁচ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের প্রস্তাব উপস্থাপনের কারণ হচ্ছে, আমার ব্যক্তিগত হিসেবনিকেশ এবং পূর্ণ, অর্ধ ও তারচেয়ে কম অংশের হাফেজদের অভিজ্ঞতা জানার মাধ্যমে আমি এই ফলাফলে থিতু হয়েছি। পাশাপাশি এই বিষয়েও চিন্তাভাবনা করেছি, একটি নির্দিষ্ট সময়ে হিফজে আগ্রহী একজন ব্যক্তি কতটুকু অংশ মুখস্থ করতে পারে...।
আমি ফলাফল বের করলাম, স্বাভাবিকভাবে সপ্তাহে এক 'রুবু' কুরআন হিফজ করা যেতে পারে। আবার কেউ হয়তো এরচেয়ে বেশিও করতে পারবে, আবার কেউ হয়তো এই পরিমাণও করতে পারবে না—তবে আমি-'রুবু'-এর কথা যেটি বললাম, সেটিই হচ্ছে মাঝামাঝি পরিমাণ।
আমরা জানি, কুরআনের একেকটি পারা আটটি 'রুবু'-তে বিভক্ত। অতএব, এই পরিকল্পনামতে এক পারা হিফজ করতে আপনার আট সপ্তাহ সময় লাগবে। আর এই হিসেবে ছয় পারা (৪৮ 'রুবু') হিফজ করতে আপনার সময় লাগবে ৪৮ সপ্তাহ [৩৩৬ দিন]। আর এটা হচ্ছে কুরআনের এক-পঞ্চমাংশ, কেননা কুরআনে মোট ত্রিশ পারা রয়েছে।
পাশাপাশি আমরা জানি, ৫২ সপ্তাহে এক বছর হয়, সুতরাং ৪৮ সপ্তাহ চলে গেলে আপনার হাতে থাকছে আরও চার সপ্তাহ। আর আমার পরামর্শ হলো, এ সময়টিতে আপনি এ বছরে কুরআনের হিফজকৃত অংশ তথা এক-পঞ্চমাংশের পুনর্পাঠ (রিভিশন) করুন। দ্বিতীয়ত আমি বলব, আপনার পুনর্পাঠের জন্য রমজান মাসকে নির্ধারণ করুন। কেননা, অধিকাংশ মুসলিমই তখন কুরআন পাঠের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ সময় পায়। তখন আপনি ফজরের আগে কিয়ামুল লাইলেরও অনেক সুযোগ পাবেন, আবার ওই সময়ে তারাবিতে ইমামের পেছনে পূর্ণ কুরআন শ্রবণেরও সুযোগ পাচ্ছেন, চাইলে রাতের শেষ প্রহরেও ইমামের কিরাআত শুনতে পারছেন তাহাজ্জুদের নামাজে। আর আল্লাহ যদি আপনাকে ইতিকাফের তওফিক দেন, তাহলে তো তা পুনর্পাঠের জন্য সুবর্ণ সুযোগ!
অতএব দেখা গেল, এই পরিকল্পনামতে বছরে আপনি এক-পঞ্চমাংশ কুরআন হিফজ করতে পারছেন এবং পাঁচ বছরেই ইনশাআল্লাহ আপনার পূর্ণাঙ্গ কুরআনের হিফজ সমাপ্ত হয়ে যাচ্ছে...।
অনেকের হয়তো এরই মধ্যে অলসতা এসে গেছে—বলছে: আমি তো এটাকে আরও সহজ ও দ্রুত-সমাধাযোগ্য কিছু ভেবেছিলাম...। কিন্তু এখন দেখছি সে-ই পাঁচ বছর এটার জন্য অপেক্ষা করতে হবে! এ তো দীর্ঘ সময়!
আমি বলি—প্রিয় ভাই, জীবনের কত পাঁচ-বছর চলে গেল, অথচ আপনি কুরআনের এতটুকু অংশও মুখস্থ করতে পারেননি! আমরা একটু ভেবে দেখি তো আমাদের গত পাঁচ বছর কীভাবে অতিবাহিত হয়েছে! বাস্তবে সেই সময়টুকু কিন্তু খুবই নিকটের...। অতীতের কথা ভাবলে দেখতে পাবেন, গত পাঁচটি বছরে যা ঘটেছে, তা এই যেন গতকালের কথা...। সময় আসলে খুব দ্রুতই চলে যায়—যেকোনো অবস্থাতেই দ্রুত অতিবাহন সময়ের স্বভাব...। আপনি সময় দ্বারা উপকৃত হোন বা ক্ষতিগ্রস্ত, সময় কিন্তু বয়েই যাবে...।
তবে স্মরণীয় বিষয় হচ্ছে, পাঁচ বছরমেয়াদি এ পরিকল্পনা শুধু তার জন্য, যিনি একদম প্রথম থেকে শুরু করতে যাচ্ছেন। পক্ষান্তরে আপনার যদি পাঁচ পারা মুখস্থ থাকে, তাহলে আপনার লাগবে আর চার বছর; আপনার যদি দশ পারা মুখস্থ থাকে, তাহলে আপনি মাত্র তিন বছরেই বাকিটা হিফজ করে নিতে পারবেন!
মনে রাখবেন, গতকালের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয় আজ; আজকের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয় আগামীকাল! ইনশাআল্লাহ।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00