📄 সূরা ফাতিহা পড়ার হাদিস
عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، قَالَ: صَلَّى بِنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ صَلَاةَ الْفَجْرِ فَتَعَايَتْ عَلَيْهِ الْقِرَاءَةُ, فَلَمَّا سَلَّمَ قَالَ: «أَتَقْرَءُونَ خَلْفِي؟» قُلْنَا: نَعَمْ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ: فَلَا تَفْعَلُوا إِلَّا بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ فَإِنَّهُ لَا صَلَاةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأُ بِهَا-
উবাদা ইবনে সামিত (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-'একদিন রাসূল আমাদের নিয়ে ফজরের সালাত আদায় করলেন। তাঁর কিরাতে অসুবিধা সৃষ্টি হলো। সালাম ফেরানোর পর জিজ্ঞেস করলেন-তোমরা কি আমার পেছনে কিরাত পাঠ করো? আমরা বললাম-হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ। তিনি বললেন-এরূপ করো না। তবে সূরা ফাতিহার কথা ভিন্ন। কারণ, যে সূরা ফাতিহা পাঠ করে না, তার নামাজ হয় না।'২৬৮ হাদিসটি হাসান।২৬৯
عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ : أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ: لا صَلاةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأُ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ
উবাদা ইবনে সামিত (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-রাসূল বলেছেন-'যে ব্যক্তি সূরা ফাতিহা পাঠ করে না, তার সালাত হয় না।'২৭০
عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : لَا صَلَاةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأُ بِأُمِّ الْقُرْآنِ
উবাদা ইবনে সাবিত (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-রাসূল বলেছেন-'যে ব্যক্তি উম্মুল কুরআন পাঠ করে না, তার সালাত হয় না।'২৭১
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ قَالَ: مَنْ صَلَّى صَلَاةٌ لَمْ يَقْرَأُ فِيهَا بِأُمِّ الْقُرْآنِ فَهِيَ خِدَاجٌ
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-রাসূল বলেছেন- 'যে ব্যক্তি সালাতে সূরা ফাতিহা পাঠ করল না, তার সালাত অসম্পূর্ণ।'২৭২
টিকাঃ
২৬৮. শরহে মাআনিল আসার: ১২৮২; আবু দাউদ: ৮২৩
২৬৯. মুসনদে আহমদ: ২২৬৯৪
২৭০. বুখারি: ৭৫৬; মুসলিম: ৩৯৪-৩৪।
২৭১. মুসলিম: ৩৯৪-৩৫
২৭২. মুসলিম: ৩৯৫-৪১
📄 সূরা ফাতিহা না পড়ার হাদিস
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ : إِنَّمَا جُعِلَ الْإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ ، فَإِذَا كَبَّرَ فَكَبِّرُوا ، وَإِذَا قَرَأَ فَأَنْصِتُوا
'আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-রাসূলুল্লাহ বলেছেন- 'ইমামকে অনুসরণের জন্য নিযুক্ত করা হয়। অতএব, তিনি তাকবির বললে তোমরাও তাকবির বলো। আর তিনি কুরআন পড়লে তোমরা চুপ থাকো।'২৭৩
عَنْ جَابِرٍ قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ : মَنْ كَانَ لَهُ إِمَامٌ، فَقِرَاءَةُ الْإِمَامِ لَهُ قِرَاءَةٌ -
জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-রাসূলুল্লাহ বলেছেন- 'কারও ইমাম থাকলে ইমামের কিরাতই তার কিরাত বলে বিবেচ্য।'২৭৪
وَهْبِ بْنِ كَيْسَانَ ، أَنَّهُ سَمِعَ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللهِ يَقُولُ: مَنْ صَلَّى رَكْعَةً لَمْ يَقْرَأْ فِيهَا بِأُمِّ القُرْآنِ فَلَمْ يُصَلِّ إِلَّا أَنْ يَكُونَ وَرَاءَ الإِمَامِ -
ওয়াহাব বিন কাইসান জাবির বিন আব্দুল্লাহ (রা.)-কে বলতে শুনেছেন-'যে ব্যক্তি সালাত আদায় করল অথচ সূরা ফাতিহা পড়ল না, সে যেন সালাতই আদায় করেনি। তবে ইমামের পেছনে হলে ভিন্ন কথা।'২৭৫
টিকাঃ
২৭৩. নাসায়ি: ৯২১; ইবনে মাজাহ ৮৪৬। হাদিসটি হাসান সহিহ
২৭৪. ইবনে মাজাহ : ৮৫০; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা : ৩৭৭৯
২৭৫. তিরমিজি: ৩১৩; মুসান্নাফে ইবনে আবি শায়বা: ৩৬২১
📄 জাহেরি সালাতে সূরা ফাতিহা না পড়ার হাদিস
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، أَنَّ رَسُولَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ انْصَرَفَ مِنْ صَلَاةٍ جَهَرَ فِيهَا بِالْقِرَاءَةِ فَقَالَ: «هَلْ قَرَا مَعِيَ أَحَدٌ مِنْكُمْ آنِفًا؟»، فَقَالَ رَجُلٌ : نَعَمْ ، يَا رَسُولَ اللهِ، قَالَ: «إِنِّي أَقُولُ مَالِي أَنَازَعُ الْقُرْآنَ؟». قَالَ: فَانْتَهَى النَّاسُ عَنِ الْقِرَاءَةِ مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ فِيمَا جَهَرَ فِيهِ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ بِالْقِرَاءَةِ مِنَ الصَّلَوَاتِ حِينَ سَمِعُوا ذَلِكَ مِنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّমَ -
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, জোরে কিরাত পড়তে হয় এমন এক সালাত (অর্থাৎ মাগরিব, এশা ও ফজর) শেষ করে নবি বললেন- 'তোমাদের কেউ কি আমার সাথে কিরাত পড়ছিলে?' জনৈক সাহাবি বললেন-'হ্যাঁ, ইয়া রাসূলাল্লাহ!' নবি বললেন-'আমি ভাবছিলাম কুরআন নিয়ে আমার সঙ্গে টানা-হ্যাঁচড়া হচ্ছে কেন?'
আবু হুরায়রা (রা.) বলেন-'এ কথা শোনার পর যেসব সালাতে রাসূল ﷺ জোরে কিরাত পড়তেন, সাহাবিরা তাতে কিরাত পড়া থেকে বিরত থাকতেন।'২৭৬ কারও কারও মতে-
ফَانْتَهَى النَّاسُ عَنِ الْقِرَاءَةِ حِينَ سَمِعُوا ذَلِكَ مِنْ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ -
'হাদিসের এই অংশটুকু ইমাম জুহুরির বক্তব্য; আবু হুরায়রার নয়।'২৭৭
টিকাঃ
২৭৬. আবু দাউদ: ৮২৬, তিরমিজি: ৩১২
২৭৭. তিরমিজি: ৩১২
📄 একটি শিক্ষণীয় হাদিস
كَانَ ابْنُ عُمَرَ لَا يَقْرَأُ خَلْفَ الإِمَامِ ، قَالَ: فَسَأَلْتُ الْقَاسِمَ بْنَ مُحَمَّدٍ عَنْ ذَلِكَ ، فَقَالَ: إِنْ تَرَكْتَ فَقَدْ تَرَكَهُ نَاسٌ يُقْتَدَى بِهِمْ ، وَإِنْ قَرَأْتَ فَقَدْ قَرَاهُ نَাসٌ يُقْتَدَى بِهِمْ -
আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) ইমামের পেছনে কিরাত পড়তেন না। সালেম (রহ.) বলেন-'আমি এ ব্যাপারে কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ (রহ.)-কে জিজ্ঞেস করলাম। তিনি বললেন-তুমি যদি কিরাত না পড়ো, তাহলে এমন অনেকেই কিরাত পড়তেন না, যারা অনুসরণযোগ্য। আর যদি কিরাত পড়ো, তাহলে এমন অনেকেই কিরাত পড়তেন, যারা অনুসরণযোগ্য।'২৮৭
কাসিম ইবনে মুহাম্মাদ (রহ.)-এর এই বক্তব্যে পরমত সহিষ্ণুতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত ফুটে উঠেছে। শুধু কিরাত পড়া, না পড়ার ক্ষেত্রে নয়; বরং প্রত্যেক ক্ষেত্রে যেখানে মতবিরোধের সুযোগ রয়েছে, সেখানে নিজের মতকে সঠিক মনে করে বিপরীত মতকে ভুল প্রমাণ করার নীতি বর্জন করা জরুরি। কেননা, যে মতকে ভুল প্রমাণের অপচেষ্টা করা হয়, তা সাহাবিদেরই আমল। সাহাবিদের আমলকে ভুল প্রমাণ করতে চাওয়া, নবিজির হাদিসের বিরুদ্ধাচরণ করার নামান্তর।
টিকাঃ
২৮৭. মুহাম্মাদ বিন হাসান আশ-শায়বানি, মুয়াত্তা ইমাম মালেক: ১১৮